Tag: Energy security

  • Kazakhstan: কাজাখস্তান থেকে আসছে বিপুল ইউরেনিয়াম, ৩৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করল ভারত

    Kazakhstan: কাজাখস্তান থেকে আসছে বিপুল ইউরেনিয়াম, ৩৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যময় করতে কাজাখস্তানের (Kazakhstan) ইউরেনিয়াম জায়ান্ট কাজাটমপ্রমের সঙ্গে (Uranium Procurement Deal) একটি বড় ইউরেনিয়াম কেনার চুক্তিতে সই করল ভারত। ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও (প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা) বেশি মূল্যের এই চুক্তি এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ইউরেনিয়াম সরবরাহ ব্যবস্থা। এই দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি অংশীদারিত্বগুলির একটি হিসেবেই একে দেখা হচ্ছে।

    বৈশ্বিক পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্য (Kazakhstan)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির প্রভাব শুধু অসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি বৈশ্বিক পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্য এবং কৌশলগত জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে। চুক্তিটির পরিসর এতটাই বড় যে, অনুমোদন পেতে কাজাটমপ্রমকে একটি ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি জেনারেল মিটিং’ করতে হয়েছিল। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজাটমপ্রমের ৯২.৯ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার এর পক্ষে ভোট দেওয়ার পর চূড়ান্ত হয় চুক্তি। জানা গিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম কনসেন্ট্রেট (U₃O₈) ভারতের পারমাণবিক শক্তি বিভাগের অধীন ডিরেক্টরেট অফ পারচেজ অ্যান্ড স্টোর্সে সরবরাহ করা হবে। এই ব্যবস্থা ভারতের সম্প্রসারিত রিঅ্যাক্টর বহরের জন্য আগামী বহু বছর নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

    ভারতের লাভ

    দীর্ঘমেয়াদে ভারত ও কাজাখস্তান উভয় দেশই এই চুক্তিতে উপকৃত হবে। ভারতের ক্ষেত্রে, ইউরেনিয়ামের ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে সাহায্য করবে, বিশেষ করে যখন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানি ভূ-রাজনীতি অস্থির অবস্থায় রয়েছে (Kazakhstan)। এদিকে, কাজাখস্তান এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটিকে সার্বভৌম পারমাণবিক ক্রেতা হিসেবে নিশ্চিত করেছে। এর পাশাপাশি, এটি বিশ্ব ইউরেনিয়াম সরবরাহে কাজাখস্তানের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করেছে, কারণ বিশ্ব খনি উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে ৪৩ শতাংশ ইউরেনিয়াম তাদের থেকেই আসে। চুক্তিটির বিশাল পরিসরের কারণে খোলা বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হবে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে উৎসাহিত করবে, যা দ্রুত স্পট-মার্কেট নির্ভরতার বদলে জায়গা করে নিচ্ছে।

    সঙ্কটকালেও মিলবে ইউরেনিয়াম

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে কাজাটমপ্রমের উৎপাদন ব্যবস্থার একটি বড় অংশ ভারতের জন্য সংরক্ষিত হবে। এর ফলে বৈশ্বিক ইউরেনিয়াম সঙ্কটের সময়ও সরবরাহ অব্যাহত থাকবে ভারতে। এতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভারত (Kazakhstan) বিরাট লাভ করবে। কাজাটমপ্রম ২০২৫ সালে ২৫,৮৩৯ টন ইউরেনিয়াম উৎপাদন করেছে। ২০২৬ সালের জন্য ২৭,৫০০ থেকে ২৯,০০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ (Uranium Procurement Deal) করেছে। বর্তমানে ভারতে ২৪টি কার্যকর পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যার মোট ক্ষমতা ৮ থেকে ১০ গিগাওয়াট। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে এটি ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ২২.৫ গিগাওয়াট ক্ষমতা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Chernobyl: চের্নোবিল বিপর্যয়ের ৪০ বছর: ধ্বংসস্তূপ থেকে ভারত কীভাবে শিখল সুরক্ষার পাঠ?

