Tag: Comprehensive Strategic Partnership

  • India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল ভারত ও ইন্দোনেশিয়া (India Indonesia)। দুই দেশ নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য দ্রুত বাড়ানোর সিদ্ধান্তে জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং (Local Currency Settlement Framework) গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বে’র পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। ৬ ও ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাকার্তা সফরের সময় এই উদ্যোগ নতুন করে গতি পায়। ওই সফরেই দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বিস্তারের রূপরেখা তৈরি করে।

    স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন (India Indonesia)

    এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের রফতানিকারী ও আমদানিকারীরা সরাসরি ভারতীয় টাকা (রুপি) এবং ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবেন। ফলে মার্কিন ডলারের মাধ্যমে লেনদেনের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। এই ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৪ সালের ৭ মার্চ দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউয়ের (MoU) মাধ্যমে। সেটাই গতি পেল প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাকার্তা সফরের পর। এর লক্ষ্য, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ফলে ব্যবসায়ীরা ডলারে অর্থ রূপান্তরের অতিরিক্ত খরচ এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি বিনিময় হারের ওঠানামার ঝুঁকিও কমবে, যার ফলে সীমান্ত পেরিয়ে বাণিজ্য আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে (Local Currency Settlement Framework)।

    মোদির জাকার্তা সফর

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দু’মাসে ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১৬৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৮৪৫ কোটি মার্কিন ডলারে। এতে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থার প্রতি ব্যবসায়িক আস্থারও প্রতিফলন ঘটেছে। এই উদ্যোগের উল্লেখ প্রথম করা হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ভারত সফরের সময় প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে। ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ কমিশনের বৈঠকেও বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। সেই বৈঠক থেকেই মোদির জাকার্তা সফর, এবং আর্থিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি হয় (India Indonesia)। ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের ডেপুটি চিফ ইউধো সাসোংকো জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সংহতি, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সহযোগিতাই বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকেও একসূত্রে বাঁধার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দ্রুত প্রতিক্রিয়া কোডভিত্তিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করার কাজ এগোচ্ছে।

    কী সুবিধে হবে

    এই সংযোগ চালু হলে দুই দেশের পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সরাসরি ভারতীয় টাকা বা ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় খুচরো লেনদেন করতে পারবেন। এতে ডলারের ওপর নির্ভরতা আরও কমবে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার ব্যবহার বাড়বে (India Indonesia)। একই সঙ্গে দুই দেশই নিজেদের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ই-রুপি চালু করেছে, অন্যদিকে ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়া তাদের ডিজিটাল রুপিয়া প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ালেও ভারত ও ইন্দোনেশিয়া ডলারকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার পথে হাঁটছে না। বরং লেনদেনের খরচ কমানো, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করা এবং আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দুই দেশই আমেরিকার সঙ্গে তাদের কৌশলগত ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখছে (Local Currency Settlement Framework)।

    ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি

    ভারত যেমন বেসরকারি ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি অনুসরণ করছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রার ওপর জোর দিচ্ছে, তেমনই ইন্দোনেশিয়াও বিকেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টোকারেন্সির বদলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারতীয় টাকা-ইন্দোনেশীয় রুপিয়া ভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল পরিকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং আর্থিক সংযোগকে কেন্দ্র করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া চাইছে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে (India Indonesia)।

     

  • PM Modi: ‘‘টি২০-র মতো দ্রুত, টেস্টের মতো দীর্ঘ’’, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে ক্রিকেটের উপমা মোদির মুখে

    PM Modi: ‘‘টি২০-র মতো দ্রুত, টেস্টের মতো দীর্ঘ’’, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে ক্রিকেটের উপমা মোদির মুখে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ককে আরও গভীর এবং বহুমাত্রিক বলে উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ক্রিকেটের উপমায় দুই দেশের কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি (India Australia Relations) জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কে ক্রিকেট এক বিশেষ কূটনৈতিক ভাষা হিসেবে কাজ করে এবং দুই দেশের বৈঠকও অনেকটা ক্রিকেট ম্যাচের মতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ আমরা বিশ্বের ক্রীড়া রাজধানী মেলবোর্নে রয়েছি। এখানে খেলাধুলার কথা না বলা ঠিক যেন ক্রিকেট ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট বা বল কোনওটাই না করা। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কে ক্রিকেট একটি কূটনৈতিক ভাষা।’’

