Tag: defence news

defence news

  • National Anti-Terror Policy: আসছে জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি! অনলাইন উগ্রপন্থা, খোলা সীমান্তের অপব্যবহার রুখতে তৎপর কেন্দ্র

    National Anti-Terror Policy: আসছে জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি! অনলাইন উগ্রপন্থা, খোলা সীমান্তের অপব্যবহার রুখতে তৎপর কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে আসতে চলেছে জাতীয় সন্ত্রাস বিরোধী নীতি। নয়া এই নীতিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে। তবে তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যবস্থা নেওয়া পর্যন্ত সবেতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাই সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ভাবেই ‘সংগঠিত অপরাধের উপর ৩৬০ ডিগ্রি’ আক্রমণ করা সম্ভব হবে। এই নীতির ফলে সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন।

    এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে

    ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) নেতৃত্বে দেশের প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি (National Anti-Terror Policy) চূড়ান্ত অনুমোদনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই নীতির মূল লক্ষ্য—অনলাইন উগ্রপন্থা, খোলা সীমান্তের অপব্যবহার এবং বিদেশি অর্থে পরিচালিত নেটওয়ার্কের মতো আধুনিক সন্ত্রাসী হুমকির মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যগুলোর জন্য একটি অভিন্ন ও সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা। ডিজিটাল মাধ্যমে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর নিয়োগ কৌশল, বিদেশ থেকে পরিচালিত জটিল নেটওয়ার্ক নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতেই এই নীতির প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

    প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতির পটভূমি

    দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা মূলত বিচ্ছিন্ন আইন, নির্দিষ্ট সংগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপের উপর নির্ভরশীল ছিল। এর মধ্যে ইউএপিএ (Unlawful Activities Prevention Act) এবং ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র মতো সংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, একটি সর্বভারতীয় দিকনির্দেশমূলক নীতির অভাব ছিল। এর ফলে রাজ্যভেদে প্রস্তুতির তারতম্য, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে অসামঞ্জস্য এবং নতুন হুমকির ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রতিক্রিয়ায় ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল। নতুন জাতীয় নীতি এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই তৈরি করা হচ্ছে—যাতে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল একটি অভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী মতাদর্শের অধীনে কাজ করতে পারে।

    অভিন্ন প্রস্তুতির সুযোগ

    এই পরিকল্পনা সারা দেশে বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি স্তরে অভিন্ন প্রস্তুতির সুযোগ থাকবে। সারা দেশে একটি সাধারণ এটিএস কাঠামো তৈরি হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি রাজ্যের পুলিশপ্রধানের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়ন করা। সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত আলাদা আলাদা না-হয়ে, এক ছাদের নীচে হলে তা বেশি কার্যকর হবে। কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং রাজ্য-পুলিশ প্রযুক্তির ভাল ব্যবহার করছে। অভিন্ন এটিএস কাঠামো তৈরি হলে সন্ত্রাসীদের বিচারের ক্ষেত্রেও সুবিধা পাওয়া যাবে। যদি সমস্ত তথ্য একে অপরের সঙ্গে সহজে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তবে তদন্তে অনেক সুবিধা হবে। কোনও রাজ্যে যদি সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটে তবে তার মোকাবিলা করবে রাজ্য পুলিশ। তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যবস্থা নেওয়া পর্যন্ত সবেতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাই সহায়তা করবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি

    ১. অনলাইন উগ্রপন্থা ও ডিজিটাল নিয়োগ: সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেখা গিয়েছে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলি সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুব সমাজকে প্রভাবিত করছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি এড়িয়ে দ্রুত নিজেদের মতাদর্শ প্রচার করছে। নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি-বোমা হামলার মতো ঘটনায় তদন্তকারীরা অনলাইন উগ্রপন্থার যোগসূত্র খুঁজে পান। এই অভিজ্ঞতা থেকেই সাইবার-কেন্দ্রিক সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।

    ২. খোলা সীমান্তের অপব্যবহার: ভারতের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত, বিশেষ করে নেপালের সঙ্গে খোলা সীমান্ত, নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত। পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে জঙ্গিরা এই পথ ব্যবহার করে ভারতে ঢুকে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিদেশি পাসপোর্ট ফেলে দিয়ে স্থানীয় জনতার মধ্যে মিশে যায়। নতুন নীতিতে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা, আন্তঃদেশীয় গোয়েন্দা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কেন্দ্র ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

    ৩. বিদেশি অর্থ থেকে সাহায্য: বিদেশ থেকে অর্থ সাহায্য নিয়ে কিছু নেটওয়ার্ক , নানা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে উগ্রপন্থা ছড়াচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিদেশের কিছু ধর্মীয় কেন্দ্রের মাধ্যমে ভারতীয় যুবকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি। এই নীতির লক্ষ্য হবে ওই ধরনের আর্থিক ও বার্তা প্রেরণের চ্যানেল শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা, যাতে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা করা যায়।

    প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থা

    এই জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি তৈরি হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে, যেখানে এনআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, হুমকি বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তুলতে এনআইএ সক্রিয়ভাবে যুক্ত। এই নীতিতে রাজ্য পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এনআইএ-এর ডিরেক্টর জেনারেল ও এনএসজি-র প্রধানের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারা রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। লক্ষ্য একটাই—সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই যেন শুধু দিল্লিকেন্দ্রিক না হয়, বরং স্থানীয় স্তরেও কার্যকর হয়।

    ন্যাটগ্রিড সমন্বিত গোয়েন্দা ব্যবস্থা

    এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ন্যাটগ্রিড (ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড)। এই প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন সংস্থার ডেটাবেসকে সংযুক্ত করে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ দেয়। এর ফলে রাজ্য পুলিশ, এনআইএ ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর মধ্যে তথ্যের ফাঁক কমবে এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে—যেখানে সীমান্ত সন্ত্রাস, সাইবার হুমকি এবং চরমপন্থী মতাদর্শ বাড়ছে—এই নীতি ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, গোয়েন্দা-কেন্দ্রিক এবং সমন্বিত করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি এখন অনেক সহজেই বোঝা যায়। সেই সব তথ্য যদি একই ছাদের তলায় থাকে তবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি ফলদায়ক হবে। সন্ত্রাসীদের বয়স আগের চেয়ে কমেছে। এর বিরুদ্ধে সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের তরুণ অফিসারদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিতে সজ্জিত করতে হবে, তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আমরা আগামী দিনে এটিকে প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলব।

