Tag: ED

ED

  • Calcutta High Court: আইপ্যাক-কাণ্ডে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য! হাইকোর্টে খারিজ তৃণমূলের মামলা, ইডির দাবি মানল আদালত

    Calcutta High Court: আইপ্যাক-কাণ্ডে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য! হাইকোর্টে খারিজ তৃণমূলের মামলা, ইডির দাবি মানল আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাইকোর্টে ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। ইডির বিরুদ্ধে করা তৃণমূলের মামলা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। তৃণমূলের যুক্তি টিকলই না আদালতে। হাইকোর্টে ইডি স্পষ্ট জানায়,কয়লা পাচার মামলার তল্লাশিতে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার দফতর থেকে কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি তারা। বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলার শুনানিতে ইডির পক্ষে আইনজীবী তথা অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু জানান, যা নেওয়ার নিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আইপ্যাক তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা৷ দুপক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি হবে বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি।

    কেন মামলা খারিজ

    এদিন, অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু হাইকোর্টে যুক্তি দেন, তল্লাশি চালানো হয়েছে আইপ্যাক সংস্থার ডিরেক্টরের দফতর ও বাড়িতে। কিন্তু সেক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়ে আদালতে এলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশীস চক্রবর্তী। অথচ তিনি তল্লাশির সময় ছিলেন না। তাহলে যে যে তথ্য তিনি আদালতে দিয়েছেন তা কীসের উপর ভিত্তি করে দিলেন? ফলে মিথ্যের উপর দাঁড়িয়ে থেকে কোনও মামলা করা যায় না। যাবতীয় জিনিসপত্র নিয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে তৃণমূলের উচিত মমতার বিরুদ্ধে মামলা করা। সেক্ষেত্রে ইডির আইনজীবীরা তাঁদের সমর্থন করবেন। এরপরই এই বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলা খারিজ করে দেন।

    ভয় পেয়েছে তৃণমূল!

    ইডির দায়ের করা মামলা মুলতুবি করা হয়েছে হাইকোর্টে। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মিস্টার রাজু বলেছেন, তৃণমূলের কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত হয়নি। তাই বিচারপতি এই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন।” অপরদিকে, আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, “ইডি পরিষ্কার বলেছে, তাঁরা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি কারণ তা ডাকাতি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল যে কাগজের দাবি করেছিল ইডি সেই প্রসঙ্গে বলেছেন আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পার্টি করুন। কারণ, উনি সব নথি নিয়ে চলে গিয়েছেন। এই সব কথা শুনে ম্যাটার অন্য দিকে ঘুরে যাবে দেখে তৃণমূলের তরফে বলা হয় যদি কোনও নথি বাজেয়াপ্ত না করা হয়ে থাকে তাহলে মামলা পেনডিং রেখে লাভ নেই। তারপর মামলা খারিজ হয়।”

    বৃহস্পতিবার সুপ্রিম দুয়ারে শুনানি

    আইপ্যাকে ইডি তল্লাশি (IPAC ED Raid) ঘিরে আইনি টানাপড়েনের জল আগেই গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। জানা গেল, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) দায়ের করা মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার হবে শীর্ষ আদালতে। আইপ্যাকে ইডি অভিযানের (IPAC ED Raid) পর আগেভাগেই সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছিল রাজ্য সরকার। তার পরপরই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় ইডি। বুধবারই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে।

  • ED: আইপ্যাক কর্তার বাড়িতে ইডির হানা, সেখান থেকে ‘সবুজ ফাইল’ নিয়ে বেরোলেন মমতা! কী রয়েছে তাতে?

    ED: আইপ্যাক কর্তার বাড়িতে ইডির হানা, সেখান থেকে ‘সবুজ ফাইল’ নিয়ে বেরোলেন মমতা! কী রয়েছে তাতে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘লাল ডায়েরি’র পর এবার ‘সবুজ ফাইল’! ঘটনাচক্রে দু’টি ঘটনায়ই ঘটেছে তৃণমূল জমানায় (Mamata Banerjee)। দুই চিটফান্ড সংস্থা রোজভ্যালি এবং সারদার শীর্ষ কর্তাদের কাছ থেকে ইডি (ED) বাজেয়াপ্ত করেছিল লাল রংয়ের দুটি ডায়েরি। সেগুলিতে ঠিক কী ছিল, তা জানা না গেলেও, এটা জানা গিয়েছে ডায়েরি দু’টিতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন, রাজনৈতিক সংযোগ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম লেখা ছিল।

    চর্চায় সবুজ ফাইল (ED)

    সময়ের শ্যাওলা লাগায় লাল ডায়েরির রং যখন ফিকে হয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই চর্চায় চলে এল সবুজ ফাইল। এবং সেই ফাইল সরিয়ে নিয়ে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেরা যাক, মূল খবরে। বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাকের অফিসে হানা দেয় ইডি। দিল্লির আর্থিক প্রতারণা মামলায় ওই সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। ইডির অভিযান শুরু হতেই দ্রুত প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। হনহনিয়ে ঢুকে যান বাড়ির ভেতরে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি যখন ওই বাড়ি থেকে বের হন, তখন তাঁর হাতে ধরা একটি সবুজ ফাইল। সেই ফাইলে কী রয়েছে, তা জানাজানি হওয়ার আগেই সেটি চলে যায় তৃণমূল সুপ্রিমোর জিম্মায়। পরে, সেক্টর ফাইভেও পৌঁছে যান মমতা। সেখানে আইপ্যাকের দফতরে ইডি হানার মাঝেই তিনি ফাইল বের করেন বলে খবর।

