Tag: China

China

  • PM Modi: চিন থেকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সংগ্রহের অনুমতি দিল কেন্দ্র, কারা পাবে এই সুযোগ?

    PM Modi: চিন থেকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সংগ্রহের অনুমতি দিল কেন্দ্র, কারা পাবে এই সুযোগ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন (China) থেকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সংগ্রহের অনুমতি দিল কেন্দ্রীয় সরকার। অবশ্য এই অনুমতি সবাইকে নয়, ভারত (PM Modi) হেভি ইলেকট্রিক্যালস এবং স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার মতো কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে। সরকারি সূত্রের খবর, এটি করা হয়েছে আগের বিধিনিষেধ শিথিল করার পর।

    শিথিল করা হল বিধিনিষেধ (PM Modi)

    গত মাসে একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল, ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর চিনা সরঞ্জাম কেনার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, ভারত তা শিথিল করতে যাচ্ছে। এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ ও কয়লা কোম্পানিগুলি সীমিত পরিসরে আমদানি শুরু করতে পারবে, কারণ যন্ত্রপাতির ঘাটতি ও প্রকল্প বিলম্ব ক্রমেই বাড়ছিল। এরপরেই ভারত চিনের ওপর বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিধিনিষেধও শিথিল করেছে। নয়া নিয়ম শিথিলের আওতায়, ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সরঞ্জাম নির্মাতা ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস চিন থেকে ২১ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে পারবে বলে সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। একই ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়াকেও। অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকেও কয়লা-গ্যাসিফিকেশন (coal-gasification) সরঞ্জাম সংগ্রহের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর।

    ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষ

    ২০২০ সালে হিমালয় সীমান্তে গলওয়ানে ভারত ও চিনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর নয়াদিল্লি চিনা পণ্য ও বিনিয়োগের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের পুনর্বিন্যাস শুরু হওয়ায়, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ভারত এখন চিনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের কথা বিবেচনা করছে (PM Modi)। গত বছরের অগাস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত বছর পর প্রথমবার চিন সফর করেছিলেন। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা করেছিলেন তিনি। এর পর দুই দেশ সরাসরি ফ্লাইট চালু করে এবং নয়াদিল্লি চিনা ব্যবসায়িক পেশাজীবীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করে।

    চলতি মাসে জারি করা সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত চুক্তিতে অংশ নেওয়া চিনা দরদাতাদের (bidders) আর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অনুমোদনের জন্য সরকারি কমিটির কাছে রেজিস্ট্রি করতে হবে না। এর আগে এই মাসের শুরুতে নয়াদিল্লি নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চিনা বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। মূলধন সঙ্কট কমাতেই এটি করা হয় (China)। অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয় এই বিধিনিষেধ শিথিল করা (PM Modi)।

     

  • Middle East Crisis: নিশ্চিন্তে পার হতে পারবে ভারত, ৫ ‘বন্ধু’ দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান

    Middle East Crisis: নিশ্চিন্তে পার হতে পারবে ভারত, ৫ ‘বন্ধু’ দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ পাঁচটি ‘বন্ধু’ দেশের জাহাজ চলাচলে তারা কোনও অবরোধ আরোপ করবে না। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যেই একথা জানিয়ে দিল ইরান। ভারত ছাড়া রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান এবং ইরাকের জাহাজগুলিকেও এই সংঘাতপূর্ণ অথচ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ (হরমুজ প্রণালী) দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ইরানের বিদেশমন্ত্রীর ঘোষণা (Middle East Crisis)

    ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ নয়। যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তাদের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।” তিনি বলেন, “অনেক জাহাজ মালিক বা সংশ্লিষ্ট দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদে প্রণালী পার হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি, অথবা অন্য বিশেষ কারণে যাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পথ নিশ্চিত করেছে।” তিনি এও বলেন, “আপনারা খবরে দেখেছেন চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক এবং ভারতের কোনও সমস্যা হয়নি। কয়েক রাত আগে ভারতের দু’টি জাহাজও এই পথ পার হয়েছে। আরও কিছু দেশ, এমনকি আমার মনে হয় বাংলাদেশও, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও চলবে, এমনকি যুদ্ধের পরেও।”

    এই অঞ্চল এখন যুদ্ধক্ষেত্র

    তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িত উপসাগরীয় দেশগুলির জাহাজকে এই যুদ্ধবিধ্বস্ত জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। আরাঘচি বলেন, “আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চল এখন যুদ্ধক্ষেত্র। আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনও কারণই নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকবে।” আরাঘচি বলেন, “প্রায় পাঁচ দশক পরে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরান যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট।” তিনি জানান, যখন ইরান আংশিক অবরোধের কথা ঘোষণা করেছিল, তখন অনেকেই সেটিকে বিশ্বাস করেনি এবং এটিকে কেবল ব্লাফ বলে মনে করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ইরান তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রমাণ করে দিয়েছে। আরাঘচি বলেন, “তারা (আমেরিকা এবং ইজরায়েল) ভেবেছিল ইরানের এত সাহস নেই। কিন্তু আমরা শক্ত হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছি। তারা আমাদের ঠেকাতে সব ধরনের চেষ্টা করেছে, যদিও ব্যর্থ হয়েছে। তারা অন্য দেশগুলির কাছেও সাহায্য চেয়েছে, এমনকি যাদের তারা নিজেরাই শত্রু বলে মনে করে। কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। কারণ এটি বাস্তবসম্মত নয়।”

    হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ করার ঘোষণার জের

    আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের কয়েকদিন পর ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর এক শীর্ষ আধিকারিক হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহণ পথ। এখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। তাই এই অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করে এবং বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে বহু দেশের ওপর। সমুদ্রপথের এই বিঘ্ন ভারতের এলপিজি (LPG) সরবরাহেও ঘাটতি সৃষ্টি করেছে। কারণ দেশটি তার মোট এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে আমদানি করে। এর ফলে ছোট রাস্তার বিক্রেতা থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্ট মালিক পর্যন্ত বিরাট জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে কয়েক দিনের মধ্যেই, যখন ‘নন্দাদেবী’ ও ‘শিবালিক’-সহ এলপিজি বহনকারী কয়েকটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই জাহাজগুলি ভারতে এসেও গিয়েছে।

     

  • Iran War: নিষেধাজ্ঞা শিথিল আমেরিকার, ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় রিফাইনারির

    Iran War: নিষেধাজ্ঞা শিথিল আমেরিকার, ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় রিফাইনারির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। তাই ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ফের ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিরাও এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে শনিবার জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতের তিনটি রিফাইনিং সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশ ও ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থপ্রদানের শর্ত-সহ অন্যান্য বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

    ইরানি তেল কেনার ছাড়পত্র (Iran War)

    এশিয়ার অন্যান্য বড় তেল আমদানিকারী দেশের তুলনায় ভারতে তেলের মজুত কম। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি রাশিয়ান তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারতীয় রিফাইনারিগুলি দ্রুত রাশিয়ান তেল বুকিং করতে শুরু করে। এ বিষয়ে অবশ্য ভারত সরকারের কোনও মন্তব্য আপাতত মেলেনি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন জানিয়েছেন, এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিগুলিও ইরানি তেল কেনা সম্ভব কিনা তা যাচাই করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এই ছাড় প্রযোজ্য হবে এমন সব তেলের ক্ষেত্রে, যা ২০ মার্চের মধ্যে কোনও জাহাজে তোলা হয়েছে এবং ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করা হবে। এই তথ্য জানিয়েছে অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (OFAC)। যুদ্ধ শুরুর পর এটি তৃতীয়বারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল।

    হ্রাস পাচ্ছে জ্বালানি রফতানি

    কেপলারের সিনিয়র ডেটা ম্যানেজার ইম্যানুয়েল বেলোস্ত্রিনোর মতে, বর্তমানে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে রয়েছে। এগুলি মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগর থেকে শুরু করে চিনের নিকটবর্তী জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে রয়েছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টস নামের পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ১৯ মার্চ জানিয়েছিল, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেলের মধ্যে, যা বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম। এশিয়া তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। এই মাসে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় অঞ্চলের রিফাইনারিগুলি উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এবং জ্বালানি রফতানিও হ্রাস পাচ্ছে।

    কেপলারের তথ্য

    ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর থেকে চিন ইরানের প্রধান ক্রেতা হয়ে ওঠে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চিনের স্বাধীন রিফাইনারিগুলি দৈনিক ১৩.৮ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে। কারণ অধিকাংশ দেশ নিষেধাজ্ঞার কারণে এই তেল এড়িয়ে চলে এবং এতে বড় ধরনের মূল্যছাড় পাওয়া যায়। ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে। যেমন, অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং এর বড় অংশ পুরনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে। এছাড়া, আগে যারা ইরানি তেল কিনত, তাদের অনেকেরই জাতীয় ইরানি তেল কোম্পানির (NIOC) সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের পর ইরানি তেলের বড় অংশ তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “নিয়মনীতি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সবাই যত দ্রুত সম্ভব এগোতে চাইবে।” উল্লেখ্য যে, কোম্পানির নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিল। চিন ছাড়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আগে ইরানি তেলের বড় ক্রেতাদের মধ্যে ছিল ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান এবং তুরস্ক।

     

  • Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁও হামলায় জঙ্গিদের ব্যবহৃত ক্যামেরায় থাকা ডেটা পেতে চিনের দ্বারস্থ এনআইএ

    Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁও হামলায় জঙ্গিদের ব্যবহৃত ক্যামেরায় থাকা ডেটা পেতে চিনের দ্বারস্থ এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলা হয় (Pahalgam Terror Attack)। অনুমান, ওই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল একটি গো-প্রো হিরো ১২ ক্যামেরা, যা অভিযানের সময় উদ্ধার করে সেনা। ক্যামেরার ব্যবহারিক প্রযুক্তি ও তথ্য জমা রয়েছে চিনের একটি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি ডিভাইসটির ক্লাউড মেমরিতে থাকা তথ্য পাওয়ার জন্য বেইজিংয়ের সাহায্য চেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারী সংস্থা জম্মুর একটি আদালতে দাখিল করা আবেদনে জানিয়েছে, ক্যামেরাটির তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি লেটার রোগেটরি (Letter Rogatory বা LR) জারি করা হচ্ছে। এটি এমন একটি অনুরোধ, যার মাধ্যমে ভিন দেশের কাছে তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়।

    গো-প্রো হিরো ১২ ব্ল্যাক ক্যামেরা (Pahalgam Terror Attack)