    Chernobyl: চের্নোবিল বিপর্যয়ের ৪০ বছর: ধ্বংসস্তূপ থেকে ভারত কীভাবে শিখল সুরক্ষার পাঠ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঠিক ৪০ বছর আগে, আজকের দিনেই, ২৬ এপ্রিল ১৯৮৬, চের্নোবিল বিপর্যয় শুধু একটি রিঅ্যাক্টর ধ্বংস করেনি, এটি বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক শক্তির ওপর তৈরি হওয়া আস্থার মেরুদণ্ডটাই ভেঙে দিয়েছিল (Chernobyl)। এটি সেই বিপর্যয় যা বৈশ্বিক পারমাণবিক আলোচনাকে (Nuclear Path) বদলে দেয়। ইউক্রেনের প্রিপিয়াত শহরের চের্নোবিল নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের রিঅ্যাক্টর ৪-এর কন্ট্রোল রুম।

    চের্নোবিল বিপর্যয় (Chernobyl)

    ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে একটি নিরাপত্তা পরীক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়। অপারেটররা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অনুকরণ করতে গিয়ে অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি ও নকশাগত ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ ঘটায়, যা ১,০০০ টনের রিঅ্যাক্টর ঢাকনাকে শূন্যে উড়িয়ে দেয়।কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেজস্ক্রিয় পদার্থ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই কন্ট্রোল রুমই ছিল সেই ব্যর্থ পরীক্ষার ভরকেন্দ্র। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ঘটনাটি গোপন রাখায় বিশ্ব কিছুটা দেরিতে এই বিপর্যয়ের কথা জানতে পারে। ততক্ষণে বিকিরণ সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে যখন বিজ্ঞানীরা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন, বিশ্বজুড়ে সরকারগুলির মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়, প্রতিবাদে পথে নেমে পড়েন নাগরিকরা।

    পারমাণবিক কর্মসূচি

    ভারতের মতো দেশগুলির জন্য, যারা তখন তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলছিল, একটি কঠিন প্রশ্ন সামনে আসে:
    কীভাবে পারমাণবিক শক্তিকে কাজে লাগানো যাবে, ভয়ের জন্ম না দিয়ে? পরবর্তী দশকগুলিতে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক আলোচনা প্রায়ই আক্রমণাত্মক অবস্থান ও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছে। এর পরেই ভিন্ন পথ বেছে নেয় ভারত। জুলফিকর আলি ভুট্টোর বিখ্যাত উক্তির বিপরীতে, ভারতের পারমাণবিক যাত্রা ছিল পরিমিত ও পরিকল্পিত (Chernobyl)। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক পরীক্ষা করার পরেও ভারত যে নীতি ঘোষণা করে, তা হল, নো ফার্স্ট ইউজ, ক্রেডিবল মিনিমাম ডেটেরেন্স, নাগরিক নিয়ন্ত্রণে পারমাণবিক সিদ্ধান্ত। এটি শুধু নীতি নয়, একটি বার্তা—ভারত পারমাণবিক ক্ষমতা রাখবে, কিন্তু তা দায়িত্বহীনভাবে প্রদর্শন করবে না।

    ভারতের পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান

    ভারতের পারমাণবিক প্রতিষ্ঠানগুলি মূলত বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত। যেমন, ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার, নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড। এরা গুরুত্ব দেয়, রিঅ্যাক্টর নিরাপত্তা, দেশীয় প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা (থোরিয়াম গবেষণা সহ)-র ওপর। ভারতের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলি হল তারাপুর অ্যাটোমিক পাওয়ার স্টেশন, মাদ্রাজ অ্যাটোমিক পাওয়ার স্টেশন, কুডানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট।

