Tag: CJP

  • Sonam Wangchuk: ‘ওঁরা সাধু নন’! সিজেপি প্রতিষ্ঠাতাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, দাবি সোনমের

    Sonam Wangchuk: ‘ওঁরা সাধু নন’! সিজেপি প্রতিষ্ঠাতাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, দাবি সোনমের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলে মন্তব্য করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। তবে তাঁর মতে, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা কোনও অপরাধ নয় এবং তরুণদের রাজনীতিতে আসা স্বাভাবিক ও ইতিবাচক বিষয়। প্রখর গুপ্তের সঙ্গে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ওয়াংচুক বলেন, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার ভূমিকা দেখে তাঁর মনে হয়েছে যে তাঁদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তবে তাঁরা সরাসরি তাঁকে রাজনীতিতে প্রবেশের ইচ্ছার কথা জানাননি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

    ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চে রাজনীতি নয়!

    ওয়াংচুক বলেন, তিনি সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতাদের এমন কোনও ‘সাধু’ হিসেবে দেখেন না, যাঁদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা নিয়ে ‘কোনও সমস্যা নেই’। বরং তরুণদের জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে কাজ করতে করতে রাজনীতিতে আসাকে তিনি উৎসাহিত করবেন। প্রয়োজনে তাঁরা কোনও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন অথবা নতুন রাজনৈতিক সংগঠনও গড়ে তুলতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ছাত্র আন্দোলনকে (Sonam Wangchuk on CJP Protest) রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত রাখার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ওয়াংচুক। প্রায় দু’মাস ধরে যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, আন্দোলনের মঞ্চকে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।

    ছাত্র আন্দোলনের ‘পবিত্রতা’ বজায় রাখা উচিত!

    ওয়াংচুকের বক্তব্য,সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে, কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের ‘পবিত্রতা’ বজায় রাখতে সেটিকে নিরপেক্ষ, অরাজনৈতিক এবং একটি চাপসৃষ্টিকারী মঞ্চ হিসেবে রাখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, আন্দোলনটি সমর্থন পাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল মানুষ সেটিকে বিজেপি, কংগ্রেস বা আম আদমি পার্টির (AAP) আন্দোলন হিসেবে দেখেননি। বরং এটি একটি স্বতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছিল। সিজেপি (CJP)-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অতীতে আপ-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। ওয়াংচুক জানান, এতে তাঁর কোনও আপত্তি ছিল না। তাঁর মতে, কোনও ব্যক্তির অতীত রাজনৈতিক সম্পর্ক বা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং একটি আন্দোলনের রাজনৈতিক চরিত্র—এই দু’টি বিষয়কে আলাদা করে দেখা উচিত।

  • Abhijit Dipke: সিজেপিতে অন্তর্কলহ! অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্ব নিয়ে ‘ককরোচ’দের মধ্যে বাড়ছে বিক্ষোভ!

    Abhijit Dipke: সিজেপিতে অন্তর্কলহ! অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্ব নিয়ে ‘ককরোচ’দের মধ্যে বাড়ছে বিক্ষোভ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হল ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের (Abhijit Dipke) নেতৃত্ব ও দলের কার্যপদ্ধতির বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসা দুই যুবক। সোমবার, ১০ অগাস্ট শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানালে পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। অসুস্থ হয়ে পড়া দুই আন্দোলনকারী হলেন মণীশ ব্রহ্মভট্ট ও রাহুল পাণ্ড্য। দু’জনেই আহমেদাবাদের বাসিন্দা এবং ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য। গত ৬ অগাস্ট থেকে তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের দফতর চত্বরে অনশন শুরু করেছিলেন। দলের নেতৃত্ব এবং মূল কমিটি গঠনের পদ্ধতি নিয়েও তাঁরা আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    দলের মূল কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভ (Abhijit Dipke)

    মণীশ ও রাহুলের অভিযোগ, অভিজিৎ নিজের ইচ্ছামতো দলের মূল কমিটি গঠন করেছেন। তাঁদের দাবি, এই সংগঠন কোনও এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি একটি বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বিভিন্ন রাজ্য থেকে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, দীপকের গঠিত মূল কমিটিতে প্রতিটি রাজ্য থেকে পাঁচজন করে সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, দলের নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও, তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এরপরই ৬ অগাস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। প্রথমে অভিজিতের বাসভবনের কাছে বসেই তাঁরা অনশন শুরু করেছিলেন। পুলিশ তাঁদের জানায়, তাঁর বাসভবনের কাছে অনশন চালিয়ে যাওয়া যাবে না। পরে পুলিশ আধিকারিকদের পরামর্শে তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের দফতর চত্বরে গিয়ে অনশন শুরু করেন।

