Tag: Eknath shinde

Eknath shinde

  • Eknath Shinde: এসসিও সম্মেলনের ছবি থেকে মোদিকে বাদ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছিছিক্কার

    Eknath Shinde: এসসিও সম্মেলনের ছবি থেকে মোদিকে বাদ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছিছিক্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সাম্প্রতিক সম্মেলনের একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক বিতর্ক। কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনের দলগত ছবিতে (SCO Group Photo) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছবি বাদ দিয়ে শুধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং (Eknath Shinde) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাখা হয়েছিল। সরকারি দফতর থেকে প্রকাশিত ছবিতে এই পরিবর্তন সামনে আসতেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী (Eknath Shinde)

    ঘটনাটিকে ভারতের একাধিক রাজনৈতিক নেতা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং অত্যন্ত নিম্নমানের রুচির পরিচয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোনও দেশের প্রতিনিধিকে একটি সরকারি দলগত ছবি থেকে বাদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক বিদ্বেষের পরিচয় নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মানসিকতারও প্রতিফলন। পরে অবশ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে সম্মেলনের আসল ছবিটি প্রকাশ করেন। ফলে সরকারি দফতরের প্রকাশিত সম্পাদিত ছবি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। যদিও পরে মূল ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, তবুও প্রথমে কেন ছবিটি সম্পাদনা করে নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকে বাদ দেওয়া হল, তা নিয়ে বিতর্ক থামেনি।

    ভারতীয় নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ছবির বাইরে রাখার চেষ্টা কোনওভাবেই তাঁর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে কমিয়ে দিতে পারে না।

    শিন্ডে বলেন, “পাকিস্তান যা করেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পাকিস্তান সবসময়ই এই ধরনের কাজ করার চেষ্টা করে। তবে আমি বলব, তারা মোদিজির ছবি সরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু মোদিজি চাইলে গোটা বিশ্বের ছবিতেই পাকিস্তানকে সরিয়ে দিতে পারেন।”

    শিন্ডের বক্তব্য, একটি ছবি সম্পাদনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কোনও আন্তর্জাতিক পরিসর থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদি দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে যে রাজনৈতিক ও আবেগগত গুরুত্ব বহন করেন, কোনও ছবি থেকে তাঁর উপস্থিতি বাদ দেওয়া সেই বাস্তবতাকে বদলাতে পারে না।

    তিনি এও বলেন, ছবিতে কারও উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি দিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনও নেতার গুরুত্ব নির্ধারিত হয় না। বরং এই ধরনের ঘটনা সংশ্লিষ্ট দেশের আচরণ এবং মানসিকতাকেই প্রকাশ করে (Eknath Shinde)।

    “আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তান নিজেকেই হাসির খোরাক করছে”

    প্রাক্তন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এমজে আকবরও পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে সরকারি ছবি সম্পাদনা করে কোনও রাষ্ট্রনেতাকে বাদ দেওয়ার ঘটনা পাকিস্তানের জন্যই বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আকবর বলেন, “প্রতিটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তান এভাবেই নিজেকে হাসির পাত্রে পরিণত করে। ছবির এই সেন্সরশিপ ঔদ্ধত্যের চরম প্রকাশ। শুধু আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এমনভাবে ছবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন তিনি সেখানে ছিলেনই না, তার ওপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ছবির কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে প্রান্তে রাখা হয়েছে (SCO Group Photo)।”

    আকবরের বক্তব্যে স্পষ্ট, ছবির সম্পাদনার ধরন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, ছবিতে নেতাদের অবস্থান পরিবর্তন করে পাকিস্তান নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাস্তবে এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভাবমূর্তির উপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    সমাজবাদী পার্টির নেতার কটাক্ষ

    সমাজবাদী পার্টির নেতা এসটি হাসানও এই ঘটনাকে “সস্তা এবং লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনীতি, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে একটি ছবি সম্পাদনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা পাকিস্তানের কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না (Eknath Shinde)।

    হাসান বলেন, “এটি অত্যন্ত সস্তা এবং লজ্জাজনক কাজ। পাকিস্তানের এতটা নীচে নামা উচিত নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের দেশ পাকিস্তানের থেকে অনেক এগিয়ে।”

    তাঁর আরও অভিযোগ, পাকিস্তানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ ভারতবিরোধিতা এবং সন্ত্রাসবাদকে ঘিরে আবর্তিত হয়। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ পাকিস্তানের সেই মানসিকতাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

