Tag: cpec

cpec

  • Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের (Pakistan)! বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা এবং দ্বিমুখী আচরণ পাকিস্তানের মূল বৈশিষ্ট্য (US Attacks)। শাহবাজ শরিফের দেশের প্রকৃত চরিত্রের আর একটি উদাহরণ হল পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল। এই একই সময়ে তারা ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তার ‘মধ্যস্থতাকারী’র ভূমিকাও পালন করছিল। ১১ মে প্রকাশিত সিবিএস নিউজের (CBS News) রিপোর্টে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানগুলিকে মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে তাদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছে।

    পাকিস্তানের দ্বিচারিতা (Pakistan)

    রিপোর্টে বলা হয়, “এই সব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, ইরান তাদের অবশিষ্ট সামরিক ও বিমানসম্পদকে ক্রমবর্ধমান সংঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছিল, যদিও একই সময়ে আধিকারিকরা প্রকাশ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করার কয়েকদিন পরেই ইরান তাদের সামরিক বিমান, যার মধ্যে একটি আরসি-১৩০ (RC-130) গোয়েন্দা বিমানও ছিল, পাকিস্তানে সরিয়ে নেয়। এই সব বিমান রাখা হয় পাকিস্তানের নূর খান এয়ারবেসে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই বিমানবন্দর (US Attacks)।

    বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন

    প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই হইচই পড়ে যায় বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই। এর জবাবে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক ১২ মে এক বিবৃতিতে রিপোর্টটিকে ‘ভুল ও অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করে। তাদের দাবি, শান্তি-আলোচনা চলাকালীনই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কিছু ইরানি ও মার্কিন বিমান পাকিস্তানে এসেছিল। পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দেয়, ইরানি বিমানগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সামরিক প্রস্তুতি বা সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানি বিমানগুলি যুদ্ধবিরতির সময় পাকিস্তানে আসে। তবে এগুলির সঙ্গে কোনও সামরিক পরিকল্পনার সম্পর্ক নেই। এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর ও বিভ্রান্তিকর (US Attacks)।”

    মার্কিন সেনেটরের বক্তব্য

    মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে লেখেন, যদি এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নতুনভাবে মূল্যায়ন করা উচিত (Pakistan)। তিনি বলেন, “যদি এই খবর ঠিক হয়, তাহলে ইরান, আমেরিকা ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।” বস্তুত, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণের শিকার। একদিকে পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে আশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনায় তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে আমেরিকার স্বার্থকেই।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ির অভিযোগ, পাকিস্তান নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়। তিনি বলেন, “পাকিস্তান সবসময় ট্রাম্পের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, আমেরিকার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চায় না।” তাঁর আরও অভিযোগ, আমেরিকা প্রথমে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। এর মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলি হামলা বন্ধ এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও ছিল। যদিও পরে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। অভিযোগ, পাকিস্তান এই তথ্য গোপন করেছে (Pakistan)।

    শরিফের করা খসড়া সংস্করণ ফাঁস অনলাইনে

    এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের করা এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের খসড়া সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয় (US Attacks)। সেখানে লেখা ছিল ‘ড্রাফট-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক্সে লেখা মেসেজ’ (Draft – Pakistan’s PM Message on X)। পরে অবশ্য সংশোধিত পোস্ট প্রকাশিত হয়। যদিও ততক্ষণে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শান্তি আলোচনা চলার সময়ই ইজরায়েল সম্পর্কে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। ইজরায়েলকে তিনি ‘অভিশাপ’, ‘মানবতার ক্যানসার’ ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলেন তিনি।

    সমালোচকদের বক্তব্য

    এপ্রিলের শেষের দিকে পাকিস্তান ইরানের জন্য ছ’টি বাণিজ্যপথ খুলে দেয়। এর ফলে মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও ইরান বিকল্প পথে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে আমেরিকার চাপ। সমালোচকদের একটা বড় অংশের মতে, পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে না, বরং ইরান-আমেরিকা সংঘাতকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে (Pakistan)। একদিকে তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছে। ফলে পাকিস্তানকে অনেকে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নয়, বরং ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেই মনে করছেন (US Attacks)।

     

  • China: মোদি-ম্যাজিকেই বাজিমাত! পাকিস্তানের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াল চিন

