Tag: Defence Production

Defence Production

  • Rajnath Singh: দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ, সব প্রচলিত মিসাইলের প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পকে হস্তান্তরের অনুমোদন রাজনাথের

    Rajnath Singh: দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ, সব প্রচলিত মিসাইলের প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পকে হস্তান্তরের অনুমোদন রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও বড় পদক্ষেপ করল ভারত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি সমস্ত প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলিকে হস্তান্তরের (Transfer of Technology বা ToT) অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং নিয়ন্ত্রক বিধি পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় সংস্থাগুলি দেশে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির উৎপাদন করতে পারবে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। এর মূল লক্ষ্য হল ডিআরডিও-র গবেষণাগারে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে উন্নয়ন পর্যায় থেকে সরিয়ে বাণিজ্যিক ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

    দেশীয় সংস্থার হাতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি

    এতদিন ডিআরডিও-র তৈরি বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদনে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এবার সেই ব্যবস্থায় আরও বড় পরিসরে বেসরকারি ভারতীয় শিল্পকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের ফলে যোগ্য ভারতীয় সংস্থাগুলি ডিআরডিও-র কাছ থেকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি গ্রহণ করে তার ভিত্তিতে দেশেই উৎপাদন করতে পারবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের বক্তব্য, এই উদ্যোগ আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই (MSME) এবং অন্যান্য প্রযুক্তি অংশীদারদের অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়বে।

    ডিআরডিও-শিল্প সহযোগিতায় জোর

    প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ডিআরডিও এবং ভারতীয় শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগারে তৈরি করাই নয়, সেই প্রযুক্তিকে দ্রুত উৎপাদনযোগ্য করে তোলা এবং সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যায় সরবরাহ করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য। এই ব্যবস্থায় ডিআরডিও ভারতীয় শিল্পকে প্রযুক্তি গ্রহণ ও আত্মস্থ করতে সহায়তা করবে। ফলে ভবিষ্যতে দেশীয় সংস্থাগুলি আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং প্রতিরক্ষা রফতানিতে।

    অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ তৈরিতে বেসরকারি সংস্থার দৌড়?

    এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ক্ষেত্র হতে পারে ভারতের দেশীয় অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ (Astra Mark-2) ক্ষেপণাস্ত্র। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই একটি রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) জারি করতে পারে। সেখানে অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ তৈরির জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রের সংস্থা ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে আইকম, আদানি, ভারত ফোর্জ, টাটা গোষ্ঠী ও মহিন্দ্রা গ্রুপ সহ একাধিক ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৮০–২০০ কিলোমিটার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বায়ুসেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই দেশীয় আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন যদি বৃহৎ ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এর উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে উৎপাদনে নামার আগে নির্ধারিত যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং সমস্ত নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।

    দেশীয় মিসাইলের চাহিদা বাড়ছে

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ভারতীয় তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার চাহিদা দেশ এবং বিদেশ—দুই ক্ষেত্রেই বাড়ছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি দেশও ভারতের দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া অ্যাস্ট্রা সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন মেটানো নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি শিল্পকে উৎপাদন ব্যবস্থায় আরও বেশি করে যুক্ত করলে সেই চাহিদা পূরণ করা সহজ হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতেও বড় সুযোগ

    ভারত গত কয়েক বছরে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং রফতানির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। যুদ্ধবিমান, কামান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ একাধিক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো সেই নীতিরই পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলিতেও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র রফতানির সুযোগ বাড়তে পারে।

    এতদিন কেন পিছিয়ে ছিল মিসাইল উৎপাদন?

