Tag: Delhi Police

Delhi Police

  • SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে নিট-সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করল সুপ্রিম কোর্ট (SC)। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত তার সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে একই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যত্র দায়ের হওয়া একই ধরনের এফআইআরগুলির ক্ষেত্রেও সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে (NEET Protest)। তবে এই নির্দেশকে নিঃশর্তভাবে “সব এফআইআর বাতিল” হিসেবে দেখলে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বোঝা যাবে না।

    ‘সুপ্রিম’ শুনানি (SC)

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার তিন সদস্যের বেঞ্চ জুলাইয়ের ২০ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি করছিল।আদালত মনে করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া এবং অন্যান্য তরুণ-তরুণীদের শুধুমাত্র একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে বছরের পর বছর ফৌজদারি মামলার বোঝা বহন করা উচিত নয়। সেই কারণেই আদালতের সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যান্য জায়গায় দায়ের হওয়া একই ধরনের মামলাতেও এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে।

    তবে এই নির্দেশের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রেখেছে শীর্ষ আদালত।

    কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ ২,৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করেছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করে পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অতীতের তথ্য রয়েছে এবং তাঁরা প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন (SC)।

    এই ২,৮৭৩ জনকে নিয়ে দিল্লি পুলিশকে একটি নতুন এফআইআর দায়ের করে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে সেই তদন্তের বিষয় হবে বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁদের কেউ শারীরিক ক্ষতি বা সম্পত্তি ধ্বংসের মতো নির্দিষ্ট অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না।

    আদালতের অবস্থান

    বিষয়টি নিয়ে আদালতের অবস্থানও স্পষ্ট। ২,৮৭৩ জনকেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেনি সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা বলছি না যে তাঁরা অপরাধী। অভিযোগ রয়েছে, এই পর্যন্ত।”

    অর্থাৎ, শুধু ওই ব্যক্তিরা বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বলেই তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে না। নতুন করে যে তদন্ত হবে, তার কেন্দ্রে থাকতে হবে হিংসা, শারীরিক ক্ষতি অথবা সম্পত্তি নষ্ট করার মতো নির্দিষ্ট অপরাধমূলক কাজ।

    ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে মামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও বলা যায় না, আবার সব ধরনের অভিযোগ থেকে নিঃশর্ত অব্যাহতি দেওয়াও বলা যায় না।

    আদালতের অবস্থানের মূল বিষয় হল, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এবং সেই জমায়েতকে আড়াল করে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে দীর্ঘদিন ধরে ফৌজদারি মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করেছে আদালত। একই সঙ্গে হিংসা বা সম্পত্তি নষ্টের মতো নির্দিষ্ট অপরাধের তদন্তের সুযোগও রাষ্ট্রের হাতে রাখা হয়েছে।

    আরও একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত জানিয়েছে, ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্তটি এই মামলার সামনে থাকা বিশেষ পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এটিকে ভবিষ্যতের মামলায় অনুসরণযোগ্য নজির হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ফলে গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সব এফআইআর ভবিষ্যতে একইভাবে বাতিল করা যাবে—এমন সাধারণ নিয়ম এই রায় থেকে তৈরি হচ্ছে না।

    নিট বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আত্মহত্যা করে মারা যাওয়া পড়ুয়াদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন মাসের মধ্যে গোটা দেশের জন্য একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    ‘সুপ্রিম’ সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক

    সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তরুণ আন্দোলনকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে (NEET Protest)। তবে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত হতে পারে এমন নির্দিষ্ট হিংসাত্মক অপরাধ বা সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা তদন্তের বাইরে রাখা হয়নি। অর্থাৎ, আদালত (SC) যে সীমারেখা টেনেছে, তা হল গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ একদিকে এবং সেই প্রতিবাদের সময় সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আর একদিকে।

     

  • Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তরে হিংসার পর গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় বদল দিল্লি পুলিশের, বিক্ষোভের আগে ১০ তথ্য জোগাড়ের নির্দেশ

    Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তরে হিংসার পর গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় বদল দিল্লি পুলিশের, বিক্ষোভের আগে ১০ তথ্য জোগাড়ের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যন্তর মন্তরে গত ২০ জুলাইয়ের হিংসাত্মক পরিস্থিতি এবং তার পরবর্তী সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভের (Jantar Mantar Protest) জেরে নিজেদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বড় মাপের বিক্ষোভ, সমাবেশ কিংবা পরিকল্পিত জনজমাবেশের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি আরও জোরদার করতেই এই উদ্যোগ বলে (Mobilisation Funding) পুলিশ সূত্রে খবর। এখন থেকে কোনও বড় বা পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সূত্রের খবর, দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার গোয়েন্দা শাখা এবং বিশেষ শাখাকে এই বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু কোথায় বিক্ষোভ হবে, কখন হবে এবং আনুমানিক কত মানুষ সেখানে উপস্থিত হতে পারেন—এই প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। তার বদলে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, সংগঠন, নেতৃত্ব, সমাবেশের প্রস্তুতি, অংশগ্রহণকারীদের সার পদ্ধতি এবং স্থানীয় যোগাযোগ-সহ আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

