Tag: copd

copd

  • COPD Awareness: সিওপিডি রুখতে সচেতনতার রং গেরুয়া! কেন এই রংকে প্রচারের হাতিয়ার করা হচ্ছে?

    COPD Awareness: সিওপিডি রুখতে সচেতনতার রং গেরুয়া! কেন এই রংকে প্রচারের হাতিয়ার করা হচ্ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্রমশ বাড়ছে রোগের দাপট! বিশেষত আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। তাই উদ্বেগও বাড়ছে।
    ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) ভারতের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট হতে চলেছে! ইতিমধ্যেই ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা বিশ্বের মোট সিওপিডি আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতে! চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে এই নিয়ে সচেতনতা না বাড়লে, ভবিষ্যতে আরও বেশি বিপদ হতে পারে।

    সিওপিডি কী? কেন এই রোগ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সিওপিডি হল ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই রোগ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ফুসফুসের নানান রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সিওপিডি আক্রান্ত হলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া সিওপিডি আক্রান্তের নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে ক্রমশ সিওপিডি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শিশু থেকে বয়স্ক, সমস্ত বয়সেই এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। পাশপাশি সিওপিডি-র কারণে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। তাই এই রোগ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা জরুরি।

    সচেতনতা বাড়াতে কেন গেরুয়া রঙে ভরসা?

    নভেম্বর মাস সিওপিডি সচেতনতার মাস। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পাশপাশি রোগের দাপট কমাতে সামগ্রিক সচেতনতা প্রয়োজন। কারণ, পরিবেশ এই রোগে একটা গুরুত্ব বিষয়। দূষণ মুক্ত সুস্থ পরিবেশ থাকলে সিওপিডি-র মতো রোগের প্রকোপ কমবে। তাই এই মাস জুড়ে একাধিক কর্মশালা ও সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
    চলতি বছরে প্রচারের মূল বিষয়— ‘‘অরেঞ্জ ইস পাওয়ার!’’ অর্থাৎ, গেরুয়া রঙকে হাতিয়ার করেই এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গেরুয়া রং উজ্জ্বল। তাছাড়া গেরুয়া রং শুদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তাই এই রোগ প্রতিরোধে গেরুয়া রং বেছে নেওয়া হয়েছে।
    সিওপিডি -র মতো রোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ পরিবেশের দূষণ এবং ক্ষতিকারক অভ্যাস। গেরুয়া বার্তা জানান দেবে শুদ্ধ পরিবেশের গুরুত্ব। তাছাড়া উজ্বল রঙের স্পর্শে সচেতনতা কর্মসূচিকে‌‌ বাড়তি আকর্ষণীয় করে তুলবে। শিশুদের কাছেও এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বার্তা পৌঁছনো সহজ হবে। আগামী প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে বড় রোগের বোঝা হতে চলেছে সিওপিডি। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি।

    ভারতীয় শিশুরা কেন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে?

    একাধিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় শিশুদের মধ্যে ফুসফুসের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
    বক্ষঃরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে গর্ভস্থ শিশুদের ফুসফুসের গঠনে নানান জটিলতা দেখা দিচ্ছে। জন্মের পরেও দূষিত পরিবেশ শিশুর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর জেরেই ভারতীয় শিশুদের মধ্যে সিওপিডি-র মতো রোগের দাপট ক্রমশ বাড়ছে।
    ভারতীয় শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ধূমপান নিয়ে অসচেতনতা। এই অভ্যাস শুধু ধূমপান কারীর শরীরেই ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে না। বরং তার আশপাশের মানুষের শরীরেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ফলে, গর্ভস্থ মহিলার সামনে ধূমপান করলে সেই গর্ভস্থ শিশুর শরীরে প্রভাব পড়ে। আবার শিশুদের সামনে ধূমপান করলে শিশুর শরীরে ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। তাই তাদের সিওপিডি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

    এই রোগের প্রকোপ কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ধূমপান বন্ধ!

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এবং সিওপিডি-র মতো রোগের দাপট কমাতে ধূমপানের অভ্যাস ছাড়তে হবে। ভারতে কম বয়সীদের মধ্যেও ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ক্রমশ বাড়ছে। তাই সে নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

    বায়ুদূষণ নিয়ে সচেতনতা!

