Tag: Dayanand Saraswati

Dayanand Saraswati

  • Dayanand Saraswati: বৈদিক আদর্শ পুনঃস্থাপনে ব্রতী হয়েছিলেন, প্রয়াণ দিবসে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর জীবনী

    Dayanand Saraswati: বৈদিক আদর্শ পুনঃস্থাপনে ব্রতী হয়েছিলেন, প্রয়াণ দিবসে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর জীবনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর (Dayanand Saraswati) প্রয়াণ দিবস আজ। দয়ানন্দ সরস্বতী জন্মগ্রহণ করেন ১২ ফেব্রুয়ারি ১৮২৪ সালে। উনবিংশ শতকের এই মহান কর্মযোগী দার্শনিক এবং সনাতন ধর্মের প্রচারক হিসাবে সামাজিক এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর মূল বাণী ছিল, ‘বেদের যুগে ফিরে চলো’। এই আদর্শেই তিনি জীবন অতিবাহিত করেছেন। সমগ্র হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ঊনবিংশ শতকের এই মহান কর্মযোগী মাত্র ৫৯ বছর বয়সে ৩০ অক্টোবর ১৮৮৩ সালে প্রয়াত হন।

    জন্ম ও প্রথম জীবন

    স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর (Dayanand Saraswati) জন্ম ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ দশমী তিথিতে হয়েছিল বলে জানা যায়। বর্তমান গুজরাটের কাঠিয়ার নামক স্থান ছিল তাঁর পৈতৃক বাসস্থান। বাল্যকালে তাঁর নাম ছিল শঙ্কর তেওয়ারি। কর্শানজি লালজি তিওয়ারি ছিলেন তাঁর পিতা এবং মাতার নাম ছিল যশোদাবাঈ। ১৮৪৬ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলেন। সাংসারিক জীবনে আবদ্ধ না হওয়ার সিদ্ধান্ত তখনই নেন। স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী (Dayanand Saraswati) জীবনের পরবর্তী সময়কাল সত্যের সন্ধানে একজন সন্ন্যাসী হয়ে কাটান। এই সময়ে গুরু হিসাবে তিনি সান্নিধ্য লাভ করেন ব্রিজানন্দর। কথিত আছে, গুরুদক্ষিণা হিসেবে তিনি সনাতন সমাজে বেদের আদর্শকে পুনঃস্থাপনের ব্রত নেন।

    সামাজিক, ধর্মীয় এবং শিক্ষামূলক নানা সংস্কার আন্দোলন 

    সামাজিক, ধর্মীয় এবং শিক্ষামূলক নানা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন দয়ানন্দ সরস্বতী। এর মধ্যে ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্থাপন করেন আর্য সমাজ। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বেদের প্রচার এবং ব্যক্তি জীবন ও সমাজ জীবনের সর্বাঙ্গীন বিকাশ। বেদের যুগে ফিরে যাওয়া ছাড়াও আর্য সমাজের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই। তিনি শুদ্ধি আন্দোলনও শুরু করেছিলেন। যে সমস্ত হিন্দুরা ধর্মান্তরিত হতেন, শুদ্ধি আন্দোলনের মাধ্যমে পুনরায় তাঁদের হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা হতো।

    ‘বেদের যুগে ফিরে চলো’

    বৈদিক সাহিত্যের প্রচার এবং বৈদিক শিক্ষার জন্য সারা জীবন প্রয়াস চালিয়ে গিয়েছেন স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী (Dayanand Saraswati)। কারণ তিনি মনে করতেন যে হিন্দু ধর্মের আধ্যাত্মিকতা, শারীরিক, মানসিকভাবে যে কোনও হিন্দুর বিকাশ সম্ভব বেদকে অধ্যয়ন করে, বেদের অন্তর্নিহিত সত্যকে উপলব্ধি করে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্ঞানের বিকাশের জন্য বৈদিক সাহিত্য অপরিহার্য বলেই তিনি মনে করতেন। বৈদিক সাহিত্যের প্রচারের জন্য তিনি স্কুল এবং কলেজ স্থাপনও করতেন। দয়ানন্দ সরস্বতী ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ নামে একটি পত্রিকা বের করতেন। পত্রিকার মাধ্যমে সামাজিক এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি আওয়াজ তুলতেন। এটা মনে করা হয় যে ভারতবর্ষের চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের বিকাশেও স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর চিন্তাধারা যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তীকালে লোকমান্য তিলক যে ‘স্বরাজ’-এর কথা বলতেন, সেই ধারনা তিনি স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর (Dayanand Saraswati) কাছ থেকেই পেয়েছিলেন বলে মনে করা হয়।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Dayananda Saraswati: দয়ানন্দ সরস্বতীর ২০০ তম জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে নানা কর্মসূচি নেবে সঙ্ঘ

    Dayananda Saraswati: দয়ানন্দ সরস্বতীর ২০০ তম জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে নানা কর্মসূচি নেবে সঙ্ঘ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর (Dayananda Saraswati) ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। পানিপথে আরএসএস-এর সদ্য সমাপ্ত অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার বৈঠকে এবিষয়ে সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে। সঙ্ঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলের বক্তব্যের লিখিত বিবৃতি সামনে এসেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, মহর্ষি দয়ানন্দের (Dayananda Saraswati) ২০০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এবং দেশের প্রতিটি প্রান্তের স্বয়ংসেবকরা মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর (Dayananda Saraswati) আদর্শ ছড়িয়ে দেবে সমাজের মধ্যে।  প্রসঙ্গত, সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার বাংলার অনুশীলন সমিতি এবং মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী (Dayananda Saraswati) প্রতিষ্ঠিত আর্য সমাজের কাজের দ্বারা খুবই প্রভাবিত ছিলেন। 

    কী বললেন দত্তাত্রেয় হোসাবলে

    সরকার্যবাহের ওই বিবৃতিতে উঠে এসেছে মহর্ষির গো রক্ষা আন্দোলনের কথাও। দয়ানন্দ সরস্বতীর জীবনভর গো হত্যার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি গো নির্ভর কৃষি ব্যবস্থা এবং গোরু প্রতিপালনের কথা বলতেন, যা বর্তমানকালে আর্যসমাজের বিভিন্ন কাজের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়। বিবৃতিতে উঠে এসেছে মহর্ষির স্বদেশীয়ানার প্রসঙ্গও। তাঁর লিখিত গ্রন্থ সত্যার্থ প্রকাশকে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মহর্ষির (Dayananda Saraswati) ধারণা ছিল স্বদেশী, স্বভাষা, স্ববোধ ছাড়া স্বরাজ আসতে উঠতে পারেনা। অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে মহর্ষি দয়ানন্দকে প্রয়োজন বলে মনে করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। ওই বিবৃতিতে বলা হচ্ছে,  জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে মহর্ষির ভাবনাকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। সরকার্যবাহের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হচ্ছে, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং সভ্যতার উপর মহর্ষির গভীর আস্থা ও শ্রদ্ধা ছিল, তিনি বলতেন, বেদের যুগে ফিরে চলো। নেশামুক্ত, কুসংস্কারমুক্ত দেশ গড়তে প্রতিটি স্বয়ংসেবক মহর্ষি দয়ানন্দের ২০০ তম জন্মবার্ষিকী পালন করবে বলেও জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

     

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

     

     

     

     

LinkedIn
Share