Tag: Economic and Financial Dialogue

  • India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও কানাডার (India Canada) মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই। মঙ্গলবার কানাডার টরন্টোয় এক অনুষ্ঠানে এই আশার কথা শুনিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিন দিনের (Investment Protection Pact) কানাডা সফরের প্রথম দিনেই টরন্টোয় পৌঁছন তিনি। তাঁর এই সফর গত দশ বছরে কানাডায় প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফর। টরন্টোয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সীতারামন জানান, দুই দেশ চলতি বছরের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তির আলোচনা শেষ করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “আমরা চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা চুক্তিটি শেষ করার চেষ্টা করব।”

    বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি (India Canada)

    তবে চুক্তি সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ভর করবে কানাডার অর্থ ও জাতীয় রাজস্বমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সম্মতির উপর। সীতারামনের সফরে তাঁর সঙ্গে একদল আধিকারিকও রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার টরন্টোয় দুই দেশের অর্থমন্ত্রীরা প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংলাপের সূচনা করবেন। মঙ্গলবার পাল্টা শুল্ক ঘোষণার সময় কানাডার অর্থমন্ত্রী শ্যাম্পেনও জানিয়েছিলেন যে তিনি সীতারামনকে আতিথ্য দেবেন। টরন্টোয় ভারতের কনসুলেট জেনারেল আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের কর্পোরেট ও পেশাজীবী মহলের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন সীতারামন। তাঁর বক্তব্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে।

    অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি

    যদিও সীতারামন সরাসরি উল্লেখ করেননি, তাঁর বলা বছরের শেষের সময়সীমাটি ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সময়সীমার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই চুক্তি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি বছরের শেষের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ডিসেম্বর মাসে কানাডা সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে যৌথভাবে বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করার সম্ভাবনা রয়েছে। সীতারামন জানান, ২০১৬ সালে বিনিয়োগ সুরক্ষা সংক্রান্ত যে কাঠামো গ্রহণ করা হয়েছিল, তার পর থেকে ভারত সরকার এই বিষয়ে আরও উদার, অগ্রসর এবং বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “বিনিয়োগের আর্থিক সুরক্ষা নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় (India Canada)।”

    কী বলছেন সীতারামন

    অনুষ্ঠানে সীতারামনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রকের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনও। ভারত-কানাডা সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির কথাও (Investment Protection Pact) তুলে ধরেন সীতারামন। ২০২৫ সালের মার্চে কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সীতারামনের কথায়, “সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের মতো অভিন্ন মূল্যবোধ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের অভূতপূর্ব গতিশীল পারস্পরিক সফর ও আলোচনার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।” ভারত ও কানাডাকে বিশ্বের স্বাভাবিক অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “আমি বিশ্বাস করি, ভারত ও কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক অংশীদার। আমরা দু’টি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসনের প্রতি গভীর আস্থা রয়েছে। আমাদের মধ্যে কমনওয়েলথের ঐতিহ্য, একই ধরনের সংসদীয় কাঠামো এবং একই সরকারি ভাষার ঐতিহ্য রয়েছে (India Canada)।”

    ভারত-কানাডার সম্পর্ক

    এদিকে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডার অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়েও পরোক্ষভাবে মন্তব্য করেন সীতারামন। মঙ্গলবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছে কানাডা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে পুঁজি যখন নির্ভরযোগ্য অংশীদারের সন্ধান করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ওঠানামা সামলানোর পথ খুঁজছে, তখন ভারত ও কানাডার সামনে আরও গভীর এবং বহুমুখী আর্থিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সীতারামন বলেন, এই সম্ভাবনা কেবল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিকাঠামো, আর্থিক পরিষেবা, আর্থিক প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন শক্তি, উদ্ভাবন এবং বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভারত ও কানাডার সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ার সময়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে তা উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকেই এগিয়ে নিতে পারে (India Canada)।

    বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা

    এদিকে টরন্টোয় সীতারামনের বুধবারের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কানাডার কর্পোরেট জগতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। কানাডা-ভারত ব্যবসায়িক পরিষদ এবং ভারতের শিল্প মহলের শীর্ষ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আর্থিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ভারত ও কানাডার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি—দু’টি উদ্যোগই বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, শক্তি এবং আর্থিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের সংস্থাগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও আরও প্রসারিত হতে পারে (Investment Protection Pact)। বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, শুল্কনীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে, তখন ভারত-কানাডা সম্পর্কের এই নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অগ্রগতি কতটা হয়, এখন সেটাই দেখার (India Canada)।

    ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার

    অন্যদিকে, কানাডার বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ভারত-কানাডা (India Canada) আর্থিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গিফট সিটি এবং ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বুধবার টরন্টোয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন সীতারামন। সেখানে তিনি বলেন, পরিসর, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, তরুণ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান ভোগব্যয় এবং দ্রুত সম্প্রসারিত পুঁজিবাজার—এই সবকিছুর এমন সমন্বয় ভারতকে তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা অন্যদের পক্ষে কঠিন (Investment Protection Pact)।ভারতের আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা কেন্দ্র গিফট সিটির গুরুত্ব তুলে ধরে সীতারামন বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এটি ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে উঠে আসছে। সীমান্তপারের আর্থিক কর্মকাণ্ডের কথা মাথায় রেখে তৈরি নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং করব্যবস্থা গিফট সিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তিনি বলেন, “কানাডার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি শুধু ভারতের প্রবৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে না, ভারতকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আর্থিক কর্মকাণ্ডের মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করার সুযোগ দিচ্ছে।”

    ইউপিআই

    ভারত-কানাডা সহযোগিতার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইউপিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India Canada)। সীতারামন বলেন, “এখানে কানাডার ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রযুক্তি সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। শুধু অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, আগামী প্রজন্মের ডিজিটাল আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে (Investment Protection Pact)।”

     

LinkedIn
Share