    পরিবেশ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। বায়ু দূষণ যাতে না বাড়ে, সেটা নিয়ে সব মহলে সতর্কতা জরুরি। পাশপাশি বাইরে বেরলে মাস্কের ব্যবহার প্রয়োজন। ঠিকমতো নাক ও মুখ ঢাকা মাস্ক পরলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    রোগ নির্ণয় জরুরি!

    ভারতে সিওপিডি চিকিৎসায় অন্যতম সমস্যা হল রোগ নির্ণয় হয় দেরিতে। ভারতীয়দের মধ্যে এই রোগ নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক সময়েই লাগাতার কাশি হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয় না।‌ সিওপিডি-র অন্যতম প্রাথমিক উপসর্গ হল দীর্ঘদিন কাশির ভোগান্তি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন , রোগ দ্রুত নির্ণয় হলে জটিলতা কমে।

    স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন জরুরি!

    রোগ থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন জরুরি। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত যোগাভ্যাস প্রয়োজন। রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়বে। আবার শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বাড়বে। ফলে যেকোনো সংক্রামক রোগে সহজে কাবু হবে না।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    Lung Disease Risk: শুধু সিগারেট নয়, এই ৪ কারণে বাড়ছে হাঁপানি, সিওপিডি ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। তার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে জীবন যাপনের ধরন। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগের দাপট। আন্তর্জাতিক একাধিক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা বিশ্বের মোট ফুসফুসের রোগে আক্রান্তের ১২ শতাংশ ভারতীয়। ভারতের সাড়ে ছয় কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত। ভারতে ফুসফুসের রোগ অন্যতম প্রধান অসংক্রামক রোগের তালিকায় রয়েছে। আর ফুসফুসের সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জীবন যাপনের ধরন। এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা।

    কী বলছে নয়া তথ্য?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ধূমপানের মতো অভ্যাস। তবে, ধূমপান ছাড়াও এমন একাধিক অভ্যাস রয়েছে, যা নিঃশব্দে ফুসফুসের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু অধিকাংশের মধ্যেই সে সম্পর্কে কোনো সচেতনতা নেই। প্রত্যেক বছর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত রোগীদের একটা বড় অংশ, এমন আছেন, যারা কখনোই ধূমপান করেননি। কিন্তু তাঁরা ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, হাঁপানি এমনকি ফুসফুসে ক্যান্সারের মতো সমস্যা ও দেখা দিচ্ছে। প্রত্যেক দিনের জীবন যাপনের ধরন ফুসফুসের রোগের কারণ‌ হয়ে উঠছে!

    কোন অভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?

    ল্যাপটপের সামনে ৮-১০ ঘণ্টা 

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাজের ধরন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কর্মজগতে বড় পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ দিনের ৮-১০ ঘণ্টা চেয়ারে বসে কাটায়। দীর্ঘসময় ল্যাপটপের সামনে একটানা বসে থাকতে হয়‌। আর দীর্ঘ সময় এই বসে থাকাই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিক মতো হয় না। হৃদপিন্ড এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও তাই কমে। এগুলো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ফলে, যে কোনও ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

    শরীর চর্চায় ঘাটতি বাড়ায় ঝুঁকি

    শরীর চর্চায় ঘাটতি ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে কাজের সময় এতটাই বেশি এবং অনেককেই রাত জেগে কাজ করতে হয়। এর ফলে দিনের বেলায় শরীর চর্চা করার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। এতে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক থাকে। ফুসফুস এবং মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। ফলে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। কিন্তু যোগাভ্যাসে অনীহা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জটিলতা তৈরি করছে‌।

    কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহারও কারণ

    ফুসফুসের সংক্রমণ বৃদ্ধির নেপথ্যে অন্যতম কারণ অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ব্যবহার। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের দূষণ নিয়ে আলোচনা হলেও, ঘরের ভিতরের দূষণ নিয়ে একেবারেই সচেতনতা তৈরি হয়নি। এর ফলে, বিপদ বাড়ছে। লাগাতার মশানাশক ওষুধের ধোঁয়া কিংবা অতিরিক্ত কৃত্রিম সুগন্ধী ঘরে ব্যবহারের ফলে ফুসফুসের ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া অনেকেই কাঠে রান্না করেন। আবার শহরাঞ্চলে গ্যাসে রান্না করলেও কেউ কেউ জানলা বন্ধ করে রান্না করেন, এর ফলে ধোঁয়া হয়। এগুলো ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এই ধরনের অভ্যাস এ দেশে ফুসফুসের রোগের বোঝা বাড়াচ্ছে।

    কিছু নির্দিষ্ট পেশায় ঝুঁকি বেশি

    এর পাশপাশি কিছু নির্দিষ্ট পেশায় কর্মরত মানুষদের কাজের জন্য ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়লা খনি কিংবা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত মানুষদের ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ, লাগাতার ধুলো ও দূষিত ধোঁয়া ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। তাই ফুসফুসের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, পেশাগত ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কতখানি মানা হচ্ছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

    ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে এই বিপুল সংখ্যক ফুসফুসের রোগের বোঝা, জনস্বাস্থ্যের বড় বিপর্যয় হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা জরুরি। সব মহলে সতর্কতা না বাড়লে, বিপদ কমবে না। তাই দিনভর একজায়গায় বসে কাজ থাকলেও, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা করা জরুরি। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে আবার শরীরের একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতাও ঠিকমতো চলবে।

    নিয়মিত যোগাভ্যাস

    ব্যস্ততা সত্ত্বেও যোগাভ্যাস রপ্ত করতে হবে। এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁর জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ বিনোদনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক ঘণ্টা সময় কাটান। কিন্তু দিনে তিরিশ মিনিট যোগাভ্যাসের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন না। ফলে, একাধিক শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু সচেতনতার মাধ্যমে এই মানসিকতা বদল প্রয়োজন। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের অন্যান্য কাজের মতোই যোগাভ্যাসকে নিয়মিত অভ্যাসে রপ্ত করতে হবে। তাহলেই নানান জটিলতা কমবে।
    তবে ধূমপান ফুসফুসের বিপদ সবচেয়ে বাড়িয়ে তোলে। ধূমপান বর্জন করতেই হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Chronic Disease: ডায়াবেটিস থেকে শ্বাসকষ্ট— ভারতে বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

    Chronic Disease: ডায়াবেটিস থেকে শ্বাসকষ্ট— ভারতে বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কেউ শ্বাসকষ্টের জেরে বছরের বিভিন্ন সময়েই ভোগেন, আবার কেউ পেটের সমস্যায় কাবু! সমস্যার জেরে বাইরে যাওয়ার আগেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। কেউ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপকেই নিত্যসঙ্গী করে চলছেন। বিশ্বের অন‌্যান্য দেশের মতো ভারতেও বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিদের মধ্যেও এই ক্রনিক রোগের দাপট বাড়ছে। ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে চিকিৎসক মহল জানাচ্ছেন, মনের জোরেই এই রোগ মোকাবিলার পথ সহজ হবে। মানসিক শক্তিই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেও সাহায্য করবে।

    ক্রনিক ডিজিজ কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনো রোগে তিন মাসের বেশি সময় আক্রান্ত থাকলে, তাকে ক্রনিক ডিজিজ বলা যেতে পারে। তবে, আরও কয়েকটি দিক সেক্ষেত্রে দেখতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে দীর্ঘ সময় এই রোগের উপস্থিতি থাকার পাশপাশি এই রোগ অনেকক্ষেত্রেই পুরোপুরি সেরে যায় না। বারবার ফিরে আসার ঝুঁকিও থাকে। কখনো রোগের দাপট বাড়ে। আবার কখনো কমে।

    ভারতে কোন ক্রনিক রোগের দাপট বেশি?