    চতুর্থ দিনেই শারীরিক অবস্থার অবনতি

    সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ চিকিৎসাকর্মীরা দুই আন্দোলনকারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে তাঁরা পুলিশকে জানান, দু’জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজন। এরপর পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যায় (CJP)। দুই মূল অনশনকারী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় অনশন আদৌ বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও আন্দোলন থামেনি বলেই খবর। অনশন চালিয়ে যেতে শৃঙ্খল অনশনের পথ নেওয়া হয়েছে আন্দোলনকারীদের তরফে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই যুবকের পরিবর্তে আরও তিন যুবক শৃঙ্খল অনশনে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের আয়ান খান, জলনার ফারুক খান এবং আহমেদাবাদের সুনীল দেশাই। ফলে মূল দুই অনশনকারী হাসপাতালে ভর্তি হলেও অভিজিতের নেতৃত্ব এবং ককরোচ জনতা পার্টির মূল কমিটি গঠন নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

    এবার দীপকের বিরুদ্ধে পুলিশকর্মীদের সংগঠনের বিক্ষোভ

    এমন আবহেই অভিজিতের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সরব হয়েছে পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের জেলাশাসকের দফতরের বাইরে সংগঠনের সদস্যরা মৌন বিক্ষোভ দেখান (Abhijit Dipke)।সংগঠনের দাবি, অভিজিৎকে দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। গত ৭ আগস্ট নিজের বাসভবনের বাইরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিজিৎ অভিযোগ তোলেন। তার পরেই সূত্রপাত হয় এই বিরোধের।

    কী নিয়ে পুলিশের সঙ্গে অভিজিতের বিরোধ?

    অভিজিতের অভিযোগ ছিল, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসা লোকজনের সঙ্গে তাঁর বাসভবনের বাইরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা দুর্ব্যবহার করেন। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিজিৎ বলেছিলেন, কার সঙ্গে তিনি দেখা করবেন তা ঠিক করার জন্য পুলিশের প্রয়োজন নেই। তিনি এক পুলিশ আধিকারিককে সেখান থেকে চলে যেতে বলেছিলেন বলেও অভিযোগ। অজিজিতের এহেন মন্তব্যের পরেই পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন প্রতিবাদে নামে। সংগঠনের অভিযোগ, তিনি পুলিশ- প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর আচরণকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে সংগঠনটি পুলিশকর্মী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ তুলেছে (CJP)।

    পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের দাবি

    পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, অভিজিতকে দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। সংগঠনের বক্তব্য, নাগরিকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোনও পুলিশকর্মীকে প্রকাশ্যে অপমান করা শুধু একজন আধিকারিককে অপমান করা নয়, এটি গোটা পুলিশবাহিনী এবং আইনের শাসনের প্রতি অসম্মান (Abhijit Dipke)। জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর আপাতত বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেয় সংগঠনটি। তবে অভিজিতের “দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে”র বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    গোটা পুলিশবাহিনীর প্রতি অপমান”

    পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, প্রশাসনের কাছে আগে দেওয়া স্মারকলিপির ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় মৌন বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের বহু পদাধিকারী ও কর্মী এতে অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য, এই বিক্ষোভ পুলিশকর্মী এবং তাঁদের পরিবারের মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষার দাবিতে করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, অভিজিতের পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপও করতে হবে (CJP)। এই আন্দোলনের ফলে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে অভিজিতকে ঘিরে এখন দু’টি পৃথক বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। একদিকে দলের কার্যপদ্ধতি ও মূল কমিটি গঠন নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যদের আন্দোলন, অন্যদিকে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদ—দুই ক্ষেত্রেই চাপের মুখে পড়েছেন ‘আরশোলা পার্টি’ সুপ্রিমো স্বয়ং (Abhijit Dipke)।

     

  • RTI Activist Amit Tiwari: সিজেপি-র অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি, অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে পড়ার খরচ নিয়েও প্রশ্ন আরটিআই কর্মীর

    RTI Activist Amit Tiwari: সিজেপি-র অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি, অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে পড়ার খরচ নিয়েও প্রশ্ন আরটিআই কর্মীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে (Abhijeet Dipke) এবং দলের অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন সুরাটের এক আরটিআই কর্মী (RTI Activist Amit Tiwari)। একই সঙ্গে অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ কীভাবে বহন করা হয়েছিল? তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, দলের আইনি অবস্থান এবং সম্প্রতি ঘোষিত ১ কোটি টাকার লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    বিদেশে পড়াশোনার খরচ নিয়ে প্রশ্ন

    সুরাটের আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারির (RTI Activist Amit Tiwari) দাবি, “অভিজিৎ ডিপকের (Abhijeet Dipke) বাবা ভগবানরাও ডিপকে মহারাষ্ট্র সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। পরিবারের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে অভিজিৎ ডিপকের বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না? তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।পরিবারের ঘোষিত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে বিদেশে পড়াশোনার খরচের উৎস মিলিয়ে দেখা হোক।”

