Tag: Election Commission

Election Commission

  • Rebel TMC MPs: তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত! ১৯ সাংসদের সমর্থন নিয়ে সোমে স্পিকারের দোরে যাওয়ার পরিকল্পনা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের

    Rebel TMC MPs: তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত! ১৯ সাংসদের সমর্থন নিয়ে সোমে স্পিকারের দোরে যাওয়ার পরিকল্পনা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও প্রবল হল তৃণমূল কংগ্রেসে (Rebel TMC MPs) বড়সড় ভাঙনের জল্পনা। দলের ২৮ লোকসভা সাংসদের মধ্যে ১৯ জনের সমর্থন পাওয়ার দাবি করে বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছে, তারা সোমবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) সঙ্গে দেখা করে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাইবে। তারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদনও জানাবে।

    বিদ্রোহীদের বক্তব্য (Rebel TMC MPs)

    বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তাঁদের গোষ্ঠী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভায় নেতা এবং শতাব্দী রায়কে উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাবে। তাঁর বক্তব্য, রবিবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বসুনিয়ার দাবি, এখনও পর্যন্ত ১৯ জন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন এবং আরও কেউ যোগ দিতে চাইলে, দরজা খোলা রয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য, এনডিএর অংশ হয়ে সংসদে শাসক জোটের পাশে বসা এবং উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রের পাশে থাকা নিশ্চিত করা।

    অভিষেকের জন্যই দল গাড্ডায়!

    তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। বসুনিয়ার কথায়, “আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। পরে দল কর্পোরেট সংস্থার মতো পরিচালিত হতে শুরু করে এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।” এই কারণেই বহু নেতা ও সাংসদ ক্ষুব্ধ বলেও দাবি (Rebel TMC MPs) তাঁর। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে এবং কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার রয়েছে। ফলে নিজেদের লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের সহযোগিতা পাওয়া জরুরি বলেই তাঁরা এনডিএর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বসুনিয়া এও (Om Birla) জানান, প্রথমে স্পিকারের কাছে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাছেও ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানানো হবে (Rebel TMC MPs)।

    বিদ্রোহ চারিদিকে!

    এদিকে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগেই তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নেতাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে। তৃণমূলের আর এক বর্ষীয়ান নেতা অনুব্রত মণ্ডলও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্য রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককেও দায়ী করেছেন (Om Birla) তিনি। উল্লেখ্য, বিদ্রোহী শিবিরের তরফে এসব দাবি করা হলেও (Rebel TMC MPs), শনিবার দুপুর পর্যন্তও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি তৃণমূলের পক্ষ থেকে।

     

  • Falta Repoll: ছাপ্পা-রিগিং বিতর্কের পর পুনর্নির্বাচনের ফলতায় চলছে ভোটগ্রহণ, সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন ভোটারদের

    Falta Repoll: ছাপ্পা-রিগিং বিতর্কের পর পুনর্নির্বাচনের ফলতায় চলছে ভোটগ্রহণ, সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন ভোটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আজ, বৃহস্পতিবার ২১ মে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। এই কেন্দ্রের মোট ২৮৫টি বুথে পুনরায় ভোট নেওয়া হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার। আগামী ২৪ মে ভোটগণনা হবে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২৯ এপ্রিলের ভোটে একাধিক অনিয়ম ও ভোটপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার অভিযোগের জেরে গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ভোটে অনিয়মের অভিযোগ

    গত ২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যের শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচন। সেই দিন ফলতা কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ থেকে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, একাধিক ইভিএমে আতর, কালি ও টেপ লাগানো হয়েছিল। কোথাও বুথ দখল, কোথাও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ জমা পড়ে। ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোট দিতে বাধা দেওয়া এবং ভুয়ো ভোটারের মাধ্যমে অন্যের হয়ে ভোট দেওয়ার মতো অভিযোগও ওঠে। এছাড়াও বেশ কিছু বুথে সিসিটিভি বা ভিডিও রেকর্ডিং পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়। কোথাও দীর্ঘ সময় নজরদারি ব্যবস্থা বন্ধ ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। কিছু বুথে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীদের অযাচিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

    কমিশনের সিদ্ধান্ত

    ফলতা থেকে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসার পর পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতি বিচার করে নির্বাচন কমিশনের উচিত পুনরায় ভোট করানো। পরে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভোটের দিন সকালে কয়েকটি বুথে ক্যামেরা বন্ধ ছিল এবং পরে “টেপ রিমুভড” বলে তথ্য দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যেই বিপুল ভোট পড়ে যায় বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন জানায়, ফলতায় “স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক ভোটপ্রক্রিয়া” বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই কেন্দ্রের সবকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    পুনর্নির্বাচন ঘিরে ফলতায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে খবর, আগের ভোটের তুলনায় নিরাপত্তা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এবার প্রতিটি বুথে ৮ জন করে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) জওয়ান মোতায়েন থাকবেন। গত ২৯ এপ্রিল বুথপিছু মাত্র ৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। মোট ২৮৫টি বুথের জন্য প্রায় ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    ওয়েবকাস্টিং ও ড্রোন নজরদারি

    প্রতিটি বুথের ভেতরে দুটি এবং বাইরে একটি করে ওয়েব ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গোটা ভোটপ্রক্রিয়ার লাইভ ওয়েবকাস্টিং করা হচ্ছে, যা জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য তিন জন বিশেষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

    ভোটের আগে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির

    পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগেই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, তিনি আর এই নির্বাচনে লড়ছেন না। নিজেকে “ফলতার ভূমিপুত্র” উল্লেখ করে জাহাঙ্গির বলেন, তিনি চান ফলতায় শান্তি ও উন্নয়ন বজায় থাকুক। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    রাজনৈতিক সমীকরণে বদল

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একসময় ফলতার রাজনীতিতে জাহাঙ্গির খানের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এলাকায় তৃণমূল বিরোধী সুর জোরালো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রোড শোও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, প্রচারের পুরো পর্বে জাহাঙ্গির খানের সমর্থনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিও রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই তাঁর ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানো নতুন করে জল্পনা তৈরি করে।

  • Garga Chatterjee: গ্রেফতার ‘বাংলা পক্ষ’-র প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়, কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে?