    কেন সবুজ ফাইল নিয়ে চলে গেলেন মমতা

    কেন তিনি বেছে বেছে সবুজ ফাইলটিই সরিয়ে নিয়ে তড়িঘড়ি এলাকা (ED) ছেড়ে চলে গেলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। মমতা বলেন, “প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা। আইটি ইনচার্জের বাড়িতে সব হার্ডডিস্ক সংগ্রহ করতে এসেছিল। সব প্রার্থীর তালিকা, পার্টির প্ল্যান, স্ট্র্যাটেজি সংগ্রহ করতে এসেছিল।” তাঁর প্রশ্ন, “এটাই কি অমিত শাহের কাজ যে আমার দলের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এসেছে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন (Mamata Banerjee), “দেশকেই রক্ষা করতে পারে না! আমার আইনি অফিসে ইডি হানা।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক দিকে এসআইআর করে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে, প্রায় দেড় কোটি মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। আর একদিকে এভাবে তল্লাশির মাধ্যমে দলের প্ল্যান হাতিয়ে নিচ্ছে।” ফাইল ‘সরানো’র সাফাই গাইতে গিয়ে মমতা বলেন, “দেখুন, আমি সব এই ফাইলে করে নিয়ে এসেছি। কারণ প্রতীক আমার পার্টির ইনচার্জ। সব হার্ড ডিস্ক আমি গুছিয়ে নিয়ে এসেছি।” কেন্দ্রীয় একটি তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি অভিযানের সময় কেন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গেলেন, কেনই বা তড়িঘড়ি করে সবুজ ফাইল বেছে নিয়ে চলে গেলেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। নজিরবিহীন এই ঘটনায় তাজ্জব তামাম রাজ্যবাসী (ED)।

    রাজীবের বাড়ির সামনে ধরনা

    যদিও তৃণমূলের আমলে এমনতর ঘটনা আগেও ঘটেছে (Mamata Banerjee)। একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যখন রাজীব কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন, তখন তার প্রতিবাদে রাজীবের বাড়ির সামনে ধরনায় বসে পড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একজন প্রশাসনিক প্রধান কীভাবে একাজ করতে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল সেই সময়। এদিন, মমতা যখন সবুজ ফাইলটি নিয়ে বেরিয়ে আসছেন, তার পিছু পিছু আরও বেশ কিছু ফাইলের গোছা নিয়ে বেরিয়ে আসেন পুলিশ কর্মীরা। সেগুলি রাখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে।

    আইপ্যাকের দফতরে মমতা পৌঁছনো

    এদিন সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে মমতা পৌঁছনোর ঢের আগেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-মন্ত্রীরা। এঁদের মধ্যে ছিলেন, বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুও। ভিআইপি লিফট না ধরে মুখ্যমন্ত্রী বেসমেন্টে গিয়ে লিফট ধরে সোজা চলে যান সেক্টর ফাইভের একটি বহুতলের ১১ তলায়। এই বেসমেন্টের সামনেই রাখা ছিল মমতার গাড়ি। সেই গাড়িতেই তোলা হল সমস্ত ফাইল। সল্টলেকে যখন মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন, তখন দেখা যায়, গোটা এলাকাটি ঘিরে রেখেছেন বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পদস্থ কর্তারা। এই পুরো পর্বটি চলার সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে চলে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও (ED)।

    আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি চালানোর সময় বহুতলটির প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ সিল করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী যখন সেখানে পৌঁছন, তখন দেখা যায় দু’টি দরজাই বন্ধ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কথা না বাড়িয়ে বেসমেন্ট দিয়ে লিফটে চড়ে মুখ্যমন্ত্রী সটান চলে যান ১১ তলায়, আইপ্যাকের দফতরে। ইডির দল আইপ্যাকের দফতরে যখন থেকে তল্লাশি শুরু করে তখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছিল। তার পরেই সেখানে বাহিনী বাড়াতে শুরু করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারটেও। মমতা যাওয়ার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যাও আরও বাড়ে (Mamata Banerjee)। পাল্লা দিয়ে বাহিনী বাড়ায় বিধাননগর পুলিশ (ED)।

  • Bengal SIR: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার, অথচ পাসপোর্ট বাংলাদেশের!

    Bengal SIR: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার, অথচ পাসপোর্ট বাংলাদেশের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (Bengal SIR) চলছে। তাতেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যের সিইওর দফতর সূত্রে খবর, অন্তত ১৪ জন ব্যক্তি একই সঙ্গে ভারতীয় ভোটার পরিচয়পত্র (Indian Epic Cards) এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। অনুমান, ওই ১৪ জনই আদতে বাংলাদেশের নাগরিক। এই তথ্যের ভিত্তিতেই রাজ্যের সিইও দফতর কলকাতার ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে।

    বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট (Bengal SIR)

    সম্প্রতি এফআরআরও, কলকাতা সিইও দফতরকে লিখিতভাবে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ১৪ জনের প্রত্যেকের কাছেই বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। তারা সকলেই বৈধ ভিসায় পশ্চিমবঙ্গে এসেছিল। কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর বাংলাদেশে ফিরে যায়নি।পরবর্তীকালে তারা বেআইনিভাবে বিভিন্ন ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে, যার মধ্যে অন্যতম হল ভোটার পরিচয়পত্র। সিইও দফতরের এক সূত্রের খবর, এই ১৪ জনের নাম ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিতব্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি, আইন অনুযায়ী এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, এই ১৪ জনকে রাজ্যের তিনটি জেলায় চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জেলাগুলি হল উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর। এর মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলা বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া। যার জেরে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে (Bengal SIR)।

    জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কারবার

    গত এক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ভুয়ো পাসপোর্ট ও জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় নাগরিকত্বের নকল নথি তৈরি করে দেওয়া (Indian Epic Cards)। তদন্তে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এই চক্রটি সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল এবং অত্যন্ত পরিকল্পিত চার ধাপের মাধ্যমে ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করা হচ্ছিল (Bengal SIR)। প্রথম ধাপে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার পর অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন গ্রামে। স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তাদের গোপনে রাখা হত।

    কীভাবে চলত কারবার?

    দ্বিতীয় ধাপে স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশে এই অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র এবং রেশন কার্ড বানানো হত। তৃতীয় ধাপে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ও রেশন কার্ডের ভিত্তিতে তৈরি করা হত আধার কার্ড ও প্যান কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় পরিচয়পত্র (Bengal SIR)। চতুর্থ তথা শেষ ধাপে এই সব নকল নথির ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভুয়ো ভারতীয় পাসপোর্ট জোগাড় করে দেওয়া হত, যার মাধ্যমে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবাধে যাতায়াত করতে পারত বা বিদেশেও যাওয়ার চেষ্টা করত (Indian Epic Cards)। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই ধরনের চক্র দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের চক্র সক্রিয় থাকাটা উদ্বেগজনক বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (Bengal SIR)। ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন দালাল ও নথি জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং আগামী দিনে আরও বড়সড় নাম সামনে আসতে পারে বলে ইডি ও রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর (Indian Epic Cards)।

  • ED: বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা দিল ইডি

    ED: বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা দিল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালি পাচার মামলায় শনিবার কলকাতার বিচার ভবনে চার্জশিট জমা দিল ইডি (ED)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলায় আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা। গত কয়েক দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় টানা তল্লাশি (Sand Mining Case) অভিযান চালিয়েছিল ইডি। তার পর এদিন জমা দেওয়া হল চার্জশিট।

    চার্জশিটে ১৮ জনের নাম (ED)

    ইডি সূত্রে খবর, চার্জশিটে মোট ১৮ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যবসায়ী অরুণ সরফ। অরুণের পাশাপাশি তাঁর তিন কর্মচারির নামও উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। কেবল ওই ব্যক্তিরাই নন, এই মামলায় কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে ১৪টি সংস্থাকেও। এর মধ্যে রয়েছে অরুণ সরফের সংস্থাও। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে সোমবার, বিচার ভবনে (ED)। তদন্তে জানা গিয়েছে, একাধিক নির্দিষ্ট সংস্থাকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি বালি খনন ও বিক্রির কাজ চলছিল। ইডির দাবি, অরুণ সরফ নিজের নামে কোনও সরাসরি হিসেব না রেখে অন্য পথে আর্থিক লেনদেন চালাতেন। তদন্তে দেখা যায়, ১০৩ কোটি টাকার বালি বিক্রির কথা স্বীকার (Sand Mining Case) করলেও, তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। এই অস্বাভাবিক ফারাক থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

    বালির মজুত যাচাই

    জানা গিয়েছে, অরুণ যখন ইডি হেফাজতে থাকাকালীন রাজ্যের ১৩টি জায়গায় বালির মজুত যাচাই করা হয়। সেখানে বাস্তব স্টক ও নথিভুক্ত হিসেবের মধ্যে একাধিক গরমিল ধরা পড়ে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। পরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ফের যাচাই করেও মিলেছে সেই অসঙ্গতির প্রমাণ (ED)। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বেআইনি বালি খননের পাশাপাশি ভুয়ো ই-চালান ব্যবহার করে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়েই এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের। গ্রেফতারির পর থেকে এখনও জেল হেফাজতেই রয়েছেন অরুণ (Sand Mining Case)।

    ইডির অভিযান

    প্রসঙ্গত, বালি পাচার মামলার বিভিন্ন সূত্র ধরে গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে ইডি। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই গত নভেম্বরে হাওড়ার বালি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় অরুণকে। গ্রেফতার করার আগে ঘণ্টা সাতেক ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। ইডির দাবি, অরুণের বিরুদ্ধে একাই প্রায় ৭৮ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের আরও অভিযোগ, অরুণের সংস্থা ওয়েস্টবেঙ্গল স্যান্ড-মাইনিং-ট্রান্সপোর্ট-স্টোরেজ ও সেলে যে সব নিয়ম রয়েছে, সে সব কিছুকে উপেক্ষা করে বালি তুলত সে। পরে তা বিক্রি করত। এভাবে প্রচুর অর্থ রোজগার করেছিল তার সংস্থা। জানা গিয়েছে, ৫৭ দিনের মাথায় জমা পড়ল এই চার্জশিট।

    বালি পাচারকাণ্ডের তদন্ত

    গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম বালি পাচারকাণ্ডের তদন্তে নামে ইডি। ওই দিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থা এক যোগে হানা দেয় ঝাড়গ্রাম ও বেহালায়। খানাতল্লাশি চালানো হয় কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময়ই জিডি মাইনিংয়েও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। ঝাড়গ্রামে গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুল আলির বাড়িতে চলেছিল তল্লাশি। সুবর্ণরেখা নদী থেকে কোনও নিয়ম না মেনে দেদার বালি পাচারের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরে সৌরভ রায় নামের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। এরা সকলেই বালির অবৈধ কারবারের সঙ্গে অভিযুক্ত বলে দাবি ইডির। আজ তাঁদের (Sand Mining Case) বিরুদ্ধেই জমা পড়ল চার্জশিট (ED)।

