Tag: Delhi

Delhi

  • India Bangladesh Relation: ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বরফ গলছে, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ভিসা পরিষেবা

    India Bangladesh Relation: ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বরফ গলছে, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ভিসা পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর আবারও সম্পর্কের উন্নতির পথে হাঁটছে ভারত ও বাংলাদেশ (India Bangladesh Relation)। মহম্মদ ইউনূসের পরবর্তী জমানায় ঢাকায় নতুন সরকারের গঠন ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দুই দেশ ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের স্বার্থে সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করেছে। অন্যদিকে, ভারত সরকারও ধাপে ধাপে তাদের ভিসা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতীয়দের জন্য ভিসা পরিষেবা পুরোপুরি চালু

    বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের ভিসা সেন্টারগুলো এখন পুরোপুরি কার্যকর। বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ (Riaz Hamidullah) জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বর মাসে যে পরিষেবাগুলি বন্ধ হয়েছিল, সেগুলি ফেব্রুয়ারি থেকেই ধাপে ধাপে চালু হয়েছে। গত দুই মাসেই ১৩ হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিককে পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা এবং পারিবারিক কারণে ভিসা দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন থেকে ফের ভারতীয় নাগরিকেরা বাংলাদেশের ভিসা পাবেন। ভিসা ও দূতাবাস সংক্রান্ত (কনস্যুলার) অন্যান্য সুযোগসুবিধা ভারতীয়দের জন্য ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।

    ভেবেচিন্তে এগোচ্ছে ভারতও

    বাংলাদেশ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলেও ভারত এখনও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ বর্তমানে আগের তুলনায় মাত্র ১৫–২০ শতাংশ হারে চলছে। জরুরি ও চিকিৎসাজনিত আবেদনগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের সফরে এসে ভিসা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman)। এর কিছুদিন পরই ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি (Vikram Misri) ঢাকায় যান। তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভিসা পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এছাড়া নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর (Dinesh Trivedi) নিয়োগ এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে নানাবিধ অশান্তির প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের ভিসা পরিষেবায় কড়াকড়ি করেছিল। কেবল চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ‘ডবল-এন্ট্রি’ ছাড়া বাকি সব ধরনের ভিসা পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল অনির্দিষ্ট কালের জন্য। তবে এ বার সেই পরিষেবাও চালু হচ্ছে। সে দেশে অবস্থিত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন, ভিসা পরিষেবা চালু করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

    ফের পর্যটনে সাড়া

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম বড় বিদেশি পর্যটক উৎস। ২০২৩ সালে প্রায় ২১.২ লক্ষ বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়ায় ১৭.৫ লক্ষে। তবে ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংখ্যা তীব্রভাবে নেমে আসে প্রায় ৪.৭ লক্ষে। চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো শহরে ভারতীয় মিশনের সামনে বিক্ষোভের জেরে পরিষেবা কমানো হয়েছিল। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভিসা পরিষেবা সহজ করা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রথম ধাপ। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিচ্ছে দুই দেশ। সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সময় বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত ডিজেল সরবরাহ করেছে। সব মিলিয়ে, নয়াদিল্লি ও ঢাকা—দুই পক্ষই সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

  • Raghav Chadha: আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন সাংসদ রাঘব চাড্ডা, সঙ্গে কারা?

    Raghav Chadha: আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন সাংসদ রাঘব চাড্ডা, সঙ্গে কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন সাংসদ রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)। রাজ্যসভায় ডেপুটি লিডারের পদ থেকে অপসারণকে কেন্দ্র করে আম আদমি পার্টির সঙ্গে প্রকাশ্যে বিরোধ বাঁধে রাঘবের। তার (PM Modi) পরেই শুক্রবার তিনি ঘোষণা করেন, পদ্মশিবিরে যাচ্ছেন তিনি।

    চাড্ডার বক্তব্য (Raghav Chadha)

    দিল্লিতে সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তলের সঙ্গে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চাড্ডা বলেন, “আপের রাজ্যসভার দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ সাংবিধানিক বিধান প্রয়োগ করে বিজেপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, রাজ্যসভায় আপের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য হিসেবে আমরা ভারতের সংবিধানের বিধান প্রয়োগ করে নিজেদের বিজেপির সঙ্গে একীভূত করছি।” সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তলও আপ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। তাঁরাও জানিয়ে দেন, বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তাঁরা।

    মূল নীতি থেকে সরে গিয়েছে আপ

    নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে চাড্ডা বলেন, “যে দলটিকে আমি রক্ত-ঘামে গড়ে তুলেছিলাম, সেটি তার মূল নীতি থেকে সরে গিয়েছে। তিনি বলেন, যে দলে আমি আমার যৌবনের ১৫ বছর দিয়েছি, তা তার নীতি, মূল্যবোধ এবং মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এখন এই দল দেশবাসীর স্বার্থে কাজ না করে ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করছে… গত কয়েক বছর ধরে আমি অনুভব করছিলাম যে আমি ভুল দলে সঠিক মানুষ (PM Modi)। তাই আজ আমরা ঘোষণা করছি যে আমি আপ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে জনতার কাছাকাছি যাচ্ছি (Raghav Chadha)।”

