Tag: Critical Minerals

  • Canada PM: টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের সঙ্গে বৈঠক কানাডার প্রধানমন্ত্রীর

    Canada PM: টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের সঙ্গে বৈঠক কানাডার প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার প্রধানমন্ত্রী (Canada PM) মার্ক কার্নি টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ (এআই) বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও কানাডা কীভাবে (Tata Group) অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

    কার্নির বক্তব্য (Canada PM)

    এক্স হ্যান্ডেলে কার্নি লিখেছেন, “কানাডা ও ভারত—উভয়ই দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি, যাদের জ্বালানি, প্রযুক্তি ও এআই খাতে বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান নটরাজন চন্দ্রশেখরন এবং আমি মুম্বইয়ে সাক্ষাৎ করেছি—আমাদের দুই দেশ কীভাবে এই ক্ষেত্রগুলিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে উভয় দেশের মানুষের জন্য অধিকতর নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেছি।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে মার্ক কার্নি ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ভারতে সরকারি সফরে রয়েছেন। এটি প্রধানমন্ত্রী কার্নির প্রথম সরকারি ভারত সফর। কার্নি ২৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে পৌঁছন। পরবর্তী দু’দিনে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেন এবং ভারতীয় ও কানাডীয় সিইও, শিল্প ও আর্থিক বিশেষজ্ঞ, উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ এবং ভারতে অবস্থিত কানাডীয় পেনশন ফান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন (Canada PM)।

    ভারত-কানাডা সিইও ফোরামে অংশ নেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী কার্নির ১ মার্চ নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কথা। ২ মার্চ হায়দরাবাদ হাউসে দুই প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধি-স্তরের বৈঠকে অংশ নেবেন। দুই নেতা ভারত-কানাডা কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে কানানাস্কিসে এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে জোহানেসবার্গে তাঁদের বৈঠকের ধারাবাহিকতার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা হবে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দুই নেতা চলমান সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলি—বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃষি, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক—পর্যালোচনা করবেন (Canada PM)। এছাড়াও তাঁরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করবেন।” প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রধানমন্ত্রী কার্নি ভারত-কানাডা সিইও ফোরামেও অংশ নেবেন। উল্লেখ্য যে (Tata Group), দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

     

  • Uranium Supply Deal: মার্চে কার্নির দিল্লি সফরে ইউরেনিয়াম নিয়ে ১০ বছরের চুক্তি হতে পারে ভারত-কানাডার

    Uranium Supply Deal: মার্চে কার্নির দিল্লি সফরে ইউরেনিয়াম নিয়ে ১০ বছরের চুক্তি হতে পারে ভারত-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই গলছে ভারত-কানাডা সম্পর্কের বরফ। ভারতে ইউরেনিয়াম সাপ্লাই নিয়ে ১০ বছরের একটি চুক্তি হতে পারে নয়াদিল্লি ও অটোয়ার মধ্যে। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নির (Canadian PM India Visit) প্রস্তাবিত মার্চের প্রথম সপ্তাহে (Uranium Supply Deal) ভারত সফরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হতে পারে এই চুক্তি। এই সফরে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিও (India Canada Trade) চূড়ান্ত হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি (Uranium Supply Deal)

    তবে ২.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিটিই সফরের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে। এই সফরের লক্ষ্য হবে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করা, যা জাস্টিন ট্রুডোর প্রধানমন্ত্রিত্বকালে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরেনিয়াম উৎপাদক দেশ। বিশ্বে উৎপাদনের প্রায় ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ জোগান দেয় এই দেশ। উৎপাদিত ইউরেনিয়ামের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে জ্বালানি হিসেবে রফতানি করা হয়। কানাডায় রয়েছে বিশ্বের তৃতীয় বা চতুর্থ বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুত কেন্দ্র, মূলত আলবার্টার বিস্তীর্ণ অয়েল স্যান্ডস অঞ্চলে, যার পরিমাণ ১৬৩ থেকে ১৭০ বিলিয়ন ব্যারেলের কাছাকাছি। দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতও উল্লেখযোগ্য। এদিক থেকে বিশ্বে ১৬তম স্থানে রয়েছে দেশটি, যার পরিমাণ এক হাজার ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি (Uranium Supply Deal)।