    ক্রিকেটের উপমা (PM Modi)

    তিনি আরও বলেন, ‘‘অনেক দিক থেকেই আমাদের বৈঠক ক্রিকেটের মতো। আমাদের আলোচ্যসূচি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো লক্ষ্যনির্ভর, আমাদের সিদ্ধান্ত কুড়ি ওভারের ম্যাচের মতো দ্রুত, আর আমাদের অংশীদারিত্ব পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচের মতো দীর্ঘস্থায়ী এবং গভীর।’’ যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী কয়েক বছরে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশই অলিম্পিক এবং কমনওয়েলথ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের আয়োজন করবে। তিনি বলেন, ‘‘এর ফলে শুধু দুই দেশের ক্রীড়া সহযোগিতাই আরও শক্তিশালী হবে না, ক্রীড়া পরিকাঠামোয় বিনিয়োগেরও নতুন নতুন সুযোগও তৈরি হবে।’’

    যৌথ বিবৃতি

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তাঁরা সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করে এমন হিংসাত্মক মৌলবাদের সব ধরনের রূপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তাঁরা(PM Modi)। দুই নেতা জানান, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সব দেশের সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ জরুরি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির তালিকাভুক্ত জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের সহযোগী, মদতদাতা এবং অর্থ জোগানদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও ডাকও দেন তাঁরা।

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহমত দুই দেশই

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয় ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। জঙ্গি হুমকি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো, অনলাইন উগ্রপন্থা, সন্ত্রাসে নতুন প্রযুক্তির অপব্যবহার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকি মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পহেলগাঁও ও বন্ডাই সমুদ্রসৈকতের হামলা-সহ সব ধরনের জঙ্গি হামলার নিন্দাও করেন তাঁরা। এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের দ্রুত বিকাশমান কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরমাণু সহযোগিতার নয়া মাত্রা যুক্ত হল (PM Modi)।

    উগ্রপন্থা মোকাবিলায় সহযোগিতা

    জানা গিয়েছে, ভারত-অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশই উগ্রপন্থা মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের অঙ্গীকার করেছে। দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হবে অনলাইন উগ্রপন্থা, সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে এমন সহিংস চরমপন্থা, নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি, সন্ত্রাসে অর্থায়নের নেটওয়ার্ক, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো এবং বিস্তৃত সামুদ্রিক অঞ্চলে উদ্ভূত হুমকির মোকাবিলা করা (India Australia Relations)। শীর্ষ বৈঠকে নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার এই নতুন কাঠামো আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

    পরমাণু সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক চুক্তি

    এর আগে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া পরমাণু সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এর ফলে দুই দেশের দ্রুত বিকাশমান অংশীদারিত্বে কৌশলগত পারমাণবিক সহযোগিতার একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হল (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরের মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া যৌথ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গতিশীল হবে বলেই আশা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। এই অংশীদারিত্বই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া যৌথ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। এই কাঠামোর ভিত্তিতেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার মেলবোর্নে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে (India Australia Relations) উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ক্যাঙারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সেখানকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

  • PM Modi: অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উষ্ণ অভ্যর্থনা বিমানবন্দরেই

    PM Modi: অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উষ্ণ অভ্যর্থনা বিমানবন্দরেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) তাঁর ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্বে বুধবার পৌঁছলেন অস্ট্রেলিয়ায় (Australia Visit)। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। তিন দিনের এই সফরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও মতামত বিনিময় করবেন।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের সঙ্গে আলোচনার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। পাশাপাশি প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও পাব, যারা আমাদের অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।” তিনি আরও জানান, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Comprehensive Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী হবে। ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে এদিন অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তির চলাচল এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। সফরে রওনা হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী জানান, উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ক্রীড়া এবং ক্রীড়াবিজ্ঞান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হবে এই সফরে।