    গত কয়েক দশকে ভারতে উদ্বেগজনক হারে ক্রনিক রোগের দাপট বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিছু রোগ সংক্রামক হয় না। কিন্তু সেই রোগে আক্রান্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি চলে। রোগের বোঝা জনজীবনে গভীর ভাবে পড়ে। গত কয়েক দশকে ভারতে এমন কিছু রোগের দাপট বাড়ছে, যা জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

    সিওপিডি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বাড়ছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। শ্বাসকষ্টজনিত এই রোগে কাবু শিশু থেকে বয়স্ক অনেকেই। এই রোগ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশপাশি ফুসফুসের আরও একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হয়‌।

    পেটের সমস্যা

    এছাড়াও ভারতের অন্যতম বড় ক্রনিক রোগ হলো পেটের সমস্যা। অধিকাংশ ভারতীয় পেটের সমস্যায় কাবু। অন্ত্রের একাধিক সমস্যার জেরে হজমের গোলমাল এবং পেটের সমস্যা দেখা দেয়। বারবার মলত্যাগ, পেট ব্যথার মতো সমস্যার জেরে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিরাও এই পেটের সমস্যায় কাবু হন।

    অস্টিওপোরোসিস

    ভারতে বাড়ছে হাড়ের ক্রনিক রোগ। বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, তিরিশের চৌকাঠ পার করার পরেই ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে হাড় ক্ষয়ের রোগ বাড়ছে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অস্টিওপোরোসিস বলা হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে বিশেষত হাঁটু, কোমড় এবং অন্যান্য জয়েন্টে তীব্র যন্ত্রণা, দীর্ঘসময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকায় মুশকিল হয়।

    ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে কিডনি ও হৃদরোগের ক্রনিক  ডিজিজ

    এছাড়াও ভারতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির ক্রনিক অসুখ এবং হৃদরোগ ক্রনিক ডিজিজ হিসাবে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরোনোর পরেই বহু ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবন যাপন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কর্মদক্ষতা কমছে। স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব হচ্ছে না।

    কেন ক্রনিক রোগের মোকাবিলায় মনের জোরকেই হাতিয়ার করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ২০২৬ সালের ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে বিশ্ব জুড়ে পালন হবে I stay strong! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ক্রনিক রোগ মোকাবিলায় মূল হাতিয়ার মনের জোর। ক্রনিক রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। একাধিক বার এই রোগে আক্রান্তের ভোগান্তি বাড়ে। সুস্থ থাকতে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানান চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হয়‌। অনেক খাবার খাওয়া এবং অন্যান্য একাধিক অভ্যাসে পরিবর্তন জরুরি হয়। ফলে জীবন যাপনেও নিয়ন্ত্রণ থাকে। অনেকক্ষেত্রেই রোগীর একঘেয়েমি লাগতে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘকাল শরীরে উপস্থিত থাকা রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানসিক জোর জরুরি। পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়, জেনেও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, তবেই রোগের দাপট নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার রোগের প্রকোপ বাড়লেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না। বছরের কিছু সময়ে, শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের সমস্যার মতো ক্রনিক রোগ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন হলে বিপদ বাড়বে। বরং কীভাবে বাড়তি ভোগান্তি কমানো যাবে, সে সম্পর্কে রোগীকে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। আর এই সবকিছু দীর্ঘদিন ধরে চলবে। তাই মানসিক শক্তি জরুরি। মনের জোর না থাকলে ক্রনিক রোগের মোকাবিলা কঠিন।

    ক্রনিক রোগ ঠেকাতে কী কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন মনের জোর। আর দেশ জুড়ে বাড়তে থাকা ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে প্রয়োজন সচেতনতা। শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের গোলমালের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা জরুরি। বায়ুদূষণ, জল দূষণের মাত্রা কমলেই এই ধরনের জটিল ক্রনিক রোগের দাপট কমবে। সকলের জন্য পরিশ্রুত পানীয় জল জরুরি। যথেচ্ছ বাজি পোড়ানো, গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। সরকারের পাশপাশি জনসমাজেও পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তবেই রোগের বোঝা কমবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাস ও শরীর চর্চা নিয়ে আরও বেশি সজাগ থাকতে হবে। নিয়মিত শারীরিক কসরত করতে হবে। যাতে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা তৈরি না হয়। তাছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। তাহলেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, হৃদরোগের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমানো যাবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share