Tag: Durga puja Parikrama

Durga puja Parikrama

  • Durga Puja 2023: বেনারসের ১০ সন্ন্যাসী জলঙ্গি নদীর বিলে সন্ধ্যারতি করবেন ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত

    Durga Puja 2023: বেনারসের ১০ সন্ন্যাসী জলঙ্গি নদীর বিলে সন্ধ্যারতি করবেন ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নদিয়ার ধুবুলিয়ার চৌগাছা হাঁসাডাঙ্গা। এখানকার প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে সবুজের মাঝে গড়ে উঠেছে ‘মা দুর্গা আশ্রম’। সেখানকার শান্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে দেশের দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন মন্দির প্রাঙ্গণে (Durga Puja 2023)। দুর্গা মন্দিরটি গড়ে উঠেছে জলঙ্গি নদীর একটি সুবিশাল বিলের পার্শ্ববর্তী এলাকায়। পাশাপাশি মন্দির চত্বরে রয়েছে রংবেরঙের বাহারি ফুলের বাগান। এছাড়াও রয়েছে একাধিক আম ও পেয়ারার বাগান। সব মিলিয়ে ছোট-বড় গাছগাছালি দিয়ে সাজানো মা দুর্গা আশ্রমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা নজর কাড়ে দর্শনার্থী থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবণিতাদের। পাশাপাশি দূর দূরান্ত থেকে মন্দির প্রাঙ্গনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মন্দিরের এক ধারে রয়েছে নিরামিষ রেস্তোরাঁ। যেখানে সারা বছরই রকমারি নিরামিষ খাবারের সম্ভার লক্ষ্য করা যায়।

    মানুষজন ছুটে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে

    ধুবুলিয়ার চৌগাছা হাঁসাডাঙ্গা এলাকায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পার্শ্ববর্তী মা দুর্গা আশ্রমের মনোমুগ্ধকর পরিবেশে সময় কাটাতে সারা বছরই কমবেশি মানুষজন ছুটে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে। বর্তমানে শরতের আগমন জানান দিয়ে যায় বিল সংলগ্ন এলাকায় গজিয়ে ওঠা ফুরফুরে সাদা মেঘের মতো কাশফুলের বাহার। যা মন্দিরের পরিবেশকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলছে। মন্দির প্রাঙ্গনে সারা বছরই মা দুর্গার আরাধনা (Durga Puja 2023) হয়। তবে দুর্গোৎসবের ক’দিন দেবী দুর্গার মূর্তি মন্দিরের বাইরে নিয়ে এসে পূজা-অর্চনা করেন ভক্তরা। তবে চলতি বছরে পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সুদূর বেনারস থেকে ১০ সদস্যের এক সন্ন্যাসী দল এসে মহা ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত (Durga Puja 2023) জলঙ্গি নদীর বিলে সন্ধ্যারতি করবেন। যা আশ্রমের এই বছরের পুজোর দিনগুলি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বহিরাগত দর্শনার্থীদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে দাবি মন্দির কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

    ভোলানাথের মূর্তির সামনে হবে সন্ধ্যারতি

    আশ্রমের এক কর্মী বিদ্যুৎ ঘোষ বললেন, এখানে প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় পুজো হয়। সন্ধ্যায় হয় আরতি (Durga Puja 2023)। বাইরে থেকে বহু মানুষ আসেন এই মন্দির দর্শন করতে। সন্ধ্যায় আমরা তাঁদের হাতে ফল প্রসাদ তুলে দিই। একদিন মিষ্টান্নও দেওয়া হয়। এখানেই রয়েছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক, বিলে নৌকাও চলে। বাচ্চারা এলে খুবই উপভোগ করতে পারে। চারদিকে রয়েছে নানা ফুল গাছে ঘেরা বাগান। রয়েছে ফলের গাছ। তিনি জানান, দুর্গাপুজোয় এমন হয়েছে, একেক দিন ৫ হাজার লোক এসেছেন। জলে বাবা ভোলানাথের মূর্তির সামনে হবে সন্ধ্যারতি। 