    সোমবার জম্মু আদালতের এক আদেশে বলা হয়েছে, “এই মামলার তদন্ত চলাকালে ওই জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বস্তুগত প্রমাণ এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস হল গো-প্রো হিরো ১২ ব্ল্যাক ক্যামেরা, যার সিরিয়াল নম্বর সি৩৫০১৩২৫৪৭১৭০৬। পহেলগাঁও  হামলায় জড়িত জঙ্গি মডিউলের হামলার পূর্ববর্তী নজরদারি, চলাচল এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ডিভাইসটি গুরুত্বপূর্ণ।” এই আদেশের মাধ্যমে আদালত এনআইএকে চিনের কাছে লেটার রোগেটরি পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। এর আগে,  এনআইএ নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত গো-প্রো ক্যামেরার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছেও যোগাযোগ করে ডিভাইসটির সাপ্লাই চেইন এবং অ্যাক্টিভেশন সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিল (Pahalgam Terror Attack)।

    ডিভাইসের পরবর্তী লেনদেন

    ভারতের আবেদনের জবাবে নেদারল্যান্ডসের ওই সংস্থা জানায়, তারা কেবলমাত্র ক্যামেরাটি উৎপাদন করে। ব্যবহারিক প্রযুক্তি চিনের কাছে রয়েছে। নির্মাতা সংস্থা জানিয়েছে যে, তাদের কাছে ডিভাইসটির পরবর্তী লেনদেন বা শেষ ব্যবহারকারীর সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই। তারা আরও জানায়, ডিভাইসটির অ্যাক্টিভেশন, প্রাথমিক ব্যবহার এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের তথ্য চিনের ভৌগোলিক অধিক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে। ফলে ক্রেতা, শেষ ব্যবহারকারী এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য জানতে হলে চিনা কর্তৃপক্ষের বিচার বিভাগের সাহায্য প্রয়োজন (NIA)। এই কারণেই এনআইএ আদালতের কাছে আবেদন করেছিল এবং আদালত চিনের কাছে এলআর পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের মনোরম বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলা ভারত ও পাকিস্তানকে প্রায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’

    ভারত ৭ মে ভোরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালু করে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) জঙ্গি পরিকাঠামোর ওপর হামলা চালায়। পরে ১০ মে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই হামলায় জড়িত তিন জঙ্গি— সুলেমান শাহ, হামজা আফগানি (ওরফে আফগান) এবং জিবরান, ২২ এপ্রিল বাইসারান মেদোয় গুলি চালিয়ে ২৫ জন পর্যটক ও একজন পনি চালককে হত্যা করেছিল। পরে ২৮ জুলাই দাচিগাম বনাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তারা (NIA) খতম হয় (Pahalgam Terror Attack)।

  • Iran: সামনে চলে এল তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা

    Iran: সামনে চলে এল তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় কার্যত বিধ্বস্ত ইরানের (Iran) বিভিন্ন শহর। ওই দুই দেশ থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা সামনে চলে এসেছে। চিন (China) থেকে সম্প্রতি সংগ্রহ করা এইচকিউ-৯বি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে যুক্ত করেছিল, প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। এর আগে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তানে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময়ও এইচকিউ-৯বি পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। ইরানে এর দুর্বল প্রদর্শনের পর এখন সামরিক বিশ্লেষকরা এইচকিউ-৯বি-এর সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন।

    আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা (Iran)

    যদিও এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এর নকশাগত ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দিতে পারে, তবুও এটাও সম্ভব যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সম্মিলিত বিমানশক্তি এইচকিউ-৯বি সমর্থিত পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে চাপে ফেলে দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে যে প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, তা হয়তো এই আক্রমণের তীব্রতা সামাল দিতে পারেনি। চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন (CASIC) দ্বারা উন্নয়নকৃত এইচকিউ-৯বি মূলত রাশিয়ার এস-৩০০পিএমইউ এবং আমেরিকার প্যাট্রিয়ট পিএসি-২ সিস্টেম থেকে অনুপ্রাণিত হলেও পরে এটি সম্পূর্ণ দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। এটি প্রথম ২০০৬ সালে পরীক্ষা করা হয় এবং গত এক দশক ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে (Iran)।

    লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম

    বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর পাল্লা ২৬০ কিলোমিটার এবং এটি ৫০ কিলোমিটার উচ্চতা (China) পর্যন্ত উঠে উচ্চ-উচ্চতায় উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। সক্রিয় রাডার হোমিং এবং প্যাসিভ ইনফ্রারেড সিকার প্রযুক্তির কারণে এটি স্টেলথ বিমান শনাক্ত ও আঘাত করতে কার্যকর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচকিউ-৯বি একই সঙ্গে ৬-৮টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এবং প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে। বেইজিং, তিব্বত এবং দক্ষিণ চিন সাগর অঞ্চলে এইচকিউ-৯বি মোতায়েন করা হয়েছে। এই এলাকাগুলি চিনের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। অর্থাৎ, এই ভূমি-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চিনের আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের একটি প্রধান স্তম্ভ (Iran)।

    ‘তেলের-বিনিময়ে-অস্ত্র’ চুক্তি

    উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করলে ইরান তার সামরিক ভাণ্ডার শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হয়। জানা গিয়েছে, চিনের সঙ্গে ‘তেলের-বিনিময়ে-অস্ত্র’ চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান এইচকিউ-৯বি জোগাড় করে। ২০২৫ সালের সংঘাতে ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এস৩০০পিএমইউ-২ দুর্বল পারফরম্যান্স দেখানোর পর এটি ছিল ইরানের বড় আপগ্রেড (China)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইচকিউ-৯বি ছিল দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা স্তর। এর সঙ্গে সহায়ক হিসেবে ছিল এস-৩০০পিএমইউ এবং ব্যাভার-৩৭৩, খোড়দাদ -১৫ ও রাড, এবং স্বল্প-পাল্লার টর-এম২, প্যান্টসার-এস১, জলফাকার এবং কৌশলগত এমএএনপিএডিএস ক্ষেপণাস্ত্র। সম্ভবত এইচকিউ-৯বি মোতায়েন করা হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশপাশে, যেমন নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্স, ফোরদো সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্র, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং তেহরান ও ইসফাহানের নিকটবর্তী বিমানঘাঁটি।