    যন্তর মন্তরে জন জমাবেশ (Jantar Mantar Protest)

    গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তর এবং তার আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। প্রশ্ন ফাঁস এবং বিভিন্ন পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। এর পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

    এই ঘটনার পর দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় আধিকারিকদের একাংশের মনে হয়েছে, বিক্ষোভের আগে অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য সংখ্যা, তাঁদের সংগঠিত করার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ও নির্ভুল আগাম তথ্য পুলিশের হাতে ছিল না। তাই পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে, তা যথেষ্ট নির্ভুলভাবে অনুমান করা সম্ভব হয়নি।

    এই অভিজ্ঞতার পরেই বিশেষ শাখাকে আরও বিস্তারিত এবং ব্যবহারযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনও বিক্ষোভের ক্ষেত্রে শুধু জনসমাগমের সম্ভাব্য আকার বা ঘটনাস্থলের তথ্য নয়, বরং বিক্ষোভের সামগ্রিক কাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে আলাদা করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কোন রাজ্য থেকে কত মানুষ আসছেন, তাঁদের কীভাবে সংগঠিত করা হচ্ছে, কারা তাঁদের নিয়ে আসছেন এবং বিক্ষোভের পিছনে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বা সংগঠকের ভূমিকা রয়েছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য, নির্দিষ্ট দাবি এবং আন্দোলনের কর্মসূচি সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হবে (Mobilisation Funding)।

    জোগাড় করা হবে যাবতীয় তথ্য

    বিক্ষোভকারীরা দিল্লিতে কোথায় থাকছেন, তাঁদের স্থানীয় যোগাযোগ কারা, দিল্লিতে তাঁদের কী ধরনের স্থানীয় সংযোগ রয়েছে—এই তথ্যও সংগ্রহ করবে পুলিশ। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং বিক্ষোভের সম্ভাব্য অর্থের উৎস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এত বড় জমায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহণ, থাকা, খাবার এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হচ্ছে, সেই বিষয়েও নজর রাখা হবে।

    এক কথায়, দিল্লি পুলিশের নতুন গোয়েন্দা ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু “কোথায় বিক্ষোভ হবে” বা “কখন বিক্ষোভ হবে”—এই দু’টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা নয়। বরং বিক্ষোভের পিছনে কারা রয়েছেন, কারা মানুষকে সংগঠিত করছেন, কোন কোন এলাকা বা রাজ্য থেকে মানুষ আসছেন, তাঁদের স্থানীয় যোগাযোগ কারা, কোন সংগঠনগুলি যুক্ত এবং কীভাবে গোটা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করাই এখন পুলিশের লক্ষ্য (Jantar Mantar Protest)।

    বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে ফিল্ড লেভেলে থাকা পুলিশকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান নিশ্চিত করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্ষোভের সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছনো এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দ্রুত নীচে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গোটা বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় যে সমস্ত ত্রুটি বা ঘাটতি ধরা পড়েছে, সেগুলি দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    পুলিশের লক্ষ্য

    পুলিশের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য অবশ্য কোনও ধরনের বিক্ষোভ বন্ধ করা নয় বলেই সূত্রের দাবি। বড় জনসমাবেশের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে যে সমস্ত বিক্ষোভে দিল্লির বাইরের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ আসেন অথবা একাধিক সংগঠন একই কর্মসূচিতে যুক্ত থাকে, সেগুলির ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

    যন্তর মন্তরের ২০ জুলাইয়ের ঘটনা দিল্লি পুলিশের কাছে বড় ধরনের শিক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিপুল জনসমাগমের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করাই যথেষ্ট নয়—সমাবেশের আকার, অংশগ্রহণকারীদের উৎস, সংগঠকদের ভূমিকা, আন্দোলনের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম নির্ভুল তথ্য থাকা জরুরি। সেই প্রয়োজন থেকেই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পুরনো পদ্ধতিকে আরও বিস্তৃত এবং কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (Jantar Mantar Protest)।

    নতুন ব্যবস্থায় বিক্ষোভের আগে পাওয়া তথ্যকে একাধিক স্তরে বিশ্লেষণ করা হবে। এর ফলে কোনও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, কোথায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন এবং কোন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে—সেই সব বিষয়ে পুলিশের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে (Mobilisation Funding)।

    বদলাতে পারে দিল্লি পুলিশের কৌশল

    দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে বড় বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ পরিচালনায় তাদের কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষত দিল্লির বাইরে থেকে আসা বিপুল জনসমাগম এবং একাধিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির ক্ষেত্রে আগাম তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যন্তর মন্তরের ঘটনার পর পুলিশের লক্ষ্য এখন একটাই—পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পরে (Mobilisation Funding) ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে, সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও বেশি করে প্রস্তুত থাকা (Jantar Mantar Protest)।

     

  • Independence Day: স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট, ১৯ মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির পোস্টার প্রকাশ পুলিশের

    Independence Day: স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট, ১৯ মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির পোস্টার প্রকাশ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে রাজধানী দিল্লিকে। ১৫ অগাস্টকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। এরই মধ্যে আমজনতাকে সতর্ক করতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় ১৯ জন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গির ছবি ও পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য-সহ পোস্টার লাগানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে তাদের সম্পর্কে কোনও তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আবেদনও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পোস্টারে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, আল-কায়দা এবং বিভিন্ন খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ওয়ান্টেড জঙ্গির ছবি রয়েছে। তাঁদের সন্ধান পেতে তথ্য দিলে উপযুক্ত পুরস্কারের কথাও জানানো হয়েছে।

    কোন কোন জঙ্গি পুলিশের নজরে?