    কেন্দ্রের শক্তিশালী পদক্ষেপ

    সময় পাল্টাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে সন্ত্রাসের চেহারা। তাই সন্ত্রাসের নতুন পরিভাষার মোকাবিলা করতে জাতীয় সন্ত্রাস মোকাবিলা নীতি শক্তিশালী পদক্ষেপ বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এই নীতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর ধাপে ধাপে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP), প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়িত করা হবে। সব মিলিয়ে, ভারতের প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।

  • Saudi Pakistan Defence Pact: ‘‘নিবিড় পর্যালোচনা করা হচ্ছে’’, পাকিস্তান ও সৌদির প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Saudi Pakistan Defence Pact: ‘‘নিবিড় পর্যালোচনা করা হচ্ছে’’, পাকিস্তান ও সৌদির প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের (Saudi Pakistan Defence Pact)। এ ব্যাপারে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, সরকার এই চুক্তি সম্পর্কে অবগত। তিনি একে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক রূপ হিসেবে বর্ণনা করেন। জয়সওয়াল বলেন, “ভারত এই ঘটনার প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা ছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব নির্ধারণ করা যায়।”

    ভারতের প্রতিক্রিয়া (Saudi Pakistan Defence Pact)

    সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়সওয়াল বলেন, “আমরা সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রতিবেদন দেখেছি। সরকার অবগত ছিল যে এই উন্নয়ন, যা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে, তা বিবেচনার অধীনে ছিল। আমরা এই উন্নয়নের প্রভাব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর কী হতে পারে তা পর্যালোচনা করব।” তিনি বলেন, “সরকার ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এবং সব ক্ষেত্রে সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি

    প্রসঙ্গত, চুক্তিটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রিয়াধ সফরের সময় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছে (Saudi Pakistan Defence Pact)। এই চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং যৌথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে দুই দেশ। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, যে কোনও একটি দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে উভয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে, তার প্রেক্ষাপটে ঘনিষ্ঠতর সামরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌদির যুবরাজের সম্পর্ক খুবই ভালো। তার পরেও তারা পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে মূলত দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে। এখন দেখার, ভারতের সঙ্গে কেমন আচরণ করে সৌদি আরব (Saudi Pakistan Defence Pact)।

  • Lanza-N Radar: ঘুম উড়বে শত্রুর! ভারতের হাতে এল বিশ্বের সেরা থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার ‘ল্যাঞ্জা-এন’

    Lanza-N Radar: ঘুম উড়বে শত্রুর! ভারতের হাতে এল বিশ্বের সেরা থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার ‘ল্যাঞ্জা-এন’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় বিরাট লাফ ভারতের। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর দুরন্ত প্রতিফলন। আকাশপথে শত্রুর হামলা ঠেকাতে ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) হাতে এল বিশ্বের অন্যতম সেরা থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার (3D-ASR) সিস্টেম।

    ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে লাগল ‘ল্যাঞ্জা-এন’

    পোশাকি নাম ‘ল্যাঞ্জা-এন’ (Lanza-N Radar)। ভারতীয় নৌসেনার জন্য স্পেনের সংস্থা ‘ইন্দ্রা-ল্যাঞ্জা’র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতেই এই সর্বাধুনিক আকাশ নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করেছে দেশীয় কোম্পানি ‘টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড’ (টিএএসএল)। ইতিমধ্যেই প্রথম রেডার সিস্টেমটি নৌসেনার (Indian Navy) একটি রণতরীতে মোতায়েন করা হয়েছে। ক্রমশ, এধরনের আরও ১৯টি থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার সিস্টেম মোতায়েন করা হবে দেশের যুদ্ধজাহাজগুলিতে।

    কর্নাটকে টাটার কারখানায় তৈরি হচ্ছে

    জানা গিয়েছে, এটি ল্যাঞ্জা-এন আসলে ইন্দ্রার তৈরি ল্যাঞ্জা থ্রিডি রেডারেরই নৌ-সংস্করণ। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে কর্নাটকে টাটার কারখানাতে এই রেডারগুলি তৈরি হচ্ছে। এই প্রথম স্পেনের বাইরে ল্যাঞ্জা-এন রেডার (Lanza-N Radar) কাজ করতে চলেছে। ২০২০ সালে হওয়া প্রায় ১৪ কোটি ডলারের (প্রায় ১২৮০ কোটি টাকা) চুক্তির আওতায় অবশেষে এটি মাঠে নামছে। কর্নাটকে টাটার কারখানায় এই রেডারগুলি তৈরি করবে। টিএএসএল জানিয়েছে, প্রথম কমিশনিংয়ের পর, ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার এবং বিমানবাহী রণতরীতে অতিরিক্ত এই রেডার সিস্টেমকে জুড়ে ফেলা হবে।

    বিশ্বের সেরা এয়ার ডিফেন্স রেডারগুলির অন্যতম

    বিশ্বের সেরা দূরপাল্লার এয়ার ডিফেন্স এবং ক্ষেপণাস্ত্র-বিরোধী রেডারগুলির মধ্যে এই রেডারের (Lanza-N Radar) স্থান একেবারে উপরের দিকে। এটি ত্রিমাত্রিক মডিউলে কাজ করে। ফলে, আকাশ ও ভূপৃষ্ঠের উভয় লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে। রেডারটির সীমা প্রায় ৪৭০ কিমি। এটি ড্রোন, সুপারসনিক যুদ্ধবিমান, বিকিরণ-রোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নজর রাখতে পারে। পাশাপাশি নৌ প্ল্যাটফর্মও সনাক্ত করতে পারে এই রেডার। যে কারণে, দূরপাল্লার নজরদারির ক্ষেত্রেও যেমন এর জুড়ি মেলা ভার।

