Tag: CV Ananda Bose

CV Ananda Bose

  • Draupadi Murmu: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধন বিল খারিজ রাষ্ট্রপতির, মমতার আচার্য হওয়ার স্বপ্নের ইতি

    Draupadi Murmu: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধন বিল খারিজ রাষ্ট্রপতির, মমতার আচার্য হওয়ার স্বপ্নের ইতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) সম্মতি মিলল না মমতা সরকারের পাঠানো বিলে। রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে রাজ্যপালের পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করার বিল ফেরত পাঠিয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি। ফলে এটা নিশ্চিত পশ্চিমবঙ্গে সহায়তা প্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্যপদে আপাতত কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। ফের একবার মুখ পুড়ল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজ্য এবং রাজ্যপালের (CV Ananda Bose) মধ্যে এই নিয়ে দ্বন্দ্ব চরম আকারে নিয়েছিল। এবার তা মিটবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। বিজেপির অবশ্য দাবি, সততার প্রতীক মমতার আর আচার্য হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হল না।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যপদে থাকছেন রাজ্যপাল (Draupadi Murmu)

    পশ্চিমবঙ্গে সহায়তাপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী বিল ২০২২-এর দুটি বিলে সম্মতি দেননি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ফলে আচার্যপদে রাজ্যপালের (CV Ananda Bose) পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীকে বসানোর প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। রাষ্ট্রপতি বিলগুলিকে অনুমতি না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যপদে থাকছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। লোকপাল ভবন থেকে সাফ জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল আগের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য ২০ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে রাজ্যপাল নিজে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনী বিল ২০২২, রাষ্ট্রপতির কাছে বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছিল। বিলে বলা হয়েছিল রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আচার্য হিসেবে রাজ্যপালের পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও রাজ্য সরকারে পক্ষে যুক্তি ছিল এতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি আসবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সুবিধা হবে। তবে কেন্দ্র সরকার বিলের সবটা বিবেচনা করে সম্মত প্রদান থেকে বিরত থাকে।

    বিলে আইন গত ত্রুটি!

    আবার সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হন। সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে গেলে সাংবিধানের অবমাননা হবে। তবে নিয়ম বদলের ক্ষেত্রে সংবিধানের মান্যতাকে খেয়াল রাখতে হবে। যেহেতু রাষ্ট্রপতি (Draupadi Murmu) সম্মতি দেননি তাই রাজ্যের পাশ করা বিলে আইনগত ত্রুটি অবশ্যই রয়েছে। তবে রাজ্যের অবশ্য দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়েগুলি দীর্ঘ সময় ধরে যেহেতু উপাচার্য নিয়োগের সংকটে ভুগছিল তাই এই সংশোধন আনা হয়েছে। তবে বিল নিয়ে বিধানসভার প্রথম থেকেই তৃণমূলের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেছিল বিজেপি। সংবিধান এবং সংশোধন সম্পূর্ণ অনৈতিক বলে বার বার দাবি করেছে বিজেপি। এই বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়ত্ত্ব শাসন খর্ব করবে এবং রাজনীতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে বলে মনে করে করছে বিজেপি।

  • CV Ananda Bose: “রাজ্যে গুন্ডারাজ চলছে, পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না”, নাগরাকাটাকাণ্ডে তোপ রাজ্যপালের

    CV Ananda Bose: “রাজ্যে গুন্ডারাজ চলছে, পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না”, নাগরাকাটাকাণ্ডে তোপ রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমার মনে হয়েছে, পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। এভাবে চলতে পারে না।” রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে কথাগুলি বললেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকে। রাজ্যপাল হিসেবে সব কিছু বিবেচনা করে দেখা উচিত, মাঠে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে তবেই কিছু সুপারিশ করা উচিত আমার। রাজ্যপাল হিসেবে কী সুপারিশ করব, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি (Nagrakata Issue)।”

    গ্রাউন্ড জিরোর পরিস্থিতি আমি জানি (CV Ananda Bose)

    পরে তিনি বলেন, “গ্রাউন্ড জিরোর পরিস্থিতি আমি জানি। সব রিপোর্ট পাঠানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, গুরুতর কিছু ঘটেনি। আমি জানি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। আমি নিজে এলাকায় গিয়ে কথা বলি মানুষের সঙ্গে, তাঁদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করি। বাংলায় যা ঘটছে, তা হওয়া উচিত নয়। না বলার সময় এসেছে। উপযুক্ত পদক্ষেপ করার সময় এসেছে।” প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় বানভাসিদের ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। শঙ্করের আঘাত ততটা গুরুতর না হলেও বিজেপির উপজাতি সম্প্রদায়ের নেতা খগেনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি।

    এই পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না

    উত্তরবঙ্গের বন্যা দুর্গতদের দেখতে বুধবারই রাজ্যপাল গিয়েছিলেন শিলিগুড়িতে। সেখান থেকে তিনি (CV Ananda Bose) হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিজেপির জখম দুই বিধায়ককে দেখতে। পরে সটান চলে যান রাষ্ট্রপতি ভবনে। সেখানে তিনি সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথাও হয়েছে বলে জানান রাজ্যপাল। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যপাল। তিনি জানান, রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথা হলেও, ৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তাঁর সাফ কথা, “রাজ্যে যে একাধিক জায়গায় গুন্ডারাজ চলছে, তা পরিষ্কার। এই পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না (Nagrakata Issue)।”