    চের্নোবিল কাণ্ডের দুর্বলতা

    চের্নোবিল দুটি বড় দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। এগুলি হল ত্রুটিপূর্ণ রিঅ্যাক্টর নকশা, গোপনীয়তা ও নিয়ম ভঙ্গের সংস্কৃতি। ভারত এই দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি করে-নিরাপদ রিঅ্যাক্টর নকশা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা। ভারতের রিঅ্যাক্টরগুলিতে রয়েছে, স্বয়ংক্রিয় স্থিতিশীলতা ব্যবস্থা, একাধিক শাটডাউন সিস্টেম, শক্তিশালী কনটেনমেন্ট, অ্যাটোমিক এনার্জি রেগুলেটরি (Nuclear Path) বোর্ড নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করে (Chernobyl)।

    নিউক্লিয়ার ডিসাস্টার

    ফুকুশিমা দেইছি নিউক্লিয়ার ডিসআস্টার দেখিয়ে দেয় যে উন্নত প্রযুক্তিও ব্যর্থ হতে পারে। এর ফলে ভারত উপকূলীয় প্লান্টের নিরাপত্তা বাড়ায়, সুনামি ও ভূমিকম্প ঝুঁকি মূল্যায়ন করে, ব্যাকআপ সিস্টেম উন্নত করে। ভারতে কয়লা দূষণকারী, নবায়নযোগ্য শক্তি অনিয়মিত। চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক শক্তি দেয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, কম কার্বন নিঃসরণ, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা। মনে রাখতে হবে, চের্নোবিল একটি সতর্কবার্তা। কিন্তু ভারত পথ দেখায়— শৃঙ্খলা, সংযম (Nuclear Path) ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে পারমাণবিক শক্তি ভয়ের নয়, নিয়ন্ত্রণযোগ্য (Chernobyl)।

     

  • India Russian Oil Imports: ভারতে রুশ তেলের চালান রেকর্ড স্তরের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা

    India Russian Oil Imports: ভারতে রুশ তেলের চালান রেকর্ড স্তরের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে রুশ তেলের চালান এপ্রিল এবং মে মাসজুড়ে রেকর্ড স্তরের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে (Supply Stability), এটি ভারতের কৌশলগত জ্বালানি পরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক বিঘ্ন সত্ত্বেও সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতারই প্রতিফলন (India Russian Oil Imports)।

    অপরিশোধিত তেলের চাহিদা (India Russian Oil Imports)

    ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ইতিমধ্যেই বিকল্প, নিষেধাজ্ঞামুক্ত চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ নিশ্চিত করেছে। চিনের পরে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা এবং রাশিয়ার প্রধান উরালস গ্রেডের শীর্ষ আমদানিকারী দেশ হিসেবে ভারত জ্বালানির সাশ্রয়ী মূল্য এবং সরবরাহ নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছে। মার্চ মাসে দেশটি প্রতিদিন রেকর্ড ২.২৫ মিলিয়ন ব্যারেল (bpd) রাশিয়ান তেল আমদানি করেছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা একটি অস্থির বৈশ্বিক পরিবেশে জ্বালানি সংগ্রহে ভারতের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরে।

    বাড়ছে রুশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি

    সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অল্প সময়ের বিঘ্নের পর ফের ভারতীয় বন্দরে রুশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি বাড়ছে। ২০–২৭ এপ্রিল সপ্তাহে আমদানি ২.১ মিলিয়ন বিপিডিতে পৌঁছনোর পূর্বাভাস রয়েছে, যা তার আগের সপ্তাহের ১.৬৭ মিলিয়ন বিপিডি থেকে বেশি। এপ্রিলের শুরুতে সাময়িক পতনের প্রধান কারণ ছিল মার্চের শেষ দিকে রাশিয়ার বন্দর পরিকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলার ফলে রফতানি বিঘ্ন। তবে বর্তমানে সরবরাহ স্থিতিশীল হয়েছে এবং মাসিক গড় ২ মিলিয়ন বিপিডির বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, মে মাসে আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আছে। ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ইতিমধ্যেই মে মাসের কার্গো আগেভাগেই নিশ্চিত করেছে, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়া-সংক্রান্ত ছাড় বাড়ানোর আগেই (India Russian Oil Imports)। এই সক্রিয় ক্রয় কৌশল সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি মে মাসের সরবরাহের জন্য ডেটেড ব্রেন্টের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ৭ থেকে ৯ ডলার বেশি মূল্য দিচ্ছে, যা এপ্রিলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্থিতিশীল চাহিদা ও অনুকূল বাণিজ্যিক ব্যবস্থার প্রতিফলন (Supply Stability)।

    ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা

    মার্চের মাঝামাঝি সময়ে জারি করা এবং সম্প্রতি বাড়ানো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়া-সংক্রান্ত ছাড় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত জনিত বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেছে। যদিও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে, এই ছাড়ের ফলে নিয়ম মেনে চলা সংস্থাগুলির মাধ্যমে রাশিয়া তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পেরেছে, ফলে দেশগুলি বড় ধরনের কোনও বিঘ্ন ছাড়াই আমদানি করে চলেছে (India Russian Oil Imports)। জ্বালানি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে ভারত তার সামুদ্রিক বীমা ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করেছে। অনুমোদিত রাশিয়ান বীমা সংস্থার সংখ্যা ৮ থেকে বাড়িয়ে ১১ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ লজিস্টিক নমনীয়তা বাড়ায় এবং চালানের জন্য বন্দরের কার্যকলাপকে আরও মসৃণ করে (Supply Stability)।

    সামগ্রিকভাবে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলগত অংশগ্রহণ তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং স্থিতিস্থাপকতাকে তুলে ধরে। নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করে দেশটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে এবং জটিল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার (Supply Stability) মধ্যেও এগিয়ে চলেছে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে (India Russian Oil Imports)।

     

  • Vikram Misri: হোয়াইট হাউসে বৈঠক মিশ্রি-রুবিওর, আগামী মাসে ভারত সফরে মার্কিন বিদেশ সচিব

    Vikram Misri: হোয়াইট হাউসে বৈঠক মিশ্রি-রুবিওর, আগামী মাসে ভারত সফরে মার্কিন বিদেশ সচিব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করতে জোরদার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Vikram Misri)। এরই প্রেক্ষিতে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি হোয়াইট হাউসে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর (Marco Rubio) সঙ্গে বৈঠকে বসেন। দুই দেশের ওই বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলেই খবর। এই বৈঠক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রগুলিতে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই আলোচনা হয়েছে, যখন সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে উভয় দেশই তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে।

    আলোচনার বিষয় (Vikram Misri)

    আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার নয়া উদ্যোগ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক শুল্ক-সংক্রান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে। উভয় পক্ষ এখন ২০২৬ সালের একটি বাণিজ্য সমঝোতা এগিয়ে নেওয়া, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং উন্নত উৎপাদন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায়, একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (critical minerals) নিয়ে সহযোগিতা, যা এখন বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Vikram Misri)। এই সম্পদগুলি জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য। ভারত ও আমেরিকা একটি স্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে। উভয় দেশ যৌথ সামরিক মহড়া বাড়াচ্ছে, পারস্পরিক সামঞ্জস্য উন্নত করছে এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি ভাগাভাগির সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে (Vikram Misri)। এই আলোচনা ফের একবার কোয়াড্রিল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়লগের গুরুত্ব তুলে ধরে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে (Marco Rubio)। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের সময়ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে, উভয় দেশ উদীয়মান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করার সুযোগ পেয়েছে। জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করা, সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক উত্তেজনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া—এই বিষয়গুলি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল, যা সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার অভিন্ন ইচ্ছাকে নির্দেশ করে (Vikram Misri)।

    সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো

    মিশ্রির আলিশন হুকারের সঙ্গে সমান্তরাল বৈঠকে ডিসেম্বরের ফরেন অফিস কনসালটেশনসের পরবর্তী অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রগুলিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনায় (Marco Rubio)। এদিকে, রুবিও আগামী মাসে ভারত সফরে আসবেন বলে খবর। একে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই সফর বৃহত্তর কৌশলগত আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যার মধ্যে সম্ভাব্য কোয়াড পর্যায়ের বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এবং এটি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন উদ্যোগের পথ খুলে দিতে পারে।

