Tag: Cyclone Arnab Update

  • Cyclone Arnab: মধ্যরাতে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, ১৩৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া! বিপর্যস্ত জনজীবন

    Cyclone Arnab: মধ্যরাতে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, ১৩৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া! বিপর্যস্ত জনজীবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যরাতে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব (Cyclone Arnab)। প্রবল আকারেই তার ‘ল্যান্ডফল’ হচ্ছে। ভারতের মৌসম ভবন জানিয়েছে, বুধবার রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার নিকটবর্তী পুদুচেরির ইয়ানামের কাছে ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঝড় বইছে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে। প্রবল ঝড়, মুষলধারে বৃষ্টি সঙ্গে উত্তাল সমুদ্র। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবে’র প্রভাবে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় সতর্কতা জারি হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল, সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের ঊপকূলভাগেও। দিঘা, মন্দারমনি একাধিক জায়গায় ইতিমধ্যেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশাখাপত্তনমে ২১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এখনও।

    অন্ধ্র উপকূলে ঝড়ের দাপট

    আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য অংশ থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল অতিক্রম করেছে অর্ণব। ইয়ানামের দক্ষিণে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয় বুধবার রাত দেড়টা নাগাদ। ভোরের পরেও সেই প্রক্রিয়া চলছে। কাকিনাড়া, বিশাখাপত্তনম, অনকাপল্লি ও কোনাসীমা জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং প্রবল হাওয়ার খবর মিলেছে। বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে। কাকিনাড়ার কয়েকটি এলাকায় বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির খবরও সামনে এসেছে। ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ঝড়ের দাপট আরও বেড়ে গিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগেও বেড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়ক ২১৬-এ বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মাঝরাস্তা থেকে গাছগুলি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করছে।

    ব্যাহত বিমান ও রেল পরিষেবা

    ঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। বেশ কিছু বিমান বাতিলও করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে ট্রেন পরিষেবাও। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে কারও কোনও ক্ষতি না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় দু’হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। উপকূল এলাকা থেকে ‌ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে সরিয়ে এই কেন্দ্রগুলিতে নিরাপদে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে রেল। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটির বৈঠকে প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষতি যথাসম্ভব কমানোর নির্দেশ দেন। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শেষ হলেও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব কিছু সময় বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা।

    ৮৯ হাজার মানুষকে অন্যত্র স্থানান্তর

    অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। তার মধ্যে বিশাখাপত্তনমে ২০০ মিলিমিটারের বেশি এবং কোঠাবল্লসায় ১৬২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে নিচু এলাকা ও রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কাঁকিনাড়া ও ইয়ানাম উপকূলে সমুদ্রের জলের উচ্চতা দেড় থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে উপকূলীয় গ্রামগুলো প্লাবিত। অন্ধ্রপ্রদেশ প্রশাসন প্রাথমিক সমীক্ষার পরে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পূর্ব ও পশ্চিম গোদাবরী জেলার কমবেশি ৪০ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধান ও অন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া, ঝড়ে বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রশাসন কমবেশি ৮৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশ আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চালাচ্ছে।

    ওড়িশায় প্রস্তুত উদ্ধারকারী দল

    ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় ওড়িশায় ৩১৩টি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৬০টি দল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৯টি দল এবং দমকল ও জরুরি পরিষেবার ২৪৪টি দল। পাশাপাশি প্রস্তুত রয়েছে ২,০৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী মহিলাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আগেই। মৎস্যজীবীদেরও উপকূলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সোমবারের মধ্যে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কোনও প্রাণহানি যাতে না হয়। ওড়িশা প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিভিন্ন জায়গায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। গজপতি, গঞ্জাম, রায়গাড়া, কোরাপুট, নওরংপুর, মালকানগিরি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। পুরী, খুর্দা, সম্বলপুর, দেওগড়, কালাহান্ডি, কান্ধামাল, নুয়াপাড়াতেও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি চলছে। রাজ্যের দক্ষিণ অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলি থেকে কমবেশি ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে ও মাল্টিপারপাস ফ্লাড সেন্টারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  পুরী-সহ বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং লাল সতর্কতা নিশান ওড়ানো হচ্ছে।

    স্থলভাগে  প্রবেশের পর শক্তিক্ষয় অর্ণবের

    ঝাড়খণ্ডের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। রাঁচি, খুঁটি, সিমডেগা, গুমলা, লোহারদাগা-সহ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে স্থলভাগে ঢোকার পর দ্রুত শক্তিক্ষয়ের ইঙ্গিত মিলেছে ঘূর্ণিঝড়ের। ছত্তিশগড়েই সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে অর্ণব। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ধীরে ধীরে উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    বাংলায় বৃষ্টি, দিঘায় উত্তাল সমুদ্র