    Garga Chatterjee: গ্রেফতার ‘বাংলা পক্ষ’-র প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়, কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলের হাতে গ্রেফতার হলেন ‘বাংলা পক্ষ’-র (Bangla Pokkho) প্রতিষ্ঠাতা তথা সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় (Garga Chatterjee)। মূলত ইভিএম (EVM) নিয়ে প্ররোচনামূলক মন্তব্য এবং গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাঁকে লালবাজারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। মঙ্গলবার সকালে দেশপ্রিয় পার্ক থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গর্গকে গ্রেফতারের সময় তাঁর পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার (PSO)-র কাছ থেকে ২৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কলকাতা উত্তরের ডিইও-র অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন গর্গকে গ্রেফতার করা হয়। আগামিকাল, বুধবার আদালতে পেশ করা হবে গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে।

    নির্বাচন কমিশনের অভিযোগে গ্রেফতার

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ইভিএম-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেশ কিছু মন্তব্য করেছিলেন গর্গ। তাঁর সেই সব মন্তব্যকে ঘিরেই আপত্তি জানায় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের পক্ষ থেকে কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) সাইবার ক্রাইম (Cyber Crime) বিভাগে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন কলকাতা উত্তরের ডিইও স্মিতা পান্ডে।  অভিযোগ ছিল, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর অনাস্থা তৈরি করতেই সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়েছেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন তদন্তকারীরা তাঁকে গ্রেফতার করেন।

    কী বলেছিলেন গর্গ?

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন গর্গ। রাতে দেখেশুনে সিল করে রাখার পরও, ভোটগণনার সময় ইভিএম খারাপ হচ্ছে কেন, প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন গর্গ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণনার সময় ইভিএম হাতবদল হয়েছে। পাশাপাশি, ‘‘বেলার দিকে নির্বাচন কমিশনের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে’’ বলেও মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে। তার আগে, ভোট দিয়ে বেরনোর আগে ভালো করে ভিভিপ্যাট দেখে নিতেও পরামর্শ দিয়েছিলেন গর্গ। তদন্তকারীদের দাবি, নির্বাচন চলাকালীন এই ধরণের মন্তব্য সরাসরি আদর্শ আচরণবিধি এবং সাইবার আইন লঙ্ঘন করে। গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে মঙ্গলবার রাতটা লালবাজারের লক-আপেই কাটাতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, আগামিকাল অর্থাৎ বুধবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারে পুলিশ।

    ২০২২ সালেও গ্রেফতার হয়েছিলে গর্গ

    গর্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস করেছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন।  ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি বাংলা পক্ষ প্রতিষ্ঠা করেন।  বাঙালি অস্মিতাকে সামনে রেখে তৈরি ‘বাংলা পক্ষ’র প্রধান গর্গ। নির্বাচনের আগে কমিশনের বিরুদ্ধে শোভাযাত্রায় অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ তোলে ‘বাংলা পক্ষ’। তাদের দাবি ছিল, পয়লা বৈশাখে শোভাযাত্রা বের করতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু তাদের অনুমতি দেয়নি কমিশন। অনুমতি না দিয়ে কমিশন ‘বাঙালির গৌরব এবং সংস্কৃতির’ উপর আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করে তারা। যদিও কমিশন জানায়, আদর্শ আচরণ বিধি কার্যকর থাকায় অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর আগে, এর আগে ২০২২ সালে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০২০ সালের জুনে অহম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল গর্গের বিরুদ্ধে। অসমের একাধিক জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেইসময় আদালত ২ বার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

  • Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে অমিত শাহের বৈঠকের পরই শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হল। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির পরিষদীয় দলনেতাই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। ভবানীপুর আসনে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান কাঁথির ছেলে শুভেন্দু। বর্তমানে তাঁর কাছে রয়েছে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই বিধানসভা আসনই। তবে বিধায়ক হিসেবে তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে।

    শুভেন্দুতেই স্বীকৃতি

    বিজেপির বাংলা জয়ে মোদী-শাহ জুটির ক্যারিশ্মা যেমন ম্যাজিক দেখিয়েছে, তেমনই কামাল করেছেন বাংলার ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারীও। পরপর দু’বার দুটি বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি এখন ‘জায়ান্ট কিলার’। শুক্রবার সকালেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় পৌঁছে জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে শুভেন্দুর নামই আগে রেখেছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। কলকাতায় আসার আগে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেন শাহ। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। এরপর এদিন পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্সম্মতিক্রমে শুভেন্দুকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

    শুভেন্দুর বিপরীতে কোনও নামই ওঠেনি

    জল্পনা ছিলই। শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, ‘‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।’’ শুভেন্দুর নেতৃত্বেই আগামী পাঁচ বছর রাজ্য চালাবে নির্বাচিত বিজেপি সরকার। শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর তাঁর হাত পদ্মফুল তুলে দিয়েও সংবর্ধনা জানান অমিত শাহ৷

    কীভাবে বাছা হল পরিষদীয় দলনেতা

    যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল শাহকে। তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন পড়শি রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তাঁদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে হবু বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম স্থির হয়েছে। বৈঠকের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে শুভেন্দু এ বার লোক ভবনে যাবেন এবং রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন।