    সব মিলিয়ে, এই আলোচনা একটি পরিণত অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত দেয়, যা ভূ-রাজনীতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অভিন্ন স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত। বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি (Marco Rubio) স্থিতিশীল ও বহু- মেরু আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনে ক্রমশ আরও বেশি কাছাকাছি আসছে (Vikram Misri)।

     

  • Strait of Hormuz Conflict: ইরান–আমেরিকার সংঘাতে আপাতত বিরতি, এলপিজি নিয়ে স্বস্তিতে ভারত

    Strait of Hormuz Conflict: ইরান–আমেরিকার সংঘাতে আপাতত বিরতি, এলপিজি নিয়ে স্বস্তিতে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে আপাতত বিরতি। কারণ দুই দেশের মধ্যে হয়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি (Strait of Hormuz Conflict)। এর ফলে ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—এলপিজি (LPG) এবং তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ—এখন অনেকটাই কমেছে। ইরান ও আমেরিকা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে।

    স্বস্তিতে ভারত (Strait of Hormuz Conflict)

    সমুদ্রপথের বাধা দূর হওয়ার এই খবর ভারতকে বড় স্বস্তি দিয়েছে। এখন তেল ও গ্যাসবাহী ভারতীয় জাহাজগুলি সহজে এবং দ্রুত ভারতে পৌঁছতে পারবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। তার পরেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্বের ২০–২৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এটি ভারতের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। সংঘাতের আবহে অনেক জাহাজ সেখানে আটকে পড়ে। ভারতে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেয়, কালোবাজারি বাড়ে। আতঙ্কের জেরে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। তবে এখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণার ফলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।

    হরমুজ অঞ্চলে আটকে একাধিক ভারতীয় জাহাজ

    বাস্তবে, ভারতীয় তেলবাহী জাহাজগুলির একটি বড় অংশ এখনও হরমুজ অঞ্চলে আটকে রয়েছে (Strait of Hormuz Conflict)। ইরান ভারতকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও, তা খুব ধীরগতিতে চলছে। এই কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছে, যার অধিকাংশই এলপিজি ট্যাঙ্কার ভর্তি। গত কয়েক দিনে বেশ কিছু জাহাজ ভারতীয় বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এগুলি হাজার হাজার টন গ্যাস ও তেল বহন করছিল, যা দেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (LPG)। তবে এখনও ১৬টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে। এগুলিতে রয়েছেন শত শত ভারতীয় নাবিক। এই জাহাজগুলিও তেল এবং গ্যাসে ভর্তি।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে

    এখন যেহেতু হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে, তাই এই জাহাজগুলিও খুব শীঘ্রই যাত্রা শুরু করতে পারবে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি জাহাজগুলিও নিরাপদে ভারতে পৌঁছে যাবে (Strait of Hormuz Conflict)। অর্থাৎ, তেল ও গ্যাসবাহী সম্পূর্ণ বহরই শীঘ্রই দেশে পৌঁছে যাবে। হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় ভারতের একাধিক সুবিধা হবে। প্রথমত, তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। দ্বিতীয়ত, গ্যাসের কালোবাজারি বন্ধ হবে। তৃতীয়ত, মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যাবে।
    গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহও স্বাভাবিক হবে (LPG)।

    প্রভাব পড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে

    এছাড়া, এর প্রভাব পড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের দামেও। এতে অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে, কারণ তেল ও গ্যাস আমদানি সহজ হবে। আগে জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে আসতে হত, এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগত। এখন সরাসরি সমুদ্র পথ খুলে গিয়েছে। তাই সাশ্রয় হবে অর্থ এবং সময়। ভারত কীভাবে সমাধান করল এই সমস্যার? ভারতের বিদেশমন্ত্রক এবং জাহাজমন্ত্রক আগেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েকটি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করেছিল। এখন যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ায় বাকি জাহাজগুলিও নিরাপদ। নাবিকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সব  নাবিকের নিরাপত্তার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে (Strait of Hormuz Conflict)।

    হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় শুধু ভারত নয়, উপকৃত হবে গোটা বিশ্বই। ইতিমধ্যেই বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। এতে ভারত-সহ তেল আমদানিকারী দেশগুলি সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাবে (LPG)। এখন ধারাবাহিকভাবে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছবে, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা সহজেই পূরণ করবে। বাকি ১৬টি জাহাজও পৌঁছে গেলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ আরও মজবুত হবে (Strait of Hormuz Conflict)।

     

  • LPG: হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে আরও দুই এলপিজি ট্যাঙ্কার, নাবিকদের মুখে ‘ভারত মাতা কি জয়’

    LPG: হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে আরও দুই এলপিজি ট্যাঙ্কার, নাবিকদের মুখে ‘ভারত মাতা কি জয়’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে আসছে আরও দুটি এলপিজি (LPG) বহনকারী ট্যাঙ্কার। এগুলিতে প্রায় ৯৪,০০০ মেট্রিক টন রান্নার গ্যাস রয়েছে। নিরাপদে হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) পার হয়ে ভারতের দিকে আসছে। রবিবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে এই খবর। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিডব্লু টিওয়াইআর’ (BW Tyr) এবং ‘বিডব্লু ইএলএম’ (BW Elm) নামের জাহাজ দু’টির যথাক্রমে ৩১ মার্চ মুম্বই এবং ১ এপ্রিল নিউ মাঙ্গালোরে পৌঁছানোর কথা। এই ভারতীয় জাহাজগুলো হরমুজ পাড়ি দেওয়ার পরে নাবিকরা ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিতে থাকেন। সেই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সেই ভারতীয় নাবিকরা ভারতের পতাকাও ধরে ছিলেন।

    হরমুজ প্রণালী পার দুই ভারতীয় জাহাজের (LPG)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। যদিও ইরান জানিয়েছে, “বন্ধু সব দেশের জাহাজ যদি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে তারা এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।” জানা গিয়েছে, এই দুই জাহাজ সাম্প্রতিকতম ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ, যেগুলি এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ পার হতে পেরেছে। ইতিমধ্যেই চারটি এলপিজি (LPG) ট্যাঙ্কার নিরাপদে ভারতে পৌঁছেছে। প্রণালীর পশ্চিম দিকে রয়েছে আরও তিনটি জাহাজ।

    এলএসইজির জাহাজ ট্র্যাকিং

    শুক্রবার এলএসইজির জাহাজ ট্র্যাকিং থেকেই এই খবর মিলেছে। সরকার জানিয়েছে, মোট ১৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এখনও পশ্চিম উপসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে। ওই জাহাজগুলিতে ৪৮৫ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারী দেশ ভারত গত বছর ৩৩.১৫ মিলিয়ন টন গ্যাস খরচ করেছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানি করা হয়েছিল। এই আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন বন্দরে কাজকর্ম চলছে (Hormuz Strait) স্বাভাবিকভাবেই। কোথাও কোনও জটের খবর মেলেনি (LPG)।

  • All Party Meet: ‘পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয় ভারত’, সর্বদলীয় বৈঠকে সাফ জানাল কেন্দ্র

    All Party Meet: ‘পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয় ভারত’, সর্বদলীয় বৈঠকে সাফ জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভারত কোনওভাবেই পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয়।’ বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকে (All Party Meet) সাফ জানিয়ে দিল কেন্দ্র। পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাত চলছে, সেখানে পাকিস্তানের কথিত মধ্যস্থতার (Pakistan) প্রসঙ্গে একথা জানিয়ে দেওয়া হয় কেন্দ্রের তরফে। সংসদ ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আটজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিরোধী দলের একাধিক সদস্য। বৈঠক বয়কট করে তৃণমূল।

    বিরোধীদের প্রশ্ন, জয়শঙ্করের উত্তর (All Party Meet)

    বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে আর ভারত নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “১৯৮১ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে ব্যবহার করে আসছে। তাই এই ধরনের মধ্যস্থতা নতুন কিছু নয়।” এর পরেই তিনি বলেন, “আমরা কোনও দালাল রাষ্ট্র নই।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে আলাপচারিতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর জানান, প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। কারণ এই সংঘাত সবার পক্ষেই ক্ষতিকর। সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসের প্রশ্ন ছিল, “সরকার কি এই সংঘাতে নীরবতাকেই কূটনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে?” জয়শঙ্কর বলেন, “নয়াদিল্লি নীরব নয়, বরং আমরা মন্তব্য করছি এবং প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি।” সূত্রের খবর, ব্রিটাস উল্লেখ করেন যে কাতার, যেখান থেকে ভারত প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তারাও স্বীকার করেছে উৎপাদন স্থিতিশীল করতে তাদের বহু বছর লাগবে (All Party Meet)।

    এনসিপি (এসপি) সাংসদের প্রশ্ন

    এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের প্রশ্ন ছিল, “ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সম্পর্কের বিশেষ সুবিধা কী?” উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা অংশীদার। ইরানও আমাদের আচরণে সন্তুষ্ট।” বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ভারত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত শোক প্রকাশ করেনি। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, ইরানি দূতাবাস খোলার পরপরই বিদেশসচিব সেখানে গিয়ে শোকপুস্তকে স্বাক্ষর করেছিলেন (Pakistan)। সরকার এও জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করাই প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে সরকার এখন পর্যন্ত সফলই হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে (All Party Meet)।

    সংসদে আলোচনার দাবি

    বিরোধীরা অবশ্য সরকারের দেওয়া উত্তরকে “অসন্তোষজনক” বলে অভিহিত করেন। তাঁরা লোকসভা ও রাজ্যসভা—সংসদের উভয় কক্ষেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি জানান। সরকারকে নিশানা করে কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার বলেন, “লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। বিরোধী দলগুলি সরকারের জবাবে সন্তুষ্ট নয়।” ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির অন্তর্ভুক্ত সকল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এদিনের বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও উপস্থিত ছিলেন। বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি বৈঠকে একটি প্রেজেন্টেশন দেন (All Party Meet)। বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী নেতাদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেসের তারিক আনোয়ার ও মুকুল ওয়াসনিক, সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব এবং বিজু জনতা দলের সাস্মিত পাত্র প্রমুখ (Pakistan)। তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধি সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেননি।

     

  • PM Modi: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটে নড়ে গিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি”, দেশবাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটে নড়ে গিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি”, দেশবাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নাড়িয়ে দিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।” ঠিক এই ভাষায়ই দেশবাসীকে সতর্ক করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি এও বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত (West Asia Crisis) বিশ্বজুড়ে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।” মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ ইতিমধ্যেই বড় ধরনের জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করেছে, ব্যাহত করেছে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথগুলিতে চলাচল। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির একটি গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করেছে। ভারতের জন্যও এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আমাদের বাণিজ্য পথগুলি প্রভাবিত হয়েছে। এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস এবং সার সরবরাহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, সরকার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। ভারতের ওপর এর প্রভাব কমাতে ধারাবাহিক পদক্ষেপও করছে। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী। সরকার প্রতিটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।” তিনি বলেন, “এই সঙ্কট ভিন্ন ধরনের এবং এর সমাধানও ভিন্নভাবে খোঁজা হচ্ছে। আমাদের প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে ধৈর্য, সংযম এবং শান্তভাবে।” এর পরেই দেশবাসীকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে থাকতে পারে। তবে সরকার এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজও করছে।” প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে কালোবাজারি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুতদারির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। দরিদ্র এবং অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য আগাম উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।