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: শারদোৎসবে দুর্গাপুজো নয়, মনসা পুজোয় মাতেন বালুরঘাটের ফুলঘরাবাসী

    Durga Puja 2023: শারদোৎসবে দুর্গাপুজো নয়, মনসা পুজোয় মাতেন বালুরঘাটের ফুলঘরাবাসী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথিত আছে, প্রায় তিনশো থেকে সাড়ে তিনশাে বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্গার (Durga Puja 2023) আসনে মা মনসার পুজো হয়ে আসছে বালুরঘাটের ফুলঘরা গ্রামে। পুরনাে নিয়ম-রীতি এবং রেওয়াজ কিছুই বদলায়নি আজও। মায়ের কাছে নিষ্ঠা সহকারে কোনও কিছু চাইলে তা পূর্ণ হয়, এমনটাই বিশ্বাস গ্রামবাসীদের।

    কীভাবে শুরু?

    জনশ্রুতি রয়েছে, বহুকাল আগে ফুলঘরা গ্রামের অনেকেই সর্পাঘাতে মারা গিয়েছিলেন। শুধুমাত্র মানুষ নয়, সর্পাঘাতে অনেক পশুও মারা গিয়েছিল। অনেক কিছু করেও সর্পাঘাতে মৃত্যু প্রতিরােধ করতে পারছিলেন না গ্রামবাসীরা। সেই সময় গ্রামের এক ব্যক্তি স্বপ্ন দেখেন, গ্রামে মনসা পুজো করলেই কেউ আর সর্পাঘাতে মারা যাবে না। এর পর আত্রেয়ী নদীতে এক দিন স্নান করতে গেলে মা মনসার কাঠামো ভেসে যেতে দেখেন তিনি। গ্রামবাসীরা সেই কাঠামো তুলে নিয়ে এসে মন্দিরে স্থাপন করে মা মনসার পুজো শুরু করেন। প্রথমে শ্রাবণ মাসে এই পুজো শুরু হয়। গােটা এলাকায় কোনও দুর্গাপুজো না হওয়ায় সেই পুজোর সময়টা বদলে শারদোৎসবে (Durga Puja 2023) মা মনসার পুজো শুরু হয়। সেই থেকে শুরু হয় দুর্গার আসনে মা মনসার পুজো।

    সবাই একত্রিত হন পুজোয়

    এখনও সেই একই নিয়ম-রীতিতেই এই পুজো করে আসছে ফুলঘরা বারােয়ারি মনসা পুজো কমিটি। পুজোর কয়েকটা দিন চন্ডী ও মনসামঙ্গল গান হয়। মেয়ে-আত্মীয়রা সব এই সব গ্রামে আসে। এখানে মা মনসার এক পাশে থাকেন দেবী লক্ষ্মী। অপর পাশে থাকেন দেবী সরস্বতী (Durga Puja 2023)। পুজোর চার দিন নিয়ম মেনে গ্রামের সকলে নিরামিষ খাবার খান। দেবী দুর্গার সমস্ত নিয়ম মেনেই ফুলঘরা গ্রামে মা মনসা পূজিতা হন। পুজোর সময় গ্রামে সবাই একত্রিত হন। আজও এই পুজোকে ঘিরে মেতে ওঠেন গ্রামের আট থেকে আশি সকলেই। বহিরাগত শিল্পী ও স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা পুজো প্রাঙ্গনে নাটক থেকে যাত্রাগান অনুষ্ঠিত হয়। পুজোর কয়েকটা দিন মেলাও বসে ফুলঘরা গ্রামে। স্থানীয় ছেলেমেয়েরাও বেশির ভাগ সময় গ্রামেই কাটান। 