    দিল্লি পুলিশের প্রকাশিত তালিকায় ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত রিয়াজ ভাটকল এবং শাবানদ্রি মহম্মদ ইকবাল ওরফে ইকবাল ভাটকলের নাম রয়েছে। আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত মহম্মদ শারজিল আখতার, আবু সুফিয়ান এবং সৈয়দ মহম্মদ আরশিয়ান-এর ছবিও পোস্টারে রাখা হয়েছে। খালিস্তানি জঙ্গিদের মধ্যে খালিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্স (KZF)-এর সঙ্গে যুক্ত রঞ্জিত সিং ওরফে নীতা এবং পরমজিৎ সিং পাম্মা-র নাম রয়েছে। এছাড়াও খালিস্তান টাইগার ফোর্স (KTF)-এর সঙ্গে যুক্ত আরশদীপ সিং ওরফে আরশ ডালা-র ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল (BKI)-এর সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত হরবিন্দর সিং সান্ধু ওরফে রিন্ডা, ওয়াধাওয়া সিং বাব্বর এবং গুরমিত সিং বাগ্গা-র নামও রয়েছে পুলিশের প্রকাশিত তালিকায়।

    কেন পোস্টার লাগানো হলো?

    স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীতে এ ধরনের পোস্টার সাঁটানো নতুন নয়। ১৫ অগeস্ট ও ২৬ জানুয়ারির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবেই সাধারণত সন্দেহভাজন বা ওয়ান্টেড জঙ্গিদের ছবি জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। এ বারও দিল্লি পুলিশের লক্ষ্য, ওই ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনও তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে থাকলে তা দ্রুত নিরাপত্তা সংস্থার কাছে পৌঁছনো। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহজনক কোনও ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে এবং দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তবে, পুলিশের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু নজরদারি বাড়ানো নয়, সাধারণ মানুষকেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করা। পুলিশ সূত্রে খবর, স্বাধীনতা দিবসে হামলার আশঙ্কায় দিল্লি জুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর আসার পরই স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হল।

    সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি

    স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না দিল্লি পুলিশ। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, জনবহুল বাজার, ধর্মীয় স্থান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ও আরও বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা গতিবিধির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লি মেট্রোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় বাড়িয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি দেশের পশ্চিম সীমান্তেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

    রেড ফোর্টে বিশেষ নজর

    স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে দিল্লির লালকেল্লায়। সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ফলে লালকেল্লা ও তার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার অন্তত ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ কর্মীকে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং জনবহুল এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে দিল্লি পুলিশ প্রথম বারের মতো তাদের ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমে’র পাশাপাশি ‘অভিজ্ঞান অ্যাপ’ ব্যবহার করবে। উত্তর দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) রাজা বানথিয়া বলেছেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই নিরাপত্তার প্রস্তুতি চলছে এবং এতে দিল্লি পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) এবং অন্যান্য সংস্থার কর্মীরা অংশ নেবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভিডিয়ো অ্যানালিটিক্স এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ব্যবস্থা দূর থেকে মুখাবয়ব চিহ্নিত করতে পারে।

    সাধারণ মানুষকে পরামর্শ

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তরফে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল জায়গায় কোনও পরিত্যক্ত ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখা গেলে সেটি স্পর্শ না করে পুলিশকে খবর দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টারে থাকা ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য কারও কাছে থাকলে তা নিরাপত্তা সংস্থাকে জানানোর আবেদন করা হয়েছে। ১১২ নম্বরে ফোন করে তথ্য দেওয়া যাবে। এছাড়াও দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করার আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারীকে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে এবং তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

  • Bangladeshi Detained: নথি যাচাইয়ে বড় সাফল্য! জম্মু-কাশ্মীরে ২১, দিল্লিতে ৬ সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আটক

    Bangladeshi Detained: নথি যাচাইয়ে বড় সাফল্য! জম্মু-কাশ্মীরে ২১, দিল্লিতে ৬ সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আটক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একদিকে জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir), অন্যদিকে রাজধানী দিল্লি (Delhi)- দুই জায়গাতেই নথি যাচাই অভিযানে ধরা পড়লেন মোট ২৭ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক (Bangladeshi Detained)। জম্মু-কাশ্মীরের রামবান জেলার বানিহাল এলাকায় কাশ্মীর উপত্যকার উদ্দেশে যাওয়ার পথে ২১ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বৈধ ভ্রমণ বা অভিবাসন সংক্রান্ত নথি দেখাতে না পারায় তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। একই সময়ে দিল্লির একটি হোটেল থেকে আরও ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে (Bangladeshi Detained) আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করছিলেন। দুই ঘটনাকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন।