    বাংলার মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ হবে না

    শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর শাহ বলেন, ‘‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সর্বত্র বিজেপি-র সরকার গঠিত হল। শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের অনুসারী সরকার তৈরি হয়েছে।’’ বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভ কামনা জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘শুভেন্দুকে অনেকদিন চিনি, তিনি খুব লড়াকু ব্যক্তি। প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলেছেন। আশা করি তাঁর নেতৃত্বে সোনার বাংলা গঠিত হবে।’’ নয়া মুখ্যমন্ত্রী ও বিধায়কদের অভিনন্দন জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কমিউনিস্টরা যা পরিস্থিতি করে গিয়েছিল, মমতা আরও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছিল তার মধ্যে বিজেপি আর আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদির ওপর ভরসা করে বাংলার মানুষ যে বিপুল বিজয় দিয়েছে সেজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমরা পুরো চেষ্টা করব আপনাদের বিশ্বাস ভঙ্গ না হয়। সব বিজেপি কার্যকর্তার দায়িত্ব সোনার বাংলার লক্ষ্য নিয়ে চলুক। সমস্ত দায়িত্ব পালন করুক।’’

    সুরক্ষিত বাংলা গড়ার আশ্বাস শাহ-এর

    দেশের সুরক্ষা প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সীমানা সুরক্ষিত করে পুরো দেশকে সুরক্ষিত করব।’’ দেশে থাকা সব অনুপ্রবেশকারীদের বের করা হবে বলে দাবি করেন তিনি। এও বলেন, গণতন্ত্রে হিংসাকে জায়গা দেওয়া হবে না। পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ প্রসঙ্গে শাহের মন্তব্য,‘‘বাংলা জুড়ে মা-বোনদের অত্যাচারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।’’ কলিতা মাঝি বাংলার সমস্ত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সকলের প্রতিনিধি বলে অভিহিত করেন। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ-অসম আজ বিজেপির ছাতার তলায় এসে গেল। গুন্ডাগিরি, ভ্রষ্টাচার, দুর্নীতি বন্ধ হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার সুরক্ষিত বাংলা গড়বে। কলা-সাহিত্য-সংস্কৃতি আর শিক্ষার নেতৃত্ব করবে বাংলা। এখানে থিয়েটারে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট তৈরি হবে।

    শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে কড়া নিরাপত্তা

    শনিবার সকাল ১০টায় ব্রিগেড ময়দানে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন। থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ এক ডজনের বেশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দেশের ২০টি রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীরাও থাকবেন। সমস্ত দলকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এককথায় জাঁকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান। আর আগামিকাল সেই শপথ অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু। ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে তাঁর শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।

  • Central Welfare Schemes: সরকার গড়ছে বিজেপি, বঙ্গে দ্রুত চালু হতে পারে আটকে থাকা বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প

    Central Welfare Schemes: সরকার গড়ছে বিজেপি, বঙ্গে দ্রুত চালু হতে পারে আটকে থাকা বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গের ২০৬টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি (BJP Bengal Win)। তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে প্রায় ৮০টি আসন। বিজেপির (BJP) এই বিপুল জয় এখন কেন্দ্রীয় সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণমূলক প্রকল্পের (Central Welfare Schemes) অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের পথ খুলে দিতে পারে। এই প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে। জানা গিয়েছে, বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর অন্তত সাতটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প (Ayushman Bharat)

    এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY)। এবার পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে এই যোজনা। এই প্রকল্পে পরিবার পিছু বছরে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালুর (Central Welfare Schemes) কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “বাংলায় মহিলারা নিরাপত্তার পরিবেশ পাবেন, যুবসমাজ কর্মসংস্থান পাবে। রাজ্য থেকে কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে যাওয়া বন্ধ হবে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে অনুমোদন দেওয়া হবে।” পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের ৩৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু রয়েছে। যদিও এটি কেন্দ্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রকল্প, এর ব্যয় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহন করে। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কেন্দ্রের ৪.৫৬ মিলিয়ন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে উপভোক্তা নির্বাচনে অনিয়ম ও প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের অভিযোগে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে তদন্তও হয়েছে। গ্রামীণ ও শহুরে আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে (BJP)।

    প্রসঙ্গত, সারা দেশে প্রকল্পটির নাম ‘আয়ুষ্মান ভারত’। যদিও পশ্চিমবঙ্গে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ নামেই চলেছে প্রধানমন্ত্রীর জন আরোগ্য যোজনার কাজ। ২০১৮ সালে কেন্দ্রের এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরকার। সেই সময় স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছিল,  ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) প্রকল্পে সারা দেশে যে দশ কোটি পরিবারকে চিকিৎসা ভাতার অধীনে আনা হচ্ছিল, তার মধ্যে ছিল পশ্চিমবঙ্গের এক কোটি ১২ লক্ষ পরিবারও। আর্থ-সামাজিক জাতি গণনা অনুযায়ী এই এক কোটি ১২ লাখ পরিবারকে চিহ্নিত করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে দেড় লাখ টাকার বিমার সুবিধা পায় লাখ চল্লিশেক পরিবার। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পটি ‘স্বাস্থ্যসাথী’র সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ায় রাজ্যে দেড় কোটিরও বেশি পরিবার চিকিৎসা বিমার সুবিধা পাবে বলে সেই সময় (BJP) জানিয়েছিল রাজ্য।