    সিজেপি-র আইনি মর্যাদা যাচাইয়ের দাবি

    অমিত তিওয়ারি (RTI Activist Amit Tiwari) নির্বাচন কমিশনের কাছেও একটি আবেদন করেছেন। EC-র কাছে তাঁর দাবি, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) আদৌ নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত বা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কি না? যদি দলটি নিবন্ধিত না হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কার্যকলাপ চালানো এবং অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ২৯এ ধারার উল্লেখ করে কমিশনের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি (RTI Activist Amit Tiwari)। পাশাপাশি, শুধু দল বা প্রতিষ্ঠাতার আর্থিক বিষয় নয়, সম্প্রতি ঘোষিত ১ কোটি টাকার লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড নিয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অমিত তিওয়ারি (RTI Activist Amit Tiwari)। আয়কর দফতর এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস (CBIC)-এর কাছে তাঁর আবেদন, এই তহবিলের অর্থের উৎস এবং এর উপর পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) প্রযোজ্য কি না? তা খতিয়ে দেখা হোক। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে প্রবীণ আইনজীবী ও রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল সিজেপি-র গঠিত একটি লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডে ১ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন। এই তহবিলের উদ্দেশ্য, দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনকারী বিক্ষোভকারীদের আইনি সহায়তা দেওয়া।

    এখনও চুপ সিজেপি

    আরটিআই কর্মীর (RTI Activist Amit Tiwari) আবেদনে সিজেপি-র অর্থের উৎস, দলের আইনি বৈধতা, লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড এবং প্রতিষ্ঠাতার বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হলেও, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, আয়কর দফতর, সিবিআইসি বা অন্য কোনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইভাবে, অভিজিৎ ডিপকে (Abhijeet Dipke), তাঁর পরিবার বা ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পক্ষ থেকেও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও প্রকাশ্য বক্তব্য সামনে আসেনি।

  • PM Modi: যন্তর মন্তরে গালিগালাজ করা পড়ুয়াদের ক্ষমা করলেন প্রধানমন্ত্রী, শাস্তির বদলে ‘পথ দেখানোর’ বার্তা

    PM Modi: যন্তর মন্তরে গালিগালাজ করা পড়ুয়াদের ক্ষমা করলেন প্রধানমন্ত্রী, শাস্তির বদলে ‘পথ দেখানোর’ বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠা (PM Modi) পড়ুয়াদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত (Bharat) এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি জানান, ভুলের জন্য পড়ুয়াদের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ঠেলে না দিয়ে তাঁদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। শাস্তির পরিবর্তে তাঁদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য সমাজের কাছে আবেদন জানান তিনি।

    অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী জানান, যন্তর মন্তরের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েকজন পড়ুয়া অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছিল, তা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে… দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কিছু পড়ুয়া অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেছে। তারা আমাকে গালিগালাজ করেছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল।” তবে একই সঙ্গে পড়ুয়াদের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। তাঁর কথায়, “শিশুরা ভুল করে। আর শৈশব এমন একটি সময়, যখন তাদের সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত।”

    ‘শাস্তি নয়, পথ দেখান’

    অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যারা আমাকে গালিগালাজ করেছে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই। আমার এই সিদ্ধান্ত সমাজ মেনে নিক—এটাই আমার আবেদন।” নিজের বক্তব্য বোঝাতে একটি উদাহরণও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কখনও কখনও আমরা নিজের দাঁত দিয়ে অসাবধানতাবশত নিজের জিভ কামড়ে ফেলি এবং রক্ত বের হয়। কিন্তু আমরা দাঁত ভেঙে ফেলি না। কারণ দাঁত এবং জিভ—দু’টিই আমাদের নিজের।” অভিযুক্ত পড়ুয়াদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে তাঁদের আপন করে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “তারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছিল। তাদের সঠিক পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব। তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতের চক্করে ঘোরানো বা সামাজিকভাবে হেনস্থা করা—কোনও কিছুতেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।”

    জিরো এফআইআর

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্যেই ঘটনাটি ঘিরে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও সামনে এসেছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নয়ডার এক মহিলার বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে (PM Modi)। গাজিয়াবাদের এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে “অশালীন ও আপত্তিকর” ভাষা ব্যবহার করেছেন। এর ফলে জনমনে বিরোধ তৈরি করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্য ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ নম্বর ধারা—শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান, ৩৫৩(১) নম্বর ধারা—জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন বক্তব্য এবং ৩৫৬(১) নম্বর ধারা—মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের জন্য মামলাটি সংসদ মার্গ থানায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে। অভিযোগের ঘটনাস্থল যে থানার আওতায়ই পড়ুক না কেন, দেশের যে কোনও থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করা যায়। পরে সেটি সংশ্লিষ্ট এলাকার এক্তিয়ারভুক্ত থানায় তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এই ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করে মামলাটি সংসদ মার্গ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    ‘ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ো’

    পড়ুয়াদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের দেশের অগ্রগতির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, “আসুন, দেশের জন্য আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই। নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিই এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলি (Bharat)। ভারত দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আমি চাই, আপনাদের প্রত্যেকেও একইভাবে এগিয়ে যান।”  ভিডিয়োর শেষে তিনি বলেন, “গালিগালাজ কখনও কোনও সমস্যার সমাধান করে না। যারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে, তাদের সঠিক পথ দেখাই। একসঙ্গে কাজ করি। ভারতের জন্য কাজ করি।”

