Tag: Deep Depression Weather Update

  • Deep Depression Weather Update: ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে না! বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বাংলায় বাড়ছে বৃষ্টির শঙ্কা, কবে মেঘেদের ছুটি?

    Deep Depression Weather Update: ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে না! বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বাংলায় বাড়ছে বৃষ্টির শঙ্কা, কবে মেঘেদের ছুটি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তব, হচ্ছে না ঘূর্ণিঝড়। কলকাতার আবহাওয়া ফের খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় প্রস্তুতি বাড়িয়েছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। জোরালো নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার মধ্যে পুরসভার নিকাশি দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জল জমা ও নিকাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পাম্পিং স্টেশনেও বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।

    কোথায় রয়েছে নিম্নচাপ

    বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপ হিসেবে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি, বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যে দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। আর এই নিম্নচাপের প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যেতে শুরু করেছে বাংলায়। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

    বাংলায় নিম্নচাপের প্রভাব

    সরাসরি বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও এই সিস্টেমের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। আলিপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়া হতে পারে। কলকাতাতেও বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতা রয়েছে।দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। নিম্নচাপের অবস্থান এবং গতিপথের উপর নির্ভর করে বৃষ্টির তীব্রতা একেক এলাকায় একেক রকম হতে পারে। শহর কলকাতাতেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এবং দমকা হাওয়া দেখা যেতে পারে। ফলে বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    কোন জেলায় কত বৃষ্টি

    বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বীরভূমে দু’-এক জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু বৃষ্টি নয়। সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। অন্য জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ভিজবে কলকাতাও।

    বৃহস্পতিবার থেকে আরও বাড়বে

    আগামী বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। এই জেলাগুলির এক-দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়াও থাকবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিশেষত ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে দু’-এক জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং হাওড়াতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গেও নিম্নচাপের দাপট

    আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই নিম্নচাপের প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গে। মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুরে। জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সিকিমেও বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও ধস বা যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।

    উত্তাল সমুদ্র, নিষেধাজ্ঞা

    সমুদ্রের পরিস্থিতিও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে হাওয়া জোরালো হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনকেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে।

    সতর্ক কলকাতা পুরসভা

    এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার নিকাশি দফতরকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে ভারী বৃষ্টির সময় শহরের নিকাশি ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের নিকাশি পাম্পিং স্টেশনগুলিতেও কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জল জমার সম্ভাবনাময় এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি পাম্প চালানো এবং জমা জল দ্রুত সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কলকাতায় ভারী বৃষ্টি হলে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় নিচু এলাকা ও জল জমার প্রবণ রাস্তাগুলিতে। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, শহরের নিকাশি ব্যবস্থার বড় অংশ বহু পুরনো এবং ভারী বৃষ্টিতে নিকাশি ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share