Tag: Electoral Roll Revision

  • SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে বিশেষ উদ্যোগ, জানুন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

    SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে বিশেষ উদ্যোগ, জানুন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়া শেষ হওয়া রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে (SIR) যোগ্য ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ (Voter List Name Deleted) পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠকেও বিষয়টি ফের জানানো হয়েছে।

    কেন বিশেষ উদ্যোগের নির্দেশ? (SIR)

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ নাম, অর্থাৎ ৭১ শতাংশেরও বেশি অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত এবং অন্যান্য শ্রেণিতে পড়েছে।

    প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ নাম বাদ পড়েছে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের মৃত্যুর কারণে। এই সংখ্যা মোট বাদ পড়া নামের ২০ শতাংশের সামান্য বেশি। এছাড়া প্রায় ১ কোটি ১ লাখ নাম একাধিকবার থাকার কারণে চিহ্নিত হয়েছে, যা মোট বাদ পড়া নামের প্রায় ৭.৬ শতাংশ।

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এমন ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধনের সময় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ে থাকলে তা চিহ্নিত করে ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং ভোটার নিবন্ধন আধিকারিকদের বলা হয়েছে, বাদ পড়া ভোটারদের পাশাপাশি নতুন করে যোগ্য হওয়া তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদেরও ধারাবাহিক সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করতে।

    এর জন্য বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে এবং পরে তৈরি হওয়া ভোটার তালিকার তুলনা করতেও বলা হয়েছে। যাঁদের নাম সংশোধনের সময় বাদ পড়েছে, কিন্তু এখনও ভোটার তালিকায় থাকার যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্ক কোথায়?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ফর্ম ৬-এর ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী ১০ মাসের মধ্যে ১৪ বার এমন কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন, যেগুলি তাঁদের অজ্ঞাতসারে কমিশনের নামে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ফর্ম ৬ সংক্রান্ত পরিবর্তনও ছিল।

    জুলাই মাসে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত করে ফর্ম ৬-এর কাগজের সংস্করণে একটি পৃথক ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়। সেখানে আবেদনকারী অথবা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, সেই তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

    অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রেও আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল (SIR)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগাস্টে সান্ধু এই পরিবর্তনকে অননুমোদিত ও বেআইনি বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ফর্ম ৬ ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০-এর সঙ্গে সংযুক্ত এবং ওই বিধিমালায় সংশোধন করার ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে রয়েছে (Voter List Name Deleted)।

    পরে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানায়, ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি। আধিকারিকদের দাবি, বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হওয়ার সময় অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি সম্পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের জন্যও তা অনুমোদিত হয়।

    অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, তার কারণ হিসেবে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের করা কিছু পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। আবেদনকারীদের যাতে দু’বার বৈদ্যুতিন স্বাক্ষর করতে না হয়, সেই কারণেই ওই পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে আধিকারিকরা জানান।

    অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে?

    না। ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি শুধুমাত্র বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর্যায়ে প্রযোজ্য ছিল।

    যেসব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে, সেখানে প্রথমবার ভোটার হতে চলা যোগ্য নাগরিক এবং সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০ অনুযায়ী প্রচলিত সরকারি ফর্ম ব্যবহার করতে হবে (SIR)।

    তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অর্চনা পটনায়কও স্পষ্ট করেছেন, ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রটি বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় কার্যকর থাকবে। সংশোধনবহির্ভূত সময়ে প্রচলিত সরকারি ফর্মই ব্যবহার করা হবে।

    নাম বাদ পড়েছে কি না, কীভাবে জানবেন?

    নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবার মাধ্যমে অনলাইনে নিজের নাম ও নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করা যায়।

    প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবায় যেতে হবে। এরপর “ভোটার তালিকায় অনুসন্ধান” বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।

    নাম খোঁজার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে—

    ১. ভোটার পরিচয়পত্র নম্বরের মাধ্যমে—নিজের ভোটার পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে রাজ্য নির্বাচন করতে হবে।

    ২. ব্যক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে—নিজের নাম, আত্মীয়ের নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং বিধানসভা কেন্দ্রের তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করা যাবে।

    ৩. মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে—নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এককালীন গোপন সংকেতের মাধ্যমে যাচাই করা যাবে।

    ভোটার তালিকায় নাম দেখা গেলে ধরে নিতে হবে, নিবন্ধন সক্রিয় রয়েছে। নাম না থাকলে যোগ্য ভোটার ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

    নাম ফের যোগ করবেন কীভাবে?

