Tag: Durga Puja 2023

Durga Puja 2023

  • Lotus: অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কুঁড়ি, দুর্গাপুজোয় কতটা মিলবে অপরিহার্য পদ্মফুল?

    Lotus: অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কুঁড়ি, দুর্গাপুজোয় কতটা মিলবে অপরিহার্য পদ্মফুল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় দুর্গাপুজোয় পদ্মফুলের সঙ্কট দেখা দিতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা করছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পদ্মফুল চাষিরা। সময়ে বৃষ্টির অভাব এবং অসময়ের বৃষ্টিতে পদ্মফুল (Lotus) চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই দুর্গাপুজোয় পদ্মফুল পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জেলার পদ্ম চাষিরা। সেক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও অনেকে উড়িয়ে দিতে পারছেন না। কারণ, পুজোয় পদ্মফুল একটি অতি আবশ্যিক উপকরণ। পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে চাহিদা এবং জোগানের মধ্যে যে ভারসাম্য থাকবে না, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

    ফুল চাষে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব (Lotus)

    পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া ফুল উৎপাদনে রাজ্যের প্রথম সারিতে। অন্যান্য ফুলের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পদ্মফুলের চাষ হয় কোলাঘাটের সাগরবাড় সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে। মূলত, রেল লাইনের পাশের জলাশয়গুলিতে পদ্মফুল (Lotus) চাষ হয়। চৈত্র মাস থেকে শুরু করে পদ্মফুলের চাষ চলে আশ্বিন-কার্তিক মাস পর্যন্ত। এই সময়ে অন্যান্য পুজোর পাশাপাশি মূলত দুৰ্গাপুজোকে লক্ষ্য রাখেন জেলার পদ্মচাষিরা। কারণ, এই ফুল দুর্গাপুজোয় অপরিহার্য হওয়ায় বাড়তি লাভের আশায় মুখিয়ে থাকেন পদ্মচাষিরা। কিন্তু এবার সেই আশায় বাধা হয়েছে প্রকৃ্তির বিরূপ আচরণ। পদ্মফুল চাষের জন্য এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব দেখা দেয় জুন-জুলাই মাসে। আর তাতেই জোগানে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

    ফুল চাষিদের কী বক্তব্য?

    ফুল চাষিদের বক্তব্য, জলহাওয়া খুব খারাপ। জল বেড়ে গিয়েছে। কুঁড়িগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পুজোয় জোগান খুব কম থাকবে। এখানকার যা পরিস্থিতি, তা দেখে মনে হচ্ছে, পুজোয় বাজার ভালো যাবে না। বারবার নিম্নচাপ হচ্ছে। আবহাওয়া তো সব খেয়ে যাচ্ছে। গাছ বাড়ছে, কুঁড়িও আসছে, কিন্তু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে, পুজোয় ফুলের চাহিদা অনুযায়ী জোগান দেওয়া যাবে কি না সন্দেহ রয়েছে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: শারদোৎসবে দুর্গাপুজো নয়, মনসা পুজোয় মাতেন বালুরঘাটের ফুলঘরাবাসী

    Durga Puja 2023: শারদোৎসবে দুর্গাপুজো নয়, মনসা পুজোয় মাতেন বালুরঘাটের ফুলঘরাবাসী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথিত আছে, প্রায় তিনশো থেকে সাড়ে তিনশাে বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্গার (Durga Puja 2023) আসনে মা মনসার পুজো হয়ে আসছে বালুরঘাটের ফুলঘরা গ্রামে। পুরনাে নিয়ম-রীতি এবং রেওয়াজ কিছুই বদলায়নি আজও। মায়ের কাছে নিষ্ঠা সহকারে কোনও কিছু চাইলে তা পূর্ণ হয়, এমনটাই বিশ্বাস গ্রামবাসীদের।

    কীভাবে শুরু?

    জনশ্রুতি রয়েছে, বহুকাল আগে ফুলঘরা গ্রামের অনেকেই সর্পাঘাতে মারা গিয়েছিলেন। শুধুমাত্র মানুষ নয়, সর্পাঘাতে অনেক পশুও মারা গিয়েছিল। অনেক কিছু করেও সর্পাঘাতে মৃত্যু প্রতিরােধ করতে পারছিলেন না গ্রামবাসীরা। সেই সময় গ্রামের এক ব্যক্তি স্বপ্ন দেখেন, গ্রামে মনসা পুজো করলেই কেউ আর সর্পাঘাতে মারা যাবে না। এর পর আত্রেয়ী নদীতে এক দিন স্নান করতে গেলে মা মনসার কাঠামো ভেসে যেতে দেখেন তিনি। গ্রামবাসীরা সেই কাঠামো তুলে নিয়ে এসে মন্দিরে স্থাপন করে মা মনসার পুজো শুরু করেন। প্রথমে শ্রাবণ মাসে এই পুজো শুরু হয়। গােটা এলাকায় কোনও দুর্গাপুজো না হওয়ায় সেই পুজোর সময়টা বদলে শারদোৎসবে (Durga Puja 2023) মা মনসার পুজো শুরু হয়। সেই থেকে শুরু হয় দুর্গার আসনে মা মনসার পুজো।

