Tag: Delhi

Delhi

  • India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে বড়সড় পালাবদল ঘটেছে ভারতের (India-Canada Ties)। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি থেকে ভারত পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্তে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (FY2026) কানাডা থেকে ভারতের (India-Canada Bilateral Trade) আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে ভারতের রফতানি বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্যের ভিত্তিতে রুবিক্স ডেটা সায়েন্সেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডা থেকে ভারতের আমদানি আগের বছরের তুলনায় ২৬.১ শতাংশ কমে ৩৩০ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, কানাডায় ভারতের রফতানি ১০.৬ শতাংশ বেড়ে ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই আবহে আমেরিকার সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং দুদেশের মধ্যে শুরু হওয়া ট্যারিফ যুদ্ধের আবহে ভারতের সামনে বড় সুযোগ খুলল। দুদেশের অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে অনেকটাই এগোল ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোচনা।

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-এর কানাডা সফর

    এই পরিবর্তন এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ভারত ও কানাডা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২৫ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কানাডা ও আমেরিকা সফর করছেন। কানাডার অর্থ ও ন্যাশনাল রেভিনিউ মন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সঙ্গে প্রথম ভারত-কনাডা অর্থনৈতিক ডায়ালগ (India-Canada Economic and Financial Dialogue)-এও অংশ নেওয়ার কথা তাঁর। এই বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক ক্ষেত্রের সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

    বাণিজ্য ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্ত—কীভাবে?

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যের (India-Canada Bilateral Trade) এই পরিবর্তনের পিছনে মূল কারণ রফতানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নয়, বরং আমদানির উল্লেখযোগ্য পতন। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে কানাডায় ভারতের রফতানি ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ সালে তা কমে ৩৮০ কোটি ডলারে দাঁড়ালেও পরের বছর বেড়ে ৪২০ কোটি এবং ২০২৫-২৬ সালে তা ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছয়। অর্থাৎ ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬-এর মধ্যে ভারতের রফতানি বেড়েছে বার্ষিক গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ হারে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানি ২০২১-২২ সালে ৩১০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ৪৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। ২০২৪-২৫ সালে তা সামান্য কমে ৪৪০ কোটি ডলার হলেও ২০২৫-২৬ সালে বড় ধাক্কা খেয়ে নেমে আসে ৩৩০ কোটি ডলারে। ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৩-২৪ সালে যেখানে ছিল ৭০ কোটি ডলার, ২০২৪-২৫ সালে ২০ কোটি ডলার, সেখান থেকে ২০২৫-২৬ সালে ভারত ১৪০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্য বেড়েছে। বরং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের মোট পণ্য বাণিজ্য কমে ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৮৭০ কোটি ডলার। অর্থাৎ আমদানি যতটা কমেছে, রফতানি বৃদ্ধির পরিমাণ তার তুলনায় কম।

    কানাডায় কী বিক্রি করছে ভারত?

    ভারতের কানাডা-রফতানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হয়ে উঠেছে ওষুধ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট রফতানির প্রায় ১১ শতাংশ এসেছে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য থেকে। ২০২১-২২ সালে এই হার ছিল ৮ শতাংশ। এ ছাড়াও অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, হিরে, মূল্যবান ধাতুর গয়না এবং ক্রাস্টেশিয়ান জাতীয় সামুদ্রিক খাদ্য—প্রতিটি পণ্যশ্রেণি ভারতের রফতানিতে প্রায় ৩ শতাংশ করে অবদান রেখেছে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ডাল ও অন্যান্য শুকনো শুঁটি জাতীয় খাদ্যশস্য। ২০২৫-২৬ সালে কানাডা থেকে ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশ ছিল এই পণ্যগুলি। ২০২১-২২ সালে যা ছিল ১৩ শতাংশ। কানাডা থেকে বিমানের যন্ত্রাংশ ও মহাকাশযান-সংক্রান্ত পণ্যের অংশও বেড়েছে—৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে। পটাশিয়াম-ভিত্তিক সারের অংশ ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ। তবে কয়লার ক্ষেত্রে চিত্র উল্টো। ভারতের মোট কানাডিয় আমদানিতে কয়লার অংশ ২০২১-২২ সালে ১৫ শতাংশ থাকলেও ২০২৫-২৬ সালে তা কমে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া তামার আকরিক ও কনসেনট্রেটের অংশ ছিল প্রায় ৪ শতাংশ।

    আমেরিকা-কানাডা শুল্কযুদ্ধ

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার আরেকটি কারণ হয়ে উঠতে পারে আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে চলা শুল্ক সংঘাত। ২২ আগস্ট থেকে আমেরিকা কানাডার প্রায় ২৭৬০ কোটি ডলারের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাল্টা হিসেবে কানাডাও ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট মার্কিন পণ্যের উপর ১৫, ২৫ এবং ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। ইস্পাত, কৃষি সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পাল্প ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিক্স-সহ বিভিন্ন পণ্য এই শুল্কের আওতায় রয়েছে। ফলে মার্কিন পণ্য কানাডায় ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে কানাডিয় আমদানিকারকরা বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধান করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। রুবিক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বৃহৎ পণ্যশ্রেণিগুলিতে ভারত ইতিমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডায় প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সের রফতানি ছিল প্রায় ৩৭৯.৪৪ মিলিয়ন ডলার। লোহা ও ইস্পাতজাত পণ্য থেকে এসেছে ২৯২.৫১ মিলিয়ন ডলার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে ২২৬.০১ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া লোহা ও ইস্পাতের রফতানি ছিল ১০২.৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং কাগজ ও পেপারবোর্ডের রফতানি প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার।