  • ED raids: সাতসকালে পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড জুড়ে ইডির হানা, কয়লা ব্যবসায়ীদের ৪০টি ঠিকানায় তল্লাশি

    ED raids: সাতসকালে পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড জুড়ে ইডির হানা, কয়লা ব্যবসায়ীদের ৪০টি ঠিকানায় তল্লাশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড জুড়ে বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED raid)। শুক্রবার সকাল থেকেই কয়লা কেলেঙ্কারিতে (coal scam) দুই রাজ্য মিলিয়ে প্রায় ৪০টির বেশি ঠিকানায় হানা দিয়েছে এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (West Bengal and Jharkhand)। আসানসোল, পুরুলিয়া, কলকাতার কয়েকটি এলাকা থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ – সব জায়গাতেই অভিযানে নেমেছেন ইডির আধিকারিকরা। তাঁদের সহায়তায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। লক্ষ্য মূলত কয়লা ব্যবসায়ী লালবাবু সিং ও তাঁর ভাই কুম্ভনাথ সিং-এর একাধিক ঠিকানা।

    রাজ্যের কোথায় কোথায় তল্লাশি

    শুক্রবার সকাল থেকে একসঙ্গে রাজ্যের ২৫টি জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা। কলকাতা-সহ পুরুলিয়া, আসানসোল, দুর্গাপুরে তল্লাশি চলছে। সূত্রের খবর, কয়লা পাচার সংক্রান্ত (coal smuggling) মামলায় এই তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা। বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে কয়লা মাফিয়ার (ED raid) বাড়িতেও চলছে তল্লাশি। এদিন সকালে সল্টলেকের দুটি জায়গায় পৌঁছে যান ইডি আধিকারিকরা। সল্টলেকে সেক্টর-২তে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইডি আধিকারিকরা বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালাতে শুরু করেন। সল্টলেকের একে ব্লকেও এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। সল্টলেকের একে ব্লকে ২২৫ নম্বর বাড়িতে সকাল সকাল পৌঁছে যান ইডির আধিকারিরকরা, সিজে ব্লকের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চলে তল্লাশি। বাড়ির মালিকের নাম নরেন্দ্র খারকা। বাইপাস সংলগ্ন একটি আবাসনেও চলছে অভিযান। হাওড়ার সলপ মোড়েও এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চলছে তল্লাশি। দেখা যায়, অফিসাররা পৌঁছে গেলেও অধিকাংশ অফিস ও বাড়ির মূল গেটে তালা।

    এক যোগে দুই রাজ্যে অভিযান

    কয়লা পাচার মামলায় (coal smuggling) তদন্ত চালাচ্ছে ইডি (ED raid)। সম্প্রতি সিবিআই আদালতে ইডি জানিয়েছিল, কয়লা পাচার মামলায় খুব শীঘ্রই সামনে আসবে প্রভাবশালীদের নাম। তারপরই এদিন রাজ্যের ২৫ জায়গায় একসঙ্গে হানা দিল ইডি। ঝাড়খণ্ডের ধনবাদ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোট ১২ জায়গায়ও অভিযান শুরু করেছে ইডি। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে বিসিসিএল (BCCL)-এর ঠিকাদার ও বড় কয়লা ব্যবসায়ী এলবি সিংয়ের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিও রয়েছে। ​জানা গিয়েছে, ইডির এই অভিযান বিসিসিএলর বিভিন্ন টেন্ডারে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। ​এছাড়াও, ইডি-র কলকাতা টিম পশ্চিমবঙ্গেও কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার, পরিবহনকারী এবং ইসিএল (ECL)-এর আধিকারিকদের ঝাড়খণ্ডের আস্তানাগুলিতে সমান্তরালভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে।

    লালবাবুদের ডেরায় হানা

    ইডি (ED raid) সূত্রের দাবি, কয়লা রফতানিতে (coal scam) দুর্নীতি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অসঙ্গতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান। লালবাবুদের সংস্থার অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত বিসিসিএল-এর খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের ঠিকা রয়েছে। তা নিয়েই দুর্নীতির সূত্রপাত। উল্লেখ্য, প্রায় দশ বছর আগে বিসিসিএল-এর টেন্ডার সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই লালবাবুর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল। তখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দিকে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এবার সেই লালবাবু সিং-এর ঠিকানাতেই হানা দিল আর এক কেন্দ্রীয় সংস্থা, ইডি। প্রসঙ্গত, ঠিকাদার এলবি সিংয়ের সংস্থায় এর আগে আয়কর বিভাগও অভিযান চালিয়েছিল। সেই সময় ১০০ কোটি টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

  • Al Falah University: ‘জঙ্গি তৈরির কারখানা’ আল ফালাহ্! গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা

    Al Falah University: ‘জঙ্গি তৈরির কারখানা’ আল ফালাহ্! গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউলের (White-Collar Terrorism Module) সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে গ্রেফতার করা হল আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) প্রতিষ্ঠাতা জওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকিকে। মঙ্গলবারই ইডির দীর্ঘ তল্লাশির পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। ‘জঙ্গি’ ডাক্তারদের ‘আস্তানা’ আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তথা আল-ফালাহ্ গ্রুপের চেয়ারম্যান জওয়াদ সিদ্দিকিকে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)- বা আর্থিক তছরুপ আইনের অপরাধমূলক ধারায় গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পাওয়া অর্থ বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে ব্যক্তিগত বা পরিবার-ঘনিষ্ঠ সংস্থার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