    কোভিড পরিস্থিতির পদক্ষেপের কথা স্মরণ করালেন প্রধানমন্ত্রী

    কোভিড পরিস্থিতির পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বর্তমান সঙ্কটেও একই ধরনের ‘টিম ইন্ডিয়া পদ্ধতি’ অবলম্বন করার আহ্বান জানান (West Asia Crisis)। তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত (PM Modi)।” প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিকে বড় উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেন। এই প্রণালীতে আটকে রয়েছে বহু আন্তর্জাতিক জাহাজ, সেগুলিতে রয়েছেন ভারতীয় নাবিকরাও। তিনি বলেন, “বিশ্বের অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে এবং সেগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় ক্রু সদস্য রয়েছেন।” তিনি জানান, ভারত কূটনৈতিকভাবে কাজ করছে যাতে জাহাজগুলি নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালী চালু করা (West Asia Crisis)।” উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন। সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সঙ্কটের সময় দেশে ও বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”

    আত্মনির্ভর হওয়ার ডাক

    তিনি জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৩,৭৫,০০০-এর বেশি ভারতীয় নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ইরান থেকে ১,০০০-এরও বেশি জন। তাঁদের মধ্যে ৭০০ জন মেডিক্যাল পড়ুয়া। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কাজ করছে (PM Modi)। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধে মানবজীবনের কোনও হুমকি মানবতার স্বার্থে নয়। ভারত সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে নিতে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে তিনি বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে এই সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল ও গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা করছে (West Asia Crisis)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সম্ভাব্য সব উৎস থেকে গ্যাস ও অপরিশোধিত তেল জোগাড়ের চেষ্টা করছি। এই প্রচেষ্টা আগামী দিনগুলিতেও চলবে।” তিনি জানান, গত ১১ বছরে ভারত ৫৩ লাখ মেট্রিক টন কৌশলগত তেল মজুত করেছে।  আরও ৬৫ লাখ মেট্রিক টন সংরক্ষণ ক্ষমতার ভাণ্ডার তৈরি করার কাজ চলছে। আগে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হত। এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ করা হয়েছে। তিনি ৭০,০০০ কোটি টাকার জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন এবং আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আত্মনির্ভর হওয়া ছাড়া ভারতের সামনে আর কোনও বিকল্প নেই (PM Modi)।”

  • Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খুশির খবর পেল ভারত। নরেন্দ্র মোদির দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে একটি নয়া পথ ব্যবহার করতে শুরু করেছে সৌদি আরব (Hormuz Strait Crisis)। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে একাধিক ট্যাঙ্কার ভারতের বিভিন্ন (Saudi Arabia) বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি বিকল্প সরবরাহপথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

    নয়া পথে আসছে তেল (Hormuz Strait Crisis)

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান ওই এলাকায় কিছু জাহাজকে টার্গেট করায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। সাধারণত, বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি আমদানিও মূলত এই পথের ওপরই নির্ভরশীল। এখন সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে ভারতে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে। এগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। চলতি মাসের শেষে আরও ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতে পৌঁছনোর কথা। এই নয়া লোহিত সাগর রুটের খবর ১৬ মার্চ প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। যদিও সৌদি আরব এই জ্বালানি সরবরাহে একটি শর্ত দিয়েছে, সেটি হল মাসিক বরাদ্দের কেবল একটি অংশই এই পথে পাঠানো হবে।

    ‘সামনের দরজা’ বনাম ‘পেছনের দরজা’

    সাধারণত উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। একে ‘সামনের দরজা’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে এই পথটি জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে (Saudi Arabia)। এদিকে, ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে বিবেচিত লোহিত সাগর রুটে ইয়ানবু থেকে ১২০০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করা হয়। অবশ্য এই পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত। তাই এই পথে হরমুজ প্রণালী রুটের তুলনায় কম পরিমাণ তেল পরিবহণ করা যায়। লোহিত সাগর রুটও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এটি বাব আল-মানডাব প্রণালী দিয়ে যায়, যা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আওতায় রয়েছে। এর আগে ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে টার্গেট করেছিল। তাই সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছিল (Saudi Arabia)। সেই কারণেই অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যায় (Hormuz Strait Crisis)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি হুথিরা ফের হামলা শুরু করে, তাহলে এই রুটেও জাহাজ চলাচল ফের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

     

LinkedIn
Share