    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানিয়েছিলেন, মূলত ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতিতে এই প্রকল্পটি পরিচালনা করা হবে। স্বাস্থ্য দফতর নিজেরাই ট্রাস্ট তৈরি করে চিকিৎসা বিমার খরচ মেটাবে (Central Welfare Schemes)। বেসরকারি বিমা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত তাদের মাধ্যমেও একাংশের বিমার প্রিমিয়াম মেটানো হবে। পরে সকলের চিকিৎসা খরচই মেটানো হবে রাজ্যের ট্রাস্ট থেকে। এত দিন ৪০ লাখের কিছু বেশি পরিবারের বার্ষিক প্রিমিয়ামের পুরো টাকাটাই রাজ্য সরকারকে মেটাতে হত। গড়ে এক-এক জনের প্রিমিয়াম বাবদ দিতে হত ৫৮০ টাকা। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যোগ দেওয়ায় প্রায় সওয়া কোটি পরিবারের স্বাস্থ্য বিমার ৬০ শতাংশ টাকা (Central Welfare Schemes) দেবে কেন্দ্র। রাজ্য সরকার দেবে বাকি ৪০ শতাংশ। ফলে রাজ্যেও অনেক কম খরচে জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে বেশি মানুষকে চিকিৎসা বিমার সুবিধা দেওয়া যাবে। বেসরকারি ক্ষেত্রেও এই সুবিধা মিলবে। যদিও বাংলায় এই প্রকল্পের নাম ছিল স্বাস্থ্যসাথী। সর্বত্র সুবিধা মিলত না বলেও অভিযোগ। বিজেপি (BJP) জমানায় এবার ফের শুরু হবে থমকে থাকা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কাজ।

    প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা

    পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জন্য কার্যকর হতে পারে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা। এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, বিমা এবং আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়া হবে (Central Welfare Schemes)। পশ্চিমবঙ্গে জল জীবন মিশনের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য নয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণ এলাকার ৫৬.৪৬ শতাংশ পরিবার পাইপলাইনের পানীয় জলের সংযোগ পেয়েছে। সংসদে দেওয়া এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত কেন্দ্রের বরাদ্দ ২৪,৬৪৫ কোটি টাকার মধ্যে রাজ্য মাত্র ৫৩ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাব জমা ও নথিপত্র সংক্রান্ত দেরিকে।

    পিএম শ্রী স্কুল প্রকল্প

    পশ্চিমবঙ্গে স্থগিত রয়েছে পিএম শ্রী স্কুল প্রকল্পের কাজ। কেন্দ্রের পয়সায় চলা এই মডেল স্কুলগুলি এবার চালু হতে পারে। এতে উন্নত হবে শিক্ষার পরিকাঠামো। পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় ফসল বিমা প্রকল্প থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতির বিরুদ্ধে কৃষকরা সুরক্ষা পাবেন এবং সময়মতো ক্ষতিপূরণও পাবেন (Central Welfare Schemes)। প্রথাগত কারিগর ও শিল্পীদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে চালু হয়েছে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁতি, কুমোর, কামার-সহ দক্ষ শ্রমিকরা প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম এবং জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টেও ঋণের সুবিধা পাবেন, যা তাঁরা আগে পেতেন না (BJP)।

    প্রসঙ্গত, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বিজেপি (BJP Bengal Win)। রাজ্যের ২০৬টি আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে পদ্মশিবির। উৎখাত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকে। যে শাসনের গেরোয় (Central Welfare Schemes) গত ১৫ বছর ধরে হাঁসফাঁস করছিলেন বঙ্গবাসী!

     

  • Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের পর বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ চান না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু তৃণমূল আছে তৃণমূলেই। বলা ভাল মমতা আছেন মমতা-তেই। তৃণমূলের এই ভরাডুবির পিছনে যখন দলের একাংশ অভিষেকীকরণ-কে দায়ী করছেন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়ানোর কথা বললেন। যা নিয়ে দলের অন্দরে বিতর্ক তুঙ্গে।

    ৫ বছরের ব্যবধানে ধরাশায়ী অবস্থা

    তৃণমূলের ক্ষমতার মিনার ভেঙে পড়ার পর থেকেই দলের অন্দরে আলোচ্য হয়ে উঠেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা। তাঁর কর্পোরেট কায়দা, পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাককে সংগঠনের সমান্তরাল করে তোলা নিয়ে নবীন-প্রবীণ নির্বিশেষে ক্ষোভ গোপন করছেন না। একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলার ২৯৪ আসনে তৃণমূলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ছিল ২১৩। ভয়ঙ্কর ভরাডুবি দেখাল ছাব্বিশের নির্বাচন। জনতার রায়ে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের দখলে রইল মাত্র ৮০ কেন্দ্র। তাবড় তাবড় নেতা মন্ত্রী থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ধরে রাখতে পারেননি নিজেদের কেন্দ্র। গড় হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতেও উঠেছে গেরুয়া ঝড়। কিন্তু ৫ বছরের ব্যবধানে এমন ধরাশায়ী অবস্থা কীভাবে? ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলার ‘অগ্নিকন্যার’ লড়াই ছাব্বিশেই ইতি টানল? বিভিন্নমহল থেকে একাধিক কাটাছেঁড়া চললেও, এবার দলের অন্দরেই ফোঁস করে উঠছেন নেতারা। বলছেন, ‘অভিষেকই (Abhishek Banerjee) যত নষ্টের গোড়া। দলে কর্পোরেট কালচারটাই কাল হল।’

    সেই অভিষেককেই সম্মান!

    বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়াতে হল সকলকে। উঠতে হল অভিষেকের জন্মের আগে থেকে রাজনীতির আঙিনায় থাকা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সমর মুখোপাধ্যায়, জাভেদ খান, ফিরহাদ হাকিমদেরও। কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূলের জয়ী ৮০ জন প্রার্থীকে ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন অভিষেকও। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানানোর নির্দেশ দেন মমতা। তৃণমূলের এক বিজয়ী প্রার্থী বলেন, ‘‘অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানতে মমতাই সকলকে বলেন উঠে দাঁড়াতে।’’ রতুয়ার প্রবীণ বিধায়ক সমর, বালিগঞ্জ থেকে জেতা শোভনদেব, কলকাতার মেয়র তথা বন্দর আসন থেকে জেতা ফিরহাদ, বজবজ থেকে জেতা অশোক দেব— সকলকেই উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে অভিষেকের প্রতি। যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের মধ্যে।

