Tag: Election Commission India

  • West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে উদ্দেশ করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “এখানে বেড়াতে আসেননি, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন। কাজ ঠিকমতো না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে রাজ্যের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, “বাংলায় ভোটের যে কালচার ছিল, এবার তার পরিবর্তন হবে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলায় ভোট মানেই হিংসার অভিযোগ—এবার সেই সংস্কৃতি বদলাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কমিশন।

    দু’দফায় ভোটের সিদ্ধান্ত

    সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর সিইও জানান, দীর্ঘদিন পর পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় নির্বাচন হবে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    • ● প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল — ১৫২টি আসন
    • ● দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল — ১৪২টি আসন
    • ● ভোটগণনা: ৪ মে
    • ● সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ: ৬ মে

    আসনসংখ্যা ও সংরক্ষণ

    পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। এর মধ্যে—

    • ● ৬৮টি এসসি (তফশিলি জাতি)
    • ● ১৬টি এসটি (তফশিলি উপজাতি) আসন সংরক্ষিত

    কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা

    কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ৫৫টি ক্রিটিক্যাল বুথ চিহ্নিত হয়েছে। স্পর্শকাতর ও অতিস্পর্শকাতর বুথের তালিকা এখনও প্রস্তুত হচ্ছে, ফলে সংখ্যা বাড়তে পারে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের। প্রতি দফায় ভোট করাতে কত করে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন, তারও আভাস দিলেন মনোজ। অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা-ও তুলে ধরেন তিনি। সেই বিষয়ে জানাতে গিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়তি গুরুত্বের কথা বলেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘‘সিআরপিএফ ঠিক ভাবে কাজ করবে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি।’’ কমিশন জানিয়েছে, বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেক্টর অফিসে জানাবে। তারা প্রিসাইডিং অফিসারকে ফোন করবে। বুথের মধ্যে যে কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই। সিইও বলেন, ‘‘সুষ্ঠু এবং অবাধ ভোট করাতে হবে সকলকে। দায়িত্বে গাফিলতি হলে পদক্ষেপ করা হবে।’’ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে একাধিক কড়া পদক্ষেপের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক—

    • ● প্রতিটি দফায় ২২০০–২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা
    • ● প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং
    • ● প্রয়োজনে ড্রোন নজরদারি
    • ● ২৯৪টি আসনে ২৯৪ জন পর্যবেক্ষক
    • ● পুলিশ প্রশাসনের ওপর কড়া নজর

    মনোজ জানান, প্রতিটি বুথে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং থাকবে, যা তিনটি আলাদা কেন্দ্র থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। কোনও বুথের ভোটগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে, সেই ক্ষেত্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য ২৯৪ জন জেনারেল অবজারভার নিয়োগ করা হবে। এছাড়া, রাজ্যের ২৮টি পুলিশ জেলা ও ৬টি পুলিশ কমিশনারেটে দুজন করে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন। কলকাতায় ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ

    থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এলাকায় অবৈধ অস্ত্র বা বোমা মজুত থাকলে ১৯ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ভোট চলাকালীন বা ভোট-পরবর্তী হিংসার জন্য পুলিশকেই জবাবদিহি করতে হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। সিইও সতর্ক করে বলেন, ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ধরা পড়লে সংবিধানের ৩১১ ধারা প্রয়োগ করা হবে।

    ভোট প্রক্রিয়ায় নতুন উদ্যোগ

    স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—

    • ● প্রতিটি ইভিএমে থাকবে প্রার্থীদের রঙিন ছবি
    • ● ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশন দেবে
    • ● বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্লিপ পৌঁছে দেবেন
    • ● এই স্লিপে থাকবে ভোটারের নাম, বুথের বিবরণ ও পার্ট নম্বর।

    ভোটার তালিকা ও বিশেষ উদ্যোগ

    ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিচারাধীন ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে। এই কাজে রাজ্যজুড়ে ৭০৫ জন বিচারপতি নিযুক্ত রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১.৫-২ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

    বয়স্ক ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    • ● ৮৫ বছরের ঊর্ধ্ব ভোটারদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা (ওলা/উবারের সঙ্গে আলোচনা)
    • ● বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট
    • ● রাজ্যে ১০০ বছরের বেশি ভোটার: ৬,৬৫৩ জন

    মনোজ বলেন, ‘‘ভোটার ইনফর্মেশন স্লিপে কিউআর কোড থাকবে। এর আগে রাজনৈতিকদল ওই স্লিপ দিত। এ বার বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসবেন।’’ ৮৫ বা তার বেশি বয়সি ভোটারেরা বাড়ি থেকে ভোটদান করতে পারবেন। সিইও বলেন, ‘‘ওই ভোটারেরা বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট দিতে পারবেন। বাড়িতে গিয়ে তাঁর ভোট নিয়ে আসা হবে।’’

  • SIR: এসআইআর পরিচালনা সাংবিধানিক অধিকার, নির্দেশ দিতে পারেনা আদালত, সুপ্রিম কোর্টে বলল কমিশন

    SIR: এসআইআর পরিচালনা সাংবিধানিক অধিকার, নির্দেশ দিতে পারেনা আদালত, সুপ্রিম কোর্টে বলল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা দাখিল করেছে। সেখানে তারা জানিয়েছে যে ভোটার তালিকায় চলমান বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR) পরিচালনার সম্পূর্ণ অধিকার তাদেরই রয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের হলফনামায় উল্লেখ করেছে, দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে যে এসআইআর পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, তা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক অধিকার। তাই আদালত এই বিষয়ে কোনও নির্দেশ দিতে পারে না। যদি আদালত এই ধরনের নির্দেশ দেয়, তাহলে তা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।

    আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়ের জনস্বার্থ মামলা

    সম্প্রতি আইনজীবী অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় শীর্ষ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, যাতে ভারতে যে কোনো নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার যুক্তি ছিল, দেশের রাজনীতি এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে এটি জরুরি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা চায় না শীর্ষ আদালত এই ধরনের নির্দেশ দিক। কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা হলফনামায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ধারা ৩২৪ অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনের একমাত্র কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশন, এবং অন্য কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি এতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কমিশন আরও জানিয়েছে, ভোটার তালিকার যথাযথতা নিশ্চিত করতে এসআইআর অপরিহার্য, এবং তারা সর্বদা এই দায়িত্বের বিষয়ে সতর্ক ও দায়িত্বশীল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা ভোটার তালিকাকে সঠিক রাখার বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন এবং এই কাজ নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করা হয় (SIR)।

    বিহারে বাদ ৬৫ লাখ নাম (SIR)

    প্রসঙ্গত, কয়েক মাস পর বিহারে ভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। জানা গেছে, সেই রাজ্যে ইতিমধ্যেই এসআইআর-এর (SIR) মাধ্যমে প্রায় ৬৫ লাখ অবৈধ ভোটারের নাম বাদ গেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মৃত ভোটারের নাম, কিছু স্থায়ীভাবে অন্য রাজ্যে বসবাসকারী ভোটার, এবং এমন কিছু ভোটারও রয়েছে যাদের নাম একাধিক জায়গায় তালিকাভুক্ত ছিল।

LinkedIn
Share