    চাড্ডা বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী, একটি দলের মোট সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশ অন্য দলে যোগ দিতে পারেন। আমরা আজ এই বিষয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণনের কাছে চিঠি জমা দিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিও দিয়েছি।” প্রবীণ এই নেতা বলেন, “আমি আপনাদের আসল কারণ বলছি কেন আমি দলীয় কার্যকলাপ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম। আমি তাদের অপরাধের অংশ হতে চাইনি। আমি তাদের বন্ধুত্বের যোগ্য ছিলাম না, কারণ আমি তাদের অপরাধে অংশ নিইনি। আমাদের সামনে দুটি পথ ছিল—একটি হল রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া এবং গত ১৫-১৬ বছরের জনসেবামূলক কাজ ত্যাগ করা, অথবা আমাদের শক্তি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে ইতিবাচক রাজনীতি করা। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে রাজ্যসভায় আপের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য হিসেবে আমরা ভারতীয় সংবিধানের বিধান মেনে বিজেপিতে যোগ দেব (Raghav Chadha)।”

    চাড্ডা বলেন (Raghav Chadha), “রাজ্যসভায় আপের মোট ১০ জন সাংসদ রয়েছেন, এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। তাঁরা স্বাক্ষর করেছেন এবং আজ সকালে আমরা সেই স্বাক্ষরিত চিঠি ও নথি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছি। এখানে উপস্থিত তিনজন ছাড়াও হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহনি এবং স্বাতী মালিওয়াল আমাদের সঙ্গে আছেন।” প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতে রাঘব ইনস্টাগ্রামে ‘ভয়েস রেজড, প্রাইস পেড’ শিরোনামে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে সংসদে বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করার তাঁর ক্লিপগুলোর সংকলন দেখানো হয়েছে। এটি তাঁর দলের সঙ্গে চলা বিরোধের মধ্যেই প্রকাশ করা হয়। পোস্টে তিনি বলেন, “যাঁরা আমার সংসদীয় কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি—আমার কাজই আমার হয়ে কথা বলবে (PM Modi)।”

    গত ২ এপ্রিল রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় চাড্ডাকে। অভিযোগ, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে জোরালোভাবে কথা বলা থেকে বিরত থাকছেন এবং তার বদলে ‘সফ্ট পিআরে’ যুক্ত হচ্ছেন। চাড্ডা এই অভিযোগগুলিকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি সংসদে মানুষের সমস্যাগুলি তুলে ধরতেই যাই, অশান্তি সৃষ্টি করতে নয়।” প্রসঙ্গত, উচ্চকক্ষ থেকে ডেপুটি লিডার পদ থেকে অপসারণের পর থেকে চাড্ডা সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও এবং পোস্ট শেয়ার করেছেন (Raghav Chadha)। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এই পদাবনতি তিনি চুপচাপ মেনে নেবেন না ((PM Modi))।

     

  • Delhi Terror Plot: খেলনা গাড়িতে বোমা! দিল্লি পুলিশের জালে ৪ জঙ্গি, রাজধানীতে হামলার ছক বানচাল

    Delhi Terror Plot: খেলনা গাড়িতে বোমা! দিল্লি পুলিশের জালে ৪ জঙ্গি, রাজধানীতে হামলার ছক বানচাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিকে লক্ষ্য করে এক বড় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা (Delhi terror plot) বানচাল করে দিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা ও বিহার থেকে চার ‘র‌্যাডিক্যালাইজড’ যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) এবং খেলনা গাড়িতে বোমা লাগিয়ে হামলা চালানোর সরঞ্জাম। পুলিশের অভিযোগ, তারা সংবেদনশীল স্থানগুলোর রেকি করেছিল, অনলাইন এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও লোককে নিয়োগের চেষ্টা করছিল এবং দিল্লিতে বড় ধরনের হামলার ছক কষছিল।

    বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ

    ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ও মহারাষ্ট্র এটিএস-এর যৌথ অভিযানে মুম্বইয়ের কুর্লা ও খাদাভলি এলাকা থেকে দুজনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তদন্তের সূত্র ধরে ওড়িশা ও বিহার থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। আটক চারজনের মধ্যে দুজনের নাম মোসাব আহদাম ওরফে কালাম কল্যাণ এবং মোহাম্মদ হামাদ কোল্লারা। তারা জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেএম) এবং আইএসআইএস-এর প্রভাবিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অনলাইনে ‘মিশন খিলাফত’ ও ‘সোলজার্স অফ জিহাদ’-এর মতো গ্রুপের মাধ্যমে তারা র‌্যাডিক্যালাইজড হয়েছে। টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলে জানা গিয়েছে।

