Tag: Criminal Proceedings

  • SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে নিট-সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করল সুপ্রিম কোর্ট (SC)। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত তার সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে একই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যত্র দায়ের হওয়া একই ধরনের এফআইআরগুলির ক্ষেত্রেও সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে (NEET Protest)। তবে এই নির্দেশকে নিঃশর্তভাবে “সব এফআইআর বাতিল” হিসেবে দেখলে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বোঝা যাবে না।

    ‘সুপ্রিম’ শুনানি (SC)

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার তিন সদস্যের বেঞ্চ জুলাইয়ের ২০ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি করছিল।আদালত মনে করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া এবং অন্যান্য তরুণ-তরুণীদের শুধুমাত্র একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে বছরের পর বছর ফৌজদারি মামলার বোঝা বহন করা উচিত নয়। সেই কারণেই আদালতের সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যান্য জায়গায় দায়ের হওয়া একই ধরনের মামলাতেও এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে।

    তবে এই নির্দেশের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রেখেছে শীর্ষ আদালত।

    কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ ২,৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করেছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করে পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অতীতের তথ্য রয়েছে এবং তাঁরা প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন (SC)।

    এই ২,৮৭৩ জনকে নিয়ে দিল্লি পুলিশকে একটি নতুন এফআইআর দায়ের করে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে সেই তদন্তের বিষয় হবে বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁদের কেউ শারীরিক ক্ষতি বা সম্পত্তি ধ্বংসের মতো নির্দিষ্ট অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না।

    আদালতের অবস্থান

    বিষয়টি নিয়ে আদালতের অবস্থানও স্পষ্ট। ২,৮৭৩ জনকেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেনি সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা বলছি না যে তাঁরা অপরাধী। অভিযোগ রয়েছে, এই পর্যন্ত।”

    অর্থাৎ, শুধু ওই ব্যক্তিরা বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বলেই তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে না। নতুন করে যে তদন্ত হবে, তার কেন্দ্রে থাকতে হবে হিংসা, শারীরিক ক্ষতি অথবা সম্পত্তি নষ্ট করার মতো নির্দিষ্ট অপরাধমূলক কাজ।

    ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে মামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও বলা যায় না, আবার সব ধরনের অভিযোগ থেকে নিঃশর্ত অব্যাহতি দেওয়াও বলা যায় না।

    আদালতের অবস্থানের মূল বিষয় হল, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এবং সেই জমায়েতকে আড়াল করে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে দীর্ঘদিন ধরে ফৌজদারি মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করেছে আদালত। একই সঙ্গে হিংসা বা সম্পত্তি নষ্টের মতো নির্দিষ্ট অপরাধের তদন্তের সুযোগও রাষ্ট্রের হাতে রাখা হয়েছে।

    আরও একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত জানিয়েছে, ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্তটি এই মামলার সামনে থাকা বিশেষ পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এটিকে ভবিষ্যতের মামলায় অনুসরণযোগ্য নজির হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ফলে গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সব এফআইআর ভবিষ্যতে একইভাবে বাতিল করা যাবে—এমন সাধারণ নিয়ম এই রায় থেকে তৈরি হচ্ছে না।

    নিট বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আত্মহত্যা করে মারা যাওয়া পড়ুয়াদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন মাসের মধ্যে গোটা দেশের জন্য একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    ‘সুপ্রিম’ সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক

    সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তরুণ আন্দোলনকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে (NEET Protest)। তবে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত হতে পারে এমন নির্দিষ্ট হিংসাত্মক অপরাধ বা সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা তদন্তের বাইরে রাখা হয়নি। অর্থাৎ, আদালত (SC) যে সীমারেখা টেনেছে, তা হল গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ একদিকে এবং সেই প্রতিবাদের সময় সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আর একদিকে।

     

  • Kerala HC: ‘নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পকসো আইনে দায় এড়ানো যাবে না’, জানিয়ে দিল কেরল হাইকোর্ট