    মমতা-রাজ্যপাল সম্পর্ক

    রাজ্যপাল জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পেশাদার সম্পর্ক অটুট রয়েছে। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাও রয়েছে, যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। কিন্তু গোটা রাজ্যের আনাচে-কানাচে যা ঘটছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন। এর পরেই রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) বলেন, “গ্রাউন্ড জিরোর পরিস্থিতি আমি জানি। বন্যা দুর্গত এলাকায় গিয়ে আমজনতার সঙ্গে কথাও বলেছি আমি। পরিস্থিতি ঠিক কোন জায়গায় রয়েছে, সে সম্পর্কে আমি যথেষ্ট অবগত।” তিনি জানান, আগামিদিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক-সহ আর যেখানে যেখানে যাওয়ার প্রয়োজন, সেখানেও যাবেন। উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় পরিস্থিতি নিয়েও নিজের মতামত ব্যক্ত করেন তিনি। রাজনৈতিক দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপে না গিয়ে, পরিস্থিতি মোকাবিলার রাস্তা খুঁজতে হবে বলেও জানান সিভি আনন্দ বোস।

    হেল্পলাইন নম্বর

    প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দুর্গত এলাকায় নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। এজন্য গঠন করা হয়েছে একটি র‌্যাপিড অ্যাকশন সেল। সাহায্যের জন্য যোগাযোগের ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে রাজভবনের তরফে। ফোন করতে পারেন ০৩৩–২২০০১৬৪১ এই নম্বরে। ই-মেল করা যাবে পিসরুমরাজভবন@জিমেল.কম-এ। উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনাই হোক কিংবা অন্য কোনও রাজনৈতিক সংঘর্ষ, তিনি বারংবার মানুষের পাশে থাকতে ছুটে গিয়েছেন। কথা বলেছেন বিপন্ন মানুষদের সঙ্গে (Nagrakata Issue)। এদিন সেকথাও মনে করিয়ে দেন রাজ্যপাল। তাঁর মতে, এবারও তিনি সেই একই কাজ করেছেন। এর পরেই তিনি (CV Ananda Bose) বলেন, “বাংলার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে।”

  • Murshidabad Violence: ‘‘এই ভয়ের মধ্যে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না’’, মুর্শিদাবাদ হিংসায় আক্রান্তদের কথা শুনে বললেন রাজ্যপাল

    Murshidabad Violence: ‘‘এই ভয়ের মধ্যে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না’’, মুর্শিদাবাদ হিংসায় আক্রান্তদের কথা শুনে বললেন রাজ্যপাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় (Murshidabad Violence) সপ্তাহব্যাপী উত্তেজনা ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের শামসেরগঞ্জ, সুতি, ধুলিয়ানের মতো এলাকায়। দক্ষিণ মালদা লোকসভার অন্তর্গত এবং মুর্শিদাবাদ জেলার ওই এলাকাগুলির পরিস্থিতি বুঝতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা জানতে একই দিনে সেখানে হাজির হয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দল। শুক্রবার, ওই দিনে মালদায় যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। রাজ্যপাল বলেন, ‘‘সমাজের একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায় এখানে আক্রান্ত হয়েছে। এক দল মারবে, আর এক দল আক্রান্ত হবে, এটা কখনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় হতে পারে না।’’

    এর মধ্যে বাঁচা যায় না

    মুর্শিদাবাদের (Murshidabad Violence) অশান্তিতে ঘরছাড়াদের একাংশকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাজভবনে গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার-সহ অন্যেরা। রাজ্যপালের কাছে তাঁরা পাঁচ দফা দাবি পেশ করেন। শামসেরগঞ্জ এবং ধুলিয়ানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখার অনুরোধ করেন। সুকান্তের দাবি, সেই অনুরোধে সাড়া দিয়েই রাজ্যপাল মালদা-মুর্শিদাবাদ সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজ্যপাল বোসকে সামনে পেয়েই নিজেদের ওপর হওয়া অত্যাচারের কথা শোনান ধুলিয়ানের মহিলারা। রাজ্যপালের দাবি, মহিলারা তাঁকে জানান যে, তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। দুষ্কৃতীরা তাঁদের বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁদের লাঞ্ছিত ও নির্যাতনও করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘এই ক্যাম্পে বসবাসকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। আমি তাঁদের সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে শুনেছি এবং তাঁদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করেছি। মহিলারা জানান যে দুষ্কৃতীরা তাঁদের বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ করে, মারধরও করে। তাঁরা কী চায়, সেই বিষয়ে আমাকে বলেছেন। এ বিষয়ে অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে। এখানে যে অশান্তি হয়েছে, তা কোনও সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমি এখানে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলেছি, এখানে ভয়ের পরিস্থিতি রয়েছে। এই ভয়ের মধ্যে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না।’’

    ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে

    মুর্শিদাবাদে হিংসার (Murshidabad Violence) ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করে জাতীয় মহিলা কমিশন। এদিন কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর সার্কিট হাউসে আসেন জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা। সেখান থেকে আসেন মালদার বৈষ্ণবনগরে। সেখানে একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা। পরে মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনবিজয়া রাহাতকর বলেন, “তাঁদের সঙ্গে কী হয়েছে, সেসব মহিলারা জানিয়েছেন। মহিলারা যা বললেন, তা কল্পনার বাইরে। যৌন নিপীড়নও হয়েছে। আমি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। আরও কথা বলতে হবে। মহিলাদের সঙ্গে কীভাবে এসব হতে পারে।” জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার বলেন, “মহিলারা বলছেন, আমরা শুধু সেন্ট্রাল ফোর্স চাই। আমরা সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই। মেয়েদের বলেছে, এই বাড়িতে থাকলে ধর্ষণ হয়ে যাবি। চলে যা। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা যা যা করার করব।” অন্যদিকে, আক্রান্ত মহিলারা জানান, তাঁদের সঙ্গে যা হয়েছে, সেসব জানিয়েছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যদের। আজ, শনিবার মুর্শিদাবাদের হিংসা কবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করবেন জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা।

    হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ

    ওয়াকফ ইস্যুতে অশান্তি (Waqf Bill Protest) শুরু হওয়ার পর মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলা থেকে প্রচুর মানুষ মালদায় চলে এসেছেন। প্রাণ বাঁচাতে তাঁদের কেউ কেউ খোলা মাঠে থাকতে শুরু করেছিলেন। পরে ঘরছাড়াদের জন্য আশ্রয় শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়। রাজ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) প্রতিনিধিরা এসে সেই আশ্রয়স্থলেই যান ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করতে। বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা, শোনেন অভাব-অভিযোগ। ওয়াকফের প্রতিবাদে গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি। হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে। সেই ভয়ে অনেকেই ঘর থেকে পালিয়ে যান এবং আশ্রয় নেন পাশের জেলা মালদায়। সেখানেই তাঁদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বস্তুত, সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদের নামে শুরু হওয়া গোলমালের জেরে গত শুক্রবার বিকেল থেকে নৌকায় গঙ্গা পেরিয়ে ধুলিয়ানের বেতবোনা, বাজারপাড়া ও হাতিচিত্রা এলাকার কমপক্ষে ৪০০ জন আশ্রয় নেন পারলালপুর হাই স্কুলে। এলাকায় শান্তি ফেরাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বিএসএফ।

  • Beldanga Issue: বেলডাঙাকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ রাজ্যপালের, রাজ্যকে নিশানা শুভেন্দু-সুকান্তর 

    Beldanga Issue: বেলডাঙাকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ রাজ্যপালের, রাজ্যকে নিশানা শুভেন্দু-সুকান্তর 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  বেলডাঙাকাণ্ডে (Beldanga Issue) এবার মুখ খুললেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (Cv Ananda Bose)। প্রসঙ্গত, গত শনিবার দুই গোষ্ঠীর হিংসার কারণে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার কথা মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে। পুলিশের অবশ্য দাবি, সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। যদিও বেলডাঙা ইস্যুতে (Beldanga Issue) মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে ‘নির্দেশ’ দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজভবনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতায় থেকেই রাজ্যপাল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবেন। অন্যদিকে, এই ঘটনায় মমতা সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির দুই মুখ শুভেন্দু-সুকান্ত।

    ফের সংঘাত রাজ্য-রাজ্যপালের

    শিক্ষা থেকে দুর্নীতি-প্রতিটি ইস্যুতেই (Beldanga Issue) রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত খবরের শিরোনামে এসেছে। এবার বেলডাঙা ইস্যুতে ফের একবার সামনে এল রাজভবনের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত। রাজভবনের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘মুর্শিদাবাদে ক্রমেই বাড়ছে হিংসা, মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিচ্ছেন রাজ্যপাল। তাঁর যে সকল সফর ছিল তা বাতিল করা হয়েছে। তিনি (Cv Ananda Bose) কলকাতাতে থেকেই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবেন।’’

    পুলিশকে কটাক্ষ সুকান্তর

    বেলডাঙার (Beldanga Issue) ঘটনা নিয়ে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এক্স হ্যান্ডলে তিনি পুলিশকে কটাক্ষ করে লেখেন, ‘‘দুটি ভিডিও দেওয়া হল যা দেখে সাম্প্রতিককালের ২টি ঘটনা আপনাদের স্মরণে আসে। একটিতে মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, যিনি কয়েকমাস আগে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন, হিন্দুদের হত্যা করে ভাগীরথীর জলে ভাসিয়ে দেবেন বলে। দ্বিতীয়ত এক ব্যক্তি শনিবার রাতে বেলডাঙায় জেহাদ ঘোষণা করছে। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এই ছবি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।’’

    নিজের এক্স হ্যান্ডলের পোস্টে বাংলাদেশের উদাহরণ টানেন সুকান্ত

    সুকান্তর দাবি, ‘‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্মরণ করে বলতে হচ্ছে, বেলডাঙায় যা ঘটেছে, তার পর থেকে হিন্দুরা নিজেদের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত।’’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‘হিন্দু হিসেবে এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমি জানতে চাই, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভঙ্গ করার জন্য কি এই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে? নাকি, মুখ্যমন্ত্রীর তোষণ-নীতি নিশ্চিত করেছে যে বাংলার ‘দুধেল গাই’-দের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে না?’’