    নিট বিক্ষোভের অবসান

    দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা বিক্ষোভ ২৫ জুলাই শেষ হয়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে হাজার হাজার পড়ুয়া অংশ নেন। উদ্ভাবক-সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও ২৬ দিনের অনশনের সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদেই এই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল (PM Modi)। আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বিক্ষোভকারীদের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছিল। পরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো-সহ একাধিক (Bharat) গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে কেন্দ্র সরকার সম্মতি জানালে আন্দোলন প্রত্যাহার করে (PM Modi) নেয় ককরোচ জনতা পার্টি।

     

  • PM Modi: ‘আরশোলা’ পার্টির বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইল দিল্লি পুলিশ

    PM Modi: ‘আরশোলা’ পার্টির বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া (Derogatory Posts) আপত্তিকর ও অবমাননাকর পোস্টের ঘটনায় এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। সরকারি অভিযোগে বলা হয়েছে, দেশের একটি সাংবিধানিক পদাধিকারীকে উদ্দেশ্য করে “অপমানজনক, বিদ্বেষমূলক এবং মানহানিকর” বিষয়বস্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পরিচয় জানাও (PM Modi)

    এই ঘটনার তদন্তে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সকে সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলি আপলোড করা অ্যাকাউন্টগুলির পরিচয় জানাতে এবং দ্রুত ছবি ও ভিডিওগুলি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি, যেসব এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট করা হয়েছে, সেগুলির পুরো নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং ই-মেল আইডি-সহ বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে পুলিশ। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির লগ-ইন ও লগ-আউট সংক্রান্ত তথ্য, তারিখ ও সময়ের বিবরণ এবং তদন্তে সহায়ক হতে পারে এমন অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়মের ৬৩(৪) ধারার অধীনে একটি শংসাপত্র জমা দিতে এবং ভবিষ্যৎ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পোস্ট এবং ভিডিওগুলির সমস্ত তথ্য সংরক্ষণ করতেও এক্স-কে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত সিজেপির বিক্ষোভ এবং চলো সংসদ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘটিত অশান্তির সময় প্রকাশিত একাধিক ভিডিও ও পোস্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, ওই পোস্টগুলিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল।

    সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি

    দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ ও অশান্তির সময় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় একাধিক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি দল নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি চালাচ্ছে। কোথাও আপত্তিকর বা উসকানিমূলক বিষয়বস্তু নজরে এলেই সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাকে তা সরিয়ে নিতে বলে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।পুলিশের দাবি, ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে করা একাধিক অশালীন মন্তব্য ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সাইবার শাখা এবং সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি দল বিক্ষোভ সংক্রান্ত সমস্ত অনলাইন কার্যকলাপের ওপর নজর রাখছে (PM Modi), যাতে কোনও উসকানিমূলক বা আইনভঙ্গকারী বিষয়বস্তু দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর আগে দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত ৪০০-রও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি (Derogatory Posts) সিজেপির বিক্ষোভকে সমর্থন করে ভুয়ো তথ্য, ডিপফেক ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছিল (PM Modi)।

     

  • CJP Protest: যন্তর-মন্তরে ৬০ মেট্রিক টন আবর্জনা ফেলে চলে গেল সিজেপি! রাতভর পরিষ্কার করল দিল্লি পুরসভা

    CJP Protest: যন্তর-মন্তরে ৬০ মেট্রিক টন আবর্জনা ফেলে চলে গেল সিজেপি! রাতভর পরিষ্কার করল দিল্লি পুরসভা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলন শেষ হওয়ার পর রাজধানীর যন্তর-মন্তরে শুরু হয়েছে এক বিশাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান। আন্দোলনকারীরা সরে যাওয়ার পর প্রায় ৬০ মেট্রিক টন আবর্জনা পরিষ্কার করতে রাতভর কাজ চালিয়েছে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (NDMC)। শতাধিক সাফাইকর্মী, প্রকৌশলী এবং ভারী যন্ত্রপাতি নামিয়ে যন্তর-মন্তর-সহ আশপাশের এলাকা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই গোটা অভিযানের ব্যয়ভার শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে করদাতাদের অর্থ থেকেই।

    রাতভর চলল পুনরুদ্ধারের কাজ

    শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি-র আন্দোলন শেষ হতেই নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের সহ-সভাপতি কুলজিৎ সিং চাহাল এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনার কাজ তদারকি করেন। স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং হর্টিকালচার বিভাগের ৫০০-রও বেশি কর্মী ও আধিকারিক এই অভিযানে অংশ নেন। শুধু আবর্জনা সরানোই নয়, রাস্তা ধোয়া, দেওয়ালে লেখা স্লোগান মুছে ফেলা, ক্ষতিগ্রস্ত ফুটপাত ও কার্বস্টোন মেরামত, সবুজ এলাকা পুনর্গঠন এবং ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজও করা হয়। যন্তর-মন্তরের পাশাপাশি টলস্টয় মার্গ, সংসদ মার্গ, জয় সিং মার্গ এবং কনট প্লেসের কিছু অংশেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানো হয়।