    সাধারণত নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬ ব্যবহার করা হয়। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করতেও এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।

    যোগ্য ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে অথবা ভোটার সহায়তা অ্যাপের মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে কিন্তু ভোটার হিসেবে থাকার সব যোগ্যতা রয়েছে, তাঁরাও ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

    তবে কোনও ভোটার একই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তন করলে অথবা অন্য বিধানসভা কেন্দ্রে চলে গেলে এবং নিজের ভোটার নিবন্ধন স্থানান্তর করতে চাইলে ফর্ম ৬ নয়, ফর্ম ৮ ব্যবহার করতে হয় (SIR)।

    কীভাবে পূরণ করবেন ফর্ম ৬?

    প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা পোর্টালে যেতে হবে অথবা ভোটার সহায়তা অ্যাপ খুলতে হবে (Voter List Name Deleted)।

    এরপর নতুন ভোটার নিবন্ধন বা ফর্ম ৬-এর বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।

    নির্ধারিত ব্যক্তিগত ও বাসস্থানের তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জন্মতারিখের প্রমাণ-সহ অন্যান্য নথি আপলোড করতে হবে।

    আবেদন জমা দেওয়ার পরে প্রাপ্ত স্বীকৃতি বা আবেদন নম্বরটি সংরক্ষণ করতে হবে। এই নম্বরের মাধ্যমে আবেদনের অগ্রগতি জানা যাবে।

    বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকরা বিদেশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬এ ব্যবহার করবেন।

    অফলাইনে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার পদ্ধতি

    ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক, সহকারী ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক অথবা বুথস্তরের আধিকারিকের কাছ থেকে ফর্ম ৬ সংগ্রহ করা যায়। নির্বাচন কমিশনের সরকারি মাধ্যমেও এই ফর্ম পাওয়া যায়।

    প্রয়োজনীয় নথির প্রতিলিপি-সহ পূরণ করা ফর্ম সংশ্লিষ্ট ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক বা সহকারী আধিকারিকের কাছে সরাসরি জমা দেওয়া যায়। ডাকযোগেও পাঠানো যায়। সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্র এলাকার বুথস্তরের আধিকারিকের কাছেও ফর্ম জমা দেওয়া যায়।

    প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ভোটার সহায়তা নম্বর ১৯৫০-এ যোগাযোগ করা যাবে।

    কারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন?

    ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে হলে সাধারণত চারটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

    ১. আবেদনকারীকে ভারতের নাগরিক হতে হবে।

    ২. ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার তারিখগুলির মধ্যে—১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই অথবা ১ অক্টোবর—যে কোনও একটি তারিখে তাঁর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

    ৩. যে বিধানসভা কেন্দ্র বা ভোটকেন্দ্রের এলাকার ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে চাইছেন, সেখানে তাঁকে সাধারণভাবে বসবাস করতে হবে।

    ৪. অন্য কোনও কারণে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য তিনি অযোগ্য না হয়ে থাকেন।

    আধিকারিকদের কী করতে বলেছে কমিশন?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় বাদ পড়ে যাওয়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে একাধিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    প্রথমত, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে থাকা ভোটার তালিকার সঙ্গে সংশোধনের পরে তৈরি চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে।

    এছাড়াও এমন ঘটনাগুলি খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে, যেখানে কোনও ভোটারের নাম অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হওয়ার প্রমাণ নেই, তিনি একাধিকবার তালিকাভুক্ত নন এবং তাঁর মৃত্যুও হয়নি—তবুও তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে (SIR)।

    এই ধরনের ক্ষেত্রে আধিকারিকদের ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ৬ পূরণে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এই বিশেষ উদ্যোগে রাজনৈতিক দল এবং তাদের বুথস্তরের প্রতিনিধিদের সাহায্য নেওয়ার জন্যও রাজ্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

    এর মূল লক্ষ্য হল, সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়া সমস্ত যোগ্য ভোটার যাতে নির্ধারিত ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করা।

    নাম না থাকলে ভোটারদের কী করা উচিত?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পরে ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে না পেলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবার মাধ্যমে নিজের নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করতে হবে।

    যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নাম না থাকলে ভোটার পরিষেবা পোর্টাল, ভোটার সহায়তা অ্যাপ অথবা সংশ্লিষ্ট ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক, সহকারী ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক কিংবা বুথস্তরের আধিকারিকের মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশ থেকে স্পষ্ট, বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সংশোধিত তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়াই লক্ষ্য। তবে (Voter List Name Deleted) বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর্যায় শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি প্রক্রিয়াই কার্যকর থাকবে (SIR)।