    কানাডা সফরে  ডোভাল

    কার্নির সফরের আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রবীণ মন্ত্রী অটোয়া (কানাডার রাজধানী) সফরে যান। কার্নির সফরের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে (India Canada Trade)। এদিকে, গত সপ্তাহে ভারতে সফরে এসে কানাডার জ্বালানিমন্ত্রী টিম হজসন জানান, আলোচনায় ভারত-কানাডা পারমাণবিক চুক্তির আওতায় পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, “জ্বালানি ও খনি খাত হবে দুই দেশের সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্র, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি লেনদেনের সম্ভাবনাও রয়েছে।” ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (CEPA) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা মার্চ মাসে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন কানাডায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ পট্টনায়ক। তাঁর দাবি, আলোচনা শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যেই এই চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব। উল্লেখ্য, প্রায় দু’বছর ধরে এই বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত ছিল, যা গত নভেম্বর মাসে পুনরুজ্জীবিত করতে উভয় দেশ রাজি হয় (Uranium Supply Deal)।

    অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

    হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যা মামলার প্রসঙ্গে পট্টনায়ক জানান, কানাডায় এই ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তিনি বলেন, “যদি কোনও ভারতীয় নাগরিকের জড়িত থাকার প্রমাণ উঠে আসে, তাহলে ভারত উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে।” প্রসঙ্গত, এই সফরের পরিকল্পনা এমন একটা সময়ে করা হচ্ছে, যখন কানাডা ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী কার্নি ভারত ও চিনের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে আগ্রহী, যাতে রফতানি ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে কানাডার অর্থনীতিকে চাঙা করা যায় (Uranium Supply Deal)। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সমালোচনার সুর আরও চড়িয়ে কার্নি বলেন, “সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপগুলি বৈশ্বিক বাণিজ্যের বাস্তবতাকে নতুন করে গড়ে তুলেছে।”

    বাড়ছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ 

    এদিকে, কানাডা দশকের শেষ নাগাদ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য (India Canada Trade) ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। এই লক্ষ্য নির্ধারণের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, যখন অটোয়া নয়াদিল্লিতে একটি উচ্চপর্যায়ের সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনশীল সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের প্রতিফলনও এতে দেখা যাচ্ছে (Uranium Supply Deal)। ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হজসন বলেন, এই বাণিজ্য লক্ষ্যটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। অংশীদারিত্বের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য কর্মদক্ষতা সূচকও নির্ধারিত হয়েছে।

    ভারত–কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক

    তিনি জানান, প্রাকৃতিক সম্পদ ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পারস্পরিক পরিপূরকতা থাকা সত্ত্বেও ভারত–কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক তার সম্ভাবনার তুলনায় এখনও যথেষ্ট বিকশিত নয়। প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য সম্প্রসারণকে উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই নয়া অংশীদারিত্বের মূল স্তম্ভ হিসেবে জ্বালানি খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কানাডা বিশ্বের প্রায় ৬ শতাংশ তেল উৎপাদন করলেও, ভারতের মোট তেল আমদানির এক শতাংশেরও কম আসে কানাডা থেকে। হজসনের মতে, বৈশ্বিক গড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্য (India Canada Trade) প্রবাহ পুনর্বিন্যাস করা গেলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং একই সঙ্গে (Uranium Supply Deal) কানাডার রফতানি বাজারের বৈচিত্র্যও বাড়বে। বর্তমানে ভারত কানাডা থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানি করে।

     

  • Critical Minerals Deals: বিরল খনিজের জোগান নিশ্চিত করতে বহু দেশের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ভারত

    Critical Minerals Deals: বিরল খনিজের জোগান নিশ্চিত করতে বহু দেশের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক তৎপরতা জোরদার করা প্রয়োজন। তাই ব্রাজিল, কানাডা, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যৌথভাবে অনুসন্ধান, উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পুনর্ব্যবহারের চুক্তি নিয়ে আলোচনা (India) করছে ভারত (Critical Minerals Deals)। খনন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহে আধিপত্য এবং উন্নত খনন ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির কারণে চির-প্রতিদ্বন্দ্বী চিনের ওপর ভারতের অতিরিক্ত নির্ভরতা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভারতের জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

    কোন কোন দেশের সঙ্গে আলোচনা (Critical Minerals Deals)