    China: মোদি-ম্যাজিকেই বাজিমাত! পাকিস্তানের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াল চিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মোদি-ম্যাজিকেই বাজিমাত! এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিনে (China) গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। পড়শি দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরপরই ‘দুঃসংবাদ’ পেল পাকিস্তান। তারা জানল, পাকিস্তানের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেশ। চিনের এই সিদ্ধান্তের জেরে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড় ইসলামাবাদের।

    এমএল-১ প্রজেক্ট (China)

    প্রায় এক দশক ধরে টাকার অভাবে আটকে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি থেকে পেশোয়ার যাওয়ার রেল উন্নয়নের কাজ। নাম এমএল-১ প্রজেক্ট। বর্তমানে এই পথে একটি রেলরুট রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহের মতো কাজে তা ব্যবহারের অযোগ্য। তাই খাইবার পাখতুন প্রদেশ হয়ে যাওয়া ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পথের উন্নয়নের জন্য চিনের কাছ থেকে ঋণ চেয়েছিল শাহবাজ শরিফের সরকার। পাকিস্তানে রেল নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে অর্থায়ন করার প্রকল্প এমএল-১ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়ে এসেছে চিন। বস্তুত, দুই বন্ধুর স্বপ্নের চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপেক) প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল এই রেল নেটওয়ার্ক প্রকল্পটি। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনাও হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

    বিশ বাঁও জলে পাকিস্তান

    প্রত্যাশিতভাবেই চিন হাত তুলে নেওয়ায় আপাতত বিশ বাঁও জলে পাকিস্তানের এই প্রকল্পের কাজ। এমএল-১ প্রকল্প থেকে চিন সরে যাওয়ার পর এখন ওই প্রকল্পে টাকা ঢালার জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) দ্বারস্থ হয়েছে ইসলামাবাদ। এমএল-১ প্রকল্পের করাচি-রোহরি রেল যোগাযোগ উন্নত করতে এডিবির কাছ থেকে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ চেয়েছে অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তান। এমএল-১ প্রকল্পে এডিবির হস্তক্ষেপ করার অর্থ পাকিস্তান প্রথমবারের জন্য একটি বহুপাক্ষিক ঋণদাতাকে এমন একটি প্রকল্পে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে, যা এক সময় চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মূল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হত।

    পাকিস্তানের পরিকাঠামো পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা

    কিছু দিন আগেই চিনের হাইপ্রোফাইল সামরিক প্যারেডে অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং আর্মি চিফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁরা সাক্ষাৎ করেছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও। তাঁরাই এখন বুঝতে পেরেছেন, এমএল-১ রেলওয়ে প্রকল্পের ২ মার্কিন বিলিয়ন ডলারের তহবিল দেবে না। জিনপিং সরকারের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের পরিকাঠামো পরিকল্পনার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ইসলামাবাদকে জরুরি ভিত্তিতে এডিবির কাছ থেকে অর্থ জোগাড়ে বাধ্য করছে, যাতে সিপেক করিডরের দ্বিতীয় পর্যায়টা অন্তত রক্ষা করা যায় (Pakistan)। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে ইতিমধ্যেই কোটি কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে চিন। সেই প্রকল্পগুলির আর্থিক কার্যকারিতা নিয়ে বেজিংয়ের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকট এবং ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের অনীহা দেখেও এমএল-১ প্রকল্পে এখন আর টাকা ঢালতে চাইছে না চিনা সরকার।