    জঙ্গিদের লক্ষ্যে ছিল রাম মন্দির, সংসদ ভবন

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা খেলনা গাড়ির ভিতরে আইইডি লুকিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট এড়িয়ে ভিড়াক্রান্ত এলাকায় পৌঁছে হামলা চালানো। তারা দিল্লির সংবেদনশীল স্থানগুলোর রেকি করেছিল এবং আইইডি তৈরির প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে সংবেদনশীল নথি, ডিজিটাল চ্যাট, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ এবং একাধিক আইইডি। পুলিশের দাবি, ভুবনেশ্বরের শেখ ইমরান এমন কিছু অনলাইন গ্রুপ তৈরি করেছিল যেখানে “জিহাদ”, “খিলাফত” এবং সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে রাম মন্দির, সংসদ ভবন ও সামরিক স্থাপনা নিয়ে আলোচনা হত। অন্যদিকে, সোহেল একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালিয়ে যুবকদের উসকানি দিত এবং অর্থ সংগ্রহ করত। এছাড়াও, এক অভিযুক্ত দিল্লির লালকেল্লা-সহ কয়েকটি সংবেদনশীল স্থানে গিয়ে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে এই জঙ্গিদের ধরতে অভিযান চালায় স্পেশাল সেল।

    খেলনা গাড়ির মতো সাধারণ জিনিসে বিস্ফোরক

    এই গ্রেফতার দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, “অনলাইন র‌্যাডিক্যালাইজেশন এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। যুবকরা সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ ধরনের ছক কষছে। খেলনা গাড়ির মতো সাধারণ জিনিসকে অস্ত্র বানানোর চেষ্টা দেখে বোঝা যায়, জঙ্গিরা নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে।” তদন্তে আরও বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • Yashwant Verma: দিল্লির বাড়িতে মিলেছিল টাকার পাহাড়, অবশেষে ইস্তফা বিচারপতি ভর্মার

    Yashwant Verma: দিল্লির বাড়িতে মিলেছিল টাকার পাহাড়, অবশেষে ইস্তফা বিচারপতি ভর্মার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদীয় ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা (Justice Yashwant Varma)। বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল সরাসরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র (Justice Yashwant Varma Resignation) পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। দিল্লিতে বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে অবশেষে ইস্তফা দিলেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি যশবন্ত ভর্মা। জানা গিয়েছে, তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হয়েছিল, তবে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেওয়ায় সেই প্রক্রিয়ার আর প্রয়োজন রইল না।

    কেন বিতর্ক?

    ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ দিল্লির লুটিয়েন্স এলাকায় বিচারপতি ভর্মার সরকারি বাসভবনে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে গিয়ে দমকল কর্মীরা সার্ভেন্ট কোয়ার্টারের পাশে একটি স্টোররুম থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করেন। টাকার বেশিরভাগই আগুনে পুড়ে যাওয়ায় সঠিক অঙ্ক জানা যায়নি, তবে টাকার স্তূপ প্রায় দেড় ফুট উঁচু ছিল বলে জানা যায়। ঘটনার সময় বিচারপতি ভর্মা ও তাঁর স্ত্রী ভোপালে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া টাকা তাঁর নয় এবং তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাঁকে দায়ী করা যায় না।

    তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

    ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না-র কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে উদ্ধার হওয়া টাকার ছবি ও ভিডিওও সংযুক্ত ছিল। এরপর তাঁকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে সরিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করা হয়। পাশাপাশি তাঁকে কোনও বিচারিক কাজও দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। যদিও বিচারপতি ভর্মা সেই কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। হাজারো বিতর্কের মাঝে অবশেষে তিনি নিজে থেকেই বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।

    কী লেখা আছে পদত্যাগের চিঠিতে?

    রাষ্ট্রপতিকে লেখা সংক্ষিপ্ত অথচ গম্ভীর চিঠিতে বিচারপতি ভার্মা তাঁর এই সিদ্ধান্তের কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। তিনি লিখেছেন, “কেন আমি এই পদত্যাগপত্র দিতে বাধ্য হলাম, সেই কারণগুলো জানিয়ে আপনার দফতরকে ভারাক্রান্ত করতে চাই না। তবে অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে আমি এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। এটি অবিলম্বে কার্যকর করা হোক।”

     

     

     

     

     

  • Pratik Jain: কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় আইপ্যাক যোগ! প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিংকে দিল্লিতে তলব ইডির

    Pratik Jain: কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় আইপ্যাক যোগ! প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিংকে দিল্লিতে তলব ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় আইপ্যাকের (I-PAC) যোগ থাকার অভিযোগে তদন্ত জোরদার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই মামলায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং ঋষিরাজ সিংকে দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। কলকাতায় সিবিআই এবং ইডির অফিস তদন্তের জন‍্য সুরক্ষিত নয়। ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ‍্য প্রমাণ। তাই আইপ্যাকের কর্ণধার ও এক কর্তাকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য দিল্লিতে ডাকা হয়েছে, বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    কেন দিল্লিতে তলব, জানাল ইডি

    গত ৮ জানুয়ারি ইডি আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উপস্থিতিকে ‘তদন্তে বাধা’ হিসেবে দেখিয়ে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে ইডি, যার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে চলছে। এরই মধ্যে দিল্লি হাইকোর্টে ইডি দাবি করেছে যে কলকাতায় সিবিআই ও ইডির অফিস তদন্তের জন্য নিরাপদ নয়। তাদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে। এই সংক্রান্ত একটি মামলা বুধবার বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভামবানির বেঞ্চে ওঠে। শুনানিতে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এস.ভি. রাজু আইপ্যাক অফিসে অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রীর ‘বাধা দেওয়ার’ অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