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের জয়জয়কার

    বর্তমানে দেশে তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সংখ্যা বেড়েই চলেছে ভারতে। কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগের ফলে, বিদেশি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলি ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে তৈরি করছে একাধিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। সেই ক্ষেত্রে এই বড় সাফল্য পেল টিএএসএল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Atmanirbhar Bharat) স্লোগানের অন্যতম ফসল এই ত্রিমাত্রিক রেডার। টিএএসএল-এর তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই কৃতিত্ব অর্জন ভারতের প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্থানীয়করণের সঙ্গে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন ও অ্যাসেম্বলির ক্ষেত্রে এটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।”

  • Made in India Rafale: ‘ভারতেই তৈরি হোক ১১৪টি রাফাল’, প্রস্তাব বায়ুসেনার, খতিয়ে দেখছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

    Made in India Rafale: ‘ভারতেই তৈরি হোক ১১৪টি রাফাল’, প্রস্তাব বায়ুসেনার, খতিয়ে দেখছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতেই তৈরি হোক ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান! প্রস্তাব ভারতীয় বায়ুসেনার।

    কেন্দ্রকে অভিনব প্রস্তাব বায়ুসেনার

    চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিচ্ছে মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমান। অবসরের দিকে এগোচ্ছে মিগ-২৯, জাগুয়ার ও মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানগুলিও। সেই যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে যে তেজস মার্ক-১এ অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল, তা দীর্ঘ বিলম্বের শিকার। মোট ১৮০টি তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমানের বরাত দেওয়া রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই একাধিকবার উষ্মাপ্রকাশ করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এহেন পরিস্থিতিতে দেশে যুদ্ধবিমানের সংখ্যা হ্রাসের মোকাবিলা এবং বাহিনীর শক্তি দ্রুত বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এমনই একটি অভিনব প্রস্তাব কেন্দ্রকে দিল ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)।

    ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ রাফাল যুদ্ধবিমান

    সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ১১৪টি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ রাফাল যুদ্ধবিমান (Made in India Rafale) কিনতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে সুপারিশ করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। যুদ্ধবিমানগুলি রাফাল নির্মাণকারী ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একাধিক ভারতীয় সংস্থা তৈরি করবে। বায়ুসেনার পাঠানো স্টেটমেন্ট অফ কেস বা প্রস্তাবটির আর্থিক পরিমাণ ধরা হচ্ছে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি, যেখানে দেশীয় উপাদানের অংশগ্রহণ থাকবে ৬০ শতাংশেরও বেশি।

    অপারেশন সিঁদুর-এ রাফালের ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুর-এ রাফাল যুদ্ধবিমান কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, তা নিজেদের প্রস্তাবে রাখে বায়ুসেনা। সেখানে রাফাল যুদ্ধবিমানের সাফল্যকে তুলে ধরা হয়। সূত্রের খবর, বায়ুসেনার নোটে বলা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুর অভিযানে রাফাল তার অত্যাধুনিক স্পেকট্রা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট ব্যবহার করে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চিনা পিএল-১৫ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলকে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছে।

    আরও উন্নত অস্ত্রে সজ্জিত

    সূত্রের খবর, বর্তমান রাফালে যে স্ক্যাল্প মিসাইল আছে, তার থেকে আরও উন্নত, অধিক দূরপাল্লার এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল থাকতে পারে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ রাফালে (Made in India Rafale)। এই স্ক্যাল্প ব্যবহার করেই পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক এবং জঙ্গিদের ঘাঁটিতে নিশানা করেছিল ভারত। ফরাসি সংস্থা ভারতে তৈরি করবে ইঞ্জিন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের আধুনিক কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই হায়দরাবাদে রাফালে ব্যবহৃত এম-৮৮ ইঞ্জিনের জন্য এমআরও ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। উৎপাদনে অংশ নেবে টাটা-সহ একাধিক ভারতীয় সংস্থা।

    খতিয়ে দেখছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

    সূত্রের খবর, বায়ুসেনার (Indian Air Force) থেকে পাওয়া সুপারিশ নিয়ে বর্তমানে প্রতিরক্ষা অর্থ বিভাগসহ বিভিন্ন শাখা এনিয়ে কাজ করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিরক্ষা সচিবের নেতৃত্বে ডিফেন্স প্রোকিউরমেন্ট বোর্ডের বৈঠক বসতে পারে। তার পরে, এই বিষয়ে আলোচনায় বসবে রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল। যদি শেষ পর্যন্ত সেই সুপারিশ গৃহীত হয়, তাহলে সেটি ভারত সরকারের স্বাক্ষরিত সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে রাফালে বিমানের (Made in India Rafale) সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭৬। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনা ৩৬টি রাফালে পেয়েছে এবং ভারতীয় নৌবাহিনী চুক্তির মাধ্যমে আরও ২৬টি অর্ডার করেছে।

  • Maldives Islands: চিনের দাদাগিরি রুখতে মলদ্বীপের কাছে সামরিক কার্যকলাপ বাড়াচ্ছে দিল্লি

    Maldives Islands: চিনের দাদাগিরি রুখতে মলদ্বীপের কাছে সামরিক কার্যকলাপ বাড়াচ্ছে দিল্লি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের সীমান্ত রয়েছে প্রায় চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। দুই দেশের সীমান্ত নিয়ে সমস্যা প্রায়ই খবরের শিরোনামে আসে। পৃথিবীর প্রথম দুই জনবহুল দেশের সংঘাত তবে বর্তমানে আর মাত্র চার হাজার কিলোমিটারের সীমানা জুড়েই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে তা মহাসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতেও (Maldives Islands) ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের দখল নিজেদের কাছেই রাখতে চায় বেজিং। চিনের দাদাগিরি রুখতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দিল্লিও। নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে সামরিক কার্যকলাপও (Indian Armed Forces) বৃদ্ধি করেছে ভারত।

    লাক্ষাদ্বীপের মালিকু দ্বীপে নতুন সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে মোদি সরকার 

