Tag: CITU

CITU

  • West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ যখন স্বাধীন হয়, সেই ১৯৪৭ সালেও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ছিল এই উপমহাদেশের অর্থনীতির ভরকেন্দ্র। তার পর থেকে যতই গড়িয়েছে (Twenty Fourth State) সময়ের জল, ততই একটু একটু করে পতনের দিকে এগিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মাথাপিছু আয়কে মানদণ্ড ধরে যদি ভারতের রাজ্যগুলিকে ক্রমানুসারে সাজানো হয় এবং সাত দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলেই বেরিয়ে আসবে ঝুলি থেকে বেড়াল। ১৯৬০-৬১ সালে, স্বাধীনতা যখন নিতান্তই শিশু, ভারত নামক দেশটি যখন সবেমাত্র একটু একটু করে গুছিয়ে উঠছিল, তখনও ভারতীয় রাজ্যগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে ছিল বাংলা। সেই সোনার বাংলার আগে ছিল মাত্রই দুটি রাজ্য- এক, পাঞ্জাব ও দুই মহারাষ্ট্র।

    ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফল! (West Bengal)

    ভারতের অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাই পরবর্তীকালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নয়া সংজ্ঞা দিয়েছিল। এহেন সোনার বাংলায় রাজ করে প্রথমে কংগ্রেস, পরে বামফ্রন্ট এবং বর্তমানে তৃণমূল। এই ‘ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফলে ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ সমীক্ষায় দেখা যায় দেশটি চব্বিশতম স্থানে নেমে এসেছে। বঙ্গ নামক এই অঙ্গরাজ্যটির পতন ক্রমান্বয়িক ছিল না,  এমন কোনও সামান্য হ্রাসও ছিল না যা সামান্য আপেক্ষিক পতনের ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি আদতে ছিল কাঠামোগত, ক্রমবর্ধমান এবং সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপযোগ্য। মাথাপিছু আয় জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ থেকে কমে হয় ৮৩.৭ শতাংশ। এটি কেবল গরিব রাজ্যগুলির এগিয়ে আসার গল্প নয়। এটি আসলে এমন একটি রাজ্যের গল্প, যা একসময় এগিয়ে থাকলেও, ধীরে ধীরে তার পেছনে থাকা ওড়িশা, তেলঙ্গনা এবং কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলির মতো ক্রমেই পিছিয়ে পড়তে থাকে। এই রাজ্যগুলি এখন জাতীয় গড়ের সমান বা তার চেয়েও বেশি এগিয়ে গিয়েছে, অথচ বাংলার পতন অব্যাহত রয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়, যা একসময় জাতীয় গড়ের চেয়ে ২৭.৫ শতাংশ বেশি ছিল, গত ছ’দশকে তা কমে ১৬.৩ শতাংশ নীচে নেমে এসেছে। বঙ্গের শুরুর দিকের অবস্থানটিই তার এই গতিপথকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ১৯৪৭ সালে, যখন রক্ত-কালি দিয়ে বাংলার সীমানা নতুন করে আঁকা হচ্ছিল, তখনও এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্রভূমি। কলকাতা ছিল ব্রিটিশ রাজের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, সাম্রাজ্যবাদী প্রশাসন, ব্যাঙ্কিং এবং বাণিজ্যের এক মহানগরী। শহর কলকাতা থেকে উত্তরে বিস্তৃত হুগলি শিল্পাঞ্চল ছিল এই অঞ্চলের উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি—এক শতাব্দীর ঔপনিবেশিক বিনিয়োগে গড়ে ওঠা বিদ্যুৎ, ইস্পাত, পাট, কাগজ এবং রাসায়নিকের এক কেন্দ্রীভূত ভৌগোলিক এলাকা। ১৯৫১ সালে, যখন স্বাধীন ভারতের প্রথম আদমশুমারি হয়, তখন বাংলায় ১,৪৯৩টি নথিভুক্ত কারখানা ছিল। এই সংখ্যাটি মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের সম্মিলিত কারখানার সংখ্যার চেয়েও বেশি।