    যৌথভাবে হামলা

    সপ্তাহ ও মাসব্যাপী উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিভিন্ন শহরে যৌথভাবে হামলা চালায়, যার জবাবে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি, রাজধানী তেহরান-সহ এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (Iran)।পাল্টা হামলা ও প্রতি-হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে (China)। ইরান সংঘাতের পরিধি বাড়িয়ে মার্কিন মিত্র কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকেও টার্গেট করেছে—এমন বার্তা দিতে যে শত্রুপক্ষের পাশে দাঁড়ালে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে, এবং তেহরান তাঁর হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর অঙ্গীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেইনিকে ইতিহাসের সবচেয়ে দুষ্ট ব্যক্তিদের একজন বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অভিযান অব্যাহত থাকবে (Iran)।

     

  • NGT: আইনি বাধার পাহাড় পার হল নয়াদিল্লির উচ্চাকাঙ্ক্ষী কৌশলগত নিকোবর দ্বীপ উন্নয়ন প্রকল্প

    NGT: আইনি বাধার পাহাড় পার হল নয়াদিল্লির উচ্চাকাঙ্ক্ষী কৌশলগত নিকোবর দ্বীপ উন্নয়ন প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়সড় আইনি বাধার পাহাড় পার হল নয়াদিল্লির সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কৌশলগত দ্বীপ উন্নয়ন প্রকল্প। এটি রয়েছে (NGT) ভারতের সর্বদক্ষিণ প্রান্ত ইন্দিরা পয়েন্ট থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে (Andaman Island China Trade)। এটি রয়েছে বিশ্বের ব্যস্ততম সমুদ্রপথগুলির নাগালের মধ্যেই। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) ৮১ হাজার কোটি টাকার গ্রেট নিকোবর মেগা পরিকাঠামো প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্রে হস্তক্ষেপ করতে রাজি নয় জানিয়ে প্রকল্পের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছে।

    ‘হংকং’ গড়ার স্বপ্ন (NGT)

    প্রসঙ্গত, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা একসময় এই প্রকল্পকে ‘অপরিণত এবং ভুল পরিকল্পিত’ বলে অভিহিত করেছিল। তবে এনজিটির এই রায় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ভারতের ‘হংকং’ গড়ার স্বপ্ন—গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লক্ষ্য হল, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ প্রান্তে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট ও লজিস্টিকস হাব গড়ে তোলা, যা চিনের জন্য হংকং যে ভূমিকা পালন করেছে, ভারতের জন্যও তেমন ভূমিকা পালন করবে। কেন্দ্র ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাণিজ্য প্রবাহকে শক্তিশালী করবে, বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং মালাক্কা প্রণালীর নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে ভারতের সামুদ্রিক শক্তির উপস্থিতি জোরদার করবে (Andaman Island China Trade)।

    উদ্বেগের অবসান

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কংগ্রেস সাংসদ সোনিয়া গান্ধী পরিবেশ ও আদিবাসী অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রকল্প পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। একাধিক আবেদনে উপকূলীয় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয় এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ছয় সদস্যের এনজিটি বিশেষ বেঞ্চ রায়ে জানায়, “ছাড়পত্রে হস্তক্ষেপের মতো উপযুক্ত কারণ তারা পায়নি।” বেঞ্চ প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়ে বলেছে যে যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে একগুচ্ছ আইনি চ্যালেঞ্জের নিষ্পত্তি হয়েছে। এনজিটির চেয়ারপার্সন বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ জানায়, ২০২২ সালে প্রদত্ত পরিবেশগত ছাড়পত্রে হস্তক্ষেপের যথার্থ ভিত্তি নেই। ছাড়পত্রের শর্তাবলীতে যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করে। বেঞ্চ এই বিষয়টিকে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখেছে। তাদের মতে, প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না, আবার আইল্যান্ড কোস্টাল রেগুলেশন জোন (আইসিআরজেড) বিধিও উপেক্ষা করা যায় না (NGT)।

    এইচপিসির রিপোর্ট

    এনজিটি একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির (এইচপিসি) প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন পরিবেশ সচিব লীনা নন্দন। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এনজিটির নির্দেশে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল পরিবেশগত ছাড়পত্রের কিছু বিষয় পুনর্বিবেচনার জন্য। প্রকল্পের কোনও অংশ নিষিদ্ধ আইসিআরজেড অঞ্চলে পড়ে কি না, সে বিষয়ে এনজিটি জানিয়ে দিয়েছে, প্রকল্পের কোনও অংশই নিষিদ্ধ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে না (Andaman Island China Trade)। আইসিআরজেড হল কেন্দ্রের জারি করা পরিবেশগত বিধিমালা, যা বিশেষ করে আন্দামান-নিকোবর ও লক্ষদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জের উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রণীত। পরিবেশ সুরক্ষা আইনের অধীনে জারি হওয়া এই বিধিতে উপকূলীয় এলাকাকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে, যেমন আইসিআরজেড-১, যা পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