    সবাই একত্রিত হন পুজোয়

    এখনও সেই একই নিয়ম-রীতিতেই এই পুজো করে আসছে ফুলঘরা বারােয়ারি মনসা পুজো কমিটি। পুজোর কয়েকটা দিন চন্ডী ও মনসামঙ্গল গান হয়। মেয়ে-আত্মীয়রা সব এই সব গ্রামে আসে। এখানে মা মনসার এক পাশে থাকেন দেবী লক্ষ্মী। অপর পাশে থাকেন দেবী সরস্বতী (Durga Puja 2023)। পুজোর চার দিন নিয়ম মেনে গ্রামের সকলে নিরামিষ খাবার খান। দেবী দুর্গার সমস্ত নিয়ম মেনেই ফুলঘরা গ্রামে মা মনসা পূজিতা হন। পুজোর সময় গ্রামে সবাই একত্রিত হন। আজও এই পুজোকে ঘিরে মেতে ওঠেন গ্রামের আট থেকে আশি সকলেই। বহিরাগত শিল্পী ও স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা পুজো প্রাঙ্গনে নাটক থেকে যাত্রাগান অনুষ্ঠিত হয়। পুজোর কয়েকটা দিন মেলাও বসে ফুলঘরা গ্রামে। স্থানীয় ছেলেমেয়েরাও বেশির ভাগ সময় গ্রামেই কাটান। 

    আর কেউ সাপে কেটে মারা যাননি

    এবিষয়ে সান্ত্বনা মণ্ডল জানান, তাঁদের পূর্বসূরি গুদর মণ্ডল এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁদের জায়গাতেই পুজোটা হয় এখনও। তবে এখন বারােয়ারি হিসেবেই পুজোটা হয়। গুদর মণ্ডল বহু দিন আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজো শুরু করেন। তার পর থেকে এই গ্রামে সাপে কেটে বা বিষে কেউ আর মারা যায়নি। বংশ পরম্পরায় বাদ্যকর, পুরােহিত ও মৃৎশিল্পী কাজ করে আসছেন। এমনকি পুজোর বায়না দিতেও হয় না বা ডাকতে হয় না। সময় মতো চলে আসেন সকলেই। পুরােনাে সেই রীতি রেওয়াজ মেনেই আজও পুজো হয় এখানে। এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শিরিষ মাহাতো জানান, পুজোর কয়েক দিন গ্রামে ফিরে আসে সব বাড়ির ছেলেমেয়েরা। পাশাপাশি গ্রামবাসীরা পুজোর কয়েকটা দিন আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। পুজোয় দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। মানত করেন তাঁরা। মানত পূরণ হলে মাকে বিভিন্ন অলঙ্কার দেন (Durga Puja 2023)। 

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: উলুবেড়িয়া থেকে মা দুর্গা সপরিবারে পাড়ি দিচ্ছেন দুবাই ও লুক্সেমবার্গ 

    Durga Puja 2023: উলুবেড়িয়া থেকে মা দুর্গা সপরিবারে পাড়ি দিচ্ছেন দুবাই ও লুক্সেমবার্গ 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শরৎকাল মানেই কাশফুলের সমাহার ও আগমনীর বার্তা। শরতের নীল আকাশে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে পেঁজা তুলোর মতো মেঘের ভেলা। নদীর পাড়ের কাশ ফুলের সমাহার যেন সর্বত্র পুজো পুজো গন্ধ ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর হাতে অল্প কটা দিন। তাই ব্যস্ততাও এখন চরমে। শেষ মুহূর্তের পুজো (Durga Puja 2023) প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। সময় থাকতেই রাজ্যে বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন ও বাড়ির পুজোর জন্য প্রতিমার বায়না সারা হয়ে গিয়েছে। প্রতিমা শিল্পীরাও এখন শেষ মুহূর্তের কাজ সারতে ব্যস্ত। এই সবের মধ্যেই এই বছর কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীকে সঙ্গে নিয়ে উলুবেড়িয়ার ময়রাপাড়া থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে পাড়ি দিতে প্রস্তুত দেবী উমা। উচ্চতায় ২০ ইঞ্চির এই মাটির দুর্গা প্রতিমা এই সপ্তাহেই বিমানে করে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেবে। উলুবেড়িয়ার ময়রাপাড়ার মৃৎশিল্পী সঞ্জীব চন্দ্র প্রতিমাটি তৈরি করেছেন।

    সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই বরাত (Durga Puja 2023)

    মৃৎশিল্পী বলেন, ‘মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই আমি এই বরাত পেয়েছি। আমার একটি পেজ আছে সেখানে আমার কাজ দেখে কলকাতা নিবাসী দেবাশিষ ও তাঁর স্ত্রী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওনারাই কলকাতা থেকে বিমানে এই প্রতিমা নিয়ে দুবাইতে পাড়ি দেবেন। এই প্রতিমার (Durga Puja 2023) কাজ এখন সম্পূর্ণ। এছাড়াও গত বছর আমার তৈরি ফাইবারের প্রতিমা লুক্সেমবার্গে গিয়েছিল, এবারেও ১২ ইঞ্চির আরও একটি দুর্গা প্রতিমা লুক্সেমবার্গে যাবে।’ শুধু ভারতে নয়, দুর্গাপুজোর সময় দেশের বাইরে  বিদেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাঙালিরাও একইভাবে আনন্দে মেতে ওঠেন। তাই বিদেশেও দুর্গা প্রতিমার চাহিদা বেশ ভালোই। ইতিমধ্যে কু্মোরটুলি থেকে দুর্গা প্রতিমা বিদেশে পাড়ি দিলেও এবার উলুবেড়িয়া থেকেও দুবাই পাড়ি দিচ্ছেন মা দুর্গা।

    তৈরি করতে সময় লেগেছে ২২ দিন (Durga Puja 2023) 

