Tag: Delhi Police

Delhi Police

  • CJP Opposition Ecosystem: দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়ো সাংবাদিক আইডি-এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও নিয়ে বিতর্ক, তদন্তে একাধিক অভিযোগ

    CJP Opposition Ecosystem: দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়ো সাংবাদিক আইডি-এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও নিয়ে বিতর্ক, তদন্তে একাধিক অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভুয়ো সাংবাদিক পরিচয়পত্র বিক্রি, রাজনৈতিক প্রচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে (CJP Opposition Ecosystem)। অভিযোগ, সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা বা সংবাদমাধ্যমে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে সংবাদকর্মীর পরিচয়পত্র, সদস্যপদ শংসাপত্র এবং অন্যান্য নথি দেওয়া হচ্ছিল। বিক্ষোভের সময় সরকার ও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার করার অভিযোগও উঠেছে (Independent Journalists)। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী শিবিরের সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে ঘিরে এই অভিযোগগুলি সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, অভিযোগ, এর প্রচারে রাজনৈতিক বার্তা, সোশ্যাল মিডিয়ায় সংগঠিত প্রচার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে।

    পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন (CJP Opposition Ecosystem)

    অভিযোগ, ‘ইন্ডিয়ান প্রেস ইউনিয়ন’, ‘নিড২৪’ এবং ‘এফএনএফ’-এর মতো সংগঠন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয়পত্র, প্রতিবেদকের পরিচিতি, সদস্যপদ শংসাপত্র এবং গাড়ির স্টিকার বিক্রির ব্যবস্থা ছিল। পরিচয়পত্রের দাম ঘোরাফেরা করেছে ৫৯৯ টাকা থেকে ১,৭৯৯ টাকার মধ্যে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের পরিচিতি তৈরির জন্য ৯৯৯ টাকা এবং ডিস্ট্রিক্ট ব্যুরো চিফ ব্যবহারের জন্য বার্ষিক ২৫ হাজার টাকার সদস্যপদের কথা বলা হয়েছে।

    ‘হিন্দ মিডিয়া নেটওয়ার্ক’ নামে একটি ওয়েবসাইটে ৫৯৯ টাকায় সংবাদকর্মীর পরিচয়পত্র ও প্রতিবেদকের পরিচিতির পাশাপাশি ৩,৫০০ টাকায় মাইক্রোফোনের সরঞ্জাম বিক্রির বিজ্ঞাপন থাকার অভিযোগ উঠেছে। ‘নিড২৪ নিউজ’-এর ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের পরিচিতি এবং ডিস্ট্রিক্ট ব্যুরো চিফ ডেজিগনেশন দেওয়ার জন্য পৃথক মূল্য নির্ধারণের কথা সামনে এসেছে।

    অভিযোগের আরও একটি দিক হল, কয়েকটি সদ্য তৈরি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট নিজেদের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম হিসেবে তুলে ধরতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ব্যবহার করেছিল। একটি সংগঠন ২০১৬ সাল থেকে কাজ করার দাবি করলেও, সেই দাবির সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি বলেই উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও নিয়ে গ্রেফতার

    বিক্ষোভ ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগের মধ্যে দিল্লি পুলিশ ২৪ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, তিনি সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগতকে এক মহিলা বিক্ষোভকারীর সঙ্গে অসদাচরণ করতে দেখা যাচ্ছে—এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছিলেন।

    ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামের ‘নিউজ আইনা টুডে’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয়। সেটিকে আসল সিসিটিভি ফুটেজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ভিডিওতে এক পুলিশকর্মীর আপত্তিকর আচরণের দৃশ্যের সঙ্গে সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগতের ছবি, নাম ও পদবি দেখানো হয়েছিল। এর ফলে ওই পুলিশ আধিকারিককে মিথ্যাভাবে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

    ৪ অক্টোবর পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণকারী দল ভিডিওটি চিহ্নিত করে। এর পর সাইবার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। তদন্তে অ্যাকাউন্টটির সঙ্গে হরিয়ানার পালওয়ালের বাসিন্দা নাদিম আহমেদ আমিনের যোগসূত্র মেলে। তাঁকে ৫ অক্টোবর মেওয়াট থেকে আটক করা হয় (CJP Opposition Ecosystem)।

    জিজ্ঞাসাবাদে আমিন স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারীদের দাবি, ৩ অক্টোবর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা, বিক্ষোভকারীদের উত্তেজিত করা এবং অশান্তি সৃষ্টি করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মনজিৎ শেওরানের বক্তব্য, এই প্রচারের লক্ষ্য ছিল বিশৃঙ্খলা তৈরি করা এবং দাঙ্গা উসকে দেওয়া (Independent Journalists)।

    অভিযোগকারী মহিলার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিতর্ক

    সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলা এক মহিলার পরিচয় নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও, বাস্তবে ছিলেন সিজেপির সক্রিয় কর্মী।

    রোজি নামের ওই মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ৬১ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। ৩ অক্টোবর অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মী নেহা বোরাকে আটক করার সময় বিবেক ভগত তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রোজির। পরে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পুলিশ আধিকারিককে ‘যৌন নিপীড়ক’ বলে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ।

