Tag: Cochin Minerals and Rutile Limited

  • Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে টি বীণা, জামাই পিএ মহম্মদ রিয়াস-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিল কেরল হাই কোর্ট (Kerala HC)। শুক্রবার বিচারপতি এ বদরুদ্দিনের বেঞ্চ রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের (ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-কোরাপশন ব্যুরো) অধিকর্তাকে এই নির্দেশ দিয়েছে। আইনজীবী কেএম শাহজাহানের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতেই আদালতের এই (Corruption Case) নির্দেশ।

    এর আগে কেরল সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর আদালতে দাবি করেছিল, অপরাধ তদন্ত শাখার প্রাথমিক তদন্তই এই মামলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। এফআইআর দায়ের করা আইনত বাধ্যতামূলক নয় বলেও যুক্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। এফআইআর দায়ের না করেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক তদন্ত চালানোর যে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছিল, তাও বাতিল করেছে আদালত।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ (Kerala HC)

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় যে অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, তা ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় পড়ে। ফলে তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারার অধীনে থাকা তথ্যপ্রমাণ, যা বর্তমানে রাজ্য পুলিশের ডিজি অথবা বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধানের হেফাজতে রয়েছে, তা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের অধিকর্তার হাতে তুলে দিতে হবে। সেই নথির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট অধিকর্তাকে অবশ্যই এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি দুর্নীতি দমন দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। মামলায় এফআইআর দায়েরের আগে আর কোনও অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে হাই কোর্ট।

    আদালতের বক্তব্য, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির জমা দেওয়া তথ্যপ্রমাণই এফআইআর দায়েরের জন্য যথেষ্ট। দীর্ঘ প্রাথমিক তদন্তের অজুহাতে এফআইআর দায়ের এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এই মামলার পরিস্থিতি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নতুন করে আর কোনও তদন্তের প্রয়োজন নেই। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারায় প্রাপ্ত তথ্যে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তাতে রাজ্য পুলিশের এফআইআর দায়ের করা বাধ্যতামূলক। অন্য কোনও তদন্তের সুযোগ এখানে নেই।”

    কী এই মামলা?

    এই মামলার সূত্রপাত কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের প্রথম মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়কার কয়েকটি আর্থিক লেনদেনকে ঘিরে। বেসরকারি খনি সংস্থা কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এবং টি বীণার মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনের মধ্যে ওই লেনদেন হয়েছিল।

    মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, কোনও পরিষেবা না দিয়েও এক্সালজিক সলিউশনস প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার অর্থ পেয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ওই লেনদেনের মাধ্যমে বেআইনিভাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে ৮৫ লাখ টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছিল এবং দেশের অভ্যন্তরে ২০ কোটিরও বেশি টাকা বণ্টন করা হয়েছিল বলে দাবি (Kerala HC) ইডির।

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার খরচ হিসেবে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এক্সালজিক সলিউশনসকে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দিয়েছিল। অথচ ওই সংস্থা কোনও পরিষেবাই দেয়নি। এই অর্থপ্রদানকে পরামর্শদানের খরচ বলে দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    গত মে মাসে বিজয়নের বাসভবন-সহ কোঝিকোড় জেলায় সিপিআইএমের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্ত আটটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশির সময় হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করে (Corruption Case) সংস্থাটি।

    কেরল পুলিশকে ইডি জানিয়েছিল, বিজয়নের মেয়ে বীণার মাধ্যমে তাঁকে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছিল কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড। সংস্থাটির প্রাক্তন প্রধান আর্থিক আধিকারিক তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন বলেও ইডির দাবি, বীণা ও অন্যদের মাধ্যমে রিয়াস ওই টাকা দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

    এফআইআর দায়েরের সুপারিশ

    ইডি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য রাজ্য প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়ে বিজয়ন-সহ অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু কেরল পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। তার পরিবর্তে অপরাধ তদন্ত শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক এইচ ভেঙ্কটেশের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

    এর পরেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আইনজীবী কেএম শাহজাহান। তাঁর বক্তব্য ছিল, পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে (Kerala HC) এফআইআর দায়ের করা পুলিশের কর্তব্য।

    আবেদনকারীর সেই যুক্তি মেনে নিয়ে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। তবে আদালতের এই নির্দেশের অর্থ অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হবে (Corruption Case)।

    কী প্রভাব পড়তে পারে?

    কেরল হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে মামলাটির তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে। এত দিন প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর্যায়ে আটকে থাকা অভিযোগের ভিত্তিতে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরকে। ফলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের (Kerala HC) তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।

     

LinkedIn
Share