Tag: European Union

European Union

  • Islamist Entryism: ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব খতিয়ে দেখার প্রস্তাব

    Islamist Entryism: ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব খতিয়ে দেখার প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভিতরে তাদের অনুপ্রবেশের (Islamist Entryism) অভিযোগ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। গত ৮ অক্টোবর গৃহীত একটি প্রস্তাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সন্দেহভাজন যোগসূত্র থাকা সংগঠনগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলির মোকাবিলায় ইউরোপের নীতিগত অবস্থানের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে (Muslim Brotherhood)। এই প্রস্তাবে এমন সংগঠনগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ইউরোপীয় মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, মুসলিম ব্রাদারহুডের চারটি শাখাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতেও ইউরোপের এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কড়া রাজনৈতিক বার্তা (Islamist Entryism)

    প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা ফরাসি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য সেলিন ইমার্ট এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। সমাজমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “এই ভোট ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়েছে এবং ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলির দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।” প্রস্তাবটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন ইমার্ট। তবে সমাজতন্ত্রী ও চরম বামপন্থী গোষ্ঠীগুলির একাংশের বিরুদ্ধে প্রস্তাবটি বয়কট করার অভিযোগও তোলেন তিনি। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৃহত্তম রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইউরোপীয় পিপলস পার্টি (ইপিপি) এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেয়। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উগ্রপন্থা-বিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক লরেঞ্জো ভিডিনোর মতে, এই ভোট ইউরোপের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শিবির এবং বামপন্থীদের মধ্যে মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে। তাঁর বক্তব্য, অধিকাংশ জাতীয়তাবাদী প্রতিনিধি প্রস্তাবটির পক্ষে থাকলেও বামপন্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এর বিরোধিতা করেছে। ভিডিনো আরও জানান, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া প্রায় এক দশক ধরে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে আসছে। তাঁর মতে, বিষয়টিকে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতবিরোধের দৃষ্টিতে না দেখে ইউরোপীয় সমাজের সামনে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, নারী-পুরুষের সমতা এবং মৌলিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রস্তাবে ইউরোপীয় মূল্যবোধকে ভিতর থেকে দুর্বল করার কাজে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে—এমন নেটওয়ার্কগুলিকে অর্থায়ন, পরামর্শ বা বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী নীতিকে ইসলাম নিয়ে সমালোচনা বন্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সংগঠিত ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলিকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই নীতির অপব্যবহার করা উচিত নয় বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিজের সিনিয়র ফেলো এবং ইয়েমেনে নিযুক্ত ব্রিটেনের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত এডমন্ড ফিটন-ব্রাউন এই প্রস্তাবকে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের সূচনা বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর মতে, প্রস্তাবের সুপারিশগুলিকে বাধ্যতামূলক আইনে পরিণত করা সহজ হবে না।

    তিনি আরও সতর্ক করেছেন, অহিংস ইসলামপন্থাকে হিংসাত্মক উগ্রপন্থার বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তাঁর যুক্তি, পদ্ধতি আলাদা হলেও দুই ধরনের গোষ্ঠীর লক্ষ্য কখনও কখনও একই হতে পারে।

    অর্থায়ন ও বিদেশি প্রভাবের উপর বাড়তি নজরদারির প্রস্তাব

    প্রস্তাবে ইউরোপীয় কাউন্সিলকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠনগুলিকে ইইউয়ের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত কি না, তা মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নের উৎস ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে অনুসরণযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুড বা রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার সন্দেহে থাকা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলিকে দেওয়া অনুদান খতিয়ে দেখতে ইউরোপীয় কমিশনের পর্যালোচনারও প্রস্তাব রয়েছে (Islamist Entryism)।

    বিদেশি অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের উপর আরও কড়া নজরদারির কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে কাতার বা তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার সুপারিশ করা হয়েছে।

    বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারকারী ধর্মীয় বক্তাদের তালিকা তৈরির জন্য বিভিন্ন দেশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে প্রস্তাবটি। একই ধরনের তালিকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্তরেও তৈরির পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শেনজেন ব্যবস্থার পাশাপাশি ইইউয়ের বিভিন্ন তথ্যভাণ্ডার আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভিডিনোর মতে, এই প্রস্তাব ইউরোপের নিরাপত্তা সংস্থা এবং সরকারগুলিকে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে আরও রাজনৈতিক সমর্থন জোগাতে পারে। তবে এর ফলে অবিলম্বে বাস্তব ক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলি নিজেদের কার্যকলাপ আড়াল করতে সহযোগী সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করতে পারে।