    নথির গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা

    অন্যদিকে, প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিং দিল্লিতে হাজিরার সমনের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনী কৌশল তৈরির কাজে ব্যস্ত, তাই দিল্লিতে না গিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বা কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেওয়া হোক। তবে ইডি এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে জানায়, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নথির গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, পাঁচ বছর ধরে চলা এই তদন্তে এখনই কেন জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। পাশাপাশি কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদ সম্ভব নয় কেন—এই বিষয়ে ইডিকে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইডির তরফে জানানো হয়েছে, ২ এপ্রিলের পর কোনও একদিন প্রতীক জৈনকে দিল্লির অফিসে হাজিরা দিতে বলা হতে পারে।

  • Shabbir Ahmad Lone: পাকিস্তানকে আড়ালের চেষ্টা, বাংলাদেশ থেকে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ! দিল্লি থেকে গ্রেফতার লস্কর কমান্ডার লোন

    Shabbir Ahmad Lone: পাকিস্তানকে আড়ালের চেষ্টা, বাংলাদেশ থেকে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ! দিল্লি থেকে গ্রেফতার লস্কর কমান্ডার লোন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ফের বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক বানচাল করল নিরাপত্তাবাহিনী। দিল্লি পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ দিল্লির সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করেছে লস্কর-ই-তইবা (Lashkar-e-Taiba) জঙ্গি-কমান্ডার শাব্বির আহমেদ লোনকে। অভিযোগ, বাংলাদেশে (Bangladesh) বসেই ভারতে হামলা চালানোর ছক কষেছিলেন শাব্বির (Shabbir Ahmad Lone)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে দিল্লি পুলিশে বিশেষ শাখা তাঁকে গ্রেফতার করেছে। শাব্বির ওরফে রাজা ওরফে কাশ্মীরি আসলে শ্রীনগর জেলার কাঙ্গানের বাসিন্দা। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশে ভারত-বিরোধী জঙ্গি ক্রিয়াকলাপ পরিচালনাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

    বাংলাদেশে ডেরা ছিল লোনের

    সূত্রের খবর, বাংলাদেশে ডেরা ছিল লোনের। অভিযোগ, বাংলাদেশে বসে সেখানকার তরুণদের লস্করের জঙ্গি হিসেবে নিয়োগ করত লোন। ভারতে যে বাংলাদেশের নাগরিকেরা বেআইনি ভাবে বসবাস করত, তাঁদেরও সন্ত্রাসের কাজে লাগানো হত। দিন কয়েক আগে লস্করের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীর সদস্যদের ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ, গোয়েন্দা। ওই গোষ্ঠী দিল্লি এবং আশপাশের এলাকায় সক্রিয় ছিল। সূত্রের খবর, ওই গোষ্ঠী দিল্লি এবং কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় দেশ-বিরোধী পোস্টার লাগিয়েছিল। সেই গোষ্ঠীর সূত্র ধরেই লোনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    দু’দশকের বেশি সময় ধরে লস্করের সঙ্গে যোগ

    গোয়েন্দাদের সূত্র বলছে, দু’দশকের বেশি সময় ধরে লস্করের সঙ্গে যোগ রয়েছে লোনের। মুজফ্‌ফরাবাদে জঙ্গি শিবিরে তার প্রশিক্ষণ হয়েছিল বলেও খবর। ‘দওড়া-এ-আম’ (প্রাথমিক) এবং ‘দওড়া-এ-খাস’ (উচ্চ পর্যায়ের)— দু’ধরনের প্রশিক্ষণই তার হয়েছিল। ২০০৭ সালে অস্ত্র-সহ লোনকে প্রথম বার গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার কাছে ছিল একে-৪৭-এর মতো অস্ত্রও। আধিকারিকেরা জানিয়েছিলেন, লস্করের কমান্ডার জাকি-উর-রহমান লাকভি, জামাত-উদ-দাওয়া এবং ২৬ নভেম্বরের মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদের সঙ্গে যোগ ছিল তার। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিহাড় জেলে ছিল লোন। তার পরে জামিনে ছাড়া পায়।

    তিহাড় থেকে বাংলাদেশে

    গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, তিহাড় থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশে চলে যায় শাব্বির। সেখানে লশকরের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। সদস্যদের নিয়ে ভারতে হামলার ছক কষতে থাকে। পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে থাকে সে। সম্প্রতি লস্করের এক নয়া মডিউলের হদিশ পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। দিল্লি থেকে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এই সন্ত্রাসী মডিউলটি দিল্লি ও কলকাতার বহু জায়গায় ভারত বিরোধী পোস্টারও সাঁটায়। যেখানে কাশ্মীরের বুরহান ওয়ানি থেকে পাকিস্তানের উল্লেখ ছিল। এহেন জঙ্গির গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে দিল্লি পুলিশের বিরাট সাফল্য। অনুমান করা হচ্ছে দিল্লি ও তার আশপাশ এলাকায় লোনের একাধিক সঙ্গী এখনও সক্রিয় তাদের সন্ধানে শুরু হয়েছে তল্লাশি। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশ দিল্লিতে বড় জঙ্গি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল লোন। যদিও তার আগেই গোয়েন্দা বিভাগের তৎপরতায় গ্রেফতার হল ভয়ঙ্কর এই জঙ্গি।

