Tag: durga puja in bengal

durga puja in bengal

  • Mahalaya 2026: ঢাকের বাদ্যি, ড্রোন শো, আতশবাজি! মহালয়ায় ইডেনে ৪৫হাজার দর্শকের সমাগম, কড়া নিরাপত্তা

    Mahalaya 2026: ঢাকের বাদ্যি, ড্রোন শো, আতশবাজি! মহালয়ায় ইডেনে ৪৫হাজার দর্শকের সমাগম, কড়া নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আশ্বিনের শারদ প্রাতে রেডিওয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্রর। জানান দেয় পুজো এসেছে। শরতের শিউলি ফোটা ভোর শোনায় মহালয়ার সুর। বেজে ওঠে পুজোর দামামা। গঙ্গায় পিতৃতর্পণ সেরে সারাদিন চলে পুজোর কেনাকাটা। তবে, এবার মহালয়ার দিনটা একটু অন্যভাবে কাটতে চলেছে তিলোত্তমার। মহালয়ার সন্ধ্যা আরও মোহময় হয়ে উঠতে চলেছে ইডেন উদ্যানে রাজ্য সরকারের আয়োজিত মা দুর্গার আবাহনের অনুষ্ঠানে। সেখানে একছন্দে বাজবে তিন হাজার ঢাক। এক হাজার উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে বাংলার আকাশ-বাতাস। শঙ্খধ্বনির আওয়াজ জানান দেবে, মা আসছে বাংলার ঘরে ঘরে। নাচে-গানে তিন হাজার ড্রোনের রঙিন আলোয় মাতৃ আবাহনের অভাবনীয় অভিনব দৃশ্যের সাক্ষী থাকবে গোটা বিশ্ব। ঢাকের বোল এবং শঙ্খের মিলিত ধ্বনি বিশ্বরেকর্ড গড়বে।

    ৪৫ হাজার দর্শকের সমাগম

    ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়া উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। দুর্গাপুজোর সূচনা উদ্‌যাপনে এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শকের সমাগম হতে পারে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি রেড রোডে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ভিড় সামলাতে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সময়কার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধাঁচেই প্রস্তুতি নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। স্টেডিয়াম চত্বরে দুই স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রেড রোডে শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে আরও প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেখানেও পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিবের নেতৃত্বে একটি সমন্বয় বৈঠক হয়। সেখানে কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, রাজ্যের পূর্ত দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, স্টেডিয়ামের আশপাশে বিশেষ বাহিনী ও কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন থাকবে। দর্শকদের প্রবেশ, বেরিয়ে আসা এবং গোটা সন্ধ্যায় ভিড়ের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর রাখা হবে।

    অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ

    বাংলার সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব দুর্গাপুজোর সূচনা উপলক্ষে মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে সাজানো হবে এই অনুষ্ঠান। ঢাকের বাদ্যি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, থ্রিডি প্রজেকশন ম্যাপিং, ড্রোন শো এবং আতশবাজির প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে। প্রায় চার ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক দর্শকের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার ঢাকি এবং এক হাজার মহিলা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। বাংলার বিভিন্ন জেলার নিজস্ব নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও তুলে ধরা হবে।

    রেড রোডে বিকেল ৪টেয় শোভাযাত্রা

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রেড রোডে অনুষ্ঠান বিকেল ৪টে নাগাদ শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট চলার কথা। এরপর ইডেন গার্ডেন্সে মূল অনুষ্ঠান চলবে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা। শনিবার আলোকোজ্জ্বল রেড রোড ধরে খোলা জিপে ইডেনের উদ্দেশে রওনা হবেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল আর এন রবি। রাস্তার পাশে একেকটি জেলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, শিল্পকলা ও সেখানকার সংগীত-নৃত্য তুলে ধরতে সাজানো হয়েছে স্টেজ। রেড রোড হয়ে সেই শোভাযাত্রা যাবে ইডেনে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন শো থেকে থ্রি ডি প্রজেকশন ম্যাপিং শো। তাতে ফুটে উঠবে মা দুর্গার আবাহন।