    এনজিটির বিশেষ বেঞ্চ

    এনজিটির বিশেষ বেঞ্চ জানায়, পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্তাবলী আবেদনে উত্থাপিত উদ্বেগের যথাযথভাবে সমাধান করেছে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, সরকারকে আরোপিত শর্ত কঠোরভাবে মানতে হবে (NGT)। ১৬৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত গ্রেট নিকোবর প্রকল্প সাম্প্রতিক বছরগুলির অন্যতম বৃহৎ গ্রিনফিল্ড পরিকাঠামো পরিকল্পনা। এতে ১৩০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি অন্য খাতে রূপান্তর এবং প্রায় ১০ লাখ গাছ কাটার প্রস্তাব রয়েছে (Andaman Island China Trade)। প্রকল্পের মূল উপাদানগুলি হল, একটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, সমন্বিত টাউনশিপ, বেসামরিক ও সামরিক বিমানবন্দর এবং ৪৫০ এমভিএ গ্যাস ও সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

    ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু

    ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। লক্ষ্য হল, মালাক্কা প্রণালীর নিকটবর্তী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে গ্রেট নিকোবরকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিষ্ঠিত বন্দরগুলির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলা। এই কৌশলগত সমুদ্রপথ দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক বাণিজ্য হয়। চিনের অধিকাংশ জ্বালানি আমদানিও এই পথেই পরিবাহিত হয় (NGT)। বর্তমানে ভারত ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য ব্যাপকভাবে বিদেশি বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। প্রস্তাবিত এই হাব পূর্ব-পশ্চিম সমুদ্রপথে চলাচলকারী পণ্যের বড় অংশ আকর্ষণ করতে চায়। টাউনশিপ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মী ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সমর্থন করবে। বিমানবন্দরটি বেসামরিক ও কৌশলগত উভয় উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত। বিদ্যুৎকেন্দ্র শক্তি স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করবে (Andaman Island China Trade)।

    গ্রেট নিকোবরের উচ্চাকাঙ্ক্ষা

    ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব নৌসীমান্তে গ্রেট নিকোবরের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও পরিসরই এই প্রকল্পের পরিচয় নির্ধারণ করে। এনজিটি স্পষ্টভাবে এর কৌশলগত গুরুত্ব স্বীকার করেছে, যা তাৎপর্যপূর্ণ (NGT)। গ্রেট নিকোবর পূর্ব ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চোকপয়েন্টগুলির কাছে অবস্থিত। এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি ও দ্রুত বাহিনী মোতায়েনের ক্ষমতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক উপস্থিতি জোরদার করবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বন্দর ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য বিমানবন্দর নৌ ও বিমান অভিযানে লজিস্টিক সহায়তা বাড়াবে।চিনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি এই প্রকল্পকে শক্তি-বর্ধক  হিসেবে দেখছে। ফলে এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, একটি কৌশলগত আপগ্রেডও (Andaman Island China Trade)। ২০২১ সালে নীতি আয়োগ কমিশন করা সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই প্রকল্পটি বিতর্কে জড়ায়। পরিবেশবাদী আশিস কোঠারি আইসিআরজেড ২০১৯ লঙ্ঘনের অভিযোগে এনজিটিতে আবেদন করেন। দাবি করা হয়েছিল, প্রস্তাবিত এলাকার প্রায় ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত উপকূলীয় অঞ্চলে পড়ে। বিশেষ বেঞ্চ এই দাবি খারিজ করে দেয়।

    প্রবালপ্রাচীর

    প্রবালপ্রাচীর সম্পর্কিত উদ্বেগের কথাও বিবেচনা করা হয়। জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার পূর্ববর্তী উপস্থাপনার ভিত্তিতে এনজিটি জানায়, প্রকল্প এলাকার ভেতরে কোনও প্রবালপ্রাচীর নেই। ছড়িয়ে থাকা প্রবাল বৈজ্ঞানিকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্থানান্তরিত করা হবে। পরিবেশমন্ত্রককে প্রবাল পুনরুজ্জীবন নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (NGT)। উপকূলবর্তী এলাকায় উন্নয়নের কারণে যেন ক্ষয় বা তটরেখা পরিবর্তন না হয়, সেই বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। কচ্ছপ ও পাখির গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল বালুকাময় সৈকত সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে (Andaman Island China Trade)। লেদারব্যাক সামুদ্রিক কচ্ছপ, নিকোবর মেগাপোড, লবণাক্ত জলের কুমির, রবার ক্র্যাব এবং নিকোবর বানরের মতো প্রজাতি সংরক্ষণের শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এনজিটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পরিবেশগত শর্ত মানা বাধ্যতামূলক।

    এই রায়ে গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের ওপর থাকা বড় আইনি অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক ও পরিবেশগত বিতর্ক শেষ হয়নি, তবে কেন্দ্রীয় সরকার এখন স্থগিত পরিকাঠামো উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে (NGT)। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ভারতের সামুদ্রিক ভূগোল বদলে দিতে পারে। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য বিমান চলাচল কেন্দ্র গড়ে উঠবে। এনজিটির এই ছাড়পত্র ভারতের কৌশলগত সামুদ্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার ইঙ্গিত (Andaman Island China Trade)।

     

  • Maritime Security: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনকে টেক্কা দিতে সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা মোদির

    Maritime Security: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনকে টেক্কা দিতে সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (Maritime Security) সহযোগিতা আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিল ভারত (Indian Ocean Region)। এই লক্ষ্যে সেশেলসের জন্য ১৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার কথাও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা চলার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদির দেশ।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (Maritime Security)

    সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণাটি করা হয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মরিশাস ও কোমোরো-সহ এই অঞ্চলের একাধিক দেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে। একই সময়ে অঞ্চলটিতে বেজিংয়ের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনির সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব ভারত–সেশেলস সম্পর্কের একটি শক্তিশালী ভিত্তি। আমাদের সব উদ্যোগ সেশেলসের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে নেওয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ১৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করছি। এই প্যাকেজ সামাজিক আবাসন, ই-মোবিলিটি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলিতে নির্দিষ্ট প্রকল্পকে সাহায্য করবে।”

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা আমাদের অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের পূর্ণ সদস্য হিসেবে সেশেলসকে আমরা স্বাগত জানাই। এর ফলে পারস্পরিক সমন্বয় আরও মজবুত হবে এবং ভারত মহাসাগরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা জোরদার হবে (Maritime Security)।” আফ্রিকার এই দ্বীপপুঞ্জ রাষ্ট্রে প্যাট্রিক হারমিনি ২০২৫ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটি তাঁর প্রথম সরকারি ভারত সফর। ছ’দিনের এই সফরে তিনি ইতিমধ্যেই চেন্নাই ও মুম্বই সফর করেছেন এবং পরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছন। মঙ্গলবার তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং এরপর আগ্রা সফর শেষে তাঁর দেশে ফিরে যাওয়ার কথা। পশ্চিম ভারত মহাসাগরের একটি (Indian Ocean Region) গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে অবস্থিত সেশেলস দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তবে গত দু’দশকে চিনও এই অঞ্চলে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি কলেজের গবেষণা সংস্থা এইডডেটার তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চিন সেশেলসের রাজধানী ভিক্টোরিয়ায় মোট ১৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য পাঠিয়েছে।

    নয়াদিল্লির কৌশল

    সেশেলসে চিনের আর্থিক সহায়তা অনুদান ও ঋণের সমন্বয়ে গঠিত। ২০১১ সালে লেস মামেলেস এলাকায় ২৪টি আবাসন ইউনিট নির্মাণে চিন ১৮ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় অনুদান দেয়। এই এলাকায় ১৮৬৪ সালের ঐতিহাসিক বাতিঘর ‘ফারে দে মামেলেস’ এবং ৫২ মিটার উচ্চ আফ্রিকান রেনেসাঁ স্মৃতিস্তম্ভ অবস্থিত। পরবর্তী সময়ে দ্বীপজুড়ে আরও একাধিক সামাজিক আবাসন প্রকল্পে চিন অনুদান দিয়েছে (Indian Ocean Region)। ভারতের সাম্প্রতিক এই ঘোষণা এবং সোমবার স্বাক্ষরিত মউ – যার আওতায় সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, সমুদ্র পরিষেবা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং সামুদ্রিক গবেষণা পরিচালনার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত, এই অঞ্চলের প্রতি নয়াদিল্লির কৌশলে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে (Maritime Security)। সেশেলসে আবাসন প্রকল্প, শিক্ষা, যোগাযোগ, পরিবহণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সরকারি ও নাগরিক সমাজভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগে চিন দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। পাশাপাশি দেশটিকে সার্বিক সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছে বেজিং (Indian Ocean Region)।

     

  • India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য চুক্তিতে সহমত হয়েছে ভারত এবং আমেরিকা (India US Trade Deal)। যার ফলে ভারতের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে বলে খবর। আর তাতেই ফাঁপড়ে পড়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিন। কারণ, তাদের থেকে ভারতের শুল্ক অনেকটাই কম। যার ফলে ভারতের বাণিজ্য বাড়বে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনবে এবং প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানি করতে পারে।

    স্বাগত বার্তা মোদির

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে দারুণ আনন্দিত। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার এই ঘোষণায় আমি অত্যন্ত খুশি। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্র ও অর্থনীতি একসঙ্গে কাজ করলে তা সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

    ঐতিহাসিক চুক্তি, শাহ

    অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁর পোস্টে এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ (Historic Deal) বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শুল্ক ১৮ শতাংশে নামায় ভারত–মার্কিন বাণিজ্য (India-US Trade) নতুন মাত্রা পাবে। উভয় দেশের মানুষই এর সুফল পাবেন।’ দুই দেশের তুলনামূলক শুল্ক নিয়ে সরকারি সূত্র জানায়, এখন ভারতের শুল্ক ইন্দোনেশিয়া (১৯%), ভিয়েতনাম (২০%), বাংলাদেশ (২০%), এবং চিনের (৩৪%) চেয়ে কম। ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে।

    ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    ভারত-মার্কিন বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি (India US Trade Deal) সম্পন্ন হওয়ায় আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় উত্থানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০% শুল্ক কমে ১৮%-এ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তে অটোমোবাইল (Auto Stocks), আইটি (IT Stocks), ডিফেন্স (Defence Stocks) এবং ফার্মার (Pharma Stocks) মতো রফতানি-নির্ভর সেক্টরগুলি বিনিয়োগকারীদের (Investment) নজরে রয়েছে।ভারত-আমেরিকা শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে রফতানি বাণিজ্যে নতুন জোয়ার আসবে। বিশেষ করে আইটি এবং ডিফেন্স স্টকগুলোতে ভালো মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের অবস্থান

    এই চুক্তির ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারত এখন এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে পড়ল, যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে কম শুল্ক আরোপ করছে। চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতের শুল্কহার কম। তবে ইউরোপিয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় ভারতের শুল্ক সামান্য বেশি। এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা আগের ২৫ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’-এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল। নতুন চুক্তির ফলে এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