    বিজেপির পাল্টা আক্রমণ

    বিজেপির মুখপাত্র সদিনেনি ইয়ামিনী শর্মাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ায় পাকিস্তানের দ্বিচারিতা আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ্যে চলে আসছে।

    ইয়ামিনী শর্মা বলেন, “পাকিস্তান সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সরকারি সম্মেলনের দলগত ছবি সম্পাদনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকেও সেই ছবি থেকে বাদ দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্ভীক ও দৃঢ় কূটনীতি পাকিস্তানের দ্বিমুখী সন্ত্রাসবাদী অবস্থানকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছে।”

    বিজেপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়েছে। সেই কারণে নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক অবস্থান পাকিস্তানের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করা হয়েছে (SCO Group Photo)।

    ছবি নিয়ে বিতর্ক, বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ

    একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সরকারি ছবি সাধারণত নিছক একটি ছবি নয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতি, তাঁদের অবস্থান এবং ছবির প্রকাশভঙ্গির মধ্যেও কূটনৈতিক বার্তা নিহিত থাকে। ফলে কোনও রাষ্ট্রনেতার ছবি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হলে তা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক (Eknath Shinde)।

    এই ঘটনায়ও মূল বিতর্ক সেখানেই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর কেন এমন একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করল, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। পরবর্তী সময়ে শাহবাজ শরিফ নিজেই মূল ছবি প্রকাশ করায় সম্পাদিত ছবিটি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মহলে চর্চার খোরাক শরিফের দেশের আচরণ

    ভারতীয় রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপে ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থান বা নরেন্দ্র মোদির গ্রহণযোগ্যতার কোনও ক্ষতি হবে না। বরং পাকিস্তানের আচরণই আন্তর্জাতিক মহলে চর্চার খোরাক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চিন ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতি থাকা একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ছবি নিয়ে এমন সম্পাদনা পাকিস্তানের কূটনৈতিক পরিপক্বতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

    সব মিলিয়ে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন একটি দিক সামনে নিয়ে এসেছে। ছবিতে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, সেই সম্পাদনাই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের পদক্ষেপকে আরও বেশি করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনও রাষ্ট্রনেতার গুরুত্ব একটি ছবির ফ্রেম দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং তাঁর দেশের কূটনৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং নীতিগত দৃঢ়তাই সেই গুরুত্ব নির্ধারণ করে (SCO Group Photo)। কিস্তিমাত করতে গিয়ে ফাউল করে ফেলল শাহবাজ শরিফের দেশ (Eknath Shinde)!

     

  • Lok Sabha Speaker: লোকসভায় বড় ভাঙন, শিন্ডে শিবিরে যোগ উদ্ধব শিবিরের ছয় শিবসেনা সাংসদের, আলাদা আসন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহীকেও

    Lok Sabha Speaker: লোকসভায় বড় ভাঙন, শিন্ডে শিবিরে যোগ উদ্ধব শিবিরের ছয় শিবসেনা সাংসদের, আলাদা আসন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহীকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক দু’দিন আগে দেশের রাজনীতিতে ঘটল বড় ধরনের পালাবদল। লোকসভার স্পিকার (Lok Sabha Speaker) ওম বিড়লা আনুষ্ঠানিকভাবে শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় লোকসভা সাংসদের একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় (Shiv Sena UBT) যোগদানের অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে লোকসভায় শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সাংসদ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।

    শক্তি বাড়ল এনডিএর (Lok Sabha Speaker)

    লোকসভা সচিবালয়ের জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অষ্টাদশ লোকসভায় বিভিন্ন দলের সংশোধিত অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) থেকে ওই ছয় সাংসদের দলবদলের বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে লোকসভায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর শক্তিও আরও বৃদ্ধি পেল। এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের জন্যও লোকসভায় পৃথক আসন বিন্যাসের অনুমতি দিয়েছেন স্পিকার। বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠী ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার আবেদন জানিয়েছে। যদিও ওই দলভুক্তিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংবিধানিক ও আইনি দিকগুলি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বৈঠকে আমন্ত্রণ তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের 

    অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সরকারের ডাকা সর্বদলীয় ফ্লোর লিডারদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই আরও কিছু রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত মিলছে। ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে এনডিএর সাংসদ সংখ্যা আরও বেড়েছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমর্থন এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় সাংসদের শিন্ডে শিবিরে যোগদানের ফলে সরকার গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলেই শুরু হয়েছে জল্পনা (Lok Sabha Speaker)।