    নথি যাচাইয়েই ধরা পড়েন ২১ জন

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামবান জেলার বানিহাল এলাকায় নিয়মিত নথি যাচাই অভিযানের সময় দুটি গাড়িকে থামানো হয়। গাড়ি দুটি জম্মু থেকে কাশ্মীর (Jammu Kashmir) উপত্যকার দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, যাত্রীদের পরিচয় ও ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, ২১ জনের কেউই ভারতে বৈধভাবে অবস্থানের উপযুক্ত নথি বা অভিবাসন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এরপর তাঁদের সকলকে আটক (Bangladeshi Detained) করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে প্রত্যেকের পরিচয়, যাতায়াতের উদ্দেশ্য এবং ভারতে প্রবেশের পথ সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    বাংলাদেশ-যোগ!

    আটক ব্যক্তিরা বাংলাদেশের (Bangladeshi Detained) সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে। পাশাপাশি তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁরা প্রথমে অসম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর রেলপথে জম্মু (Jammu) পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কাশ্মীর (Kashmir) উপত্যকার দিকে রওনা দিয়েছিলেন। তবে এই তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই পুলিশ সূত্রের খবর।

    অনুপ্রবেশে কোনও সক্রিয় চক্র রয়েছে?

    কীভাবে ওই ব্যক্তিরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করলেন? তাঁদের যাতায়াতে কোনও দালালচক্র বা আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না? এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে তাঁদের চলাচলের জন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন সাহায্য করেছে কি না? সমস্তটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজনে বিভিন্ন রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গেও তথ্য আদানপ্রদান করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

    বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতেই অভিযান!

    গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, তদন্তে যা তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ও অভিবাসন সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধ নথি ছাড়া ভারতে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতে যে বিশেষ যাচাই অভিযান চলছে, এই ঘটনাও তারই অংশ। ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

    দিল্লির হোটেল থেকেও আটক বাংলাদেশি

    অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লিতে (Delhi) মধ্য জেলার বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় পুলিশের বিশেষ নথি যাচাই অভিযান চালানো হয়। সেই সময় নবী করিম এলাকার আরাকাশান রোডের একটি হোটেল থেকে ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক (Bangladeshi Detained) করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তাঁরা দ্বৈত-প্রবেশ ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তাঁরা দেশে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ।

    শুরু বহিষ্কারের প্রক্রিয়া

    আটক ছয়জনকে পরে বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (FRRO) সামনে হাজির করা হয়। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ জারি করে তাঁদের একটি আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। যদিও আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিবাসন সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা বলেই সূত্রের খবর। একইসঙ্গে তাঁদের ভারতে আসার উদ্দেশ্য এবং অবস্থানের সম্পূর্ণ তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে দিল্লির জন্তর-মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে (Jantar Mantar Protest) ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিত ডিজিটাল প্রচার চালানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে শুধু সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপই নয়, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ১৮০টি ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউব চ্যানেল, তিনটি বেসরকারি ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা এবং পাকিস্তান-যোগের অভিযোগ থাকা ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল পুলিশের নজরে রয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সমন্বিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট ছড়িয়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় জাতীয় সংকট হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

    কী খতিয়ে দেখছে পুলিশ?

    তদন্তকারীরা ১৯ ও ২০ জুলাই জন্তর-মন্তরে হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অনলাইনে একই ধরনের বার্তা কীভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল, তা বিশ্লেষণ করছেন। পুলিশের দাবি, বিদেশে পরিচালিত কিছু সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট অতীতেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় সক্রিয় ছিল। সেই একই ধরনের অ্যাকাউন্ট জন্তর-মন্তর বিক্ষোভের সময়ও সক্রিয় হয়ে ওঠায় বিদেশি প্রভাব বা দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত প্রচারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দিল্লি পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও ইনফ্লুয়েন্সার, সংস্থা বা সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নাম প্রকাশ করেনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলি কেবল তদন্তের অংশমাত্র।

    আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায়

    ডিজিটাল প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থাগুলি কোনও গোপন আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন— পিয়ার-টু-পিয়ার ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তি, তৃতীয় পক্ষের মার্কেটিং কনসালটেন্সি চুক্তি এবং এমন অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি, যেগুলির প্রচলিত ব্যাংকিং নথি থাকে না।

    সোশাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    তদন্তে উঠে এসেছে, বিভ্রান্তিকর দাবি, সম্পাদিত ভিডিও, ডিপফেক বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রথমে অল্প কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও ভিউ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম সেই কনটেন্টকে আরও বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দেয়। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া কাজ করেছিল কি না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে একই ধরনের বার্তার একাধিক সংস্করণ তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অল্প সময়ের ব্যবধানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দিচ্ছে তদন্তকারীরা।