    অর্থনৈতিক করিডরের বিরোধিতা ভারতের

    প্রথম থেকেই এই অর্থনৈতিক করিডরের বিরোধিতা করেছে ভারত। কারণ সিপেকের একটা অংশ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই অংশটি ভারতের বলেই দাবি করে আসছে নয়াদিল্লি। তাই চিনের এই প্রকল্প ভারতের সার্বভৌমত্বে আঘাত বলেই মনে করে বিদেশমন্ত্রক। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সিপেক থেকে এখনও পুরোপুরি সরে দাঁড়ায়নি বেজিং। তবে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত বদলালেও বদলাতে পারে (Pakistan)। আপাতত এই প্রকল্পের অংশ এমএল-১ রেল উন্নয়ন প্রকল্পে যে তারা টাকা ঢালতে নারাজ সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছে চিন (China)। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দেশের বাইরে বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছে চিন। কারণ কিছু ক্ষেত্রে চিন নিজেই মুখোমুখি হয়েছে অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার। পকেট বাঁচাতে তাই আপাতত প্রচণ্ড ঝুঁকির মুখে থাকা বিদেশি প্রকল্পগুলির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে চিন। শোনা যাচ্ছে, ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না, এমন দেশগুলিতে মোটা অঙ্কের টাকা লগ্নি থেকেও সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিনপিংয়ের সরকার। আর সে ক্ষেত্রে ভিখিরি পাকিস্তানকে যে সাহায্য না করার তালিকায় চিন প্রথমে রাখবে, তা বলাই বাহুল্য (China)।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সম্প্রতি চিনে আয়োজিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মোদি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন নেতা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। সেখানে (Pakistan) খানিকটা উপেক্ষিতই হন পাক প্রধানমন্ত্রী। এহেন আবহে চিনের এমএল-১ প্রকল্প থেকে চিনের সরে আসার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে (China)।

  • CPEC: পাক অধিকৃত গিলগিট-বালটিস্তানে নজিরবিহীন গণবিপ্লব, হাইওয়ে অবরোধ, মুখে কুলুপ চিনের

    CPEC: পাক অধিকৃত গিলগিট-বালটিস্তানে নজিরবিহীন গণবিপ্লব, হাইওয়ে অবরোধ, মুখে কুলুপ চিনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত গিলগিট-বালটিস্তানে (POK) নজিরবিহীন গণবিপ্লব। বিপাকে ইসলামাবাদ ও বেজিং। টানা তিনদিন ধরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারাকোরাম হাইওয়ে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনকারীরা (Gilgit Baltistan)। ফলে সীমান্তপথে বন্ধ হয়ে গিয়েছে যান চলাচল। সমস্যার মুখে চিনের বিপুল বিনিয়োগ (CPEC)।

    আন্দোলনের মূল কারণ (CPEC)

    এই হাইওয়েটি পাকিস্তানকে চিনের জিনজিয়াং প্রদেশের সঙ্গে খুনজেরাব পাস হয়ে যুক্ত করে এবং এটি এখন বিক্ষোভ ও প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দমননীতি, প্রশাসনিক অবহেলা এবং সেনাবাহিনীর শোষণের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। এটি শুরু হয়েছিল সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার প্রতিবাদে। বর্তমানে তা পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের অঞ্চল দখলের বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহে। এই আন্দোলনের মূল কারণ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে খুনজেরাব পাস দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া। এর ফলে গিলগিট-বালটিস্তানের শত শত ব্যবসায়ী বেকার হয়ে পড়েছেন। প্রায় ২০০টি পণ্যবাহী কনটেনার সাস্ট ড্রাই পোর্টে পচে যাচ্ছে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা। কর্মহীনতার হার বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে, আর সেই সঙ্গে বেড়েছে জনরোষও।

    অর্থনীতি ধ্বংস

    এলাকার অর্থনীতি ধ্বংস করার জন্য বিক্ষোভকারীরা সরাসরি পাকিস্তানের ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ এবং কাস্টমস বিভাগকে দায়ী করেছে। একজন বিক্ষোভকারী বলেন, “মূলভূমি পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা কর ছাড় পায়, অথচ গিলগিট-বালটিস্তানে আমাদের ওপর কর চাপানো হয়, আমাদের উপেক্ষা করা হয়, শোষণ করা হয়, সংসদে কোনও প্রতিনিধিত্ব না থাকা সত্ত্বেও (CPEC)।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জিনজিয়াং থেকে গওদর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্য করিডর তৈরির যে স্বপ্ন চিন দেখত, তা যেন অতিকায় এক প্রশ্নের মুখে। কারাকোরাম হাইওয়ে, যেটিকে চিন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডর বা সিপিইসির “মেরুদণ্ড” বলা হয়, এখন পরিণত হয়েছে এক চাপে থাকা জায়গায়। এই বিক্ষোভ যদি চলতে থাকে, তাহলে বহু বিলিয়ন ডলারের সিপিইসি প্রকল্প এক মারাত্মক লজিস্টিক সংকটে পড়বে। বালুচিস্তানে বিদ্রোহীদের হামলার জেরে চিনা বিনিয়োগ এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    অস্থিরতায় অস্থির চিন