    আর কেউ সাপে কেটে মারা যাননি

    এবিষয়ে সান্ত্বনা মণ্ডল জানান, তাঁদের পূর্বসূরি গুদর মণ্ডল এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁদের জায়গাতেই পুজোটা হয় এখনও। তবে এখন বারােয়ারি হিসেবেই পুজোটা হয়। গুদর মণ্ডল বহু দিন আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজো শুরু করেন। তার পর থেকে এই গ্রামে সাপে কেটে বা বিষে কেউ আর মারা যায়নি। বংশ পরম্পরায় বাদ্যকর, পুরােহিত ও মৃৎশিল্পী কাজ করে আসছেন। এমনকি পুজোর বায়না দিতেও হয় না বা ডাকতে হয় না। সময় মতো চলে আসেন সকলেই। পুরােনাে সেই রীতি রেওয়াজ মেনেই আজও পুজো হয় এখানে। এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শিরিষ মাহাতো জানান, পুজোর কয়েক দিন গ্রামে ফিরে আসে সব বাড়ির ছেলেমেয়েরা। পাশাপাশি গ্রামবাসীরা পুজোর কয়েকটা দিন আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। পুজোয় দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। মানত করেন তাঁরা। মানত পূরণ হলে মাকে বিভিন্ন অলঙ্কার দেন (Durga Puja 2023)। 

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: দিনাজপুরের ঘোষ পরিবারে দশমীর সকালে ছোট্ট নৌকা বানিয়ে তার পুজো হয়!

    Durga Puja 2023: দিনাজপুরের ঘোষ পরিবারে দশমীর সকালে ছোট্ট নৌকা বানিয়ে তার পুজো হয়!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথিত আছে, বর্ধমানের গ্রাম থেকে নদীপথে দিনাজপুরের পতিরামে এসে ব্যবসা শুরু করে ঘোষ পরিবার। নৌকা ও বজরা নিয়ে এই অঞ্চল থেকে ধান ও পাটের আমদানি-রফতানি ব্যবসায় ফুলেফেঁপে ওঠে তাদের পরিবার। ইংরেজির ১৮৯০ এর দশকে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জমিদারি অর্জন করে ঘোষ পরিবার। ১৯৩০ সালে পতিরামের বিশাল এলাকা জুড়ে জমিদার বাড়ি তৈরি করেন পরিবারের সদস্যরা। যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসকে সাক্ষী করে। অন্য জমিদারদের মতোই নিজেদের আভিজাত্য প্রকাশের জন্য শুরু হয় দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023)। সেই সময় জমিদারের লোকবল, অর্থবল দুই-ই ছিল। ফলে পুজোর মাস জুড়েই নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করা হত। পুজোর পাঁচ দিন এলাকার মানুষ জমিদার বাড়িতেই মধ্যাহ্নভোজন সারতেন। রাতেও অতিথি-অভ্যাগতদের জন্য থাকত খাবারের আয়োজন। নানা রকমের যাত্রা, কবিকীর্তন, বাউল ও মনসামঙ্গল গানের আসর বসত জমিদার বাড়ির দালানে। এখন কালের গতিতে অর্থবল, লোকবল কমেছে। কমেছে পুজোর জৌলুস। এখন আর সেভাবে অর্থ খরচ করার মতো সামর্থ্য নেই। ফলে কাটছাঁট করতে হয়েছে পুজোর বাজেটে। পুজোর বাজেট ছোট হলেও আয়োজন বা যে রীতি রেওয়াজ, সেখানে কোনওরকম খামতি রাখতে চান না প্রতিরামের জমিদার পরিবারের বর্তমান সদস্যরা।

    পারিবারিক মিলন উৎসব (Durga Puja 2023)

    পতিরামের জমিদার বাড়ির পুজো দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী বনেদি বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। ইতিমধ্যেই প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে মন্দিরে। কেননা আর খুব একটা সময় নেই হাতে। তাই ব্যস্ততা শুরু। জন্মাষ্টমীর দিন থেকেই দুর্গাপ্রতিমার মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয়। ঘোষ বাড়ির দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) প্রায় সাত পুরুষ আগে শুরু হয়। সঠিক বয়স বলতে না পারলেও কম করে তা ২০০-২৫০ বছরের পুরনো৷ পুরনো রীতি রেওয়াজ মেনে এখনও পুজো হলেও নেই আগের মত জৌলুস। জমিদারবাড়ির উত্তরসূরিরা বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেন। বর্তমানে পতিরাম জমিদার বাড়িতে সাগর ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা ঘোষ থাকেন। তবে পুজোর মধ্যে সকলে আবার একত্রিত হন। এই জমিদার বাড়ি পুজোকে কেন্দ্র করেই হয় পরিবারের মিলন উৎসব।