    পাহাড়প্রমাণ আবর্জনা

    নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলনস্থল ও আশপাশ থেকে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন মিশ্র বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ রাতেই সরিয়ে ফেলা হয়। আবর্জনার মধ্যে ছিল ফেলে দেওয়া খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের কাপ, ব্যানার, কাপড়, নির্মাণসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ, পাথর এবং অন্যান্য কঠিন বর্জ্য। ২৪ জুলাই একদিনেই প্রায় ২৭ মেট্রিক টন আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়, যা আগের দিনের প্রায় ১৫ মেট্রিক টনের তুলনায় অনেক বেশি। এই বিপুল বর্জ্য সরাতে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল নামায় ৮টি অটো-টিপার, ২টি ভারী ট্রাক, ১টি এক্সকাভেটর, ৩টি প্রেসার জেটিং মেশিন, মেকানিক্যাল রোড সুইপার। বহু সাফাইকর্মী, যারা রাতভর শিফটে কাজ করেন।

    করদাতাদের অর্থে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

    বৃহৎ জনসমাবেশের পর এই ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। শুধু আবর্জনা সরানো নয়, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, ফুটপাত, পার্ক, সবুজ এলাকা এবং সরকারি সম্পত্তি মেরামতের জন্যও অতিরিক্ত অর্থ ও জনবল ব্যয় করতে হয়। ফলে শহরের অন্য এলাকাগুলিতে নিয়মিত নাগরিক পরিষেবাও সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের ভার শেষ পর্যন্ত বহন করেন সাধারণ করদাতারাই, যদি না সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কোনও ব্যবস্থা থাকে।

    আন্দোলন চলাকালীনই আবর্জনার পাহাড়

    যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালীনও চোখে পড়েছিল আবর্জনার পাহাড়। প্রতিবাদস্থল জুড়ে প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের প্লেট ও ​​খাবারের প্যাকেট পড়ে আছে, সাথে ছিল অবিরাম দুর্গন্ধ। ওই অঞ্চলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা নয়াদিল্লি পৌর কর্পোরেশন (এনডিএমসি)-এর এক কর্মকর্তা বলেন, “যেখানে প্রতিদিন ৫,০০০-এর বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল, সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো নির্দিষ্ট নিয়মকানুন ছিল না। আগে আমরা টলস্টয় মার্গ, সংসদ মার্গ এবং জন্তর মন্তর রোড থেকে প্রায় ৫০০-৬০০ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করতাম। আন্দোলন চলাকালীন আমরা প্রতিদিন প্রায় ১৫,০০০ কেজি বর্জ্য অপসারণ করি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এনডিএমসি তিনটি শিফটে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করে। সকালে প্রায় ৫০ জন, বিকেলে ১৫ জন এবং সন্ধ্যায় ২০ জন কর্মী এলাকাটি পরিষ্কার করেন। আমরা ব্যাটারিচালিত ও পরিবেশবান্ধব আবর্জনা সংগ্রহকারী যন্ত্র ‘গবলার’ এবং দ্রুত কঠিন বর্জ্য সংগ্রহের জন্য তৈরি ভ্যাকুয়াম ডিভাইসও ব্যবহার করি। নিয়মিত বিরতিতে ফগিং মেশিন এবং জীবাণুনাশক স্প্রেও ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবাদস্থলে অটো-টিপার এবং আবর্জনার ট্রাক আসে।” তবুও, গত কয়েকদিন ধরে আবর্জনা জমে উঠেছে, বিশেষ করে কেরালা হাউসের বিপরীতে একটি পরিত্যক্ত ভবনের পাশে।

    নতুন করে উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ন

    যন্তর-মন্তরের এই ঘটনা আবারও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। বৃহৎ জনসমাবেশের আগে কি আয়োজকদের বাধ্যতামূলকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা জমা দেওয়া উচিত? আন্দোলনের ফলে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি বা অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ হলে তার দায় কি আয়োজকদেরই বহন করা উচিত? আন্দোলন শেষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে কি সংগঠকদের স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর শুধু একটি নির্দিষ্ট আন্দোলনের জন্য নয়, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত বৃহৎ গণআন্দোলনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    নেপথ্যের নায়ক পৌরকর্মীরা

    প্রতিবাদের ছবি যেমন সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেয়, তেমনই আন্দোলনের পরে শহরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে রাতভর কাজ করা সাফাইকর্মী, প্রকৌশলী, যন্ত্রচালক এবং উদ্যান বিভাগের কর্মীদের অবদান অনেক সময়ই আড়ালেই থেকে যায়। তাঁদের নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমেই অল্প সময়ের মধ্যে যন্তর-মন্তর এবং আশপাশের এলাকা আবার সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা সম্ভব হয়েছে। যন্তর-মন্তরের এই ঘটনার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বৃহৎ রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের পর জনপরিসর পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব কি শুধুই পুরসভা এবং করদাতাদের উপর বর্তাবে, নাকি ভবিষ্যতে আয়োজকদেরও এই দায়বদ্ধতার আওতায় আনার সময় এসেছে?

