Tag: Enforced Disappearance

  • Baloch Students: রাত ২টোর অভিযান, তারপরই উধাও ৫ ছাত্র! করাচিতে বালোচ পড়ুয়াদের ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

    Baloch Students: রাত ২টোর অভিযান, তারপরই উধাও ৫ ছাত্র! করাচিতে বালোচ পড়ুয়াদের ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) করাচিতে পাঁচ বালোচ ছাত্রকে (Baloch Students) জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পাক রেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে। বালোচ ছাত্রদের সংগঠন বালোচ স্টুডেন্টস অ্যাকশন কমিটি (Baloch Students Action Committee) জানিয়েছে, ৫ অগাস্ট গভীর রাতে করাচির (Karachi) গুলশান-ই-ইকবাল এলাকার একটি আবাসনে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ ছাত্রকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি সংগঠনটির।

    কারা নিখোঁজ? (Baloch Students)

    বিএসএসি (Baloch Students Action Committee)-র বিবৃতি অনুযায়ী, নিখোঁজ পাঁচ ছাত্র হলেন- আজহার বালোচ ও গওস বখশ বালোচ, দু’জনেই জনৈক হায়াতের ছেলে, শাহিদের ছেলে শেহজাদ বালোচ, আজিমের ছেলে আনিস বালোচ এবং মহম্মদ আমিনের ছেলে ওয়াসিম বালোচ। আজহার গওয়াদরের বাসিন্দা এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর ভাই গওস বখশ একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়ছেন। গওয়াদরের বাসিন্দা শেহজাদ পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। নওশকির বাসিন্দা আনিস দর্শন নিয়ে পড়ছেন। আর কালাতের বাসিন্দা ওয়াসিম পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন।

    গভীর রাতে আবাসনে অভিযান

    বিএসএসির দাবি, ৫ অগাস্ট রাত প্রায় ২টোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পাক রেঞ্জার্সের সদস্যরা গুলশান-ই-ইকবালের ওই আবাসনে ঢোকেন। সংগঠনটির অভিযোগ, সেখানে ছাত্রদের শারীরিকভাবে হেনস্থা ও ভয় দেখানোর পর তাঁদের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র-সহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে ওই পাঁচ ছাত্র কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে বিএসএসি।

    আগে আরও দুই ছাত্র নিখোঁজ

    বিএসএসি জানিয়েছে, এই পাঁচজনের আগেও আরও দুই বালোচ ছাত্র নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Karachi University) এমফিলের ছাত্র খলিল বালোচ। সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকেই তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অন্য ছাত্র জুবেইর বালোচ নূর মহম্মদের ছেলে। তিনি হাব ডিগ্রি কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক। চতুর্থ তফশিলের একটি মামলায় শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার সময় হাব এলাকা থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ফলে বিএসএসির দাবি, মোট সাত বালোচ ছাত্র বর্তমানে নিখোঁজ।

    ‘শিক্ষার জন্য বাড়ি ছেড়েও নিরাপদ নন’

    বালোচ ছাত্রদের (Baloch Students) সংগঠনটির অভিযোগ, উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের এলাকা ছেড়ে করাচিতে আসা ছাত্রদেরই বারবার নিশানা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস এবং ব্যক্তিগত বাসস্থান- কোনও জায়গাই তাঁদের জন্য নিরাপদ থাকছে না বলে দাবি সংগঠনটির। বিএসএসি বলেছে, এই ধরনের ঘটনার ফলে শুধু ছাত্রদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, তাঁদের পরিবারও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে পড়ছে। সংগঠনটির দাবি, অবিলম্বে বালোচ ছাত্রদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, সাতজনকেই নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    ‘এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’

    বালোচ (Baloch) ইয়াকজেহতি কমিটির নেত্রী সাবিহা বালোচের দাবি, বালোচ ছাত্রদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস এবং ব্যক্তিগত বাসস্থান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরিবারগুলির মধ্যে ভয় ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। আর এক বালোচ নেত্রী সামি দীন বালোচ জানিয়েছেন, নিখোঁজ সাতজনের মধ্যে ছয়জনই করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাঁদের মধ্যে এমফিলের ছাত্র খলিল বালোচও রয়েছেন। তাঁর দাবি, রেঞ্জার্স এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকেই খলিলকে নিয়ে গিয়েছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রদের নিরাপদ জায়গা হওয়া উচিত, নিখোঁজ করে দেওয়ার কেন্দ্র নয়। কোনও ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া মেনে আদালতে হাজির করা উচিত। অভিযোগ না থাকলে অবিলম্বে তাঁদের খুঁজে বের করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

    মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ

    হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল অব বালোচিস্তানও সাত ছাত্রের (Baloch Students) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ছাত্রদের অবস্থান জানাতে হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও বৈধ অভিযোগ থাকলে আইন মেনে আদালতে হাজির করতে হবে। তা না হলে অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দিতে হবে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ, পাকিস্তান রেঞ্জার্স এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রদের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

    নিখোঁজ বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার

    এরই মধ্যে বালোচিস্তানে (Balochistan) আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত মাসে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিখোঁজ হওয়া এক বৃদ্ধের দেহ লাসবেলা জেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম হাইবাতান। তিনি মালো মাররির ছেলে এবং বেলার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৯ জুলাই বেলা ক্রস এলাকা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে হাব-সাকরান সড়কের গরিবাবাদ এলাকার কাছে রাস্তার ধারে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেহে নির্যাতনের চিহ্ন এবং গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল।

    বালোচিস্তানে বাড়ছে উদ্বেগ

    বালোচিস্তানে (Balochistan) জোর করে নিখোঁজ করে দেওয়া ব্যক্তিদের পরে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের অভিযোগ নতুন নয়। পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়া অনেক ব্যক্তিকে পরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। করাচিতে সাত বালোচ ছাত্রের (Baloch Students) নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং লাসবেলায় এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে সেই উদ্বেগই সামনে এনেছে।

LinkedIn
Share