    চেয়ার ছাড়তে হল প্রবীণদেরও

    সূত্রের খবর, মমতার নির্দেশ মেনে অনেককে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে ঠিকই। তবে অনেকেই চেয়ার ছেড়ে উঠতে ইতস্তত করেছেন। জয়ী এক প্রার্থী বলেন, ‘‘বসেও তো হাততালি দেওয়া যেত। কিন্তু হাঁটুর বয়সি অভিষেকের সামনে উঠে দাঁড়ানো প্রবীণ নেতাদের কাছে দৃশ্যতই অস্বস্তিকর ছিল।’’ তবে বৈঠকের ভিতরে উঠে দাঁড়ালেও বাইরে বেরিয়ে কেউই বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। যা খানিকটা প্রত্যাশিতই।

    অভিষেকের সমালোচনা নয়

    তৃণমূল সূত্রে আরও খবর, মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, অভিষেকের সমালোচনা করলে পার্টি বরদাস্ত করবে না। শৃঙ্খলা রাখার বিষয়ে তিনি একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিও গড়ে দিয়েছেন। যাতে রাখা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং ধনেখালির জয়ী প্রার্থী অসীমা পাত্রকে। ডেরেককে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বসার দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকবেন।

    জয়ীদের মধ্যে ১১ জন গরহাজির কেন

    তৃণমূলের টিকিটে এবার জিতেছেন সাকুল্যে ৮০ জন। সূত্রের খবর, বুধবারের বৈঠকে জয়ীদের মধ্যে ১১ জন হাজির ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হাসনের কাজল শেখ এবং আমডাঙা থেকে জয়ী তথা ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা কাশেম সিদ্দিকি। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরে দলনেত্রীর ডাকা এই বৈঠকে একসঙ্গে এতজন জয়ী প্রার্থীর অনুপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, যে জয়ী প্রার্থীরা উপস্থিত হননি, মমতা নিজেই তাঁদের নির্দেশ দিয়েছেন, আপাতত নিজেদের এলাকায় ‘আক্রান্ত’ মানুষের পাশে থাকতে। দলীয় নেতৃত্বের ব্যাখ্যা সত্ত্বেও মমতার উপস্থিতিতে নতুন পরিষদীয় দলের প্রথম সভায় ১১ জন গরহাজির থাকায় যে জয়ী প্রার্থীরা কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের প্রথম সারির এক নেতা তথা জয়ী প্রার্থীর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক ডেকেছেন, সেখানে অনুপস্থিত থাকার ঘটনা বেনজির। একমাত্র কাজল শেখের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, নানুরে রাজনৈতিক অশান্তির কারণে একজনের মৃত্যু হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। কিন্তু বাকিরা কেন অনুপস্থিত, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।’

    অভিষেকের বিরুদ্ধে গেলে ব্যবস্থা!

    ফল প্রকাশের পর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, খগেশ্বর রায়ের মতো প্রবীণ নেতা থেকে বিভিন্ন পুরসভার প্রাক্তন–বর্তমান চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ভোটকুশলী সংস্থার বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন অনেকে। বেসুরো নেতাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে দেখে ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অসীমা পাত্র ও শুভাশিস চক্রবর্তীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন মমতা। সূত্রের দাবি, বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী বলেছেন, ‘যিনি দলের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের সঙ্গে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।’ তবে, মমতা যাই বলুন, তৃণমূল সূত্রে খবর, শুধু প্রবীণরাই নন অভিষেকের পথ মানতে নারাজ অনেক যুব তৃণমূল নেতাও। তাঁদের অভিযোগ, “হারের পিছনে এক এবং একমাত্র কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটাকে কর্পোরেট একনায়কতন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে। যে দল গ্রাসরুটে মিশে থাকার কথা, তাকে নিয়ে চলে গিয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটের ৬ তলায়। ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করা নেতাদের পাত্তাই দেননি অভিষেক।” ক্ষমতা হারানোর পর দলের অভ্যন্তরে বিরোধিতা তৈরী হলেও মমতা কিন্তু ভোট দিলেন পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই।

  • Amit Shah in Kolkata: মুখ্যমন্ত্রী কে? শুক্রবারের বৈঠকেই ঠিক হবে নাম, নতুন বিধায়কদের প্রশাসনিক পাঠ পড়াতে আসছেন শাহ

    Amit Shah in Kolkata: মুখ্যমন্ত্রী কে? শুক্রবারের বৈঠকেই ঠিক হবে নাম, নতুন বিধায়কদের প্রশাসনিক পাঠ পড়াতে আসছেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদল হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতার অলিন্দে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে? জল্পনা উসকে দিয়েই আগামী শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে শুক্রবার বিকেলে এক জরুরি বৈঠকে বসছে বিজেপি (BJP)। আর সেই বৈঠকের পৌরহিত্য করতে খোদ কলকাতা আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। এই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঠিক হবে বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা কে হবেন। অর্থাৎ, কার মাথায় উঠবে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট।

    ‘অ্যাকশনে’র প্রস্তুতি শুরু

    বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে প্রস্তুতি শুরু শুক্রবারের ‘অ্যাকশনে’র। আগামী ৮ মে, শুক্রবার ঠিক বিকেল চারটেয় নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল মিটিং থেকেই ঠিক হবে বাংলা কার নেতৃত্বে চলবে আগামী পাঁচ বছর। আগামী শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হবে এখানেই। এই বৈঠকের প্রস্তুতি এবং সভাস্থল খতিয়ে দেখতে বুধবারই বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার ঘুরে দেখলেন শঙ্কর ঘোষ ও সৌমিত্র খাঁ-র মতো দলের হেভিওয়েট নেতারা।