    তদন্তের মূল লক্ষ্য

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, তদন্তের উদ্দেশ্য শুধু ভুয়ো তথ্য শনাক্ত করা নয়। বরং জন্তর-মন্তরের তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে বৃহত্তর অনলাইন আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং তার মাধ্যমে জনমনে উদ্বেগ, বিভ্রান্তি ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং কোনও চার্জশিটও দাখিল হয়নি। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, আর্থিক নথি এবং সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে দেশীয় বা বিদেশি কোনও সংগঠিত চক্র জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

  • Hindus Under Attack: ভারত ও বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ

    Hindus Under Attack: ভারত ও বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলার ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে (Hindus Under Attack)। হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি অপবিত্র করা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—বিভিন্ন ধরনের ঘটনার উল্লেখ রয়েছে সাপ্তাহিক এক প্রতিবেদনে (Roundup Week)। ২৬ জুলাই থেকে ১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বহু অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর পেছনে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ, ধর্মীয় মতাদর্শ এবং রাজনৈতিক অবস্থানের ভূমিকা রয়েছে।

    ভারতে একাধিক ঘটনা নিয়ে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ছাত্রদের একটি বিক্ষোভ চলাকালীন জেলে থাকা ইসলামপন্থী উগ্রপন্থী উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের প্রশংসাসূচক লেখা-সহ উসকানিমূলক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলার বিরুদ্ধে। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের আড়ালে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিবিসির ভারতীয় সংবাদকর্মী গীতা পাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারতের হিন্দু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মহাকুম্ভকে “দৃশ্য প্রদর্শনী”, রামমন্দিরকে “ধ্বংস করা মসজিদ” এবং “জয় শ্রী রাম”-কে “হত্যার স্লোগান” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    অবৈধ ধর্মান্তর

    উত্তরপ্রদেশে অবৈধ খ্রিস্টান ধর্মান্তর কার্যকলাপের অভিযোগে একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। লখনউয়ের মোহনলালগঞ্জ এলাকা থেকে পরিচালিত ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। ধৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত যাজক ড্যানিয়েল এবং তাঁর স্ত্রীও রয়েছেন। তামিলনাড়ু থেকে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল এবং প্রলোভন ও সংগঠিত প্রার্থনাসভার মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষকে ধর্মান্তরের জন্য নিশানা করা হত বলে দাবি পুলিশের। শিক্ষা সংস্কার এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন-উত্তর সময়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের রূপ নেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তির বক্তব্য ছিল হিন্দু-বিরোধী এবং মুসলিমপন্থী। হিন্দু-বিরোধী বক্তব্য আন্দোলনের মঞ্চ থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    হিন্দু ধর্ম অবমাননা!

    দিল্লির যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বলে সন্দেহ করা ৪০০-রও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। উপ-পুলিশ কমিশনার রোহিত রাজবীর সিংয়ের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, বিকৃত ছবি এবং এডিটেড সরকারি বিবৃতি ব্যবহার করে জনমত বিভ্রান্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য একটি আন্তঃসীমান্ত অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্ম অবমাননা করার অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবেদকরা। বিজেপির সমালোচনার আড়ালে তিনি ধারাবাহিকভাবে হিন্দু-বিরোধী মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রধান বিচারপতির সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অভিজিৎ দীপকেকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হিন্দু ধর্মকে অপমান করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    হিন্দু ‘সেজে’ বিপাকে মনোয়ার আনসারি

    ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ জেলার বারহেটের বাসিন্দা মনোয়ার আনসারির বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে রাঙ্গার এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে প্রলোভিত করার অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির মায়ের দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে মনোহর বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাঁকে জেলে পাঠিয়েছে। আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে মেয়েটির বয়ানও (Roundup Week)। এক হিন্দু কিশোরীকে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ভয়াবহ এক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। শোয়েব, সালমান এবং আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। হোটেল থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় বেরিয়ে আসার সময় জনৈক হিমাংশু পটেল, দেবেন্দ্র পটেল এবং নির্দোষ রাঠোর তাঁর ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন বলে (Hindus Under Attack) অভিযোগ। শারীরিক ও মানসিক আঘাতে জর্জরিত নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী শেষমেশ আত্মহত্যা করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ

    জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে লোকসভায় আলোচনার সময় আইআইটি মাদ্রাজের অধিকর্তা ভি কামাকোটিকে উদ্দেশ করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি “গোমূত্র” শব্দ ব্যবহার করে কটাক্ষ করেছেন। উত্তরপ্রদেশের মিরাটে এক তরুণীকে ভুয়ো পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের মা ও মাসির হুমকির পর ওই তরুণী বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত আরমান, তাঁর মা ও মাসির বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। কর্নাটকে হিন্দু জনজাগৃতি সমিতির গুরু পূর্ণিমা মহোৎসব নিয়ে এসডিপিআই নেতা আশরাফের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বান্টওয়াল থানায় অভিযোগ দায়ের করে তিনি আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং গুরু পূর্ণিমার অনুষ্ঠানকে “দেশ-বিরোধী” বলে অভিহিত করেন। ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও ভক্তরা।

    হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ ও বৈষম্যের অভিযোগ

    প্রতিবেদনটির দাবি, অধিকাংশ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। আইন, সরকারি নীতি এবং সামাজিক আচরণের দীর্ঘমেয়াদি ধারা বিশ্লেষণ করলে এর উপস্থিতি বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, বৃহত্তর পরিসরে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির (Roundup Week) মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে।প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের ওপর আক্রমণ ও বৈষম্যের ঘটনাগুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে (Hindus Under Attack) বৃহত্তর মানবাধিকার সঙ্কটের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

     

  • FIR: রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে সংসদে অভিনয়, পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলা

    FIR: রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে সংসদে অভিনয়, পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারাণসীর কোতয়ালি থানায় পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। কাশীর পাতালপুরী মঠের জগৎগুরু বালক দাস দেবাচার্য-সহ কয়েকজন সাধুর অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা হয়েছে (Pappu Yadav)। অভিযোগ, গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সংসদ চত্বরে বিরোধী সাংসদদের অংশগ্রহণে রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে একটি হিন্দুবিদ্বেষী ব্যঙ্গাত্মক অভিনয় করা হয়।

    প্রণামী চুরির অভিনয় (FIR)

    ঘটনাটি ৩১ জুলাই ২০২৬, চলতি বাদল অধিবেশনের সময়ের। অভিযোগ, অযোধ্যার রাম মন্দিরে সংগৃহীত অনুদানে কথিত অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের প্রতিবাদে ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা সংসদের মকর দ্বারের কাছে বিক্ষোভ দেখান। সেই বিক্ষোভের অংশ হিসেবেই পাপ্পুকে গেরুয়া পোশাকে, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা এবং পুরোহিতের সাজে দেখা যায়। তাঁর পাশে রাখা ছিল অনুদানের বাক্স, হাতে ছিল ভগবান রামের ছবি। অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ বিরোধী নেতারা অভিনয়ের অংশ হিসেবে ওই অনুদানের বাক্সে টাকা দেন। এরপর পাপ্পু যাদব সেই টাকা নিজের পকেটে ঢোকান এবং অনুদানের বাক্স নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এর মাধ্যমে অযোধ্যার রাম মন্দিরে কথিত “প্রণামী চুরি”-র অভিযোগকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়।

    ভগবান রামের অপমান

    অযোধ্যা-সহ ফৈজাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদও ওই অভিনয়ে অংশ নেন। তিনি পাপ্পুর কলার ধরে তাঁকে “চোর পুরোহিত” বলে অভিহিত করে শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষোভে “চাঁদা চোর, গদি ছোড়” এবং “অমিত শাহ ইস্তফা দাও”-এর মতো স্লোগানও দেওয়া হয়। মন্দিরের অনুদান নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়টিও বিক্ষোভে তুলে ধরা হয়। এই অভিনয়কে ঘিরে বারাণসীর সাধু-সন্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গেরুয়া পোশাক ব্যবহার করে মন্দিরের পুরোহিতকে চোর হিসেবে দেখানোর ঘটনাকে তাঁরা সনাতন ধর্ম, সাধু সমাজ এবং ভগবান রামের অপমান বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাংসদদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন (FIR) তাঁরা। কাশী জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার গৌরব বনসল জানিয়েছেন, কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সাধু-সন্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাপ্পুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংসদ চত্বরে হওয়া ওই বিক্ষোভের যে ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলিও তদন্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অভিযোগ দায়ের দিল্লিতেও

    এদিকে, দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরী থানায়ও  পাপ্পু, রাহুল, ডিম্পল যাদব, অবধেশ প্রসাদ-সহ একাধিক বিরোধী সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন সমাজকর্মী সূর্য মৈথিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, জুতো পরে প্রতীকী অনুদানের বাক্সে টাকা রাখা এবং পরে সেই টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিনয় ধর্মীয় প্রতীকগুলির প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। বিশেষ করে রামলালার ছবিকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের আগে আইনি মতামত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে। এদিকে, বিরোধীদের বক্তব্য, তাঁদের বিক্ষোভের উদ্দেশ্য কোনও ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করা নয়। রাম মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনায় কথিত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। পাপ্পুও পরে দাবি করেন, তাঁর অভিনয়ের লক্ষ্য ছিল ধর্মের নামে হওয়া চুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। এই জাতীয় বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা করেছেন (Pappu Yadav) বিজেপি নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, এই অভিনয়ের মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে (FIR) সনাতন ধর্ম ও গেরুয়া রঙকে।

     

  • CJP Protest: ‘আরশোলা’-দের বিক্ষোভের পর কড়া পদক্ষেপের প্রস্তুতি! দিল্লি পুলিশের নজরে তিন সংস্থা থেকে বহু নেটপ্রভাবী, ইউটিউবার

    CJP Protest: ‘আরশোলা’-দের বিক্ষোভের পর কড়া পদক্ষেপের প্রস্তুতি! দিল্লি পুলিশের নজরে তিন সংস্থা থেকে বহু নেটপ্রভাবী, ইউটিউবার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের কয়েক দিন পরেই একাধিক নেটপ্রভাবী ও ইউটিউবারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের রেডারে রয়েছে তিনটি (CJP Protest) বেসরকারি সংস্থাও। ডিজিটাল বিপণন, সোশাল মিডিয়া পরিচালনা এবং কনটেন্ট প্রমোশনের সঙ্গে যুক্ত ওই তিন সংস্থার নথিপত্র খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা।