    ৬ সেপ্টেম্বর সিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনাকারী দলের পরিচয় প্রকাশ করে একটি পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে রোজিকে প্রচার ও সংবাদ সংগ্রহের সমন্বয়কারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্টেও সিজেপির প্রতি সমর্থনের পরিচয় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

    ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে বিতর্ক

    সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী আন্দোলন এবং উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গার প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। অভিযোগ, সেই সময়ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিক্ষোভ, উত্তেজনামূলক ভাষণ এবং বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। পরে যান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

    ২০২০ সালের দাঙ্গায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং কয়েকশো মানুষ জখম হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন গোয়েন্দা ব্যুরোর কর্মী অঙ্কিত শর্মা এবং পুলিশকর্মী রতনলাল। উপ-পুলিশ কমিশনার অমিত শর্মাও গুরুতর আহত হন।

    দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ৫২/২০২০ নম্বর এফআইআর দায়ের করেছিল। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় আয়োজিত বিক্ষোভের আড়ালে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হয়েছিল। উমর খালিদ, শার্জিল ইমাম, তাহির হুসেন, খালিদ সাইফি, ইশরাত জাহান, গুলফিশা ফতিমা, নাতাশা নারওয়াল, দেবাঙ্গনা কলিতা, আথার খান এবং সফুরা জারগর-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম ওই মামলায় উঠে আসে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও আইনি অবস্থান পৃথকভাবে বিবেচ্য।

    বর্তমান বিক্ষোভকে ঘিরে একই ধরনের পরিকল্পনার অভিযোগ উঠলেও, দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তদন্তের ফল প্রয়োজন (CJP Opposition Ecosystem)।

    সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

    এই বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা। গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হল জনসাধারণকে তথ্য দেওয়া, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের পর্যালোচনা করা। সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কিন্তু অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেওয়া হলে প্রকৃত সংবাদকর্মী ও রাজনৈতিক প্রচারকর্মীর মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে, কোনও ব্যক্তি নিজেকে স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক যোগসূত্র গোপন করলে বা যাচাই না করা তথ্যকে সত্য হিসেবে প্রচার করলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিওকে আসল প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সেই বিপদ আরও বাড়ে। এমন ভিডিও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, কোনও ব্যক্তির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনা ছড়াতে পারে। সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করে নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ এলাকায় প্রবেশ কিংবা নিয়ম ভাঙার চেষ্টা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

    দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার সিদ্ধান্তের পর কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নিজেদের স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ (Independent Journalists)।

    সব মিলিয়ে, বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়ো পরিচয়পত্র, রাজনৈতিক প্রচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও ব্যবহারের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ এবং প্রকৃত সাংবাদিকতার পরিচয় সুরক্ষিত রাখাই এখন গুরুত্বপূর্ণ (CJP Opposition Ecosystem)।

     

  • Jamia Millia Islamia: জামিয়ায় বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, অনলাইনে ক্লাসের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    Jamia Millia Islamia: জামিয়ায় বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, অনলাইনে ক্লাসের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালুর দাবিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া (Jamia Millia Islamia) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ বাধে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েক জন অনশনেও বসেছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পরেই অনলাইনে ক্লাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেন (Students Guards Clash) কর্তৃপক্ষ।

    উত্তেজনার সূত্রপাত (Jamia Millia Islamia)

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা যে তাঁবুগুলির নীচে অবস্থান করছিলেন, সেগুলি সরাতে শুরু করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন পুনর্বহাল করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন তাঁরা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মেহতাব আলম রিজভির অভিযোগ, শুক্রবার কংগ্রেসের দুই সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি এবং ইমরান মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করেন। তাঁর দাবি, তাঁরা পাঁচিল টপকে ক্যাম্পাসে ঢুকে পরিবেশ উত্তপ্ত করেন। তাঁদের উপস্থিতি পড়ুয়াদের উসকে দিয়েছে বলেও অভিযোগ রিজভির। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    তবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন এআইএসএ। সংগঠনের অভিযোগ, কোনও প্ররোচনা ছাড়াই অনশনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কর্তৃপক্ষ।

    হিংসার জেরে ভাঙা হয়েছিল ছাত্র সংসদ

    উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে হিংসার জেরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় হিংসার কারণে পঠনপাঠনও ব্যাহত হয়। আন্দোলনকারীরা এখন ওই ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন (Jamia Millia Islamia)।

    এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ভারতবিরোধী স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করেও সম্প্রতি উত্তেজনা ছড়ায়। ওই স্লোগানের সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের যোগ রয়েছে বলে দাবি ওঠে। ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

    গত ২১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে লেখা চিঠিতে সিপিআই(এম)-এর সাংসদ জন ব্রিটাস প্রায় দু’দশক ধরে (Students Guards Clash) বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। বাক্‌স্বাধীনতা ও সংগঠন গঠনের সাংবিধানিক অধিকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ছাত্র অধিকার সংক্রান্ত নির্দেশিকা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে লিংডো কমিটির সুপারিশের উল্লেখ করে ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের পক্ষে সওয়াল করেন (Jamia Millia Islamia) তিনি।

     

  • CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারবার আইন অমান্য, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বিক্ষোভের ডাক এবং শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা—এই সমস্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থান নিল দিল্লির আদালত। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হলেও, তার জন্য আদালতে লিখিত মুচলেকা দিতে হয়েছে তাঁদের। ভবিষ্যতে জনশান্তি বিঘ্নিত করবেন না, আইন মেনে চলবেন এবং আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না—এই মর্মে অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। তাঁদের মুক্তির সিদ্ধান্তে শর্ত আরোপের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ আদালত।

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে বিতর্ক, সাত দিন হেফাজতে থাকার পর মুক্তি

    গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ, এর আগেও শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দেওয়ার পরেও তাঁরা ফের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সেই ঘটনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয় এবং সাত দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হয়।

    বুধবার, ২১ অক্টোবর, দিল্লির স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) আদালতে মুক্তির আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। সেখানে দুই নেতা পৃথক লিখিত মুচলেকা জমা দেন। ভবিষ্যতে শান্তিভঙ্গ করবেন না এবং আদালতের প্রতি আস্থা বজায় রাখবেন বলে তাঁরা জানান। এরপরই তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামিনদারের বন্ডে মুক্তির নির্দেশ দেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ, যিনি দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদেও রয়েছেন।

    লিখিত অঙ্গীকারে কী জানালেন সিজেপির দুই নেতা?

    আদালতে জমা দেওয়া পৃথক মুচলেকায় দুই নেতা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার: তাঁরা কোনও ধরনের শান্তিভঙ্গ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

    • ● যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক নয়: আইন অনুযায়ী যন্তর মন্তর নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● সংবিধানের কাঠামো মেনে আন্দোলন: ভবিষ্যতে কোনও প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ হলে তা সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

    • ● বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা: তাঁরা জানিয়েছেন, বিচারব্যবস্থা এবং তার সমস্ত অঙ্গ, এমনকী স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রতিও তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

    এই অঙ্গীকারগুলির ভিত্তিতেই আদালত মনে করেছে, আপাতত তাঁদের আরও কিছু দিন হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। তবে মুক্তি মানেই যে তাঁদের বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল, তা নয়।

    আদালতের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন, নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন আইনজীবী

    শুনানির সময় দিল্লি পুলিশের আইনজীবী ১৯ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমে দেওয়া দুই নেতার কিছু বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। পুলিশের অভিযোগ ছিল, ওই বক্তব্যগুলি স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার হয়ে উপস্থিত আইনজীবী মৌখিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও আদালতকে আশ্বাস দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, ১৯ অক্টোবরের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেট দুই নেতার আচরণ নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, তাঁদের কাজকর্মে আইনের প্রতি কোনও সম্মান দেখা যাচ্ছে না। নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বারবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।

    এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের শুনানি তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে আদালত মুক্তির ক্ষেত্রে লিখিত অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দিয়েছে, অন্যদিকে আইন অমান্য এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগকে উপেক্ষা করেনি।

    আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আর্জি খারিজ

    সিজেপির দুই নেতাকে আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি।

    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১৩৫(৩) ধারায় বিবেচিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নতুন করে দেওয়া শান্তির মুচলেকা এবং লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেছে আদালত। সেই কারণে এই পর্যায়ে তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজত অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এখানে আদালতের অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তির সিদ্ধান্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি হিসেবে দেখা যাবে না। বরং আদালত মনে করেছে, আপাতত শান্তি বজায় রাখার নিশ্চয়তা আদায়ের জন্য বন্ড ও লিখিত অঙ্গীকার যথেষ্ট হতে পারে। ভবিষ্যতে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠতে পারে।

    দিল্লি হাইকোর্টেও প্রশ্নের মুখে দুই নেতা

    এর আগে বুধবারই দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি সুব্রামনিয়ম প্রসাদ দুই নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগের শান্তির মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা ফের একই ধরনের পদক্ষেপ করলেন এবং প্রচলিত আইনি প্রতিকারের পথ অনুসরণ না করে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন বিচারপতি।

    এর পরেই সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা তাঁদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, হাইকোর্ট থেকে আবেদন প্রত্যাহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিখিত অঙ্গীকার জমা দিয়ে তাঁরা মুক্তি পান।

    এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি এবং পূর্ববর্তী মুচলেকা মেনে চলার বিষয়টি দুই নেতার আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে হাইকোর্টে আবেদন প্রত্যাহার করাকে আদালতের কোনও চূড়ান্ত রায় বা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

    ২৩ অক্টোবর ফের শুনানি, জামিনদারদের যাচাই করবে পুলিশ

    মুক্তি পেলেও সিজেপির দুই নেতার বিরুদ্ধে চলা প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর ফের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

    দুই নেতার জামিনদারদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে। ফলে তাঁদের মুক্তির পরবর্তী আইনি পরিস্থিতিও নজরে থাকবে।

    সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় আদালতের বার্তা স্পষ্ট—প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার থাকলেও তা আইন ও জনশৃঙ্খলার সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পূর্ববর্তী মুচলেকা, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে প্রবেশের অভিযোগ এবং আদালতের মর্যাদা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সিজেপির দুই নেতাকে কঠোর শর্তে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই আইনি অবস্থানকেই সামনে এনেছে। এখন দেখার, আগামী শুনানিতে পুলিশ কী রিপোর্ট জমা দেয় এবং দুই নেতা তাঁদের দেওয়া অঙ্গীকার কতটা মেনে চলেন।