    জঙ্গি তৈরির কারখানা

    দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort Blast) এবং ডাক্তারদের জঙ্গি যোগের অভিযোগ উঠে আসার পরে আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়কে এখন ‘জঙ্গি তৈরির কারখানা’ হিসেবেও চিহ্নিত করে থাকেন অনেকে। ১০ নভেম্বর দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনার পরে প্রথম তদন্তকারীদের নজরে আসে এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃতদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও না কোনও যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছিল। এমনকী, দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় ‘সুইসাইড বম্বার’ উমর-উন-নবিও আল ফালাহ্-র সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডিং বা অর্থের জোগান কোথা থেকে আসছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে ইডি।

    আল-ফালাহ্ ট্রাস্ট এবং অন্যান্য সংস্থার ভূমিকা

    ইডির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আর্থিক তছরূপ, ভুঁইফোড় সংস্থা-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পুরো ঘটনায় আল-ফালাহ্ ট্রাস্ট এবং অন্যান্য সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত কমপক্ষে নয়টি ভুয়ো কোম্পানি, যাদের সবগুলিই একই ঠিকানায় নিবন্ধিত, ইডির তদন্তের আওতায় রয়েছে। মঙ্গলবার সারাদিন এই সূত্র ধরে কমপক্ষে ২৫টি জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। দিল্লির ওখলাতেও চালানো হয় অভিযান। নিরাপত্তার জন্য ঘিরে রাখে পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনী। উদ্ধার করা হয় নগদ ৪৮ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টের নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে ক্যাটারিং- অনেক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি দেওয়া হয়েছিল জওয়াদের স্ত্রী-সন্তানের মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকে। এদিন তল্লাশি চালিয়ে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। এছাড়া কয়েকটি শেল কোম্পানিরও সন্ধান পেয়েছে সংস্থা, যেগুলিকে অর্থ পাচারের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সন্দেহ।

    আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তার

    আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয় হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলার ধৌজ এলাকায় অবস্থিত এবং এখানে একটি মেডিকেল কলেজ এবং একটি হাসপাতাল রয়েছে। ফরিদাবাদে স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, ১৯৯০ সালে যখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সম্প্রসারণ শুরু হয়েছিল, চ্যান্সেলর নির্বিচারে অনেক গ্রামীণ রাস্তা দখল করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি ৩০ একর জমিতে নির্মিত হয়েছিল, তবে পরে আশেপাশের জমি কিনে ভবনগুলি প্রসারিত করা হয়েছিল। ৭৬ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১০৯-১৩ নম্বরে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিল্ডিং, ১৪ নম্বরে একটি ওয়ার্কশপ, ৯ নম্বরে একটি মর্গ এবং ২৫ নম্বরে একটি হাসপাতাল ভবন রয়েছে। গার্লস হস্টেলটি ২৫ এবং ৫ নম্বরে একত্রিত করে নির্মিত হয়েছে, ছেলেদের হস্টেল এবং ডাইনিং হল ২৪-২ নম্বরে অবস্থিত। এছাড়াও, ১২৩-১১ এবং ১২ নম্বরে ডাক্তারদের জন্য একটি বহুতল আবাসিক কমপ্লেক্স, ১৯-১৯ নম্বরে অ্যানাটমি বিল্ডিং এবং ১৮-২ নম্বরে মেডিক্যাল বিল্ডিং রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সব নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে। ডঃ উমর ও অন্যান্য অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অনেক জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল। তবে ডাক্তার মডিউল নিয়ে তদন্তকারী এজেন্সিগুলো পদক্ষেপ শুরু করার পরে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয় এবং শ্রমিকরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।

    জালিয়াতির মামলায় ধৃত আর এক ভাই

    ফরিদাবাদের আল ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের ভাইকে প্রায় ২৫ বছরের পুরনো একটি জালিয়াতির মামলায় হায়দরাবাদ থেকে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকির ছোট ভাই, অভিযুক্ত হামুদ আহমেদ সিদ্দিকি (৫০)-কে গ্রেফতারের জন্য ১০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ইয়াংচেন দোলকার ভুটিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মধ্যপ্রদেশের মাহু শহরে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা তিনটি মামলায় রবিবার হামুদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুয়ো বেসরকারি ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করে শত শত বাসিন্দাকে আমানত দ্বিগুণের টোপ দিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে হামুদের বিরুদ্ধে। কেলেঙ্কারি ফাঁস হতেই ২০০০ সালে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পুলিশ কয়েক দশক ধরে তাঁকে খুঁজছিল। অবশেষ তাঁকেও গ্রেফতার করা হল।

