মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তছনছ হয়ে গেল পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। সোমবার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ (Colombia Earthquake)। ৭.৪ মাত্রার এই ভয়াবহ কম্পনের বলি হয়েছেন অন্তত ১৩২ জন। মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে গিয়েছে একাধিক বহুতল ও ঘরবাড়ি। ইট-পাথরের স্তূপের নীচে এখনও আটকে রয়েছেন শয়ে শয়ে মানুষ (Earthquake In Colombia)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পাবে বলে খবর। বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরাসরি দায়িত্ব নিয়েছেন কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েলা। সান হোসে দেল পালমারে জরুরি উদ্ধারকাজ তদারকির আশ্বাস দিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা কেউ একা নন। দেশ আপনাদের পাশে আছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ভূমিকম্পের উৎসস্থল
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার দুপুরের দিকে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে, কলম্বিয়ার স্থানীয় সময় ছিল সকাল ৭টা ৩৪ মিনিট। জানা গিয়েছে, চকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনের উৎস। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কলম্বিয়ার অনেকটা এলাকাজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়। ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর এবং পানামাতেও অনুভূত হয়েছে। উল্লেখ্য, কম্পনের উৎসস্থল স্যান হোসে দে পামার এলাকাটি প্রশান্ত মহাসাগরের অখ্যাত ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থান করার ফলে মহাসাগরকে ঘিরে থাকা ওই বলয়ের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকাগুলির মধ্যে একটি। তবে কলম্বিয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী এটি গত এক দশকে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
ধসে পড়েছে একাধিক বাড়ি
ভূমিকম্পের জেরে বহু ঘর বাড়ি ভেঙে পড়েছে। ঘটনার পরই জোরকদমে শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার কাজ চলছে। সবচেয়ে করুণ অবস্থা পেরেইরা শহরের। সেখানকার মেয়র মাউরিসিও সালাজার জানান, শুধুমাত্র পেরেইরাতেই অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের সামগ্রিক অবস্থাকে অত্যন্ত ‘সংকটময়’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে পেরেইরা, কালি এবং কিবদো শহরে চোখের সামনে ধসে পড়ছে বাড়িঘর। ভেঙে পড়া বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় ছুটছেন মানুষ। শোনা যআচ্ছে আর্তনাদ। অন্যদিকে, বোগোটা থেকে ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মানিজালেস শহরের বিখ্যাত নিও-গোথিক ক্যাথেড্রালের একটি টাওয়ার ভেঙে পড়েছে।
দেশে জরুরি অবস্থা, বন্ধ বিমানবন্দর
ভূমিকম্পের জেরে কলম্বিয়ার পাঁচটি বিমানবন্দরে নিয়মিত যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পেরেইরা, মানিজালেস, আর্মেনিয়া, কার্তাগো এবং বুয়েনাভেনতুরা বিমানবন্দর আপাতত শুধুমাত্র চিকিৎসা ও সরকারি উড়ানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বিমানবন্দরগুলির পরিকাঠামোয় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার।
