মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবিরাম বের হচ্ছে কয়লার ময়লা! কয়লা পাচারকাণ্ডে (Coal Scam) এবার দিল্লিতে তলব করা হল নিউ আলিপুরের জ্যোতিষ রায় রোডের এক বাসিন্দাকে। আগামী শুক্রবার তাঁকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। এদিকে, কলকাতার গরচার গজরাজ নির্মাণ সংস্থার অন্যতম মালিক বিক্রম শিকারিয়াকে দীর্ঘ জেরার সূত্রে তৃণমূলের এক প্রভাবশালীর নাম জানতে পেরেছে ইডি (ED)। অভিযোগ, এই সব নির্মাণ সংস্থার মাধ্যমেই সাদা করা হয়েছে কোটি কোটি কালো টাকা।
ইডি-র দাবি…
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে দাবি, কয়লার (Coal Scam) টাকা পাচারে নয়া যে নির্মাণ সংস্থার নাম উঠে আসছে, তার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীর যোগ রয়েছে। ইডির দাবি, কালো টাকা সাদা করার নয়া পন্থাও আবিষ্কার করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি গজরাজ নির্মাণ সংস্থার অফিস থেকে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধারের পর ইডির অভিযোগ ছিল, রাজ্যের এক মন্ত্রী কয়লা পাচারের লভ্যাংশ পেয়েছেন। তাঁর সেই কালো টাকা নির্মাণ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে সাদা করেছেন তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতা ও তাঁর পরিবারের এক সদস্য। জানা গিয়েছে, কয়লাকাণ্ডে নিউ আলিপুরের যে নির্মাণ সংস্থার নাম উঠেছে, তার মালিক ও তাঁর পরিবারের সব সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খতিয়ান ও তাঁদের সব সংস্থার নথিপত্র সহ তলব করা হয়েছে। ইডির এক আধিকারিক বলেন, যে দিন থেকে ওই সংস্থা ও তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, সেই দিন থেকে গত সপ্তাহ পর্যন্ত সমস্ত নথি ও আয়করের রিটার্ন জমা দিতে বলে তলবি নোটিশে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুুন: ‘টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে রাজ্য’! বিধানসভায় অভিনব প্রতিবাদ বিজেপির
এদিকে, বুধবারই দিল্লিতে ইডি দফতরে হাজির হন মনজিৎ সিং গ্রেওয়াল। শনিবারই কলকাতার এই ধাবা মালিককে নোটিশ পাঠিয়েছিল ইডি। তার জেরেই এদিন ইডি দফতরে হাজিরা দেন তিনি। তাঁর দাবি, গজরাজের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্কই নেই। ইডির তদন্তকারীদের দাবি, গজরাজ গ্রুপের মোট ৩০টি কোম্পানি রয়েছে। কয়লা পাচারের (Coal Scam) টাকা ঘুরপথে এসেছে এই কোম্পানিগুলিতে। ইডি সূত্রে খবর, ৯ কোটি টাকা দিয়ে একটি গেস্ট হাউস কেনাবেচা চলছিল বালিগঞ্জে গজরাজ গোষ্ঠীর দফতরে। যদিও ওই গেস্ট হাউসের আসল দাম ১২ কোটি টাকা। চুক্তিপত্রে দেখানো হয় ৩ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এভাবেই সাদা করা হচ্ছিল কালো টাকা।