Tag: communal clashes

communal clashes

  • Nepal: নেপালে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, নিহত ৩, একাধিক জেলায় কারফিউ

    Nepal: নেপালে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, নিহত ৩, একাধিক জেলায় কারফিউ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের (Nepal) সুনসারি জেলায় শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার (Communal Clashes) আঁচ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে মধেশ প্রদেশের বিভিন্ন জেলায়। সংঘর্ষ ও হিংসার পৃথক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুনসারি, সপ্তরী, সিরাহা ও ধনুষা জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। পারসা জেলার বীরগঞ্জের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। পরিস্থিতির যাতে আরও অবনতি না হয়, তাই বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপালি সেনা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

    পৃথক সংঘর্ষে নিহত তিন (Nepal)

    সিরাহা জেলায় বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের সময় ১৭ বছর বয়সি গণেশ যাদবের মৃত্যু হয়েছে। সে অওরাহী রুরাল পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিল। গোলবাজারে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল সে। পরে মৃত্যু হয় তার। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর ঘাড়ে গুলি লেগেছিল। ধনুষা জেলার ধনুষাধাম পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বছর উনিশের সুভাষ ঠাকুরও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁর পিঠে গুলি লেগেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ধরানের বিপি কৈরালা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তবে সংঘর্ষের সময় আহত বা নিহত ব্যক্তিদের শরীরে যে গুলি লেগেছে, সেগুলি নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী নাকি নেপালি সেনার অস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। ফলে নিহত ও আহতদের ঘটনায় গুলি কোথা থেকে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    কারফিউ অমান্য করে গোলবাজারে ফের উত্তেজনা

    সিরাহার গোলবাজারে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপুর ২টা থেকে সেখানে কারফিউ কার্যকর হওয়ার পরও বিক্ষোভকারীদের একাংশ তা অমান্য করে রাস্তায় নেমে আসে (Communal Clashes)। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজনার সূত্রপাত। কাসাহা এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পূর্ব-পশ্চিম হাইওয়ে অবরোধ করেন। পরে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা গোলবাজারের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একাধিক দোকানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কয়েকটি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এবি মলও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুপুরের দিকে আরও একটি দল শহরে এসে পৌঁছয়। ওই দলের সদস্যদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ। প্রায় দু’ডজন মোটরসাইকেল এবং কয়েকটি অটোরিকশায় করে তারা শহরে আসে বলে দাবি স্থানীয়দের (Nepal)। এর পর গোলবাজারের দুই প্রান্তে পরস্পরবিরোধী দুই গোষ্ঠী অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাকর্মীরা লাঠিচার্জ করেন এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের ২১টি সেল ছোড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন কারফিউ জারি করে এবং নেপালি সেনা মোতায়েন করা হয়। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি দল ফের হাইওয়ের দিকে অগ্রসর হয়। প্রশাসনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে জনতা এগিয়ে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা গুলি চালান বলে জানান আধিকারিকরা। এরপর পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে। পরে এক ডজনেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয় অথবা আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    নিরাপত্তাবাহিনীকে সংযত থাকার নির্দেশ

    পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিরাপত্তাবাহিনীকে আনুপাতিক ও প্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে নেপাল পুলিশের সদর দফতর। উত্তজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রথমে কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের মতো পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লাহান এলাকায়ও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গুলিও ছোড়ে। সেখানেও কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    জনকপুরে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ

    মধেশ প্রদেশের রাজধানী ও প্রশাসনিক কেন্দ্র জনকপুরেও বৃহস্পতিবার সকালে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন বাজার বন্ধ করে দেয় এবং একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রামানন্দ চক এবং বজরং চক-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে জনকপুরধাম উপ-মহানগরীর সব ওয়ার্ড এবং সংলগ্ন এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় উত্তরে লক্ষ্মীনিয়া থেকে দক্ষিণে নাগরাইন পর্যন্ত এলাকা রয়েছে। পূর্ব দিকে বেলৌনি সড়ক করিডর থেকে পশ্চিমে সিনুরজোদা এবং দুধমতী সেতু এলাকা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। কারফিউ কার্যকর করার সময় প্রয়োজন হলে নেপালি সেনাকে সরাসরি গুলি চালানোর অনুমতিও দিয়েছে প্রশাসন। তবে সেনা সদস্যদের শুধুমাত্র পরিস্থিতি সামাল দিতে যতটুকু শক্তি প্রয়োজন, ততটুকুই ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনকপুরে সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার এবং পায়ে হেঁটে টহল দেওয়ার জন্য সদস্য মোতায়েন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    পারসায়ও কঠোর বিধিনিষেধ