    বাংলার অবদান

    ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশই ছিল এই বঙ্গের অবদান। এগুলি কোনও তাত্ত্বিক সুবিধা বা পরিকল্পিত সম্ভাবনা নয়, এটি আদতে ছিল চলমান, বাস্তব এবং কার্যকর সক্ষমতা, যেখানে নিরন্তর শোনা যেত শিল্প-কারখানার যন্ত্রের ঘরঘরানি শব্দ। ভোরের সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানার গেটে শ্রমিকদের ব্যস্ততা উঠত তুঙ্গে। শিল্প-কারখানার যন্ত্রের মতো আবর্তিত হচ্ছিল পুঁজিও। মুনাফা বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তারা নিচ্ছিলেন একের পর এক নয়া শিল্প-কারখানা স্থাপনের   সিদ্ধান্ত। বাংলার এই উত্তরাধিকারের কী হল, সেটাই আমাদের পরবর্তী আলোচনার বিষয়। একে ‘বেঙ্গল কার্ভ’ বলা যেতেই পারে। কারণ এটি কোনও একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা বা কোনও একটি সরকারের ভুল পদক্ষেপের ফল বলে মনে হয় না (West Bengal)। এটি সাত দশক ধরে তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাসন কালে নেওয়া ক্রমবর্ধমান কাঠামোগত সিদ্ধান্তের ফল, যার প্রতিটিই নিজস্ব সীমাবদ্ধতার স্তরকে যুক্ত করেছে এবং রাজ্যটিকে তার আগের অবস্থার চেয়ে দুর্বল করে রেখে গিয়েছে। এর হিসেব নির্মম। সর্বভারতীয় গড়ের তুলনায় এক দশকের দুর্বল পারফরম্যান্সের অর্থ হল অর্থনৈতিক গুরুত্বের এমন এক ক্ষতি, যাকে পুনরুদ্ধার করাই যায়। দু’দশক ধরে চলতে থাকলেও, পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, এটি একটি কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সাত দশক ধরে চলতে থাকলেও, এটি ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রকেই নতুন করে লিখে দিয়েছিল বলেই মনে হয়।

    সঙ্কটে পাটশিল্প

    ১৯৪৭–১৯৭৭ বাংলার পতনের প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছিল নির্বাচনের ফল বা আদর্শগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়, বরং ভূগোল এবং দেশভাগের ধারালো ছুরির মাধ্যমে। যখন নয়া ভারতের সীমানা নির্ধারণ করা হল, তখন পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পেল যার অর্থনৈতিক ভিত্তি কার্যত করুণ হয়ে গিয়েছিল। হুগলির কলকারখানাগুলিকে সচল রাখতে পাট আসত পূর্ববঙ্গের জেলাগুলি থেকে, যে অংশগুলি এখন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত। স্রেফ একটিমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপে, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিল্পপুঞ্জ তার প্রধান কাঁচামালের জোগান হারাল (Twenty Fourth State)। পাটশিল্প, যা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছিল এবং বাংলার সমৃদ্ধি এনেছিল, পরবর্তী তিন দশক ধরে সেটাই এমন এক ভৌগোলিক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল যা তার অস্তিত্বকে আর সমর্থন করে না (West Bengal)। কলকারখানাগুলি থাকলেও, আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় তারা ক্রমশ নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে লাগল এবং পুরানো শিল্পপুঞ্জগুলির অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কাজ করতে লাগল। তবে, কাঁচামাল সরবরাহের এই ব্যাঘাত ছিল কেবল শুরু। ব্রিটিশ ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোটি কলকাতাকে কেন্দ্র করে একটি ঔপনিবেশিক শোষণ যন্ত্র হিসেবেই পরিকল্পিত হয়েছিল। রেলপথ, বন্দর, আর্থিক পরিকাঠামো—সবকিছুই সাম্রাজ্যের শোষণমূলক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বাংলা থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

    বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    যখন সেই সাম্রাজ্যের পতন ঘটল, তখন টিকে রইল কেবল কেন্দ্রাভিমুখী কাঠামোটি। অচিরেই সেটিও উধাও হয়ে গেল। স্বাধীনতার প্রথম বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা জাতীয় বণ্টনের দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক মনে হলেও, বাংলার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে তা বিপর্যয়কর বলেই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মালবাহী ভাড়া সমতাকরণ নীতি। এই নীতি অনুযায়ী দূরত্ব বা স্থানীয় সুবিধা নির্বিশেষে সারাদেশে একই মালবাহী ভাড়া ধার্য করার একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণকে উৎসাহিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী ঔপনিবেশিক কেন্দ্রগুলিতে শিল্পের কেন্দ্রীভবন রোধ করা। এটি ঠিক সেই লক্ষ্যই অর্জন করেছিল — কিন্তু তা করতে গিয়ে এটি বাংলাকে তার অবশিষ্ট কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার একটি থেকে বঞ্চিত করে, সেটি হল কাঁচামাল, বিদ্যুৎ এবং বন্দরের ভৌগোলিক নৈকট্য। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার পুনর্বণ্টন করেছিল  তার করের ভাগ। ১৯৫০-এর শুরুর দিকে বিধানচন্দ্র রায় এবং জওহরলাল নেহরুর মধ্যে হওয়া পত্রালাপ এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখন বিসি রায়। তাঁর আশা ছিল, দেশের প্রধান শিল্পোন্নত রাজ্য হিসেবে তাদের অবদান অনুযায়ী তারা করের ভাগের একটা বড় অংশ পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, আয়কর ভাগে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ক্রমাগত কমেছে, প্রথমদিকে প্রায় ২০ শতাংশ থেকে ছ’য়ের দশকে সেটি নেমে আসে ১২ শতাংশে (West Bengal)।

    শরণার্থী সঙ্কট

    বস্তুত, এটি এমন একটি নয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করে, যেখানে রাজ্য সম্পদ উৎপাদন করলেও তার অনুপাতে কম অর্থ ফিরে পায়। পরিকাঠামো, শিক্ষা এবং শিল্পোন্নয়নের জন্য যে অর্থ ফেরত আসার কথা ছিল, তা দেশের অন্যান্য রাজ্যে শিল্পের ভিত্তি গড়তে ব্যবহার করা হয়। দেশভাগের ফলে শরণার্থী সঙ্কট এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন মানুষ পূর্ববঙ্গ থেকে আসে পশ্চিমবঙ্গে, যা (Twenty Fourth State) আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসন। এদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত ও দক্ষ হলেও তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিপুল চাপ তৈরি হয়। শিল্পের জন্য নির্ধারিত জমি আবাসনের কাজে ব্যবহার করতে হয়। মাথাপিছু চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যায়। ছ’য়ের দশকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়। এই সময়ের পরিসংখ্যান সংকোচনের গল্প বলে। ১৯৪৭ সালে ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ছিল ২৭ শতাংশ, ১৯৬০-৬১ সালে এটিই কমে দাঁড়ায় ১৭.২ শতাংশে। রাজ্যের জিডিপি অংশও কমে ১০.৫ শতাংশ থেকে হয় ৯.৭ শতাংশ। মাথাপিছু আয়, যা আগে জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ ছিল, কমে দাঁড়ায় ১১৪ শতাংশে।

    বাম জমানায়ও অব্যাহত পতন

    ১৯৭৭ সালে রাজ্যের কুর্সি দখল করে বামফ্রন্ট। তারা ক্ষমতায় আসার পরেও এই পতন থামেনি, বরং আরও দ্রুত হয়েছে। শিল্পের অংশ কমে দাঁড়ায় ১৩.৫ শতাংশ এবং জিডিপির অংশ ৯.৭ শতাংশ। এই প্রবণতা ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে স্থায়ী রূপ পায় (West Bengal)। ১৯৭৮ সালের শিল্পনীতি বড় পুঁজিকে নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। “ঘেরাও” আন্দোলন—যেখানে শ্রমিকরা মালিকদের ঘিরে রেখে দাবি আদায় করত—অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মদত জোগানো হত সরকারিভাবে। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গ একটি ঝুঁকিপূর্ণ লগ্নিস্থল।পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, ১৯৬৫ সালে ধর্মঘট হয় ১৭৯টি। ১৯৭০-এ এটি বেড়ে হয় ৬৭৮টি। লকআউটও বাড়ে। ২০০১–২০০৬ সালে ধর্মঘট কমলেও, লকআউট বেড়ে দাঁড়ায় ২২৬৬-এ। ২০০৮ সালে দেশের মোট নষ্ট হওয়া কর্মদিবসের ৮৫.৬ শতাংশ একাই পশ্চিমবঙ্গের। এই পর্বে বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটু কার্যত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। শিল্পে বিনিয়োগ কমতে থাকে। ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গ ২০০৭-০৮ সালে সপ্তম স্থানে নেমে যায়।

    শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি

    কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে হয় ৬৪ শতাংশ। অথচ গুজরাটে এই হার ১৩৫ শতাংশ এবং তামিলনাড়ুতে ২৩৩ শতাংশ। উৎপাদন খরচও বেশি হয়। ভূমি সংস্কার কিছুটা সাফল্য আনলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা ধোপে টেকেনি। ২০০৬ সালে ৪১.৬ শতাংশ গ্রামীণ পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়ে। শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি (Twenty Fourth State)। ২০১০-১১ সালে রাজ্যের ঋণ রাজস্বের ৩৯৬ শতাংশ হয়, যা সবচেয়ে বেশি। পরিকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। শুরুতে বিনিয়োগবান্ধব অবস্থান নেওয়া হলেও, পরিকাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়নি। রাজ্যের জিডিপির অংশ ২০১১-১২ সালে ৬.৭ শতাংশ থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৫.৬ শতাংশে নেমে আসে। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থান থেকে ২৪তম স্থানে নেমে যায় পশ্চিমবঙ্গ। এখন তার পরিমাণ জাতীয় গড়ের ৮৩.৭ শতাংশ। কমে গিয়েছে বৃদ্ধির হারও। ২৪-২৫ অর্থবর্ষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯.৯১ শতাংশ। অথচ, এই পর্বে রকেটের গতিতে এগোতে থাকে (West Bengal) বিহার, তেলঙ্গনা এবং  ওড়িশা।

    “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ

    বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পতন একটি দীর্ঘমেয়াদি “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ। প্রতি বছর একটু একটু করে পিছিয়ে পড়তে থাকা এই রাজ্য কয়েক দশকে বিশাল ব্যবধান সৃষ্টি করে। একসময় ভারতের ২৭ শতাংশ শিল্প উৎপাদনকারী রাজ্য এখন প্রায় ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয়ে তৃতীয় থেকে ২৪তম স্থানে পতন ঘটেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি কেবলমাত্র অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়—এটি একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষমতার সংকোচন (Twenty Fourth State)।

     

  • Kerala CPM: সিটু ছেড়ে বিএমএসে যোগ পুরো ইউনিটের, হতাশ সিপিএম

    Kerala CPM: সিটু ছেড়ে বিএমএসে যোগ পুরো ইউনিটের, হতাশ সিপিএম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বামদুর্গে (Kerala CPM) বড় ধস কেরলে। সেখানে আঙ্গাডিপ্পুরম এফসিআই গোডাউনের সম্পূর্ণ সিটু (CITU) ইউনিট সংগঠন ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএমএস (BMS) (ভারতীয় মজদুর সংঘ)-এ যোগ দিয়েছে। এই পরিবর্তন থেকে যে বার্তাটি স্পষ্টভাবে উঠে আসছে, তা হল, কেরলে রাজনৈতিক ও ট্রেড ইউনিয়ন পরিসরে লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটছে, যা রাজ্যের ভেতরে একটি বৃহত্তর পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    বিএমএসে যোগ (Kerala CPM)

    গণপদত্যাগ এবং বিএমএসে যোগদানের পর সিপিএমের ট্রেড ইউনিয়ন শাখা সিটু কার্যত হতবাক। শ্রমিকদের অভিযোগ, সিটু নেতারা কয়েক দশক ধরে দরিদ্র শ্রমিকদের ভুল পথে চালিত ও প্রতারিত করে আসছেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ইউনিট পরিচালনা করেছেন। তাঁদের মতে, আঙ্গাডিপ্পুরমে এফসিআই গোডাউন প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই ধারা চলে আসছে। শ্রমিকরা যখন বুঝতে পারেন যে তাঁদের বিভ্রান্ত ও শোষণ করা হচ্ছে, তখন তাঁরা একযোগে সংগঠন ছেড়ে বিএমএসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সিটু-নিয়ন্ত্রিত এফসিআই ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বদানকারী সুধাকরণ-সহ কে আবু তাহির এবং পি আবদুল রাজাক সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সিটু ছেড়ে বিএমএসের সদস্যপদ গ্রহণ করেন।