    বেশি ট্যারিফ যাদের উপর

    চিন- ৩৭ শতাংশ

    ব্রাজিল- ৫০ শতাংশ

    দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩০ শতাংশ

    মায়ানমার- ৪০ শতাংশ

    লাওস- ৪০ শতাংশ

    কম ট্যারিফ রয়েছে যাদের উপর

    ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন- ১৫ শতাংশ

    জাপান ১৫ শতাংশ

    দক্ষিণ কোরিয়া- ১৫ শতাংশ

    সুইৎজারল্যান্ড- ১৫ শতাংশ

    ইউকে- ১০ শতাংশ

    দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন শুল্ক

    বাংলাদেশ- ২০ শতাংশ

    ভিয়েতনাম- ২০ শতাংশ

    মালেয়শিয়া- ১৯ শতাংশ

    কম্বোডিয়া- ১৯ শতাংশ

    থাইল্যান্ড- ১৯ শতাংশ

    পাকিস্তান- ১৯ শতাংশ

    ভারত-মার্কিন চুক্তির শর্ত

    সূত্রের খবর, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যে অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়েছিল, তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে জ্বালানি, কয়লা, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের মোট মার্কিন জ্বালানি ক্রয় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, ভারত ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যের দিকে নিয়ে যাবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে ভারতের গড় শুল্কহার ছিল বিশ্বের অন্যতম উচ্চ—সাধারণভাবে প্রযোজ্য হার ১৫.৬ শতাংশ এবং কার্যকর হার ৮.২ শতাংশ।

    রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ায় ভারতের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। বাণিজ্যে আরও সুবিধা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুল্ক কমার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ভারত এবার থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। তার বদলে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে তেল কিনবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্টে এ কথা উল্লেখ নেই।

    এখনো যেসব বিষয় স্পষ্ট নয়

    এই চুক্তি কবে থেকে কার্যকর হবে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের সময়সীমা কী, কিংবা কোন কোন মার্কিন পণ্য ভারত কিনবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি বা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিস জারি করেনি। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই এখনো চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে রাশিয়াও ভারতের তেল আমদানি বন্ধের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে ভারতের সঙ্গে ঘোষিত এই চুক্তিতে তেমন কোনো বিনিয়োগের উল্লেখ নেই। উল্লেখ্য, গত এক বছরে দু’দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও উচ্চ শুল্ক এবং কূটনৈতিক মতবিরোধে সম্পর্ক কিছুটা চাপের মধ্যে ছিল। শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতাকে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

     

     

     

     

     

  • Republic Day 2026: ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি চিন-আমেরিকার! প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা ট্রাম্প-জিনপিংয়ের

    Republic Day 2026: ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি চিন-আমেরিকার! প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা ট্রাম্প-জিনপিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বসভায় ভারতের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিল ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস ( Republic Day 2026)। ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি বিশ্বে শক্তিধর দুই দেশের। বেশ কিছু ক্ষেত্রে নীতিগত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও ভারতকে পাশে চায় চিন ও আমেরিকা (India China US) উভয়েই। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিরোধ এবং নীতিগত পার্থক্য নিয়ে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রথা মেনে ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত এবং আমেরিকা— দু’দেশ ‘ঐতিহাসিক বন্ধনে’ আবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে চিন এবং ভারত ভালো বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী! সাধারণতন্ত্র দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বললেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

    ভারতের সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’

    বাণিজ্য বিরোধ, শুল্কনীতি ও কৌশলগত মতপার্থক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক যখন চাপের মুখে, ঠিক সেই সময়েই ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নয়াদিল্লিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’-এর কথা তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে ভারত সরকার ও জনগণকে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে।”

    কেন ভারতকে পাশে চায় আমেরিকা

    ভারতের পণ্যের উপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ‘শাস্তিস্বরূপ’ ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। অন্য দিকে, কয়েকমাস আগেই সাংহাই সম্মেলনে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সখ্যতা দেখেও তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন ট্রাম্প। তবে, তারপরই নিজের দেশে বিরোধিতার মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার সেনেটেও ওঠে বিতর্কের ঝড়। ট্রাম্পের নির্বুদ্ধিতার জন্যই ভারতের মতো বন্ধুকে হারাতে চলেছে আমেরিকা, বলে দাবি করেন মার্কিন কূটনীতিকদের একাংশ। এরপরই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ফের ভারতকে কাছে টানার চেষ্টা শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাম্পের পাশাপাশি আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও-ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন রুবিও। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়বে।’’ তিনি জানান, আগামী বছরেও অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ভারতের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে ওয়াশিংটনের। কোয়াডের মাধ্যমে বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব—যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক দুই দেশ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বাস্তব ফল দিচ্ছে, বলে মনে করেন রুবিও।

    কর্তব্য পথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল কুচকাওয়াজে কর্তব্য পথে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। প্রথমবারের মতো প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডে অংশ নিয়ে তিনি একে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চেতনার উদযাপন বলে অভিহিত করেন। গোর বলেন, “হ্যাপি রিপাবলিক ডে, ইন্ডিয়া! ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক আত্মার এই উদযাপনে অংশ নিতে পেরে সম্মানিত।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের আকাশে মার্কিন তৈরি বিমান উড়তে দেখা যুক্তরাষ্ট্র–ভারত কৌশলগত অংশীদারত্বের শক্তিশালী প্রতীক।”

    ভারত ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’