    নমস্তে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    এদিকে, ভারতে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার ফিলিপ গ্রিন মেলবোর্ন থেকে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “নমস্তে প্রধানমন্ত্রী মোদি! মেলবোর্ন এখন আপনার সফরকে ঘিরে উৎসাহে মুখর। আমি সবে এখানে পৌঁছেছি এবং চারদিকে উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। অস্ট্রেলিয়া-ভারত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আলোচনা, সংযোগ এবং অগ্রগতির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ হতে চলেছে (PM Modi)।” তিনি আরও বলেন, “অনেকের নজর প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের দিকে থাকলেও, আমাদের দুই দেশের বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম পর্যায়ের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই শক্তিশালী হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব (Australia Visit)। মেলবোর্ন সংস্কৃতির শহর হিসেবেও পরিচিত এবং ভারতের সঙ্গে শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও আমরা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী (PM Modi)।”

     

  • PM Modi: ছ’দিনে তিন দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু, আর কোথায় যাবেন?

    PM Modi: ছ’দিনে তিন দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু, আর কোথায় যাবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) আগামী ৬ থেকে ১১ জুলাই—ছ’দিনের সফরে (Six Day Tour) যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। এই সফরকে ভারতের পূর্বমুখী নীতির অংশ হিসেবে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু সফর (PM Modi)

    সফরের প্রথম গন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। ৬ থেকে ৮ জুলাই সেখানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল সংযোগ-সহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। এর পাশাপাশি ব্রহ্মোস অতিধ্বনিত গতির ক্ষেপণাস্ত্র রফতানি এবং সাবমেরিন প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে একাধিক সূত্রের খবর। ২০১৮ সালে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার পর এটি মোদির (PM Modi) প্রথম ইন্দোনেশিয়া সফর। একই সঙ্গে এটি ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর চতুর্থ সফর। সফরকালে তিনি জাকার্তায় অবস্থিত ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রামবানান মন্দির দর্শন করবেন। প্রবাসী ভারতীয়দের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারত দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ

    ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। ২০২২ সালের পর দুই নেতার এটি হবে ষষ্ঠ বৈঠক। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত বিশের জোট শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি (Six Day Tour) হবে মোদির তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া সফর। এর আগে তিনি ২০১৪ ও ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। ২০২০ সালে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে ভারতকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

    আপ্লুত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    মোদির সফরের কথা ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আমার বন্ধু নরেন্দ্র মোদিকে অস্ট্রেলিয়ায় স্বাগত জানাতে পেরে আমি সম্মানিত।” তিনি এও বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক এখন আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশীদারিত্ব ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।” দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে (Six Day Tour)। পাশাপাশি ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাহীদের ফোরামের যৌথ অধিবেশনে অংশ নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি

    অস্ট্রেলিয়া সফরকালে তিনি দেশটির গভর্নর-জেনারেল স্যাম মোস্টিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশেও ভাষণ দেবেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মতে, প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায় দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় প্রচুর ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। ৯ জুলাই মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে “মেলবোর্ন মিটস মোদি” নামে একটি বড় কমিউনিটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে (PM Modi)। সফরের শেষ ধাপে ১০ থেকে ১১ জুলাই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সফর করবেন নরেন্দ্র মোদি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই রাষ্ট্রীয় সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। প্রায় চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধী পা রেখেছিলেন এই দ্বীপরাষ্ট্রে।

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    অকল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হবে। ভারতের শীর্ষকর্তাদের মতে, এই তিন দেশের সফর পূর্ব ভারত মহাসাগর এবং বৃহত্তর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সময়ে দ্বীপরাষ্ট্রগুলি এবং জাপানের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই সফরকে সেই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানকে নিয়ে গঠিত (Six Day Tour) চার দেশের নিরাপত্তাভিত্তিক জোটও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসবে বলেই (PM Modi) অনুমান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

     

LinkedIn
Share