  • Anti Paper Leak Bill: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে লোকসভায় আরও কঠোর বিল, ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব

    Anti Paper Leak Bill: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে লোকসভায় আরও কঠোর বিল, ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি স্তরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক ও দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন (Anti Paper Leak Bill) আনার পথে হাঁটল কেন্দ্র। সোমবার, ২৭ জুলাই, লোকসভায় জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এই (Modi Government) সংশোধনী বিলের মাধ্যমে বর্তমানে চালু আইনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, জনপরীক্ষার স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী প্রয়োজন।

    লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ (Anti Paper Leak Bill)

    এদিন বিল পেশের সময়ই লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ হয়। বিরোধী দলগুলির সদস্যরা নিট ইস্যুতে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের ওপর পুলিশ যে ব্যবস্থা নিয়েছিল, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে। বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের জেরে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা দুপুর ২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে নিট-ইউজি স্তরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই কঠোর আইনের দাবি জোরালো হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রায় দু’বছর আগে প্রণীত আইনে আরও সংশোধন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

    বিলে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন জনপরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অসাধু উপায়ের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এর ফলে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আইনকে আরও শক্তিশালী করে পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনগুলির মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় যে ফাঁকফোকর ছিল, তা অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি বিশেষ আদালতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার শেষ করার ব্যবস্থাও করা হবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা। বর্তমানে অসাধু উপায়ে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে সেই শাস্তি বাড়িয়ে ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে (Anti Paper Leak Bill)। জরিমানার অঙ্কও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, কঠোর শাস্তির বিধান থাকলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িত থাকার প্রবণতা অনেকটাই কমবে।

    কোটি টাকা জরিমানা

    শুধু ব্যক্তি নয়, পরীক্ষা পরিচালনায় যুক্ত পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান আইনে এই ধরনের সংস্থার জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং চার বছরের জন্য জনপরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সেই জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা পরিচালনায় সরকারের যে ব্যয় হয়েছে, তার আনুপাতিক অংশও ওই সংস্থার কাছ থেকে আদায় করা হবে। একই সঙ্গে আট বছরের জন্য তাদের জনপরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনও দায়িত্ব পালন থেকে নিষিদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে (Modi Government)। দ্রুত তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও এই সংশোধনী বিলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণে বর্তমানে চালু আইনে নতুন দু’টি ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নতুন ধারাগুলির মাধ্যমে তদন্ত এবং বিচার সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে (Anti Paper Leak Bill)।

    তদন্ত চালানো হবে সহজ

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার কোনও মামলার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে তুলে দিলে, সেই তদন্ত রেফারেন্স পাওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ দু’মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু তদন্ত নয়, বিচার প্রক্রিয়াকেও দ্রুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়ার পর বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতকে তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর ফলে বহু বছর ধরে মামলা ঝুলে থাকার প্রবণতা কমবে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা সরকারের। এছাড়া আন্তঃরাজ্য বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজন হলে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করতে পারবে। এর মাধ্যমে একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত পরীক্ষা জালিয়াতির ঘটনায় তদন্ত চালানো সহজ হবে। চালু আইনেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের বিধান ছিল, তবে নতুন সংশোধনীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে পৃথক বিশেষ দল গঠনের ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সরকারের বক্তব্য

    সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা শুধু পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও নষ্ট করে। তাই কঠোর শাস্তি, সময়ে তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের সমন্বয়ে একটি কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য (Modi Government)। এই বিলটি এমন একটি সময়ে লোকসভায় আনা হয়েছে, যখন নিট-সংক্রান্ত বিতর্ক দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং তার জেরে ছাত্রদের দীর্ঘ আন্দোলন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছিল। এই আবহেই সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। সেই ঘটনার পরপরই সরকার আরও কঠোর সংশোধনী বিল আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

    বিরোধী দলগুলির দাবি

    বিরোধী দলগুলির দাবি, শুধু কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে (Anti Paper Leak Bill)। এখন সংশোধনী বিলটি সংসদের পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার পর অনুমোদনের জন্য বিবেচিত হবে। সংসদের দুই কক্ষের অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে কার্যকর হবে (Modi Government) নতুন বিধানগুলি।

     

  • JP Nadda: পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন প্রত্যাহার ককরোচ জনতা পার্টির, দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস কেন্দ্রের

    JP Nadda: পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন প্রত্যাহার ককরোচ জনতা পার্টির, দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষা পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার-সহ বিভিন্ন দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় সরকার তাদের দাবিগুলি নীতিগতভাবে বিবেচনা ও গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda)। শনিবার সংবিধান ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান (CJP), পরীক্ষা সংস্কার সংক্রান্ত সংগঠনের পাঁচ দফা দাবিপত্র সরকার গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখবে এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।

    সরকার সহানুভূতিশীল (JP Nadda)