    ইডেন থেকে বুর্জ খলিফায়

    এই অনুষ্ঠান ইডেন থেকে পৌঁছে যাবে প্রবাসেও। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, আমেরিকার বস্টন এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারের একসঙ্গে এই অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন সেখানকার মানুষও। কলকাতার মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গেই জেলায় জেলায় শুরু হয়ে যাবে উৎসব। শুক্রবার পর্যন্ত যে তালিকা রয়েছে তাতে ঠিক আছে, ইডেনে আজকের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন শান, লগ্নজিতা, কৌশিকী চক্রবর্তী, অন্তরা মিত্র। থাকবে বাংলা ব্যান্ড দোহার এবং শান্তনু মৈত্র ও তাঁর গ্রুপ। এছাড়াও যন্ত্রসঙ্গীতে দেবর্ষি ভট্টাচার্য-সহ অন্যরা।

    যান চলাচলে বিধিনিষেধ

    ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ময়দান এলাকায় একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হতে পারে। কিংসওয়ে দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রেড রোডেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। শহরের বাস পরিষেবার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হবে। ট্রাফিক পুলিশ চৌরঙ্গি রোড দিয়ে বাসের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিগত গাড়ি ও ভাড়া করা গাড়ির পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। আইপিএলের ম্যাচের দিনের পার্কিং ব্যবস্থার ধাঁচে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন এলাকাতেও গাড়ি রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আমন্ত্রণপত্র থাকলেই ইডেনে প্রবেশ

    মহালয়া উপলক্ষে কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। রেড রোডের শোভাযাত্রায় বাংলার বিভিন্ন জেলার নিজস্ব নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। এই শোভাযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে ইডেন গার্ডেন্সের মূল অনুষ্ঠানে প্রবেশের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক থাকবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল, শৌচাগার এবং পরিচ্ছন্নতার মতো একাধিক বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

    ড্রোন দিয়ে আকাশপথে নজরদারি

    গঙ্গার দুই পাড়কেও উৎসবের রঙে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে। থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন শিল্পী ও ব্যান্ডের পরিবেশনার পাশাপাশি থাকছে গঙ্গা আরতি। এদিকে, ইডেনের এই মেগা অনুষ্ঠানের জন্য স্ট্যান্ড রোড-সহ একাধিক রাস্তায় পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্ট্র্যান্ড রোড, সেন্ট জর্জেস গেট রোডে রাজা উডমন্ট স্ট্রিট ও হেস্টিংস ক্রসিংয়ের মধ্যে কোনও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকছে। শনিবার ভোর চারটে থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ জারি থাকছে। তবে জরুরি পরিষেবা দেওয়া পণ্যবাহী যানগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিটি রোড, খগেন চ্যাটার্জি রোড, কাশীপুর রোড, স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোড, রবীন্দ্র সরণি (কেভিভি অ্যাভিনিউ থেকে বি কে পাল অ্যাভিনিউ পর্যন্ত), শোভাবাজার স্ট্রিট, নিমতলা ঘাট স্ট্রিটও বন্ধ রাখা হচ্ছে। বাবুঘাট রুটের বাসগুলি হেয়ার স্ট্রিট এবং স্ট্র্যান্ড রোডের ক্রসিংয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। মহালয়া উপলক্ষে শহরে ১৫০০ পুলিশ মোতায়েন থাকছে। জলপথ, সড়কপথে নজরদারি চলছে। ড্রোন দিয়ে আকাশপথেও নজরদারি চলছে।

     

     

     

     

     

  • Mahalaya 2026: মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন শ্রীরাম! জানেন দুর্গাপুজোর আগে কী মাহাত্ম্য এই বিশেষ দিনের?

    Mahalaya 2026: মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন শ্রীরাম! জানেন দুর্গাপুজোর আগে কী মাহাত্ম্য এই বিশেষ দিনের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। মহালয়ার ভোর থেকেই চলে উমার মর্তে আগমনের প্রতীক্ষা। হিন্দু ধর্মে এই দিনটি অত্যন্ত তাত্‍পর্যপূর্ণ। মহালয়াতে পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয় শারদীয়া নবরাত্রি পালন। নয় রাত ধরে দেবীর নয়টি আলাদা আলাদা রূপের পুজো চলে। বাঙালিদের কাছে মহালয়ার (Mahalaya) বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মনে করা হয়, মহালয়াতেই মহিষাসুরকে বধ করার জন্য পার্বতীর কাছে প্রার্থনা করা হয়। দেবীপক্ষের সূচনার এই দিনের ভোরে রেডিয়োতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের (Birendra Krishna Bhadra) মহিষাসুরমর্দিনী শোনা বাঙালি সমাজের একটি প্রচলিত রেওয়াজ। মহিষাসুরমর্দিনী শুনেই যেন শুরু হয়ে যায় বাঙালির দুর্গোত্‍সব।