    অমিত শাহের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ

    সাধারণত দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা বিজেপির দস্তুর। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে শাহের সশরীরে উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রাজনৈতিক মহল। নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাবধানী বিজেপি। সর্বসম্মতভাবে নেতা নির্বাচন নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের লক্ষ। পাশাপাশি রয়েছে, ঐক্যের বার্তা। সরকার গঠনের আগে দলের বিধায়কদের একজোট রাখার কড়া বার্তা দেওয়া এই বৈঠকের অন্যতম অ্যাজেন্ডা বলে মনে করা হচ্ছে। এর সঙ্গেই বৈঠকে আলোচনা হবে শপথের রূপরেখা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একাধিক নাম ঘুরছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে। জল্পনার তালিকায় যেমন রয়েছেন দীর্ঘদিনের লড়াকু নেতারা, তেমনই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নামও উঠে আসছে। শুক্রবারের বৈঠকের পর শাহের উপস্থিতিতেই সেই ধোঁয়াশা কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কখন আসবেন শাহ

    আগামী কাল, শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ শাহের বিমান কলকাতার মাটি ছোঁবে। নিউটাউনের হোটেলে রাত কাটাবেন তিনি। খোদ অমিত শাহের কলকাতায় এসে এই বৈঠক করা আসলে প্রমাণ করছে, বাংলার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে একচুলও ঢিলেমি দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। কলকাতায় এসে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের ‘ক্লাস’ও নেবেন শাহ। কীভাবে রাজ্যে সরকার বা প্রশাসনিক কাজকর্ম সামলাতে হয়, প্রধানত তারই পাঠ। দলের অন্দরের ব্যাখ্যা, এর আগে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের বিরোধী দলের ভূমিকাই সামলাতে হয়েছে। ফলে সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা বঙ্গ বিজেপির একেবারেই নেই। সেই অভিজ্ঞতার পাঠই পড়াবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে শুধুই ‘ক্লাস’ করানো নয়। প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশিকাও দেবেন অমিত শাহ।

  • Panihati Bombing: পানিহাটিতে পরপর বোমায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত, বরানগরে ছুরিকাঘাত

    Panihati Bombing: পানিহাটিতে পরপর বোমায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত, বরানগরে ছুরিকাঘাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুদের স্তুপের উপর বসে রাজ্য। ভোট পরবর্তী ঘটনায় তারই প্রমাণ মিলছে। কোথাও চলল গুলি, কোথাও বোমাবাজি (Panihati Bombing)। পরপর হামলা, অশান্তির অভিযোগ শহর কলকাতা লাগোয়া একাধিক জায়গায়। ভোট পরবর্তী সময়ে গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বারাকপুর, টিটাগড়, সোদপুর, কাঁকিনাড়া, ভাটপাড়া চত্বর। কার্যত বোমা-বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছিল এই সব এলাকা। এখনও সেই রেশ ধরেই বুধবার পানিহাটিতে চলল বোমাবাজি। রাজ্য জুড়ে গেরুয়া ঝড়ের পরও আক্রান্ত হলেন বিজেপি কর্মীরা। একদিকে মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কে গুলি করে খুনের অভিযোগ, অন্যদিকে বসিরহাটে গুলিবিদ্ধ বিজেপি কর্মী।

    পানিহাটিতে পরপর বোমা

    বুধের মধ্যরাত পেরিয়ে শহরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অশান্তির খবর আসে। সূত্রের খবর, পানিহাটি সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের কাছে বুধবার রাত সাড়ে দশটার কিছু পরে অশান্তি শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা বোমা ছোড়ে। পানিহাটির (Post Poll Violence) দু’নম্বর ওয়ার্ডের দত্ত রোডের ঘটনা। গতকাল রাতে উত্তেজনা ছড়ায় ওই এলাকায়। জানা গিয়েছে, বিজেপি কর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই সময় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী বাইকে করে ঘটনাস্থলে আসেন। বাইকে চারজন ছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। সেখানে বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে বলে অভিযোগ। পরপর তিনটি বোমা ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পরই সেখান থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।

    পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত

    বোমাবাজিতে প্রায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে বলে খবর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়দা থানার পুলিশ। সঙ্গে পৌঁছন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সেখানে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়দা থানার পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এছাড়াও সোনারপুরের সাউথ উইন্ডস কমপ্লেক্স এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বুধবার। বরানগরে বিজেপির এক কর্মীর উপর ছুরি চালানো হয়েছে।

  • Shamik Bhattacharya: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ চলবে না! পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেডে শপথ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর, ঘোষণা করেই নবান্নে শমীক

    Shamik Bhattacharya: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ চলবে না! পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেডে শপথ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর, ঘোষণা করেই নবান্নে শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ চলবে না, হুঁশিয়ারি দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya)। আগামী ৯ মে, পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে হবে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনার জন্য বুধবার বিকেলে নবান্নে গেলেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে ঢোকার আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলে যান, ভোট-পরবর্তী হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনাও করবেন তিনি।

    কেন নবান্নে গেলেন শমীক

    বুধবার বিকেল ৩টে নাগাদ শমীক নবান্নে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। ছিলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় মাহাতো এবং সৌমিত্র খাঁ। উদ্দেশ্য, ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে আলোচনা করা। আগামী শুক্রবার, ৮ মে সন্ধেয় নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হবে। তার ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ৯ মে শনিবার পঁচিশে বৈশাখের সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হবে রাজকীয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরি করতেই এদিন বিকেলে রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নে পৌঁছন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।

    শপথগ্রহণে থাকবেন মোদি-শাহ

    বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও সরকারি ভাবে নাম বলতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। এগারো সালে বাংলায় বিধানসভা ভোটে পরিবর্তনের মুখ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ‘পাল্টানো দরকার’ ক্যাম্পেনে বিজেপি কোনও একজনকে মুখ করেনি। তৃণমূলকেও এ ব্যাপারে কোনও ন্যারেটিভ তৈরির সুযোগ দেয়নি। দল লড়েছিল সমষ্টিগত লড়াই দিয়ে।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে কঠোর

