Tag: Commissioning Mother

  • Supreme Court: দত্তক নেওয়া মায়েরাও শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের ছুটির অধিকারী, ‘সুপ্রিম’ রায়

    Supreme Court: দত্তক নেওয়া মায়েরাও শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের ছুটির অধিকারী, ‘সুপ্রিম’ রায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সামাজিক সুরক্ষা আইনের একটি বিধান বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ওই বিধানে দত্তক নেওয়া মায়ের মাতৃত্বকালীন সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল শুধুমাত্র তিন মাসের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে। শীর্ষ আদালত এই শ্রেণিবিভাগকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে (Maternity Leave)।

    ‘হামসা নন্দিনী নান্দুরি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলা (Supreme Court)

    ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ, ‘হামসা নন্দিনী নান্দুরি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলায় বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ রায় দেয়, সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড ২০২০-এর ধারা ৬০(৪) সংবিধানের ১৪ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে। এই দুই অনুচ্ছেদ সমতা ও জীবনের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। আদালত রায় দেয়, দত্তক নেওয়া মায়েরা শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকারী।

    আদালতের নির্দেশ

    প্রসঙ্গত, আগে এই সুবিধা সীমাবদ্ধ ছিল শুধুমাত্র তিন মাসের কম বয়সি শিশু দত্তক নেওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে। যার ফলে অধিকাংশ দত্তক গ্রহণকারী অভিভাবক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। ২০২০ সালের আইনের ধারা ৬০(৪)-এ বলা ছিল, “যে নারী আইনত তিন মাসের কম বয়সি শিশু দত্তক নেন বা কমিশনিং মাদার, তিনি শিশুটিকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাবেন।” আদালতের নির্দেশ, এখন এই ধারা হবে, “যে নারী আইনত কোনও শিশুকে দত্তক নেন বা কমিশনিং মাদার, তিনি শিশুকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাবেন।”

    দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিভাবকের প্রয়োজন কম নয় 

    আদালত মনে করে, শিশুর বয়সের ভিত্তিতে দত্তক নেওয়া মায়েদের মধ্যে পার্থক্য করার কোনও যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “মাতৃত্বকালীন সুবিধার উদ্দেশ্য সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়ার সঙ্গে নয়, বরং মাতৃত্বের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত (Supreme Court)।” আদালত এও জানায়, দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্ব, পরিচর্যার প্রয়োজন এবং মানসিক অভিযোজন শিশুর বয়স নির্বিশেষে প্রায় একই থাকে। দত্তক গ্রহণ সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে প্রজনন স্বাধীনতার একটি বৈধ রূপ এবং এটি জৈবিক পিতামাতার তুলনায় গৌণ নয় (Maternity Leave)।

    রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভারতের আইনি কাঠামোয় খুব কম বয়সি শিশুকে দত্তক নেওয়ার বাস্তব অসুবিধা। আদালত জানিয়েছে, কোনও শিশুকে আইনিভাবে দত্তকের জন্য মুক্ত ঘোষণা করতে করতে সাধারণত তিন মাসের বেশি সময় লেগে যায়। তাই আগের বিধানটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। শীর্ষ আদালতের রায়ে বলা হয়, “এই বয়সসীমা বিধানটিকে কার্যত অর্থহীন ও অপ্রয়োগযোগ্য করে তোলে।” বেঞ্চ জানিয়েছে, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থই নীতিনির্ধারণের মূল হওয়া উচিত। দত্তক পরিবারের সঙ্গে শিশুর মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময়, যত্ন ও মানসিক বন্ধন প্রয়োজন, যা কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। আদালতের রায়, বড় বয়সের শিশুকে দত্তক নেওয়া মায়েদের ছুটি না দেওয়া মাতৃত্বকালীন যত্ন এবং শিশুর বিকাশ—দু’টিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই রায়ের পর আদালতের নির্দেশ, ধারা ৬০(৪) এমনভাবে পড়তে হবে যাতে সব দত্তক গ্রহণকারী মা ও কমিশনিং মাদার শিশুকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পান (Supreme Court)।

    পিতৃত্বকালীন যত্ন

    এদিকে, আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা হিসেবে পিতৃত্বকালীন ছুটি চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানায়। আদালত বলে, সন্তানের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব উভয় অভিভাবকের মধ্যে ভাগ হওয়া উচিত এবং তা তাঁদের ও শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন। শীর্ষ আদালত নির্দেশে জানিয়েছে, “আমরা কেন্দ্রকে পিতৃত্বকালীন ছুটিকে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি বিধান আনার আহ্বান জানাচ্ছি (Maternity Leave)। এই ছুটির সময়সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত, যাতে তা অভিভাবক ও শিশুর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় (Supreme Court)।”

LinkedIn
Share