Tag: Democratic Participation

  • West Bengal SIR: ‘ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না’ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    West Bengal SIR: ‘ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না’ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে দুটি বিষয় উঠে এল সুপ্রিম কোর্টে। ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের প্রসঙ্গ (West Bengal SIR) এবং মালদাকাণ্ড। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। রাজ্যে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

    প্রধান বিচারপতির বক্তব্য (West Bengal SIR)

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি না, যাতে আপিল ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের ওপর আরও বাড়তি চাপ পড়ে। আমাদের সামনে আর একটি আবেদনও রয়েছে, যেখানে আপিল প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি তোলা হয়েছে।” এদিনের শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সাংসদ তথা তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ১৬ লাখ আবেদন করা হয়েছে। তাঁদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানান তিনি। কল্যাণের সওয়াল প্রসঙ্গে শীর্ষ আদালত বলে, “সেই প্রশ্নই ওঠে না। যদি আমরা এটা অনুমতি দিই, তা হলে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকারও স্থগিত করতে হবে।”

    শীর্ষ আদালতের নির্দেশ

    শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিতে হবে। প্রধান বিচারপতি জানান, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া বিচারকদের নিরাপত্তা কোনওভাবেই প্রত্যাহার করা যাবে না। প্রধান বিচারপতি বলেন, “কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, মোট ৬০ লাখ ৪ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এখনও প্রায় ২,০০০ মুলতবি রয়েছে।” মালদার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন আমরা জানতে চাই, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কারও কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র ছিল কি না। আমরা চাই না, বিষয়টি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকুক।”

    ট্রাইবুনালে আবেদন করার পরামর্শ

    এদিকে, মালদাকাণ্ডে তদন্তের অন্তর্বতী রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্তের কত দূর অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়েও রিপোর্ট জমা দিয়েছে তারা। এজলাসে এনআইএ জানায়, মালদহকাণ্ডে মূল চক্রান্তকারীকে রবিবারই গ্রেফতার করা হয়েছে (West Bengal SIR)। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মূল মামলা শুরুর আগে এক আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, ট্রাইবুনালে আবেদন শোনা হচ্ছে না। সঙ্গে সঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমায় জানিয়েছেন আজ সকাল থেকে ট্রাইবুনালে শুনানি শুরু হয়েছে। ট্রাইবুনালকে এ ভাবে ব্ল্যাকমেল করা যাবে না। আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নেব না, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ট্রাইবুনালই নেবে।” মামলাকারীকে ট্রাইবুনালে আবেদন করার পরামর্শও দেয় শীর্ষ আদালত।

    বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী

    এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও বলেন, “এক্ষেত্রে কোনও দায় ঠেলাঠেলি চলবে না। দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে পড়ে ভুগতে হচ্ছে ভোটারদের।” কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি বাগচী বলেন, “কেউ যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেই দেশে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু সাংবিধানিকই নয়, এটি আবেগের বিষয়ও বটে (West Bengal SIR)।” তথ্যগত অসঙ্গতির মতো একটি বিষয় যে শুধু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই রয়েছে, অন্য কোনও রাজ্যে নেই, সে বিষয়ের উপরেও আলোকপাত করেন বিচারপতি বাগচী। তিনি বলেন, “যত ক্ষণ না বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ছেন বা ভোটের ফলের ওপর তার বাস্তবিক কোনও প্রভাব পড়ছে, ততক্ষণ নির্বাচন বাতিল করা সম্ভব নয়।” বিচারপতি বাগচী বলেন, “এসআইআরের বিচারকাজে নিয়োজিত আধিকারিকদের ওপর অত্যধিক চাপ রয়েছে। তাই তাঁদের কাছ থেকে ১০০ শতাংশ নির্ভুলতা আশা করা যায় না। প্রতিদিন ১০০০টিরও বেশি নথি যাচাই করতে হলে ৭০ শতাংশ নির্ভুলতাকেও ‘চমৎকার’ বলা যেতে পারে।”

     

LinkedIn
Share