    বামপন্থী সংগঠনের বিরোধিতা, উঠল ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় নেটওয়ার্ক এগেনস্ট রেসিজম (ইএনএআর)। ইউরোপজুড়ে বর্ণবৈষম্যবিরোধী কাজ করা এই সংগঠনটি প্রস্তাবটিকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী বলে আখ্যা দিয়েছে।

    ইএনএআরের অভিযোগ, ইউরোপীয় পিপলস পার্টি এমন কিছু অভিযোগকে সামনে এনেছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় মুসলিম যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলির ফোরাম (ফেমিসো)-সহ বিভিন্ন সংগঠনকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এই অভিযোগগুলি খারিজ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি অন্যায্যভাবে মুসলিমদের নেতৃত্বাধীন নাগরিক সংগঠন, ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কাজ করা গোষ্ঠী এবং মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করা ব্যক্তিদের নিশানা করেছে।

    ইএনএআরের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তের ফলে মুসলিম সম্প্রদায় এবং তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলিকে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে পারে। সংগঠনটির মতে, গণতন্ত্র, সমতা এবং মৌলিক অধিকারের প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ঘোষিত অঙ্গীকারের ক্ষেত্রেও এই ভোট নেতিবাচক বার্তা বহন করছে।

    এই বিতর্কে ইউরোপের রাজনৈতিক মহলে দুটি ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। এক পক্ষের মতে, ইসলামপন্থী নেটওয়ার্কগুলির কার্যকলাপ এবং বিদেশি অর্থায়নের উপর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এই ধরনের পদক্ষেপ নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    অভিবাসন ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাত

    ইউরোপে অভিবাসন, সামাজিক সংহতি, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের সঙ্গেও এই সংঘাত যুক্ত। জাতীয়তাবাদী দলগুলির একাংশ বিদেশি অর্থায়ন এবং ইসলামপন্থী উদ্দেশ্য প্রচারের সন্দেহে থাকা সংগঠনগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, বামপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বৈষম্য ও ধর্মীয় বিদ্বেষ বাড়িয়ে তুলতে পারে (Muslim Brotherhood)।

    এখন নজর থাকবে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাস্তবে কী পদক্ষেপ করে। অর্থায়ন, বিদেশি অংশীদারিত্ব, সন্দেহভাজন ইসলামপন্থী নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাগুলি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে ইউরোপীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলির পরবর্তী সিদ্ধান্তের (Islamist Entryism) উপর।

    প্রস্তাবের সমর্থকদের কাছে এটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভিতরে ইসলামপন্থী অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সূচনা। তবে এর প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে তখনই, যখন প্রস্তাবের সুপারিশগুলি বাস্তব নীতি ও আইনে রূপান্তরিত হবে।

     

  • Donald Trump: ইরানের বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহে জোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডরকে সমর্থন ট্রাম্পের

    Donald Trump: ইরানের বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহে জোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডরকে সমর্থন ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ থেকে সরিয়ে বিকল্প রুট গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ ক্ষেত্রে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বহুপাক্ষিক বৈঠকে মঙ্গলবার এ কথা (IMEC) বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ট্রাম্প বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের জঙ্গি হামলা দেখিয়ে দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।”

    তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই আমার প্রশাসন ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর এবং তেল বাইরে নিয়ে যাওয়ার অন্যান্য পথ—তা পাইপলাইন হোক বা অন্য কোনও ব্যবস্থা—দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। একসঙ্গে আমরা এমন সব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছি, যেগুলি এক দশক ধরে এই অঞ্চলকে সমস্যায় রেখেছে।”

    ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (Donald Trump)

    ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর একটি বহুদেশীয় পরিবহণ, জ্বালানি ও যোগাযোগ পরিকাঠামো প্রকল্প। ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারত, আমেরিকা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রকল্প নিয়ে সমঝোতাপত্রে সই করে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই করিডরের একটি পূর্বাঞ্চলীয় পথ ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে এবং একটি উত্তরাঞ্চলীয় পথ উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর মধ্যে রেলপথ, বন্দর-সংযোগ এবং সমুদ্র ও স্থলপথের যৌথ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় জ্বালানি ও ডিজিটাল যোগাযোগের জন্য তার এবং পরিষ্কার হাইড্রোজেন পরিবহণের জন্য পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এর লক্ষ্য ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ আরও বাড়ানো।

    চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের বিকল্প হিসেবেও এই করিডরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ইরান-নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহণের সময় কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