    ভারতে বেসরকারি শিল্পের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিমান, ড্রোন এবং আর্টিলারি বা কামান উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষিপণাস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির ভূমিকা এতদিন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এবার ডিআরডিও-র তৈরি প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি বৃহত্তর ভারতীয় শিল্পের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে গবেষণা ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা ডিআরডিও আরও বেশি করে নতুন প্রযুক্তি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্ত্র ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণায় মনোযোগ দিতে পারবে। অন্যদিকে শিল্প সংস্থাগুলি তুলনামূলকভাবে পরিণত প্রযুক্তির বৃহৎ পরিসরের উৎপাদনের দায়িত্ব নিতে পারবে।

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়

    রাজনাথ সিংয়ের অনুমোদিত এই প্রযুক্তি হস্তান্তর তাই শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এর মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় গবেষণা থেকে উৎপাদন এবং উৎপাদন থেকে রফতানি—পুরো শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশীয় শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, এমএসএমই-কে সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত করা, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বিদেশি বাজারে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাবনা বাড়ানো— সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত ভারতের ‘আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা’ কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে অ্যাস্ট্রা মার্ক-২-এর মতো উন্নত দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনে যদি একাধিক ভারতীয় বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী যুক্ত হয়, তাহলে আগামী দিনে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পরিকাঠামো আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

  • India: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সুরক্ষায় আমেরিকা-সহ ১১ দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জানালেন মন্ত্রী

    India: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সুরক্ষায় আমেরিকা-সহ ১১ দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জানালেন মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ খনিজের (Critical Minerals) নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ও কৌশলগত তৎপরতা আরও জোরদার করেছে ভারত (India)। অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, পেরু, জাপান, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মঙ্গোলিয়া এবং আমেরিকার মতো দেশগুলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে নয়াদিল্লি। ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় লিখিত জবাবে এ কথা জানান বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করতে ভারত ধারাবাহিকভাবে দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও বিভিন্ন দেশের যৌথ উদ্যোগে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    কী বললেন মন্ত্রী (India)

    মন্ত্রীর কথায়, “পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি, অর্ধপরিবাহী উৎপাদন, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলিতে নির্ভরযোগ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ক্রমাগত দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও বিভিন্ন দেশের সমন্বিত সহযোগিতা জোরদার করার কাজ করছে।” তিনি জানান, খনিজ পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি, উচ্চমানের খনিজের দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ বজায় রাখতে টেকসই পদ্ধতির প্রসারের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য ভারত অংশীদার দেশ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলির সঙ্গে কাজ করছে। মার্ঘেরিটা বলেন, “নির্ভরযোগ্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, পেরু, জাপান, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মঙ্গোলিয়া এবং আমেরিকার মতো দেশগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।”

    জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন

    বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন খনিজ নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের উত্তরসূরি হিসেবে গঠিত দায়িত্বশীল ভূ-কৌশলগত সম্পৃক্ততা মঞ্চ এবং চতুর্দেশীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাঠামোর উদ্যোগগুলিতে ভারত অংশ নিচ্ছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হল গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও সুসংহত করা। ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে স্থিতিস্থাপক ও বহুমুখী খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সম্পূর্ণ সরবরাহ-শৃঙ্খল জুড়ে গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে। দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন চালু করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় খনিজ অনুসন্ধান, উত্তোলন, আকরিক থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান পৃথকীকরণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া পণ্য থেকে খনিজ পুনরুদ্ধার—পুরো প্রক্রিয়াটিকেই শক্তিশালী করার (India) লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ

    মন্ত্রী আরও জানান, “বর্জ্য থেকে খনিজ পুনর্ব্যবহার, প্রযুক্তি বিনিময় এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত সহযোগিতামূলক গবেষণার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।” জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশনের অধীনে বর্জ্য ও বাতিল ধাতব সামগ্রীর মতো দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎস থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আহরণের জন্য পুনর্ব্যবহার ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও আর্থিক উৎসাহমূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর (Critical Minerals) ফলে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের পুনরুদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র (India)।

     

  • Defence Production: প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের

    Defence Production: প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেকর্ড গড়ল ভারতে (India) বার্ষিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন (Defence Production)। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এই উৎপাদন গড়েছে রেকর্ড। প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফেই জানানো হয়েছে একথা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১.২৭ লাখ কোটি টাকা। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রোগ্রামেই উৎপাদন ছুঁয়েছে এই মাইলস্টোন।” ২০২২-২৩ আর্থিকবর্ষে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। একলপ্তে সেটাই বেড়ে গিয়েছে অনেকখানি।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য (Defence Production)