    এই অস্থিরতা চিনের কাছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাওয়ার সামর্থ্য নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ তৈরি করতে পারে। যদিও চিন এখনও মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে, তবে নিঃসন্দেহে তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে (Gilgit Baltistan)। জানা গিয়েছে, গিলগিট-বাল্টিস্তানের গুলমাত নগরে অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন সমাজের নানা স্তরের মানুষ। বিক্ষোভকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান ও চিনের সংযোগকারী হাইওয়েটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন হুনজা, গিলগিট এবং অন্যান্য সংলগ্ন শহর থেকে আসা ব্যবসায়ী, পণ্ডিত এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা (CPEC)।

    ব্যাপক বিক্ষোভ

    গিলগিট-বালটিস্তানে প্রস্তাবিত একটি বিলের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হওয়ার এক মাস পরেই এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা তাঁদের জমির অবৈধ দখলের বিরোধিতা করে ‘কাবজে পার কাবজা নামঞ্জুর’ (আমরা বারবার দখল প্রত্যাখ্যান করি) স্লোগান দেন। শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে কারাকোরাম হাইওয়েতে আটকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী এবং পর্যটক। রাস্তার দু’পাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে যানবাহন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, “ফেডারেল বোর্ড অফ রেভিনিউ এবং কাস্টমস বিভাগের নীতি স্থানীয়দের অর্থনৈতিকভাবে হত্যা করেছে, যার ফলে পরিবহণকারী, দোকানদার, শ্রমিক, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এজেন্ট, হোটেল মালিক এবং ছোট ব্যবসায়ীরা মাসের পর মাস বেকার হয়ে পড়েছেন। কারণ তাঁরা চিনের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল।”

    কোনওভাবেই বাণিজ্য পুনরায় শুরু হবে না

    বিক্ষোভকারীদের সাফ কথা, কোনওভাবেই বাণিজ্য পুনরায় শুরু হবে না। আটকে থাকা পণ্যবাহী যানও ছাড়া হবে না। হাইওয়ে খোলা হবে না। তাঁদের একমাত্র দাবি, অ্যামনেস্টি স্কিমের মাধ্যমে পণ্য ছাড় এবং আইনসম্মত বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে দিতে হবে। এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ (CPEC)। গিলগিট-বালটিস্তান সরকার এই দাবিগুলির বৈধতা স্বীকার করলেও দায় চাপিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন ফেডারেল সরকার রহস্যজনকভাবে চুপ করে রয়েছে, যা ক্ষোভ আরও উসকে দিচ্ছে (Gilgit Baltistan)।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই হাইওয়ে অবরোধ কোনও হঠাৎ ঘটনার ফল নয়। এটা বহু বছরের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকিস্তান সেনাবাহিনী নির্বিচারে জমি দখল, প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাট এবং জনকল্যাণ উপেক্ষা করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি ও এপ্রিল মাসের আগের বিক্ষোভগুলিতে গমের ভর্তুকি কমানো, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পৈতৃক জমি দখলের ইস্যু তুলেও কোনও গুরুত্ব পায়নি (Gilgit Baltistan)। তাই এবার হাইওয়ে অবরোধ (CPEC)।

  • Pakistan: বেজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে ইসলামাবাদ! পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিনা দূতাবাসে তলব?

    Pakistan: বেজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে ইসলামাবাদ! পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিনা দূতাবাসে তলব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিনা দূতাবাসে ডাকা হয়েছিল। যদিও পাক প্রধানমন্ত্রীর অফিস (PMO) জানিয়েছে, করাচিতে আহত দুই চিনা নাগরিকের সুস্থতা কামনা করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। তাই শাহবাজ চিনা দূতাবাসে গিয়েছিলেন। তবে, সাধারণত কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রী অন্য দেশের দূতাবাসে যান না।  কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে সে দেশে নিযুক্ত অন্য দেশের দূতাবাস থেকে! এটা সত্যই বিস্ময়ের! সব জায়গায়, রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সরকার, এখানে উলটপূরাণ। সরকারকে কার্যত তলব করছে দূতাবাস। চিন যে পাকিস্তানকে কব্জা করে ফেলেছে, এটা তার জলজ্যান্ত উদাহরণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

    পাকিস্তান কি চিনের উপনিবেশ!