    বাড়ছে বিকল্প জ্বালানি পথের গুরুত্ব

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অস্থিরতার কারণে বিকল্প জ্বালানি করিডরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যেও এই প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়েছে।

    তবে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডর এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে রেলপথ, বন্দর ও মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সামগ্রিক সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয় (Donald Trump)।

    ইরানকে ফের কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    এদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে ইরানকে ফের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমেরিকা ইরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে। তেহরান দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেও আশা করছেন তিনি।

    ট্রাম্প বলেন, “একটা সময় আসবে যখন অনেক দেরি হয়ে যাবে এবং একটি দেশ হিসেবে তাদের টিকে থাকার সুযোগ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আমাদের হাতে আর থাকবে না। আমি সেটা দেখতে চাই না। তবে এই টেবিলে বসে থাকা মানুষগুলির অনেকেই সেটাই দেখতে চান।”

    ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান ‘মিডনাইট হ্যামারে’র কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট পরমাণু স্থাপনাগুলি ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায় (IMEC)।

    তবে ২০২৫ সালের ওই হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবির বাইরে বিভিন্ন মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার নথি অনুযায়ী, ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পরমাণু স্থাপনাগুলিতে হামলা চালানো হয়েছিল। পরে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে ট্রাম্পের “সম্পূর্ণ ধ্বংস” দাবির মাত্রা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয় (Donald Trump)।

     

  • Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনের (Spain) উত্তর আফ্রিকীয় ভূখণ্ড সেউতায় বৃহস্পতিবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কার্যত হতচকিত করে দিয়ে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লেন হাজার হাজার অভিবাসী (Morocco Migrants)। সাম্প্রতিক বছরে এটি স্পেনের এই ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় অভিবাসী অনুপ্রবেশগুলির একটি। ২০২১ সালের অভিবাসন সঙ্কটের পর এমন বড় আকারের প্রবেশ আর দেখা যায়নি। স্পেনের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কতজন অভিবাসী প্রবেশ করেছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি। তবে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের হিসেব অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার অভিবাসী সেউতায় ঢুকে পড়েন। অনেকেই সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছন। অন্যরা মরক্কো থেকে সেউতাকে আলাদা করা সীমান্তের বেড়া ভেঙে প্রবেশ করেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে প্রবেশে পুলিশ কার্যত চাপে পড়ে যায়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত ঘিরে নতুন করে অভিবাসন-উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” (Spain)

    পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে সেউতার আঞ্চলিক সরকার মাদ্রিদকে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানায়। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় মোতায়েন থাকা পুলিশ কর্মীদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ার পর অভিবাসীরা তারাজাল বাঁধের দিক দিয়ে ব্যাপক হারে সমুদ্রপথে প্রবেশ করতে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিবাসীরা ফোলানো টিউব ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করে বাঁধ ঘুরে সাঁতরে সেউতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অন্য একটি দল সীমান্তের বেড়ার একটি ফটক জোর করে খুলে সেউতার ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রবেশের সময়  কয়েকজনকে “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” বলে স্লোগান দিতেও শোনা যায়। এই পরিস্থিতি ২০২১ সালের মে মাসের নজিরবিহীন অভিবাসন সঙ্কটের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সেই সময় কয়েক দিনের মধ্যে মরক্কো ও সাহারা-দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন (Spain)। সেউতা এবং কাছাকাছি অবস্থিত স্পেনের আর একটি ভূখণ্ড মেলিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত। ইউরোপে পৌঁছনোর আশায় থাকা অভিবাসীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই ভূখণ্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

    জরুরি অবস্থা জারির দাবি সেউতার

    অভিবাসীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেউতার নেতা হুয়ান হেসুস ভিভাস মাদ্রিদ সরকারের কাছে জরুরি অবস্থা জারি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন, নিরাপত্তা জোরদার এবং আরও অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে সাময়িকভাবে মরক্কোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি। তবে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কোনও পরিকল্পনা নেই (Morocco Migrants)। পরে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, বর্তমান সঙ্কটের তাৎক্ষণিক মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভিভাসের সঙ্গে কথা বলার পর সানচেজ বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় সব সম্পদ কাজে লাগাচ্ছি, মরক্কো ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “এখন দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার সময়।” তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়টি তিনি খোলসা করেননি (Spain)। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, মরক্কো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে। মন্ত্রকের দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে হাজার হাজার অবৈধ সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা ইতিমধ্যেই ঠেকানো হয়েছে। অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করেছে এমন ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর কথাও জানিয়েছে মন্ত্রক। একই সঙ্গে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলি অভিবাসীদের ব্যবহার করছে (Morocco Migrants) বলেও অভিযোগ।

    সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়েও প্রশ্ন

    বৃহস্পতিবারের ব্যাপক অনুপ্রবেশের সঙ্গে সম্প্রতি দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন কয়েকজন আধিকারিক। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছনোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের বিশেষ সীমান্ত-প্রত্যাখ্যান বিধির আওতায় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছেমতো যখন খুশি ফেরত পাঠাতে পারবে না। রায়ে অভিবাসীদের স্পেনে থাকার অধিকার দেওয়া হয়নি। তবে আধিকারিকদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত আরও বেশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে উৎসাহিত করতে পারে। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে ধীরে ধীরে লোকজন আসছিল, কিন্তু আজ তা বিস্ফোরণের মতো বেড়ে গিয়েছে (Spain)।” এই রায় বিশেষভাবে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এমনকি তারা স্থলসীমান্ত এড়িয়ে বেড়ার চারপাশ দিয়ে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছলেও তা প্রযোজ্য হবে।এদিকে স্পেনে আগে থেকেই বসবাসকারী প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীর অবস্থান নিয়মিত করার একটি সরকারি কর্মসূচিও দেশটির রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এই কর্মসূচি কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই যারা স্পেনে বসবাস করছেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। তবে সমালোচকদের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করলেও, শেষ পর্যন্ত বৈধ বসবাসের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

    সানচেজ সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

    সেউতার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় সানচেজ সরকার অভিবাসীদের প্রতি তুলনামূলকভাবে উদার নীতি গ্রহণ করেছে। রক্ষণশীল বিরোধী দলের নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “সেউতার পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। সরকার বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে না… কারণ আমরা জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখোমুখি (Spain)।” এদিকে, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মী জাকারিয়া জাররুকি জানিয়েছেন, সেউতায় পৌঁছনোর আশায় মরক্কোর সীমান্তবর্তী শহর ফনিদেকে এখনও বহু মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন কথা বলছি, তখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেই রয়েছে (Morocco Migrants)।” অভিবাসীদের একটি অংশ এখনও সেউতায় পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় স্পেনের কর্তৃপক্ষের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং একই সঙ্গে নতুন করে সীমান্ত পারাপার ঠেকানো (Spain)।

     

  • Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতীয় পড়ুয়াদের (Indian Students) প্রথম পছন্দ ছিল আমেরিকা। উন্নত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কারণে বহু দশক ধরে দেশটি ছিল ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের গন্তব্য। দীর্ঘদিনের চেনা এই ছবিটাই বদলে যাচ্ছে দ্রুত। কড়া অভিবাসন নীতি, ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইউরোপের নতুন সুযোগ-সুবিধার কারণে ক্রমশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে (US) ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। খবরে প্রকাশ, শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তারা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড এখন আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

    ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার (Indian Students)

    এই পরিবর্তন অবশ্য নতুন নয়। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইউরোপে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়েছে প্রায় ৬৮.৩৩ শতাংশ। শিক্ষা-প্রযুক্তি সংস্থা জ্ঞানধনের তথ্য বলছে, আমেরিকাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীর হার ২০২৩ সালে ছিল ৫৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ২৬ শতাংশে, ২০২৫ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। একই সময়ে ইউরোপে পড়াশোনার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে শুধু জার্মানিতেই ছিলেন ৪৩ হাজারেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়বে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের। বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সংস্থা ‘আপগ্র্যাড স্টাডি অ্যাব্রড’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপ বিদেশে পড়াশোনার দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের বছর বাইশের এক প্রযুক্তিবিদ্যায় স্নাতকের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আমেরিকায় পাঠাতে চাইলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য বেছে নেন জার্মানিকেই।

    ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির পর ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে (Indian Students)। এই চুক্তিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য সহজতর ভিসা ব্যবস্থা, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের স্পষ্ট রূপরেখা এবং ভারতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি সংক্রান্ত একাধিক পদক্ষেপের কথা রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন গতিশীলতা কাঠামো বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ভারতীয় শিক্ষার্থী ও দক্ষ জনশক্তিকে আকৃষ্ট করে ইউরোপকে আন্তর্জাতিক প্রতিভার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।” বিদেশে পড়াশোনার প্ল্যাটফর্ম লিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অনব কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রথমবারের মতো একটি বড় অর্থনৈতিক জোট স্পষ্টভাবে বলছে, তারা বৃহৎ পরিসরে ভারতীয় মেধাকে স্বাগত জানাতে চায়।” তাঁর দাবি, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ভারত থেকে ইউরোপে শিক্ষার্থী ও কর্মীর সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে (US)।