    বিল পাসে আশাবাদী সরকার

    রাজনৈতিক মহলের ধারণা, লোকসভায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল এবং মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করানোর ক্ষেত্রে সরকার নতুন করে আশাবাদী। শরদ পওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমের সমর্থন মিলতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। এই ধরনের সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে লোকসভায় মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিলটি পাস করানো সম্ভব হয়নি।

    ‘অন্যায়’ আবদার তৃণমূল-উদ্ধব ঠাকরের দলের

    এদিকে, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস জোট ভেঙে টিভিকে-কে সমর্থন করার পর দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমও লোকসভায় কংগ্রেসের থেকে আলাদা আসন বিন্যাসের আবেদন করেছে। যদিও স্পিকার এখনও এ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত জানাননি। তবে তা অনুমোদিত হতে পারে বলেই জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। শিবসেনা (ইউবিটি) এবং তৃণমূল কংগ্রেস—দুই দলই তাদের বিদ্রোহী সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর (Shiv Sena UBT) সদস্যসংখ্যা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের বিধান লঙ্ঘন না করায় স্পিকারের পক্ষে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করার সম্ভাবনা খুবই কম (Lok Sabha Speaker)।

     

  • Operation Tiger: ‘অপারেশন টাইগার’ ঘিরে ফের জল্পনা মহারাষ্ট্রে, ভাঙনের আশঙ্কা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায়

    Operation Tiger: ‘অপারেশন টাইগার’ ঘিরে ফের জল্পনা মহারাষ্ট্রে, ভাঙনের আশঙ্কা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন টাইগারে’র (Operation Tiger) পর বুধবার মহারাষ্ট্রের রাজনীতির আকাশে নতুন করে জমেছে ঘোর অনিশ্চয়তার মেঘ। পুনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি ছয়লাপ ‘শুধু অপেক্ষা করুন এবং দেখুন’ লেখা পোস্টারে। এই ঘটনাই শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে (ইউবিটি) গোষ্ঠীর (Uddhav Thackeray) মধ্যে আরও এবার ভাঙনের জল্পনা উসকে দিয়েছে।এই পোস্টারগুলি এমন একটা সময়ে দেখা গেল, যখন শিবসেনার (ইউবিটি) কয়েকজন সাংসদ দল থেকে বেরিয়ে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট বাঁধার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    ‘অপারেশন টাইগার’ (Operation Tiger)

    যদিও কোনও শিবিরের পক্ষ থেকেই এখনও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা হয়নি, তবে পোস্টারগুলি এখন রাজনৈতিক মহলে ‘অপারেশন টাইগার’ নামে পরিচিত একটি উদ্যোগের উজ্জ্বল প্রতীক হয়েই উঠেছে। এটি আদতে শিবসেনার মধ্যে আর একটি বড় ধরনের ভাঙন ধরানোর চেষ্টা। ‘অপারেশন টাইগার’ বলতে বোঝায় শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে (ইউবিটি) শিবিরের কয়েকজন সাংসদ ও বিধায়ককে যাঁদের ওই গোষ্ঠী থেকে বের করে শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় নিয়ে যাওয়ার একটি ছক।২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে বিদ্রোহ মাথা চাড়া দেয় শিবসেনায়। ভেঙে দু’খান হয়ে যায় প্রয়াত মারাঠি নেতা বালঠাকরের হাতে গড়া দল শিবসেনা। তার জেরে পতন হয় উদ্ধব ঠাকরে সরকারের।

    অশনি সঙ্কেত শিবসেনার সংসদীয় শাখায়

    তার পর এবার অশনি সঙ্কেত শিবসেনার সংসদীয় শাখায়। লোকসভায় রয়েছে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীতে রয়েছেন ৯জন সাংসদ। এর মধ্যে ৬জনই পৃথক একটি সংসদীয় দল গঠনের পক্ষে। যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত হয়, তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল সংসদের মধ্যে একটি স্বীকৃত আলাদ দল গঠন করা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে দেওয়া (Uddhav Thackeray)।

    নয়া গোষ্ঠীতে কারা?

    সংবাদমাধ্যমের দাবি, পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতির জন্য ইতিমধ্যেই একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে এবং ১৬ জুন সেই চিঠির নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এই গোষ্ঠীতে থাকতে পারেন বলে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁরা হলেন— সঞ্জয় দিনা পাটিল (মুম্বই উত্তর-পূর্ব), ওমরাজে নিম্বালকর (ধারাশিব), ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে (শিরডি), সঞ্জয় যাদব (পারভানি), নাগেশ পাটিল অষ্টিকার (হিঙ্গোলি), এবং সঞ্জয় দেশমুখ (যাবতমল-ওয়াশিম)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর, শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা দিল্লিতে গিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। এই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে ওই (বিদ্রোহী) সাংসদদের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সামনে হাজির হওয়ার কথা।

    এই স্বীকৃতির প্রয়োজন কী?