    Kerala HC: ‘নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পকসো আইনে দায় এড়ানো যাবে না’, জানিয়ে দিল কেরল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৮ বছরের কম বয়সি স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে মুসলিম ব্যক্তিও শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের আওতায় ফৌজদারি মামলার মুখে পড়তে পারেন। মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (Muslim Personal Law) অনুযায়ী ওই বিয়ে বৈধ হলেও, তা শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের আওতা থেকে অভিযুক্তকে মুক্তি দেয় না। একটি মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে কেরল হাইকোর্ট (Kerala HC)। এক ব্যক্তির দায়ের করা আবেদনের শুনানি করছিল হাইকোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৬ এবং ৩৭৬(২)(এন) ধারায় এবং শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের ৬(১), ৫(এল) ও ১৫(১) ধারায় মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি ছিলেন প্রথম অভিযুক্ত।

    যা নিয়ে অভিযোগ (Kerala HC)

    অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি নাবালিকা মেয়েটিকে অপহরণ করে গাড়িতে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত টানা চার দিন তার ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয়। অপর দুই অভিযুক্ত এই অপরাধ সংঘটনে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলেও অভিযোগ। মেয়েটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও অপরাধের কথা কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অভিযোগ ওঠে।

    আবেদনকারী আদালতে দাবি করেন, মেয়েটি তাঁর আইনসঙ্গত স্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সালে ইসলামি ধর্মীয় রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। তখন মেয়েটির বয়স ছিল ১৭ বছর এক মাস। নিজের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার একটি ব্যতিক্রমের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি ছিল, ১৫ বছরের বেশি বয়সি স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর যৌন সম্পর্ককে ওই বিধানের অধীনে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হত না। তবে তাঁর এই আবেদনের বিরোধিতা করে সরকারি পক্ষ এবং অভিযোগকারী।

    কেরল হাইকোর্টের বক্তব্য

    দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কেরল হাইকোর্ট জানায়, অভিযোগগুলিকে প্রাথমিকভাবে সত্য ধরে নিলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধের উপাদান স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় (Kerala HC)।

    আদালত অভিযুক্তের এই দাবিও খতিয়ে দেখে যে মেয়েটি তাঁর স্ত্রী ছিলেন। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত মূলত মেয়েটি, তার ভাই এবং যে মসজিদের কাজির উপস্থিতিতে বিয়ে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, তাঁর পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের প্রমাণ হিসেবে কোনও নথিপত্র আদালতে পেশ করা হয়নি।

    হাইকোর্ট জানায়, আদৌ বৈধ বিয়ে হয়েছিল কি না, তা বিচারপর্বেই নির্ধারণ করতে হবে। তবে আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, “বিতর্কের অবকাশ নেই যে, বিয়ের কোনও এক পক্ষ নাবালক বা নাবালিকা হলে, মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের অধীনে সেই বিয়ে বৈধ হোক বা না হোক, শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে।”

    অভিযুক্তের বক্তব্য খারিজ

    অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার ব্যতিক্রমের সুরক্ষা পাওয়ার যে যুক্তি দিয়েছিলেন, হাইকোর্ট তাও গ্রহণ করেনি। এ ক্ষেত্রে আদালত সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ওপর নির্ভর করেছে, যেখানে ওই ব্যতিক্রমের পরিধি সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্ত্রীর বয়স ১৮ বছরের কম হলে তাঁর সঙ্গে স্বামীর যৌন সম্পর্ক বা যৌন আচরণকে ধর্ষণের সংজ্ঞার বাইরে রাখা যায় না।

    ফলে শুধুমাত্র বিয়ের বৈধতার দাবি তুলে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের অধীনে দায় এড়ানো সম্ভব নয় বলে জানায় কেরল হাইকোর্ট (Muslim Personal Law)। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা বাতিলের আবেদনও খারিজ করে দেয় আদালত (Kerala HC)।

     

LinkedIn
Share