     

  • EC: এসআইআর নিয়ে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, মতবিরোধের জল্পনা ওড়াল নির্বাচন কমিশন

    EC: এসআইআর নিয়ে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, মতবিরোধের জল্পনা ওড়াল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের জল্পনা খারিজ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (EC)। দেশজুড়ে এসআইআর কার্যকর করা-সহ এ সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের তিন সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার এসএস সান্ধু ও বিবেক জোশীর বৈঠকের পর এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয় (SIR)। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এসআইআর চলাকালীন ভোটারদের নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাঁদের শুনানির প্রক্রিয়া সহজ করার কথাও ঘোষণা করেছে কমিশন।

    সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, দাবি কমিশনের (EC)

    কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহার দিয়ে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর পরিচালনার নির্দেশ সর্বসম্মতিক্রমে জারি করা হয়েছিল। কমিশনের দাবি, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টও ওই নির্দেশ বহাল রেখেছে। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে আরও ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের সময়সূচি ঘোষণার সিদ্ধান্তও সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন।

    একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রও সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পেয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার বাইরে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্ম ব্যবহার করা হবে।

    কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের অভিযোগও অস্বীকার করা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো চিঠিটি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের নীতি সংক্রান্ত ছিল না। সেটি নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে কর্মরত এক আধিকারিকের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    কমিশন আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের জারি করা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের নির্দেশ দুই নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশের পর বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উপর ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের তদারকির দায়িত্বও কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।

    গোয়ায় বাদ পড়া ৯৭ ভোটারের মধ্যে ৮১ জনের আবেদন

    এসআইআর প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের আবেদনপত্র সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO)।

    কমিশনের দাবি, গোয়ায় সংশ্লিষ্ট ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮১ জন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন (EC)।

    আপত্তি জমার সময়সীমা বৃদ্ধি

    দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের আবেদনের ভিত্তিতে এসআইআর সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের অনুরোধ বিবেচনা করেই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    বাড়িতেই যাবেন বিএলও

    এসআইআর চলাকালীন যেসব ভোটারের তথ্যের সঙ্গে পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না অথবা নথিতে যৌক্তিক অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

    এই ধরনের ভোটারদের নোটিশ পাঠানো হলেও সাধারণত তাঁদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (AERO) দফতরে শুনানির জন্য হাজির হতে হবে না।

    পরিবর্তে বুথ লেভেল অফিসাররা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং সেগুলি ইসিআইনেট পোর্টালে আপলোড করবেন। ওই নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট ইআরও।

    কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ইআরও প্রয়োজন মনে করলে শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। সেক্ষেত্রেও অনলাইন শুনানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ভোটার তাঁর পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে নিজের হয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে পারবেন। অনলাইন শুনানির পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।

    পাশাপাশি, রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী মানুষ, শ্রমিক, দরিদ্র ও গৃহহীনদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেল্প ডেস্ক এবং বিশেষ শিবির আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচনী (EC) আধিকারিকদের।

    ২০টি অঞ্চলে এসআইআর সম্পূর্ণ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার-সহ ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন বা পরবর্তী সময়ে যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা নিয়মিত তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানাতে পারবেন।

    একই সুযোগ পাবেন নতুন এবং প্রথমবারের ভোটাররাও। সংশ্লিষ্ট ইআরও-র কাছে আবেদন জানাতে হবে তাঁদের। বাদ পড়া এবং নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অবিলম্বে বিশেষ অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (SIR)।

    পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞ কমিটি

    নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইসিআইনেটের কার্যকারিতা ও আইনি বিধি মেনে পরিচালনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। পাশাপাশি আইআইটি বা আইআইআইটি থেকে একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞকেও কমিটিতে রাখা হবে।

    কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচনী আধিকারিকরা যাতে নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের পরামর্শের ভিত্তিতে পোর্টালে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও পরিবর্তন করা হবে।

    ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কোনও নতুন মডিউল বা পোর্টাল চালু করার আগে আধিকারিকদের কমিটিতে আলোচনা হবে। তার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে (EC)।

    কমিশনের বৈঠক ও প্রশাসনিক কাজেও নতুন নির্দেশ

    নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি বৈঠকের আলোচ্যসূচি আগাম সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। বৈঠকের কার্যবিবরণীও সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে বিলি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    পাশাপাশি, কমিশনের সমস্ত আধিকারিকের বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন রিপোর্ট প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারদের দেওয়া সমস্ত নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করতে হবে আধিকারিকদের।