    ১০০ কোটি ডলারের সুযোগ অনিশ্চিত

    আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাতের কারণে ভারতীয় রফতানিকারকদের সামনে সরাসরি ১০০ কোটি ডলারের নতুন বাজার খুলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই। কারণ, এই হিসেব করা হয়েছে পণ্যের বৃহৎ দুই-অঙ্কের হারমোনাইজড সিস্টেম (HS) ধরে। অন্যদিকে কানাডার পাল্টা শুল্ক প্রায় ৬২৯টি নির্দিষ্ট ট্যারিফ লাইনের উপর কার্যকর হবে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলি বাস্তবে কতটা লাভবান হবে তা নির্ভর করবে কোন পণ্য শুল্কের আওতায় পড়ছে, মার্কিন পণ্যের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের মূল্য কতটা প্রতিযোগিতামূলক, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা, কানাডার চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধের উপর। তবে আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাত এমন এক সময়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যখন ভারত ও কানাডা নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

    ভারত-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক

    ভারত ও কানাডা (India-Canada Ties) দুই দেশ বর্তমানে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (Comprehensive Economic Partnership Agreement বা CEPA) নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। জুলাইয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা হয়েছে। ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে দুই দেশের। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-কানাডা পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৫০০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, গত দুই বছরে ভারত-কানাডা বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। যে ভারত কিছুদিন আগেও কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতিতে ছিল, এখন সেই ভারতই কানাডায় অনেক বেশি পণ্য বিক্রি করছে, আমদানি করছে তুলনামূলকভাবে কম। সিইপিএ এবং আন্তর্জাতিক শুল্ক-সমীকরণের পরিবর্তনের মধ্যে আগামী দিনে এই বাণিজ্য সম্পর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।

  • Satyendar Jain: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র, জালে আরও ৫

    Satyendar Jain: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র, জালে আরও ৫

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের (Jal Board Corruption Case) অভিযোগে আম আদমি পার্টির নেতা এবং দিল্লির প্রাক্তন জলমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে (Satyendar Jain) গ্রেফতার করল দুর্নীতি দমন শাখা। অর্থ পাচার মামলায় ইতিমধ্যেই ১৮ মাস জেলে কাটিয়েছেন জৈন। তাঁর এই গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    যেসব অভিযোগে গ্রেফতার সত্যেন্দ্ররা (Satyendar Jain)

    এই মামলায় জৈন ছাড়াও আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক তথা আইএএস অফিসার উদিত প্রকাশ রাই, প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব এবং তিন বেসরকারি ব্যক্তি নাগেন্দ্র যাদব, রাজা কুমার কুররা ও পঙ্কজ বর্মা। দিল্লি দুর্নীতি দমন শাখার দাবি, ২০২৪ সালের ১১ মে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের সরকারের নজরদারি অধিদফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার সূত্রপাত। অভিযোগ, দিল্লি জল বোর্ডের অধীনে নিকাশি জল শোধনাগারের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য বিভিন্ন কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছিল। টেন্ডারের শর্ত বদলে দেওয়া, প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠেছে। মামলায় ঘুষ, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন শাখার বক্তব্য, তদন্তে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপির প্রাথমিক প্রমাণ সামনে আসার পরেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    আপের প্রশ্ন

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম হল সত্যেন্দ্র (Satyendar Jain)। দিল্লির জলমন্ত্রী থাকাকালীন জল বোর্ডের সঙ্গে তাঁর সরাসরি প্রশাসনিক যোগ ছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সময়কাল ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আম আদমি পার্টি। দলের নেতা ধান্ডা সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, “আর কত প্রমাণ দরকার যে বিজেপি আম আদমি পার্টিকে ভয় পায়?” তাঁর আরও প্রশ্ন, জৈন যখন ১৮ মাস জেলে ছিলেন, তখন তাঁর অনুপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া অনিয়মের জন্য তাঁকে কীভাবে দায়ী করা যায়? জৈনের গ্রেফতারির সঙ্গে আসন্ন পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকেও যুক্ত করেছে আম আদমি পার্টি। বর্তমানে পাঞ্জাবে দলের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে কাজ করছেন জৈন। দলের অভিযোগ, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এদিকে, দুর্নীতি দমন শাখা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও কারচুপির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তদের। মামলায় সত্যেন্দ্রকে দিল্লির প্রাক্তন জলমন্ত্রী, উদিত প্রকাশ রাইকে দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক এবং অঙ্কিত শ্রীবাস্তবকে প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নাগেন্দ্র, রাজা, এবং পঙ্কজকে এফআইআরে নাম থাকা সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    পুরো তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিকাশি জল শোধন পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ। ফলে অভিযুক্তদের (Satyendar Jain) রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ জনপরিকাঠামো প্রকল্পও (Jal Board Corruption Case) এই মামলাকে করে তুলেছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

