Tag: Drug seizure

  • Indian Coast Guard: আরব সাগরে ৩০০০ কোটির মাদক আটক কোস্ট গার্ডের! ৫২৬ কেজি হেরোইন-মেথামফেটামিন উদ্ধার, ধৃত ৫ পাকিস্তানি

    Indian Coast Guard: আরব সাগরে ৩০০০ কোটির মাদক আটক কোস্ট গার্ডের! ৫২৬ কেজি হেরোইন-মেথামফেটামিন উদ্ধার, ধৃত ৫ পাকিস্তানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব সাগরে বড়সড় মাদক পাচারের চেষ্টা বানচাল করল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (ICG) এবং গুজরাটের অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমুদ্র ও আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে একটি সন্দেহভাজন ইরানি নৌকা আটক করা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫২৬ কেজি উচ্চমানের নিষিদ্ধ মাদক, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে আধিকারিকরা।

    সমুদ্রপথে নজরদারি, ধাওয়া করে আটক নৌকা

    ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর আরব সাগরে লক্ষদ্বীপের পশ্চিমে এই অভিযান চালানো হয়। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমুদ্র ও আকাশপথে একযোগে নজরদারি শুরু হয়। সন্দেহভাজন জলযানটির গতিবিধির উপর দীর্ঘক্ষণ নজর রাখার পর শুরু হয় ধাওয়া।

    শেষ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ইরানি নৌকাটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ৫২৬ কেজি উচ্চমানের মাদক উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ সামগ্রীর মধ্যে ছিল হেরোইন এবং মেথামফেটামিন। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বিপুল পরিমাণ মাদকের আনুমানিক মূল্য ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি।

    নৌকায় ছিল পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিক

    অভিযানের সময় ওই জলযানে থাকা পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আধিকারিকরা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তি বা সংগঠনের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অভিযান শেষে নৌকা, পাঁচজন ধৃত এবং বাজেয়াপ্ত মাদককে সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ এবং একাধিক তদন্তকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযান?

    ভারতের পশ্চিম উপকূল এবং আরব সাগর দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের নজরে রয়েছে। সমুদ্রপথে বিপুল পরিমাণ মাদক একবার ভারতের উপকূলে পৌঁছে গেলে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে উপকূল থেকে অনেক দূরে সন্দেহভাজন জলযান শনাক্ত করে আটক করা নিরাপত্তা এবং মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই অভিযানের বিশেষ তাৎপর্য হল, মাদকগুলি ভারতীয় মূল ভূখণ্ডে পৌঁছনোর আগেই তা আটক করা হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও মেথামফেটামিন দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবেশের আগেই পাচারচক্রের একটি বড় চালান আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

    এটিএস-এর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান

    ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অভিযানে সমুদ্রপথের নজরদারি ও আটক প্রক্রিয়ার সঙ্গে গুজরাট এটিএস-এর গোয়েন্দা সক্ষমতাও যুক্ত ছিল। অর্থাৎ এটি শুধুমাত্র একটি সামুদ্রিক আটক অভিযান নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য, সমুদ্র ও আকাশ নজরদারি এবং যৌথ তদন্তের সমন্বিত প্রয়াস।

    উপকূলরক্ষী বাহিনীর দাবি, এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের আর্থিক ভিত্তিতে আঘাত করা সম্ভব। বিশেষ করে হেরোইন ও মেথামফেটামিনের মতো উচ্চমূল্যের মাদক আটক হওয়ায় পাচারকারীদের বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

    মাদক পাচারের সঙ্গে ‘নার্কো-টেরর’ যোগের তদন্ত

    ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এই ধরনের আন্তর্জাতিক মাদক পাচার নেটওয়ার্ককে ‘ট্রান্সন্যাশনাল নার্কো-টেররিজম’-এর প্রেক্ষাপটে দেখছে। তবে এই নির্দিষ্ট চালানের সঙ্গে কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

    মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া পাঁচ ধৃত পাকিস্তানি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদে জলযানটির যাত্রাপথ, মাদকের উৎস, গন্তব্য এবং এর পিছনে থাকা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে। পাশাপাশি, পাচারকারীরা কোন সমুদ্রপথ ব্যবহার করেছিল এবং ভারতের উপকূলে তাদের সম্ভাব্য যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

    ‘নেশামুক্ত ভারত’ অভিযানের সঙ্গে যোগ

    ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযান কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান’-এর বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের বক্তব্য, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকায় মাদক পাচারের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।