    এর আগে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কমিশন জানিয়েছিল, এটি একটি বহুসদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (SIR)। লিখিত পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই কমিশনের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে শনিবারের বৈঠকের পর এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়ার কথা পুনরায় জানাল কমিশন (EC)।

     

  • Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের সংখ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নতুন তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে নাম অন্তর্ভুক্তি ও নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে (EC) চ্যালেঞ্জ করে মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন সেই ভোটাররা, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখ ভোটারের প্রায় ৮২ শতাংশ নিজেদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেছেন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই তথ্য জানায়। কমিশনের বক্তব্য, আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির সামনে থাকা মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনের মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন বাদ পড়া ভোটাররা। অন্যদিকে, ১৬.১০ লাখ আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নামের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ, ওই আবেদনগুলির উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম আরও বাদ দেওয়ার দাবি জানানো। এই ১৬.১০ লাখ আবেদন কারা করেছেন, তা কমিশন স্পষ্ট করেনি। তবে কোনও ভোটার বা নির্বাচনী আধিকারিক কোনও ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে অযোগ্য বলে মনে করলে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

    আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তিতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব (Supreme Court)

    আপিলের বিপুল সংখ্যা সামলাতে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

    কমিশনের বক্তব্য, “বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর ফলে বিচারাধীন আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।”

    ৬০ লাখেরও বেশি ভোটারের যোগ্যতা যাচাই

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ‘যুক্তিগত অসঙ্গতি’ চিহ্নিত করা ব্যবস্থার মাধ্যমে ৬০.০৬ লাখ ভোটারের নাম যাচাইয়ের আওতায় এসেছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের মধ্যে একটি অংশের ভোটার হিসেবে যোগ্যতা বিচার করার দায়িত্ব বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর দেয়। সেই সময় তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আস্থার ঘাটতির কথাও আদালত উল্লেখ করেছিল।

    পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার প্রায় ৭০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের যাচাইয়ের পর ২৭.১৬ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং বাকিদের নাম বহাল রাখা হয় (Supreme Court)।

    এর পর ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়। ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং ১৩ এপ্রিল থেকে সেগুলি কাজ শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণের কয়েক দিন আগে থেকেই ট্রাইব্যুনালগুলি কাজ করছিল।

    ভোটের আগে মাত্র ১,৬০৭ জনের নাম ফেরানো সম্ভব

    নির্বাচনের আগে দায়ের হওয়া বিপুল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে মাত্র ১,৬০৭ জন ভোটারের নাম সময়মতো ভোটার তালিকায় ফেরানো সম্ভব হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বহু আবেদনকারী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।

    তবে পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনালগুলির নিষ্পত্তির সংখ্যা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অগাস্ট পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৮২,৭৮২টি আবেদনের মধ্যে ৭৫,৪৪৩ জনের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ৭,৩৩৯ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে (EC)।

    বর্তমানে অবশ্য আবেদনের বড় অংশই এখনও বিচারাধীন। ১৮ সেপ্টেম্বরের কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৮,২০,৬৮৩টি আবেদনের মধ্যে ১,০২,২৩১টির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩৭,১৮,৪৫২টি আবেদন তখনও বাকি ছিল (Supreme Court)।

     

  • Supreme Court SIR Verdict: দেশজুড়ে এসআইআর-কে বৈধ ঘোষণা, নাগরিকত্ব যাচাই করতেই পারে নির্বাচন কমিশন, স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    Supreme Court SIR Verdict: দেশজুড়ে এসআইআর-কে বৈধ ঘোষণা, নাগরিকত্ব যাচাই করতেই পারে নির্বাচন কমিশন, স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক ঐতিহাসিক রায়ে নির্বাচন কমিশনের (ECI) ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ সংক্ষেপে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই উদ্যোগ সংবিধানের “স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন” নিশ্চিত করার মূল উদ্দেশ্যকে শক্তিশালী করে এবং নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যেই থেকে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়। ২০২৫ সালের জুন মাসে দায়ের হওয়া একাধিক রিট পিটিশনের শুনানির পর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। মামলাগুলিতে বিহারে শুরু হওয়া প্রথম দফার এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।

    কী ছিল মামলাকারীদের অভিযোগ?