    লাক্ষাদ্বীপের মালিকু দ্বীপে নতুন সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে মোদি সরকার। সরকারি সূত্রে খবর, মালিকু দ্বীপের এই সামরিক ঘাঁটিগুলিতে (Indian Armed Forces) নতুন দুটি বিমান ঘাঁটি করা হবে আবার অন্যদিকে আগাত্তি দ্বীপের বর্তমানে যে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে সেটিকেও ঢেলে সাজানো হবে বলে জানা গিয়েছে। কূটনৈতিকভাবে এই দুটি দ্বীপের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুটি দ্বীপই আরব সাগরে অবস্থিত এবং বিশ্বের যে প্রধান সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ রয়েছে তার অর্ধেক রাস্তাই এই অঞ্চলে অবস্থিত। অর্থাৎ বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্য পথে চিনের দাপট রুখতে ভারতের এমন কূটনৈতিক পদক্ষেপ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    বিমান ঘাঁটিগুলি বাণিজ্যিক কাজেও ব্যবহার করা হবে

    ভারত সরকারের তরফ জানানো হয়েছে, এই বিমান ঘাঁটিগুলি বাণিজ্যিক কাজেও ব্যবহার করা হবে। দীর্ঘদিন ধরেই বেজিং উদ্যোগ নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে অর্থাৎ যে কোনও মূল্যে এই অঞ্চলগুলিতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চায় চিন। ঠিক এই কারণেই আফ্রিকা মহাদেশের ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে চিনা কোম্পানিগুলির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নজরে পড়ে। ওই দেশগুলির সেনাবাহিনীর সঙ্গে চিনের সেনা যৌথ মহড়াও করে। সামরিক চুক্তিও সম্পাদন করছে বেজিং। সামরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় বেজিং ওই দেশগুলির সঙ্গে।

    ভারতকে রুখতে পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক

    আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সাধারণভাবে সারা বিশ্বজুড়ে দুটি দেশের মধ্যে বিবাদ দেখা দিলে তা মেটানোর কাজ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমেত ইউরোপের দেশগুলি। ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন যুদ্ধেও তা দেখা গিয়েছে, ঠিক একইভাবে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলির এই জায়গাটি নিতে চাইছে চিন। এক্ষেত্রে ভারতই হয়ে উঠছে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ। ভারতকে রুখতে পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সকলেরই জানা। আর্থিক দিক থেকে, সামরিকভাবে পাকিস্তানকে সহযোগিতা করে চলেছে বেজিং। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পরিকাঠামোও নির্মাণ করেছে বেজিং। খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে, এশিয়া মহাদেশে প্রতিপক্ষ হিসেবে চিন ভারতকেই ভাবে।

    চিন ঘনিষ্ঠ মলদ্বীপের (Maldives Islands) ওপরেও কড়া নজর রাখতে চায় ভারত

    গত বছরে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু তাঁদের দেশ থেকে ভারতের সেনা সরানোর কথা বলেন। শুধু তাই নয় নির্বাচনে জেতার আগে এটাই ছিল মুইজ্জুর প্রতিশ্রুতি যে তিনি ক্ষমতায় ফিরলে দেশ থেকে ভারতের সেনা সরানো হবে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, এমন সিদ্ধান্ত মুইজ্জুর নয়, এর পিছনে রয়েছে বেজিংয়ের কূটনৈতিক কৌশল। তবে মলদ্বীপের (Maldives Islands) খুব কাছেই ভারতের সামরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি বেশ চোখে পড়ছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের শক্তি আরও বাড়াতে গত মার্চের প্রথম সপ্তাহে নৌ-ঘাঁটি চালু করেছে ভারত। লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জের এই নৌ-ঘাঁটির (নেভাল স্টেশন) নাম রাখা হয়েছে ‘আইএনএস জটায়ু’। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের অনুমান চিন ঘনিষ্ঠ মলদ্বীপে কড়া নজর রাখতে চায় ভারত। তাই লাক্ষাদ্বীপে বেড়েই চলেছে ভারতের সামরিক কার্যকলাপ।

    চলতি বছরেই মলদ্বীপে (Maldives Islands) এসেছিল চিনা গুপ্তচর জাহাজ

    চিন-মলদ্বীপ আঁতাঁতের কারণে জলসীমার এই অঞ্চলে নিরন্তর নজরদারি চালানো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। চলতি বছরেই মলদ্বীপে এসেছিল চিনা গুপ্তচর জাহাজ। ফলে, সামগ্রিক দিক দিয়ে ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং সীমানাকে সুরক্ষিত রাখতে এই সামরিক ঘাঁটিগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই ঘাঁটিগুলি থেকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যাবতীয় বাণিজ্যিক ও সামরিক গতিবিধির ওপর নজর রাখা সহজ হবে। আর লাক্ষাদ্বীপের অবস্থান মলদ্বীপের (Maldives Islands) ৫০ মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে হওয়ায় ওই রাষ্ট্রের গতিবিধির ওপরও নজর রাখবে ভারত।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Defence Production: প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের

    Defence Production: প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেকর্ড গড়ল ভারতে (India) বার্ষিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন (Defence Production)। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এই উৎপাদন গড়েছে রেকর্ড। প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফেই জানানো হয়েছে একথা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১.২৭ লাখ কোটি টাকা। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রোগ্রামেই উৎপাদন ছুঁয়েছে এই মাইলস্টোন।” ২০২২-২৩ আর্থিকবর্ষে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। একলপ্তে সেটাই বেড়ে গিয়েছে অনেকখানি।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য (Defence Production)

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে মেক ইন ইন্ডিয়া প্রোগ্রাম বছরের পর বছর নতুন নতুন মাইলফলক অতিক্রম করছে। আমাদের শিল্পকে অনেক অভিনন্দন যার মধ্যে রয়েছে ডিপিএসইউ, অন্যান্য পিএসইউএস যারা প্রতিরক্ষা সামগ্রী তৈরি করে এবং ব্যক্তিগত শিল্প। ভারতকে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার আরও সহায়ক ব্যবস্থা তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    প্রতিরক্ষা (Defence Production) খাতে ভারতের এই বিকাশকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তিনি বলেন, “এই যাত্রায় যাঁরা শামিল হয়েছেন, তাঁদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে আমাদের দক্ষতা বাড়াতে এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে আমরা পুরোপুরি দায়বদ্ধ।” তিনি বলেন, “ভারতকে আমরা বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের নেতৃত্বস্থানীয় হাবে পরিণত করব।”