    দূরবর্তী স্থানে বদলি

    শ্রমিকদের সিটু ছেড়ে করে বিএমএসে যোগদানের আগে, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের দূরবর্তী স্থানে বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে সিটু নেতৃত্বের কাছে বারবার আবেদন জানানো হয়েছিল। শ্রমিকদের অভিযোগ, সংগঠন এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। প্রবীণ শ্রমিকরা ডিরেক্ট পেমেন্ট সিস্টেম (ডিপিএস)-এর আওতায় ন্যূনতম মজুরি নিশ্চয়তা ও প্রকৃত কাজের পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু বদলি হলে তাঁদের জায়গায় নতুন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ করা হত। ফলে তাঁরা ডিপিএস সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। শ্রমিকদের দাবি, সিটুর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঠিকাদারদের এক (BMS) অশুভ আঁতাতের ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে (Kerala CPM)। অসন্তোষ আরও তীব্র হয় যখন সিটু নেতারা ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত আঙ্গাডিপ্পুরম সিটু ইউনিটের বৈঠকে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে তা প্রত্যাহার করে নেন।

    রাজ্য সম্মেলন

    পরে ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য রাজ্য সম্মেলনে যোগদানের জন্য ইউনিটের পদাধিকারীরা ১৭ জন প্রতিনিধির একটি তালিকা পাঠালেও রাজ্য নেতৃত্ব তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। এসব ঘটনা, যা সিটু থেকে ইউনিটটির ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, শ্রমিকদের বিএমএস নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে প্ররোচিত করে। এদিকে, সিটু নেতারা ঠিকাদারদের সঙ্গে সমঝোতা করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের সুবিধাজনক ইউনিটে বদলির ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ। এমভি গোবিন্দন এবং সিটুর প্রবীণ নেতা ইলামারাম করিম ও টিপি রামকৃষ্ণনের কাছে শ্রমিকদের পাঠানো চিঠিগুলির কোনও জবাব পাওয়া যায়নি বলেও জানা গিয়েছে (Kerala CPM)। এই সব কাজের ফল মারাত্মক হয় বয়স্ক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। আঙ্গাডিপ্পুরম এফসিআই গোডাউনের অধিকাংশ শ্রমিকের বয়স পঞ্চাশের বেশি এবং তাঁরা সিটুর অধীনে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। দূরবর্তী স্থানে বদলি কার্যত অনেক শ্রমিককে জীবিকা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য করত (BMS)।

    সিটু শ্রমিক-বিরোধী…

    তা সত্ত্বেও, সিটু শ্রমিক-বিরোধী এসব ব্যবস্থার জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেও অভিযোগ। বরং, ইউনিয়ন নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে সমালোচনার অভিমুখ ঘুরিয়ে দিয়ে এক ধরনের এড়িয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ।এদিকে, গণপদত্যাগের পর বিএমএস নেতাদের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়। বিএমএসের জাতীয় সম্পাদক ভি রাধাকৃষ্ণন ও অন্য নেতারা শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেন যে বিষয়টি অবিলম্বে রেলমন্ত্রক এবং কেরালার এফসিআই ম্যানেজারের কাছে উত্থাপন করা হবে। শ্রমিকদের বিএমএসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আরও জোরদার করে, ভি রাধাকৃষ্ণন বিএমএস ইউনিট গঠনের বৈঠকের সূচনা করেন এবং সদস্যপদ বিতরণ তদারকি করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফজল রহমান, সেথু থিরুভেনকিটাম, বালাচন্দ্রন এবং বি রতীশ (Kerala CPM)। সিটু ইউনিটের বিএমএসে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে ভি রাধাকৃষ্ণন জানান, বিএমএস তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত এফসিআইয়ের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে চিঠি লিখে গোডাউনগুলিতে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রমিক শোষণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে (BMS)।