     

  • Parliament Address: সংসদে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় রাজি শাহ, বাধা দেওয়া চলবে না, দেওয়া হল শর্ত

    Parliament Address: সংসদে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় রাজি শাহ, বাধা দেওয়া চলবে না, দেওয়া হল শর্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ২০ জুলাই দিল্লিতে “সংসদ চলো” মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী ও অন্যদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে সংসদে বক্তব্য (Parliament Address) রাখতে রাজি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তবে তাঁর বক্তব্য এবং পরবর্তী আলোচনা চলাকালীন বিরোধীরা কোনওরকম বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন না—সরকারের পক্ষ থেকে এমনই শর্ত দেওয়া হয়েছে।

    সরকারের তরফে শর্ত (Parliament Address)

    সোমবার কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “সরকারের দেওয়া প্রস্তাব একেবারেই স্পষ্ট। আমি জানিয়েছি, ছাত্র আন্দোলন এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যকলাপ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত।” সংসদের কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে চলে, তার ওপর জোর দিয়ে রিজিজু বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি বক্তব্য দেওয়ার সময় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “বিরোধীদের কাছে আমার একটাই কথা, তা অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেছি। আলোচনা এবং জবাব দেওয়ার সময় তাঁরা যেন কোনওধরনের বাধা সৃষ্টি না করেন, যাতে সংসদের কাজ ব্যাহত হয় বা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য রাখতে না পারেন। আলোচনা শুরু হলে আমাদের বিষয়টি খুঁটিনাটি পর্যন্ত আলোচনা করতে হবে।”

    সংসদের কাজে বাধায় ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের শশীও!

    কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করার পরেই রিজিজুর এই মন্তব্য সামনে এল (Parliament Address)। ঘটনার তদন্ত সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে করার দাবি জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন যেসব ছাত্রছাত্রী তাঁদের বিরুদ্ধে ছররা বন্দুক, পেরেক বসানো লাঠি এবং কাঁদানে গ্যাসের গোলা ব্যবহার করা হয়েছে। মহিলা ছাত্রছাত্রীদের পুলিশকর্মীরা মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, কয়েকজন নাবালকের হাড়ও ভেঙে গিয়েছে (Amit Shah)। ঘটনার পর থেকেই সংসদের অধিবেশন চলাকালীন বিরোধীরা বারবার প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখিয়ে কার্যকর্ম ব্যাহত করছেন। রবিবার কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। তাঁর বক্তব্য, সংসদের কাজ চলতে দেওয়া উচিত। বিরোধী সাংসদদের সংসদের ভিতরে বিক্ষোভ না দেখিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি (Parliament Address)।

     

  • Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) বিষয়টি উত্থাপন করে দাবি করেছে, চুক্তি নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক বা কার্যকর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তিতেই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সুস্পষ্ট ও বহুপাক্ষিক আইনি কাঠামো রয়েছে। ফলে সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। অতীতেও সীমান্তবর্তী নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধে, যেখানে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বিদ্যমান, সেখানে নিরাপত্তা পরিষদ হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে।

    ১৯৬০ সালের চুক্তিতেই বিরোধ মেটানোর পথ

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তিকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী জলবণ্টন চুক্তি হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বব্যাঙ্ক চুক্তির কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয়ে স্বাক্ষরকারী হলেও, চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ও ধাপে ধাপে এগোনোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছে পার্মানেন্ট সিন্ধু কমিশন (PIC), যেখানে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা করে। প্রযুক্তিগত বিষয়ে সমাধান না হলে নিউট্রাল এক্সপার্ট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আর জটিল আইনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিষয়টি কোর্ট অব আরবিট্রেশন-এ নিয়ে যাওয়ার বিধানও রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশ স্বেচ্ছায় এই কাঠামো মেনে চুক্তি স্বাক্ষর করায় বিরোধ মেটানোর প্রধান পথও এটিই। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মতো রাজনৈতিক মঞ্চে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি খুবই দুর্বল।

    রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    পাকিস্তান একাধিকবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং তাই বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের আওতায় আনা উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এবং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও আইনি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নেই বলেই মত তাঁদের।

    দ্বিপাক্ষিক অবস্থানেই অনড় ভারত

    ভারত বরাবরই জানিয়ে এসেছে, সিন্ধু জলচুক্তি সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সম্পূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক এবং চুক্তির নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই তার সমাধান হওয়া উচিত। নয়াদিল্লির মতে, এই চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তাই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা আন্তর্জাতিকীকরণের কোনও প্রয়োজন নেই। ভারতের এই অবস্থান তার দীর্ঘদিনের বিদেশনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলিতে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করা হয়।

    নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কেন কম?

    আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। কিন্তু যেখানে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, সেখানে সাধারণত নিরাপত্তা পরিষদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। উদাহরণ হিসেবে ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (GERD) সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা পরিষদ সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে বিদ্যমান আইনি ও আঞ্চলিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিল। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদে কোনও বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাশ করাতে সদস্য দেশগুলির ব্যাপক সমর্থনের পাশাপাশি স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো এড়ানোও জরুরি। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে এমন ঐকমত্য গড়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    আইসিজিতেও যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)-এ পাঠানোর সম্ভাবনাও খুবই কম। কারণ, আইসিজি সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলির সম্মতি ছাড়া কোনও মামলার বিচার করে না। পাশাপাশি সিন্ধু জলচুক্তিতে ইতিমধ্যেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের মূল্যায়ন, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘে বিষয়টি তুললেও সিন্ধু জলচুক্তির নির্ধারিত কাঠামোই বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান এবং কার্যকর পথ হিসেবে বহাল থাকবে। নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষে সেই ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য বা প্রতিস্থাপন করার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

    আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা

    ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভারত ও পাকিস্তান। ঠিক হয়, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ভারত ব্যবহার করবে। আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর অধিকাংশ জল যাবে পাকিস্তানে। এই জলের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহার করত পাকিস্তান। পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পরেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে ভারত। তখন থেকেই জল সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান। এই নিয়ে আগেই ভারতকে নিশানা করেছিল ইসলামাবাদ। সম্প্রতি এই ইস্যুতে ভারতকে ফের আক্রমণ করেছে পাকিস্তান। সিন্ধু জলচুক্তি পুনর্বহালের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।

  • PM Modi: যন্তর মন্তরে গালিগালাজ করা পড়ুয়াদের ক্ষমা করলেন প্রধানমন্ত্রী, শাস্তির বদলে ‘পথ দেখানোর’ বার্তা

    PM Modi: যন্তর মন্তরে গালিগালাজ করা পড়ুয়াদের ক্ষমা করলেন প্রধানমন্ত্রী, শাস্তির বদলে ‘পথ দেখানোর’ বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠা (PM Modi) পড়ুয়াদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত (Bharat) এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি জানান, ভুলের জন্য পড়ুয়াদের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ঠেলে না দিয়ে তাঁদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। শাস্তির পরিবর্তে তাঁদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য সমাজের কাছে আবেদন জানান তিনি।

    অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী জানান, যন্তর মন্তরের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েকজন পড়ুয়া অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছিল, তা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে… দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কিছু পড়ুয়া অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেছে। তারা আমাকে গালিগালাজ করেছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল।” তবে একই সঙ্গে পড়ুয়াদের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। তাঁর কথায়, “শিশুরা ভুল করে। আর শৈশব এমন একটি সময়, যখন তাদের সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত।”

    ‘শাস্তি নয়, পথ দেখান’

    অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যারা আমাকে গালিগালাজ করেছে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই। আমার এই সিদ্ধান্ত সমাজ মেনে নিক—এটাই আমার আবেদন।” নিজের বক্তব্য বোঝাতে একটি উদাহরণও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কখনও কখনও আমরা নিজের দাঁত দিয়ে অসাবধানতাবশত নিজের জিভ কামড়ে ফেলি এবং রক্ত বের হয়। কিন্তু আমরা দাঁত ভেঙে ফেলি না। কারণ দাঁত এবং জিভ—দু’টিই আমাদের নিজের।” অভিযুক্ত পড়ুয়াদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে তাঁদের আপন করে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “তারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছিল। তাদের সঠিক পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব। তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতের চক্করে ঘোরানো বা সামাজিকভাবে হেনস্থা করা—কোনও কিছুতেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।”

    জিরো এফআইআর

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্যেই ঘটনাটি ঘিরে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও সামনে এসেছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নয়ডার এক মহিলার বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে (PM Modi)। গাজিয়াবাদের এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে “অশালীন ও আপত্তিকর” ভাষা ব্যবহার করেছেন। এর ফলে জনমনে বিরোধ তৈরি করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্য ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ নম্বর ধারা—শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান, ৩৫৩(১) নম্বর ধারা—জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন বক্তব্য এবং ৩৫৬(১) নম্বর ধারা—মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের জন্য মামলাটি সংসদ মার্গ থানায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে। অভিযোগের ঘটনাস্থল যে থানার আওতায়ই পড়ুক না কেন, দেশের যে কোনও থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করা যায়। পরে সেটি সংশ্লিষ্ট এলাকার এক্তিয়ারভুক্ত থানায় তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এই ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করে মামলাটি সংসদ মার্গ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    ‘ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ো’

    পড়ুয়াদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের দেশের অগ্রগতির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, “আসুন, দেশের জন্য আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই। নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিই এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলি (Bharat)। ভারত দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আমি চাই, আপনাদের প্রত্যেকেও একইভাবে এগিয়ে যান।”  ভিডিয়োর শেষে তিনি বলেন, “গালিগালাজ কখনও কোনও সমস্যার সমাধান করে না। যারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে, তাদের সঠিক পথ দেখাই। একসঙ্গে কাজ করি। ভারতের জন্য কাজ করি।”