    চলতি বছর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বুধবার (৬ নভেম্বর) চিনা দূতাবাসে যান। করাচির সাইট ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় চিনা নাগরিকদের ওপর গুলি চালিয়ে তাদের আহত করা হয়। চিনা নাগরিক ওয়াং জিং ঝং, ঝেং লুয়েন, ঝোউ বাওলিন এবং ওয়েই সিক্সিয়ান করাচির লিবার্টি মিলসের কাছে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে গিয়েছিলেন। চিনা নাগরিকরা প্রতিদিন একটি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে যাতায়াত করতেন। তাঁদের সুরক্ষা দিত একটি বেসরকারী সংস্থা এবং সিন্ধ পুলিশ স্পেশাল প্রোটেকশন ইউনিট (SPU)। এই ঘটনার পরই শাহবাজ চিনা দূতাবাসে যান। 

    আরও পড়ুন: স্টেশন জুড়ে রক্তের দাগ, ছিন্নভিন্ন হাত-পা! পাকিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত অন্তত ২৫

    পাকভূমে চিনের সেনা

    চিনা রাষ্ট্রদূত জিয়াং জেইডংকে শাহবাজ বলেন, “আমি এখানে চিনা নাগরিকদের ওপর আক্রমণের নিন্দা জানাতে এবং আহতদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে এসেছি। আমি নিজে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া তদারকি করছি এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করব।” পাক প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, চিন হচ্ছে পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধু। তাই কুশল জানতেই তাঁর যাওয়া। যদিও বিশেষজ্ঞদের অনুমান, পাকিস্তান চিনের একটি উপনিবেশের মতো হয়ে উঠেছে, যেখানে পাক প্রধানমন্ত্রীকে সময়ে সময়ে ডেকে চিন তাদের অভাব-অভিযোগ জানায়। অনুমান, পাক-ভূমে চিনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান ব্যর্থ হওয়ায়, চিন এখন নিজের সশস্ত্র বাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানোর কথা ভাবছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • India on PoK: চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে তৃতীয় দেশের অন্তর্ভুক্তি! কড়া সমালোচনা ভারতের

    India on PoK: চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে তৃতীয় দেশের অন্তর্ভুক্তি! কড়া সমালোচনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ,তা সম্প্রতি জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। এবার এই ভূখণ্ডে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মীয়মাণ চিনপাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে (CPEC) তৃতীয় কোনও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াসের তীব্র নিন্দা করল বিদেশ মন্ত্রক। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক চিন ও পাকিস্তানের কড়া নিন্দা করে এই ধরনের গতিবিধিকে ‘স্বাভাবিক ভাবে অবৈধ, অনুচিত এবং গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে অভিহিত করেছে।

    [tw]


    [/tw]

    শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় সিপিইসি-র আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সমন্বয় সম্পর্কিত বৈঠক। ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী চিন ও পাকিস্তান এই অর্থনৈতিক করিডোরের অংশ হতে অন্য দেশগুলোকেও  আমন্ত্রণ জানায়। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি (External Affairs Ministry Spokesperson Arindam Bagchi বলেন, ”ওই করিডোরে যা হচ্ছে তা একেবারেই বেআইনি, অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য। ভারত এর বিরুদ্ধে যথাযোগ্য পদক্ষেপ করবে।”

    আরও পড়ুন: একদা কাশ্মীর ছিল শারদা দেশ! জানেন কি এই শক্তি পীঠের মাহাত্ম্য?

    ২০১৩-য় শুরু হওয়া এই অর্থনৈতিক করিডোর পাকিস্তানের গদর বন্দরের সঙ্গে চিনের শিনঝিয়াং প্রদেশকে যুক্ত করেছে। এই করিডোর পাক অধিকৃত কাশ্মীর হয়ে যাওয়ায়, তা নিয়ে স্বভাবতই শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে ভারত। দিল্লির বিরোধিতা সত্ত্বেও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের উপর দিয়ে অর্থনৈতিক করিডর বানাচ্ছে চিন। করিডোর তাঁদের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে মন্তব্য করেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পাকিস্তানের রাস্তা, রেলপথ ও শক্তি পরিবহন পরিকাঠামো গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে বেজিং। 

    আরও পড়ুন: পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতেরই! জানুন কী বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, ‘‘সিপিইসি-তে তৃতীয় দেশের অন্তর্ভুক্তির আমন্ত্রণ সংক্রান্ত খবর আমরা দেখেছি। যে কোনও দেশের তরফে এই সংক্রান্ত পদক্ষেপ ভারতের অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব সরাসরি লঙ্ঘনের প্রয়াস হিসাবেই দেখা হবে।’’

  • China: বুমেরাং হচ্ছে চিনা ঋণের ফাঁদ?