    সর্বপিতৃ অমাবস্যা, পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ

    পিতৃপক্ষের অমাবস্যায় পালিত হয় মহালয়া। এদিন প্রয়াত পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ শ্রাদ্ধ করা হয় বলে একে সর্বপিতৃ অমাবস্যাও বলা হয়। এদিন সেই সমস্ত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ করা হয় যাঁদের মৃত্যুর তিথি জানা নেই বা কোনও কারণে কোনও পূর্ব পুরুষের শ্রাদ্ধ না-করলে এই তিথিতে তাঁদের শ্রাদ্ধ করবেন। মহালয়ার দিনে শ্রাদ্ধ করলে পূর্বপুরুষরা মুক্তি লাভ করেন। বিশ্বাস করা হয় যে পিতৃপক্ষে শ্রাদ্ধ শান্তি ও তর্পণ করলে পূর্ব পুরুষেরা খুশি হন এবং আশীর্বাদ করেন। তাঁদের কৃপায় জীবনের অনেক বাধা দূর হয়। জীবনের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকেও মুক্তি মেলে। পিতৃপক্ষের শ্রাদ্ধ ও তর্পণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এজন্যেই দেবীপক্ষ শুরুর আগে পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা হয়।

    মহালয়ার নানা আখ্যান

    দেবরাজ ইন্দ্রের অনুসারে মহালয়া: পুরাণ মতে, দেবরাজ ইন্দ্রকে ১৬ দিনের জন্য মর্তে গিয়ে তর্পণ করতে পাঠান যমরাজ। আর এই ১৬ দিনই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয় এবং সেই সময় থেকেই মহালয়ার দিন এবং তার আগে ১৫ দিন পিতৃপুরুষদের জলদান করা হয়।

    রামায়ণ অনুসারে মহালয়া: শাস্ত্রের নিয়মানুসারে, অকালে কোনও পুজো করলে ইষ্ট দেবতা ও প্রয়াত পিতা -মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তর্পণ করতে হয়। শ্রী রামচন্দ্র, দেবী দুর্গার অকাল বোধন করেছিলেন। আর নিয়ম মেনে তাঁকেও পুজোর আগে পিতৃপুরুষকে জলদান করতে হয়েছিল। কথিত আছে রামচন্দ্র, মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন। আর সেই থেকেই শুরু হয় এই রীতির।

    মহাভারত অনুসারে মহালয়া : কথিত আছে, স্বর্গে বসবাস করার সময় কর্ণের আত্মাকে খাবার হিসাবে শুধু সোনা ও রত্ন দেওয়া হয়। কারণ দাতা হিসাবে তিনি কখনও পিতৃপুরুষকে জল -খাবার দেননি, সকলকে সোনা -রত্ন দান করেছেন। আসলে কর্ণ, প্রথমে তাঁর পিতৃ পরিচয় জানতেন না। যুদ্ধের আগের রাতে কুন্তীর থেকে সে জানতে পারে সকল সত্যি। এরপরই ভুল সংশোধন করতে তর্পণের পরামর্শ আসে।

    প্রকৃতিতে আগমনীর সুর

    দুর্গাপুজো যেমন সব বাঙালির প্রাণের উত্‍সব, তেমনই বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে মহালয়া। কারণ বাঙালিদের কাছে মহালয়া প্রয়াত পিতৃপুরুষকে জল দিয়ে তুষ্ট করার পাশাপাশি দেবীকে আবাহন করার দিন। সাধারণত মহালয়ার দিনই প্রতিমাশিল্পীরা দেবী দুর্গার চক্ষুদান করে থাকেন। এখানে উমা বাঙালির ঘরের মেয়ে, এক বছর পর তিনি বাপের বাড়ি ফিরছেন। সেই আনন্দে মেতে ওঠে সবাই। আগমনীর সুর বেজে ওঠে প্রকৃতিতেও। মহালয়া থেকে যে দেবীপক্ষের সূচনা হয়, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর মাধ্যমে তার অবসান হয়।