    নিট বিক্ষোভের অবসান

    দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা বিক্ষোভ ২৫ জুলাই শেষ হয়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে হাজার হাজার পড়ুয়া অংশ নেন। উদ্ভাবক-সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও ২৬ দিনের অনশনের সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদেই এই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল (PM Modi)। আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বিক্ষোভকারীদের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছিল। পরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো-সহ একাধিক (Bharat) গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে কেন্দ্র সরকার সম্মতি জানালে আন্দোলন প্রত্যাহার করে (PM Modi) নেয় ককরোচ জনতা পার্টি।

     

  • Elderly Man Confronts: যন্তর মন্তরে ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভের তাল কেটে দিলেন প্রবীণ, সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার বদলে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রবীণ

    Elderly Man Confronts: যন্তর মন্তরে ‘আরশোলা’দের বিক্ষোভের তাল কেটে দিলেন প্রবীণ, সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার বদলে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রবীণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে (CJP) ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে (Elderly Man Confronts)। বিক্ষোভ মঞ্চে সরকারবিরোধী বার্তা তুলে ধরতে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে সামনে আনা হয়েছিল। তবে তিনি সরকার-বিরোধী কিছু না বলে, উল্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়ায় পুরো পরিস্থিতি নেয় নাটকীয় মোড়। ঘটনায় সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং তাঁর সমর্থকরা অস্বস্তিতে পড়ে যান।

    ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে হাজির প্রবীণ (Elderly Man Confronts)

    জানা গিয়েছে, যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলাকালীন হুইলচেয়ারে করে এক প্রবীণ ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন। তাঁকে দেখে বিক্ষোভকারীদের একাংশ মনে করেন, তিনি সম্ভবত সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখবেন। সেই প্রত্যাশা থেকেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ নিজেই মঞ্চ থেকে নেমে এসে ওই প্রবীণকে স্বাগত জানান এবং তাঁকে বিক্ষোভকারীদের কাছে নিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে মঞ্চের সামনে আনার পর বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁকে ঘিরে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করেন। অভিযোগ, তাঁরা সরাসরি “মোদি চোর” বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন, এবং ওই প্রবীণ ব্যক্তিকেও সেই স্লোগানে গলা মেলাতে পীড়াপীড়ি করছিলেন।

    চুপ!

    ঘটনার মোড় ঘুরে যায় ঠিক সেই মুহূর্তেই। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সুর মেলানোর পরিবর্তে ওই প্রবীণ ব্যক্তি তাঁদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একদম চুপ করে থাকুন। প্রধানমন্ত্রী মোদি চোর নন।” তিনি (Elderly Man Confronts) আরও বলেন, “নরেন্দ্র মোদি তোমাদের বয়সের থেকেও বেশি সময় ধরে দেশের সেবা করে চলেছেন। তিনি বারো বছর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তারপর থেকে টানা দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি একজন সৎ মানুষ।” প্রবীণ ব্যক্তির এই মন্তব্যে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত লোকজন হকচকিয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই বিক্ষোভের পরিবেশ বদলে যায়। যাঁরা তাঁর কাছ থেকে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রত্যাশা করেছিলেন, তাঁদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলেই খবর। শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায়ই থেমে থাকেননি তিনি। দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ব্যবস্থার ভেতরে বসে থাকা কিছু মানুষের কারণেই নরেন্দ্র মোদির নাম খারাপ হচ্ছে। তোমরা এই ধরনের কথা বলে বোকামি করছ।” এই মন্তব্যের পর বিক্ষোভ মঞ্চে কিছু সময়ের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিজিৎ এবং তাঁর সমর্থকেরা কার্যত নীরব হয়ে যান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও দেখা যায়, প্রবীণ ব্যক্তির বক্তব্যের সময় উপস্থিত অনেকেই হাঁ করে তাঁর কথা শুনছেন।

    ভাইরাল ভিডিওয় ইউজারদের প্রতিক্রিয়া

    এমন ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউজারদের একাংশের দাবি, ওই প্রবীণ ব্যক্তি নিজের মত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করেছেন, এবং রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। আর একাংশের বক্তব্য, একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে গোটা বিক্ষোভ কর্মসূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। প্রসঙ্গত, যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন (Elderly Man Confronts) ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতিবাদস্থল হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে নানা দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নয়া সংযোজন ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি পালনও। অবশ্য ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ওই প্রবীণ ব্যক্তির পরিচয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ভিডিও এবং ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও মেলেনি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে কোনও জনসমাবেশ বা বিক্ষোভে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনাগুলি মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং তা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে (CJP) সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট না জেনে শুধুমাত্র ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শও দিচ্ছেন তাঁরা।

     

  • Baby Trafficking: দিল্লিতে নবজাতক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস, হাসপাতাল মালিক-সহ গ্রেফতার ৪

