মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের গ্রেফতার দিল্লির আপ মন্ত্রী (Manish Sisodia)। মাত্র ৯ মাসের ব্যবধান। এর আগে গত মে মাসে হাওয়ালার মাধ্যমে বেআইনি ভাবে টাকা লেনদেনের অভিযোগে ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন। আর এবারে ২৬ ফেব্রুয়ারি অন্য এক তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই গ্রেফতার করল দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে (Manish Sisodia)। রবিবার বেশ কয়েক ঘণ্টা টানা জেরার পরে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। আবগারি নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি তলব করা হয়েছিল সিসোদিয়াকে। সকাল ১০টা নাগাদ সিবিআই দফতরে হাজিরও হয়ে যান দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী। শুরু হয় জেরা। শেষমেশ এদিন সন্ধের দিকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
দিল্লির মন্ত্রীর গ্রেফতারে বিপাকে আপ শিবির
সত্যেন্দ্রর গ্রেফতারির পর এবারে দলের প্রধান কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সিসোদিয়ার গ্রেফতারিতে ফের ‘অস্বস্তি’তে আপ শিবির। গত বছরের ৩০ মে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল ইডি। মানি লন্ডারিং কেসে দিল্লি সরকারের মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তদন্তে উঠে এসেছিল যে, ২০১৫-১৬ সালে কলকাতার একটি সংস্থার সঙ্গে হাওয়ালা লেনদেনে যুক্ত ছিলেন তিনি। ৪.৮১ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছিল। মনে করা হচ্ছে যে এই টাকা সরাসরি জমি কেনার জন্য বা দিল্লি এবং তার আশেপাশে কৃষি জমি কেনার জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। সত্যেন্দ্র কেজরিওয়ালের খুব ‘ঘনিষ্ঠ’ নেতা বলে পরিচিত। আর সেই কারণেই কেজরিওয়ালের মন্ত্রিসভাতেও বড় দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু তাঁর গ্রেফতারিতে বড় ধাক্কা খেয়েছিল আম আদমি পার্টি।
আরও পড়ুন: আবগারি দুর্নীতি কাণ্ডে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী
এবার সেই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ফের গ্রেফতার আরও এক আপ মন্ত্রী, যিনি দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রীও। মণীশ সিসোদিয়াও ঘনিষ্ঠ নেতা কেজরিওয়ালের। আবগারি নীতি মামলায় গত বছরেই সিসোদিয়ার বাড়ি-সহ আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল সিবিআই। প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল। এর পর তাঁর ব্যাঙ্ক লকারও খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। গত অগাস্টেই সিসোদিয়া এবং আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। এর পর একাধিকবার তাঁকে তলব করে জেরা করার পর গতকাল অবেশেষে গ্রেফতার করে সিবিআই।