    সিদ্দিকি ভাইদের উত্থান

    জানা গিয়েছে, সিদ্দিকি ভাইদের পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল মধ্যপ্রদেশের মাউ-র (বর্তমান নাম অম্বেডকর নগর) কায়স্থ মহল্লাতে। জাভেদ এবং হামুদের বাবা মহম্মদ হাম্মাদ সিদ্দিকি সেখানে কাজি ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, নয়ের দশকের প্রথমের দিকে সিদ্দিকি পরিবার একটি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি বা বিনিয়োগকারী সংস্থা খুলেছিল। স্থানীয় সেনা কর্মী, সেনার ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ীদের সেই সংস্থায় বিনিয়োগ করার জন্য আশ্বাস দিয়েছিলেন তাঁরা। কাজি মহম্মদ হাম্মাদ সিদ্দিকি এলাকায় সজ্জন ও সম্মানীয় ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। আর তাঁর সম্মানের কথা চিন্তা করেই অনেকে সেখানে বিনিয়োগও করেন। কিন্তু সংস্থা ডুবে যাওয়ার পরে জাওয়াদ এবং হামুদ একে অন্যকে দোষারোপ করে মধ্যপ্রদেশ ছেড়ে চলে যায়। দিল্লি বিস্ফোরণের পর ফের তাদের হদিশ মেলে।

  • Online Betting Scam: বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারি! ধাওয়ান-রায়নার বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    Online Betting Scam: বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারি! ধাওয়ান-রায়নার বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনলাইন বেটিং অ্যাপের (Online Betting Scam) মাধ্যমে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে সুরেশ রায়না ও শিখর ধাওয়ানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল ইডি। ভারতের এই দুই প্রাক্তন ক্রিকেটারের মোট ১১.১৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হল। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। যে ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক সেলেব্রিটি তথা প্রাক্তন ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি।

    কত টাকা বাজেয়াপ্ত করা হল

    অভিযোগ, দুই প্রাক্তন ক্রিকেটার সব কিছু জেনেশুনেই ‘ওয়ানএক্স বেট’ নামক ওই অনলাইন বেটিং (Online Betting Scam) অ্যাপের প্রচারে অংশ নিয়েছেন। আর্থিক দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় ধাওয়ানের সাড়ে চার কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং রায়নার ৬.৬৪ কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ‘ওয়ানএক্স বেট’ অ্যাপটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। ওই অ্যাপের প্রচারমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রথম সারির তারকারা। ওয়ানএক্স বেটের সঙ্গে তাঁদের কী চুক্তি হয়েছিল, কত টাকা নিয়েছেন তাঁরা, তা নিয়ে ইডি জবাব তলব করেছে ২০১১ সালে বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য যুবরাজ সিংকে। সেই তালিকায় রয়েছেন রবিন উথাপ্পাও।

    অভিযুক্ত একাধিক সেলেব

    কেন্দ্র অনলাইন গেমিং অ্যাপ (Online Betting Scam) নিষিদ্ধ করার আগে থেকেই বেশ কয়েকটি বেটিং অ্যাপের কার্যকলাপে নজর ছিল ইডির। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ওয়ানএক্স বেট’ নামের বেআইনি বেটিং অ্যাপটি। সব মিলিয়ে ওই অ্যাপটির মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। বলিউডের ঊর্বশী রৌতেলা আবার ওই ওয়ানএক্স বেট অ্যাপের ভারতীয় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ছিলেন। গত অগস্টে এক বার হাজিরাও দিয়েছেন তিনি। এই মামলায় ইডি ডেকেছে অভিনেতা সোনু সুদ-কেও। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, জনসাধারণকে প্রলোভন দেখিয়ে বছরের পর বছর এই সমস্ত বেআইনি বেটিং অ্যাপগুলি বিভিন্ন নামে নিজেদের ব্যবসা বিস্তার করে চলেছে। সেই সঙ্গে মানুষের বিশ্বাস জিততে প্রচারে ব্যবহার করছে সেলেবদের মুখ।

     

     

     

  • FATF: ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার ব্যাপক প্রশংসা এফএটিএফের, জেনে নিন কী বলল

    FATF: ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার ব্যাপক প্রশংসা এফএটিএফের, জেনে নিন কী বলল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার ব্যাপক প্রশংসা করল ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স, সংক্ষেপে এফএটিএফ (FATF)। বৈশ্বিক জঙ্গি অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী এই সংস্থা একটি মডেল সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে ইডিকে (ED Model)। নয়া প্রকাশিত রিপোর্ট “অ্যাসেট রিকভারি গাইডেন্স অ্যান্ড বেস্ট প্র্যাকটিসেসে” এফএটিএফ উল্লেখ করেছে যে, অপরাধ ও মানি লন্ডারিং–সংক্রান্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও ব্যবস্থাপনার জন্য শক্তিশালী আইনি ও কার্যনির্বাহী ব্যবস্থা বাস্তবায়নকারী দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারত দণ্ডাদেশ-ভিত্তিক এবং অদণ্ডাদেশ-ভিত্তিক উভয় ধরনের সম্পত্তিই বাজেয়াপ্ত করার আইন সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করছে। পরস্পর আইনি সহায়তা চুক্তির আওতায় পরিচালিত মামলাগুলিতে বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের কৃতিত্বও দেওয়া হয়েছে ইডিকে।

    এফএটিএফের বক্তব্য (FATF)

    সন্ত্রাসবিরোধী পর্যবেক্ষণ এই সংস্থা জানিয়েছে, ইডির সম্পদ পুনরুদ্ধার কৌশল একটি পরিণত, সুসম্পদসমৃদ্ধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির প্রতিফলন। এটি আর্থিক তদন্তে সংশোধিত এফএটিএফ মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ,যেখানে সম্পদ পুনরুদ্ধারকে জাতীয় নীতি-অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের (PMLA) আওতায় ভারতের আইনগত কাঠামোরও প্রশংসা করেছে ওই সংস্থা। এটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে অপরাধ থেকে অর্জিত সম্পদের দ্রুত বাজেয়াপ্ত, আটক এবং বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ দেয়। রিপোর্টে ভারতের বিভিন্ন সংস্থার কার্যকর আন্তঃ-সংস্থা সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, সিবিআই এবং ইডি এবং এটিকে এমন একটি মডেল হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা আর্থিক কেলেঙ্কারির মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য, আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে একত্রিত করতে আগ্রহী অন্যান্য দেশের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে (FATF)।