    তবে আবিষ্কার থেকে উৎপাদন পর্যায়ে পৌঁছতে খনিশিল্পে সময় লাগে বিস্তর। শুধু অনুসন্ধান কাজই পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত চলে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা খনি প্রতিষ্ঠায় গিয়ে শেষ হয় না। সূত্রের খবর, “অনুরোধ এসেছে এবং আমরা ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও ব্রাজিলের সঙ্গে আলোচনা করছি। অন্যদিকে কানাডার সঙ্গে চুক্তিটি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।” সূত্রের মতে, এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারতের খনিমন্ত্রক। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্চের শুরুতে ভারত সফর করতে পারেন এবং ইউরেনিয়াম, জ্বালানি, খনিজ এবং এআই সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন। কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ জানুয়ারি মাসে এক বিবৃতির দিকে ইঙ্গিত করে জানিয়েছে, উভয় পক্ষ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা করার বিষয়ে রাজি হয়েছে (India)।

    মন্তব্য করেনি কোনও দেশই

    নয়াদিল্লিতে ব্রাজিলের দূতাবাস, ভারতের খনিমন্ত্রক ও বিদেশমন্ত্রক সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। নেদারল্যান্ডসের দূতাবাসের তরফেও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। মন্তব্য করতে চায়নি ফ্রান্সের দূতাবাসও। ভারত বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সন্ধান জোরদার করেছে এবং ইতিমধ্যেই আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পেরু ও চিলির সঙ্গে বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে, যার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে (Critical Minerals Deals)। ভারতের এই আন্তর্জাতিক তৎপরতা এমন একটা সময়ে বাড়ছে, যখন গত মাসে ওয়াশিংটনে জি-৭ ও অন্যান্য বড় অর্থনীতির অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে চিন থেকে ‘রেয়ার আর্থ’ নির্ভরতা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে (India)। ২০২৩ সালে ভারত লিথিয়াম-সহ ২০টির বেশি খনিজকে “গুরুত্বপূর্ণ” বলে চিহ্নিত করেছে, যা তার জ্বালানি রূপান্তর এবং শিল্প ও পরিকাঠামো খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য অপরিহার্য (Critical Minerals Deals)।

     

  • Critical Minerals: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় হদিশ মিলল গুরুত্বপূর্ণ খনিজের

    Critical Minerals: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় হদিশ মিলল গুরুত্বপূর্ণ খনিজের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় হদিশ মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের (Critical Minerals)। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির রূপান্তর, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি এ খবর জানিয়েছে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। এই খনিজগুলির মধ্যে রয়েছে রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (REE), গ্রাফাইট, ভ্যানাডিয়াম, লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং অন্যান্য উপাদান, যা ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর এবং উন্নত ধাতব মিশ্রণ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।

    জিএসআইয়ের রিপোর্ট (Critical Minerals)

    জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে (Northeast Region), “এ ধরনের সম্পদের প্রতি ভারতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা দেশীয় উৎস চিহ্নিত ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে, বিশেষ করে পূর্ব-উত্তর ভারতের মতো ভূতাত্ত্বিকভাবে সম্ভাবনাময় অঞ্চলে নিবেদিত থিম্যাটিক স্টাডি, বেসলাইন সমীক্ষা এবং প্রকল্পভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে, জিএসআই একাধিক অঞ্চলে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে সমৃদ্ধ এলাকা চিহ্নিত করেছে।” ৫৭ পাতার এক প্রতিবেদনে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে তাদের অনুসন্ধানের ফলের সারসংক্ষেপ।

    চিনের সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন ভারত

    বিশ্বের প্রধান রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট রফতানিকারী দেশ হল চিন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বেজিং। অথচ, এই রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে বৈদ্যুতিক যানবাহনের মোটর তৈরি-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে (Critical Minerals)। প্রতিবেশী দেশের এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমী দেশগুলির পাশাপাশি ভারতেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারত তার ৫৪০ টন ম্যাগনেট আমদানির ৮০ শতাংশেরও বেশি সংগ্রহ করেছিল ড্রাগনের দেশ থেকেই। ইউরোপের জ্বালানি খাতও প্রায় ৯৮ শতাংশ সংগ্রহ করেছিল চিন থেকেই। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল চিনের এই সিদ্ধান্তকে ভারতের জন্য এক সতর্কবার্তা বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ভারতের উচিত বিকল্প সরবরাহ চেইন খুঁজে বের করা এবং চিনের ওপর নির্ভরতা কমানো (Northeast Region)।”

    উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনন্য ভূতাত্ত্বিক গঠন

    জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনন্য ভূতাত্ত্বিক গঠন — যার মধ্যে ওফিওলাইট বেল্ট, ক্ষার-আল্ট্রামাফিক কমপ্লেক্স এবং গ্রাফাইটযুক্ত সিস্ট রয়েছে — তা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খনিজের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ভারত যখন খনিজ-নির্ভর পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত বিকাশের পথে এগিয়ে চলেছে, তখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খনিজ সম্পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত (Critical Minerals)। উত্তর-পূর্বাঞ্চল অঞ্চলটি অরুণাচলপ্রদেশ, অসম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম এবং ত্রিপুরা নিয়ে গঠিত এবং এটি প্রায় ২.৬২ লাখ বর্গকিলোমিটার বা ভারতের মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৮ শতাংশ জুড়ে রয়েছে (Northeast Region)।

    অরুণাচলপ্রদেশে ভ্যানাডিয়ামের খোঁজ

    অরুণাচলপ্রদেশ ভারতের প্রাকৃতিক ফ্লেক গ্রাফাইটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ উৎস হিসেবে উঠে এসেছে। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, পশ্চিম সিয়াং, পাপুম পাড়ে এবং লোয়ার সুবনসিরি জেলায় প্রচুর মজুত চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং এ পর্যন্ত ১৭.৮৯ মিলিয়ন টনেরও বেশি গ্রাফাইট সম্পদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা ব্যাটারি ও রিফ্র্যাক্টরি (উচ্চতাপ প্রতিরোধক) ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত মানের। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে (Critical Minerals), “এই অঞ্চলের গ্রাফাইট সাধারণত সূক্ষ্ম থেকে মাঝারি ফ্লেকযুক্ত হয়, যার ফিক্সড কার্বন কন্টেন্ট ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। এটি পরবর্তী পর্যায়ের পরিশোধন এবং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির অ্যানোড-সহ উচ্চ-মূল্যবান ব্যবহারের জন্য একটি কার্যকর কাঁচামাল হিসেবে বিবেচিত হয়।” জানা গিয়েছে, অরুণাচলপ্রদেশে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হল ভ্যানাডিয়াম, যা স্টিল মিশ্র ধাতু এবং অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাতু। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অনুসন্ধানে মোট ১৩.৭৯ মিলিয়ন টন ভ্যানাডিয়াম পাওয়া গিয়েছে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র ধাতুর ক্ষেত্রে ভারতের প্রথম বড় রকমের উৎস।

    অসম-মেঘালয়ে রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস

    জিএসআই জানিয়েছে (Critical Minerals), অরুণাচল প্রদেশের পাপুম পারে জেলায় লোদোসো গ্রামের আশপাশের এলাকায় ২.১৫ মিলিয়ন টন ‘আয়রনসমৃদ্ধ ফিলাইট’ (এক ধরনের রূপান্তরিত শিলা)-এ রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস পাওয়া গিয়েছে। অসম ও মেঘালয়েও রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অসমে রেয়ার আর্থ এলিমেন্টসের ঘনত্ব প্রতি মিলিয়নে ১,০০০ থেকে ৫,০০০ এর মধ্যে। ঘনত্ব প্রতি মিলিয়নের অর্থ হল, প্রতি এক মিলিয়ন অংশের মিশ্রণে কোনও নির্দিষ্ট পদার্থের একটি অংশ। মেঘালয়ে এই ঘনত্বের পরিমাণ প্রতি মিলিয়নে ৩,৬৪৬ থেকে ৫,১০০-র মধ্যে (Northeast Region)।

    লিথিয়াম মজুদ

    জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, অরুণাচলপ্রদেশ, নাগাল্যান্ড ও অসমে লিথিয়াম মজুদের ইঙ্গিত মিলেছে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, “নাগাল্যান্ড ও মণিপুরে অবস্থিত ওফিওলাইট শিলার সঙ্গে সম্পর্কিত নিকেল ও কোবাল্টের লক্ষ্যে সেখানে বিস্তারিত ভূ-রাসায়নিক সমীক্ষা ও শিলাচিত্র বিশ্লেষণ করা হচ্ছে (Critical Minerals)।”

LinkedIn
Share