    পুলিশের নজরে একাধিক সোশাল মিডিয়ার হিসেব (CJP Protest)

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজরে রয়েছে এমন (Delhi Police) একাধিক সোশাল মিডিয়ার হিসেব, যেগুলি থেকে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও প্ররোচনামূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন পোস্ট, ভিডিয়ো এবং সরাসরি সম্প্রচার খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিক্ষোভের সময় হিংসা ছড়ানো এবং গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুর ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট সোশাল মিডিয়ার হিসেবগুলির ভূমিকা পর্যালোচনা করার পর আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর আগে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে প্রায় ১৮০টি সোশাল মিডিয়ার হিসেবকে তদন্তের আওতায় এনেছিল দিল্লি পুলিশ।

    বিক্ষোভকারীদের নিয়ে দিল্লি সরকারের বক্তব্য

    যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালীন নথিভুক্ত এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ জানিয়েছিলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে অথবা যাঁরা বিক্ষোভের সময় হিংসা ও ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না। দিল্লি সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরও একটি বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সিজেপির নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও বিরূপ আইনি পদক্ষেপ করবে না। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি অপরাধের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না। ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের উল্লেখ করে এই অবস্থান জানানো হয় (CJP Protest)। আশিস সুদ আরও বলেন, “ভারত সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে নিজেদের মতের বিরোধিতা বা অসন্তোষ প্রকাশকারী ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।” তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং যাঁরা হিংসা বা ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না বলেও জানান তিনি।

    বিক্ষোভ ঘিরে ১৩টি এফআইআর

    নির্দোষ ছাত্রদের আশ্বস্ত করতেই দিল্লি সরকারের ওই বিবৃতি বলে জানান সুদ। তাঁর বক্তব্য, নির্দোষ ছাত্রদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই (Delhi Police), এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করা হবে না। এর আগে ২০ জুলাই সিজেপির ‘চলো সংসদ’ মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনায় দিল্লি পুলিশ ১৩টি এফআইআর নথিভুক্ত করেছিল। একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, ওই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া প্রায় ২,৮০০ জনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক ইতিহাস থাকার তথ্য চিহ্নিত করা হয়েছে (CJP Protest)।

     

  • PM Modi: ‘আরশোলা’ পার্টির বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইল দিল্লি পুলিশ

    PM Modi: ‘আরশোলা’ পার্টির বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া (Derogatory Posts) আপত্তিকর ও অবমাননাকর পোস্টের ঘটনায় এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। সরকারি অভিযোগে বলা হয়েছে, দেশের একটি সাংবিধানিক পদাধিকারীকে উদ্দেশ্য করে “অপমানজনক, বিদ্বেষমূলক এবং মানহানিকর” বিষয়বস্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পরিচয় জানাও (PM Modi)

    এই ঘটনার তদন্তে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সকে সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলি আপলোড করা অ্যাকাউন্টগুলির পরিচয় জানাতে এবং দ্রুত ছবি ও ভিডিওগুলি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি, যেসব এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট করা হয়েছে, সেগুলির পুরো নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং ই-মেল আইডি-সহ বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে পুলিশ। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির লগ-ইন ও লগ-আউট সংক্রান্ত তথ্য, তারিখ ও সময়ের বিবরণ এবং তদন্তে সহায়ক হতে পারে এমন অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়মের ৬৩(৪) ধারার অধীনে একটি শংসাপত্র জমা দিতে এবং ভবিষ্যৎ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পোস্ট এবং ভিডিওগুলির সমস্ত তথ্য সংরক্ষণ করতেও এক্স-কে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত সিজেপির বিক্ষোভ এবং চলো সংসদ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘটিত অশান্তির সময় প্রকাশিত একাধিক ভিডিও ও পোস্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, ওই পোস্টগুলিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল।

    সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি

    দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ ও অশান্তির সময় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় একাধিক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি দল নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি চালাচ্ছে। কোথাও আপত্তিকর বা উসকানিমূলক বিষয়বস্তু নজরে এলেই সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাকে তা সরিয়ে নিতে বলে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।পুলিশের দাবি, ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে করা একাধিক অশালীন মন্তব্য ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সাইবার শাখা এবং সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি দল বিক্ষোভ সংক্রান্ত সমস্ত অনলাইন কার্যকলাপের ওপর নজর রাখছে (PM Modi), যাতে কোনও উসকানিমূলক বা আইনভঙ্গকারী বিষয়বস্তু দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর আগে দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত ৪০০-রও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি (Derogatory Posts) সিজেপির বিক্ষোভকে সমর্থন করে ভুয়ো তথ্য, ডিপফেক ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছিল (PM Modi)।

     

  • BJP Leaders on Instagram: প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বার্তার পর ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় বিজেপি নেতারা, যুবসমাজের কাছে পৌঁছতে জোর প্রচার