    অ্যাসেট রিকভারি ব্যবস্থার প্রমাণ

    এফএটিএফ ভারতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার রেকর্ড, বিশেষত বিদেশি বিচারব্যবস্থা থেকে সফলভাবে সম্পদ প্রত্যর্পণের ঘটনাগুলিকে ভারতের ক্রমবিকশিত অ্যাসেট রিকভারি ব্যবস্থার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে (ED Model)। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “ভারতের কর্মদক্ষতা, বিশেষত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED)-এর মাধ্যমে, দেখায় যে কীভাবে ধারাবাহিক নীতি, আইনি ক্ষমতায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় অপরাধীদের অবৈধ সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে প্রকৃত ফল এনে দিতে পারে।”

    উপসংহার

    এ সব উদাহরণের সাহায্যে এফএটিএফ বলেছে যে ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার কাঠামো একটি উচ্চমানের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রতিফলিত করে, যা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। এতে স্বীকার করা হয়েছে যে ইডি আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যকে তদন্ত, আইন প্রয়োগ এবং বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে একীভূত করেছে। তার ফলেই অপরাধীদের সম্পদ দ্রুত বাজেয়াপ্ত করা যাচ্ছে। নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে বিভিন্ন বিবাদের (FATF)। এফএটিএফের ওই প্রতিবেদনের উপসংহার হল (ED Model), ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তাদের নতুন ২০২৩–২৪ সম্পদ পুনরুদ্ধার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে আর্থিক তদন্ত, সংস্থাগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পুনরুদ্ধার করা সম্পদ জনস্বার্থে ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এটি অন্য সদস্য দেশগুলিকে ভারতের ভিক্টিম ফোকাসড রিকভারি মডেল অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।

    বিনিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা

    রিপোর্টে আরও বেশ কয়েকটি ভারতীয় কেস স্টাডি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে দেখানো হয়েছে কীভাবে ইডি বিরাট পরিসরে সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছে, যা হাজার হাজার ভুক্তভোগীর উপকারে এসেছে। উদাহরণে এফএটিএফ এমন এক বিনিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা বর্ণনা করেছে, যেখানে একটি ভারতীয় কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জমির প্লট বা উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রলুব্ধ করেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সংগৃহীত অর্থ বিদ্যুৎ ও খনি-সহ অন্যান্য খাতে সরিয়ে নেয়। তদন্ত চলাকালীন ইডি ৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত করে। ওই একই সময়ে সিআইডিও সমান্তরালভাবে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছিল (FATF)।

    শেল কোম্পানিতে পাচার

    অন্য একটি ঘটনায় এফএটিএফ একটি প্রতারণাকারী কোম্পানির কথা জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে সিকিওরড ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ তুলেছিল এবং সেই টাকা একাধিক শেল কোম্পানিতে পাচার করেছিল। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত ওই সম্পদ প্রাথমিকভাবে অ্যাটাচ করে ইডি। এরপর হাইকোর্ট ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের জন্য একটি অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি (ADC) গঠন করে। ইডির অনুরোধে আদালত ৫৩৮ কোটি টাকার অ্যাটাচড অ্যাসেটস মুক্তির অনুমতি দেয়, যাতে ৭৫ হাজারেরও বেশি বিনিয়োগকারী ক্ষতিপূরণ পান। তাঁরা কোনও আইনি খরচ ছাড়াই অনলাইনে দাবি জানিয়েছিলেন (ED Model)।

    হিসেব–নিকেশে কারচুপি

    আর একটি উদাহরণে এফএটিএফ একটি সমবায় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনার কথা তুলে ধরে। এখানে আধিকারিক ও অডিটররা আঁতাত করে হিসেব–নিকেশে কারচুপি করেছিলেন। বেনামে অ্যাকাউন্ট খুলে আত্মসাৎ করেন বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়। জানা গিয়েছে, ইডি ২৯০ কোটি টাকার বেনামি সম্পদ অ্যাটাচ করে এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের জন্য সেগুলি মহারাষ্ট্র ডিপোজিটরদের স্বার্থরক্ষা সংস্থাকে হস্তান্তর করে (FATF)। এফএটিএফ জানিয়েছে, এই মামলায় বাজেয়াপ্ত করা জমিটি পরবর্তীকালে একটি নয়া বিমানবন্দর গড়তে ব্যবহার করা হয়। এটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কীভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্পদ সরাসরি সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • Sand Mining Scam: কলকাতার একাধিক জায়গায় ইডির হানা, বালি পাচার মামলায় ভোর থেকে তল্লাশি ঝাড়গ্রামেও