    Baby Trafficking: দিল্লিতে নবজাতক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস, হাসপাতাল মালিক-সহ গ্রেফতার ৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাত্র চার-পাঁচ দিনের নবজাতককে দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে কিনে বা বিভিন্নভাবে জোগাড় করে কয়েক লক্ষ টাকায় নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে বিক্রি (Baby Trafficking) করত একটি পাচারচক্র। দিল্লি পুলিশের অভিযানে সেই চাঞ্চল্যকর শিশু পাচার চক্রের পর্দাফাঁস হয়ে (Delhi) গিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে বেসরকারি ওই হাসপাতালের মালিক-সহ ৪জনকে। উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ নবজাতককে।

    শিশুর দর (Baby Trafficking)

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশু কন্যা হলে বিক্রি হত ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায়, ছেলে হলে এটাই হয়ে যেত ডবল। পুত্র শিশুকে বিক্রি করা হত ৬ থেকে ৮ লাখ টাকায়। গরিব পরিবারের কাছ থেকে কন্যাশিশুকে প্রায় ১ লাখ এবং ছেলে শিশুকে প্রায় ২ লাখ টাকার বিনিময়ে জোগাড় করা হত বলেই জেনেছেন তদন্তকারীরা।

    কীভাবে পর্দাফাঁস?

    মধ্য দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার এক বাসিন্দা পুলিশকে জানান, এক মহিলা নিয়মিত এলাকায় বিভিন্ন নবজাতককে নিয়ে আসছেন এবং প্রতিবারই শিশুটি আলাদা। সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের এক মহিলা অফিসার ক্রেতা সেজে ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে একটি শিশুর জন্য চুক্তি হয়। শিশুটি হস্তান্তরের সময় অভিযুক্ত জ্যোতি ওরফে কমলেশকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। কমলেশকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে (Baby Trafficking), রাজস্থান ও গুজরাটের দরিদ্র পরিবার থেকে নবজাতক সংগ্রহ করে সেগুলি দিল্লির মাধ্যমে হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশের নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে বিক্রি করা হত। এরপর একে একে গ্রেফতার করা হয় শালু, ললিত, প্রতিভা ও বিপিনকে। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা নগদও উদ্ধার হয়েছে। দু’সপ্তাহের তদন্তের পর এক মাসেরও কম বয়সী পাঁচ শিশুকে (Delhi) উদ্ধার করে পুলিশ।

    পাচারচক্রের প্রধান পীঠস্থান

    তদন্তকারীরা জেনেছেন, পশ্চিম দিল্লির রোহিণীর বেগমপুর এলাকায় অবস্থিত হীরা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল এই পাচারচক্রের প্রধান পীঠস্থান হিসেবেই কাজ করত। হাসপাতালের মালিক বিবেকীই এই পাচারচক্রের মূল হোতা বলেই দাবি পুলিশের। অভিযোগ, হাসপাতালেই শিশুদের রাখা হত, পরে সুযোগ বুঝে মা এবং সেখান থেকেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হতো। পাশাপাশি জন্মসনদ, প্রসব সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য সরকারি কাগজপত্র (Baby Trafficking) জাল করে দেখানো হত যে, শিশুগুলির জন্ম হয়েছে ওই হাসপাতালেই। পুলিশ গুজরাটের সাবরকাঁঠা থেকে সবাভাই ঘামার ওরফে কালিয়াকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে রাজস্থানের পালি ও গুজরাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরিব পরিবারের নবজাতক সংগ্রহ করে দিল্লির এই চক্রের হাতে তুলে দিত।

    জৈবিক বাবা-মায়ের খোঁজ

    পুলিশ এখন উদ্ধার হওয়া শিশুদের জৈবিক বাবা-মায়ের খোঁজ করছে। যদি প্রমাণিত হয় যে তারা স্বেচ্ছায় সন্তান বিক্রি করেছেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, গত এক বছরে অন্তত ৩০ জন নবজাতককে পাচার করেছে এই চক্র। ইতিমধ্যেই হরিয়ানার পানিপথ এবং মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রের কয়েকজন ক্রেতা দম্পতিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে (Baby Trafficking)।জানা গিয়েছে, এক দম্পতিকে একটি ছেলে ও একটি শিশুকন্যা ‘যমজ’ বলে পরিচয় দিয়ে মোট ৯ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। পরে (Delhi) জানা যায়, শিশুদুটি আলাদা আলাদা জায়গা থেকে জোগাড় করা হয়েছিল, তারা আদৌ যমজ ছিল না। উদ্ধার হওয়া পাঁচ নবজাতককে আপাতত চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) তত্ত্বাবধানে পালনা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেই খবর (Baby Trafficking)।

     

  • ISI Terror Plot: পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার ৯ জঙ্গি

    ISI Terror Plot: পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার ৯ জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানভিত্তিক একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ন’জন জঙ্গিকে (ISI Terror Plot) গ্রেফতার করল দিল্লি (Delhi) পুলিশের স্পেশাল সেল। তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই এবং মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিছু এলিমেন্টের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁরা জানান, অভিযুক্তরা দিল্লি, মুম্বই এবং দেশের অন্যান্য বড় শহরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।