  • CJP Leaders Tihar Jail: শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙায় ৫ দিনের জন্য তিহাড় জেলে দুই ‘আরশোলা’ সৌরভ, আশুতোষ

    CJP Leaders Tihar Jail: শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙায় ৫ দিনের জন্য তিহাড় জেলে দুই ‘আরশোলা’ সৌরভ, আশুতোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির জন্তর মন্তরে অনুপ্রবেশ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের জন্য তিহাড় জেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সহযোগী অজিঙ্ক শিন্ডে অবশ্য শান্তির বন্ডে স্বাক্ষর করে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার তিনজনকেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (SEM) সামনে পেশ করা হয়।

    দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, তিনজনের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ অমান্য, শান্তির বন্ড ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বিক্ষোভের সময় আটক হওয়ার পর সৌরভ ও আশুতোষ এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার বন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    তবে সিজেপি-র আইনি দলের প্রধান রত্না সিংহের অভিযোগ, তিনজনকে রাত ৩টের সময় একটি বেসরকারি ভ্যানে করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, কর্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে তাঁদের আটকে রেখেছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন সমর্থন পাওয়া যায়নি।

    কেন বিতর্কের কেন্দ্রে জন্তর মন্তর?

    গত ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার একটি নির্দেশ জারি করে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেন। এর ফলে জন্তর মন্তর নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

    এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিজেপি। দলের দাবি, রাজধানীর রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে দিলে প্রতিবাদের দৃশ্যমানতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছনো কঠিন হবে।

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এ কথিত অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও সিজেপি-সহ একাধিক সংগঠন প্রতিবাদ করছে। তবে SIR-এ অনিয়মের অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ এই মুহূর্তে সামনে নেই।

    সব মিলিয়ে, দুই নেতার গ্রেফতারি ও বিচারবিভাগীয় হেফাজতকে ঘিরে দিল্লিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে পুলিশের আইনশৃঙ্খলা ও বিধিনিষেধ কার্যকর করার যুক্তি, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে, এখন সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • Jantar Mantar Protest: দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত হল তিনটি বিকল্প স্থান

    Jantar Mantar Protest: দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত হল তিনটি বিকল্প স্থান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্ষোভ কর্মসূচির জায়গা হিসেবে যন্তর-মন্তরকে (Jantar Mantar Protest) ডি-নোটিফাই করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। দিল্লিতে এই এলাকায় আর বিক্ষোভ দেখানো যাবে না। বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য তিনটি জায়গাকে চিহ্নিত করল কেন্দ্র। দিল্লির যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। পরিবর্তে রাজধানীর তিনটি পৃথক এলাকায় বিক্ষোভের জন্য নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী দিনে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছর, ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রতিবাদস্থল হিসাবে যন্তর মন্তরকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। এ বার সেই নির্দেশিকায় বদল আনল অমিত শাহের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরের কাছে রয়েছে বেশ কিছু সরকারি দফতর। মনে করা হচ্ছে, তার আশপাশে যাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি না হয়, তাই এই পদক্ষেপ।

    দিল্লি পুলিশের বিশেষ নির্দেশিকা

    ১১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে জারি করা এক নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত স্থানগুলি হল পুরনো দিল্লির রামলীলা ময়দান, পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড এবং উত্তর দিল্লির বুরাড়ি গ্রাউন্ড। যন্তর মন্তর থেকে এই স্থানগুলির দূরত্ব যথাক্রমে প্রায় ৩ কিলোমিটার, ১৩.৫ কিলোমিটার এবং ৪৪ কিলোমিটার। দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশে ২৮ এপ্রিল, ২০২২-এর পূর্ববর্তী নির্দেশ আংশিক সংশোধন করা হয়েছে। ওই নির্দেশে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নতুন তিনটি স্থানে বিক্ষোভ ও জমায়েত পরিচালনার জন্য সংশোধিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) পরে প্রকাশ করা হবে। দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘‘কমিটির সুপারিশ মোতাবেক যন্তর মন্তর আর প্রতিবাদস্থল থাকছে না। প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ কর্মসূচি করার জন্য এ বার তিনটি স্থান নির্ধারিত হয়েছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি মাঠ।’’ ওই তিনটি স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে হলে কী ভাবে অনুমতি নিতে হবে, বা কী কী করতে হবে, তা নিয়ে শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে নির্দেশিকা (এসওপি)।’’

    শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে সরব সিজেপি

    যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া নিয়ে কক্‌রোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং দিল্লি পুলিশের মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে এসে সিজেপি-র নেতারা বিক্ষোভের জন্য নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি জানান। দলের বক্তব্য, তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছিলেন এবং পুলিশ সেই বার্তা গ্রহণও করেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিক্ষোভের তারিখ জানানো হয়নি। অনুমতি না দেওয়ার কারণও তাদের স্পষ্ট করে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, বিক্ষোভের তারিখ জানানোর জন্য পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর না এলে দল মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সম্প্রতি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও তুলেছেন দাস। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীদের বাসের ভিতরে মারধর করা হয়েছে। পাশাপাশি, দলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলতে ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ এবং অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ এড়িয়ে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দাসের কথায়, “ভারত সরকার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ চালাচ্ছে।” তবে দল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