    ছোট্ট নৌকা বানিয়ে তার পুজো (Durga Puja 2023)

    অতীতে এই পুজোতে মহিষ, পাঁঠা, লাউ, আখ প্রভৃতি বলির প্রচলন থাকলেও সেই সব রীতি তুলে দিয়েছে এই জমিদার বাড়ির বর্তমান প্রজন্ম। এই পুজোতে বিভিন্ন খ্যাতনামা স্বাধীনতা সংগ্রামীর আনাগোনা ছিল বলেও জানা গেছে। অতীতের রীতি মেনেই এখনও নিষ্ঠার সাথে পুজো (Durga Puja 2023) চলছে এই জমিদার বাড়ির বর্তমান গৃহকর্তা সাগর কুমার ঘোষের হাত ধরে। যেহেতু ঘোষ পরিবারের ব্যবসা ছিল নদীকেন্দ্রিক এবং আমদানি-রফতানির, তাই এখনও নিয়ম মেনে পুজোর শেষ দিন অর্থাৎ দশমীর সকালে ছোট্ট নৌকা বানিয়ে তার পুজো হয়। এবং সেই নৌকা মাথায় করে মূল বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে সারা বছর সেই নৌকা বাড়ির ঠাকুর ঘরে রাখা থাকে। এখনও জেলার অন্যান্য পুজোতে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি জেলাবাসী পতিরাম ঘোষ বাড়ির দুর্গাপুজো একবার হলেও দেখতে আসেন।

    সাত পুরুষের পুরনো পুজো (Durga Puja 2023)

    এবিষয়ে জমিদার বাড়ির উত্তরসূরী সাগরকুমার ঘোষ বলেন, আমাদের এই পুজো (Durga Puja 2023) ৭ পুরুষ পুরনো পুজো। প্রতিমা বিসর্জনের দিন থেকে পরের বছর পুজোর প্রস্তুতি চলে। আমরা স্বামী স্ত্রী দুজনে এই বাড়িতে থাকি। আমরা দুজনে প্রস্তুতি করি। আমাদের পুজোতে আগে বলি ছিল। আমরা এখন বলি প্রথাটা উঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের পুজোর বিশেষত্ব হল নৌকাকে ডিঙি করে সেই নৌকাতে পুজো হয়। দশমীর দিন সেই ডিঙিকে বিভিন্নভাবে সাজিয়ে মণ্ডপে পুজো করে পুজোর পর বাড়িতে যে বয়স্ক মানুষ থাকে, সে মাথায় করে বসত বাড়িতে আনে। এটাই আমাদের পুজোর বিশেষত্ব। পুজোর পাঁচদিন এলাকার সমস্ত মানুষ এখানে এসে আনন্দ করে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: সাড়ে চারশো বছরের বনেদি বাড়ির পুজো, বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অর্থের অভাবে!

    Durga Puja 2023: সাড়ে চারশো বছরের বনেদি বাড়ির পুজো, বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অর্থের অভাবে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৭৫৫ সালে জনৈক গঙ্গোপাধ্যায় বাংলাদেশের বরিশালের ২০০ বছরের প্রাচীন বুড়ো মা নামে দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) তরফদার বাড়িতে সূচনা করেন। এ দেশ ও দেশ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চারশো বছরের পুরনো এই দুর্গাপুজো। তরফদার বাড়ির সদস্যরা জীবন-জীবিকা এবং পেশার টানে রাজ্য এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করেন। বেশ কয়েক বছর আগে তাঁরা মাঝে মধ্যে এক-আধবার আসলেও শেষ কুড়ি বছর তাঁদেরও আর দেখা যায়নি। স্থানীয় বসবাসকারী এক শরিক প্রদীপ তরফদারদের পক্ষে ব্যয়বহুল দুর্গাপুজো চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। তার উপর পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় বন্ধ ছিল এক বছর।

    কীভাবে এল ক্লাব?