    আর পড়ুন: পশুপতিনাথ মন্দিরের কাছেই মিলল মধ্যযুগের ইতিহাস, জনতার ভিড়

    প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সামগ্রিক বৃদ্ধিতে অসাধারণ অবদান রেখেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি ছুঁয়েছে ২১ হাজার ৮৩ কোটি টাকার রেকর্ড। যা গত বছরের তুলনায় ৩২.৫ শতাংশ বেশি। গত বছর টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৯২০ কোটি টাকা।’ বিবৃতিতে এ-ও বলা হয়েছে, ‘গত পাঁচ বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শতাংশের বিচারে (India) এই বৃদ্ধির হার ৬০ (Defence Production)।’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Nagastra-1 Suicide Drone: ভারতীয় সেনার হাতে এল মেড ইন ইন্ডিয়া আত্মঘাতী ড্রোন ‘নাগাস্ত্র-১’

    Nagastra-1 Suicide Drone: ভারতীয় সেনার হাতে এল মেড ইন ইন্ডিয়া আত্মঘাতী ড্রোন ‘নাগাস্ত্র-১’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘ঘর মে ঘুসকে মারেঙ্গে…’’। দেশে সন্ত্রাস হামলা হলে ভারতের প্রত্যুত্তর কেমন হবে তা বোঝাতে গিয়ে সম্প্রতি নাম না করে পাকিস্তানকে ঠিক এই ভাষাতেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার, মোদির সেই বার্তা সফল রূপ দিতে ভারতীয় সেনার হাতে এসে গেল ‘নাগাস্ত্র’ (Nagastra-1 Suicide Drone)। ভারত নিজস্ব ক্ষমতায় কামিকাজে লয়টারিং মিউনিশন (Kamikaze Loitering Munition) তৈরি করে ফেলায় এবার সীমান্তে চাপে চিন-পাকিস্তান।

    এবার থেকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দায়িত্বে ‘নাগাস্ত্র-১’

    উরি-পুলওয়ামা হামলার জবাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক করে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে গজিয়ে ওঠা জঙ্গি শিবির ধ্বংস করেছিল ভারতীয় ফৌজ। তবে, তা করতে ভারতীয় ফৌজকে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে হয়েছিল। কিন্তু, এবার, আর তার প্রয়োজন নেই। সৌজন্য আত্মঘাতী ড্রোন ‘নাগাস্ত্র-১’ (Nagastra-1 Suicide Drone)। সীমান্তের এপার থেকেই কন্ট্রোল করে সীমান্তের ওপারে থাকা জঙ্গি ঘাঁটি থেকে শুরু করে শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ টার্গেট ধ্বংস করতে পারবে ভারতীয় সেনা। ফলে, আর কোনও সৈনিককে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিতে হবে না।

    ওজন মাত্র ৯ কেজি, উড়তে পারে ৩০ কিমি!

    প্রায় সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ‘লয়টারিং মিউনিশন’ বা আত্মঘাতী ড্রোন ভারতের পক্ষে গেমচেঞ্জার প্রমাণিত হতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ‘নাগাস্ত্র-১’ দেখতে একটি খেলনা বিমানের মতো। মাটি থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত উপরে উঠে আত্মঘাতী হামলা চালাতে সক্ষম এই মানববিহীন অতিক্ষুদ্র বিমান। ৯ কেজির এই ড্রোন বহন করতে পারে ১ কিলো বিস্ফোরক। নাগাস্ত্র একটানা ৩০ মিনিট ধরে উড়তে পারে। কোনও মানুষ একে নিয়ন্ত্রণ করলে ১৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত উড়তে পারে ড্রোনটি। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়লে, ৩০ কিলোমিটার দূরেও গিয়ে হামলা চলাতে পারে নাগাস্ত্র। 

    লক্ষ্যবস্তুর আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে থাকে, তারপর…

    সেনার তরফে জানানো হয়েছে, লক্ষ্যবস্তু স্থির না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুর আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে থাকে এই ড্রোনগলি। লক্ষ্যবস্তুর আশপাশে উড়তে উড়তে, সঠিক সময়ে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ‘নাগাস্ত্র-১’ (Nagastra-1 Suicide Drone) হামলা চালায় ‘কামিকাজে’ মোডে (জাপানি শব্দ, অর্থ আত্মঘাতী (Kamikaze Loitering Munition)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন রণতরীগুলি ধ্বংস করার জন্য এই পন্থা নিয়েছিল জাপান। জাপানি বিমান বাহিনীর পাইলটরা যুদ্ধবিমান নিয়ে উড়ে যেত মার্কিন রণতরীর উপর। তারপর, বিমানটি নিয়ে ধাক্কা মারত জাহাজে। জাহাজটিও ধ্বংস হত, বিমানটিও)। ড্রোন শত্রুপক্ষের বাঙ্কার, ছাউনি, অস্ত্রাগারের উড়ে এসে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম নাগাস্ত্র। এমনকি, কোনও বাড়িতে লুকিয়ে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিতেও তা আছড়ে পড়তে পারে। নাগাস্ত্রও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সময়, লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করার পাশাপাশি নিজেও ধ্বংস হয়। সেই কারণে, একে আত্মঘাতী-ড্রোন বলা হয়। 

    নাগাস্ত্র-১ ড্রোনে রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য

    দিনে ও রাতে নজরদারি চালানোর জন্য, নাগাস্ত্র-১ (Nagastra-1 Suicide Drone) ড্রোনে ২৪-ঘণ্টা ব্যবহারযোগ্য বিশেষ ক্যামেরাও আছে। এতে ডুয়াল সেন্সর আছে। ২৫ কিমি দূরের ছবি পাঠাতে সক্ষম নাগাস্ত্র। এছাড়াও এতে রয়েছে জিপিএস-ভিত্তিক প্রযুক্তি। জিপিএস টার্গেট রেঞ্জ ৬০ কিমি। জিপিএস নির্দেশিত নির্দিষ্ট স্থানে হামলা চালাতে পারে। ভুলচুক হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ২ মিটার। বিদেশে ব্যবহৃত কামিকাজে ড্রোন ফায়ার অ্যান্ড ফর্গেট পদ্ধতিতে চলে। অর্থাৎ, একবার বেরিয়ে গেলে, ফেরানো যায় না। কিন্তু, নাগাস্ত্র এখানে অন্যদের থেকে আলাদা। কোনও সময়ে মনে হলে অভিযান ‘অ্যাবর্ট’ বা বাতিল করতে হবে, তখন মাঝপথে তাকে ফিরিয়ে আনা যায়। পরে ব্যবহারও করা যায়। এক্ষেত্রে, প্যারাশুটের মাধ্যমে সফট ল্যান্ডিং করানো যায়। এই বিশেষ ব্যবস্থা, বিশ্বে আর কোনও আত্মঘাতী ড্রোনে নেই। 

