Tag: Chudamani Vihara

  • PM Modi: ভারতকে একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন ফেরাল নেদারল্যান্ডস

    PM Modi: ভারতকে একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন ফেরাল নেদারল্যান্ডস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাচীন নিদর্শন পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় মিলল বিরাট সাফল্য (PM Modi)। শুক্রবার নেদারল্যান্ডস (Netherlands) ভারতকে ফিরিয়ে দিল একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন। এই ফলকগুলি ‘লেইডেন প্লেটস’ নামেও পরিচিত। এগুলি চোল সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টিকে থাকা ঐতিহাসিক দলিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেদারল্যান্ডস সফরের সময় এই পদক্ষেপটি নেয় সে দেশের সরকার।

    ২১টি তাম্রফলক (PM Modi)

    ভারত সরকার, ডাচ সরকার এবং লেইডেন ইউনিভার্সিটির মধ্যে বহু বছরের পুনরুদ্ধার চেষ্টার ফলস্বরূপ মিলল এই সাফল্য। সব মিলিয়ে মোট ২১টি তাম্রফলক রয়েছে। ওজন প্রায় ৩০ কেজি। একটি ব্রোঞ্জের বৃত্তের মাধ্যমে একত্রে বাঁধা, যাতে রাজেন্দ্র চোল একের রাজমোহরও লাগানো রয়েছে। এই তাম্রফলকের লিপিগুলি সম্রাট রাজারাজা চোল এক এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্র চোলের শাসন কালের। সংস্কৃত অংশে চোল বংশের বংশলতিকার উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিষ্ণুর কাছ থেকে ঐশ্বরিক বৈধতা দাবি করা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক বিনিময়

    তামিল ভাষায় লেখা অংশে রাজরাজা চোলের পক্ষ থেকে নাগাপট্টিনমের চূড়ামণি বিহার নামক একটি বৌদ্ধ মঠকে জমির রাজস্ব ও কর দেওয়ার নথি রয়েছে। এই বিহারটি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার শ্রীবিজয় সাম্রাজ্যের শাসক শ্রী মারা বিজয়োতুঙ্গ বর্মণ নির্মাণ করেছিলেন। ভূমিদানের আদেশ প্রথমে রাজরাজা চোল জারি করলেও, পরে তাঁর পুত্র সম্রাট রাজেন্দ্র চোল সেই আদেশ তাম্রফলকে উৎকীর্ণ করান, যাতে তা সংরক্ষিত থাকে। এই লিপিগুলি দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে চোল যুগের শীর্ষ সময়ে বিদ্যমান সামুদ্রিক যোগাযোগ, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কে বিরল তথ্য দেয়। নথিগুলি থেকে জানা যায়, সেই সময়ের হিন্দু শাসকরা বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলিকে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন, যা ভারতের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার ঐতিহ্য তুলে ধরে (PM Modi)।

    কীভাবে তাম্রফলকগুলি পৌঁছল নেদারল্যান্ডসে?

    প্রশ্ন হল, কীভাবে তাম্রফলকগুলি লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছল? প্রায় ১৭০০ সালের দিকে ডাচ মিশনারি ফ্লোরেনটিয়াস ক্যাম্পার এই তাম্রফলকগুলি সংগ্রহ করেন। তখন ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পুলিকট থেকে তাদের কোরোম্যান্ডেল সদর দফতর নাগাপট্টিনমে স্থানান্তর করার পর ওই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছিল। পরে ১৮৬২ সালে অধ্যাপক হেনড্রিক আরেন্ট হামাকারের সম্পত্তির মাধ্যমে এগুলি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এশীয় সংগ্রহের অংশ হয়ে ওঠে। সেখানে ফলকগুলি নিরাপদ ভল্টে সংরক্ষিত ছিল। খোলা ছিল কেবল গবেষক ও পণ্ডিতদের জন্যই।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে ডাচ সরকার ও লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই তাম্রফলক ফেরত আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডস ঔপনিবেশিক আমলের নিদর্শন ফেরত দেওয়ার নীতি চূড়ান্ত করার পর ভারতের প্রচেষ্টা গতি পায়। ২০২৩ সালে ইউনেস্কো (UNESCO)-এর আন্তঃসরকার কমিটি ভারতকে উৎস দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় (Netherlands), আহ্বান জানায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার। শেষমেশ মিলল ফল (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share