    প্রতিমশিল্পী সঞ্জীব চন্দ্র আরও বলেন, ‘গত বছর আমার তৈরি কালী প্রতিমা বিদেশে গেলেও এই প্রথম আমার তৈরি দুর্গা প্রতিমা দুবাই যাচ্ছে। কলকাতার বাসিন্দা দেবাশিস সাধ্য এবং পাপিয়া সাধ্য আমাকে এই প্রতিমার (Durga Puja 2023) বায়না দিয়েছেন। প্রতিমার সমস্ত অস্ত্র এবং অলঙ্কার আমি এবং আমার স্ত্রী তৈরি করেছি। প্রতিমাটি তৈরি করতে আমার ২২ দিন সময় লেগেছে। মূলত মাটি, অ্যালুমিনিয়াম তার দিয়ে প্লাই-এর উপর তৈরি হয়েছে। এ বছর তিনি ছোট-বড় সব মিলিয়ে মোট ১০ টি প্রতিমা তৈরি করেছেন। এই বছর প্রতিমা তৈরির বরাত বিদেশ থেকে আসার কারণে যথেষ্টই আনন্দিত উলুবেড়িয়ার ময়রাপাড়ার বাসিন্দা চন্দ্র পরিবার। সামনের বছরেও এভাবেই প্রবাসে থাকা বাঙালিদের জন্য প্রতিমা তৈরিতে মনোনিবেশ করবেন। নিজের তৈরি প্রতিমা বিদেশে পাড়ি দেওয়াতে যথেষ্টই খুশি শিল্পী সঞ্জীব চন্দ্র।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: মহিষাদল রাজবাড়ির পুজোয় ভালো ফসলের আশায় আজও দেবীর পাশে থাকে ধান

    Durga Puja 2023: মহিষাদল রাজবাড়ির পুজোয় ভালো ফসলের আশায় আজও দেবীর পাশে থাকে ধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগেকার সেই জৌলুস, আড়ম্বর আজ অনেকটাই কমে গিয়েছে। কিন্তু নিয়ম মেনেই প্রতিপদে ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) দেখতে আজও ভিড় জমান দূরদূরান্তের পাশাপাশি  স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিমা দর্শন করতে আসেন ভিন রাজ্য, ভিন জেলার দর্শনার্থীরাও।

    অশ্বত্থ গাছের তলায় নটি ঘট ওঠে

    রানি জানকীর আমলে আনুমানিক ১৭৭৬ সালে মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয়। সেই সময় থেকেই রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। রাজত্ব চলে যাওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2023) জৌলুস কমেছে। কিন্তু, নিয়ম-আচারে ছেদ পড়েনি। তাই প্রথা অনুযায়ী মহালয়ার পরদিন অর্থাৎ প্রতিপদের দিন ঘট স্থাপন করে মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। এ প্রসঙ্গে এই রাজবাড়ির সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ বলেন, ‘মহালয়ার পরের দিন রাজবাড়ির দুর্গামণ্ডপ লাগোয়া অশ্বত্থ গাছের তলায় নটি ঘট ওঠে। ষষ্ঠী থেকে প্রতিদিনই ঘটপুজো হবে। সপ্তমী থেকে মূর্তি পুজো হবে। প্রতিমার একপাশে ঘট, অন্যপাশে ধান রাখা হয়। এই দুর্গাপুজো করার পরই শুষ্ক গ্রামে ধান ফলেছিল। তাই ভালো ফসলের আশায় আজও দেবীর পাশে ধান রাখা হয়।

    সাদা পদ্মে মায়ের পুজো

    পুজোয় ১০৮টি নীলপদ্ম দেওয়ার চলও রয়েছে, যা আসত উত্তরপ্রদেশ থেকে। কিন্তু এখন তা আর হয় না, সাদা পদ্মে মায়ের পুজো হয়। আগে মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় যাত্রাপালা, ভোগ বিতরণ, কামান দেগে সন্ধিপুজো, বিসর্জনের শোভাযাত্রা সবই হত। এই রাজবাড়ির সদস্য হরপ্রসাদবাবু জানিয়েছেন, পুজোর দিনগুলিতে ঠাকুরদালানেই যাত্রা হত। রাজবাড়ির মহিলারা পর্দার আড়াল থেকে যাত্রা দেখতেন। পুজোর দিন অনুযায়ী ভোগ রান্না হত। যেমন, ষষ্ঠীতে ছয় মন, সপ্তমীতে সাত মন, অষ্টমীতে আট মন, নবমীতে নয় মন চালের প্রসাদ তৈরি করে বিতরণ করা হত। এখন তা আর সম্ভব হয় না। অষ্টমীর সন্ধ্যায় কামান দেগে রাজবাড়ি সহ আশপাশের এলাকার পুজোমণ্ডপে সন্ধিপুজো (Durga Puja 2023) শুরু হত। দশমীতে বড় নৌকায় করে শোভাযাত্রা বেরতো এবং রাজবাড়ির সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া হিজলি টাইডাল ক্যানাল হয়ে গেঁওখালিতে রূপনারায়ণ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হত। এখন সে সবই অতীত। রাজত্ব ঘোচার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রাপালা বন্ধ হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে অবশ্য এখনও ভোগ রান্না করা হয়। কিন্তু তা যৎসামান্য।

    কামানের পরিবর্তে আতশবাজি

    এদিকে সরকার কামান দাগায় নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সেটাও ইতিহাসের খাতায় চলে গিয়েছে। এখন কামান দাগার পরিবর্তে আতসবাজির রোশনাইয়ের মধ্যে দিয়ে সন্ধিপুজো করা হয়। বিসর্জনের শোভাযাত্রাও অতীত। রাজবাড়ি লাগোয়া রাজদিঘিতেই প্রতিমা (Durga Puja 2023) বিসর্জন দেওয়া হয়। তবে আড়ম্বর কমলেও ঐতিহ্যের টানে আজও বহু মানুষ মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় সামিল হন। দর্শনার্থীদের যাতে কোনও রকম অসুবিধে না হয়, তার জন্য বর্তমান রাজ পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নজরে রেখেছেন। পুজোয় আগত দর্শনার্থী বা পর্যটকদের পরিষেবা দিতে রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে মূল্য দিয়ে থাকতে হবে। মহিষাদল রাজবাড়ির বর্তমান প্রজন্ম হিসাবে রাজবাড়ি দেখাশোনা করে থাকেন শংকরপ্রসাদ গর্গ ও হরপ্রসাদ গর্গ। রাজবাড়ির পুজো দেখতে এবং রাজবাড়ির অপরূপ পরিবেশের অনুভূতি নিতে আসতেই হবে মহিষাদলে।।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: আয় নামমাত্র, তবুও জীর্ণ চেহারা নিয়ে এঁকে চলেছেন দেবী দুর্গার পটচিত্র!