    কেন যন্তর মন্তর-এ সভা নয়

    অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে INDIA জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে প্রস্তাবিত মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের উপর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। যদিও দিল্লি পুলিশের নির্দেশে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে বাতিল করার কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সিজেপি-র দাবির বা ইন্ডি জোটের প্রস্তাবিত মিছিলের সরাসরি যোগসূত্র নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে রাজধানীতে একের পর এক প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার আবহে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    যন্তর মন্তর বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে শুনানি

    যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা একটি মামলার শুনানি মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, দিল্লি হাই কোর্টে হওয়ার কথা। আবেদনকারীর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ বন্ধ করা হলেও বিকল্প কোনও স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। এ ছাড়াও, ১০ ও ১১ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচি সংক্রান্ত পৃথক একটি মামলাও মঙ্গলবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে আদালত জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন এবং শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হলফনামা চেয়েছে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিকল্প স্থান নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে ঘিরে আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

     

     

     

     

     

     

  • CJP and Delhi Police: ‘অমানবিক আচরণের’ অভিযোগ খারিজ! দীপকের দাদির মৃত্যুসংবাদ দেওয়ার ভিডিও প্রকাশ দিল্লি পুলিশের

    CJP and Delhi Police: ‘অমানবিক আচরণের’ অভিযোগ খারিজ! দীপকের দাদির মৃত্যুসংবাদ দেওয়ার ভিডিও প্রকাশ দিল্লি পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিজেপির (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের দিদার মৃত্যুসংবাদ তাঁকে জানানোর সময় দিল্লি পুলিশ ‘অমানবিক আচরণ’ করেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছিল। প্রমাণ দেখিয়ে সেই অভিযোগ খারিজ করল দিল্লি পুলিশ। অভিযোগের জবাবে একটি ভিডিও প্রকাশ করে পুলিশের দাবি, দীপকে-কে সংবেদনশীলতার সঙ্গেই দুঃসংবাদটি জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি, তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেছিলেন, প্রতিরোধমূলক হেফাজতে থাকা অভিজিৎকে তাঁর দিদার মৃত্যুর খবর জানানোর সময় পুলিশ অমানবিক আচরণ করেছে। এমনকি, সেই মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করাকেও তিনি পুলিশের অসংবেদনশীলতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

    দিল্লি পুলিশের দাবি

    সিজেপির অভিযোগের পরই পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করেন দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (DCP) নেহা যাদব। সেখানে প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, এক মহিলা পুলিশকর্মী শান্তভাবে দীপককে তাঁর দাদির মৃত্যুর খবর জানাচ্ছেন। কিছুটা সময় দেওয়ার পর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চান কি না, কিংবা বাড়ি ফেরার জন্য বিমানযাত্রার ব্যবস্থা-সহ কোনও সাহায্য প্রয়োজন কি না। পুলিশের দাবি, দীপক সেই প্রস্তাবগুলি প্রত্যাখ্যান করেন। ডিসিপি নেহা যাদবের বক্তব্য, “অভিজিৎ দীপকের দাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ আধিকারিকরা তাঁর কাছে গিয়ে বিষয়টি জানান এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেন। বিমানযাত্রা, ফোনে কথা বলা কিংবা অন্য কোনও সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা সংবেদনশীলতার সঙ্গে জানতে চাওয়া হয়। তাঁকে একাধিকবার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি।”

    কেন সিজেপি-কে বিক্ষোভের অনুমতি নয়

    এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে দিল্লিতে সিজেপি-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন ডিসিপি যাদব। তাঁর দাবি, অতীতে বিক্ষোভের অনুমতি ও প্রশাসনিক নির্দেশিকা মেনে চলার ক্ষেত্রে সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ ছিল। বিশেষত, প্রশ্নপত্র ফাঁস-বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসা, পাথর ছোড়া এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি পুলিশের। ডিসিপি-র কথায়, “আগে অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁরা আইন মেনে চলেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের জমায়েত থেকে ব্যাপক পাথর ছোড়া, অগ্নিসংযোগ ও হিংসার ঘটনা ঘটে এবং সরকারি সম্পত্তির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়।” তিনি আরও জানান, জনপথে প্রস্তাবিত অবস্থান-বিক্ষোভের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করা, অতীতের নিয়মভঙ্গের অভিযোগ এবং তৎকালীন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।

    বিমানবন্দর থেকে আটক, পরে মুক্তি

    উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে দিল্লিতে অনুমতিহীন বিক্ষোভের আশঙ্কায় বিমানবন্দর থেকে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরদিন, অর্থাৎ ১১ অক্টোবর, এক বছরের বন্ড জমা দেওয়ার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শান্তিভঙ্গ হতে পারে, এমন কোনও কার্যকলাপে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকারও তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

  • India Slams UN: আরশোলাদের প্রতিবাদে শামিল লোকজনকে আটক নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগে ক্ষুব্ধ দিল্লি, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ’, তোপ ভারতের