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে মেক ইন ইন্ডিয়া প্রোগ্রাম বছরের পর বছর নতুন নতুন মাইলফলক অতিক্রম করছে। আমাদের শিল্পকে অনেক অভিনন্দন যার মধ্যে রয়েছে ডিপিএসইউ, অন্যান্য পিএসইউএস যারা প্রতিরক্ষা সামগ্রী তৈরি করে এবং ব্যক্তিগত শিল্প। ভারতকে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার আরও সহায়ক ব্যবস্থা তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    প্রতিরক্ষা (Defence Production) খাতে ভারতের এই বিকাশকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তিনি বলেন, “এই যাত্রায় যাঁরা শামিল হয়েছেন, তাঁদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে আমাদের দক্ষতা বাড়াতে এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে আমরা পুরোপুরি দায়বদ্ধ।” তিনি বলেন, “ভারতকে আমরা বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের নেতৃত্বস্থানীয় হাবে পরিণত করব।”

    আর পড়ুন: পশুপতিনাথ মন্দিরের কাছেই মিলল মধ্যযুগের ইতিহাস, জনতার ভিড়

    প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সামগ্রিক বৃদ্ধিতে অসাধারণ অবদান রেখেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি ছুঁয়েছে ২১ হাজার ৮৩ কোটি টাকার রেকর্ড। যা গত বছরের তুলনায় ৩২.৫ শতাংশ বেশি। গত বছর টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৯২০ কোটি টাকা।’ বিবৃতিতে এ-ও বলা হয়েছে, ‘গত পাঁচ বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শতাংশের বিচারে (India) এই বৃদ্ধির হার ৬০ (Defence Production)।’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Defence Production: ডেট লাইনের অনেক আগেই প্রস্তুত ৭২টি সামরিক সরঞ্জাম! মেক ইন ইন্ডিয়ার সাফল্য

    Defence Production: ডেট লাইনের অনেক আগেই প্রস্তুত ৭২টি সামরিক সরঞ্জাম! মেক ইন ইন্ডিয়ার সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনায় আরও জোর দিয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রক। মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পকে সামনে রেখেই পিআইএল তালিকায় উল্লিখিত ২১৪টি সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল ২০২৩ থেকে ২০২৪ -এর মধ্যে। এই সামরিক সরঞ্জামগুলি তৈরির জন্য ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংসকে (ডিপিএসইউস) বরাত দিয়েছিল। কিন্তু ডেট লাইনের অনেক আগেই ৭২টি সরঞ্জাম তৈরি হয়ে গেল। ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ১৪২টি সরঞ্জামও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে আশাবাদী ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস।

    আরও পড়ুন: অরুণাচলে ভেঙে পড়ল সেনার চিতা হেলিকপ্টার, মৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার অফিসার

    দেশীয় কিছু প্রধান সাব-সিস্টেম/লাইন রিপ্লেসমেন্ট ইউনিট (LRUs) এর মধ্যে রয়েছে জাহাজের জন্য ম্যাগাজিন ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম, স্টিয়ারিং গিয়ার সিস্টেম এবং ফ্রিগেটগুলির জন্য নিয়ন্ত্রণ সহ ফিন স্টেবিলাইজার।  আকাশ মিসাইলের জন্য চাপযুক্ত পাত্র, কনকুরস ক্ষেপণাস্ত্র এবং বৈদ্যুতিক মোটরের জন্য KOE চার্জ, ডিকনটামিনেশন সেট এবং ব্যাটল ট্যাঙ্কের জন্য প্রিজম অপটিক্যাল যন্ত্র। এই সরঞ্জামগুলির পাশাপাশি, হেলিকপ্টারের জন্য মধ্যবর্তী কাস্টিং, সাবমেরিনগুলির জন্য পলিক্রোপিন রাবার ব্যান্ড এবং যুদ্ধ জাহাজগুলির জন্য উচ্চ চাপ নিয়ন্ত্রণকারী ভালভ। দেশীয় প্রযুক্ততে তৈরি যাবতীয় সামরিক সরঞ্জাম বিশদ বিবরণ সহকারে “শ্রীজন পোর্টালে (srijandefence.gov.in)” পাওয়া যাবে।  আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে কাটছাঁট করতে কয়েক বছর আগেই সক্রিয় হয়েছিল মোদি সরকার। ‘অস্ত্র আমদানিকারক দেশ’ থেকে ভারতকে ‘অস্ত্র রফতানিকারক দেশ’-এ পরিণত করার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়। এই সাফল্য তারই ফল।