    প্রশ্ন হল, এই স্বীকৃতির প্রয়োজন কী? আসলে কোনও আনুষ্ঠানিক বিভাজনের আগে নীতিগত স্বীকৃতি পাওয়াটা বেশ কয়েকটি কৌশলগত উদ্দেশ্য পূরণ করে। প্রথমত, এটি শিবসেনা (ইউবিটি) নেতৃত্বের জারি করা যে কোনও হুইপের কার্যকারিতাকে দুর্বল করে দেবে। দ্বিতীয়ত, এটি দল ছেড়ে অন্য পার্টিতে যোগ দেওয়া সাংসদদের আইনি সুরক্ষা দেয়। তৃতীয়ত, দলটি যে একটি বৈধ গোষ্ঠী, এমন যুক্তিকেও জোরালো করে। উভয় শিবিরই যখন দলত্যাগ-বিরোধী আইন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে রীতিমতো আস্তিন গুটিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই শিবসেনা (ইউবিটি) দ্রুত পদক্ষেপ করে সাংসদদের সমর্থন একটাই ঝুলিতে পুরতে। দলটি তার সব সাংসদকেই নয়াদিল্লিতে একটি জরুরি সংসদীয় দলীয় সভায় যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিন লাইনের একটি হুইপ জারি করে।

    চিফ হুইপের বক্তব্য

    চিফ হুইপ অনিল দেশাই সাফ জানিয়ে দেন, প্রত্যেক সাংসদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেসব সাংসদ দলীয় হুইপ অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, মায় দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে (Operation Tiger)। উদ্ধব ঠাকরের শিবিরের পক্ষ থেকে এই বৈঠকটিকে লোকসভায় তাঁদের প্রকৃত শক্তি ঠিক কতটা, তা যাচাই করা এবং আরও একটি সাংগঠনিক বিভাজন রোধ করার গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এদিকে, দুই শিবিরেই যখন তৎপরতা তুঙ্গে, তখন জল্পনা আরও বেড়েছে দুই গোষ্ঠীর সাংসদদের আলাদা আলাদাভাবে দিল্লিতে হাজির হওয়ার ঘটনায়। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকজন সাংসদ ঘুরপথে দিল্লি গিয়েছেন। তাই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে (Operation Tiger)।

    অল দ্য রোডস…

    জানা গিয়েছে, শিবসেনার এক সাংসদ দিল্লিতে বিমানে ওঠার আগে হাদগাঁও থেকে সড়কপথে হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন। আরও দু’জন একটি চার্টার্ড বিমানে ওঠার আগে গাড়ি চালিয়ে নান্দেদ বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। আরও এক সাংসদ মুম্বই থেকে এসেছিলেন, অন্য এক সাংসদ এসেছিলেন শিরডি থেকে (Uddhav Thackeray)। শিবসেনার প্রত্যেক সাংসদের দিল্লি যাত্রা আপাতভাবে সাধারণ মনে হলেও, একটু তলিয়ে দেখলে এটি স্পষ্ট হয়ে যায়, পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা চলা জল্পনার নেপথ্যের কারণ ঠিক কী।

    বিদ্রোহের জল্পনা ওড়ালেন শিবসেনা সাংসদ

    ক্রমবর্ধমান জল্পনার আবহে শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ রাজভাউ ওয়াজে বিদ্রোহের খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। দিল্লি পৌঁছে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন উদ্ধবের প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা। শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগের কথাও অস্বীকার করেছেন তিনি। ওয়াজে বলেন, “আমি উদ্ধবজির সঙ্গেই আছি, তাঁর সঙ্গেই থাকব। অন্য কারও সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ নেই। আমি কোনও ফোনও পাইনি, শিন্ডেজির পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করা হয়নি।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, একটি কমিটির বৈঠকে যোগ দিতেই ঝটিকা সফরে দিল্লিতে এসেছেন (Uddhav Thackeray) তিনি। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ২০২২ সালের রাজনৈতিক বিদ্রোহের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন টাইগার’ আদৌ নতুন কোনও ভাঙনের রূপ (Operation Tiger) নেয়, নাকি শুধুই রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল—সেদিকেই তাকিয়ে তামাম ভারত।

LinkedIn
Share