Tag: Defence Manufacturing

Defence Manufacturing

  • Rare Earth Magnet: এবার কমবে চিনের একচেটিয়া দাপট! ভারতে ২২৫০ কোটির রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট কারখানা গড়ছে জাপানি সংস্থা

    Rare Earth Magnet: এবার কমবে চিনের একচেটিয়া দাপট! ভারতে ২২৫০ কোটির রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট কারখানা গড়ছে জাপানি সংস্থা

    সুশান্ত দাস

    ভারতের বিরল মাটি খনিজ (Rare Earth Elements) শিল্পে বড়সড় অগ্রগতির পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হতে চলেছে। জাপানের শীর্ষস্থানীয় উন্নত উপকরণ প্রস্তুতকারী সংস্থা প্রোটেরিয়াল (Proterial) অন্ধ্রপ্রদেশে ২ হাজার ২৫০ কোটি বিনিয়োগ করে একটি স্থায়ী চুম্বক (Permanent Magnet) উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে বিরল মাটি-ভিত্তিক চুম্বকের (Rare Earth Magnets) উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং চিনের ওপর আমদানি-নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশের অনাকাপল্লি জেলার আচ্যুতাপুরম (Achutapuram) এলাকায় এই উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রাজ্যের স্টেট ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন মিলেছে। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বছরে ১২০০ টন বিরল মাটি চুম্বক উৎপাদনের লক্ষ্য

    প্রস্তাবিত কারখানায় ‘সিন্টার্ড’ (গুঁড়ো ধাতুকে উচ্চ তাপ ও উচ্চ চাপের মধ্য দিয়ে কঠিন পদার্থে পরিণত করা) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিওডিমিয়াম-আয়রন-বোরন (NdFeB) স্থায়ী চুম্বক উৎপাদন করা হবে। কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১.২ কিলোটন বা ১,২০০ টন। বিশ্বজুড়ে নিওডিমিয়াম চুম্বককে (Rare Earth Magnets) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উন্নত বিরল খনিজ চুম্বকগুলির অন্যতম বলে মনে করা হয়। বর্তমানে এটি বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্থায়ী চুম্বক। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই চুম্বকের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদানে পরিণত হয়েছে।

    বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে প্রতিরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই অপরিহার্য

    নিওডিমিয়াম (NdFeB) চুম্বক আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বহু শিল্পে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এর ব্যবহার দেখা যায়—

    • ● বৈদ্যুতিক যানবাহন(EV)
    • ● বায়ুশক্তি বা উইন্ড টারবাইন
    • ● শিল্প কারখানার মোটর
    • ● দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স ও গ্যাজেট
    • ● মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তি
    • ● প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম

    এই চুম্বকের শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষমতা উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতিকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করে তোলে। বিশ্বজুড়ে যখন শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুতায়ন এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনের প্রবণতা বাড়ছে, তখন নিওডিমিয়াম চুম্বকের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

    বিরল মাটি চুম্বক আত্মনির্ভর ভারতের পথে বড় পদক্ষেপ

    বর্তমানে বিরল মাটি চুম্বকের (Rare Earth Magnets) ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ চিন। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয় বিরল মাটি শিল্পের উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। খনিজ আহরণ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ এবং চুম্বক উৎপাদন— পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে দেশীয়ভাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে না, বরং দেশের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও কৌশলগত নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করবে।

    কেন্দ্রের নতুন প্রণোদনা প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয়ভাবে সিন্টার্ড বিরল মাটি স্থায়ী চুম্বক (Rare Earth Magnets) উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক পরিবহণ এবং উন্নত ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ দেশে উৎপাদন করা। প্রোটেরিয়ালের বিনিয়োগ সেই নীতিগত উদ্যোগের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কে এই প্রোটেরিয়াল?

    প্রোটেরিয়াল বিশ্বব্যাপী উন্নত চৌম্বকীয় উপকরণ এবং বিশেষায়িত ধাতব প্রযুক্তির অন্যতম শীর্ষ সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব নাম ছিল ‘হিটাচি মেটালস’ (Hitachi Metals)। নিওডিমিয়াম (NdFeB) চুম্বক প্রযুক্তির পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এটি অন্যতম হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন দক্ষতার মাধ্যমে সংস্থাটি বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, চিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। গত অর্থবছরে সংস্থার একত্রিত আয় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি ছিল বলে জানা গেছে।

    কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশে এই বৃহৎ বিনিয়োগের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশীয় সরবরাহকারী, প্রযুক্তি সংস্থা এবং সহায়ক শিল্পগুলিও উপকৃত হবে। ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে বিরল মাটি চুম্বকের চাহিদা আগামী বছরগুলিতে আরও বাড়বে। সেই চাহিদা পূরণে এই কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    বিশ্বব্যাপী বিরল মাটি সরবরাহ: ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হবে

    বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির প্রসারের ফলে বিরল মাটি চুম্বক (Rare Earth Magnets) এখন কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রোটেরিয়ালের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থার ভারতমুখী বিনিয়োগ দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের গুরুত্বও বাড়াবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু আমদানি কমাতেই সক্ষম হবে না, ভবিষ্যতে বিরল মাটি-ভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

  • India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    সুশান্ত দাস

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য পৌঁছেছে রেকর্ড ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়, যা ২০২০-২১ অর্থবর্ষের ৮৪,৬৪৩ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১১০ শতাংশ বেশি। সহজ ভাষায়, ৫ বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির অন্যতম দ্রুততম সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সাফল্যকে।

    বৃদ্ধির নেপথ্যে ৫ কারণ

    তবে শুধু সংখ্যার বিচারে এই অগ্রগতি বিচার করলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে কীভাবে ভারত প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এত বড় লাফ দিতে সক্ষম হল? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ— সরকারি নীতিগত সংস্কার, বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, প্রতিরক্ষা রফতানির বিস্তার, দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে নতুন সুযোগের সৃষ্টি।

    আমদানি-নির্ভরতা থেকে আত্মনির্ভরতার পথে

    দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ ছিল ভারত। যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, আর্টিলারি ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীলতা ছিল অত্যন্ত বেশি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নির্ভরতা একটি কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে গত এক দশকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের নকশা, গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে যেখানে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল ৪৩,৭৪৬ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সম্প্রতি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, স্থল, জল ও আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই ভারত উল্লেখযোগ্য দেশীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তায় আত্মনির্ভরতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই উৎপাদন-সাফল্যকে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা-শিল্পভিত্তির প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই অর্জনের পেছনে রয়েছে সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা, বেসরকারি শিল্প এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত সংস্কারের সম্মিলিত অবদান।

    নীতিগত সংস্কারেই তৈরি হয়েছে ভিত

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এই লাফের অন্যতম প্রধান কারণ হল ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার। কেন্দ্রীয় সরকার ‘পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট’ চালু করে, যার ফলে শতাধিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয় এবং সেগুলির ক্রয় দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। এর পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যাতে দেশীয় সংস্থাগুলি দ্রুত চুক্তি পেতে পারে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)-এর সীমাও শিথিল করা হয়েছে। স্টার্ট-আপ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হয়েছে ‘ইনোভেশনস্ ফর ডিফেন্স এক্সিলেন্স’ (iDEX) প্রকল্প। ফলে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা এবং স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    বৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি বেসরকারি শিল্প

    ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে অন্যতম হল বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। যদিও এখনও মোট উৎপাদনের প্রায় ৭৬ শতাংশ আসে ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (DPSU) এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকে, তবু বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশীদারিত্ব দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেসরকারি শিল্পের অবদান রেকর্ড ৪২,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট উৎপাদনের ২৪ শতাংশ। এক বছর আগে এই অংশীদারিত্ব ছিল ২২ শতাংশ। বড় শিল্পগোষ্ঠী, বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক স্টার্ট-আপ মিলিয়ে এখন একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা উৎপাদন পরিবেশ গড়ে উঠছে। শিল্পমহলের মতে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয়করণের মতো উদ্যোগগুলিই এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং বেসরকারি খাতের বাড়তি অংশগ্রহণ ভারতের কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    দেশীয় যুদ্ধাস্ত্র প্রকল্পের পরিপক্বতা

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হল বহু বছর ধরে চলা দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের পালে হাওয়া লাগা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর তৈরি তেজস হালকা যুদ্ধবিমান প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার পর বর্তমানে তেজস এমকে-১এ উৎপাদন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি আরও উন্নত এমকে-২ সংস্করণের কাজও এগোচ্ছে। একইভাবে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। আগামী প্রজন্মের আকাশ-এনজি (Akash-NG) প্রকল্প এর পাল্লা, গতিশীলতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ, সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদ, রেডার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মতো একাধিক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি রফতানিতেও নজির গড়েছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রতিরক্ষা রফতানি পৌঁছেছে রেকর্ড ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায়। এর ফলে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য শুধু ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী নয়, আন্তর্জাতিক বাজারও উন্মুক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানি বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে কোনও পণ্যের গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা এবং খরচ—তিন ক্ষেত্রেই সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়। বিদেশি ক্রেতারা ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে এখন ক্রমশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার করছে। এর ফলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ছে, উৎপাদন খরচ কমছে এবং গবেষণা ও উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ

    ভারতের এই অগ্রগতি এমন সময়ে এসেছে, যখন গোটা বিশ্বে সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৮৮৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি টানা একাদশ বছরের বৃদ্ধির রেকর্ড। ভারতও বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ সামরিক ব্যয়কারী দেশের মধ্যে রয়েছে। চিন ও পাকিস্তান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৮.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশে সামরিক আধুনিকীকরণের প্রবণতা ভারতের মতো উদীয়মান প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রগুলির জন্য নতুন বাজার ও সুযোগ তৈরি করছে।

    সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

    যদিও বর্তমান সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তবু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে ভারতের সামনে এখনও বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উন্নত এরো ইঞ্জিন, বিশেষ ধরনের প্রোপালশন প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর, পরবর্তী প্রজন্মের সেন্সর, মাইক্রো-ইলেকট্রনিক্স এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত এখনও বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীল। পরবর্তী ধাপে আরও বড় সাফল্য অর্জনের জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো, দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং উচ্চমূল্যের উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করা অপরিহার্য।

    আত্মনির্ভরতা থেকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শক্তির পথে

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এই রেকর্ড উৎপাদন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। যে যাত্রা শুরু হয়েছিল আমদানি-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে, তা এখন ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর শিল্পনীতিতে রূপ নিচ্ছে—যার লক্ষ্য ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করা। বিশ্ব যখন ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সামরিক আধুনিকীকরণের পথে এগোচ্ছে, তখন ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের এই উত্থান আগামী দশকে দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

  • QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ উপাদান (Rare Earth Materials) ঘিরে কৌশলগত প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত ও আমেরিকা। মঙ্গলবার কোয়াড (Quad) বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ (Rare Earth) সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বৈদ্যুতিক যান (EV), সেমিকন্ডাক্টর এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি শিল্পের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে অন্যতম হল চিনের উপর নির্ভরতা কমানো।

    কী বললেন এস জয়শঙ্কর?

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানান, ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক কাঠামো (Framework Agreement) তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণের সরবরাহ সুরক্ষিত করার জন্য ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক কাঠামো স্বাক্ষর করছি। কোয়াড বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিকভাবে হোক বা কোয়াডের মাধ্যমে—সমমনা দেশগুলির জন্য এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    বর্তমানে বিশ্বে রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ও বহু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহে সবচেয়ে বড় আধিপত্য রয়েছে চিনের। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, মিসাইল, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, মোবাইল ফোন, সোলার প্যানেল ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত বহু উপাদানের জন্য বিভিন্ন দেশ এখনও চিনের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার নতুন অংশীদারিত্বকে “সাপ্লাই চেইন সিকিউরিটি” নিশ্চিত করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার কারণে বহু দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।

    কোন কোন খনিজের উপর জোর?

    এই চুক্তির আওতায় ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে অনুসন্ধান (Exploration), খনন (Mining), প্রক্রিয়াকরণ (Processing), পরিশোধন (Refining) এবং সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নে কাজ করবে। বিশেষভাবে যে খনিজগুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল—

    • ● লিথিয়াম (Lithium)
    • ● কোবাল্ট (Cobalt)
    • ● নিকেল (Nickel)
    • ● গ্রাফাইট (Graphite)
    • ● রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (Rare Earth Elements)

    এই খনিজগুলি বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি, নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের জন্য কী লাভ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে ভারতের সামনে একাধিক সুবিধার দরজা খুলে যেতে পারে।

    ● ১. বৈদ্যুতিক যান ও ব্যাটারি শিল্পে গতি

    ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার দ্রুত বাড়ছে। বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি তৈরির জন্য লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বহুগুণ বাড়বে। এই চুক্তি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

    ● ২. প্রতিরক্ষা ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে শক্তি বৃদ্ধি

    রেয়ার আর্থ উপাদান আধুনিক মিসাইল সিস্টেম, রাডার, যুদ্ধবিমান ও উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরিতে অপরিহার্য। ফলে প্রতিরক্ষা উৎপাদনেও ভারতের স্বনির্ভরতা বাড়তে পারে।

    ● ৩. প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ

    চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সংস্থাগুলি উন্নত প্রসেসিং প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এর ফলে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে।

    আমেরিকার লক্ষ্য কী?