    India Slams UN: আরশোলাদের প্রতিবাদে শামিল লোকজনকে আটক নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগে ক্ষুব্ধ দিল্লি, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ’, তোপ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শত শত সমর্থককে আটক করার ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরের উদ্বেগকে ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ’ বলে আক্রমণ করল ভারত (India Slams UN)। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের (ওএইচসিএইচআর) মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে নয়াদিল্লির দাবি, এই উদ্বেগের কোনও ভিত্তি নেই। বরং বিশ্বের অন্যত্র হওয়া বৃহৎ বিক্ষোভের দিকেও রাষ্ট্রসংঘের নজর দেওয়া উচিত।

    মুখের মতো জবাব ভারতের (India Slams UN)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রসংঘের ভারতের সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। এখানে সংবিধান শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করেছে। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং মুক্ত সংবাদমাধ্যম এই অধিকারকে সুরক্ষিত রাখে। অন্য সব গণতান্ত্রিক দেশের মতো ভারতেও জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের আওতায় নাগরিকেরা এই অধিকার প্রয়োগ করেন। অন্যদিকে, প্রশাসন আইন মেনেই কাজ করে এবং যে কোনও অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ সবার জন্য খোলা রয়েছে (Delhi Detentions Remarks)।”

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধর্না দিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সিজেপির নেতা-কর্মী- সমর্থকেরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলের নেতারাও। সেই সময় দিল্লি পুলিশ প্রায় তিন হাজার মানুষকে আটক করে। বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশের ঢল আটকাতে ইন্টারনেট পরিষেবা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উপরেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। দিল্লি মেট্রো, বাস ও রেল পরিষেবাও এই বিধিনিষেধের আওতায় আসে।

    শনিবার রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এক বিবৃতিতে জানান, দিল্লিতে বৃহৎ বিক্ষোভের আগে ও চলাকালীন বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, নাগরিক সমাজের সংগঠনের সদস্য, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের গণ-আটকের খবর নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

    তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার যাতে সম্পূর্ণভাবে সম্মান করা হয় এবং কার্যকর করা হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।” তাঁর আরও বক্তব্য, “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার কঠোর মানদণ্ড পূরণ করা আবশ্যক (India Slams UN)।”

    রাষ্ট্রসংঘের ‘অনাকাঙ্খিত জ্ঞান’

    শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোরও আহ্বান জানান রাষ্ট্রসংঘের ওই মুখপাত্র। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত উদ্বেগ ও অভিযোগগুলির সমাধানে কর্তৃপক্ষকে অর্থবহ আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন তিনি।

    তবে রাষ্ট্রসংঘের এই মন্তব্যে আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পাল্টা বক্তব্য, “ওএইচসিএইচআরের উদ্বেগ ভিত্তিহীন এবং তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপের শামিল। এই পরিস্থিতিতে, নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাতহীনতার দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বের অন্যত্র সংঘটিত বৃহৎ বিক্ষোভগুলির প্রতিও ওএইচসিএইচআরের একই রকম গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”

    এদিকে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করার অনুমতি চেয়ে সিজেপির আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকালে মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পরই আটক করা হয় দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে (Delhi Detentions Remarks)।

    পুলিশের হাতে আটক হওয়া অধিকাংশকেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে এখনও ছাড়া হয়নি বলেই খবর (India Slams UN)।

     

  • Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আবহে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেই আটক করা হয়েছে সংগঠনের তিন প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। তাঁদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে (Ajinkya Shinde)। এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ব্যারিকেড, কাঁটাযুক্ত প্রতিবন্ধক এবং বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে রাজধানীকে (Cockroach Janta Party Protest)।

    অভিযোগ, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির দেড় হাজারেরও বেশি সমর্থককে। দলের নেতাদেরও দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর আটক করা হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগাঁওয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরার মতো আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।

    গ্রেফতারির আশঙ্কা (Ajinkya Shinde)

    গ্রেফতারির আশঙ্কা আগেই করেছিলেন দীপকে। সেই কারণে শুক্রবার রাতেই একটি ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন তিনি। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা যত দিন আটক থাকবেন, তত দিন যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক শিন্ডে।

    ভিডিওতে অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা যদি এই ভিডিওটা দেখছেন, তার অর্থ আমি, আশুতোষ ও সৌরভ—আমরা তিনজনই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছি। আমাদের পর এই আন্দোলনে অজিঙ্ক নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা যাঁরাই এই ভিডিওটি দেখছেন, তাঁরা এ বার থেকে অজিঙ্ক শিন্ডেকে অনুসরণ করুন। আমি, আশুতোষ ও সৌরভের পর উনিই এখান থেকে ককরোচ জনতা পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

    প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিপুল সংখ্যক কর্মী। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চল্লিশ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত আটকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কর্তব্যপথ সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিনিষেধের পাশাপাশি ট্রেন চলাচল নিয়েও নিয়ন্ত্রণের খবর সামনে এসেছে। দুপুর পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে কোনও ট্রেন প্রবেশ করবে না বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন (Ajinkya Shinde)।

    এমন পরিস্থিতিতেও আন্দোলনকারীদের পিছিয়ে না আসার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, “দিল্লি পুলিশ যদি আপনাদের আটকানোর চেষ্টা করে, তা হলে যেখানে আপনাদের আটকানো হবে, সেই জায়গাটাই আপনাদের যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।” দীপকে আটক হওয়ার পর তিনিই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    কেন ফের আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি?