    মোট ৪৮০টির মধ্যে এসেছে ১২০টি

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশে সরঞ্জাম উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়ার জোরালো সওয়াল করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই প্রেক্ষিতেই দেশেই নকশা ও তৈরি করা হয়েছে এই সুইসাইড ড্রোন (Kamikaze Loitering Munition)। নাগপুরের সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ ইন্ডিয়া লিমিটেডের সহযোগী সংস্থা ইকনমিক্স এক্সপ্লোসিভস লিমিটেড কোম্পানি ও জেড মোশন অটোনোমাস সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেড নাগাস্ত্র (Nagastra-1 Suicide Drone) তৈরি করেছে। মোট ৪৮০টি ড্রোন বানানোর বরাত দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। প্রথম ব্যাচে এখন চলে এল ১২০টি। ইতিমধ্যেই বিশ্বের নজরে চলে এসেছে ‘নাগাস্ত্র-১’।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • India China Border: হাসিমারা থেকে ২৯০ কিমি দূরে ‘স্টেলথ’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন চিনের! কী প্রস্তুতি ভারতের?

    India China Border: হাসিমারা থেকে ২৯০ কিমি দূরে ‘স্টেলথ’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন চিনের! কী প্রস্তুতি ভারতের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারা (Hasimara Airbase) থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার এবং সিকিম থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের শিগাৎসে বিমানবন্দরে নিজেদের অত্যাধুনিক জে-২০ যুদ্ধবিমান (J-20 Stealth Fighter Jet) মোতায়েন করেছে চিন (India China Border)। 

    উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ল কোন ছবি

    ‘অল সোর্স অ্যানালিসিস’ (All Source Analysis) নামক একটি সংস্থা সম্প্রতি নিজেদের এক্স (সাবেক ট্যুইটার) হ্যান্ডলে একটি উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে। ২৭ মে তোলা ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বিমানবন্দরে সারি সারি দাঁড়িয়ে রয়েছে অনেক যুদ্ধবিমান। প্রকাশিত ছবিতে চিহ্নিত করে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বাঁদিকে একটু বড় আকারের ৬টি যুদ্ধবিমান সারি দিয়ে রয়েছে। তার পাশেই তুলনামূলকভাবে ছোট আকারে আরও ৮টি যুদ্ধবিমান রয়েছে। ছবির ডানদিকে, একটি বড় আকারের সামরিক নজরদারি বিমানও দেখা গিয়েছে।

    কে এই ‘অল সোর্স অ্যানালিসিস’?

    ‘অল সোর্স অ্যানালিসিস’ জানিয়েছে, ছবিটি ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা (India China Border) চিন-পরিচালিত তিব্বতের শিগাৎসে বিমানবন্দরের। সংস্থার দাবি, প্রকাশিত ছবির বাঁদিকে রাখা ৬টি হল চিনা বায়ুসেনার (পিএলএএএফ) অত্যাধুনিক জে-২০ যুদ্ধবিমান (J-20 Stealth Fighter Jet)। পাশে রয়েছে ৮টি জে-১০ যুদ্ধবিমান। একেবারে ডানদিকে রয়েছে চিনা বায়ুসেনার কেজে-৫০০ অ্যাওয়াক্স নজরদারি বিমান। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, ‘অল সোর্স অ্যানালিসিস’ হল একটি ভূ-মহাকাশীয় নজরদারি (Geo-spatial intelligence) সংস্থা। পৃথিবীর কক্ষপথে মোতায়েন কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা ছবি ব্যবহার করে ভূ-মহাকাশীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করাই এই সংস্থার কাজ। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই কাজ করে চলেছে। ফলে ধরে নেওয়া যেতেই পারে, এই সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও তথ্য সত্যি ও নির্ভরযোগ্য।

    জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন তাৎপর্যপূর্ণ

    শিগাৎসে হল তিব্বতের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ১২,৪০৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি বিশ্বের উচ্চতম বিমানবন্দরগুলির মধ্যে একটি। একাধারে অসামরিক ও সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এই বিমানবন্দর (Shigatse Airbase)। সাধারণত, এই বিমানবন্দরে সারা বছর জে-১০ এবং কেজে-৫০০ মোতায়েন থাকে। এতে নতুনত্বের কিছু নেই। কিন্তু, এখন ৬টি ‘স্টেলথ’ (চিনের দাবি তেমনটাই) জে-২০ যুদ্ধবিমান (J-20 Stealth Fighter Jet) মোতায়েন হওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বটে। কারণ, সাধারণত চিন তাদের সবচেয়ে আধুনিক এই বিমানগুলিকে পূর্ব সীমান্তে, তথা পূর্ব চিন সাগরের দিকে মোতায়েন করে রাখে। সেখান থেকে ভারতের সীমান্ত (India China Border) ঘেঁষে তিব্বতে এই বিমানগুলিকে কেন চিন এখন মোতায়েন করেছে, সেই নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মনে প্রশ্ন উঠছে। 