    পারসা জেলায়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। বীরগঞ্জের সংবেদনশীল কিছু এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে (Communal Clashes)। এই আদেশ অনুযায়ী, পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত, বিক্ষোভ, মিছিল এবং অন্যান্য ধরনের প্রকাশ্য সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কেউ এই বিধিনিষেধ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এদিকে, সুনসারি জেলায় মঙ্গলবার রাতে কারফিউ জারির পর বৃহস্পতিবারও তা বহাল ছিল। জেলার ১০টি স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিটকে কারফিউয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। টানা তৃতীয় দিন সেখানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রয়েছে (Nepal)।

    পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    সুনসারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা অল্প সময়ের মধ্যে মধেশ প্রদেশের একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ছে। একাধিক এলাকায় একই সময়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে আপাতত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গোলবাজার, লাহান এবং জনকপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউ ও অন্যান্য বিধিনিষেধ জারি করা হলেও, সেসব অমান্য করে বিক্ষোভ দেখানো অব্যাহত থাকার ঘটনায় প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সংঘর্ষে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় গুলির উৎস এবং দায় নির্ধারণ করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    চেষ্টা চলছে উত্তেজনা কমানোর

    নিহত ও আহতদের ঘটনায় নিরাপত্তাবাহিনীর গুলির ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের তদন্তে এই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন নেপালবাসী। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টাও চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মধেশ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনী সংঘর্ষ ঠেকাতে একদিকে যেমন কঠোর পদক্ষেপ (Communal Clashes) নিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, সেদিকেও নজর রাখছে (Nepal)।

     

  • Nuh Violence: ছন্দে ফিরছে নুহ, দু’ সপ্তাহ পরে চালু ইন্টারনেট পরিষেবা

    Nuh Violence: ছন্দে ফিরছে নুহ, দু’ সপ্তাহ পরে চালু ইন্টারনেট পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’ সপ্তাহ পরে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হল হরিয়ানার নুহতে (Nuh Violence)। সাম্প্রদায়িক হিংসার জেরে দু সপ্তাহ আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবা। সাম্প্রদায়িক হিংসায় মৃত্যু হয়েছিল ছ’ জনের। জখমও হয়েছিলেন অনেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নুহতে ইন্টারনেট, এসএমএস এবং ব্রডব্যান্ড পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

    নুহতে অশান্তি 

    ৩১ জুলাই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একটি শোভাযাত্রায় হামলা হয়। তার জেরেই শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ। দু’জন হোমগার্ড এবং মসজিদের একজন ধর্মগুরু সহ হিংসায় মৃত্যু হয় মোট ছ’ জনের। তার পরেই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে গুরগাঁও, পালওয়াল, ফরিদাবাদ সহ রাজ্যের অন্যান্য জেলায়। হিংসার জেরে উন্মত্ত জনতা আগুন লাগিয়ে দেয় যানবাহন, রেস্তঁরা, দোকানদানিতে। অভিযোগ, মনু মানেসার (Nuh Violence) নামে এক যুবক সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে। সে-ই জানায় নুহতে যে ধর্মীয় শোভাযাত্রা হতে চলেছে, সে ব্যাপারে। সে তার সমর্থকদের দলে দলে চলে আসতে বলে। তার জেরেই অশান্তির সূত্রপাত বলে অভিযোগ। নুহতে হিংসায় মানেসরের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল, বা সিট।

    মহা পঞ্চায়েত

    এদিকে, রবিবার পাওয়েল জেলায় কয়েকজন উগ্র হিন্দুবাদী মহাপঞ্চায়েতের ডাক দেয়। তারা নুহ জেলা ধ্বংস করে দেওয়ার ডাক দিয়েছিল। ৫১ জনের একটি কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় এলাকাটি গো-হত্যা মুক্ত এলাকা করা হবে। ২৮ অগাস্ট নুহতে ফের জালাভিষেক যাত্রা করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি। অন্যান্য জেলা থেকে যেসব লোকজন নুহতে (Nuh Violence) আসবেন, তাঁদের জন্য কড়া আইনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয় মহাপঞ্চায়েত। নুহর ঘটনায় ৩৯০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হিংসার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে ১১৮ জনকে। পুলিশ জানিয়েছে, ১০০ জনেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। সপ্তাহখানেক বন্ধ থাকার পর স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে গত সপ্তাহেই। চালু হয়েছে বাস সার্ভিসও।

    আরও পড়ুুন: শ্রীনগরে তিরঙ্গা যাত্রা, নেতৃত্বে লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

     
     
LinkedIn
Share