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। সেই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ করেছে তারা। গত ২ অক্টোবর মুম্বইয়েও এই ইস্যুতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল।

    এ বার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হলেও, প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় দিল্লি পুলিশ সেই কর্মসূচির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদ্ধতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী দশ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের অভিযোগের জবাব দিতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। সেই দাবিতেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জারি রেখেছে সংগঠনটি।

    দিল্লিতে একের পর এক নেতা ও সমর্থক আটক হওয়ার পর আন্দোলন কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার। নেতৃত্বে অজিঙ্ক শিন্ডেকে সামনে রেখে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party Protest)। অন্যদিকে, প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে  (Ajinkya Shinde) ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে নিট-সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করল সুপ্রিম কোর্ট (SC)। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত তার সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে একই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যত্র দায়ের হওয়া একই ধরনের এফআইআরগুলির ক্ষেত্রেও সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে (NEET Protest)। তবে এই নির্দেশকে নিঃশর্তভাবে “সব এফআইআর বাতিল” হিসেবে দেখলে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বোঝা যাবে না।

    ‘সুপ্রিম’ শুনানি (SC)

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার তিন সদস্যের বেঞ্চ জুলাইয়ের ২০ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি করছিল।আদালত মনে করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া এবং অন্যান্য তরুণ-তরুণীদের শুধুমাত্র একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে বছরের পর বছর ফৌজদারি মামলার বোঝা বহন করা উচিত নয়। সেই কারণেই আদালতের সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যান্য জায়গায় দায়ের হওয়া একই ধরনের মামলাতেও এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে।

    তবে এই নির্দেশের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রেখেছে শীর্ষ আদালত।

    কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ ২,৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করেছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করে পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অতীতের তথ্য রয়েছে এবং তাঁরা প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন (SC)।

    এই ২,৮৭৩ জনকে নিয়ে দিল্লি পুলিশকে একটি নতুন এফআইআর দায়ের করে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে সেই তদন্তের বিষয় হবে বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁদের কেউ শারীরিক ক্ষতি বা সম্পত্তি ধ্বংসের মতো নির্দিষ্ট অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না।

    আদালতের অবস্থান

    বিষয়টি নিয়ে আদালতের অবস্থানও স্পষ্ট। ২,৮৭৩ জনকেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেনি সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা বলছি না যে তাঁরা অপরাধী। অভিযোগ রয়েছে, এই পর্যন্ত।”

    অর্থাৎ, শুধু ওই ব্যক্তিরা বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বলেই তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে না। নতুন করে যে তদন্ত হবে, তার কেন্দ্রে থাকতে হবে হিংসা, শারীরিক ক্ষতি অথবা সম্পত্তি নষ্ট করার মতো নির্দিষ্ট অপরাধমূলক কাজ।

    ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে মামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও বলা যায় না, আবার সব ধরনের অভিযোগ থেকে নিঃশর্ত অব্যাহতি দেওয়াও বলা যায় না।

    আদালতের অবস্থানের মূল বিষয় হল, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এবং সেই জমায়েতকে আড়াল করে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে দীর্ঘদিন ধরে ফৌজদারি মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করেছে আদালত। একই সঙ্গে হিংসা বা সম্পত্তি নষ্টের মতো নির্দিষ্ট অপরাধের তদন্তের সুযোগও রাষ্ট্রের হাতে রাখা হয়েছে।

    আরও একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত জানিয়েছে, ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্তটি এই মামলার সামনে থাকা বিশেষ পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এটিকে ভবিষ্যতের মামলায় অনুসরণযোগ্য নজির হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ফলে গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সব এফআইআর ভবিষ্যতে একইভাবে বাতিল করা যাবে—এমন সাধারণ নিয়ম এই রায় থেকে তৈরি হচ্ছে না।

    নিট বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আত্মহত্যা করে মারা যাওয়া পড়ুয়াদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন মাসের মধ্যে গোটা দেশের জন্য একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    ‘সুপ্রিম’ সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক

    সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তরুণ আন্দোলনকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে (NEET Protest)। তবে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত হতে পারে এমন নির্দিষ্ট হিংসাত্মক অপরাধ বা সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা তদন্তের বাইরে রাখা হয়নি। অর্থাৎ, আদালত (SC) যে সীমারেখা টেনেছে, তা হল গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ একদিকে এবং সেই প্রতিবাদের সময় সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আর একদিকে।

     

  • Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তরে হিংসার পর গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় বদল দিল্লি পুলিশের, বিক্ষোভের আগে ১০ তথ্য জোগাড়ের নির্দেশ

    Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তরে হিংসার পর গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় বদল দিল্লি পুলিশের, বিক্ষোভের আগে ১০ তথ্য জোগাড়ের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যন্তর মন্তরে গত ২০ জুলাইয়ের হিংসাত্মক পরিস্থিতি এবং তার পরবর্তী সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভের (Jantar Mantar Protest) জেরে নিজেদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বড় মাপের বিক্ষোভ, সমাবেশ কিংবা পরিকল্পিত জনজমাবেশের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি আরও জোরদার করতেই এই উদ্যোগ বলে (Mobilisation Funding) পুলিশ সূত্রে খবর। এখন থেকে কোনও বড় বা পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সূত্রের খবর, দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার গোয়েন্দা শাখা এবং বিশেষ শাখাকে এই বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু কোথায় বিক্ষোভ হবে, কখন হবে এবং আনুমানিক কত মানুষ সেখানে উপস্থিত হতে পারেন—এই প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। তার বদলে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, সংগঠন, নেতৃত্ব, সমাবেশের প্রস্তুতি, অংশগ্রহণকারীদের সার পদ্ধতি এবং স্থানীয় যোগাযোগ-সহ আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