    আবেদনকারীদের দাবি ছিল, নির্বাচন কমিশন এই বিশেষ পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে কার্যত নাগরিকত্ব নির্ধারণকারী সংস্থার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যাঁরা ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, তাঁদের আবার নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বাধ্য করা আইনের পরিপন্থী। মামলাকারীদের আরও অভিযোগ ছিল, এই প্রক্রিয়া সাধারণ ভোটারদের উপর অতিরিক্ত নথিপত্রের চাপ তৈরি করছে এবং বহু মানুষের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দেয়।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    রায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং ১৯৫০-এর জনপ্রতিনিধি আইনের (Representation of the People Act) ২১(৩) ধারার অধীনে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুনর্বিবেচনা চালানোর পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, আইন যখন কমিশনকে “যে কোনও সময় বিশেষ পুনর্বিবেচনা” করার অনুমতি দিয়েছে, তখন শুধুমাত্র নিয়মিত পুনর্বিবেচনার প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল না থাকার কারণে এসআইআরকে অবৈধ বলা যায় না। বেঞ্চের মতে, এই এসআইআর (SIR) কোনওভাবেই বিদ্যমান আইনকে প্রতিস্থাপন করছে না, বরং সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্যকে কার্যকর করছে।

    “ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা জরুরি”

    সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানায়, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন শুধুমাত্র ভোটগ্রহণের ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে না, বরং নির্ভর করে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার উপর। আদালতের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ একটি প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পদক্ষেপ। আদালত উল্লেখ করে, নির্বাচন কমিশন যে কারণগুলি দেখিয়ে এসআইআর (SIR) চালু করেছে, তা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। যেমন—

    • ● চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে পূর্ণাঙ্গ নিবিড় সংশোধন হয়নি
    • ● বছরের পর বছর ব্যাপক হারে নাম সংযোজন ও বিয়োজন হয়েছে
    • ● দ্রুত নগরায়ন ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের ফলে ডুপ্লিকেট বা ভুল এন্ট্রির সম্ভাবনা বেড়েছে

    নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের

    রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নাগরিকত্ব যাচাই প্রসঙ্গে আদালতের অবস্থান। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকা প্রস্তুতি বা সংশোধনের সময় নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত প্রশ্ন পরীক্ষা করতে পারে। তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ, কাউকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া মানেই তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। শীর্ষ আদালত জানায়, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নাগরিকত্ব আইন (Citizenship Act) অনুযায়ী নির্ধারিত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকবে।

    ভোটারদের নথি চাওয়া বৈধ

    সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, ভোটারদের কাছ থেকে নথি চাওয়া মানেই তাঁদের নাগরিকত্বের পূর্বধারণাকে অস্বীকার করা নয়। আদালতের মতে, এটি কেবলমাত্র একটি যাচাইকরণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কমিশন বিদ্যমান তথ্য পুনরায় নিশ্চিত করতে বা প্রয়োজন হলে সংশোধন করতে পারে।

    যাঁদের নাম বাদ, তাঁদের তালিকা কেন্দ্রকে পাঠানোর নির্দেশ

    রায়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠাতে হবে।

    ইতিমধ্যেই দুই দফা সম্পন্ন

    নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই দেশের বহু অংশে এসআইআর সম্পন্ন করেছে।

    প্রথম দফা

    বিহার (সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ শেষ)

    দ্বিতীয় দফা

    এপ্রিল ২০২৬-এ সম্পন্ন হয়েছে নিম্নলিখিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে—

    • ● ছত্তিশগড়
    • ● গোয়া
    • ● গুজরাট
    • ● কেরলম
    • ● মধ্যপ্রদেশ
    • ● রাজস্থান
    • ● তামিলনাড়ু
    • ● উত্তরপ্রদেশ
    • ● পশ্চিমবঙ্গ

    এছাড়াও—

    • ● আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
    • ● লাক্ষাদ্বীপ
    • ● পুদুচেরি

    তৃতীয় দফার প্রস্তুতি

    নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই তৃতীয় দফার ঘোষণা করেছে। আগামী মাসগুলিতে ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া চালানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● অন্ধ্রপ্রদেশ
    • ● কর্নাটক
    • ● তেলঙ্গানা

    তৃতীয় দফা সম্পূর্ণ হলে হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ বাদে গোটা দেশেই এসআইআর (SIR) কার্যকর হয়ে যাবে।

    রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্ব

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হল, অন্যদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাল। তবে বিরোধী দল ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলির একাংশ এখনও আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে বহু প্রকৃত নাগরিক হয়রানির শিকার হতে পারেন। ফলে আগামী দিনে এসআইআর (SIR)-এর বাস্তব কার্যকারিতা এবং তার প্রশাসনিক প্রয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

LinkedIn
Share