    Durga Puja 2023: আয় নামমাত্র, তবুও জীর্ণ চেহারা নিয়ে এঁকে চলেছেন দেবী দুর্গার পটচিত্র!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি বছর রাজ্যের পুজো (Durga Puja 2023) উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক অনুদান বাড়িয়ে চলেছেন। অথচ যাঁদের জন্য এই দুর্গাপুজো, তাঁরা পড়ে রয়েছেন সেই তিমিরেই। তাঁদের তৈরি দেবী দুর্গার পটচিত্রের দাম তো বাড়েইনি, একই সঙ্গে নেই কোনও সরকারি সাহায্য। বাধ্য হয়ে দিনের পর দিন বাড়িতে বসে স্বামী-শ্বশুরের এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন রেবাদেবীর মতো বৃদ্ধারা। বয়স ৫০ পার করেছে অনেকদিন আগে। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। তবুও জরাজীর্ণ বারান্দার নিচে বসে জনতার স্টোভে সাবুর আঠা জ্বাল দিয়ে পটচিত্র এঁকে চলেছেন ঘূর্ণির পটুয়াপাড়ার রেবা পাল।

    জীবন ধারণের একমাত্র পথ (Durga Puja 2023)

    পাল বাড়িতে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই দেখছেন শশুর ও স্বামীর পটচিত্র আঁকা। ধীরে ধীরে রেবাদেবীও স্বামী-শ্বশুরের মৃত্যুর পর তাঁদের শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এগিয়ে এসেছেন। আর এই শিল্পই এবার জীবন ধারণের একমাত্র পথ ও অবলম্বন। দেবদেবীকে নিয়ে তৈরি পটচিত্র কলকাতার কুমোরটুলি সহ রাজ্য ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয়। সারা বছর কমবেশি কাজ থাকলেও দুর্গাপুজোর সময় (Durga Puja 2023) পটচিত্রের চাহিদা থাকে বেশি। খাটুনি অনুসারে পয়সা নেই, তবুও জীবন জীবিকা নির্বাহ হিসেবে পটচিত্র শিল্পকেই বেছে নিয়েছেন রেবাদেবী।

    কী বলছেন বৃদ্ধা শিল্পী?

    দেখতে দেখতে ৫০ বছর হয়ে গেল এই কাজে। স্বামীর হেল্পার হিসেবে প্রথম জীবনে কাজ শুরু। কারণ, স্বামীর অঙ্গহানি হওয়ায় একটা হাত তিনি তুলতে পারতেন না। কলকাতায় নিজেই একা গিয়ে বিক্রি করে এসেছেন। গেছেন বিধাননগর, কুমোরটুলি। এখন একাই কাজ করছেন। সারা বছর কাজ হয়? উত্তরে তিনি বললেন, একদিনের কাজ এটা নয়। সারা বছর টুকটাক কাজ করে রাখি। কিন্তু একেকটা পটচিত্রের (Durga Puja 2023) দাম খুব কম, ১০০ টাকার মধ্যে। যে হারে পরিশ্রম করি, সেই অনুযায়ী কিছুই পাই না। সরকারি সাহায্য বলতে ওই এক হাজার টাকা বার্ধক্য ভাতা। কিন্তু এই শিল্পের জন্য কিচ্ছু সাহায্য পাই না। সবাই আসে, শুনে যায়, কিন্তু কেউই সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেয় না। পরবর্তী প্রজন্ম কি এই ধরনের কাজে এগিয়ে আসছে? প্রশ্ন শুনে বৃদ্ধার সাফ জবাব, আসবে কী করে? পয়সা নেই তো। বিক্রিও যে আছে, তাও নয়। আগে দাম কম থাকলেও চাহিদা ভালোই ছিল। কিন্তু কম্পিউটার ওঠার পর থেকে সেটাও গেছে, আক্ষেপ ঝরে পড়ল বৃদ্ধার গলায়।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: ‘ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে’ দুর্গাপুজোয় আসতেন মহানায়ক উত্তম কুমার, ওড়াতেন ঘুড়িও

    Durga Puja 2023: ‘ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে’ দুর্গাপুজোয় আসতেন মহানায়ক উত্তম কুমার, ওড়াতেন ঘুড়িও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘মুকুটটা তো পড়ে আছে, রাজাই শুধু নেই’। এ গান যিনি লিখেছিলেন, তখন কি তিনি জানতেন জানতেন যে তাঁর ভালোবাসার রাজপ্রাসাদেও এক সময় নিশুতি রাত গুমরে কাঁদবে? বাংলার প্রবাদপ্রতীম সংগীতকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা গান আজও বাঙালির মনের মণিকোঠায়৷ সেই পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ‘সালিখা হাউসের’ দুর্গাপুজোয় এক সময় আসতেন মহানায়ক উত্তমকুমার। গান গাওয়া ছাড়াও মহানায়ক ঘুড়ি ওড়াতেন ছাদ থেকে। এই বাড়িতে এসে গান গেয়েছেন অপরেশ লাহিড়ী, তবলা বাজিয়েছেন বাপী লাহিড়ীও। নানা ইতিহাসের সাক্ষী পুলক বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজো (Durga Puja 2023) এবার ২৮৩ তম বর্ষে পা দিচ্ছে।

