Tag: Chinmoy Prabhu

  • Bangladesh Bengali Hindus:  চিন্ময় প্রভুর ঘটনায় নীরবতা কেন, প্রশ্ন উঠল বাঙালি সংহতি-ধর্মনিরপেক্ষতার মানদণ্ড নিয়েও

    Bangladesh Bengali Hindus:  চিন্ময় প্রভুর ঘটনায় নীরবতা কেন, প্রশ্ন উঠল বাঙালি সংহতি-ধর্মনিরপেক্ষতার মানদণ্ড নিয়েও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালি পরিচয় কি সত্যিই ধর্মের ঊর্ধ্বে, নাকি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেই সংহতিও হয়ে ওঠে বেছে নেওয়া? বাংলাদেশে (Bangladesh Bengali Hindus) হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি চিন্ময় প্রভু নামেই পরিচিত, তাঁর গ্রেফতারি ও তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এমনই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষ করে, যাঁরা নিয়মিত বাঙালি পরিচয়, মানবতাবাদ, সংখ্যালঘু অধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে সরব হন, তাঁদের একাংশের নীরবতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

    চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারি (Bangladesh Bengali Hindus)

    চিন্ময় প্রভু বাংলাদেশের এক হিন্দু সন্ন্যাসী। তাঁর গ্রেফতারিকে ঘিরে বহু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে (Bengali Prem)। রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত অবস্থান যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা, আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার এবং হিংসা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত—এটাই হওয়া উচিত মূল প্রশ্ন। চিন্ময় প্রভুকে ঘিরে তৈরি হওয়া মানবিক পরিস্থিতি সেই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

    বছর একাত্তরের সন্ধ্যা রানি ধর চট্টগ্রামে তাঁর ছেলের আশ্রমে মারা যান। জেলে থাকা ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি তাঁর। একজন মায়ের কারাবন্দি সন্তানকে না দেখে মৃত্যুবরণ করার ঘটনায় অন্তত মানবিক সহানুভূতি প্রকাশ পাওয়া উচিত ছিল বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

    কিন্তু ওই ঘটনায় যথেষ্ট প্রতিবাদ হয়নি বলেই খবর। যাঁরা নিয়মিত মানবতাবাদ, সংখ্যালঘু অধিকার এবং বাঙালির বিবেক নিয়ে ‘বক্তৃমে’ করেন, তাঁদের সুরও কেন চড়ল না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

    দুর্গাপুজোর সময় খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিতর্ক কিংবা বাঙালি সংস্কৃতির পরিচয় নিয়ে আলোচনা হলে সমাজের বিভিন্ন অংশে প্রবল আবেগ দেখা যায়। কিন্তু হিন্দু ধর্মীয় স্থান বা দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটলে সেই প্রতিক্রিয়া অনেক সময় তুলনামূলকভাবে সতর্ক বা শর্তসাপেক্ষ হয়ে পড়ে বলেই অভিযোগ।

    ধর্মনিরপেক্ষতার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন

    এখানেই ধর্মনিরপেক্ষতার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নটি সামনে আসে। ধর্মনিরপেক্ষতা যদি সত্যিই সর্বজনীন হয়, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির ধর্ম দেখে তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর মাত্রা বদলানো উচিত নয়। কোনও মুসলিম আক্রান্ত হলে যেমন প্রতিবাদ করা উচিত, কোনও খ্রিস্টান নিপীড়িত হলেও তেমনই প্রতিবাদ করা উচিত। একইভাবে কোনও বৌদ্ধ বা হিন্দু আক্রান্ত হলেও সমান দৃঢ়তার সঙ্গে কথা বলা জরুরি। তা না হলে সর্বজনীন মানবতাবাদের বদলে বেছে নেওয়া সহানুভূতির চর্চা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠবেই।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে রাজনৈতিক ভাষার ব্যবহার নিয়েও একই ধরনের দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। ‘গেরুয়া সন্ত্রাসবাদ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে হিন্দু বা জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে যুক্ত করার প্রবণতার সমালোচনা করা হয়েছে। বস্তুত, সন্ত্রাসবাদের বিচার হওয়া উচিত প্রমাণ, অপরাধী এবং তার মতাদর্শের ভিত্তিতে; কোনও সম্পূর্ণ সম্প্রদায়ের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