    যন্তর মন্তরে জন জমাবেশ (Jantar Mantar Protest)

    গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তর এবং তার আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। প্রশ্ন ফাঁস এবং বিভিন্ন পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। এর পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

    এই ঘটনার পর দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় আধিকারিকদের একাংশের মনে হয়েছে, বিক্ষোভের আগে অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য সংখ্যা, তাঁদের সংগঠিত করার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ও নির্ভুল আগাম তথ্য পুলিশের হাতে ছিল না। তাই পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে, তা যথেষ্ট নির্ভুলভাবে অনুমান করা সম্ভব হয়নি।

    এই অভিজ্ঞতার পরেই বিশেষ শাখাকে আরও বিস্তারিত এবং ব্যবহারযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনও বিক্ষোভের ক্ষেত্রে শুধু জনসমাগমের সম্ভাব্য আকার বা ঘটনাস্থলের তথ্য নয়, বরং বিক্ষোভের সামগ্রিক কাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে আলাদা করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কোন রাজ্য থেকে কত মানুষ আসছেন, তাঁদের কীভাবে সংগঠিত করা হচ্ছে, কারা তাঁদের নিয়ে আসছেন এবং বিক্ষোভের পিছনে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বা সংগঠকের ভূমিকা রয়েছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য, নির্দিষ্ট দাবি এবং আন্দোলনের কর্মসূচি সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হবে (Mobilisation Funding)।

    জোগাড় করা হবে যাবতীয় তথ্য

    বিক্ষোভকারীরা দিল্লিতে কোথায় থাকছেন, তাঁদের স্থানীয় যোগাযোগ কারা, দিল্লিতে তাঁদের কী ধরনের স্থানীয় সংযোগ রয়েছে—এই তথ্যও সংগ্রহ করবে পুলিশ। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং বিক্ষোভের সম্ভাব্য অর্থের উৎস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এত বড় জমায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহণ, থাকা, খাবার এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হচ্ছে, সেই বিষয়েও নজর রাখা হবে।

    এক কথায়, দিল্লি পুলিশের নতুন গোয়েন্দা ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু “কোথায় বিক্ষোভ হবে” বা “কখন বিক্ষোভ হবে”—এই দু’টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা নয়। বরং বিক্ষোভের পিছনে কারা রয়েছেন, কারা মানুষকে সংগঠিত করছেন, কোন কোন এলাকা বা রাজ্য থেকে মানুষ আসছেন, তাঁদের স্থানীয় যোগাযোগ কারা, কোন সংগঠনগুলি যুক্ত এবং কীভাবে গোটা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করাই এখন পুলিশের লক্ষ্য (Jantar Mantar Protest)।

    বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে ফিল্ড লেভেলে থাকা পুলিশকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান নিশ্চিত করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্ষোভের সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছনো এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দ্রুত নীচে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গোটা বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় যে সমস্ত ত্রুটি বা ঘাটতি ধরা পড়েছে, সেগুলি দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    পুলিশের লক্ষ্য

    পুলিশের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য অবশ্য কোনও ধরনের বিক্ষোভ বন্ধ করা নয় বলেই সূত্রের দাবি। বড় জনসমাবেশের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে যে সমস্ত বিক্ষোভে দিল্লির বাইরের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ আসেন অথবা একাধিক সংগঠন একই কর্মসূচিতে যুক্ত থাকে, সেগুলির ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

    যন্তর মন্তরের ২০ জুলাইয়ের ঘটনা দিল্লি পুলিশের কাছে বড় ধরনের শিক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিপুল জনসমাগমের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করাই যথেষ্ট নয়—সমাবেশের আকার, অংশগ্রহণকারীদের উৎস, সংগঠকদের ভূমিকা, আন্দোলনের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম নির্ভুল তথ্য থাকা জরুরি। সেই প্রয়োজন থেকেই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পুরনো পদ্ধতিকে আরও বিস্তৃত এবং কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (Jantar Mantar Protest)।

    নতুন ব্যবস্থায় বিক্ষোভের আগে পাওয়া তথ্যকে একাধিক স্তরে বিশ্লেষণ করা হবে। এর ফলে কোনও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, কোথায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন এবং কোন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে—সেই সব বিষয়ে পুলিশের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে (Mobilisation Funding)।

    বদলাতে পারে দিল্লি পুলিশের কৌশল

    দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে বড় বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ পরিচালনায় তাদের কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষত দিল্লির বাইরে থেকে আসা বিপুল জনসমাগম এবং একাধিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির ক্ষেত্রে আগাম তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যন্তর মন্তরের ঘটনার পর পুলিশের লক্ষ্য এখন একটাই—পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পরে (Mobilisation Funding) ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে, সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও বেশি করে প্রস্তুত থাকা (Jantar Mantar Protest)।

     

LinkedIn
Share