    মহালয়ার পর থেকেই ঘট পুজো 

    ‘বাবুদের বাড়ি’ নামে পরিচিতি এই বাড়িতেই প্রায় তিনশো বছর আগে আসেন জমিদার রাধামোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীকালে বাবুডাঙ্গা নামে পরিচিত হয় এলাকাটি। এই বাড়িতেই জন্ম পুলকবাবুর, ১৯৩১ সালে। এই বাড়িতেই লেখা হয়েছে বাংলার কত কালজয়ী গান। শিল্পীর মৃত্যুর পর থেকেই জৌলুস কমেছে এই পুজোর। মহালয়ের পর থেকেই ঘট পুজো শুরু হয়ে যায়। আগে নবমীতে মোষ বলি হলেও এখন ফল বলি হয়। তবে এই পুজোয় (Durga Puja 2023) ঠাকুরকে বাসি ভোগ দেওয়া হয় দশমীতে। ঠাকুর বাইরে থেকে আনা হয় না। গায়কের বাড়ির দালানেই ঠাকুর তৈরি হয়।

    ভোগে ল্যাটা মাছ পোড়ানো

    ভাইপো সুস্মিত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, একই রীতি মেনে এখনও তিনি ও তাঁর পরিবার পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন। জন্মাষ্টমীতে প্রতিমায় মাটি লাগানোর কাজ শুরু হয় ঠাকুর দালানে। মহালয়ার  পরের দিন থেকে বাড়ির ঠাকুর ঘরে পুজো শুরু হয়। ষষ্ঠীতে বরণ করে শুরু হয় পুজো। সপ্তমীতে কলা বউ স্নান হয় গঙ্গায় নিজেদের ‘বাঁড়ুজ্জে ঘাটে’। অষ্টমীতে কুমারী পুজো ও ধুনো পোড়ানো হয়। সধবা পুজো এবং সন্ধি পুজো হয়৷ নবমীতে হয় ফল বলি। পুজোর (Durga Puja 2023) প্রতিদিন চণ্ডী পুজো হয়। দশমীর দিন দেবীকে দেওয়া হয় বিশেষ বাসি ভোগ, যা নবমীর দিন তৈরি করেন বাড়ির মহিলারা। সেই ভোগে থাকে পান্তা ভাত, চালতা দিয়ে মুসুর ডাল, কচুর শাক, চচ্চরি আর মূল হল ল্যাটা মাছ পোড়ানো৷ এরপর দশমীতে সন্ধ্যেবেলা বরণ হয়ে ‘বাঁড়ুজ্জে ঘাটে’ দেবীর নিরঞ্জন হয়। 

    সুস্মিতবাবু জানান, এখন বাড়িতে শুধু তাঁদের পরিবার থাকে। এভাবেই তাঁরা আগামী দিনে ঐতিহ্য বজায় রেখে পুজো (Durga Puja 2023) চালিয়ে যাবেন।

  • Durga Puja 2023: পুজোর মহাস্নানের তেল, অগরু, সুগন্ধি নিজে হাতে তৈরি করে কর্মসংস্থানের দিশা

    Durga Puja 2023: পুজোর মহাস্নানের তেল, অগরু, সুগন্ধি নিজে হাতে তৈরি করে কর্মসংস্থানের দিশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো ভারতবর্ষ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ খুবই নিষ্ঠা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দুর্গাপুজো করে থাকেন। দুর্গাপুজোতে বেশ কিছু উপকরণের ব্যবহার করা হয়। এই সমস্ত উপকরণ একমাত্র দশকর্মা ভান্ডারেই সাধারণত পাওয়া যায়। উপকরণগুলির মধ্যে রয়েছে তিলের তেল, মহাস্নানের তেল, মহাস্নানের জল, অগরু, বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি তেল, মধু ইত্যাদি। এইসব উপকরণ ছাড়া কখনই দুর্গাপূজো (Durga Puja 2023) সম্পূর্ণ হয় না। পৌরাণিক নিয়মনীতি অনুযায়ী এই উপকরণগুলি ছাড়া দূর্গাপুজো অসম্পন্ন। আর এই সমস্ত উপকরণ নদিয়ার মাজদিয়ার বাসিন্দা সুনীল দাস নিজের হাতে তাঁর বাড়িতে তৈরি করেন। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তাঁর বাবার কাছ থেকেই তিনি এই ধরনের উপকরণ তৈরির পদ্ধতি শিখেছেন বলে জানান।

    নিষ্ঠার সঙ্গে তৈরি করতে হয় (Durga Puja 2023)

    সুনীল দাসের মতে, এই উপকরণগুলি তৈরি করতে হয় নিষ্ঠার সঙ্গে। যেহেতু এগুলি পুজোতে (Durga Puja 2023) ব্যবহৃত হয়, তাই তৈরি করতে কিছু নিয়ম মানতে হয়। স্নান করে, কখনও উপোস করে বা নিরামিষ খেয়ে উপকরণগুলি তৈরি করতে বসতে হয়। কখনই অনিয়ম করে এই উপকরণগুলি তৈরি করার নিয়ম নেই বলে তিনি দাবি করেন। ২৫ বছর ধরে তিনি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। আলতা সিঁদুর, কৌটো সিঁদুর, পাতা সিঁদুর, অগরু, তিন রকমের তেল, মহাস্নানের জল, গোলাপ জল ,আতর, বিভিন্ন সুগন্ধি সমস্ত কিছুই একা নিজের হাতে তৈরি করতে পারেন তিনি।

    সুযোগ কর্মসংস্থানের (Durga Puja 2023)