     

     

     

     

     

  • Durga Puja 2024: গুপ্তিপাড়ার ‘বারো ইয়ার’-এর পুজোই ধীরে ধীরে হয়ে উঠল সর্বজনীন, জানুন সেই ইতিহাস

    Durga Puja 2024: গুপ্তিপাড়ার ‘বারো ইয়ার’-এর পুজোই ধীরে ধীরে হয়ে উঠল সর্বজনীন, জানুন সেই ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় বারোয়ারি শব্দের বহুল ব্যবহার। তাই স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন জাগে, এই কথাটির প্রকৃত অর্থ কী? পুজোর ক্ষেত্রে এই কথাটি এল কীভাবে? আজকের প্রতিবেদনে আমরা এই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব। শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক, এই শব্দের আভিধানিক অর্থ কী? ‘বারোয়ারি’ শব্দটির উৎপত্তি ‘বারো’ এবং ‘ইয়ার’ এই দুটি শব্দ থেকে। ‘ইয়ার’ শব্দের অর্থ বন্ধু। তাহলে বারোয়ারি বলতে বোঝায় বারোজন বন্ধু। বাস্তবে ঘটেওছিল এমনটাই, বারোজন বন্ধুই প্রথম একজোট হয়ে দুর্গাপুজো (Durga Puja 2024) করেছিলেন। তাই এক সঙ্গে যখন অনেকে পুজো করেন, তখন তাকে বলা হয় বারোয়ারি পুজো। এখন অবশ্য ‘বারোয়ারি’ কথাটির বদলে ‘সর্বজনীন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তার কারণ, এখন আর বারোজন মিলে কোনও পুজো করেন না, করেন অনেকে মিলে। কোথাও একটা গোটা পাড়া, কোথাও আবার পাড়ার বাইরেও বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদা তোলা হয়। তাই বারোয়ারি পুজো এখন বদলে হয়েছে সর্বজনীন।

    শুরু হুগলির গুপ্তিপাড়ায় (Durga Puja 2024)

    কিন্তু মনে প্রশ্ন থেকেই যায়, প্রথম যে বারোজন মিলে পুজো শুরু করেছিলেন, তাঁরা কারা? কোথায়ই বা তাঁরা সেই পুজো করেছিলেন। এবার আসা যাক সেই ঘটনাতেই (History)। জানা যায়, ১৭৯০ সালে হুগলির গুপ্তিপাড়ায় বারোজন ব্রাহ্মণ বন্ধু প্রথম চাঁদা তুলে পুজো শুরু করেন। এই পুজোই বারোয়ারি পুজো নামে খ্যাত। মর্ত্যে যখন দুর্গাপুজো শুরু হয়, তখন তা মূলত হত ধনীদের বাড়িতেই। কারণ দুর্গাপুজোর খরচ বিস্তর। পুজোও চার-পাঁচ দিনের। তাই ধনীরা পুজো করতেন। কিছু কিছু ব্রাহ্মণ বাড়িতেও পুজো হত। তবে তা নিতান্তই সাদামাটাভাবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুজো হত পট কিংবা যন্ত্রে। সেখানে ধনী গৃহস্থ বাড়িতে পুজো হত প্রতিমা বানিয়ে।

    কালীপুজো, জগদ্ধাত্রীপুজোও সর্বজনীন

    এক সময় কলকাতায় হাতে গোণা কয়েকটি সর্বজনীন দুর্গাপুজো (Durga Puja 2024) হত। কালক্রমে পুজোর সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে আলোর রোশনাই-জৌলুসও। তবে কেবল দুর্গাপুজোই যে সর্বজনীনভাবে হয় তা নয়, বারাসত-বারাকপুরের কালীপুজো, কৃষ্ণনগর, চন্দননগর, বাউড়িয়ার জগদ্ধাত্রীপুজো, উলুবেড়িয়া, কাটোয়া, চুঁচুড়া-বাঁশবেড়িয়া অঞ্চলে কার্তিক পুজো এবং নবদ্বীপের শাক্ত রাসও হয় সর্বজনীনভাবে।

    পুরাণে পুজো নিয়ে কী রয়েছে?