    China: বুমেরাং হচ্ছে চিনা ঋণের ফাঁদ?

     মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলিকে ঋণের ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিল ড্রাগনের দেশ। বর্তমানে সেটাই কাল হয়েছে চিনের। এক সময় যে দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিল তারা, সে সব দেশেই আক্রান্ত হচ্ছে চিন।

    আরও পড়ুন : চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের কাজ বিশবাঁও জলে, কেন জানেন?

    সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো যেসব দেশ চিনা ঋণের ফাঁদে পা দিয়েছে, সেসব দেশে আক্রান্ত হচ্ছেন চিনা নাগরিকরা। গত মাসে পাকিস্তানে হামলায় অন্তত তিনজন চিনা নাগরিক খুন হন। ২৬ এপ্রিল বোরখা পরা বালুচ লিবারেশন আর্মির আত্মঘাতী বাহিনীর এক সদস্যের হামলায় নিহত হন তিন চিনা শিক্ষক। করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের একটি যাত্রিবাহী বাসে বিস্ফোরণ ঘটালে মারা যান তাঁরা। ওই ঘটনায় জখমও হন এক চিনা নাগরিক। এই বালুচ লিবারেশন আর্মি চিন পাকিস্তান ইকনমিক করিডর নির্মাণের ঘোরতর বিরোধী। তার প্রমাণ ২০২১ সালের একটি ঘটনা। ওই বছর পাকিস্তানের ডাসু জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি বাসে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত হন ৯ জন চিনা প্রযুক্তিবিদ। ওই ঘটনায় মোটা অঙ্কের টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। ওই বছরেরই শেষের দিকে অপ্রয়োজনীয় চেক পয়েন্ট অপসারণের দাবি এবং চিনা মাছ ধরার ট্রলার দেওয়ার বিরোধিতায় গদর এলাকায় ব্যাপক আন্দোলন হয়। করিডরের বিরোধিতা করেও সংগঠিত হয়েছিল ব্যাপক আন্দোলন।

    অন্য একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মহেন্দ্র রাজাপক্ষে চিনপন্থী। কিছুদিন আগেই সরকার বিরোধী আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করেন তিনি। এর পরেই শ্রীলঙ্কায় কর্মরত চিনা নাগরিকদের সতর্ক করে দেয় ড্রাগন প্রশাসন।

    আরও পড়ুন : এখন শ্রীলঙ্কাকে সাহায্য করতে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চাইছে চিন!

    শ্রীলঙ্কাবাসীর সিংহভাগই মনে করে চিনা ঋণের ফাঁদে পা দিয়েই দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে দেশ। অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে দেশকে টেনে তুলতে বেজিংয়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। অভিযোগ, সেই আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় বেজিং। তাতেই আরও ক্ষোভ বেড়েছে কলম্বোর। যার জেরে চিনা নগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছেন ড্রাগন প্রশাসন।

     

  • China Pakistan CPEC: চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের কাজ বিশবাঁও জলে, কেন জানেন?

    China Pakistan CPEC: চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের কাজ বিশবাঁও জলে, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাত বছর আগে ঘটা করে চালু হয়েছিল চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (China Pakistan Economic Corridor), সংক্ষেপে সিপিইসি (CPEC)-র কাজ। পাকিস্তানজুড়ে (pakistan) শুরু হয়েছিল হইচই। দেশ নতুন যুগের ভোরে জাতীয় প্রচারও করা হয়েছিল সরকারের তরফে। করিডর তৈরির কারিগররাও ভেবেছিল করিডরটি পাকিস্তানের বার্ষিক বৃদ্ধির হারে আরও ২.৫ শতাংশ যোগ করবে।