    রাজ্য প্রশাসনকে নিশানা শুভেন্দু অধিকারীর

    রাজ্য প্রশাসনকে নিশানা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘‘যে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, তাদের পরিচয় প্রকাশ করার সাহস আপনাদের আছে?’’ শুভেন্দুর দাবি, ‘‘সংঘর্ষ হল সেটা যেখানে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ হয়। কিন্তু, বেলডাঙায় যা ঘটেছে, সেখানে এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। একটা গোষ্ঠী হিন্দুদের ঘর-বাড়ি-সম্পত্তির ওপর হামলা চালিয়েছে, ভাঙচুর করেছে।’’

    তদন্ত না করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছে পুলিশ, অভিযোগ শুভেন্দুর 

    শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘সঠিক তদন্ত না করেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। বাংলাদেশেও দেখা গিয়েছিল, শয়ে শয়ে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছিল, ‘অপকর্ম’। পরে আসল সত্য বেরিয়েছিল।’’ শুভেন্দুরও প্রশ্ন, ‘‘যাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে, হিংসায় উসকানি দেওয়ার জন্য, তাকে কি গ্রেফতার করা হয়েছে? যদি করা হয়, তাহলে আমার পোস্টে উত্তর দিয়ে জানাবেন।’’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শনিবার রাতেই উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (Beldanga Issue)। এই আবহে সেখানে ২৪ ঘণ্টার জন্যে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। জানা গিয়েছে, পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • CV Ananda Bose: বিনীতকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার, মুখ্যমন্ত্রীর জবাব চাইলেন রাজ্যপাল

    CV Ananda Bose: বিনীতকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার, মুখ্যমন্ত্রীর জবাব চাইলেন রাজ্যপাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল চক্রান্ত করে তাঁকে ফাঁসিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আরজি কর-কাণ্ডে ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিনীতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজভবনও এই বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ইতিমধ্যে ওই অভিযোগের পর আইপিএস অফিসার বিনীত সম্পর্কে রাজ্যের অবস্থান কী, তা জানতে চাইলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)।

    রাজভবনের বিবৃতিতে কী বলা হয়েছে? (CV Ananda Bose)

    মঙ্গলবার রাজভবন (CV Ananda Bose) থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বিনীত গোয়েল সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রতিক্রিয়া চেয়েছেন রাজ্যপাল। রাজভবনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “১২ নভেম্বর (মঙ্গলবার) আরজি করের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবর বেশ গুরুতর। প্রতিবেদনগুলিতে বলা হচ্ছে, আরজি কর-কাণ্ডে ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার গত ১১ নভেম্বর (সোমবার) শিয়ালদা আদালতে হাজিরার সময়ে দাবি করেছেন, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার বিনীত গোয়েল-সহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তা তাঁকে ফাঁসিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন করা হয়েছে।” তাছাড়া গোয়েলকে নিয়ে রাজ্যের প্রকৃত অবস্থান কী এবং রাজ্য সরকার ওই অভিযোগ নিয়ে কী ভাবছে, তা শীঘ্রই জানতে চান রাজ্যপাল।

    আরও পড়ুন: “মহা বিকাশ আগাড়ি দুর্নীতির সব চেয়ে বড় খেলোয়াড়”, তোপ মোদির

    ঠিক কী বলেছিলেন আরজি করকাণ্ডে ধৃত সিভিক?

    বস্তুত, আরজি করকাণ্ডের (RG Kar) প্রেক্ষিতে জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে গোয়েলকে সরিয়ে দেয় রাজ্য। সোমবার বিচারের দ্বিতীয় দিন নিম্ন আদালত থেকে বের হওয়ার সময় প্রিজন ভ্যান থেকে চিৎকার করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন আরজি কর-কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত। প্রিজন ভ্যান চলতে শুরু করলে চিৎকার করে তিনি বলতে থাকেন, “আমি নাম বলে দিচ্ছি। বড় বড় অফিসার রয়েছে। বিনীত গোয়েল, ডিসি স্পেশাল চক্রান্ত করে ফাঁসিয়েছে আমায়।” তার আগেও অভিযুক্ত দাবি করেছেন যে, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। গত ৪ নভেম্বর আদালত চত্বরে ধৃত দাবি করেন, তিনি নির্দোষ। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। সে বারও প্রিজনভ্যানের জানলা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমি এতদিন চুপচাপ ছিলাম। আমি কিন্তু রেপ (ধর্ষণ) অ্যান্ড(এবং) মার্ডার (খুন) করিনি। আমার কথা শুনছে না। সরকারই আমাকে ফাঁসাচ্ছে।”

    শাহের কাছে নালিশ

    এর আগেও গোয়েলকে নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে অভিযোগ করেছিলেন রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) বোস। পদকে কলঙ্কিত করার অভিযোগ করা হয় কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার গোয়েল এবং ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় রাজ্যপালের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “রাজ্যপালের পদে বসে এমন কাজ একেবারেই শোভনীয় নয় বলে আমি মনে করি।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • CV Ananda Bose: বন্যা মোকাবিলায় কেন্দ্রের পদক্ষেপ তুলে ধরে রাজ্যকে পরামর্শ রাজ্যপালের