    কম খরচও বড় কারণ

    শুধু সুযোগ-সুবিধা নয়, খরচের দিক থেকেও ইউরোপ এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা কেসি ওভারসিজের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়ার খরচ আমেরিকার তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিদেশে পড়াশোনার খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে খাবারে কাটছাঁট করা, গণপরিবহণের বদলে হেঁটে যাতায়াত করা কিংবা অতিরিক্ত কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে হচ্ছে। ইউরোপ স্টাডি সেন্টারের পরিচালক শিবরামন পাণ্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ইউরোপ এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির পর আমাদের কাছে অনুসন্ধানের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।” স্টুডেন্ট অ্যাকোমোডেশন সংস্থা ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন আধিকারিক ময়ঙ্ক মহেশ্বরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ কম শিক্ষাব্যয়, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ, উন্নত কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিকভাবে ভালো সুবিধার কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে।” বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী নিজের পেশাগত লক্ষ্য অনুযায়ী দেশ বেছে নিচ্ছেন (Indian Students)। যেমন, প্রযুক্তি-শিক্ষার্থীদের কাছে জার্মানি, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের জন্য নেদারল্যান্ডস, ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য ফ্রান্স এবং কম খরচে গবেষণার সুযোগের জন্য পর্তুগাল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    আমেরিকার কড়া নীতিতে কমছে আগ্রহ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আমেরিকার কঠোর অভিবাসন নীতিও এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে যে ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মেয়াদ পর্যন্ত থাকার অনুমতি পান, তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিসা চালুর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে (US)। এছাড়া শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি, ভিসা নবীকরণে কড়াকড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর বাড়তি নজরদারি এবং ভিসার শর্ত ভাঙলে দ্রুত বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিতেও দেখা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী আমেরিকাকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে দেখছেন না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮ হাজার শিক্ষার্থী গেলেও, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যাটাই কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজারে।

    ইউরোপে আগ্রহ বাড়লেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে

    ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আবেদন ও ভর্তি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২,৬৩০। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩,৭০০-তে পৌঁছেছে। দেশটিতে ভারতীয়রা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। আইনডহোভেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Indian Students)।স্পেনও এখন নয়া গন্তব্য হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের ইউরোপীয় শিক্ষার্থী পরিস্থিতি প্রতিবেদনের তথ্য  অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ১,০৮৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রা ব্যয়, শিক্ষার্থী-বান্ধব ভিসা ব্যবস্থা এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইউরোপে পড়াশোনা করলেই চাকরি নিশ্চিত নয়। প্রয়োজন দক্ষতা, স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা (US)।

    চাকরির সুযোগ

    পাণ্ডিয়ান বলেন, “কেউ যদি বলে এই দেশে পড়লেই চাকরি পাবেন, তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। শুধু ওই দেশে পড়াশোনা করলেই চাকরির অধিকার তৈরি হয় না। প্রয়োজন দক্ষতা অর্জন। তবেই সুযোগের দরজা খুলবে।” শিক্ষার্থীদের একাংশ আবার ভাষাগত সমস্যা, আবাসনের সঙ্কট, চাকরির প্রতিযোগিতা এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপের কিছু দেশে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং বিদেশিদের প্রতি কঠোর মনোভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবুও কম খরচ, ইংরেজি মাধ্যমে বাড়তে থাকা পাঠ্যক্রম, স্পষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ অভিবাসন নীতির কারণে ইউরোপ এখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে (Indian Students)।

     

  • Narendra Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়ায় নরেন্দ্র মোদি, ঐতিহাসিক সফরে নজরে একাধিক কর্মসূচি

    Narendra Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়ায় নরেন্দ্র মোদি, ঐতিহাসিক সফরে নজরে একাধিক কর্মসূচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দেশের ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে স্লোভাকিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী স্লোভাকিয়ায় গিয়েছেন (Bratislava Visit)। তাঁর এই সফর ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তা (Narendra Modi)

    দু’দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে মোদি রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলিগ্রিনি (Peter Pellegrini) এবং প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর (Robert Fico)-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর পাশাপাশি মোদি স্লোভাকিয়ার শীর্ষ শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন। স্লোভাকিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে জানান, এই সফর ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, তৈরি করবে নয়া সহযোগিতার ক্ষেত্র। তিনি প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি ও প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের আশাও ব্যক্ত করেন।