    প্রজাতান্ত্রিক দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারত ও চিনকে ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। চিনের রাষ্ট্রপতি আরও জানান, দুই দেশের সম্পর্ক উভয় দেশের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। নয়াদিল্লি-বেজিংয়ের সুসম্পর্ক উভয় দেশের সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে। অন্য দিকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি ও বেজিং। সীমান্ত সমস্যা দূর করতে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে।

    কাছাকাছি ভারত-চিন

    চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতে, গত এক বছরে ভারত ও চিন দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চিন সব সময় বিশ্বাস করে ভাল বন্ধু এবং প্রতিবেশী হওয়া দুই দেশের জন্যই সঠিক পথ। সেই বিষয় উল্লেখ করতে গিয়ে জিনপিং আবার ‘ড্রাগন-হাতি’ যৌথ নাচের প্রসঙ্গ টেনেছেন। জিনপিং আশাবাদী, ভারত-চিন উভয় দেশই পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিনিময়, সহযোগিতার পথ আরও সম্প্রসারণ করবে। সুস্থ এবং স্থিতিশীল সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়গুলি সমাধান করা হবে। এই বক্তব্যে সুর মিলিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত সু ফেইহং। তিনি বলেন, “চিন ও ভারতের জন্য ভাল প্রতিবেশী বন্ধু ও অংশীদার হওয়াই সঠিক পথ—যেখানে ড্রাগন ও হাতি একসঙ্গে নাচবে।” একই দিনে চিনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।

    ভয় পাচ্ছে আমেরিকা!

    ১৯৬২-র যুদ্ধ এবং ১৯৬৭-র সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সে বছর ডোকলামে টানা ৭৩ দিন দু’দেশের বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পরে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হয়। এর পর ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনের বাহিনীর। তার পরে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরেছে। ভারত এবং চিনের কূটনৈতিক শৈত্য অনেকটাই কেটে গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা শান্ত। পাশাপাশি কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু, সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন এবং ভিসা সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সেই আবহে দু’দেশের মধ্যে সরাসরি উড়ান পরিষেবা চালু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের আবহে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। কড়া বার্তা দিয়েছে আমেরিকাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জিনপিঙের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    ভারত-এর গুরুত্ব

    আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এমনটাই মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সোমবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, “সফল ভারতই পারে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, উন্নত এবং নিরাপদ করে তুলতে।” এই আবহে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামার মাঝেই প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের। চিন ও আমেরিকার এই বার্তাই বুঝিয়ে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের স্থান।

  • China Nuclear Leaks: আমেরিকার কাছে পারমাণবিক তথ্য পাচার চিনা সেনাকর্তার! তদন্তের নির্দেশ জিনপিংয়ের

    China Nuclear Leaks: আমেরিকার কাছে পারমাণবিক তথ্য পাচার চিনা সেনাকর্তার! তদন্তের নির্দেশ জিনপিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের গভীর অস্থিরতার মুখে চিনের (China Nuclear Leaks) সামরিক নেতৃত্ব। দেশটির অন্যতম শীর্ষ সেনা আধিকারিক এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেনারেল ঝাং ইউশিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্পর্শকাতর পারমাণবিক তথ্য পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। পঁচাত্তর বছর বয়সি ঝাং, সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) প্রথম-ক্রমিক ভাইস চেয়ারম্যান। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি চিনের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত তথ্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর কাছে সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ।

    চিনা গণমাধ্যমের দাবি

    চিনা গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয় এবং এর আগেই চলতি সপ্তাহে সামরিক দুর্নীতিবিরোধী কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করেছে বলে অনুমান। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর-পূর্ব চিনের শেনইয়াং শহরে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স পাঠিয়েছেন বলেও খবর (China Nuclear Leaks)। ঝাং অতীতে সেখানে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং এখনও সেখানে তাঁর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে অনুমান। অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ এড়াতে ওই টাস্ক ফোর্স সামরিক কাঠামোর বদলে অসামরিক হোটেলে থেকে কাজ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের পাশাপাশি ঝাং পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ভেতরে পদোন্নতির বিনিময়ে ঘুষ নিয়েছেন এবং পরে ব্যক্তিগত লাভের জন্য গোপন পারমাণবিক তথ্য শেয়ার করেছেন।

    কমিউনিস্ট পার্টির সর্বময় নেতৃত্বকে হুমকি

    চিনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের অভিযোগ, ঝাং এবং পিএলএর আর এক জেনারেল লিউ ঝেনলি কমিউনিস্ট পার্টির সর্বময় নেতৃত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছেন এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাতে ন্যস্ত চূড়ান্ত দায়বদ্ধতার ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন (Xi Jinping)। ঝাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। পিএলএর প্রবীণ আধিকারিক এবং ‘রেড প্রিন্সলিং’ হিসেবে পরিচিত ঝাং একটি বিপ্লবী পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, যার সঙ্গে চিনা গৃহযুদ্ধের সময় থেকেই শি জিনপিংয়ের বাবার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সামরিক সহযোগীদের একজন হিসেবে দেখা হত(China Nuclear Leaks)।

    এই তদন্ত শুরু হয়েছে এমন একটা সময়ে, যখন পিএলএর রকেট ফোর্স, যা চিনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের দায়িত্বে রয়েছে, গত এক বছরে একের পর এক শুদ্ধি অভিযানের কারণে মারাত্মক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ স্তরে আনুগত্য ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেতৃত্বের গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমান এই কঠোর অভিযানকে ১৯৭১ সালের পরে সবচেয়ে বড় সামরিক রদবদল হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। ওই বছর তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান লিন বিয়াওয়ের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান মাও সে-তুংয়ের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল (Xi Jinping)।

     

LinkedIn
Share