    আগে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরাণ ও শাস্ত্র সহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণই প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন। তার পরে দেবীর আরাধনা করেছিলেন স্বয়ং প্রজাপতি ব্রহ্মা। তারও পরে দুর্গাপুজো করেছিলেন মহাদেব। পরে আরও অনেক দেবতাই বিপদ থেকে ত্রাণ পাওয়ার জন্য শরণ নিয়েছিলেন মহামায়ার। এ তো গেল দেবতাদের দেবী আরাধনার উপাখ্যান। ব্রহ্মার মানস পুত্র মনু মর্তে দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) প্রচলন করেছিলেন বলে কোনও কোনও শাস্ত্র রচয়িতার দাবি। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ! মর্ত্যে মহামায়ার আরাধনা শুরু কবে?

    Durga Puja 2024: প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ! মর্ত্যে মহামায়ার আরাধনা শুরু কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো (Durga Puja 2024)। হাতে গোনা আর মাত্র এক মাসের কয়েকটা দিন বেশি বাকি। দেবী দশভুজা চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে মর্তে আসেন। মর্ত্যবাসী তাঁকে নিজের মেয়ের মতো মনে করেই বরণ করে নেন। তাই এখন থেকেই দিকে দিকে তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের অনেকের মনেই যে প্রশ্ন জাগে, তা হল, কবে এই দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়েছিল? এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে পুরাণের (Puranas) দিকে। কারণ বিভিন্ন শাস্ত্রগ্রন্থই এসবের উত্তর বের করার মূল রাস্তা। এছাড়া এ ব্যাপারে আর নির্ভর করার মতো তেমন কিছু নেই।

    প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ

    ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন। তিনি পুজো করেছিলেন বৈকুণ্ঠের মহারাস মণ্ডলে। ওই শাস্ত্রের প্রমাণ বাক্যটি হল, প্রথমে পূজিতা সা চ কৃষ্ণেন পরমাত্মনা। শ্রীকৃষ্ণের পরে দুর্গাপুজো করেছিলেন স্বয়ং ব্রহ্মা। মহামায়ার পুজো করেছিলেন স্বয়ং মহাদেবও। ত্রিপুরাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করার আগে তিনি পুজো করেছিলেন দেবী দুর্গার। মহাদেবীর আরাধনা করেছিলেন দেবরাজ ইন্দ্রও। তার অনেক পরে মর্ত্যে শুরু হয় মহামায়ার আরাধনা (Worship of Mahamaya)।

    দেবী ভাগবত পুরাণ কী বলছে?

    দেবী ভাগবত পুরাণ মতে, ব্রহ্মার মানসপুত্র মনু প্রথম পৃথিবীতে দুর্গাপুজো প্রচলন করেন। শ্রী শ্রী চণ্ডী অনুযায়ী, রাজা সুরথ রাজ্য লাভের আশায় দেবী দুর্গার পুজো করেন। বাল্মীকি রামায়ণে দুর্গাপুজোর কোনও বর্ণনা নেই। তবে কৃত্তিবাস ওঝা বিরচিত রামায়ণে দুর্গাপুজোর উল্লেখ রয়েছে। বাসন্ত কালে দুর্গার পুজো করেছিলেন রাবণও। মৈথিলি কবি বিদ্যাপতি দুর্গা ভক্তি তরঙ্গিনীতে দুর্গাপুজোর উল্লেখ রয়েছে।

    আরও নানা মত (Durga Puja 2024)

    কারও কারও মতে, ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে দিনাজপুরের জমিদার প্রথম দুর্গাপুজো করেন। কারও কারও মতে আবার ষোড়শ শতকে রাজশাহী তাহেরপুর এলাকার রাজা কংস নারাযণ প্রথম দুর্গাপুজো করেন মর্তে। কোচবিহারে ১৫১০ সালে দুর্গাপুজো করেন রাজসিংহ। কেউ কেউ মনে করেন, ১৬০৬ সালে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন নদিয়ার ভবনানন্দ মজুমদার। কলকাতার বরিশাল রায় চৌধুরী পরিবার প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন বলেও মনে করেন অনেকে। আবার কারও কারও মতে, ১৬১০ সালে প্রথম দুর্গাপুজো করেছিল কলকাতার সাবর্ণ রায় চৌধুরীর পরিবার। তাঁরা মহিষমর্দিনী দুর্গার পুজো করেননি। ওই পরিবারে দেবীর আগমন (Durga Puja 2024) ঘটেছিল ছেলেমেয়ে সহ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share