    সুনীলবাবু বললেন, বর্তমানে এই উপকরণগুলির চাহিদা খুব। তিনি সময়মতো উপকরণগুলি তৈরি করে ফেলেন এবং সঠিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিয়ে থাকেন। এছাড়াও বর্তমানে একাধিক পুজো হওয়ার ফলে তার উপকরণগুলির (Durga Puja 2023) চাহিদাও দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাঁর তৈরি উপকরণগুলি তিনি দিয়ে থাকেন রানাঘাট, কল্যাণী, চাকদা, কাঁচরাপাড়া, কৃষ্ণনগর ইত্যাদি এলাকায়। তবে তিনি সরকারের কাছে দাবি করেছেন কিছু আর্থিক সাহায্যের, যা দিয়ে তিনি একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করে উপকরণগুলি আরও যাতে তাড়াতাড়ি ও নিষ্ঠাভাবে তৈরি করতে পারেন। যদি তা সম্ভব হয়, তাহলে তিনি আরও বেশ কয়েকজনের সংসারের ভার একাই নিয়ে নিতে পারবেন বলে দাবি তাঁর।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: দিনাজপুরের ঘোষ পরিবারে দশমীর সকালে ছোট্ট নৌকা বানিয়ে তার পুজো হয়!

    Durga Puja 2023: দিনাজপুরের ঘোষ পরিবারে দশমীর সকালে ছোট্ট নৌকা বানিয়ে তার পুজো হয়!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথিত আছে, বর্ধমানের গ্রাম থেকে নদীপথে দিনাজপুরের পতিরামে এসে ব্যবসা শুরু করে ঘোষ পরিবার। নৌকা ও বজরা নিয়ে এই অঞ্চল থেকে ধান ও পাটের আমদানি-রফতানি ব্যবসায় ফুলেফেঁপে ওঠে তাদের পরিবার। ইংরেজির ১৮৯০ এর দশকে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জমিদারি অর্জন করে ঘোষ পরিবার। ১৯৩০ সালে পতিরামের বিশাল এলাকা জুড়ে জমিদার বাড়ি তৈরি করেন পরিবারের সদস্যরা। যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসকে সাক্ষী করে। অন্য জমিদারদের মতোই নিজেদের আভিজাত্য প্রকাশের জন্য শুরু হয় দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023)। সেই সময় জমিদারের লোকবল, অর্থবল দুই-ই ছিল। ফলে পুজোর মাস জুড়েই নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করা হত। পুজোর পাঁচ দিন এলাকার মানুষ জমিদার বাড়িতেই মধ্যাহ্নভোজন সারতেন। রাতেও অতিথি-অভ্যাগতদের জন্য থাকত খাবারের আয়োজন। নানা রকমের যাত্রা, কবিকীর্তন, বাউল ও মনসামঙ্গল গানের আসর বসত জমিদার বাড়ির দালানে। এখন কালের গতিতে অর্থবল, লোকবল কমেছে। কমেছে পুজোর জৌলুস। এখন আর সেভাবে অর্থ খরচ করার মতো সামর্থ্য নেই। ফলে কাটছাঁট করতে হয়েছে পুজোর বাজেটে। পুজোর বাজেট ছোট হলেও আয়োজন বা যে রীতি রেওয়াজ, সেখানে কোনওরকম খামতি রাখতে চান না প্রতিরামের জমিদার পরিবারের বর্তমান সদস্যরা।

    পারিবারিক মিলন উৎসব (Durga Puja 2023)

    পতিরামের জমিদার বাড়ির পুজো দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী বনেদি বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। ইতিমধ্যেই প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে মন্দিরে। কেননা আর খুব একটা সময় নেই হাতে। তাই ব্যস্ততা শুরু। জন্মাষ্টমীর দিন থেকেই দুর্গাপ্রতিমার মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয়। ঘোষ বাড়ির দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) প্রায় সাত পুরুষ আগে শুরু হয়। সঠিক বয়স বলতে না পারলেও কম করে তা ২০০-২৫০ বছরের পুরনো৷ পুরনো রীতি রেওয়াজ মেনে এখনও পুজো হলেও নেই আগের মত জৌলুস। জমিদারবাড়ির উত্তরসূরিরা বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেন। বর্তমানে পতিরাম জমিদার বাড়িতে সাগর ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা ঘোষ থাকেন। তবে পুজোর মধ্যে সকলে আবার একত্রিত হন। এই জমিদার বাড়ি পুজোকে কেন্দ্র করেই হয় পরিবারের মিলন উৎসব।

    ছোট্ট নৌকা বানিয়ে তার পুজো (Durga Puja 2023)

    অতীতে এই পুজোতে মহিষ, পাঁঠা, লাউ, আখ প্রভৃতি বলির প্রচলন থাকলেও সেই সব রীতি তুলে দিয়েছে এই জমিদার বাড়ির বর্তমান প্রজন্ম। এই পুজোতে বিভিন্ন খ্যাতনামা স্বাধীনতা সংগ্রামীর আনাগোনা ছিল বলেও জানা গেছে। অতীতের রীতি মেনেই এখনও নিষ্ঠার সাথে পুজো (Durga Puja 2023) চলছে এই জমিদার বাড়ির বর্তমান গৃহকর্তা সাগর কুমার ঘোষের হাত ধরে। যেহেতু ঘোষ পরিবারের ব্যবসা ছিল নদীকেন্দ্রিক এবং আমদানি-রফতানির, তাই এখনও নিয়ম মেনে পুজোর শেষ দিন অর্থাৎ দশমীর সকালে ছোট্ট নৌকা বানিয়ে তার পুজো হয়। এবং সেই নৌকা মাথায় করে মূল বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে সারা বছর সেই নৌকা বাড়ির ঠাকুর ঘরে রাখা থাকে। এখনও জেলার অন্যান্য পুজোতে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি জেলাবাসী পতিরাম ঘোষ বাড়ির দুর্গাপুজো একবার হলেও দেখতে আসেন।