    CV Ananda Bose: বন্যা মোকাবিলায় কেন্দ্রের পদক্ষেপ তুলে ধরে রাজ্যকে পরামর্শ রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা বৃষ্টির পাশাপাশি একাধিক জলাধার থেকে জলছাড়ার ফলে রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার (Flood) পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার বিঘা চাষের জমি জলের তলায়। কয়েক হাজার মানুষ ঘরছাড়া। ত্রাণ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই আবহে সাধারণ মানুষের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার যে পরিকল্পনা ও অর্থ বরাদ্দ করেছে তা বাস্তবায়িত করার পরামর্শ দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা ডিভিসি অপরিকল্পিতভাবে জল ছাড়ায় দক্ষিণবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে ২০ সেপ্টেম্বর চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সোমবার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যে বন্যা মোকাবিলায় কেন্দ্রের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে বার্তা দেওয়া হল বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

    রাজভবনের তরফে কী বার্তা দেওয়া হল? (CV Ananda Bose)

    সোমবার সন্ধ্যায় রাজভবনের (CV Ananda Bose) তরফে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। রাজভবনের তরফে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) গুরুতর বিপর্যয়ের জন্য সবরকম সহায়তা প্রদান করে। এই সংক্রান্ত যে তহবিল রয়েছে তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বন্যা মোকাবিলা ব্যবস্থাকে জোরদার করতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তার উল্লেখও করা হয়েছে রাজভবনের পোস্টে। সেখানে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার জীবনের এবং সম্পত্তির ওপর বন্যার প্রভাব কমানোর এবং সুরক্ষার জন্য বেশ কয়েকটি বন্যা ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে। রাজ্য সরকারগুলির জন্য বন্যার আগে, বন্যার সময় এবং বন্যার পরে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। গঙ্গা এবং তার উপনদীগুলির পাশ দিয়ে শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করা আবশ্যক। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে নদীর জল উপচে পড়া প্রতিরোধ করার জন্য এই ব্যবস্থা প্রয়োজনীয়। হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলাগুলিতে নদীর বাঁধ শক্তিশালী করা উচিত, যাতে ক্ষতি আটকানো যায়। বন্যার ঝুঁকি কমাতে এবং জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দামোদরের মতো নদীগুলির চ্যানেলাইজেশন করাও উচিত।”

    আরও পড়ুন: ‘নির্যাতিতার আত্মীয় না হয়েও শ্মশানের নথিতে সই’, বিস্ফোরক পোস্ট শুভেন্দুর

    আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ জানানো হয়েছে

    জাতীয় ও রাজ্য দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা তহবিল কর্মসূচির কথা জানিয়ে লেখা (CV Ananda Bose) হয়েছে, “১৫তম অর্থ কমিশন জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা তহবিল (এনডিআরএমএফ) এবং রাজ্য দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা তহবিল (এসডিআরএমএফ) তৈরি করার সুপারিশ করেছে। ২০২১-২৬-এর জন্য এসডিআরএমএফ-এ ১ লক্ষ ৬০ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া তহবিলের জন্য ৮০ শতাংশ এবং রাজ্য দুর্যোগ প্রশমন তহবিলের জন্য ৩২ হাজার ৩১ কোটি টাকা (২০ শতাংশ) বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২১-২৬-এ এনডিআরএমএফ-এর বরাদ্দ ৬৮ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের জন্য ৫৪ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা (৮০ শতাংশ) বরাদ্দ করা হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন তহবিলের জন্য ১৩ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা (২০ শতাংশ) বরাদ্দ করা হয়েছে।” বিশেষ করে মালদার মতো জেলাগুলিতে গঙ্গার ভাঙন-প্রবণ তীরগুলির জন্য প্রাসঙ্গিক, তীব্র ভাঙন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • CV Ananda Bose: ‘‘এক মঞ্চে থাকব না’’, মুখ্যমন্ত্রীকে সামাজিকভাবে বয়কটের ঘোষণা রাজ্যপালের

    CV Ananda Bose: ‘‘এক মঞ্চে থাকব না’’, মুখ্যমন্ত্রীকে সামাজিকভাবে বয়কটের ঘোষণা রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ড নিয়ে লাগাতার আন্দোলন চলছে। চিকিৎসকরা পথে নেমে সরব হয়েছেন। জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন সিনিয়র ডাক্তাররা। এই আবহের মধ্যে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে (Mamata Banerjee) সামাজিকভাবে বয়কট করার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। বৃহস্পতিবার রাজভবন থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় একথা জানিয়েছেন তিনি। আরজি কর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করে রাজ্যপাল জানান, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন ছাড়া কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাজির থাকবেন না তিনি। ‘লেডি ম্যাকবেথ’-এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর তুলনা টেনে রাজ্যপাল জানিয়ে দেন, হুগলি নদীর সব জল দিয়েও তিনি তাঁর নোংরা হাত দু’টো পরিষ্কার করতে পারবেন না।

    মুখ্যমন্ত্রীকে সামাজিকভাবে বয়কট ঘোষণা রাজ্যপালের (CV Ananda Bose)

    বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে ৫ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন রাজ্যপাল। সেখানেই রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) বলেন, “সড়কে হিংসা, ঘরে হিংসা, ক্যাম্পাসে হিংসা, হাসপাতালে হিংসা, গ্রামে হিংসা, শহরে হিংসা। সব জায়গায় হিংসা। আর মানুষের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বহুমত গণতন্ত্রের অংশ। চুপ করাবেন না। এই নিঃস্তব্ধতাও হিংসা। লোকে বলছে, আজকে বাংলা কোন নৈরাজ্যের দেশে পরিণত হয়েছে? এর দায়িত্ব তো কাউকে নিতে হবে। যতদিন বাংলার মানুষ বিচার না পাচ্ছেন, দোষীদের গ্রেফতারির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া না হচ্ছে, যতক্ষণ মানুষের মনে এই আস্থা না জন্মায় যে সুবিচার হয়েছে — আমি রাজ্যপাল হয়ে অপেক্ষা করতে পারি না। তাই আমি সংকল্প নিচ্ছি যে, আমি মুখ্যমন্ত্রীকে সামাজিকভাবে বয়কট করব। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও প্রকাশ্য মঞ্চে থাকব না। আমি এমন কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে থাকব না যেখানে মুখ্যমন্ত্রী হাজির রয়েছেন। রাজ্যপাল হিসেবে আমার ভূমিকা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এর থেকে কমও না বেশিও না।” শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, রাজ্যপাল তাঁর ক্ষোভ উগরে দেন কলকাতার নগরপাল বিনীত গোয়েলকে নিয়েও। তাঁর বক্তব্য, রাজভবনের তরফে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নিয়ে পদক্ষেপের কথা বলা হলেও, তা করা হয়নি। নিঃসন্দেহে রাজ্যপালের এই বক্তব্যের পর রাজ্য-রাজভবন তরজাই নয়, রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যেও একটা টানাপোড়েন চলে এল।

    লেডি ম্যাকবেথ বলে কটাক্ষ

    এদিনের ভিডিও বার্তায় রাজ্যপালের (CV Ananda Bose) মুখে শোনা গিয়েছে ‘লেডি ম্যাকবেথ’ প্রসঙ্গও। রাজ্যপাল বলেন, “আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় রাজ্যপাল কী পদক্ষেপ করবেন? আমি সংবিধান, জনতা ও মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। সরকার বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রবলভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। সব থেকে বড় বিড়ম্বনা হল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই, স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনিই আবার মুখ্যমন্ত্রী। মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে তাদের বিরোধিতা করছেন বাংলার লেডি ম্যাকবেথ। হুগলি নদীর সব জল দিয়েও বাংলার লেডি ম্যাকবেথ নিজের নোংরা হাত দু’টো পরিষ্কার করতে পারবেন না।”

    আরও পড়ুন: সমাধানসূত্র অধরা! “সরাসরি সম্প্রচারে রাজ্য সরকারের কীসের ভয়?’’ প্রশ্ন জুনিয়র ডাক্তারদের

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: ‘‘বিনীতের অপসারণ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন’’, মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নির্দেশ রাজ্যপালের

    RG Kar Incident: ‘‘বিনীতের অপসারণ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন’’, মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নির্দেশ রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে দ্রুত কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের অপসারণ নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সন্ধ্যায় এমনই নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। রাজভবন সূত্রে খবর, রাজ্যপাল রবিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তখনই এ কথা বলেছেন। রাজ্যপাল জানিয়েছেন, আরজি করে (RG Kar Incident) মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই জনগনের দাবি মতো, পুলিশ কমিশনারকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

    সিদ্ধান্ত নিক নবান্ন

    প্রসঙ্গত, ঘটনার দিন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। দেরি করে এফআইআর দায়ের করা হয় বলেও অভিযোগ। এর পর প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন আরজি করে (RG Kar Incident) যখন ভাঙচুর চালানো হয়, তখনও পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবি ক্রমে জোরালো হয়েছে। কিছু দিন আগে আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে সিপির পদত্যাগ চেয়ে লালবাজার অভিযান করেছিলেন চিকিৎসকেরা। লালবাজারের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন তাঁরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সিপির সঙ্গে তাঁরা দেখা করেন এবং স্মারকলিপি জমা দেন। রবিবার রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) সে বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী মমতাকে। আরজি কর আবহে জনতার দাবি প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে নবান্নকে। 

    আরও পড়ুন: ‘‘আশা করছি, বিচার পাব’’, সুপ্রিম-শুনানির আগে মন্তব্য নির্যাতিতার মায়ের

    মুখ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ

    রাজ্যপাল জানিয়েছেন, আরজি করের (RG Kar Incident) ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সরকার তাতে চুপ করে থাকতে পারে না। সরকারকে সংবিধান এবং আইনের শাসন মেনেই চলতে হবে। জনগণের দাবি মেনে নিতে হবে। রাজ্যপাল মনে করেন যে রাজ্য সরকার নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। রাজ্যপাল বোস (CV Ananda Bose) বলেন, ‘সংবিধান ও আইনের মধ্যে থেকে রাজ্যের কাজ করা উচিত। সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করা উচিত রাজ্য সরকারের।’ মৃত মহিলা চিকিৎসকের বিচারের আশায় সাধারণ মানুষ যে দাবি জানিয়েছেন, সেটা নিয়ে আলোচনা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল বোস।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • CV Ananda Bose: ‘পলিটিক্যাল গিমিক’ অপরাজিতা বিল, সঙ্গে নেই টেকনিক্যাল রিপোর্টও, অসন্তুষ্ট রাজ্যপাল