    আরও পড়ুন: জাতীয় পতাকায় ‘টক্কর’ পাকিস্তানকে, আটারিতে উড়বে ভারতের উচ্চতম তেরঙা

    প্রতিরক্ষা উত্পাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত অভিযান’-এর অধীনে ডিপিএসইউগুলির আমদানি কমানোর জন্য, প্রতিরক্ষা উত্পাদন বিভাগ (ডিডিপি), প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এলআরইউ/সাব-সিস্টেম/এর তিনটি ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। প্রথম পিআইএল-এ ৩৫১টি সরঞ্জাম, দ্বিতীয় পিআইএল-এ ১০৭টি আইটেম এবং তৃতীয় পিআইএল-এ দেশীয়করণের জন্য ৭৮০টি আইটেম রয়েছে। পরবর্তীকালে, ডিডিপি ৭২টি দেশীয় আইটেমের সংশোধিত টাইমলাইন (পিআইএল-1:67 এবং পিআইএল-2:5) বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এখন, এই আইটেমগুলি শুধুমাত্র ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলি থেকে সংগ্রহ করা হবে। যা একদিকে দেশের শিল্পকে অক্সিজেন জোগাবে, একাধারে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় করবে। এটি সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক মানের সামগ্রী সরবরাহের জন্য দেশীয় শিল্পের সক্ষমতার প্রতি সরকারের ক্রমবর্ধমান আস্থাকেও শক্তিশালী করে। এই কর্মকাণ্ডকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে  ‘বড় পদক্ষেপ’ বলে মনে করা হচ্ছে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Rajnath at DefConnect 2.0: বিশ্বের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ভারতকে আরও শক্তিশালী হতেই হবে, বললেন রাজনাথ

    Rajnath at DefConnect 2.0: বিশ্বের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ভারতকে আরও শক্তিশালী হতেই হবে, বললেন রাজনাথ

    মাধ্য়ম নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীজুড়ে ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে প্রতিরক্ষা (defence) ও শান্তি বজায় নিশ্চিত করতে নিজেদের আরও শক্তিশালী রাষ্ট্র (powerful nation) হিসেবে গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই ভারতের (India)। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russo-Ukrainian War) প্রেক্ষিতে এমনটাই জানালেন রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। 

    প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শিল্প সম্মেলন ‘ডেফকানেক্ট ২.০'(DefConnect 2.0) -এর উদ্বোধনে এসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী (defence minister) জানান, বিশ্বে এখন অনেক ঘটনাই ঘটছে যার ফলে ভারত প্রভাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, গত বছর (ফেব্রুয়ারি) এরো ইন্ডিয়ার সময় থেকে এখন এই একটা বছরে বিশ্ব অনেকটা পাল্টে গেছে। এতটাই যে, তা পরিমাপ করা অসম্ভব। এখন প্রত্যেকটি নতুন বিপদ আগের তুলনায় আরও জটিল, আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।

    রাজনাথ বলেন, আমরা এখনও কোভিড বিপর্যয় থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারিনি। অথচ, বিশ্বের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছে ইউক্রেন (ukraine) সমস্যা। বিশ্বের (শক্তির) ভারসাম্য যে হারে সময়ের সঙ্গে দ্রুত পাল্টাচ্ছে, নিজেদের শক্তিশালী করা ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় নেই। 

    রাজনাথ যোগ করেন, এর আগে, মধ্যপ্রাচ্য (Middle east) থেকে শুরু করে আফগানিস্তান (Afghanistan) ও পাকিস্তানে (Pakistan) অস্থিরতা দেখেছে বিশ্ব। এর পাশাপাশি, বিশ্বে এখন অনেক কিছুই ঘটে চলেছে, যার প্রভাব ভারতে পড়ছে। যে কারণে, নিজেদের ক্ষমতাবলে প্রতিরক্ষা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। 

     

LinkedIn
Share