    পুলিশের জালে শাব্বির

    তদন্তকারীদের তরফে জানা যাচ্ছে, শুধু জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা নয় লস্করের নয়া এই মডিউলে সদস্য বাড়ানোরও দায়িত্ব ছিল লোনের উপর। ভারতে অবৈধভাবে আসা বাংলাদেশিদের জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ করত সে। এখন তাকে জেরা করছে পুলিশ। ভারতে কোথায় কোথায় তাদের হামলার ছক ছিল, সঙ্গে কারা ছিল, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে খবর। এখন লোনকে জেরা (interrogation) করে গোটা চক্রের খোঁজ করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি— নিয়োগের পথ (recruitment channels), অর্থের উৎস (funding routes) ও সম্ভাব্য টার্গেট (targets) সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকায় তার আরও কতজন সহযোগী লুকিয়ে আছে তা জানতে তদন্তকারী সংস্থাগুলো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

    পাকিস্তানকে আড়ালের চেষ্টা

    পুলিশ সূত্রে খবর, রাজা বাংলাদেশে বসে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদতে, লস্করের এই ভারত বিরোধী চক্রান্ত চলছিল। রাজার মূল কাজ ছিল ভারতে হামলার জন্য বাংলাদেশিদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে নিয়োগ করা। পাকিস্তানের নাম এই আক্রমণে যাতে সরাসরি জড়িয়ে না পড়ে সেজন্যই এই ব্যবস্থা। এই বাংলাদেশিদের মধ্যে অনেকেই ভারতে বসবাস করত। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, যা সময়মতো ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

    পহেলগাঁও-হামলার অনুরূপ হামলা!

    উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিলের ২২ তারিখ পহেলগাঁও-তে জঙ্গি আক্রমণ হয়। সাধারণ পর্যটকদের উপরে গুলি করা হয়। সেই আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন এবং গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন ২০ জন। তদন্তে জানা যায়, পরোক্ষভাবে হলেও এই আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত ছিল লস্কর-ই-তইবা। তার সঙ্গে শাব্বিরের যোগ রয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলতি বছর এপ্রিলে ফের এই ধরনের হামলার ছক কষছে কি না জঙ্গিরা, তা-ও জানার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। চেষ্টা চলছে গোটা লস্করের খবর জানার। ভারতে আর কোথায় কোথায় এই জঙ্গি সংগঠন ঘাঁটি তৈরি করেছে, কী ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, দেশে জঙ্গি আক্রমণ কবে কোথায় হতে পারে ইত্যাদি জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

  • Delhi Crime Branch: পাকিস্তান-বাংলাদেশ অস্ত্রপাচার চক্রের হদিশ! দিল্লি পুলিশের জালে ১০ পাচারকারী

    Delhi Crime Branch: পাকিস্তান-বাংলাদেশ অস্ত্রপাচার চক্রের হদিশ! দিল্লি পুলিশের জালে ১০ পাচারকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি পুলিশের (Delhi Crime Branch) জালে এক বড় আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচার চক্র। পুরনো দিল্লির ওয়ার্ল্ড সিটি এলাকা থেকে পরিচালিত এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ২১টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২০০-রও বেশি কার্তুজ। ডিসিপি সঞ্জীব যাদবের নেতৃত্বে চালানো এই অভিযানে পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের (Pakistan-Bangladesh Arms Trail) সঙ্গে যুক্ত একটি সুসংগঠিত পাচার রুটের সন্ধান মিলেছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি চেক প্রজাতন্ত্র-নির্মিত সাবমেশিন গান এবং বেরেটা, ওয়ালথার, টরাস ও সিজেড-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার তৈরি একাধিক সেমি-অটোমেটিক পিস্তল। এছাড়া একটি উচ্চমানের পিএক্স৫.৭ পিস্তলও উদ্ধার হয়েছে, যা সাধারণত এলিট ট্যাকটিক্যাল ইউনিটে ব্যবহৃত হয়।

    পাকিস্তান থেকে নেপাল হয়ে দিল্লি

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্রগুলি পাকিস্তান থেকে পাচার হয়ে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকত এবং সেখান থেকে দিল্লিতে আনা হত। পুরনো দিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকে গুদাম ও বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হত। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের কাছে এত উন্নতমানের অস্ত্রের উপস্থিতি এই নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। এই চক্রটি দিল্লি-এনসিআর সহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন সংগঠিত অপরাধচক্রে অস্ত্র সরবরাহ করত। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক অস্ত্র সরবরাহকারী ও স্থানীয় অপরাধ জগতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছিল এই নেটওয়ার্ক। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, পুরনো দিল্লির জটিল ও ঘিঞ্জি গলিপথকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই নজর এড়িয়ে কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল।

    সংগঠিত অপরাধ জগতে বড় ধাক্কা

    পুলিশের মতে, এই অভিযানে উত্তর ভারতের অপরাধ জগতে বড় ধাক্কা লেগেছে। কারণ, বহু অপরাধচক্র এই নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি কাদের কাছে যেত, তা খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে কোনো স্লিপার সেল বা দেশবিরোধী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের মূল পান্ডাদের খোঁজ এবং নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি বোঝার চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান-নেপাল-বাংলাদেশ সংযুক্ত এই অস্ত্র পাচার চক্র ভাঙার ঘটনায় আবারও সামনে এল সীমান্ত পেরিয়ে চলা অপরাধের জাল।

  • Jammu Kashmir: কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কোন অপরাধে দোষী আসিয়া আন্দ্রাবি?