    CV Ananda Bose: ‘পলিটিক্যাল গিমিক’ অপরাজিতা বিল, সঙ্গে নেই টেকনিক্যাল রিপোর্টও, অসন্তুষ্ট রাজ্যপাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের ধর্ষণ বিরোধী বিল ধাক্কা খেল রাজভবনে। এই বিল পাশ হয়েছে ৩ সেপ্টেম্বর। বিলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য অপরাজিতা উইমেন অ্যান্ড চাইল্ড (ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৪’। বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী, তা গিয়েছে রাজভবনে। কিন্তু, বিল নিয়ে রাজ্য সরকারের আচরণে অসন্তুষ্ট রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। রাজ্য সরকারের অপরাজিতা বিলকে (Aparajita Bill 2024) ‘পলিটিক্যাল গিমিক’ বলে খোঁচা রাজভবনের। এই বিলের টেকনিক্যাল রিপোর্টও চাইলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজভবনের মতে, কোনও বিল সইয়ের জন্য পাঠানো হলে তার টেকনিক্যাল রিপোর্ট দেওয়ার দায়বদ্ধতা রাজ্যেরই। সেই রিপোর্ট জমা দেয়নি রাজ্য। অভিযোগ, বিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ‘টেকনিক্যাল রিপোর্ট’ পাঠানো হয়নি। যা না থাকলে রাজ্যপাল কোনও বিলেই সম্মতি দিতে পারেন না। একটি সংবাদ সংস্থাকে এ কথা জানিয়েছেন রাজভবনের এক আধিকারিক।

    কী এই ‘টেকনিক্যাল রিপোর্ট’? (CV Ananda Bose)

    নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর যে কোনও বিল রাজভবনে পাঠানো হয়। সেই বিলে রাজ্যপাল স্বাক্ষর করলে তা আইনে পরিণত হয়। বিল নিয়ে রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) যদি কোনও সিদ্ধান্তে আসতে না পারেন বা তাঁর যদি কোনও পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তবে তা তিনি পাঠিয়ে দেন রাষ্ট্রপতির কাছে। সেই বিলের ক্ষেত্রে তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন রাষ্ট্রপতিই। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজ্যের বিধানসভায় ‘অপরাজিতা বিল’ পাশ হওয়ার পর তা রাজভবনে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, অভিযোগ, এই বিলের ‘টেকনিক্যাল রিপোর্ট’ এখনও হাতে পাননি রাজ্যপাল। বস্তুত, রাজ্যের যে কোনও বিল নিয়েই প্রশ্ন তুলতে পারেন রাজ্যপাল। কোনও বিল কেন আনা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত একটি রিপোর্ট বিলের সঙ্গেই জমা দিতে হয়। তাকে বলে ‘টেকনিক্যাল রিপোর্ট’। ওই বিল কার্যকর করতে রাজ্যের ওপর কতটা আর্থিক দায় বর্তাবে, রাজ্যের তহবিল থেকে কত খরচ হতে পারে, তা-ও রিপোর্টে উল্লেখ করা থাকে। এ ছাড়া, কেন্দ্রীয় আইন ব্যবস্থার সঙ্গে রাজ্যের আনা ওই বিলের সাযুজ্য কতটা, তা বিস্তারিত জানাতে হয়। ‘অপরাজিতা বিল’ নিয়েও এই সংক্রান্ত তথ্যগুলিই রাজ্যপাল জানতে চান বলে মনে করা হচ্ছে।

    আরও পড়ুন: সাতসকালে সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে হানা ইডির, তালা খুলে ঢুকলেন অফিসাররা

    রাজ্যপালের কী বক্তব্য?

    রাজভবনের মত, অন্ধ্র প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অরুণাচলেও একই বিল পাস হয়েছে। রাজ্যের বিল সেই বিলেরই ‘কপি পেস্ট’, বলছেন রাজ্যপাল। টেকনিক্যাল রিপোর্ট ছাড়া রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) যে এই বিল সই করবেন না, তা নিশ্চিত করে দিয়েছেন। এই ধরনের বিল রাষ্ট্রপতির দরবারে আটকে রয়েছে বলেও ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যপালের বক্তব্য, ‘টেকনিক্যাল রিপোর্ট’ না পাঠিয়ে রাজ্য সরকার পরে বিল পাশ না হওয়ার জন্য রাজভবনের ওপর দোষারোপ করে। যা সঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ী, ওই রিপোর্ট ছাড়া রাজ্যপাল কোনও বিলে সম্মতি দিতে পারেন না। ‘অপরাজিতা’ বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও কেন রাজ্য ‘হোমওয়ার্ক’ করেনি, কেন ওই রিপোর্ট বিলের সঙ্গে পাঠানো হয়নি, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। ফলে, এই বিল নিয়ে আবারও যে রাজ্য-রাজভবন চাপানউতর তৈরি হচ্ছে তা বলাইবাহুল্য।

    ঠিক কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

    বিল পাস হওয়ার দিন বিধানসভায় দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এই বিলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান আনা হয়েছে। আদালতের অনুমতি ছাড়া যাতে মহিলা বা শিশুর পরিচয় সামনে না আসে, সেটাও বলা রয়েছে। এই ক্ষেত্রেও আমরা ৩ থেকে ৫ বছরের সাজার প্রস্তাব রাখছি। এই বিল রাজভবনে পাঠানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও পাঠানো হয়। তবে এই বিলে রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) যে সহজে সই করবেন না তা রাজভবনের বক্তব্যে স্পষ্ট। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে।

    বিধানসভার স্পিকারের কী বক্তব্য?

    এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজভবন এখনও এ বিষয়ে বিধানসভার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। যদি বিধানসভার সঙ্গে আলোচনা করা হয়, তবেই আমি এ বিষয়ে আমার মতামত জানাব।’’ অন্য দিকে, এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বক্তব্য, ‘অপরাজিতা বিল’ স্পিকার রাজভবনে পাঠিয়েছেন। তাই বিষয়টিও তিনিই বুঝে নেবেন। উল্লেখ্য, ধর্ষণ-বিরোধী বিল পাশের পর তা নিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। বিলটি বিধানসভায় পাশ করার সময়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, তাঁরা এই বিল সমর্থন করছেন। কিন্তু বিল কার্যকর করার দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্য সরকারকেই।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • CV Ananda Bose: ‘‘নবান্ন অভিযানে জাতীয় পতাকার অবমাননা হয়েছে’’, মমতার সরকারকে তোপ রাজ্যপালের

    CV Ananda Bose: ‘‘নবান্ন অভিযানে জাতীয় পতাকার অবমাননা হয়েছে’’, মমতার সরকারকে তোপ রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাত্র সমাজের নবান্ন অভিযানে (Nabanna Abhijan) পুলিশের হামলা নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে থাকা আন্দোলনকারীদের ওপর কীভাবে আক্রমণ চালাল পুলিশ? এতে জাতীয় পতাকাকে অপমান করা হয়েছে বলে জানান তিনি। রাজ্যপালের মতে, কলকাতার রাস্তায় যা হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক ভাবে জয়ী সরকারের কাছ থেকে আশা করা যায় না। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

    জাতীয় পতাকার অবমাননা!

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি এক ভিডিও বার্তায় রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত সরকার থেকে এটা প্রত্যাশা ছিল না। নিরীহ প্রতিবাদীরা সম্ভবত কোনও রাজনৈতিক দলের ছিলেন না। তাঁদের হাতে জাতীয় পতাকা ছিল। কিন্তু, তাঁদের ওপর আক্রমণ চালাল পুলিশ। ‘উই ওয়ান জাস্টিস’ স্লোগানে মুখরিত প্রতিবাদকারীদের জলকামান দ্বারা আঘাত করা হয়েছে। লাঠিপেটা করা হয়েছে পুলিশ দ্বারা। তাঁদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা ছিল। জল কামান চালিয়ে জাতীয় পতাকা ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। রক্তাক্ত হয়েছেন প্রতিবাদীরা। জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছে। জাতীয় সম্মানকে অপমান করা হয়েছে। এটা শেষের শুরু। তা-ই হওয়া উচিত। বিদায় হিংসা, খুন। বাংলা হিংসামুক্ত হওয়া উচিত। এখানে সরকার অপরাধীদের রক্ষা করছে। এই খুনের খেলা বন্ধ হোক।”

    আরও পড়ুন: বিজেপির ডাকা বন‍্ধে জেলায় জেলায় অবরোধ, সমর্থক-পুলিশ ধস্তাধস্তি

    নির্যাতিতার বিচার চেয়ে মানুষ কী পেল?

    রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) বলেন, “নির্যাতিতার বিচার চেয়ে মানুষ কী পেল? লাঠিচার্জ, মারধর, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান! মনে রাখতে হবে, বিচার চেয়ে এই দাবি উঠে এসেছে কবিগুরুর বাংলায়। অথচ রবীন্দ্রনাথের বাংলায় তিনি নিজেই বলেছিলেন, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির।’ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দিল্লি চলো ডাক দিয়েছিলেন। আর আজকে নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে নবান্ন চলো ডাক দিয়েছিলেন নিরীহ আন্দোলনকারীরা। কিন্তু, তাঁদের ওপরে আক্রমণ চালানো হল। খুন, ধর্ষণ, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার সমস্তটাই বন্ধ করতে হবে। বাংলাকে অন্যায় অত্যাচার খুন, ধর্ষণ মুক্ত হতে হবে। এই নৃশংসতা ধ্বংসের খেলা বন্ধ করতে হবে। বিচারের দাবিতে, মানুষ সরব হয়েছেন। মানুষকে বিচার দিতেই হবে। বিচার পাওয়া মানুষের জন্মগত অধিকার। মনে রাখবেন সত্য এবং অপরাধ চিরদিন চাপা রাখা যায় না। একদিন না একদিন প্রকাশ পাবেই। ঠিক তেমনি আরজি করে নির্যাতিতাও বিচার পাবেন। আমরা এই পরিবেশ থেকে দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারব।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share