    সাত পুরুষের পুরনো পুজো (Durga Puja 2023)

    এবিষয়ে জমিদার বাড়ির উত্তরসূরী সাগরকুমার ঘোষ বলেন, আমাদের এই পুজো (Durga Puja 2023) ৭ পুরুষ পুরনো পুজো। প্রতিমা বিসর্জনের দিন থেকে পরের বছর পুজোর প্রস্তুতি চলে। আমরা স্বামী স্ত্রী দুজনে এই বাড়িতে থাকি। আমরা দুজনে প্রস্তুতি করি। আমাদের পুজোতে আগে বলি ছিল। আমরা এখন বলি প্রথাটা উঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের পুজোর বিশেষত্ব হল নৌকাকে ডিঙি করে সেই নৌকাতে পুজো হয়। দশমীর দিন সেই ডিঙিকে বিভিন্নভাবে সাজিয়ে মণ্ডপে পুজো করে পুজোর পর বাড়িতে যে বয়স্ক মানুষ থাকে, সে মাথায় করে বসত বাড়িতে আনে। এটাই আমাদের পুজোর বিশেষত্ব। পুজোর পাঁচদিন এলাকার সমস্ত মানুষ এখানে এসে আনন্দ করে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: মা দুর্গা পরিচিত “পাতি মা” নামে, ধুমধাম করে চারদিন ধরে পুজো হয় শুধু মস্তক!

    Durga Puja 2023: মা দুর্গা পরিচিত “পাতি মা” নামে, ধুমধাম করে চারদিন ধরে পুজো হয় শুধু মস্তক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এলাকার বাসিন্দারা তাঁকে “পাতি মা” বলেই ডাকেন। ধুমধাম করেই পুজো (Durga Puja 2023) হয়। কাঁকসা থানার গোপালপুরের পশ্চিম পাড়ায় মণ্ডল, দে আর দত্ত পরিবারের “পাতি মা”। পাতি মা সপরিবারে আসেন না। শুধু তাই নয়, তিনি শরীর নিয়েও আসেন না। তাঁর মস্তক পুজো হয় চারদিন ধরে। ২০০ বছরের বেশি সময় ধরেই চলে আসছে এই পাতি মা-এর পুজো।

    শুধু মস্তক পুজো নিয়ে ভিন্ন মত

    কিন্তু কেন এই মস্তক পুজো আর কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার কোনও তথ্য নেই। বর্তমান প্রজন্মের দুটি মত রয়েছে। একটি মতে, দেবী দুর্গা স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন, প্রতিমা গড়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের দরজা খোলা যাবে না। কিন্তু ধৈর্য্য না রাখতে পেরে মন্দিরের দরজা খোলা হয় আর দেখা যায়, দেবীর মস্তক রয়েছে আর কিছুই নেই। তবে অন্য অংশের মতে, মাটির তৈরি মন্দির ছিল। মন্দিরে দেবীর প্রতিমা তৈরি সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। পুজো (Durga Puja 2023) দিন কয়েক বাকি। সেই সময় প্রবল বর্ষণে মন্দির ভেঙে যায় এবং দেবীর মস্তকটি শুধু রক্ষা পায়। কীভাবে পুজো হবে, এই চিন্তার পাশাপাশি পুজো না করলে অমঙ্গল হবে, এই আশঙ্কায় গোটা পরিবার চিন্তায় পড়ে যায়। তখনই পরিবারের কর্তাকে দেবী স্বপ্নাদেশ দেন মস্তক পুজো করতে এবং তিনি এভাবেই পুজো নেবেন। সেই থেকেই ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে  চলে আসছে মণ্ডল, দত্ত এবং দে পরিবারের পাতি মা’র পুজো।

    কী বললেন উদ্যোক্তারা?

    এই পুজোরই এক উদ্যোক্তা উৎপল দত্ত বলেন, রানীসায়ের থেকে নবপত্রিকা নিয়ে আসা হয় এবং চারদিন ধরেই পুজো (Durga Puja 2023) চলে ধুমধাম করে। তবে পাতি মায়ের নিরঞ্জন রাতে হয় না, দশমীর দিন নবপত্রিকা নিরঞ্জনের সময় দেবীর মস্তক নিরঞ্জন হয়। তবে একই ভাবে মস্তক পুজো হয় দেবশালা পঞ্চায়েতের দেবশালার বক্সি পরিবারের এবং একই পঞ্চায়েতের পুরশায় শুধুমাত্র মস্তক পুজো হয়।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Handloom Sarees: পুজোর মুখেও ওঁরা বিষণ্ণ, করুণ অবস্থা বেগমপুরের তাঁত শিল্পীদের