    BJP Leaders on Instagram: প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বার্তার পর ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় বিজেপি নেতারা, যুবসমাজের কাছে পৌঁছতে জোর প্রচার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের পর যুবসমাজের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ আরও জোরদার করতে ইনস্টাগ্রামকে প্রধান রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পথেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির (BJP Leaders on Instagram) একাধিক শীর্ষ নেতা ইনস্টাগ্রামে তাঁদের সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন মন্ত্রী ও বিজেপি নেতার অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিকভাবে রিল, ভিডিও এবং রাজনৈতিক বার্তা প্রকাশের হার বেড়েছে।

    সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্ব

    নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের পর সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম তরুণদের মধ্যে মতামত গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উঠে এসেছে। সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সিজেপি (CJP) চলতি বছরের মে মাসে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসরণকারীর সংখ্যা ২ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সেলফি-স্টাইল ভিডিও প্রকাশ করে পরীক্ষা সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তরুণদের মতামতের জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। ২০১৪ সাল থেকে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী মোদির সম্প্রতি একটি মধ্যরাতের ভিডিও প্রকাশের পর প্রায় ১০ লক্ষ নতুন অনুসরণকারী যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসরণকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৫০ লক্ষ। বিজেপির সরকারি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের অনুসরণকারী প্রায় ৯৫ লক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে দলটি প্রশ্নপত্র ফাঁস, সংসদে পাবলিক এক্সামিনেশন সংশোধন বিল (Prevention of Unfair Means) সংক্রান্ত ভিডিও ও রিল প্রকাশ করছে। এসব পোস্টে বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিলের আলোচনা ব্যাহত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

    প্রহ্লাদ জোশীর ইনস্টা-বার্তা

    নবনিযুক্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী ইনস্টাগ্রামে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, পাবলিক এক্সামিনেশন আইন (Prevention of Unfair Means) কার্যকর করার মাধ্যমে পরীক্ষা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান করা হয়েছে। একটি পোস্টে তিনি বলেন, পরীক্ষাব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রস্তুত এবং তথ্যভিত্তিক আলোচনার পক্ষেই তারা। তিনি আরও দাবি করেন, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেসের কয়েকজন সাংসদও সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা চেয়েছেন, কিন্তু একজন ব্যক্তির অহংকারের কারণে সেই আলোচনা হচ্ছে না।

    নাড্ডার ভিডিও বার্তা

    প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডাও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাঁর পোস্টে সিজপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিট ইস্যুতে বৈঠকের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আগে যেখানে তাঁর পোস্টের সংখ্যা ছিল খুবই কম, এখন প্রায় প্রতিদিনই একাধিক ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।

    মন্ত্রিদের ইনস্টা-বার্তা

    প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ইনস্টাগ্রামে প্রতিদিন একাধিক পোস্ট করে সংশোধনী বিল, ছাত্রদের উদ্দেশে ধৈর্য ধরার আহ্বান এবং সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে—এমন বার্তা তুলে ধরছেন। আগে যেখানে সপ্তাহে চার-পাঁচটি পোস্ট করতেন, এখন প্রতিদিনই একাধিক পোস্ট প্রকাশ করছেন তিনি। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আনা বিল নিয়ে ধারাবাহিক ভিডিও পোস্ট করছেন। তাঁর বক্তব্যে পরীক্ষায় দুর্নীতিকে “জাতীয় সমস্যা” হিসেবে উল্লেখ করে সব রাজনৈতিক দলকে বিল সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রতিদিন এক ডজনেরও বেশি পোস্ট দেখা যাচ্ছে।

    পরীক্ষায় দুর্নীতি “জাতীয় সমস্যা”

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও সরকারের অবস্থান তুলে ধরে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করতে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়ালও সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বিরোধীদের বিষয়টি রাজনৈতিক ইস্যু না করে সংসদীয় আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মহিলা ও শিশু উন্নয়নমন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে একাধিক পোস্ট করেছেন। তাঁর পোস্টে “হেমন্ত ইস্তফা দো” স্লোগান এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

    ইনস্টা-যোগ অমিত মালব্য-র

    বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যও আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ইনস্টাগ্রামে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলনের বিভিন্ন ভিডিওর উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেখানে ৩৭০ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল, “আজাদ কাশ্মীর”-এর দাবি, হিন্দু দেবদেবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য এবং দিল্লি দাঙ্গার অভিযুক্তদের মুক্তির দাবির মতো স্লোগান শোনা গেছে। তাঁর বক্তব্য, যদি ভিডিওগুলি সত্য হয়, তবে আন্দোলন ছাত্রদের প্রকৃত দাবি থেকে সরে গিয়েছিল। মালব্য আরও দাবি করেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের সর্বাধিক অভিযোগ ইন্ডিয়া জোটশাসিত রাজ্যগুলিতে সামনে এসেছে। তাঁর তালিকায় জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, কেরল ও কর্নাটকের নাম রয়েছে। সোমবার লোকসভায় সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিদ্যমান আইনে সংশোধনী বিল পেশ করেছে। প্রস্তাবিত সংশোধনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ₹৫০ লক্ষ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

LinkedIn
Share