    নাড্ডা বলেন, “আপনারা যে পাঁচ দফা দাবিপত্র আমাকে দিয়েছেন, তা শিক্ষা পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার সংক্রান্ত। এই প্রস্তাবগুলি আমরা গভীরভাবে বিবেচনা করব এবং আপনাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে যতটা সম্ভব তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। সরকার আপনাদের সমস্ত দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব দেখিয়েছে এবং সেগুলি গ্রহণ করেছে।” আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। নাড্ডা বলেন, “আন্দোলনকারীদের সংশ্লিষ্ট এফআইআরগুলির অনুলিপি দেওয়া হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।” ক্ষতিপূরণের দাবি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, “সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি সহানুভূতিশীল। প্রচলিত নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং যতটা সম্ভব সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

    সরকারের আশ্বাস

    তিনি এও বলেন, “আজ দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আন্দোলন চলাকালীন দায়ের হওয়া মামলাগুলি নিয়ে তারা লিখিতভাবে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি আরও দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে—কোনও প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং তাদের পাঁচ দফা দাবিপত্র বিবেচনা করা হবে। আমরা এফআইআরের অনুলিপি দেব এবং কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ক্ষতিপূরণের বিষয়েও সরকার স্পষ্ট করেছে যে আমরা সহানুভূতিশীল এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে (JP Nadda)।” বৈঠক শেষে ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে “সদিচ্ছার সঙ্গে” তারা যন্তর মন্তরে চলা টানা ৩৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করছে। সংগঠনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, “ককরোচ জনতা পার্টি সদিচ্ছার সঙ্গে আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করছে। সরকারের সঙ্গে যে বিষয়গুলিতে ঐকমত্য হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সেগুলি কার্যকর হবে—এই বিশ্বাস থেকেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

    মৃতদের পরিবারকেও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ

    সংগঠনের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার নিট পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যায় মৃতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সিজেপি সরকারকে পাঁচ দফা দাবিপত্র দিয়েছে। চার সপ্তাহ পর উভয় পক্ষের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক হবে বলেও জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে টানা বিক্ষোভের জেরে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং (CJP) সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধানের (JP Nadda) দাবি, ছাত্রদের স্বার্থে এবং চলমান আন্দোলনকে “দেশবিরোধী শক্তি” যেন কাজে লাগাতে না পারে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

     

  • Elderly Man Confronts: যন্তর মন্তরে ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভের তাল কেটে দিলেন প্রবীণ, সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার বদলে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রবীণ

    Elderly Man Confronts: যন্তর মন্তরে ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভের তাল কেটে দিলেন প্রবীণ, সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার বদলে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রবীণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে (CJP) ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে (Elderly Man Confronts)। বিক্ষোভ মঞ্চে সরকারবিরোধী বার্তা তুলে ধরতে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে সামনে আনা হয়েছিল। তবে তিনি সরকার-বিরোধী কিছু না বলে, উল্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়ায় পুরো পরিস্থিতি নেয় নাটকীয় মোড়। ঘটনায় সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং তাঁর সমর্থকরা অস্বস্তিতে পড়ে যান।

    ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে হাজির প্রবীণ (Elderly Man Confronts)

    জানা গিয়েছে, যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলাকালীন হুইলচেয়ারে করে এক প্রবীণ ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন। তাঁকে দেখে বিক্ষোভকারীদের একাংশ মনে করেন, তিনি সম্ভবত সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখবেন। সেই প্রত্যাশা থেকেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ নিজেই মঞ্চ থেকে নেমে এসে ওই প্রবীণকে স্বাগত জানান এবং তাঁকে বিক্ষোভকারীদের কাছে নিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে মঞ্চের সামনে আনার পর বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁকে ঘিরে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করেন। অভিযোগ, তাঁরা সরাসরি “মোদি চোর” বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন, এবং ওই প্রবীণ ব্যক্তিকেও সেই স্লোগানে গলা মেলাতে পীড়াপীড়ি করছিলেন।

    চুপ!

    ঘটনার মোড় ঘুরে যায় ঠিক সেই মুহূর্তেই। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সুর মেলানোর পরিবর্তে ওই প্রবীণ ব্যক্তি তাঁদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একদম চুপ করে থাকুন। প্রধানমন্ত্রী মোদি চোর নন।” তিনি (Elderly Man Confronts) আরও বলেন, “নরেন্দ্র মোদি তোমাদের বয়সের থেকেও বেশি সময় ধরে দেশের সেবা করে চলেছেন। তিনি বারো বছর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তারপর থেকে টানা দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি একজন সৎ মানুষ।” প্রবীণ ব্যক্তির এই মন্তব্যে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত লোকজন হকচকিয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই বিক্ষোভের পরিবেশ বদলে যায়। যাঁরা তাঁর কাছ থেকে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রত্যাশা করেছিলেন, তাঁদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলেই খবর। শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায়ই থেমে থাকেননি তিনি। দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ব্যবস্থার ভেতরে বসে থাকা কিছু মানুষের কারণেই নরেন্দ্র মোদির নাম খারাপ হচ্ছে। তোমরা এই ধরনের কথা বলে বোকামি করছ।” এই মন্তব্যের পর বিক্ষোভ মঞ্চে কিছু সময়ের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিজিৎ এবং তাঁর সমর্থকেরা কার্যত নীরব হয়ে যান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও দেখা যায়, প্রবীণ ব্যক্তির বক্তব্যের সময় উপস্থিত অনেকেই হাঁ করে তাঁর কথা শুনছেন।