    রাফাল রয়েছে, তাই চিন্তিত নয় ভারত

    এই নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্যে নারাজ ভারতীয় বায়ুসেনা। তবে, সূত্রের খবর, ভারত এই নিয়ে বেশি চিন্তিত নয়। কারণ, হাসিমারায় ডগ-ফাইটে পারদর্শী অত্যাধুনিক ১৮টি ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানের একটি গোটা স্কোয়াড্রন মোতায়েন করে রেখেছে ভারত। ফলে, চিন কোনও কিছু হঠকারিতা করলে, তার সমুচিত জবাব দিতে তৈরি ভারত ও ভারতীয় বায়ুসেনা। ফ্রান্স থেকে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনেছে ভারত। এর মধ্যে একটি স্কোয়াড্রন বিশিষ্ট ১৮টি যুদ্ধবিমান রয়েছে পাক-সীমান্ত লাগোয়া আম্বালা বায়ু-ঘাঁটিতে। বাকি ১৮টিকে নিয়ে গঠিত দ্বিতীয় স্কোয়াড্রন রয়েছে হাসিমারা বেসে। তবে, বর্তমানে দুই বেস থেকে চারটি করে বিমান রয়েছে আলাস্কায়। সেখানে মার্কিন বায়ুসেনার সঙ্গে যৌথ মহড়া চলছে।

    তিব্বতে বিপুল পরিকাঠামো তৈরি করছে চিন

    এমন এই প্রথম নয় যে চিন তিব্বতে জে-২০ যুদ্ধবিমান (J-20 Stealth Fighter Jet) মোতায়েন করল। এর আগেও করেছিল, তবে সংখ্যায় কম। অল সোর্স অ্যানালিসিস-এর আরও দাবি, গত ৫ বছর ধরে ভারত-সীমান্ত (India China Border) লাগোয়া তিব্বতে প্রতিনিয়ত বায়ুসেনার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে চিন। নতুন নতুন বায়ু ঘাঁটি নির্মাণ থেকে শুরু করে বর্তমান ঘাঁটিগুলির পরিকাঠামো বৃদ্ধি করছে বেজিং। পাশাপাশি, এই সব ঘাঁটিগুলিতে জে-২০ ফাইটার এবং এইচ-৬ বোমারু বিমান এখন মোতায়েন করা শুরু করেছে। 

    জে ২০-র জবাবে এস-৪০০ রয়েছে ভারতের

    তবে, পিছিয়ে নেই ভারতও। ড্রাগনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চিন-সীমান্তে নিজেদের সামরিক পরিকাঠামো কয়েকগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে ভারত। বিমান ঘাঁটিগুলিকে আরও মজবুত ও সুরক্ষিত করা হয়েছে। বিমান সুরক্ষিত রাখার জন্য শক্তিশালী শেল্টার নির্মাণ, ঘাঁটির নিরাপত্তায় চারদিকে ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র (Surface-To-Air Missile) মোতায়েন করা হয়েছে। চিন লাগোয়া পূর্ব সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় রুশ নির্মিত এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা দূরপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার এস-৪০০ মিসাইল মোতায়েন রয়েছে। এই মিসাইল যে কোনও স্টেলথ বিমানকে ট্র্যাক করে ধ্বংস করতে পারদর্শী। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (India China Border) চিন জে-২০ (J-20 Stealth Fighter Jet) নিয়ে আগ্রাসী হলেই ভারত সঙ্গে সঙ্গে এস-৪০০ (S-400) নিক্ষেপ করে জবাব দিতে প্রস্তুত।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Rafale Marine Jet Deal: ভারতে এসেছে ফরাসি দল, ২৬টি রাফাল-এম যুদ্ধবিমান নিয়ে আজ শুরু আলোচনা

    Rafale Marine Jet Deal: ভারতে এসেছে ফরাসি দল, ২৬টি রাফাল-এম যুদ্ধবিমান নিয়ে আজ শুরু আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে লোকসভা ভোটের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমান কেনার দর কষাকষি-পর্ব (Rafale Marine Jet Deal)। নৌসেনার (Indian Navy) জন্য ২৬টি রাফাল-এম যুদ্ধবিমান কিনতে মনস্থির করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। চুক্তির মূল্য হতে পারে আনুমানিক ৫০ হাজার কোটি টাকা। এবার সেই চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলতে ভারতে এসে পৌঁছেছে ফ্রান্সের উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সূত্রের খবর, আজই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। খুব শীঘ্রই হয়ত দু’পক্ষের তরফে যৌথ ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কারা থাকবেন বৈঠকে?

    সূত্রের খবর, ফরাসি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চুক্তি-মূল্য ও আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্তারা (Rafale Marine Jet Deal)। ২৬টি রাফাল-এম যুদ্ধবিমানগুলি ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) দুই বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য ও আইএনএস বিক্রান্ত-এর ওপর মোতায়েন থাকবে। ২৬টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে, ২২টি সিঙ্গেল সিটার বা এক আসন-বিশিষ্ট এবং ৪টি ডবল সিটার (দুই-আসন বিশিষ্ট) বিমান কেনা হবে। প্রশিক্ষণের জন্য ডাবল সিটার জেটগুলি ব্যবহার করা হবে। এর পাশাপাশি থাকবে, বর্তমানে ব্যবহৃত রুশ-নির্মিত মিগ-২৯কে যুদ্ধবিমানগুলিও। যা জানা যাচ্ছে, ফরাসি প্রতিনিধিদলে থাকবেন সেদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্তারা। বৈঠকে থাকবেন রাফালের উৎপাদনকারী সংস্থা দাসো এভিয়েশন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা তালে-র শীর্ষ আধিকারিকরাও। অন্যদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধিদলে থাকবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সরঞ্জাম ক্রয় বিভাগ এবং ভারতীয় নৌসেনার শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা।

    চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর?

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ফ্রান্সের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রাফাল-আলোচনায় (Rafale Marine Jet Deal) মূলত তিনটি বিষয় উঠে আসবে। এক, ২৬টি রাফাল মেরিনের দাম। দুই, আনুষাঙ্গিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রসম্ভার। তিন, চুক্তি স্বাক্ষর ইস্তক বিমান হস্তান্তরের সময়সীমা। জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষরের কাজ সম্পন্ন করতে চাইছে ভারত। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের আগ্রাসনের বিষয়টি মাথায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব রাফাল-এম যুদ্ধবিমান হাতে পেতে চাইছে ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy)। চুক্তি হওয়ার পর অন্তত ২ বছরের মধ্যে ২৬টি বিমানের প্রথম ব্যাচ হয়ত ভারতীয় নৌসেনার হাতে আসবে। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। দেশের পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম উপকূলে একটি করে বিমানবাহীন রণতরী মোতায়েন করতে তৎপর নৌসেনা। সেই লক্ষ্যে, বুড়ো হয়ে যাওয়া মিগ-২৯কে-র পরিবর্তে অত্যাধুনিক রাফাল-এম যুদ্ধবিমানই যে প্রথম পছন্দ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট চুক্তি

    দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নৌসেনার (Indian Navy) দুটি বিমানবাহী রণতরীর জন্য ফ্রান্সের রাফাল-এম যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল এম যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। এরপর ফ্রান্সের তরফে প্রস্তাব চেয়ে পাঠোনা হয় (রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল)। ফ্রান্স গত ডিসেম্বরে ভারতীয় টেন্ডারে সাড়া দিয়েছিল। ফ্রান্সের পাঠানো প্রস্তাব পর্যালোচনা করার পর তা গৃহীত হলে ভারতের তরফে লেটার অফ অ্যাকসেপটেন্স পাঠানো হয়। যার স্বীকৃতিস্বরূপ জবাবও দেয় মাক্রঁ প্রশাসন। এবার চূড়ান্ত আলোচনায় (Rafale Marine Jet Deal) বসবে দুই পক্ষ। তারপরই চুক্তি সম্পন্ন হবে। জানা গিয়েছে, বায়ুসেনার জন্য কেনা ৩৬টি রাফাল বিমানের মতোই, রাফাল-এম বিমান কিনতে গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট চুক্তি হবে। অর্থাৎ, সরাসরি দুই সরকারের মধ্যে চুক্তি হবে। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • AK-203: সেনার হাতে এল দেশে তৈরি ২৭ হাজার অত্যাধুনিক ‘একে-২০৩’ কালাশনিকভ, কী বিশেষত্ব?

    AK-203: সেনার হাতে এল দেশে তৈরি ২৭ হাজার অত্যাধুনিক ‘একে-২০৩’ কালাশনিকভ, কী বিশেষত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সেনার (Indian Army) হাতে উঠে এল প্রায় ২৭ হাজার দেশে নির্মিত (Made in India) ‘একে-২০৩’ অ্যাসল্ট রাইফেল (AK-203)। কালাশনিকভ ঘরানার এই অত্যাধুনিক রাইফেল প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে উৎপাদন হচ্ছে ভারতেই। এটি তৈরি করেছে উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেল ফ্যাক্টরি লিমিটেড (আইআরআরপিএল)। জানা গিয়েছে, আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে, আরও ৮ হাজার একে-২০৩ রাইফেল সেনার হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    আইআরআরপিএল হল ভারত ও রুশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী ২ সংস্থার যৌথ উদ্যোগ। ভারতের অ্যাডভান্সড উইপন্স অ্যান্ড ইক্যুইপমেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেড (পূর্বতন অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড) এবং রুশ সংস্থা কালাশনিকভ কনসার্ন — যা বিশ্বখ্যাত একে-৪৭ রাইফেল নির্মাণের জন্য পরিচিত— এর মধ্যে যৌথ অংশিদারিত্বে তৈরি হওয়া সংস্থা। এই সংস্থার কারখানা রয়েছে উত্তরপ্রদেশের অমেঠির কোরওয়াতে। 

    ৬ লক্ষ ৭০ হাজার ইউনিট উৎপাদন

    দেশীয় ইনস্যাসকে সরিয়ে নতুন প্রধান অ্যাসল্ট রাইফেলের খোঁজ করছিল সেনা (Indian Army) ও আধাসামরিক বাহিনী। বিশ্বের একাধিক রাইফেলের তুল্যমূল্য বিচার করে ২০২০ সালে একে-২০৩ (AK-203) রাইফেলকে বেছে নেওয়া হয়। স্থির হয়, বাহিনীর প্রয়োজনকে মাথায় রেখে ৭ লক্ষ ৭০ হাজার একে-২০৩ কেনা হবে। এর জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল সে বছরেই। চুক্তির মূল্য ছিল ৫ হাজার কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, ১ লক্ষ রাইফেল সরাসরি রাশিয়া থেকে আমদানি করা হবে। বাকি ৬ লক্ষ ৭০ হাজার ইউনিট প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে তৈরি হবে এদেশেই (Made in India)। 

    কোভিড অতিমারীর কারণে বিলম্ব

    কিন্তু, দরদাম করতে ও কোভিড অতিমারীর কারণে, দেশে উৎপাদনের কাজ থমকে যায়। এর মধ্যে ২০২১ সালে রাশিয়া থেকে ৭০ হাজার একে-২০৩ (AK-203) রাইফেল চলে আসে ভারতীয় বাহিনীর (Indian Army) জন্য। কোভিড-উত্তর কালে, কারখানায় নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হয়। গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয় প্রথম ব্যাচের উৎপাদন। ৬ মাস আগে, দেশে নির্মিত এই অত্যাধুনিক কালাশনিকভ রাইফেলের পরীক্ষা শুরু করে ভারতীয় সেনা। সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সেনার থেকে প্রাপ্ত চূড়ান্ত মতামত নিয়েই এই রাইফেলের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। এবার, দেশে তৈরি সেই একে-২০৩ রাইফেল চলে এল বাহিনীর হাতে।

    এক-একটি রাইফেল নির্মাণ খরচ কত?

    সূত্রের খবর, এক-একটি রাইফেল তৈরি করতে খরচ প্রায় ১১০০ মার্কিন ডলারের মতো। ভারতীয় মুদ্রায় যা ৯০ হাজারের মতো। এর মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কারাখানা তৈরি করার খরচ ধরা হয়েছে। কালাশনিকভের অন্যান্য সিরিজের মতোই একে-২০৩ (AK-203) রাইফেলটিও গ্যাস-চালিত ও ম্যাগাজিন-নির্ভর। এর থেকে ৭.৬২ এমএমx৩৯ ক্যালিবারের গুলি নিক্ষিপ্ত হয়। বর্তমানে ভারতীয় সেনায় (Indian Army) হাতে রয়েছে মার্কিন নির্মিত সিগ-সয়ার রাইফেল। এই রাইফেলেও একই ক্যালিবারের গুলি ব্যবহৃত হয়। ফলে, কার্যকারিতা ও ব্যবহারযোগ্যতার দিক দিয়ে একে-২০৩ নিয়ে সেনার অসুবিধে হবে না।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share