    ৫২৬ কেজি মাদক উদ্ধারের ঘটনাটি সেই নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভারতীয় জলসীমা ও তার সংলগ্ন সামুদ্রিক অঞ্চলে সন্দেহভাজন জলযানের উপর নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা যে মাদক পাচার রুখতে গুরুত্বপূর্ণ, এই অভিযান তা আরও একবার সামনে আনল।

    তদন্ত এখন মূলত তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে— মাদকের উৎস কোথায়, গন্তব্য কোথায় ছিল এবং এই বিপুল চালানের পিছনে থাকা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে আর কারা যুক্ত। মুম্বইয়ে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ ও বহু-সংস্থার তদন্তে সেই উত্তরগুলি সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • NCB: বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক মাদক বাজেয়াপ্ত করল এনসিবি, বাজার মূল্য শুনলে চোখ কপালে উঠবে

    NCB: বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক মাদক বাজেয়াপ্ত করল এনসিবি, বাজার মূল্য শুনলে চোখ কপালে উঠবে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ড্রাগ-মুক্ত ভারত অভিযানে মিলল গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এই  প্রথমবার বিপুল পরিমাণ ক্যাপ্টাগন (Captagon) নামক সিন্থেটিক মাদক বাজেয়াপ্ত করল নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো, (এনসিবি) যার (NCB) আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ১৮২ কোটি টাকারও বেশি।

    ‘অপারেশন রেজপিল’ (NCB)

    আজ, শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এই সাফল্যের খবর জানান। তিনি এও জানান, ‘অপারেশন রেজপিল’ (Operation Ragepill) সফল হয়েছে। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে পাচারের লক্ষ্যে পাঠানো এই মাদকের চালান আটক করা এবং এক বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা ভারতের ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির উজ্জ্বল উদাহরণ।” এনসিবি কর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “ভারতের ভেতরে ঢোকা বা ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাইরে পাঠানো প্রতিটি গ্রাম মাদক চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ‘জেহাদি ড্রাগ ক্যাপ্টাগন’ কী? 

    প্রশ্ন হল, কী এই ‘জেহাদি ড্রাগ ক্যাপ্টাগন’? ‘ক্যাপ্টাগন’ হল ফেনেথাইলিন (Fenethylline) নামের একটি সিন্থেটিক অ্যাম্ফেটামিন-জাতীয় উত্তেজক মাদকের ব্র্যান্ড নাম। এটি ছয়ের দশকে অ্যাম্ফেটামিন এবং থিওফাইলিনের যৌগিক ওষুধ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। প্রথমদিকে এডিএইচডি, নারকোলেপসি এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হত। কিন্তু উচ্চ মাত্রার অপব্যবহারের ঝুঁকির কারণে আটের দশকে বিশ্বজুড়ে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে অবৈধভাবে তৈরি হওয়া ক্যাপ্টাগনে (বিশেষ করে সিরিয়া ও লেবাননে উৎপাদিত) সাধারণত অ্যাম্ফেটামিনের সঙ্গে ক্যাফেইন বা অন্যান্য রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে। ফলে ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত সতর্কতা, উচ্ছ্বাস, খিদে কমে যাওয়া এবং টানা বহুদিন না ঘুমিয়ে থাকার মতো প্রভাবও অনুভব করে।

    ‘কেমিক্যাল সাহস’

    মধ্যপ্রাচ্যের (NCB) সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলিতে ক্যাপ্টাগন ‘জিহাদি ড্রাগ’ নামে পরিচিতি পায়। সিরিয়ায় আইএসআইএস-সহ বিভিন্ন ইসলামি জঙ্গি সংগঠন একে ‘কেমিক্যাল সাহস’ (chemical courage) হিসেবে ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ। সংবাদমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এই মাদকের অবৈধ উৎপাদন ও পাচার যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির অর্থায়নের অন্যতম উৎস। এই মাদক জঙ্গি সংগঠনগুলি নিজেরা ব্যবহারও করে, আবার বিক্রিও করে। অভিযান চালিয়ে এনসিবি (NCB) প্রায় ২২৭.৭ কেজি এই মাদক উদ্ধার করেছে। এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ভারতে (Amit Shah) অবৈধভাবে ঢুকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই মাদক পাচারের চেষ্টা করছিল।

     

LinkedIn
Share