    একইভাবে, ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ উঠলে যেমন বলা হয় যে সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই এবং কোনও জঙ্গির অপরাধের জন্য সাধারণ মুসলিমদের দায়ী করা যায় না, একই নীতি হিন্দুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কোনও ব্যক্তি হিন্দুধর্মের নামে অপরাধ করলেই তার দায় গোটা হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চাপানো যেমন যুক্তিসঙ্গত নয়, তেমনই কোনও সন্ত্রাসবাদীর দাবি করা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে গোটা মুসলিম সমাজকে দায়ী করাও (Bengali Prem) অনুচিত।

    হিন্দুর নিরাপত্তার প্রশ্ন

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাসকারী কোনও হিন্দুর নিরাপত্তার প্রশ্নকে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজের প্রেক্ষাপটে বিচার করাও ঠিক নয়। সংখ্যালঘু পরিচয় সর্বদা সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। সেই কারণে বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা এবং অধিকারও একটি স্বতন্ত্র মানবাধিকার প্রশ্ন (Bangladesh Bengali Hindus)।

    এই প্রসঙ্গেই তথাকথিত ‘জাগ্রত উদারপন্থা’র দ্বিচারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংখ্যালঘুর অধিকার, বিভিন্ন পরিচয়ের আন্তঃসম্পর্ক এবং সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে যাঁরা সরব, তাঁদের একাংশের প্রতিবাদ কেন কখনও কখনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত বয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে—সেই প্রশ্নও উঠেছে। লেখাটির বক্তব্য, অন্যায়ের শিকার ব্যক্তি কোন পরিচয়ের মানুষ তার ওপর যদি প্রতিবাদের মাত্রা নির্ভর করে, তাহলে তা ন্যায়বিচার নয়, বরং মতাদর্শের প্রকাশ।

    বাংলাদেশকে বাঙালিদের কাছে কোনও সাংস্কৃতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড হিসেবেও দেখা যায় না। বাংলার সভ্যতা ও ইতিহাসের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর যোগ রয়েছে। ঢাকেশ্বরী মন্দির সেই ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। মাস্টারদা সূর্য সেন, অনন্ত সিংহের মতো বিপ্লবীরাও দুই বাংলার অভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতির অংশ। কিন্তু ঐতিহ্যকে শুধু বক্তৃতা ও স্মরণানুষ্ঠানে উদ্‌যাপন করলেই তার সুরক্ষা হয় না। সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারীরা কীভাবে জীবনযাপন করছেন, তাঁদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত—তার মধ্যেও ঐতিহ্যের প্রকৃত মূল্য প্রতিফলিত হয়।

    হিন্দুদের জন্য কোনও বিশেষ সুবিধা দাবি করা হচ্ছে না বলেই লেখাটিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। দাবি হল সমান অধিকার ও সম মর্যাদার। চিন্ময় প্রভু বাঙালি, তিনি সন্ন্যাসী এবং তিনি হিন্দু—এই পরিচয়গুলির কোনওটিই পরস্পরবিরোধী নয় (Bangladesh Bengali Hindus)।

    তাই বাঙালি বুদ্ধিজীবির প্রকৃত পরীক্ষা কেবল বাঙালি সংস্কৃতিকে উদ্‌যাপন করার মধ্যে নয়। বরং সেই সময়ে একজন বাঙালি হিন্দুর পাশে দাঁড়াতে পারার মধ্যেই তার প্রকৃত পরীক্ষা, যখন সেই অবস্থান প্রচলিত বা পছন্দের রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে সংঘাতে যেতে পারে।

    ‘বাঙালি-প্রেম’

    মতামতভিত্তিক একটি লেখায় বলা হয়েছে, “আমাদের সহমর্মিতার যদি শর্ত থাকে, তবে তা সহমর্মিতা নয়। আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার যদি পছন্দের মানুষ থাকে, তবে তা ধর্মনিরপেক্ষতা নয়। আর কোনও বাঙালি হিন্দু হলেই যদি বাংলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা হারিয়ে যায়, তাহলে ‘বাঙালি-প্রেম’ বলতে (Bengali Prem) আমরা আসলে কী বুঝি, সেই প্রশ্ন নিজেদেরই করা উচিত।”

    মনে রাখতে হবে, অন্যায় চোখের সামনে ঘটলেও নীরব থাকাটা নিরপেক্ষতা নয়, বরং সেই নীরবতাও একটি (Bangladesh Bengali Hindus) অবস্থান।

     

LinkedIn
Share