    আমেরিকাও দীর্ঘদিন ধরে চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ক্ষমতা চিনের হাতে থাকায় আমেরিকা বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। ভারতের সঙ্গে এই চুক্তিকে তাই “বিশ্বস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল অংশীদারিত্ব” হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোয়াডভুক্ত দেশগুলির মধ্যেও এই ইস্যু এখন কৌশলগত অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এসেছে।

    ভারতের আগাম প্রস্তুতি

    ভারত সরকার ইতিমধ্যেই কয়েকটি খনিজকে “গুরুত্বপূর্ণ খনিজ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভবিষ্যতের শিল্প ও জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদেশে খনিজ সম্পদ অধিগ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গতিশীলতার দিকে বিশ্ব যত এগোবে, ততই এই খনিজগুলির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়বে।

    রেয়ার আর্থ কেন এত মূল্যবান?

    রেয়ার আর্থ উপাদান ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি শিল্প কার্যত অচল। এগুলি ব্যবহার করা হয়—

    • ● বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি
    • ● উইন্ড টারবাইন
    • ● মোবাইল ফোন
    • ● সেমিকন্ডাক্টর
    • ● সোলার প্রযুক্তি
    • ● মিসাইল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
    • ● উন্নত ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে

    ফলে ভারত-আমেরিকার এই নতুন অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তির লড়াইয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

  • Defence Manufacturing: যুদ্ধের সরঞ্জাম তৈরিতে ভারত সুপারপাওয়ার হবে: সিডিএস অনিল চৌহান

    Defence Manufacturing: যুদ্ধের সরঞ্জাম তৈরিতে ভারত সুপারপাওয়ার হবে: সিডিএস অনিল চৌহান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের সরঞ্জাম (Defence Manufacturing) তৈরিতে ভারত সুপার পাওয়ার হওয়ার ক্ষমতা রাখে। এমনটাই বললেন দেশের সেনা সর্বাধিনায়ক অনিল চৌহান।

    কী বললেন সেনা সর্বাধিনায়ক

    এদিন পুনেতে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহের সোমবার কর্ণাটকের তুমাকুরু জেলায় হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের নতুন হেলিকপ্টার কারখানার উদ্বোধন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাধীনতার পরবর্তীকালে এমনই আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখতাম। হেলিকপ্টার তৈরির এই কারখানা এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তম। এদিন প্রতিরক্ষা খাতে বেসরকারি বিনিয়োগেরও প্রশংসা করেন তিনি। প্রসঙ্গত এদিন পুনেতে NIBE Defence and Aerospace Ltd আয়োজিত ডিফেন্স এক্সপো-২০২৩ এ বক্তব্য রাখেন তিনি।

    তাঁর আরও সংযোজন, “যখন আমরা একটি শক্তিশালী ভারতের কল্পনা করি, তখন আমাদের মনে ভেসে ওঠে একটি সশস্ত্র বাহিনীর চিত্র। সর্বদাই সেনাবাহিনীর সাফল্যে আমরা খুশি হই, তাঁদের কৃতিত্বে আমরা গর্বিত হই। আমরা মনে করি, তাঁদের কারণেই দেশ আজ নিরাপদ। আমার মতে, একটি বড় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সশস্ত্র বাহিনীর পিছনে দাঁড়িয়ে আছে বর্তমানে যা দেশকে শক্তিশালী করে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা এই শক্তি ইউনিফর্ম পড়েনা। এই শক্তি কখনও যুদ্ধ ক্ষেত্রে লড়তেও যায়না। কিন্তু এদের আছে একধরনের উদ্যম। যা দেশের জন্য কিছু করতে বলে। এদিন বক্তব্য রাখার সময় মোদি সরকারের প্রতিরক্ষা নীতির ভূয়সী প্রশংসাও করেন সেনা সর্বাধিনায়ক। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি কেন্দ্রীয় সরকারের মেক-ইন-ইন্ডিয়া প্রকল্প দারুণ ভাবে সফল। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (Defence Manufacturing) নির্মাতাদের তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ করার জন্য। তবে বারবার তাঁর কথায় উঠে আসে এশিয়ার বৃহত্তম হেলিকপ্টার তৈরির কারখানার কথা। তিনি বলেন, অনেকেই মনে করত, বড় কিছু করতে পারেনা ভারতবর্ষ। কিন্তু তাদের ধারনা প্রতিনিয়ত ভুল বলেই প্রমান হচ্ছে। কর্নাটকে হেলিকপ্টার তৈরির কারখানা তার বড় উদাহরণ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

     

     

LinkedIn
Share