    তবে পাড়ার লিডার্স ক্লাবের সদস্যরা ঠাকুরদালান এবং সংলগ্ন ছোট্ট একটু জায়গা, অর্থের বিনিময়ে শরিকদের কাছ থেকে কিনে নেন। ফের মহা সাড়ম্বরে পুজো শুরু করেন তাঁরা। এ বিষয়ে বর্তমান এক শরিক জানাচ্ছেন, পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুতে ক্লাব এই পুজোর (Durga Puja 2023) দায়িত্ব নেয়। তারপর থেকে তা আর ফেরেনি পরিবারের হাতে। যদিও এতে তাঁদের প্রবল আপত্তি আছে, এমন নয়। বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে ক্লাব পরিচালিত পুজোয় তাঁরাও অংশগ্রহণ করেন প্রতি বছরই। যদিও বিগত দু’বছর করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আর পাঁচটা পুজোর মতোই, আড়ম্বরবিহীন ভাবে পুজো করেছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এ বছর তাদের বাড়তি পাওনা, সরকারি অনুদান। সম্প্রতি শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ সরকারি সহযোগিতার অনুমতিপত্র দিয়ে গেছেন তাঁদের হাতে। তাই ক্লাবের মহিলা সদস্যরা ঠিক করেছেন, চার দিন ধরে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে বহিরাগত কোনও শিল্পী নয়, পাড়া এবং শান্তিপুরের বিভিন্ন কলাকুশলীরা অংশগ্রহণ করবে তাতে।

    রীতি মেনে ভোগ (Durga Puja 2023)

    পুরনো রীতি অনুযায়ী, অষ্টমীতে মহাভোগ বিতরণ করা হবে সকলের জন্য। থোরের তরকারি, চালতার টক এবং চাল-কুমড়োর ভোগ হবে নবমী ও দশমীতে। তবে ডাকের সাজ বর্জিত, সম্পূর্ণ সাবেকিআনায় একচালার দুর্গা প্রতিমা নির্মাণ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় উদ্যোক্তাদের। কারণ মাটির সাজে সময় এবং ধৈর্য লাগে অনেক। তাই মৃৎশিল্পীর অভাব হয়ে পড়ছে ইদানিং। তাই আরও বেশি সময় নিয়ে রীতি অনুযায়ী জন্মাষ্টমীতে পাট পুজোর বদলে, পয়লা বৈশাখে পাট পুজোর (Durga Puja 2023) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল প্রতিমা নির্মাণের উদ্দেশ্যে। যদিও রংয়ের কাজ বাদে সমস্তটাই মোটামুটি ভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। একই সাথে প্রস্তুত রয়েছে কালী প্রতিমাও। কালীপুজোর আগে তা রং হবে।

    সিঁদুর খেলার বিশেষ রীতি 

    এই পুজোর আরও এক বিশেষ রীতি, ষষ্ঠীর দিন পুজো (Durga Puja 2023) শুরুর আগে এবং দ্বাদশীতে বিসর্জনের আগে বরণ পরিবারেরই কোনও সধবা মহিলা করে থাকেন প্রথমে। তারপর পাড়া-প্রতিবেশী বহিরাগত সকলেই। এখানে সিঁদুর খেলতে আসেন শান্তিপুরের বিভিন্ন পাড়ার মহিলারা । 

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: একচালার প্রতিমায় দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, অসুর আছে, নেই শুধু কার্তিক-গণেশ!