    Sand Mining Scam: কলকাতার একাধিক জায়গায় ইডির হানা, বালি পাচার মামলায় ভোর থেকে তল্লাশি ঝাড়গ্রামেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালি পাচার মামলায় (Sand Mining Scam) কলকাতার একাধিক জায়গায় সোমবার ভোর থেকে তল্লাশি চালাল ইডি (ED Sand Raid)। ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরে শেখ জাহিরুলের বাড়িতেও হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি সূত্রে খবর, রবিবার মধ্যরাতেই রাজ্যের নানা দিকে রওনা দেন তদন্তকারীরা। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। সোমবার ভোরে প্রায় একই সময়ে প্রতিটি জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ২০টিরও বেশি জায়গায় রেইড করে ইডি। কলকাতার বেহালা, রিজেন্ট পার্ক, বিধাননগর, কল্যাণীর মতো এলাকায় পৌঁছে যায় ইডির বিশেষ টিম।

    সাইকেল মিস্ত্রি থেকে কোটিপতি

    সূত্রের খবর, একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হলেও, তদন্তকারীদের মূল ‘টার্গেট’ ছিল ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের শেখ জাহিরুল। সুবর্ণরেখা নদীর তীরে তাঁর প্রাসাদোপম বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। তাঁর গাড়িও খতিয়ে দেখেন তাঁরা। শেখ জাহিরুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালি তোলা ও ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের খবর, জাহিরুলের বাড়ি থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ টাকাও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শেখ জাহিরুল একসময় সাইকেল মিস্ত্রি ছিলেন। অতি কষ্টে দিন কাটত। পরে ভিলেজ পুলিশের চাকরি পান। সেখানেও নামমাত্র বেতন। পরে বালি ব্যবসায় নামেন। আর এরপরেই তাঁর ভাগ্য ঘুরে যায়। ধীরে ধীরে একাধিক বালি তোলার ঘাটের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি ঝাড়গ্রামের বেলিয়াবেরিয়া ও জামবনি ব্লকের একাধিক বালিঘাটের সঙ্গে জড়িত। সেই সব এলাকাতেও তল্লাশি চলছে ইডি। ঝাড়গ্রাম জেলায় মোট ছয় জায়গায় তল্লাশি অভিযান চলছে বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, শুধু অবৈধভাবে বালির ব্যবসাই নয়, এই পাচার চক্রের বিপুল অর্থ ঘুরপথে বিভিন্ন বিমা সংস্থা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণে আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যবসার হিসাবপত্র ও অন্যান্য সম্পত্তি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    কলকাতায় কোথায় কোথায় তল্লাশি

    এদিন তল্লাশি চলছে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়ার বেশ কয়েকটি ঠিকানাতেও। কলকাতায় বেহালার একটি ঠিকানায় তল্লাশি চলছে। তল্লাশি চলছে রিজেন্ট কলোনির একটি ঠিকানাতেও। তা ছাড়াও সল্টলেক, টালিগঞ্জের কয়েকটি ঠিকানায় তল্লাশি চলছে। তল্লাশি চলছে অরুণ শ্রফ নামের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে জিডি মাইনিং নামক একটি কোম্পানিতে তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। সংস্থার একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন আধিকারিকরা। এর পাশাপাশি সংস্থার মালিকদের বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা। এখনও পর্যন্ত ২২টি জায়গা যে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি তাতে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। তবে সবটাই এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Jiban Krishna Saha: সম্পত্তি ও নগদ মিলিয়ে জীবনকৃষ্ণের ২৩৮ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    Jiban Krishna Saha: সম্পত্তি ও নগদ মিলিয়ে জীবনকৃষ্ণের ২৩৮ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি-কাণ্ডে বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার (Jiban Krishna Saha) নামে ও ঘনিষ্ঠদের নামে থাকা সম্পত্তি ও নগদ মিলিয়ে ২৩৮ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। গ্রেফতারের পর তাঁর, স্ত্রী টগরী সাহা এবং একাধিক আত্মীয়ের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক নগদ লেনদেন ও বিপুল সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একইসঙ্গে এবার তলব করা হচ্ছে সেই সব চাকরিপ্রার্থীদের, যাঁদের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকার লেনদেন (Jiban Krishna Saha)

    ইডির অনুমান, জীবনকৃষ্ণ সাহার (Jiban Krishna Saha) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্তত ৭৫ জন অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে টাকা এসেছে। এর মধ্যে কমপক্ষে সাতজন প্রার্থীর কাছ থেকে মোট ৪৬ লক্ষ টাকা গ্রহণ করা হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা সাহার স্ত্রী টগরী সাহার অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। তদন্তে উঠে এসেছে, দুর্নীতির টাকা  খাটানোর জন্য একাধিক ব্যক্তি, আত্মীয় ও পরিবারের সদস্যদের নামে জমি, ফ্ল্যাট এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এইভাবেই অবৈধ অর্থ লেনদেন ও সম্পত্তি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা শেষমেশ ধরা পড়ে যায় তদন্তকারীদের নজরে।

    মোট প্রায় ১০০ জন চাকরিপ্রার্থীর থেকে বিধায়ক টাকা নিয়েছিলেন বলে দাবি ইডির

    শুধু জীবনকৃষ্ণ সাহার (Jiban Krishna Saha) ক্ষেত্রেই, ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইডি, যা বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট অঙ্কে লেনদেন করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ইডি সূত্রে খবর, প্রথম দফায় ২০ জন প্রার্থীর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের আগামী সপ্তাহে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এরা প্রত্যেকেই জীবন কৃষ্ণকে টাকা দিয়েছিল বলে অভিযোগ। মোট প্রায় ১০০ জন চাকরিপ্রার্থীর থেকে বিধায়ক টাকা নিয়েছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের, এবং সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন এই প্রথম ২০ জন।

LinkedIn
Share