Tag: Cough Syrup Smuggling

  • Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে কোটি কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই ফের পশ্চিমবঙ্গে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। এবার মালদা শহরের মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা। একই অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২০ গ্রাম সোনা, একটি ল্যাপটপ এবং পরে অন্য একটি গুদামঘর থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। গোটা ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদা থানা এলাকার মঙ্গলবাড়িতে যৌথ অভিযান চালায় মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। তদন্তকারীরা ফ্ল্যাটে ঢুকতেই চোখে পড়ে থরে থরে সাজানো ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। বিপুল পরিমাণ নগদের কারণে টাকা গোনার জন্য তিনটি মেশিন আনা হয়। সোমবার ভোর পর্যন্ত চলে নোট গণনার কাজ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ জানায়, মোট ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    একই রাতে গুদামেও অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ

    ফ্ল্যাটে তল্লাশির পাশাপাশি মালদার খইহট্টা এলাকার একটি গুদামঘরেও অভিযান চালায় তদন্তকারী দল। ভোর প্রায় ৪টে পর্যন্ত সেখানে তল্লাশি চলে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই নিষিদ্ধ সিরাপ পাচার চক্রের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদের যোগ থাকতে পারে। যদিও অর্থের উৎস এবং পাচারচক্রের সঙ্গে ধৃতদের নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিন জন গ্রেফতার, কারা তারা?

    এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে পিন্টু সরকার, গোপাল চাকি এবং সুশান্ত হালদার নামে তিন জনকে। পুলিশ জানিয়েছে, তিন জনেরই বাড়ি মালদা থানা এলাকায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অর্থের উৎস, নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের নেটওয়ার্ক এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

    কীভাবে মিলল এই ফ্ল্যাটের খোঁজ?

    তদন্তকারীদের দাবি, এই অভিযানের সূত্রপাত গত মাসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মেহেন্দ্রীপাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধারের ঘটনার পর। সেই সময় প্রায় ১,৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চার জনকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেই মালদার মঙ্গলবাড়ির এই ফ্ল্যাটের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। এরপর তাঁদের সঙ্গে নিয়েই রবিবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।

    কার ফ্ল্যাট থেকে মিলল টাকা?

    পুলিশের দাবি, যে আবাসনে অভিযান চালানো হয়েছে, তার মালিক দিলীপ সাহা। ভবনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন ধৃত পিন্টু সরকার। তদন্তে জানা গিয়েছে, পিন্টুর একটি ওষুধের ব্যবসা রয়েছে। তবে সেই ব্যবসার আড়ালে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে। এছাড়াও তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস সম্পর্কে ধৃতরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। সেই কারণেই আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক নথি এবং ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বীরভূমের ঘটনার পর ফের চাঞ্চল্য

    কয়েক দিন আগেই বীরভূমে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই মালদায় আবার কোটি টাকার নগদ উদ্ধার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে অবৈধ অর্থের উৎস এবং আন্তঃজেলা পাচারচক্রের বিস্তার নিয়ে।

    তদন্তে একাধিক দিক

    রাজ্যে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার ফেনসিডিল-সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধার হয়েছে এবং পাচারের অভিযোগে বহুজন গ্রেফতার হয়েছে। তবে কাশির সিরাপ পাচারের তদন্তে সূত্র ধরে একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, পাচারের রুট, সম্ভাব্য সহযোগী এবং উদ্ধার হওয়া নগদের প্রকৃত উৎস—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share