Tag: Dharmatala Rally

  • Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে এবার সরব ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাকর্মীরা। নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিযোগ ঘিরে এখনও উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার জাতীয় পতাকা হাতে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত জোড়া মহামিছিলের (Dharmatala Rally) আয়োজন করে ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’। এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় রাজ্যের অনেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। আয়োজকদের দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চ নয়; বরং গণতন্ত্র, শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষার সামাজিক উদ্যোগ।

    পথে শিক্ষা জগৎ

    ধর্মতলার সাম্প্রতিক অশান্তির পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর, পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রতিবাদের অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হলেও হিংসা ও নৈরাজ্য কখনওই গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। সেই কারণেই ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের একাংশ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান।

    জোড়া মহামিছিল

    মঙ্গলবার দুপুর থেকেই হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক, শিক্ষাকর্মী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দুটি প্রান্ত থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে শুরু হয় পদযাত্রা (Dharmatala Rally)। ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’-এর ডাকে আয়োজিত এই মহামিছিলে অংশ নেয় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP), অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ, ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল, বিদ্যা ভারতী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস, ইতিহাস সংকলন সমিতি-সহ সঙ্ঘ পরিবারের একাধিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

    সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা

    মহামিছিলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর কিংবা সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত এবং সেই স্বাধীনতার উপর আঘাত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

    বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    মিছিলে (Dharmatala Rally) অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে বাম ও কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। তাঁদের দাবি, দিল্লির ‘সংসদ চলো’ অভিযানে যেমন নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছিল, কলকাতার ঘটনাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এছাড়াও কিছু বামপন্থী সংগঠন ছাত্রদের আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি এবং দেশবিরোধী শক্তির মদতপুষ্ট প্রচারকে উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    বিদেশি শক্তির মদতের আশঙ্কাও

    দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে কলকাতার ধর্মতলা- প্রতিবাদের নামে যেখানেই হিংসা বা নৈরাজ্যের ঘটনা ঘটুক, তার কড়া নিন্দা হওয়া উচিত বলেই মত মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার নেপথ্যে বিদেশি শক্তির মদতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।

    গণতন্ত্রের নামে হিংসা নয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বার্তা

    হাওড়া থেকে ধর্মতলা ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা – জাতীয় পতাকার ছায়ায় আয়োজিত এই দুই মহামিছিল থেকে উঠে আসে একটাই বার্তা। প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের শক্তি হলেও, সেই অধিকারের আড়ালে হিংসা, ভাঙচুর, সাংবাদিক নিগ্রহ কিংবা অরাজকতার কোনও স্থান নেই। মতের লড়াই হতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্রের পথ কখনওই বর্বরতার পথ হতে পারে না – এই বার্তাই রাজপথ থেকে তুলে ধরল ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চে’র এই মহামিছিল।

  • TMC July 21 Rally: ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি নয়, মমতা-ঋতব্রত— তৃণমূলের দুই শিবিরকেই জানিয়ে দিল পুলিশ

    TMC July 21 Rally: ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি নয়, মমতা-ঋতব্রত— তৃণমূলের দুই শিবিরকেই জানিয়ে দিল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাই ধর্মতলায় ‘শহিদ দিবস’ উপলক্ষে রাজনৈতিক সমাবেশের (TMC July 21 Rally) অনুমতি দেওয়া হবে না বলে কালীঘাট এবং ঋতব্রত— তৃণমূলের দুই শিবিরকেই জানিয়ে দিল (Dharmatala) কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের বক্তব্য, ধর্মতলার মতো অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকায় রাস্তা অবরুদ্ধ করে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

    ধর্মতলায় সভা নয় (TMC July 21 Rally)

    এ বছর ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি করার জন্য পুলিশের কাছে আলাদা করে আবেদন জানিয়েছিল দুই পক্ষই। অনুমতির সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই রবিবার সেখানে ফিতে দিয়ে জায়গা মাপতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। পরে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে মাপজোক করার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কলকাতা পুলিশ। তার পরের দিনই ধর্মতলায় সভার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।

    মমতা শিবিরের বক্তব্য

    মমতা শিবিরের তরফে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, “এখনও পুলিশের তরফে কোনও চিঠি আমরা পাইনি। তাই এখনই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।” ঋতব্রত শিবিরের পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক তথা মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান জানান, “আমরা আমাদের শহিদ দিবস পালন করবই। তবে তা কখনও মানুষের কোনও অসুবিধা করে হবে না। আমরা সবাই মিলে বসে এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”