    Durga Puja 2023: একচালার প্রতিমায় দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, অসুর আছে, নেই শুধু কার্তিক-গণেশ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তালিবপুরের চৌধুরীবাড়়ি। বনেদি পরিবার। সেই বাড়ির মেয়ে কল্যাণী। সারা বছর স্বামীর ঘরে থাকলেও পুজোর কটা দিন তাঁর জন্মভিটেয় কুলদেবতার কাছে না থাকলে তাঁর মন ভালো থাকে না। সেই ছোটবেলায় স্কুলশিক্ষক বাবা পাঁচকড়ি চৌধুরীর মুখে সে শুনেছিল বাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস। দিনক্ষণ আর তাঁর মনে নেই। তবে, প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগের কথা। তাঁদের পূর্বসূরি দুজন মহিলা এই পুজোর (Durga Puja 2023) সূচনা করেছিলেন। তাঁরা তন্ত্রসাধনা করতেন। একচালার প্রতিমা। দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, অসুর থাকলেও কার্তিক, গণেশ নেই। এই পুজোর সূচনাপর্ব থেকেই এই নিয়ম চলে আসছে। কার্তিক, গণেশ কেন নেই, তার ব্যাখ্যা সঠিকভাবে কেউ দিতে পারেননি।

    চট্টোপাধ্যায় থেকে চৌধুরী কীভাবে?

    এখন চৌধুরীবাড়ির পুজো বললেও আদতে তাঁদের পদবী ছিল চট্টোপাধ্যায়। এই পরিবারের সন্তান রূপচাঁদ চট্টোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদের নবাবি দরবারে সুপ্রসিদ্ধ গায়ক ছিলেন। নবাবি আমলেই তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গান গেয়ে মানুষের মন জয় করেছিলেন। স্বাভাবিক কারণেই আর্থিকভাবে তিনি বেশ কিছুটা সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর আমলেই এই বাড়িতে দুর্গাপুজো অনেক জাঁকজমকভাবে হত। বহু দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এই পুজোয় (Durga Puja 2023) অংশ নিতে আসতেন। সেই সময় অষ্টমী আর নবমীতে পুজোয় ছাগ বলি হত। পুজোর কদিন কয়েকশো মানুষের পাত পড়ত এই বাড়িতে। আর রূপচাঁদের মতো স্বনামধন্য গায়কের বাড়ি হওয়ায় পুজোর সময় ফি বছর গানের আসরও বসত। আশপাশের গ্রামের মানুষের ভিড়ে সেই আসর গমগম করত। তাঁর উত্তরসূরী ছিলেন পঞ্চানন্দ চট্টোপাধ্যায়। গায়ক হিসেবে তিনিও যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তাঁর প্রতিভার জন্যই চট্টোপাধ্যায় থেকে চৌধুরী উপাধি দেওয়া হয়। নবাবি আমলে পাওয়া সেই পদবীই এখনও এই পরিবারের সদস্যরা বহন করে চলেছেন। মন্দিরের উঁচু দালান, মাটির দেওয়াল, খড়ের চাল ফি বছর ঠিক করা হত। চৌধুরীবাড়়ির বর্তমান বংশধর স্কুল শিক্ষক জয়ন্ত চৌধুরীর কথায়, আমাদের প্রপিতামহ ইন্দ্রভূষণ চৌধুরীর সময় থেকেই ছাগ বলি বন্ধ হয়ে আখ, চালকুমড়ো বলি শুরু হয়।

    এখনও বলির শঙ্খচিল আকাশে ওড়ে

    শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য মেনেই এখনও ষষ্ঠীর দিন সকালে ধোপাপুকুরে গিয়ে ঘটে জল ভরা হয়। সেই ঘট মন্দিরে রেখে পুজো হয়। রাতে ষষ্ঠীর কল্পনা হয়। মহা সপ্তমীর দিন কলাবউকে বাড়ির ঠাকুরঘরে গঙ্গার জলে স্নান করানো হয়। এরপর মন্দিরের সামনেই উঠানে নিয়ে এসে এক কোণে কলা বউয়ের পুজো হয়। পরে, মন্দিরে মা দুর্গার ডানদিকে এক কোণে কলা বউকে রাখা হয়। প্রতিদিন মায়ের ভোগ হিসেবে প়ঞ্চব্যঞ্জন পদ ও মাছের ভোগ (Durga Puja 2023) নিবেদন করা হয়। আগের ছাগ বলি আর নেই। এখন সপ্তমী, অষ্টমীর দিন চাল কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। আর মহাষ্টমীতে চাল কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। তবে, যখন গ্রাম বাংলায় ঘড়ির চল ছিল না, তখন এই বলির আগে আকাশে নিয়ম করে শঙ্খচিল আর শিয়াল আসত। তারা আসার পরই নির্দিষ্ট একটি সময়ের পরই বলিদান হত। এখনও বলির শঙ্খচিল আকাশে ওড়ে। পরিবারের সকলের সঙ্গে কল্যাণী তাঁর দুই সন্তানকে তা দেখিয়েছেনও।