    রাজনৈতিক তাৎপর্য

    এই ঘটনা আঙ্গাডিপ্পুরমের বাইরেও বিস্তৃত রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। কেরালায় সিপিএমকে প্রায়ই সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং এর ট্রেড ইউনিয়ন শাখা সিটু রাজ্যের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির মধ্যে সমানভাবে প্রভাবশালী। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বহু দলীয় কর্মী সিপিএম ছেড়েছেন। তাঁদের অনেকেই বিজেপি, আরএসএস এবং অন্যান্য সংঘ-প্রভাবিত বা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে সিপিএমের একাধিক প্রবীণ নেতা, মুখপাত্র এবং প্রাক্তন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং (BMS) সক্রিয়ভাবে বিজেপি ও অন্যান্য সংঘ-অনুপ্রাণিত সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করছেন (Kerala CPM)।

     

  • Asansol: ‘কোথায় শিল্প !’ বন্ধ পেপার মিলকে সামনে রেখে তৃণমূলকে তুলোধনা অগ্নিমিত্রার

    Asansol: ‘কোথায় শিল্প !’ বন্ধ পেপার মিলকে সামনে রেখে তৃণমূলকে তুলোধনা অগ্নিমিত্রার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসানসোলের (Asansol) রানিগঞ্জ পেপার মিল বন্ধের ফলে বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের পাশে শাসক বিরোধী দলগুলির ব্যাপক আন্দোলন। এই শ্রমিকদের আন্দোলনকে সমর্থন করে তাঁদের ন্যায্য দাবিকে আদায় করতে এক সঙ্গে ময়দানে দেখা গেল আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল এবং বাম শ্রমিক সংগঠনের সিটু নেতা হেমন্ত প্রভাকরকে। উভয়ের দাবি, “কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ পেপার মিলে গেটে বন্ধের নোটিশ ধরিয়ে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। এই কাজ অত্যন্ত অন্যায় এবং অসাংবিধানিক। অবিলম্বে কারখানা খুলতে হবে।”

    কী বললেন বিজেপি নেত্রী (Asansol)?

    বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল এদিন বঞ্চিত কারখনার (Asansol) শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রেখে বলেন, “এই তৃণমূল সরকার অপদার্থ সরকার। বলে শিল্প হবে, ডবল ডবল চাকরি হবে, কিন্তু কোথায় ডবল ডবল চাকরি? কোথায় শিল্প? বাংলার সব শিল্প বন্ধের মুখে! তার প্রকৃত উদাহরণ হল এই বেঙ্গল পেপার মিল। খালি মিথ্যা কথা বলা আর ছোট ছোট কারণে উল্টোপাল্টা কথাবার্তা বলাই এই মুখ্যমন্ত্রীর কাজ। এই ফ্যাক্টরি অবিলম্বে খুলতে হবে। শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি দিতে হবে, না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে আমরা যাব। আসানসোল স্তব্ধ করে দেবো এবং প্রয়োজনে আন্দোলনের আগুন আরও দ্বিগুন করবো।” এই প্রসঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থে মানুষের হকের দাবিকে আরও জোর দিয়ে বলেন, “আমি কোনও রাজনীতি করতে আসিনি, এই এলাকার আমি বিধায়ক। সিপিএম, বিজেপি, তৃণমূল যেই হোক না কেন, প্রত্যেক আমজনতা সকলেরই বিধায়ক। সকলের প্রাপ্য অধিকারের পাশে আছি।”

    সিটু নেতার বক্তব্য

    আসনসোলের (Asansol) এই পেপার মিলের কারখানা বন্ধের জন্য শাসক দলকে তোপ দেগে সিটু নেতা হেমন্ত প্রভাকর বলেন, “পেটে যখন আগুন জ্বলে তখন কে বিজেপি, কে তৃণমূল, আর কে সিপিএম দেখি না। যাঁরা শ্রমিকের সঙ্গে লড়বেন বা পাশে থাকবেন তাঁদেরকে সবসময় আমাদের আন্দোলনে স্বাগত জানাই। তৃণমূল সরকার আমাদের পেটে লাথি দিয়ে কঠিন খেলা খেলছে। রাজ্যে শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই এই খেলা বন্ধ হোক। আমাদের ন্যায্য দাবি আমরা অর্জন না করা পর্যন্ত থেমে থাকবো না।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share