Tag: draft electoral rolls

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা আপডেট এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) তৃতীয় পর্যায়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা (ECI) থেকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৩৪টি নাম বাদ দিয়েছে (SIR) ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসেব সামনে এসেছে। এই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার ছিলেন ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৭ হাজার ৮০৭ জন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের মধ্যে ১১.৫১ শতাংশের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

    যাঁরা বাদ গেলেন (ECI)

    বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছেন এমন ভোটার, যাঁদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি, অন্যত্র চলে গিয়েছেন, মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে অথবা একাধিক জায়গায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল। ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও আপডেট রাখাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। তবে এখনও চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি। খসড়া তালিকায় নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যোগ্য নাগরিকেরা নতুন করে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদনও করতে পারবেন। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সংখ্যায় আরও পরিবর্তন হতে পারে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ

    পরম সংখ্যার বিচারে অন্ধ্রপ্রদেশে সব চেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেখানে ৪৪.৮৯ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সংশোধনের আগে থাকা মোট ভোটারের ১০.৭৮ শতাংশ। এর ফলে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ১৬ লাখ থেকে কমে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বাদ পড়া ৪৪.৮৯ লাখ নামের মধ্যে ২২.৩০ লাখ ভোটার অন্যত্র চলে গিয়েছেন অথবা তাঁদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৫.২২ লাখ ভোটারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ৭.৩৭ লাখ ভোটারের নাম একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় ছিল। নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হরিয়ানা। সেখানে ৩৩.৮৩ লাখ নাম বাদ পড়েছে। ওড়িশায় বাদ পড়েছে ২০.১২ লাখ নাম। এদিকে, সিকিমে সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে—৩৭ হাজার ৭২৪টি। মিজোরামে বাদ পড়েছে ৪৬ হাজার ১৬২টি নাম।

    শতাংশের হিসাবে শীর্ষে দাদরা ও নগর হাভেলি

    মোট ভোটারের তুলনায় নাম বাদ পড়ার হারে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ। সেখানে ২৯.৬৪ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। এর পরেই রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, যেখানে বাদ পড়ার হার ১৯.০৯ শতাংশ। হরিয়ানায় এই হার ১৬.৩৮ শতাংশ এবং চণ্ডীগড়ে ১২.৮ শতাংশ। মিজোরামে নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে কম—৫.২ শতাংশ। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে ওড়িশায় ৬.০২ শতাংশ, মণিপুরে ৭.৫ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ১০.৩৯ শতাংশ, মেঘালয়ে ৭.৬৭ শতাংশ এবং ঝাড়খণ্ডে ১৬.৪৮ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। সিকিমে আগের তালিকার ৮ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে (ECI)।

    ১৬ রাজ্য ও ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে তৃতীয় পর্যায়

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে মোট ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এগুলি হল দিল্লি, ওড়িশা, মিজোরাম, সিকিম, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, তেলঙ্গনা, পাঞ্জাব, কর্নাটক, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং দাদরা ও নগর হাভেলি ও দমন ও দিউ। এর মধ্যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, তেলঙ্গনা, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই ও গণনার কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ওই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের খসড়া তালিকাও (SIR) এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়।

    একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই শেষ সংশোধন

    এর আগেই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, গোয়া, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লক্ষদ্বীপে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষ হয়েছে। অসমে অবশ্য নাগরিকদের জাতীয় পঞ্জি সংক্রান্ত আইনি বিষয় বিবেচনা করে পৃথকভাবে বিশেষ সংশোধন করা হয়েছে (ECI)। বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও চ্যালেঞ্জ করা হয়। চলতি বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন পরিচালনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে।

    তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলাকালীন নির্বাচন কমিশন ভোটারদের তথ্য যাচাই এবং ভোটার তালিকা আপডেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে তালিকায় থাকে এবং একই ব্যক্তির একাধিক নাম বা পুরনো ও অযোগ্য নাম যাতে তালিকায় না (SIR) থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকায় যোগ্য নাগরিকেরা নিজেদের নাম সংশোধন, সংযোজন বা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির (ECI) আবেদন করতে পারবেন।

     

LinkedIn
Share