    নবান্নে যাওয়ার পথে শমীক আবার ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির পতাকা নিয়ে কেউ যদি তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে, তার দায় এই মুহূর্তে বিজেপি নেবে না। কারণ, এখনও আমরা ক্ষমতায় আসিনি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি ছ’মাস আগে থেকে বলে আসছি, তৃণমূল চলে গিয়েছে, তৃণমূল চলে যাবে এবং তৃণমল চলে যাওয়ার পরে যে ‘ব্রিদিং টাইম’ থাকে, সেখানে রাজ্যপাল এবং নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে— তৃণমূলকে তৃণমূলের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব।’’

    দলে তৃণমূলীকরণ নয়

    শমীকের দাবি, রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার নামে যা হচ্ছে, তা আদতে তৃণমূল বনাম তৃণমূলের লড়াই। আর যাঁরা ক্ষমতার রদবদল হচ্ছে দেখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে দল থেকে বিদায় জানানো হবে। বস্তুত, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এবং পর দলবদলের রাজনীতি সবচেয়ে বেশি প্রত্যক্ষ করেছে পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর দল পাল্টানোর হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। শমীক জানাচ্ছেন, তাঁর দলে ওই দৃশ্য দেখা যাবে না। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘‘কিছু নব্য বিজেপি দেখা যাচ্ছে। এঁদের আমরা বিজেপিতে ঢুকতে দেব না। বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হতে দেব না। অনেকে নিজেদের রক্ত-ঘাম দিয়ে বিজেপিকে তৈরি করেছেন। ’৮০-’৯০ সাল থেকে বিজেপির যখন কিচ্ছু ছিল না, ওই ব্যক্তিদের রক্ত-ঘামে বিজেপি তৈরি। এই পার্টির তৃণমূলীকরণ আমি হতে দেব না। যেখানে যেখানে হামলা হচ্ছে… প্রয়োজনে আমি রাস্তায় নামব।’’

    রক্ত ঝড়ছে বিজেপি কর্মীদের

    শমীকের এ-ও দাবি, রাজ্যে প্রথম বার বিজেপি ক্ষমতা দখল করার পরেও রক্ত ঝরেছে তাঁদেরই। ইতিমধ্যে বিজেপির দু’জন কর্মী মারা গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আজ নির্বাচনের ফল যদি উল্টো হত, এখনই বিজেপির ২০০ কর্মী খুন হয়ে যেতেন। ১০০০ মহিলা গণধর্ষিতা হতেন। কিন্তু আমরা কোনও অবস্থায় হিংসা চাই না। আমি আগেও রাজ্যের ডিজি, কলকাতার সিপি-কে বলেছি, লাঠিচার্জ করতে।’’বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে যাঁরা রাজ্যনৈতিক হিংসা ঘটাচ্ছেন, তাঁরা প্রত্যেকে বিজেপি ‘সেজেছেন’। তার পরেও বিজেপির যদি কোনও নেতা উস্কানিতে প্ররোচনা দেন, হিংসায় প্রশ্রয় দেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শমীকের কথায়, ‘‘বিজেপির যত বড় নেতাই হোন, কেউ এ রকম করলে তাঁকে আমরা অ্যারেস্ট করাব। ছবি দিন, নাম দিন। আমি কথা দিচ্ছি ব্যবস্থা নেব। নইলে আমি সভাপতির পদ থেকে চলে যাব।’’

    নবান্ন না মহাকরণ!

    বাংলার রাজনৈতিক পালাবদল (West Bengal Election Result 2026) ঘটে গেলেও প্রশাসনিক সদর দফতর নিয়ে জল্পনা চলছেই। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) অনেক আগে থেকেই ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁরা ক্ষমতায় এলে প্রশাসনকে আবার গঙ্গার এপারে মহাকরণে ফিরিয়ে আনবেন। অর্থাৎ নবান্ন (Nabanna) থেকে নয়, রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ (Writers’ Building) থেকেই সরকার চলবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, ২০১৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে সরে যাওয়ার পর থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের যে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল, তা আজও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক নবান্ন না কি মহাকরণ – কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।

    বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে প্রথম বৈঠক!

    রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বুধবার জানিয়েছেন, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের স্থান এখনও স্থির হয়নি। মহাকরণের মেইন ব্লকসহ একাধিক ব্লকের সংস্কারের কাজ এখনও বাকি। এই অবস্থায় বৈঠক কোথায় হতে পারে তা নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। বিকল্প হিসেবে নবান্ন বা বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ের নাম উঠে আসছে। তবে সূত্রে খবর, বুধবার রাজ্যের মুখ্যসচিব বিধানসভার সচিবের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়তো বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আয়োজিত হতে পারে।

     

     

     

     

     

  • BJP in Bengal: ‘‘অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না’’ স্পষ্ট বার্তা রাজ্য নেতৃত্বের

    BJP in Bengal: ‘‘অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না’’ স্পষ্ট বার্তা রাজ্য নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদল ঘটে গিয়েছে। ক্ষমতার ধারেকাছে থাকার চেষ্টায় এবার দল বদলের পালা। অতীতেও এমন ছবি দেখা গিয়েছে রাজ্য-রাজনীতি থেকে জাতীয় স্তরে। তবে, দলবদলের-স্রোতে এখনই নিজেদের ঘর ভাসাতে রাজি নন বিজেপি নেতৃত্ব (BJP in Bengal)। সংগঠনের সব স্তরে সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। অন্য দল থেকে বিজেপিতে কাউকে যোগদান করানোয় ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করে দেওয়া হয়েছে।