    ভাইরাল ভিডিওয় ইউজারদের প্রতিক্রিয়া

    এমন ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউজারদের একাংশের দাবি, ওই প্রবীণ ব্যক্তি নিজের মত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করেছেন, এবং রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। আর একাংশের বক্তব্য, একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে গোটা বিক্ষোভ কর্মসূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। প্রসঙ্গত, যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন (Elderly Man Confronts) ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতিবাদস্থল হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে নানা দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নয়া সংযোজন ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি পালনও। অবশ্য ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ওই প্রবীণ ব্যক্তির পরিচয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ভিডিও এবং ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও মেলেনি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে কোনও জনসমাবেশ বা বিক্ষোভে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনাগুলি মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং তা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে (CJP) সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট না জেনে শুধুমাত্র ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শও দিচ্ছেন তাঁরা।

     

  • Delhi Protest: মার্কিন দূতাবাসের আগাম বিক্ষোভ সতর্কতা ঘিরে বিতর্ক, দিল্লির সিজেপি আন্দোলনের ব্যাপারে এত নির্দিষ্ট তথ্য পেল কীভাবে?

    Delhi Protest: মার্কিন দূতাবাসের আগাম বিক্ষোভ সতর্কতা ঘিরে বিতর্ক, দিল্লির সিজেপি আন্দোলনের ব্যাপারে এত নির্দিষ্ট তথ্য পেল কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা বিক্ষোভকে ঘিরে মার্কিন দূতাবাসের জারি করা একটি আগাম নিরাপত্তা সতর্কতা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে, ১৭ জুলাই প্রকাশিত ওই সতর্কতায় ২০ ও ২১ জুলাই দিল্লিতে সম্ভাব্য বিক্ষোভ, ভিড়, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছিল। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন দূতাবাস এত আগে এবং এত নির্দিষ্ট তথ্য কীভাবে পেল। ঘটনার সূত্রপাত নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলেও, আন্দোলনে অ-ছাত্র গোষ্ঠী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং অন্যান্য স্বার্থান্বেষী মহলের অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির পক্ষে কোনও সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

    মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতায় কী বলা হয়েছিল?

    ১৭ জুলাই প্রকাশিত মার্কিন দূতাবাসের “ডেমনস্ট্রেশন অ্যালার্ট”-এ মার্কিন নাগরিকদের ২০ জুলাই সংসদ ভবন ও যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। সতর্কতায় বলা হয়েছিল, ওই দিন বড় জমায়েত হতে পারে এবং দিল্লি পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক যানজট ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হতে পারে। এছাড়াও ২১ জুলাই কিষাণ ঘাটে আরেকটি বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করা হয়। সেখানে প্রায় ২৫০টি কৃষক সংগঠনের অংশগ্রহণ এবং মোটরসাইকেল মিছিলের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল।

    মার্কিন নাগরিকদের জন্য দূতাবাসের পরামর্শ ছিল—

    বড় জমায়েত ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলুন।
    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসরণ করুন।
    ট্রাফিক বিলম্ব ও রাস্তা বন্ধ থাকার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
    স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন।
    পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
    স্টেপ (Smart Traveler Enrollment Program)-এ নিবন্ধন করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেট গ্রহণ করুন।

    বিতর্কের কারণ কী?

    দিল্লি পুলিশ ১৮ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন উপলক্ষে ট্রাফিক সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করে। তবে তার আগেই মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতায় বিক্ষোভের সম্ভাব্য স্থান, তারিখ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কৃষক সংগঠনগুলির সম্ভাব্য অংশগ্রহণের মতো বিশদ তথ্য উল্লেখ থাকায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস নিয়মিতভাবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, প্রশাসনিক সূত্র, প্রকাশ্য তথ্য এবং নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করে থাকে। ফলে এমন সতর্কতা জারি করা কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

    ‘ডিপ স্টেট’ ও জর্জ সোরোস প্রসঙ্গ

    বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু রাজনৈতিক মহলে তথাকথিত “ডিপ স্টেট” বা মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরোস-এর নামও টানা হচ্ছে। তবে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা এবং এসব অভিযোগের মধ্যে কোনও সম্পর্কের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে সিজেপি-র সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত অভিজিৎ দিপকে-র অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। জানা গিয়েছে, তিনি আগে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত শিক্ষাগত বা রাজনৈতিক অতীতের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতার কোনও যোগসূত্র রয়েছে বলে কোনও সরকারি সংস্থা দাবি করেনি।

    সরকারি অবস্থান

    প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রস্তাবিত সংসদ অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও সম্ভাব্য বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক ছিল এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে মার্কিন দূতাবাসের আগাম সতর্কতা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, দূতাবাসের তথ্য সংগ্রহ বা এর সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের যোগ রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রত্যক্ষ ও প্রমাণিত তথ্য সামনে আসেনি।

LinkedIn
Share