    Jammu Kashmir: কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কোন অপরাধে দোষী আসিয়া আন্দ্রাবি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে জম্মু-কাশ্মীরকে আলাদা করতে চেয়েছিল আসিয়া আন্দ্রাবি। (Asiya Andrabi) সঙ্গে ছিল তার দুই সহকারী সোফি ফাহমিদা এবং নাহিদা নাসরিন। ২০১৮ সালে গ্রেফতার হয়েছিল এরা তিনজন। দীর্ঘ ৭ বছর মামলা চলার পর কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রী আসিয়া আন্দ্রাবিকে (Asiya Andrabi) সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের মামলায় আজীবন কারাদণ্ড দিল দিল্লির বিশেষ আদালত। একই মামলায় তার সহযোগী সোফি ফাহমিদা (Sofi Fehmeeda) এবং নাহিদা নাসরিনকে (Nahida Nasreen) ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আদালত এই সাজা ঘোষণা করে। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি, তিনজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা নিষিদ্ধ সংগঠন দুখতারান-এ-মিল্লাত-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে অংশ নিয়েছিল। এই সংগঠনটি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারত থেকে পৃথক করার পক্ষে কাজ করত।

    কোন কোন ধারায় দোষী

    আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ছিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠন দুখতারান-এ-মিল্লাত (Dukhtaran-e-Millat)-এর মাধ্যমে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ ছড়াত। তদন্তে উঠে এসেছে, তারা বিভিন্ন বক্তব্য, ভিডিয়ো ও প্রচারের মাধ্যমে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রচার চালাত এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে পরোক্ষে সমর্থন করত। ২০১৮ সালে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) আসিয়া-সহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ, উস্কানিমূলক ভাষণ এবং কাশ্মীরকে ভারত থেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পরে গত ১৪ জানুয়ারি আদালত ইউএপিএ (UAPA)-র একাধিক ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। দেশের মধ্যে অশান্তি তৈরি, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো অভিযোগের কারণে এনআইএ আন্দ্রাবির যাবজ্জীবনের আবেদন জানিয়েছিল, তা মেনেই এ দিন সাজা ঘোষণা করে আদালত। আন্দ্রাবি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র মতাদর্শগত স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সক্রিয়ভাবে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল। আদালতও সেই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েই এই কঠোর সাজা ঘোষণা করেছে।

    দুখতারান-এ-মিল্লাত ও আসিয়া আন্দ্রাবি

    দুখতারান-এ-মিল্লাত ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি কাশ্মীরভিত্তিক মহিলা সংগঠন, যার নেতৃত্বে ছিল আসিয়া আন্দ্রাবি (Asiya Andrabi)। ৬২ বছর বয়সি আসিয়া আন্দ্রাবি ‘দুখতারান-এ-মিল্লাত’ (DeM)-এর প্রতিষ্ঠাতা। সংগঠনটি প্রথমে একটি সামাজিক সংস্কারমূলক গোষ্ঠী হিসেবে শুরু হয়। ১৯৯১ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে পর্দা প্রথা বাধ্যতামূলক করার প্রচারাভিযানের মাধ্যমে সংগঠনটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে নিষিদ্ধ তকমা দেয়। পরে ২০১৮ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) আন্দ্রাবিকে গ্রেফতার করে।

    জামাত-এ-ইসলামির সঙ্গে যোগ

    ১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করা আন্দ্রাবি শ্রীনগরে হোম সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করে এবং সেখান থেকেই স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে। পরবর্তীতে দার্জিলিংয়ে স্নাতকোত্তর করার পরিকল্পনা থাকলেও পরিবারের অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এর পরে সে ইসলামিক সাহিত্যচর্চার দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা তার মতাদর্শে বড় প্রভাব ফেলে। পরে জামাত-এ-ইসলামির মহিলা শাখায় যোগ দেয় আসিয়া। ১৯৯০ সালে আশিক হুসেন ফাকতুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় আন্দ্রাবি। আশিক বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছে। দুই সন্তানের মা আন্দ্রাবিকে প্রথম ১৯৯৩ সালে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে একাধিকবার পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট (PSA)-এর আওতায় তাকে আটক করা হয়েছে।