    তৃণমূলে মুষল পর্ব 

    প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরে যাওয়ার পরেই মুষল পর্ব শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূলে। এক শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আর অন্য গোষ্ঠীর নেতা মমতা স্বয়ং। দলের অন্দরে এই বিভাজনের জেরে এ বছর ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মমতা জানিয়েছিলেন, ধর্মতলায়ই শহিদ দিবস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর কলকাতার এক কর্মসূচিতে কুণালের মোবাইল ফোন থেকে (TMC July 21 Rally) তাঁর বার্তাও শোনানো হয়। সেখানে মমতা বলেন, “২১ জুলাই আশা করি অনুমতি পাব। আমরা একটা দিনই মিটিং করি। সে দিন বিস্তারিত বলব। পাঁচ জন কর্মী থাকলেও সেই মিটিংয়ে থাকব। আপনারা ওই দিন সমবেত হোন।” এরপরই দুই শিবির পৃথকভাবে একই জায়গায় সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে।

    ২১ জুলাই

    ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভা তৃণমূলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য। ২০১১ সালে কর্মসূচি পালিত হয়েছিল ব্রিগেড ময়দানে। ২০১৩ এবং অতিমারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে ধর্মতলায় সভা হয়নি। বাকি প্রায় প্রত্যেক বছরই এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে ধর্মতলায়ই। ২১ জুলাইয়ের এই কর্মসূচির সূচনা ১৯৯৩ সালের ঘটনাকে ঘিরে। সেই সময় যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন মমতা। সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। মিছিল মহাকরণের দিকে এগোতে শুরু করলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড করে তা রুখে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ইট-পাথর বর্ষণ, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো এবং উত্তেজনার মধ্যে গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয় (Dharmatala), জখম হয়েছিলেন বহু কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক। এই দিনটিকেই শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে তৃণমূল (TMC July 21 Rally)।

     

  • Mamata Banerjee FIR: ভোটের আগে ‘উস্কানিমূলক’ ভাষণ! মমতার ‘১ সেকেন্ডে’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা

    Mamata Banerjee FIR: ভোটের আগে ‘উস্কানিমূলক’ ভাষণ! মমতার ‘১ সেকেন্ডে’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আইনি বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, ওই সভা থেকে তিনি এমন কিছু ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ মন্তব্য করেছিলেন, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ জুন হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন তুষার কান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্তও শুরু হয়েছে।

    কী ঘটেছিল ধর্মতলার সভায়?

    এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের ধরনা মঞ্চে একটি রাজনৈতিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন (তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সভায় দেওয়া তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং মানুষকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করার সম্ভাবনা ছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্যের ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    ঠিক কী বলেছিলেন মমতা?

    অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ওই সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্য। মঞ্চ থেকে তিনি বলেছিলেন, “আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি তখন এক সেকেন্ড লাগবে! একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, তখন ঘিরে ফেললে ১ সেকেন্ডে একদম ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই তা দ্রুত সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ছিল, একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই ধরনের মন্তব্য শোভা পায় না এবং তা সামাজিক বিভাজন ও উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূল সমর্থকদের একাংশ দাবি করেছিলেন, বক্তব্যের নির্দিষ্ট অংশকে প্রসঙ্গবিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে।

    কোন কোন ধারায় মামলা দায়ের?

    হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর তিনটি ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।

    • ধারা ১৯৬(১): বিভিন্ন সম্প্রদায়, গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধি করা অথবা সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ।
    • ধারা ৩৫১(২): অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বা উস্কানিমূলক আচরণের অভিযোগ।
    • ধারা ৩৫২: ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান বা প্ররোচনা দিয়ে শান্তিভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরি করার অভিযোগ।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাগুলির মধ্যে কয়েকটি গুরুতর প্রকৃতির এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনি জটিলতা বাড়তে পারে।

    তদন্তভার সাব-ইন্সপেক্টরের হাতে

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর হেয়ার স্ট্রিট থানা মামলাটি নথিভুক্ত করেছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর হিমাদ্রি কাঞ্জিলালকে। তদন্তকারী আধিকারিক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নথি, ভিডিও ফুটেজ এবং সভার বক্তব্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ওই দিনের সভার ভিডিও রেকর্ডিং, বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট, তার সম্ভাব্য প্রভাব এবং অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলির সত্যতা যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া এখনও নেই

    এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এফআইআর প্রসঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। দলীয় নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি। একইসঙ্গে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

LinkedIn
Share