Tag: Dakshina Kali

  • Kali Puja: দক্ষিণাকালী থেকে শ্মশানকালী, দেবী কালীর ১১ রূপের মাহাত্ম্য জানেন কি?

    Kali Puja: দক্ষিণাকালী থেকে শ্মশানকালী, দেবী কালীর ১১ রূপের মাহাত্ম্য জানেন কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামপ্রসাদের কন্যা, রামকৃষ্ণের মা ভবতারিণী, সাধক কমলাকান্তের সাধনার ধন। তিনি দশমহাবিদ্যার প্রথম দেবী, দেবী কালিকা। বাংলা জুড়ে কালীপুজোর (Kali Puja) মাহাত্ম্য অপরিসীম। শ্মশানবাসিনী থেকে ঘরে ঘরে পূজিত হওয়ার পিছনে রয়েছে নানা আখ্যান। কঠোর নিয়ম মেনে আরাধনা করা হয় দেবী কালিকার। কোথাও তিনি পূজিত হন চামুণ্ডা মতে, কোথাও আবার তন্ত্রমতে। কোথাও কোথাও দেবীকে কেন্দ্র করেই চলে তন্ত্রসাধনা। কোনও রূপে তিনি শ্যামবর্ণা, কোথাও তাঁর গায়ের রং নীল। মূলত ১১টি রূপে বিনাশকারী শক্তি হিসেবে দেবী কালীর আরাধনা করেন ভক্তরা।

    মায়ের নানা রূপের কথা (Maa Kali)

    • দক্ষিণা কালী: বাংলায় সবচেয়ে বেশি আরাধনা হয় দক্ষিণা কালীর। কালীর এই রূপ জায়গাভেদে শ্যামাকালী নামেও পরিচিত। তাঁর সারা শরীর নীল বর্ণের। মূর্তি ক্রুদ্ধ, ত্রিনয়নী ও মুক্তকেশী। দেবীর চারটি হাত এবং গলায় থাকে মুণ্ডমালা। বাম দিকের দুই হাতে থাকে নরমুণ্ড ও খড়্গ। ডান হাত দু’টিতে রয়েছে আশীর্বাদ ও অভয় মুদ্রা। দেবী মহাদেবের বুকে দণ্ডায়মানা।
    • শ্মশান কালী: মূলত প্রাচীনকালে ডাকাতেরা দেবীর এই রূপের আরাধনা করত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবী চৌধুরানী’ উপন্যাসেও এই দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। গৃহস্থের বাড়িতে সাধারণত কালীর এই রূপের পুজো হয় না। মূলত শ্মশানেই তাঁর আরাধনা করা হয়ে থাকে।
    • সিদ্ধ কালী: কালীপুজোর দিনে বহু জায়গায় সিদ্ধ কালীর আরাধনা করা হয়। কালীর এই রূপ ভুবনেশ্বরী নামেও পরিচিত। সাধারণত গৃহস্থের বাড়িতে এই রূপের পুজো হয় না। কালীমায়ের সাধকেরাই মূলত এই পুজো করে থাকেন। সিদ্ধকালীর দু’টি হাত এবং শরীর গয়নায় আবৃত। দেবীর ডান পা থাকে শিবের বুকে এবং বাঁ পা তাঁর দুই পায়ের মাঝখানে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দেবী রক্ত নয়, বরং অমৃত পানে সন্তুষ্ট হন।
    • ফলহারিণী কালী: ফলহারিণী কালীপুজো একটি বাৎসরিক পুজো। মূলত গৃহস্থের বাড়িতে সুখ-শান্তি বজায় রাখা এবং সংসারের কল্যাণ কামনায় কালীর এই রূপের আরাধনা করা হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিণী কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়।
    • মহাকালী: দেবীর এই রূপের দশটি মাথা, দশটি হাত এবং দশটি পা রয়েছে। প্রতিমার সঙ্গে শিবের কোনও অস্তিত্ব নেই। দশ হাতে থাকে নানা অস্ত্র। দেবীর পায়ের তলায় থাকে অসুরের কাটা মুণ্ড। বিশেষ তান্ত্রিক আচার অনুযায়ী ভূত চতুর্দশীর সময় মহাকালীর সাধনা করা হয়। তবে সাধারণত গৃহস্থের বাড়িতে এই পুজো প্রচলিত নয়।
    • কাম্যা কালী: বিশেষ মনস্কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে কালীর এই রূপের আরাধনা করা হয়। পুজোর নিয়মবিধি অনেকটাই দক্ষিণা কালীর মতো। সাধারণত অষ্টমী, চতুর্দশী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও সংক্রান্তির মতো বিশেষ তিথিতে কাম্যা কালীর পুজো করা হয়ে থাকে।
    • গুহ্যকালী: এই দেবীর গায়ের রং গাঢ় কালো। গলায় থাকে ৫০টি নরমুণ্ডের হার এবং কানে শবদেহের আকৃতির অলঙ্কার। শাস্ত্রে কালীর এই রূপকে ভয়ঙ্করী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মূলত তন্ত্রসাধনার সঙ্গে এই দেবীর আরাধনা বিশেষভাবে যুক্ত।
    • ভদ্রকালী: কালীর এই রূপ সাধারণত বিভিন্ন মন্দিরে এবং বারোয়ারি পুজোয় আরাধিত হন। ভদ্রকালী নামের ‘ভদ্র’ শব্দটি কল্যাণ বা মঙ্গল অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে, ‘কালী’ শব্দটি জীবনের অন্তিম পরিণতির ইঙ্গিত বহন করে। দেবীর এই রূপের মধ্যে সংহার ও কল্যাণ—দুই শক্তিরই প্রকাশ দেখা যায়।
    • চামুণ্ডা কালী: চামুণ্ডা হলেন আদিশক্তির এক ভয়ঙ্করী রূপ। তিনি ভগবতী দুর্গারও এক বিশেষ প্রকাশ। চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করার পর দেবী ‘চামুণ্ডা’ নামে পরিচিত হন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, পার্বতী, চণ্ডী, দুর্গা, চামুণ্ডা ও কালী—সবই আদিশক্তির বিভিন্ন প্রকাশ।
    • শ্রীকালী: দেবী দুর্গা বা পার্বতীর একটি বিশেষ রূপ হলেন শ্রীকালী। অনেকে মনে করেন, এই রূপ ধারণ করেই দেবী দারুক নামে এক অসুরকে বধ করেছিলেন। পুরাণের একটি আখ্যান অনুযায়ী, কালীর এই রূপ মহাদেবের কণ্ঠে প্রবেশ করে তাঁর কণ্ঠের বিষের সংস্পর্শে কৃষ্ণবর্ণা হন। পরবর্তীকালে মহাদেব শিশুরূপ ধারণ করে স্তন্যপান করেন এবং দেবীর শরীর থেকে বিষের প্রভাব গ্রহণ করেন।
    • রক্ষাকালী: দক্ষিণা কালীরই একটি বিশেষ রূপ হল রক্ষাকালী। কথিত রয়েছে, প্রাচীনকালে লোকালয়কে বিপদ-আপদ ও অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই দেবীর পুজো করা হত। দেবীর বাহন সিংহ। মূলত মানুষের এবং জনপদের নিরাপত্তা ও মঙ্গল কামনায় রক্ষাকালীর আরাধনা করা হয়।
LinkedIn
Share