    জাতীয় ঐক্য রক্ষায় কেন্দ্রের কঠোর অবস্থান

    কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের ভূমিকা বহুচর্চিত ও আলোচিত। পাকিস্তান, বিশেষ করে তার গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই যে এই জঙ্গি সংগঠনগুলি মারফত কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, তা-ও সর্বজনবিদিত। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের বিরামহীন সংঘর্ষে হাজার-হাজার প্রাণ যাচ্ছে উভয় পক্ষেই। এই আবহে কেন্দ্রের মোদি সরকার ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয়। কেন্দ্রীয় সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত করে। এই সিদ্ধান্তের পরে কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। বিশেষ করে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর কেন্দ্র সরকার যে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়েছে, এই রায় সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, আন্দ্রাবি-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে এই সাজা কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের নীতি ও অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। এই মামলাটি কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই রায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।

  • Delhi: দিল্লির উত্তম নগরে হোলির দিনে তরুণ কুমার হত্যাকাণ্ডে আরও ৪ জন গ্রেফতার, মোট ৮জন ধৃত

    Delhi: দিল্লির উত্তম নগরে হোলির দিনে তরুণ কুমার হত্যাকাণ্ডে আরও ৪ জন গ্রেফতার, মোট ৮জন ধৃত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির (Delhi) উত্তম নগর এলাকায় হোলির দিন ২৬ বছর বয়সি তরুণ কুমারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার (৬ মার্চ) আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ৮ । যার মধ্যে একজন নাবালকও রয়েছে। এদিকে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মাঝে দুটি গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটেছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (DFS) সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে উত্তম নগরের জে.জে. কলোনিতে একটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগার খবর পায় তারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলের ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

    সিবিআই তদন্তের দাবি

    তরুণ কুমারের পরিবার তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৪ মার্চ) হোলি উৎসবের দিন। পুলিশ ও পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, তরুণের পরিবারের এক ১১ বছর বয়সি মেয়ে ছাদে দাঁড়িয়ে হোলি খেলছিল। সে একটি জলের বেলুন ছুড়েছিল, যা তার বাবার দিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হলেও রাস্তায় পড়ে যায় এবং পাশ দিয়ে যাওয়া এক প্রতিবেশী মহিলার গায়ে জল পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সামান্য তর্কাতর্কি হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়ে যায়। তবে সন্ধ্যায় বন্ধুর সঙ্গে হোলি উদযাপন করে বাইকে বাড়ি ফেরার সময় তরুণকে পথেই আটকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল। অভিযোগ, ওই দলটি লোহার রড, ইট, পাথরসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে তরুণকে বেধড়ক মারধর করে। তাকে বাঁচাতে গেলে তার পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তরুণকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।

    পুলিশ ও সিআরপিএফ মোতায়েন

    নিহত তরুণের কাকা রমেশ বলেন, ‘১১ বছর বয়সি মেয়েটি ছাদ থেকে সবার ওপর জল বেলুন ফেলছিল। এই ঘটনায় বোরখা পরিহিত এক মহিলার ওপরেও বেলুন ফেলে দেয় ও। তাতে আমি নিজে গিয়ে ক্ষমা চাই। এমনকী ছোট মেয়েকে দিয়েও ক্ষমা চাওয়াই। এর থেকে বেশি কী করতে পারতাম আমরা। তারা আমাদের মারল। আমার মাথায় ডাক্তার ৮টি সেলাই দিয়েছে। ঘটনার আধঘণ্টা পরে তরুণ আসে। ও বাইক পার্ক করতে পারেনি, তার ওপর চড়াও হয় ওরা।’ এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তরুণ নির্দোষ ছিলেন। ছোটখাটো বিরোধের জেরে অন্য সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁকে লাঠি ও ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তরুণ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এদিকে এই ঘটনা যাতে সাম্প্রদায়িক হিংসার আকার ধারণ না করে, তার জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। থানায় স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করে পুলিশ। বৈঠকে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করা হয় যে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হবে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও সিআরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • Meerut Namo Bharat Train: দিল্লি-মিরাটের মেট্রো পরিষেবা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    Meerut Namo Bharat Train: দিল্লি-মিরাটের মেট্রো পরিষেবা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার দিল্লি-মিরাটের মেট্রো পরিষেবা (Meerut Namo Bharat Train) চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ দিল্লি-মিরাট দ্রুত রেল করিডোর জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলেন। ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলাচলের হিসেবে মিরাট মেট্রো ভারতের দ্রুততম রেল ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে। এই রেল পরিষেবার ফলে দিল্লি এবং মিরাটের মধ্যে ভ্রমণ মাত্র ৫৫ মিনিটেই সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে।

    সর্বোচ্চ গতি ১৩৫ কিমি/ঘন্টা (Meerut Namo Bharat Train)

    প্রধানমন্ত্রী শতাব্দী নগর স্টেশন থেকে মীরাট মেট্রো এবং নমো ভারত ট্রেন (Meerut Namo Bharat Train) উভয়েরই সূচনা করেন। দিল্লি-গাজিয়াবাদ-মীরাট নমো ভারত করিডোরটি ৮২.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি ভারতের প্রথম আঞ্চলিক দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা বা আরআরটিএস, যা দিল্লির সরাই কালে খানকে উত্তর প্রদেশের মোদিপুরমের সাথে সংযুক্ত করে করেছে।

    ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মিরাট মেট্রো শহরের মধ্যেই চলবে এবং মিরাট সেকশনে নমো ভারত র‍্যাপিড রেলের সাথে ট্র্যাককে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা স্টেশন থেকে বাইরে বের হয়েই দুটি পরিষেবাকে একসঙ্গে নিতে পারবে। মোট করিডোরের দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার, করিডোরে ১৬ কিলোমিটার উঁচু ট্র্যাক এবং ৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ ট্র্যাক রয়েছে।

    মিরাট মেট্রো করিডোরের মোট ১৩টি স্টেশন

    ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রো (Meerut Namo Bharat Train) করিডোরে মোট ১৩টি স্টেশন রয়েছে। নয়টি স্টেশন এলিভেটেড। এগুলি হল মিরাট দক্ষিণ, পারতাপুর, রিথানি, শতাব্দী নগর, ব্রহ্মপুরী, এমইএস কলোনি, দৌরলি, মিরাট উত্তর এবং মোদিপুরম। তিনটি স্টেশন, মিরাট সেন্ট্রাল, ভৈশালি এবং বেগমপুল, ভূগর্ভস্থ। মোদিপুরম ডিপো একটি উচ্চমানের স্টেশন। চারটি স্টেশন, মিরাট দক্ষিণ, শতাব্দী নগর, বেগমপুল এবং মোদিপুরম, নমো ভারত এবং মিরাট মেট্রো ট্রেন উভয় পরিষেবাই দেবে।

    মিরাট মেট্রো সময়সূচী

    ব্যস্ত সময়ে, ট্রেনগুলি (Meerut Namo Bharat Train) প্রতি ৫ থেকে ১০ মিনিট অন্তর চলবে। অন্য সময়ে, ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি হবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। পরিষেবাগুলি সপ্তাহের প্রথম পাঁচ দিন এবং শনিবার সকাল ৬:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত এবং রবিবার সকাল ৮:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যাত্রীরা একটি টিকিটেই নমো ভারত এবং মীরাট মেট্রো, উভয় ট্রেনেই ভ্রমণ করতে পারবেন। ভাড়ার বিস্তারিত ঘোষণা এখনও করা হয়নি।

    মিরাট মেট্রো: বৈশিষ্ট্য এবং যাত্রী সুবিধা

    মিরাট মেট্রো ট্রেনগুলি তিন কোচ বিশিষ্ট। প্রতিটি ট্রেন ৭০০ জনেরও বেশি যাত্রী বহন করতে পারে, যার মধ্যে ১৭৩ জনের আসন সংখ্যা রয়েছে। মূল বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে:

    • শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ
    • কুশনযুক্ত আসন
    • লাগেজ র‍্যাক এবং গ্র্যাব হ্যান্ডেল
    • সিসিটিভি ক্যামেরা
    • ইউএসবি মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট
    • গতিশীল রুট মানচিত্র
    • জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অ্যালার্ম
    • অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র এবং টক-ব্যাক সিস্টেম

    সমস্ত স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন দরজা স্থাপন করা হবে এবং ট্রেন পরিচালনার সাথে সিঙ্ক্রোনাইজ করা হবে। পুশ বোতামের মাধ্যমে নির্বাচিত দরজা খোলার ফলে শক্তির ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে। প্রতিটি কোচে মহিলা এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকবে। স্টেশন এবং ট্রেনগুলি সর্বজনীন প্রবেশাধিকারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, হুইলচেয়ার এবং মেডিকেল স্ট্রেচারের জন্য জায়গা রয়েছে, পাশাপাশি প্রশস্ত লিফটও রয়েছে। ট্রেনগুলির বাইরের রঙের স্কিম সবুজ, নীল এবং কমলা।

    মিরাট মেট্রো: ভ্রমণের সময়

    সম্পূর্ণরূপে চালু হয়ে গেলে, দিল্লি-মিরাট যাত্রায় প্রায় ৫৫ মিনিট সময় লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সমন্বিত ব্যবস্থার লক্ষ্য হল মিরাট, গাজিয়াবাদ, নয়ডা, দিল্লি এবং গুরুগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করা এবং রাস্তার যানজট কমানো। প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) আজ দেশবাসীকে উৎসর্গ করলেন এই পরিষেবা।

    কত দিনে বাস্তবায়ন

    ২০১৬ সালে রাইটস (RITES) কর্তৃক বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদি ৮ মার্চ, ২০১৯ তারিখে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। প্রথম ট্রায়াল রানটি ১২ জানুয়ারী, ২০২৫ তারিখে মিরাট সাউথ এবং মিরাট সেন্ট্রালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    রবিবার প্রধানমন্ত্রী ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ দিল্লি-মীরাট নমো ভারত করিডোরটি জনগণকে (Meerut Namo Bharat Train) উৎসর্গ করেছেন। এর মধ্যে ভারতের প্রথম আঞ্চলিক দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থার (RRTS) অবশিষ্ট অংশগুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলি হল-

    • দিল্লির সরাই কালে খান এবং নিউ অশোক নগরের মধ্যে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশ
    • উত্তর প্রদেশের মিরাট সাউথ এবং মোদিপুরমের মধ্যে ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশ
LinkedIn
Share