    বিজেপিতে যোগ দিতে চাওয়ার আর্জি

    বিজেপি সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ মিটে যাওয়ার পর থেকেই বেশ কিছু এলাকায় বিজেপি নেতারা ফোন পেতে শুরু করেছিলেন। সে সব ফোন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মী, পঞ্চায়েত সদস্য, কাউন্সিলরদের। ৪ মে-র পর প্রয়োজনে হলে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দরজা যাতে খোলা থাকে, সেই অনুরোধ সংবলিত ফোন। ৪ মে ইভিএম খোলার পর দেখা যায়, ২০০-র বেশি আসন নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এ হেন পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিতে চাওয়ার আর্জি আরও বেড়েছে।

    তৃণমূল বা অন্যান্য দল থেকে বিজেপিতে নয়

    বিজেপির দাবি, তৃণমূলের অনেকেই অবিলম্বে বিজেপিতে শামিল হয়ে যেতে চাইছেন। এই ‘স্রোত’ তথা ‘বেনোজল’ আপাতত রুখতে চায় বিজেপি। যাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং ক্রোধের কারণে রাজ্যবাসী বিপুল সংখ্যায় বিজেপি-কে ভোট দিলেন, রাতারাতি তাঁরাই বিজেপিতে ঢুকে পড়ে নতুন শাসকদলের ‘মাতব্বর’ হয়ে উঠলে জনতা বিজেপির উপর ক্রুদ্ধ হবে বলে পদ্মনেতারা মনে করছেন। তাই আপাতত তৃণমূল বা অন্যান্য দল থেকে কাউকে বিজেপিতে শামিল করানোর উপরে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    আপাতত কাউকেই নেওয়া হচ্ছে না

    রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘যোগদান করানো একদম বন্ধ! অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া যাবে না। সংগঠনের প্রত্যেকটি স্তরে আমরা সে বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছি।’’ তা হলে কি বিজেপিতে আর কেউ কখনও যোগ দিতে পারবেন না? পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজনীতি বিষয়ক বিভাগের প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কথায়, ‘‘কেউ কখনও যোগ দিতে পারবেন কি না, দল সে সব পরে স্থির করবে। কিন্তু আপাতত কাউকেই নেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তী নির্দেশ না-যাওয়া পর্যন্ত সব যোগদান বন্ধ।’’

    যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিলেন, তাঁদের দলে নয়

    মমতার মুখে অবশ্য বিজেপির অন্য ‘ভূমিকা’র কথা শোনা গিয়েছে। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের অনেককে ফোন করে বিজেপিতে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। মমতার কথায়, ‘‘কেউ যদি নিজের নিরাপত্তার জন্য যেতে চান, আমি বাধা দেব না।’’ মমতার এই অভিযোগকে অবশ্য বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব গুরুত্ব দিতে চাননি। বিজেপির একাধিক বিধায়ক মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিলেন, তাঁরাই রাতারাতি বিজেপি হয়ে গিয়ে আবার সাধারণ জনতার উপরে অত্যাচার শুরু করবেন, এ আমরা হতে দিতে পারি না। তাই নেতৃত্বের নির্দেশ শিরোধার্য। পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত কাউকে দলে নেওয়া হবে না।’’

    অশোকনগর এলাকায় ছাঁকনি প্রতিবাদ

    দলীয় নির্দেশকে সামনে রেখে হাতে চায়ের ছাঁকনি, মাথায় গেরুয়া আবির, আর পিছনে দলীয় পতাকা নিয়ে, এই ভাবেই রাস্তায় নামলেন বিজেপি কর্মীরা। মঙ্গলবার রাতে এমনই দৃশ্য দেখলেন উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এলাকার বাসিন্দারা। বিজেপি কর্মীদের এই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে কিছুটা অবাকই হন এলাকার লোকজন। বিজেপি কর্মীরা জানিয়েছেন, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি, ভাঙচুর এবং দখলদারির ঘটনা বেড়েছে। অভিযোগ, তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর থেকে শুরু করে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে। সেই সঙ্গেই রাতারাতি দলবদল করে চলে আসছেন অনেকেই। দলের পুরনো কর্মীদের পাশ কাটিয়ে রাতারাতি দলবদল করে আসা কিছু সমর্থকই এই অশান্তির সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি তাঁদের। এই কারণেই ‘ছাঁকনি প্রতিবাদ’। ওই বিজেপি (BJP) কর্মীরা জানিয়েছেন, ছাকনিকে প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে এর মাধ্যমে বিশেষ বার্তা দিতে চাইছেন তাঁরা।

    কেন প্রতিবাদের হাতিয়ার ছাঁকনি

    ওই বিজেপি কর্মীরা বলেন, ‘ছাঁকনি দিয়ে নোংরা অংশ বাদ দেওয়া যায়। যাতে দরকারি জিনিসের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় অংশ চলে না আসে তা নিশ্চিত করা যায়। তেমনই দলে হঠাৎ আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবাদের মাধ্যমে।’ মঙ্গলবার রাতে এই অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয় অশোকনগর চৌরঙ্গী মোড় এলাকায়। বিজেপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জয়ী বিধায়কের তরফে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

    দলবদলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা হাবরায়

    দলবদলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে হাবরা এলাকাতেও। এই আসনে বিজেপির দেবদাস মণ্ডলের কাছে হেরে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তার পরেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেকেই রাতারাতি দলবদল করেছেন। বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস দখল এবং অশান্তি সৃষ্টি করছেন তারা বলে অভিযোগ। এই নিয়ে হাবরা থানার সামনে দাঁড়িয়েই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকার নবনির্বাচিত বিধায়ক। তাঁর দাবি, এই অশান্তির ঘটনায় প্রকৃত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কোনও ভূমিকা নেই। তৃণমূল সমর্থকরাই দলবদল করে এই অশান্তি ঘটাচ্ছে। যারা এই ধরনের অরাজকতায় যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

LinkedIn
Share