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কলকাতায় মঙ্গলবার বৃষ্টি হয়েছে হালকা। বুধবার ভোর থেকে আকাশের মুখ ভার। যদিও আপাতত রোদ উঠেছে। অর্ণবের দাপট খুব বেশি বোঝা যাচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলা, বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলির অবস্থা যদিও এমন নয়। দিঘায় উত্তাল সমুদ্র, আকাশ অন্ধকার, পাশাপাশি প্রবল হাওয়ার দাপট রয়েছে মঙ্গলবার রাত থেকেই। উপকূলবর্তী সমস্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। আবহাওয়া খারাপ দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু জায়গাতেও। বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় রয়েছে হলুদ সতর্কতা। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। চার জেলায় রয়েছে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারী (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ওই চার জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ওই দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া। শুক্রবার ঝড়বৃষ্টির জন্য সতর্কতা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায়।

    উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস

    পুজোর মরশুমে পাহাড়ে এখন লোকের ঢল। মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখলেই ভেসে উঠছে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বাকি জেলাগুলিতেও রয়েছে ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা। বর্ষণের জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। আগামী শনিবার পাহাড় এবং সংলগ্ন পাঁচ জেলায় রয়েছে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা।

  • Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়েছে। সম্ভাবনা রয়েছে ক্যাটেগরি-৩ ঘূর্ণিঝড়ে (Cyclone Arnab) পরিণত হওয়ারও। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)-এর তথ্য় অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে অ্যাক্টিভ হয়েছে নিম্নচাপ। আগামী কয়েক ঘণ্টার এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আর শক্তি বাড়লেই এটি পরিণত হবে গভীর নিম্নচাপে। সকাল থেকেই মুখ ভারি আকাশের। ভোর রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিও। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের কারণে, আজ থেকে ৪ দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টির (Weather Update)সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ উপকূলীয় রাজ্যগুলির জন্য মারাত্মক ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল কখন কোথায়

    ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) অনুসারে, নিম্নচাপটি বর্তমানে ওড়িশার পুরী থেকে প্রায় ২১০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২২০ কিমি পূর্বে অবস্থিত। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যে, সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকায়, ২৩শে সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে এটি বিশাখাপত্তনম এবং গোপালপুরের মধ্যবর্তী উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল গভীর নিম্নচাপ রূপে অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা। সম্ভাব্য ল্যান্ডফল এলাকা: ওড়িশার গোপালপুর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে গোপালপুর ও কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে এই সিস্টেম। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের দাপট আরও বাড়ার আশঙ্কা।

    ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর ও ভারতীয় মৌসম ভবন সূত্রে খবর,ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর নাম দিয়েছে বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড়ের নামের আঞ্চলিক তালিকা অনুসারে, উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট হতে যাওয়া পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘অর্ণব’, যার বাংলা অর্থ মহাসাগর। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তাণ্ডবের আশঙ্কা তিন রাজ্যে। অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে প্রবল ঝড়ের পাশাপাশি ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের জন্য জারি হয়েছে কড়া সতর্কতা। ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বুধবার থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

    দীঘায় সমুদ্রে নামতে মানা

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আপাতত ‘রিজার্ভ’ বা প্রভাবহীন অবস্থায় রয়েছে, তবুও এর ফলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ধাক্কায় পূর্ব মেদিনীপুর ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এলাকায় বুধবার পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি এবং কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘা, শঙ্করপুর, জুনপুট ও পেটুয়াঘাটসহ আশপাশের এলাকায় মেঘলা আকাশের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সমুদ্রের পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার পূর্বাভাসের কারণে বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সমুদ্রে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলিকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণি সৈকত এলাকায় মাইকিং চালিয়ে পুলিশ প্রশাসন সতর্কবার্তা দিচ্ছে। সমুদ্রের বেশি গভীরে না যেতে এবং প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না থাকলেও সমুদ্র উত্তাল হওয়ার পুরো আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাবতীয় আপৎকালীন পরিকাঠামো।

    কলকাতায় দুর্যোগের প্রভাব

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পরোক্ষ প্রভাবে কলকাতাতেও আবহাওয়ার দ্রুত অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই কখনও হালকা আবার কখনও ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে, দঃ ২৪ পরগনা, ২ মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে হতে পারে ভারী বৃষ্টি। পুরুলিয়া, বীরভূম, হাওড়ার একাংশেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। দিনভর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।

    ওড়িশায় জারি রেড অ্যালার্ট

    ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ওড়িশা সরকার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ওড়িশার রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন যে, পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গত ৬ ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের কারণে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোরাপুট, গজপতি এবং গঞ্জাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই তিনটি জেলা রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর কালাহান্ডি, নবরঙ্গপুর, কোরাপুট এবং মালকানগিরি ছাড়াও নিকটবর্তী জেলা যেমন বালেশ্বর এবং বৌধও রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে ওড়িশা অন্যতম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এর বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি জেলার কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন এবং সম্ভাব্য বন্যা ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম ও গজপতিতে স্কুল বন্ধের ঘোষণা করেছে সরকারের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে মালকানগিরিতে ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোও ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা

    ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথের অন্যতম প্রভাব পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া থেকে প্রবল ঝড় হতে পারে। এর সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। অন্ধ্রের পাশাপাশি ওড়িশা উপকূলেও দুর্যোগের আশঙ্কা। প্রবল ঝড়ের সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই সমুদ্রের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ২৫শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়লসীমায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

LinkedIn
Share