    নবমীর দিন আখ আর চাল কুমড়ো বলি

    এই চৌধুরীবাড়ির বর্তমান বংশধর সত্যব্রত চৌধুরী, দেবব্রত চৌধুরী, ধর্মব্রত চৌধুরী। ধর্মব্রত চৌধুরী এখন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। খুব ছোট থেকেই তিনি এই পুজো করে আসছেন। কোনও কামার নয়, চৌধুরী পরিবারের সদস্যের হাতেই মা বলিও গ্রহণ করেন। পুজো (Durga Puja 2023) শেষে বাড়িতে মায়ের ভোগ খাওয়ানো হয়। নবমীর দিন আখ আর চাল কুমড়ো বলি হয়। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত সন্ধ্যায় লুচি, ক্ষীর, ছানা ভোগ নিবেদন করা হয়। দশমীর দিন খই, দই ভোগ নিবেদন করা হয়। পাড়ার ছেলেমেয়েরা সাত সকালে স্নান করে নতুন জামাকাপড় পরে মন্দিরে চলে আসেন। বেলপাতায় সরের কলমে কালি দিয়ে মা দুর্গার নাম লিখে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে মায়ের পায়ে তা নিবেদন করেন। বিকেলের দিকে ধোপা পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। একাদশীর দিনে বাপেরবাড়ি ছেড়ে যেতে কল্যাণীর চোখ ছল ছল করে।

    মা দুর্গার নিরঞ্জন হয় না

    তালিবপুর ডাঙাপাড়ায় মাটির দোতলা বাড়িতে পাঁচকড়ি চৌধুরীর ভরা সংসার। তাঁর চার সন্তান সত্যব্রত, কল্যাণী, দেবব্রত এবং ধর্মব্রত। তিন ভাই, বোন মিলেই এই পুজোর আয়োজন করতেন। পাঁচকড়ি চৌধুরী বহু বছর আগে গত হয়েছেন। রূপচাঁদের উত্তরসূরী হিসেবে কল্যাণীর পাশাপাশি সত্যব্রত, ধর্মব্রত ও তাঁর সন্তানরা এখনও নিয়মিত গান, বাজনার রেওয়াজ করেন। এখন আর খড়ের চালের মন্দির নেই। সেখানে মাথা তুলেছে ইট, সিমেন্টের কংক্রিটের মন্দির। দেবব্রত আর ধর্মব্রত এখন সেই পুরানো ঐতিহ্য মেনেই দুর্গাপুজো করে আসছে্ন। তবে, করোনাকালের সময় থেকেই চৌধুরীবাড়ির মা দুর্গার (Durga Puja 2023) আর নিরঞ্জন হয় না। পরিবারের বর্তমান বংশধর তথা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ধর্মব্রত চৌধুরী বলেন, মায়ের আদেশ মেনেই আর নিরঞ্জন হয় না। এখন বছরের চারদিন নয়, সারা বছর ধরেই মায়ের পুজো হয়।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: সাহাবাড়ির পুজোয় দেবীর ডান দিকে থাকেন কার্তিক, বাঁ দিকে থাকেন গণেশ!