    Handloom Sarees: পুজোর মুখেও ওঁরা বিষণ্ণ, করুণ অবস্থা বেগমপুরের তাঁত শিল্পীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই শারদোৎসব। কাশফুলের সমাহার ইতিউতি জানান দিচ্ছে, আর বেশি দিন নেই। কয়েক সপ্তাহ পরেই বাংলার মানুষ মেতে উঠবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে। খুশিতে ভরে উঠবে কচিকাঁচা থেকে আবালবৃদ্ধবনিতা। নতুন নতুন জামাকাপড় পরে প্রতিমা দর্শনের অনাবিল আনন্দ। এটা গেল একটা দিক। এবার একটু অন্য দিকে খোঁজ নেওয়া যাক। নতুন নতুন পোশাক যাঁরা তৈরি করছেন, তাঁদের সবাই ভালো আছেন তো? বাংলার নারীর কাছে শাড়িই (Handloom Sarees) হচ্ছে একমাত্র পোশাক, যার প্রতি তাঁরা আজীবন দুর্বল। আর এই শাড়ির মধ্যে তাঁত একটি উজ্জ্বল নাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, হাজার বছরের পুরনো তাঁত শিল্প প্রায় উঠতে বসেছে। এই রাজ্যে নদিয়া ও  হুগলি জেলার তাঁত প্রায় জগৎবিখ্যাত ছিল এক সময়। বিশেষত হুগলির ধনিয়াখালি, আঁটপুর ও বেগমপুরের তাঁতের আলাদা কদর ছিল শাড়িপ্রেমীদের কাছে। কিন্তু এই আধুনিকতার যুগে আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যশালী তাঁত শিল্প। কেমন আছেন সেই সব তাঁত শিল্পীরা? যাদের এক সময় ইংরেজরাও দমাতে পারেনি ম্যাঞ্চেস্টারকে তুলতে গিয়ে।

    করুণ অবস্থা শিল্পীদের

    হুগলি জেলার প্রাচীন জনপদ বেগমপুর। শ্রীরামপুর মহকুমার চণ্ডীতলা থানার অধীনে এই প্রাচীন জায়গা তাঁত শিল্পের জন্য এক সময় সুবিখ্যাত ছিল। বিশেষ করে হালকা এবং উজ্জ্বল বলে এই বেগমপুরি তাঁতের (Handloom Sarees) বরাবরই একটা কদর রয়েছে। কিন্তু আগামী দিনে আদৌ এই বেগমপুরি শাড়ি থাকবে কিনা, তা নিয়ে একটা প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বেগমপুরের তাঁতিপাড়ায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে যেতেই উঠে এল শিল্পীদের করুণ অবস্থা। সামনেই দুর্গাপুজো। কিন্তু তাঁদের মুখে হাসি নেই। অধিকাংশ শিল্পী প্রবীণ। তাঁদের উত্তরসূরি কেউ আর তাঁত বোনে না। কারণ তাতে করে পেট ভরে না। তাই তাঁরা পার্শ্ববর্তী ডানকুনি শিল্পাঞ্চলে কলকারখানায় কাজ জোটাতে ব্যস্ত।

    বাস্তব অভিজ্ঞতা বড়ই করুণ

    আর করবেই বা কেন? বাস্তব অভিজ্ঞতা যে বড়ই করুণ। মহাজন কাঁচামাল দিয়ে যায়, বৃদ্ধ তাঁতি তাঁর সহধর্মিণীকে পাশে রেখে তাঁত বুনে যান। একটি ১২ হাত শাড়ি (Handloom Sarees) তৈরি করতে লাগে ২ দিন। মজুরি ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। শেয়ার বাজারের মতো রেট ওঠানামা করে। দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করে দৈনিক রোজগার ৮০ কি ৯০। এতে কি সংসার চলে? কিন্তু কে দেখবে? কে করবে এর সমাধান? শিল্পীদের একটাই দাবি, মজুরি বৃদ্ধি। কিন্তু সে তো অরণ্যে রোদন। এক সময় যে এলাকায় ৩৫ হাজার তাঁত চলত, রাস্তার দু’দিকের বাড়ি থেকে ভেসে আসা সুমধুর খটাখট আওয়াজে চারদিক গমগম করত, এখন মেরেকেটে ৫০০ তাঁত চলে কিনা সন্দেহ। তবুও ঘষে যাওয়া চশমা মুছে, তাঁরা বুনে চলেছেন, খটাখট খটাখট..।

    কী বললেন প্রবীণ শিল্পী?

    এখানকারই এক প্রবীণ শিল্পী বলছিলেন, শাড়ির বাজার খুবই খারাপ। সুতোর দাম বেড়ে গিয়ে কাপড়ের দাম বেড়েছে। কিন্তু লক ডাউনের আগে মজুরি যা পেয়েছি, এখন তা আরও কমে গেছে।  যে কাপড়টা ২৩০ টাকা মজুরি পেয়েছি, সেটা আজকে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা মজুরি। একটা কাপড় বুনতে ২ দিন করে সময় লাগে। সপ্তাহে ৪ টের বেশি বোনাই যায় না। আমাদের বয়স হয়ে গেছে। যারা একটু বেশি বোনে, তারাও ৫ টার বেশি পারে না। তাঁর আক্ষেপ, এখন আর নতুন করে কেউ তাঁত বোনে না। সব কারখানায় কাজ করতে চলে যাচ্ছে। তাঁত চালাতে পারছে না বলেই দলে দলে ডানকুনি বা দুর্গাপুর রোডে কাজে চলে যাচ্ছে। তাঁত শিল্প কি উঠে যাবে? ওই প্রবীণের সাফ জবাব, উঠে যাবে মানে? উঠে তো গেছে। 

    অকাল বিশ্বকর্মা

    এখানে তাঁতিদের (Handloom Sarees) এতই কর্মব্যস্ততা ছিল যে কারিগরি দেবতা বিশ্বকর্মা পুজোও তাঁরা পিছিয়ে শীতকালে করতেন। কারণ দুর্গাপুজোর ঠিক এক মাস আগে বিশ্বকর্মা পুজো তাঁরা ঠিকমতো করতে পারতেন না। তাই দুর্গাপুজোর পর বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করতেন। সেই থেকে এই বেগমপুর এলাকায় অকাল বিশ্বকর্মা পুজো হয়ে থাকে, যা এই বাংলায় কোথাও হয় না। সেই হুগলির ম্যাঞ্চেস্টারের সুদিন কি আবার কোনও দিন ফিরে আসবে কোনও সোনার কাঠির ছোঁয়ায়? সময় এর উত্তর দেবে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ। 

LinkedIn
Share