    কলকাঠি নাড়া হচ্ছিল সীমান্তের ওপার থেকে (ISI Terror Plot)

    তদন্তকারীদের দাবি, এই গোষ্ঠী সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাজ করছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত করা। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ সেলের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্র ও বিস্ফোরক। উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে উন্নতমানের পিস্তল, গ্রেনেড এবং জঙ্গি কার্যকলাপ চালাতে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস।

    পাক-সমর্থিত অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা পাক-সমর্থিত অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে নির্দেশনা পাচ্ছিল। আধিকারিকদের সন্দেহ, এই চক্রটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল (ISI Terror Plot)। সূত্রের খবর, ধৃতরা দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও পাঞ্জাব-সহ বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা। এদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশিও রয়েছে।  তবে পুলিশ এখনও তাদের পরিচয় এবং তারা কোন দেশের নাগরিক, তা জানায়নি (Delhi)। তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের সঙ্গে মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্ভাব্য সম্পর্কও খতিয়ে দেখছেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অনুমান, এই নেটওয়ার্কটি লজিস্টিক সহায়তা, অর্থায়ন এবং গোষ্ঠীর সদস্যদের চলাচলের জন্য অপরাধ চক্রের সাহায্য নিতে পারে।

    স্ক্যানারে চক্রের নেটওয়ার্ক

    স্পেশাল সেল বর্তমানে অর্থের উৎস ও প্রবাহ, যোগাযোগের রেকর্ড এবং এই চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই চক্রের আরও কেউ সক্রিয় রয়েছে কি না। অভিযুক্তরা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলির রেকি করেছে কি না (ISI Terror Plot)। তদন্তকারীরা এই অভিযানকে সম্ভাব্য একটি জঙ্গি ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য বলে বর্ণনা করেছেন। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নেটওয়ার্কটির ব্যাপ্তি এবং সীমান্তপারের যোগাযোগের যে অভিযোগ উঠেছে, তার মাত্রা মূল্যায়ন করে চলেছে (Delhi)। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধারকরা সামগ্রী বিশ্লেষণ করে পুলিশ আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (ISI Terror Plot)।

     

  • Donald Trump: “আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় ভক্ত”, লাইভ ফোন কলে বললেন ট্রাম্প, হঠাৎ কী হল ‘পোটাস’-এর?

    Donald Trump: “আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় ভক্ত”, লাইভ ফোন কলে বললেন ট্রাম্প, হঠাৎ কী হল ‘পোটাস’-এর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) বড় ভক্ত”। কথাগুলি বললেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে সরাসরি নয়, ফোনে। ঘটনাটি খুলেই বলা যাক। বর্তমানে ভারত সফর করছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। কলকাতা সফর সেরে তিনি গিয়েছেন দিল্লিতে। সেখানেই মার্কিন স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল অনুষ্ঠানের। এই অনুষ্ঠানে লাইভ ফোন কলে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উপস্থিত ছিলেন রুবিও-ও। এই অনুষ্ঠানেই ট্রাম্পের মুখে শোনা গেল মোদি-প্রশস্তি। ট্রাম্প বলেন, “সার্জিও, আপনাকে আমাদের দেশের প্রতিনিধি হতে হবে। তবে আমি সবাইকে শুধু শুভেচ্ছা জানাতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। মোদি অসাধারণ। তিনি আমার বন্ধু।”

    ‘আমি মোদির বড় ভক্ত’ (Donald Trump)

    অনুষ্ঠানস্থলে দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছিল এক বিশাল স্ক্রিন। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন গর এবং রুবিও। ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনও এত ঘনিষ্ঠ ছিল না। ভারত শতভাগ আমার এবং আমাদের দেশের ওপর ভরসা করতে পারে। যদি তাদের কোনও সাহায্য লাগে, তারা জানে কোথায় ফোন করতে হবে। তারা এখানেই ফোন করবে। আমরা খুব ভালো করছি। আমরা একের পর এক রেকর্ড গড়ছি।” তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতি রেকর্ড পর্যায়ে, শেয়ার বাজারও রেকর্ড উচ্চতায়। ভারত যা চাইবে, তা-ই পাবে। আর আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির একজন বড়, খুব বড় ভক্ত।”

    মোদিকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ

    রুবিওর প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “তিনি (রুবিও) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা বিদেশসচিব হিসেবে পরিচিত হবেন। যখন আপনার সঙ্গে মার্কো এবং সার্জিওর মতো মানুষ থাকেন, তখন আপনি বড় ধরনের কাজই পাবেন।” তিনি বলেন,
    “আমি জানি আপনি আমাদের ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সবাই সন্ধেটা উপভোগ করুন। প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো আমার কাছে সম্মানের। আর তাঁকে জানিয়ে দিন যে, আমি তাঁর বড় ভক্ত।” শনিবার সার্জিও, ট্রাম্পের (Donald Trump) পক্ষ থেকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণও জানান।

    দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি

    প্রসঙ্গত, রুবিওর ভারত সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন আমেরিকায় বড় ধরনের অভিবাসন নীতির পরিবর্তন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে (PM Modi)। নয়া নীতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত বহু অভিবাসীকে দেশ ছেড়ে নিজ দেশের বাইরে থেকে ফের একবার গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে। এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে রুবিও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, যা উভয় দেশের পক্ষেই উপকারী, স্থিতিশীল এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।” রুবিও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করেন। উভয় পক্ষের এই আলোচনায় (Donald Trump) বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো বিষয়ও উঠে এসেছিল।

    ভারত প্রধান বাণিজ্য অংশীদার

    বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর এই সফরের উদ্দেশ্য হল, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আস্থা আরও জোরদার করা এবং একটি বিস্তৃত বাণিজ্য কাঠামোর আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। রুবিও বলেন, “এটি ভারতের বিরুদ্ধে কিছু নয়।” তাঁর মতে, বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের ঐতিহ্যগত মিত্রদের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা করছে। তিনি বলেন, “ভারত একটি বিশাল অর্থনীতি এবং আমাদের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। ভারতের সঙ্গে আমাদের বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য রয়েছে (PM Modi)। এত বড় অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্যের ভারসাম্য পুনর্গঠন করাও স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন ধরনের বিষয় (Donald Trump)।”

     

  • Modi-Suvendu Meeting: পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Modi-Suvendu Meeting: পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Modi-Suvendu Meeting)। মুখ্যমন্ত্রীর হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম দিল্লি সফর। শুক্রবার দিনভর দিল্লিতে একাধিক কর্মসূচি ছিল তাঁর। বিকেলের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রীর হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি তুলে দেন তিনি। তাতে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা রয়েছে। এ ছাড়াও মোদির হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং আগামী দিনে রাজ্যের অগ্রগতির রূপরেখা নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের খবর, বাংলায় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সমন্বয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

    ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এ পশ্চিমবঙ্গ

    মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পরে শুভেন্দু এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সেবা করার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই আমার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। তাঁর উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং সর্বোপরি, আমাদের রাজ্যের অগ্রগতির প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকারের জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনার সময়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে, সবার বিকাশ) এই রূপকল্পের উপর পুনরায় জোর দেন এবং পুনর্ব্যক্ত করেন যে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বছরের পর বছর ধরে চলা স্থবিরতা থেকে পশ্চিমবঙ্গকে উদ্ধার করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং যুব ক্ষমতায়নের দ্রুত পথে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য, নির্দেশনা এবং কেন্দ্রীয় সমর্থনের আশ্বাস দেওয়ায় আমি তাঁর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ। কেন্দ্রের আশীর্বাদ এবং জনগণের আস্থায়, আমরা পশ্চিমবঙ্গের জন্য দ্বৈত-ইঞ্জিন প্রবৃদ্ধি, স্বচ্ছ শাসন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের এক নতুন যুগের সূচনা করতে প্রস্তুত’।

    রাজনাথের প্রশংসা

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম বার নয়াদিল্লি গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার ১০টা নাগাদ রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। দেখা করেন উপরাষ্ট্রপতি, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গেও। দেখা করেন সুনীল বনশালের সঙ্গেও। শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে রাজনাথ সিং লেখেন, “বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা হল। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন ব্যক্তি তিনি। শুভেন্দু বাংলাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলেই আমি আত্মবিশ্বাসী।” শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

    রীতি মেনে মোদি-শুভেন্দু সাক্ষাত

    গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীও। তার পরে বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন মোদি। তিনি দেশে ফেরার পরেই তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, বিজেপির রীতি অনুযায়ী, দলের কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। নিজের রাজ্যের দাবিদাওয়া তাঁর কাছে তুলে ধরেন। মনে করা হচ্ছে, সেই রীতি মেনেই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি শাসিত সরকারকে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের উন্নয়নের গতিপথ কোন দিশায় এগোবে, সে বিষয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ পরামর্শ দেন মোদি।

    বাংলার উন্নতিতে ডবল ইঞ্জিন সরকার

    রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে শুভেন্দুর সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে। নির্বাচনী প্রচারে এসে মোদির দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। মনে করা হচ্ছে, নতুন সরকার কী কী কাজ করেছে এখনও পর্যন্ত তাঁর হিসেবও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমানে ঋণের ভারে জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজ্যের আয়ের বড় অংশই ঋণের সুদ ও কিস্তি শোধে ব্যয় হচ্ছে। এই আবহে রাজ্যের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা মেটানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রের পরবর্তী ভাবনা এবং সে ক্ষেত্রে রাজ্যের আশু কর্তব্য কী হতে পারে, তা-ও এই আলোচনায় উঠে এসেছে, বলে খবর। এ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প স্থাপন-সহ অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে বড়সড় বিনিয়োগ টানতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আগামী দিনে কীভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে, তা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে সদর্থক আলোচনা হয়।

LinkedIn
Share