Tag: Designated Terrorists

  • MHA Designated Terrorists: পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি,  বড় পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের! জৈশ ও লস্করের ২৩ সদস্যকে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা কেন্দ্রের

    MHA Designated Terrorists: পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, বড় পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের! জৈশ ও লস্করের ২৩ সদস্যকে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেনস’ নীতির কথা তুলে ধরে ২৩ জনকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সমাজমাধ্যম এক্সে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর অধীনে ওই ২৩ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ইউএপিএ অ্যাক্টের ৩৫ নম্বর ধারার অধীনে এদের জঙ্গি বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রকের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ, জঙ্গি হামলা, সন্ত্রাসে উসকানি, অস্ত্র পাচার, সীমান্ত অনুপ্রবেশ, জঙ্গি সংগঠনকে সহায়তা, অর্থ সংগ্রহ এবং সদস্য নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ঘোষিত ২৩ জনের মধ্যে ১৭ জন পাকিস্তানের নাগরিক এবং ৬ জন ভারতীয়। তবে বর্তমানে সকলেই পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে কার্যকলাপ চালাচ্ছে বলেই দাবি কেন্দ্রের।

    বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

    শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার ওই ২৩ জন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জঙ্গি নিয়োগ, ভারতে অনুপ্রবেশ করানো, ট্রেনিং দেওয়া, ড্রোনে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং জম্মু-কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি হামলার ছক কষার অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, ২৩ জনের মধ্যে তিন জন লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ মহম্মদ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এছাড়া তিনজন ২০১৬ সালের নাগরোটা সেনা শিবিরে হামলার অন্যতম মূলচক্রী এবং দু’জন ২০২২ সালের সুনজওয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার সঙ্গে জড়িত।

    হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ

    কেন্দ্রের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে আবদুল রউফ, হাফিজ খালিদ ওয়ালিদ এবং রানা ইফতিখারের নাম হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রের অভিযোগ, রানা ইফতিখারের কাজ ছিল বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ রাখা। সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মগজ ধোলাইও করতেন তিনি। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয়ের জন্য কট্টরপন্থী পাক গোষ্ঠী জামাত-উদ-দাওয়ার তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইফতেখার। রউফও জামাত-উদ-দাওয়ার নেতা। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিকল্পনা ও সমন্বয়, অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। ওয়ালিদ বর্তমানে হাফিজের নিরাপত্তা্র দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনিও কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী।

    তালিকাভুক্তদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাম

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই তালিকাভুক্তদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাম—

    মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি (জইশ-ই-মহম্মদ): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতি জানাচ্ছে, এই পাকিস্তানি নাগরিক ২০২২ সালে সুঞ্জওয়ান সেনা শিবিরে হামলায় জড়িত ছিলেন। এনআইএ-র চার্জশিটে ‘চক্রান্তকারী’ হিসাবে তাঁর নাম রয়েছে। গত ৭ মে ‘সিঁদুর’ অভিযানে পাকিস্তানের আটটি জায়গায় জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। বাহাওয়ালপুরে জইশ-এর সদর দফতরে হামলার জেরে জইশ প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের ভাই ইউসুফ-সহ পরিবারের অন্তত ১০ জন নিহত হন। ইলিয়াসই বর্তমানে সংগঠনে ‘নম্বর টু’।

    মহম্মদ মুসাদ্দিক (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০২২ সালে সুঞ্জওয়ান সেনা শিবিরে হামলায় জড়িত। এনআইএ তদন্তে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের ভারতের যে হ্যান্ডলারেরা নিয়ন্ত্রণরেখা টপকাতে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে পাকিস্তান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন মুসাদ্দিক।মুফতি মুহাম্মদ আসগর খান (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০১৬ সালের নাগ্রোটা সেনা শিবিরে হামলার মূল অভিযুক্ত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশের ‘লঞ্চিং প্যাড’গুলির প্রধান পরিচালক। সিঁদুর অভিযানের পরে জইশের নাম বদলে অল-মুরাবিতুন (যার অর্থ, ‘ইসলামের রক্ষাকারী’) রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত আসগর নতুন পরিচয়ে সক্রিয়।

    হাফিজ় আবদুল শুকুর (জইশ-ই-মহম্মদ): এনআইএ রিপোর্টে ‘ক্বারি জ়ারার’ নামেও চিহ্নিত এই পাক নাগরিক একাধিক বার নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করে সরাসরি সন্ত্রাসবাদী হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের নাগ্রোটা হামলার আগে স্থানীয় সহায়তাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

    আবদুল্লাহ জেহাদি (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০১৬ সালের নাগ্রোটা হামলার আর এক চক্রী। বর্তমানে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এবং পাকিস্তানে জইশের সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির দায়িত্বে।ফিরদৌস আহমদ ভাট (লশকর-এ-ত্যায়বা): হাফিজ় সইদের ঘনিষ্ঠ এই নেতা পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহৃত ‘লঞ্চিং প্যাড’গুলির প্রধান পরিচালক। কাশ্মীর উপত্যকার লশকরের সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশ ও লজিস্টিক সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলির বন্দোবস্তও তাঁর দায়িত্বে।

    বিলাল আহমদ মির (দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট): লশকরের এই প্রাক্তন কমান্ডার বর্তমানে তাদেরই ছায়া সংগঠন টিআরএফ-এর মূল নেতা। বিলাল মূলত সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালনা এবং ভারতে অস্ত্র সরবরাহের সমন্বয় করার ষড়যন্ত্রে জড়িত। পহেলগাঁও সন্ত্রাসেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল।

    তালিকায় আরও রয়েছেন ফিরদৌস আহমেদ ভাট, গুলাম ফরিদ, হারুন রশিদ গনাই, মহম্মদ শহিদ ফয়সাল, বিলাল আহমেদ মির, আবিদ কাইয়ুম লোন, নাজির আহমেদ গুজ্জর, আশফাক আহমেদ, মৌলানা ইমদাদ উল্লাহ মাক্কি, মৌলানা সইফুল্লাহ খালিদ, মহম্মদ ইয়াকুব, মৌলানা ইউসুফ তাইবি, ওয়াসিম নূর জাট, ওয়াইস ফারুজ এবং কারি ইয়াকুব শেখের নামও।

    কেন এই পদক্ষেপ

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক, ড্রোনে অস্ত্র পাচার, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অনলাইনে জঙ্গি নিয়োগের চক্র ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী কেবল কোনও সংগঠনকে ‘নিষিদ্ধ বা জঙ্গি সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করা যেত। কিন্তু ২০১৯ সালের অগস্ট মাসে মোদী সরকার ইউএপিএ (UAPA) আইনে এক ঐতিহাসিক সংশোধন আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেও ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষমতা পায় কেন্দ্র। এই তকমা পাওয়ার ফলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) বা অন্যান্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো ওই অপরাধীদের অস্ত্র ও অর্থ জোগানের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারে এবং ভারতের মাটিতে থাকা তাদের সমস্ত সম্পত্তি বা অ্যাসেট বাজেয়াপ্ত করতে পারে। শনিবারের এই নতুন ২৩টি নাম যুক্ত হওয়ার পর, ভারতের এই বিশেষ ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা মোট ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮০ জনে। এই তালিকায় ইতিমধ্যেই হাফিজ সঈদ, জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার, ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড জাকি-উর-রহমান লাখভি, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম এবং আমেরিকাতে থাকা খলিস্তানি নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের মতো নামগুলো রয়েছে।

LinkedIn
Share