Tag: Epilepsy treatment and care

  • Epilepsy in West Bengal: রাজ্যে বাড়ছে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা! কোন বয়সে বাড়তি বিপদ? কী এর সমাধান?

    Epilepsy in West Bengal: রাজ্যে বাড়ছে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা! কোন বয়সে বাড়তি বিপদ? কী এর সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যে বাড়ছে এপিলেপসি (Epilepsy in West Bengal) বা মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। গোটা দেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি এবং নানান জটিলতা তৈরি করে। তাই প্রথম থেকেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি (Epilepsy Symptoms Prevention) বলেই মত চিকিৎসক মহলের।

    দেশের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা কত?

    সর্বভারতীয় এক সমীক্ষায় সম্প্রতি জানা গিয়েছে, গোটা ভারতেই এপিলেপসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সঙ্কট। ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে প্রতি ১০০০ জনে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ জন। শহরে পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। প্রতি ১০০০ জনে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ জন। পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় ১০০০ জনে এপিলেপসি আক্রান্তের (Epilepsy in West Bengal) সংখ্যা ১৫ জন। পুরুষদের মধ্যে সেই সংখ্যা অনেকটাই বেশি। ওই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ পুরুষদের ১০০০ জনের মধ্যে ৩৭ জন এপিলেপসিতে আক্রান্ত হন। কলকাতা সহ বড় শহরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    কেন রাজ্যে এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের একটি বড় অংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। যারা জীবনের কোনও একটা সময় স্নায়বিক সমস্যায় ভুগেছেন। আবার অনেকের স্ট্রোক হয়েছে কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো জটিল সমস্যা রয়েছে। তাই এপিলেপসির (Epilepsy in West Bengal) মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে স্ট্রোকের ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিমেনশিয়ার মতো সমস্যাও বাড়ছে। তাই এপিলেপসির মতো জটিলতায় আরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

    কোন বয়সে এপিলেপসি হওয়ার ঝুঁকি থাকে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স এপিলেপসি আক্রান্ত হওয়ার সীমারেখা টানতে পারে না। শিশুর জন্মের পরে প্রথম দুই বছরের মধ্যেই এই রোগ দেখা দিতে পারে। আবার সম্পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষ পঞ্চাশ কিংবা পঞ্চান্ন বছর বয়সে নতুন ভাবে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হলে বছর বারো বয়সের পরে রোগের প্রকোপ অনেকখানি কমে। শিশুদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তুলনায় বয়স্কদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। ৫০ কিংবা ৬০ বছর বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগ নিয়ন্ত্রণ তুলনায় জটিল হয়ে ওঠে।

    কেন হয় এপিলেপসি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের স্নায়ুতে অস্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্য একধরনের শক্তি তৈরি হয়। যা শরীরের জন্য অতিরিক্ত। আর তার ফলেই খিঁচুনির মতো রোগ দেখা যায়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এপিলেপসি বলা হয়।
    শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন মস্তিষ্কে ঠিকমতো অক্সিজেন না পৌঁছলে জন্মের পরেই শিশু এপিলেপসি আক্রান্ত (Epilepsy in West Bengal) হতে পারে। এছাড়াও ১-২ বছর বয়সে কোনও জটিল ভাইরাস ঘটিত অসুখ, মেনিনজাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হলে শিশুর এপিলেপসি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এপিলেসসি আক্রান্ত হওয়ার একাধিক কারণ থাকতে পারে। মূলত স্ট্রোকের কারণেই বয়স্কেরা এই রোগে আক্রান্ত হন। এছাড়া, কোনও ধরনের দূর্ঘটনার ফলেও এই রোগ হতে পারে। পথ দূর্ঘটনা কিংবা অত্যন্ত গভীর মানসিক চাপের জেরে মস্তিষ্কের স্নায়ুতে অস্বাভাবিক ক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তার ফলে এপিলেপসি হতে পারে। আবার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব পড়ে। তার জেরেও এপিলেপসি হতে পারে।

    ঘুমের মধ্যেই কি রয়েছে সুস্থ থাকার দাওয়াই?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এপিলেপসি পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়। তবে এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণ (Epilepsy Symptoms Prevention) সম্ভব। ঘন ঘন খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো শরীরের জন্য বিপজ্জনক। তাতে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। তাই এপিলেপসি আক্রান্তের সুস্থ থাকা জরুরি। কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের স্নায়ুর বিশ্রাম সবচেয়ে জরুরি। তাই পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্তের নিয়মিত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। তাতে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাবে। স্নায়ু অস্বাভাবিক অতিরিক্ত সক্রিয় হবে না। মানসিক চাপ তৈরি হয়, এমন কাজ কখনোই করা উচিত নয়। এপিলেপসি আক্রান্তের পাশপাশি তার পরিবারকেও এদিকে নজর দিতে হবে বলে জানাচ্ছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা বলছেন, মানসিক চাপ স্নায়ুর উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। তাই এপিলেপসি আক্রান্তের (Epilepsy in West Bengal) আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই তাঁদের মানসিক চাপ দেওয়া চলবে না। এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে হবে। খাবারে যাতে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এবং তেল মশলা না থাকে সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এগুলো পর্যাপ্ত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। প্রয়োজনে নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ এতে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। কিন্তু স্নায়ু্র কাজ স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া চিকিৎস যদি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন, তাহলে নিয়ম মেনে সেই ওষুধ খেতে হবে বলেও পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ মহল।

LinkedIn
Share