Tag: ED in Supreme Court

  • I-PAC Raid Case: ‘আইন নিজের হাতে নেওয়াই মমতার রীতি’, আই প্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা ইডির

    I-PAC Raid Case: ‘আইন নিজের হাতে নেওয়াই মমতার রীতি’, আই প্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আই-প্যাক (I-PAC) মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গেল ইডি (Enforcement Directorate)। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে আইন নিজের হাতে নিচ্ছেন এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাজে বাধা দিতে রাজ্য পুলিশের ‘অপব্যবহার’ করছেন। আই প্যাক-কাণ্ডে রাজ্যের বিরুদ্ধে সোমবার জোড়া মামলা দায়ের করেছে ইডি। একটি মামলা ইডির তরফে দায়ের করা হয়েছে। অপর মামলাটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। দুই মামলাতেই রাজ্যের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) মনোজ কুমার বর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।

    আইন রক্ষকরাই অপরাধে যুক্ত

    ইডির আবেদনে বলা হয়েছে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দসই না হলে বা তাতে তাঁর দল, মন্ত্রী কিংবা ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তথ্য উঠে আসার সম্ভাবনা থাকলে—তখনই একই ধরনের হস্তক্ষেপের ‘প্যাটার্ন’ দেখা যাচ্ছে। শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে ইডি উল্লেখ করেছে, পশ্চিমবঙ্গে এমন এক মারাত্মক পরিস্থিতি (Shocking situation in West Bengal) তৈরি হয়েছে যেখানে আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই গুরুতর অপরাধে মদত দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের ডিজিপি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কথা তুলে ধরেছে ইডি। তাদের বক্তব্য, ২০১৪ সালের ললিতা কুমারী বনাম উত্তরপ্রদেশ সরকার মামলার রায়ের আলোকে এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের হওয়া বাধ্যতামূলক।

    তল্লাশিতে কীভাবে বাধা দেওয়া হয়

    ইডি জানিয়েছে, তারা যে আই-প্যাকের (I-PAC) প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন তার জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল। তদন্তে জানা গেছিল, ২০ কোটি টাকার বেশি ‘অপরাধলব্ধ অর্থ’ তারা পেয়েছে। কিন্তু সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, ডিজিপি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা একসঙ্গে সেখানে ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ। ইডির দাবি, ওই আধিকারিকরা তদন্তকারী অফিসারদের ভয় দেখান, হুমকি দেন এবং তল্লাশির সময় বাজেয়াপ্ত করা গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ কেড়ে নেন। এমনকি তল্লাশি আর চালাতেও দেওয়া হয়নি। ইডির ভাষায়, এটি ছিল প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA) অনুযায়ী সংগৃহীত প্রমাণে সরাসরি হস্তক্ষেপ।

    সংবিধান ও আইনের শাসন অপমানিত

    ইডির স্পষ্ট বক্তব্য, সংগৃহীত প্রমাণের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপের যোগ নেই। তা সত্ত্বেও, মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের মাধ্যমে সেই প্রমাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটায় সংবিধান ও আইনের শাসন চরমভাবে অপমানিত হয়েছে। ইডি আরও বলেছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বে থাকায় রাজ্য পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা অর্থহীন। এতে প্রকৃত তদন্ত না হয়ে প্রভাবশালীদের আড়াল করার চেষ্টা হবে। ইডির আবেদনে দাবি করা হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানির সময়ও শাসক দলের সমর্থকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন। এমনকি দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আদালতে ভিড় জমাতে বার্তাও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে আদালত শুনানি মুলতুবি রাখতে বাধ্য হয়।

    সিবিআই তদন্তের দাবি ইডি-র

    এই প্রেক্ষিতে ইডি শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত সিবিআই-কে দিয়ে করানো হোক। ইডির মতে, এটি ‘রেয়ারেস্ট অফ রেয়ার’ পরিস্থিতি, যেখানে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ জরুরি—যাতে কোনও রাজনৈতিক নেতা ভবিষ্যতে প্রকাশ্যে আইন নিজের হাতে নেওয়ার সাহস না পান। ইডি আরও জানিয়েছে, তারা বহু-রাজ্য মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত একটি বৃহৎ মামলা তদন্ত করছেন। তদন্ত অনুযায়ী ২৭৪২.৩২ কোটি টাকার অপরাধমূলক অর্থ অবৈধ কয়লা খনি থেকে সরকারি কোষাগারে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই ২০ কোটি টাকারও বেশি অপরাধমূলক অর্থের প্রাপ্তির প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

    সুপ্রিম দুয়ারে ইডির আবেদন

    উল্লেখ্য এর আগেও আই প্যাক ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। শনিবার সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় একটি আবেদন করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, অভিযোগ জানিয়ে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তাদের আধিকারিকদের আইনসম্মতভাবে তল্লাশি চালানো এবং কয়লা পাচার মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য বাজেয়াপ্ত করতে বাধা দেওয়া হয়। ইডি-র আরও দাবি, রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই সংশ্লিষ্ট ওই স্থানগুলি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয়। আই প্যাক-কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করেছে ইডি। সেই মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের আশঙ্কা ছিল যে, ইডি ওই মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে। সে কারণে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করে রেখেছিল রাজ্য, যাতে সেখানে ইডির বক্তব্য একতরফা ভাবে না শোনা হয়। যদি ইডি মামলা করে, তা হলে দুই পক্ষের বক্তব্য যেন শোনা হয়, সেই জন্য দাখিল করা হয় ক্যাভিয়েট।

LinkedIn
Share