মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আয়কর ফাঁকির অভিযোগ ছিল তিন জনপ্রিয় বিরিয়ানি সংস্থার বিরুদ্ধে। এবার তা নিয়ে তল্লাশিতে নামতেই তদন্তকারী অফিসারদের চক্ষু একেবারে চড়কগাছ। বিরাট জালিয়াতি চক্রের খোঁজ পেয়েছে আয়কর দফতর। সংস্থার বিরুদ্ধে করফাঁকি এবং বিভিন্ন জায়গায় রেস্তরাঁ (Estaurant Tax Scam) ব্যবসায় সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭০০০০ কোটি টাকার আয় গোপন রাখা হয়েছে বিভিন্ন রেস্তরার পক্ষে। তবে নগদ টাকার হেরফের (Income Tax) করা হয়েছে সব থেকে বেশি। এই ভাবে খাবারের রেস্তোরাঁয় এতবড় জালিয়াতি আগে কখনও ধরা পড়েনি বলে সূত্রে জানা গিয়েছে।
সর্বভারতীয় বিলিং সফ্টওয়্যার প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা (Estaurant Tax Scam)
হায়দ্রাবাদের জনপ্রিয় বিরিয়ানি সংস্থার (Estaurant Tax Scam) দিকে নজর ছিল সকলেরই। সেই মতো গত বছর নভেম্বর মাসে বিভিন্ন রেস্তরাঁয় হানা দিয়েছিল আয়কর দফতর। এই অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৭০০০০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি। প্রথম বিষয়টি গোপন করা হয়েছিল। এরপর সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি আলোড়িত হয়। জানা গিয়েছে সংস্থার পক্ষ থেকে সর্বভারতীয় বিলিং সফ্টওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবসার করে এই আর্থিক (Income Tax) অনিয়ম করা হয়। ২০১৯-২০ সাল থেকেই এই কাজ করা হয়েছিল।
সামান্য আয় দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা
গোটা তদন্ত আয়কর আইনের মাধ্যমে তদন্ত করা হয়। এরপর ১৩৩ এ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত অর্থবর্ষে লেনদেন সংক্রান্ত ৬০ টের বেশি টেরাবাইট তথ্য দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়। আয়কর দফতর জানিয়েছে, দেশের ১ লক্ষের বেশি রেস্তরাঁ (Estaurant Tax Scam) ওই বিলিং সফ্টওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছিল। এটা ভারতের রেস্তরাঁ ব্যবসার প্রায় ১০ শতাংশ। মোট ২ কোটি ৪২ লক্ষ কোটি টাকার বিল পরীক্ষা করে দেখেন তদন্তকারী অফিসাররা। তদন্তে জানা যায়, বিল তৈরির পর ১৩, ৩২৭ কোটি টাকার হিসেব মুছে দেওয়া হয়। ইচ্ছা করেই বিক্রির যথার্থ হিসেব গোপন করা হয়। হায়দ্রাবাদে আয়কর (Income Tax) বিভাগের ডিজিটাল ল্যাবে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। এআই ব্যবহার করে ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার হিসেব দেখতে রেস্তরাঁর আইডি, জিএসটি নম্বর, প্যান নম্বর সংক্রান্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখা হয়।
কর্ণাটকে ২০০০ কোটির দুর্নীতি
আয় কর বিভাগের দাবি করে জানিয়েছে, ১) কার্ড, UPI, নগদ লেনদেনের সব কিছু প্রথমে সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে, অধিকাংশ লেনদেনের বাদ দেওয়া হয়। রেস্তরাঁয় (Estaurant Tax Scam) নগদ টাকার বিলগুলি সব সরিয়ে ফেলা হয়। আয় কম বিল গুলি দেখানো হয়। ২) রেস্তরাঁগুলি ৩০ দিন পর্যন্ত সময়সীমার আয়ের রেকর্ড ডিলিট করে দেয়। পরবর্তীতে সামান্য আয় দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা করে। ৩) আবার পুরোপুরি মুছে না ফেলে, আয় (Income Tax)কম দেখানো হয়।
এই আর্থিক দুর্নীতি অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, গুজরাটে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে ৫১৪১ কোটি, কর্ণাটকে ২০০০ কোটি, তেলেঙ্গানায় ১৫০০, তামিলনাড়ুতে ১২০০ কোটি টাকার হিসেব ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। আয়ের ২৭ শতাংশ লুকিয়ে রেখে হিসেব দেওয়া হয়েছে।