    পাকিস্তানের শক্তির ঘাটতি আজন্ম। তাই পাকিস্তানের বিভিন্ন সংস্থা আশা করেছিল, একবার সিপিইসি হয়ে গেলে পাকিস্তানের জ্বালানি প্রকল্পগুলি কেবল দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে না, রফতানির জন্য অতিরিক্ত শক্তিও তৈরি করবে।

    আরও পড়ুন :পাকিস্তানে নিজেদের সেনা চৌকি চায় চিন

    নিম্ম-মধ্য আয়ের দেশ পাকিস্তান। দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী। বেকারত্ব লাগামছাড়া। তাই সরকার আশা করেছিল, সিপিইসি প্রকল্পগুলির মাধ্যমে দেশে ২৩ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু সাত বছর আগের ওই প্রকল্পের বিশেষ কোনও ফসল এখনও অবধি ঘরে তুলতে পারেনি শাহবাজের (Shehbaz Sharif) দেশ।

    সূত্রের খবর, সিপিইসির মাধ্যমে ১৫টি প্রকল্প হওয়ার কথা। এর মধ্যে দিনের আলো দেখেছে মাত্র তিনটি। বাকিগুলি বিশবাঁও জলে। যে প্রকল্পগুলি পাইল লাইনে ছিল কিংবা নতুন করে শুরু হওয়ার কথা, সেগুলির জন্যও চিন থেকে কোনও টাকা আসছে না। প্রকল্পগুলিতে টাকা ঢেলে কাজ শেষ করার মতো অবস্থায়ও নেই দেশটি। স্বাভাবিকভাবেই কবে শেষ হবে ওই প্রকল্পগুলির কাজ, তা নিয়েই ভাবিত পাকিস্তানের নয়া সরকারও।      

       আরও পড়ুন : ঢিমেতালে চলছে চিন-পাক অর্থনৈতিক করিডরের কাজ, ক্ষুব্ধ শেহবাজ প্রশাসন

    চিনা ঋণের ওপর ভর করে সিপিইসি প্রাথমিকভাবে ভালোভাবে এগিয়েছিল। করিডরের সার্বিক অগ্রগতির ভিত্তিতে সিপিইসি বিষয়ক পাক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী খালিদ মনসুর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিলেন যে ১৫.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ২১টি প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৯.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আরও ২১টির কাজ চলছে।

    তবে ওই কাজ যে পাকিস্তানের একার পক্ষে শেষ করা সম্ভব নয়, তা জানিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশটির আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পাকিস্তানের মাথার ওপর ১৩০ বিলিয়ন ডলার ঋণের বোঝা। বার্ষিক ঋণের কিস্তি হিসেবে শোধ করতে হয় ১৪ বিলিয়ন ডলার। তাই, ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, চিনা ঋণের ফাঁদে পড়তে পারে পাকিস্তান। ঠিক যে ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে ভারতের আর এক প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা!

    সিপিইসি প্রকল্পে চিনের দেওয়ার কথা ৯০ শতাংশ টাকা। আপাতত টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে চিন। করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি পাকিস্তানে চিনা শ্রমিক ও সিপিইসি সম্পত্তির ওপর হামলার কারণে বন্ধ বরাদ্দ। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই প্রকল্পে টাকা দেওয়ার ক্ষমতা নেই পাক সরকারেরও। তাই প্রকল্পগুলি আদৌ দিনের আলো দেখবে কিনা, দেখলেও কবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ পাকিস্তানিরাই।

    সঙ্কটের জন্য চিন অবশ্য দায়ি করেছে পাকিস্তানকে। এই সঙ্কট থেকে বাঁচতে পাকিস্তানের কাছে রয়েছে একটিই বিকল্প, আইএমএফ বেলআউট। তবে পাকিস্তান এই ঋণ পাওয়ার মতো অবস্থায়ও নেই। তাই পাকিস্তানের হাতে আন্তর্জাতিক ঋণের বাধ্যবাধকতা এবং আমদানির চাহিদা মেটাতে অন্যান্য ঋণ, এমনকি বাণিজ্যিক ঋণের সন্ধান করা ছাড়া আর কোনও বিকল্পই নেই। শাহবাজের দেশ কি পারবে এই ঋণ জোগাড় করতে? উঠছে প্রশ্ন।

     

LinkedIn
Share