    Durga Puja 2023: সাহাবাড়ির পুজোয় দেবীর ডান দিকে থাকেন কার্তিক, বাঁ দিকে থাকেন গণেশ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের জামিরতা গ্রাম থেকে বনমালী সাহা চালের ব্যবসা করার জন্য আত্রেয়ী নদী ধরে মাঝে মাঝেই বালুরঘাট আসতেন। তখন বালুরঘাটের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ছিল নিবিড়। আত্রেয়ী তখন ছিল পূর্ণ যৌবনসম্পন্না কিন্তু কালের গতির সঙ্গেই যেমন তার চেহারা বদলেছে, তেমনি ১৮৪ বছর আগে বনমালী সাহার তৈরি জমিদারিও আজ প্রায় শেষের দিকে। একমাত্র বংশধর কালীকৃষ্ণ সাহা রায় কোনও রকমে টিকিয়ে রেখেছেন পারিবারিক ঐতিহ্য (Durga Puja 2023)।

    দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) আজও নিয়ম-নীতি মেনেই

    ১৮৪ বছরের পারিবারিক দুর্গাপুজো আজও নিয়ম-নীতি এবং রেওয়াজ মেনেই পালন করার চেষ্টা করে সাহা পরিবার। চালের ব্যবসায়ী থেকে হঠাৎ করে এলাকায় জমিদারি লাভ করে বনমালী সাহা বালুরঘাট শহরেই তাঁর ব্যবসার কেন্দ্র গড়ে তোলেন। এরপর আত্রেয়ী দিয়ে বহু জল গড়িয়েছে, বদলেছে সময়। এখন আর জমিদারি নেই। কিন্তু দুর্গাপুজোর যে পারিবারিক রীতি-রেওয়াজ, সেক্ষেত্রে কোনও রকম ছেদ পড়েনি। পুজোর কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে দেবী প্রতিমার গঠনেরও কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কার্তিক-গণেশের যে দিকে থাকার কথা, সাহাবাড়ির পুজোতে (Durga Puja 2023) দেবীর ডান দিকে থাকেন কার্তিক, বাঁ দিকে থাকেন গণেশ। এ ছাড়াও পুজোর ভোগ নিবেদনের ক্ষেত্রেও বিশেষ রীতি মেনে চলে সাহা পরিবার। 

    গণেশ ও কার্তিকের স্থান পরিবর্তন কেন?

    বনমালী সাহা যখন এই পুজো করতেন, তখন মৃৎশিল্পী অন্য দুর্গা প্রতিমার মতো সাহাবাড়ির দুর্গা প্রতিমা করেছিলেন। কিন্তু পর দিন সকালে সবার নজরে আসে, গণেশ ও কার্তিকের স্থান পরিবর্তন হয়ে গেছে। মৃৎশিল্পী পুনরায় তাঁদের স্থান পরিবর্তন করেন। কিন্তু পর দিন সকালে গণেশ ও কার্তিকের আবার স্থান পরিবর্তন হয়ে গেছে দেখে বনমালী সাহা রায় নির্দেশ দেন, এই ভাবেই মায়ের পুজো হবে। সেই থেকে একই নিয়মনিষ্ঠা সহকারে সাহাবাড়ির দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) হয়ে আসছে। এছাড়াও মন্থন ষষ্ঠীতে কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে প্রতিমা তৈরি শুরু হয়। প্রতিমার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে এবং মহালয়ার দিনই মায়ের চক্ষুদান হয় ও প্রতিমার রং সব শেষ করতে হয়। পাশাপাশি এই পুজোয় অন্নভোগ হয় না। এখানে পরমান্ন ভোগ হয়। পুজোর কয়েকদিন নিরামিশ খাবার হয়।

    ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী বন্ধনের ছবি

    সাহাবাড়ির এই পুজোকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশের মৈত্রী বন্ধনের ছবি ফুটে ওঠে। পুজোর (Durga Puja 2023) কদিন এপার বাংলা, ওপার বাংলা মিলে যায় সাহা পরিবারের অঙ্গনে। আপাতত বালুরঘাটের সাহা পরিবারের সদস্যরা পথ চেয়ে সেই পাঁচদিনের জন্য। এই বিষয়ে কালীকৃষ্ণ সাহা বলেন, আমাদের এই পুজো এবার ১৮৪ বছরে পড়ল। আমাদের এই পুজোর বিশেষত্ব হল গণেশ ও কার্তিকের স্থান পরিবর্তন। প্রত্যেক বছরে যে নিয়মে পুজো করা হয়, এবারেও সেই নিয়ম অনুযায়ী পুজো করা হবে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share