    ঐতিহাসিক সফর

    এর আগে ফ্রান্স সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। পরে অংশ নেন নিস শহরে আয়োজিত ‘ভারত ইনোভেটস’ অনুষ্ঠানে। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের (MEA) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী জুরাজ ব্লানাঁর (Juraj Blanár) স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। মোদিকে স্বাগত জানানো বন্দেমাতরম গানে।  তাঁকে স্লোভাকিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘ব্রেড অ্যান্ড সল্ট’ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়। এটি দেশটির আতিথেয়তা, সম্মান ও শুভেচ্ছার প্রতীক। সফরের আগে মোদি একে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও স্লোভাকিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে গতিতে এগিয়েছে, এই সফর তারই (Narendra Modi) ধারাবাহিকতা। তাঁর আশা, স্লোভাক নেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

    আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরের আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু স্লোভাকিয়া সফর করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনিও ভারতে এসেছিলেন (Bratislava Visit)। ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল উৎপাদন, রেলওয়ে নির্মাণ এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হিসেবে স্লোভাকিয়ার মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার দিকেও নজর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

    জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন মোদি

    স্লোভাকিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ১৬-১৭ জুন ফ্রান্সের আভিয়োঁ-তে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে জি৭ সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং এআই-সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা করবেন। একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ইউরোপ সফরের শেষ পর্যায়ে ১৮ জুন প্রধানমন্ত্রী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপের অন্যতম (Narendra Modi) বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন ‘ভিভাটেক ২০২৬’-এ অংশ নেবেন, যেখানে (Bratislava Visit) উপস্থিত থাকবেন ফরাসি প্রেসিডেন্টও।

  • Dinesh Trivedi: বাংলাদেশে ভারতের নয়া হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী! সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    Dinesh Trivedi: বাংলাদেশে ভারতের নয়া হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী! সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা ব্যারাকপুরের সাংসদ বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে (Dinesh Trivedi) বাংলাদেশে (Bangladesh) পাঠানো হচ্ছে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে। দীর্ঘ সময় পর প্রতিবেশী দেশে এই প্রথম রাজনৈতিক নিয়োগ হিসেবে ত্রিবেদী দায়িত্ব নেবেন। তিনি পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। প্রণয়কে পাঠানো হচ্ছে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে। ঢাকার তারেক রহমান সরকারের কাছ থেকে ত্রিবেদীর জন্য সম্মতি চাওয়া হবে। বছর পঁচাত্তরের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত বিদেশমন্ত্রকের কূটনীতিকদের জন্যও একটি বার্তা দেয়।

    ত্রিবেদীর অভিজ্ঞতা (Dinesh Trivedi)

    ইউপিএ আমলে ত্রিবেদী রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে তিনি তৃণমূল ছাড়েন, যোগ দেন বিজেপিতে। বস্তুত, ত্রিবেদীর এই নিয়োগ এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন ভারত ও বাংলাদেশ মহঃ ইউনূস জমানার সঙ্কটের পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনার অপসারণের পর সংঘটিত অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে, সেনাবাহিনী ও পুলিশ আন্দোলনকারীদের (Dinesh Trivedi) ওপর গুলি চালাতে অস্বীকার করেছিল।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

    মার্কিন সমর্থিত ইউনূসের সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সংখ্যালঘুদের (হিন্দু-সহ আরও কয়েকটি ধর্ম) বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক হিংসায় লাগাম টানতে ব্যর্থ হয় তাঁর সরকার। দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগ থেকে এটা স্পষ্ট যে, মোদি সরকার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলিতে রাজনৈতিক নেতাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠাতে আপত্তি করছে না, এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি আর শুধুমাত্র ভারতীয় বিদেশ পরিষেবার কর্তাদের জন্য সংরক্ষিত নয় (Bangladesh)। এর আগে প্রাক্তন সেনাপ্রধান দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ত্রিবেদীর ঢাকায় নিয়োগ এই ইঙ্গিত দেয় যে, ভারত এখন প্রতিবেশী দেশগুলিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের দূত হিসেবে পাঠাবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর ফলে অন্তত ভারতীয় উপমহাদেশে শুধু ভালো সময়ের রাষ্ট্রদূত পাঠানোর যুগ শেষ হয়ে এসেছে (Dinesh Trivedi)।

  • Hungary Election Landslide: হাঙ্গেরির নির্বাচনে গোহারা ভিক্টর অরবান, ক্ষমতায় আসছে পিটার ম্যাগইয়ার সরকার!

    Hungary Election Landslide: হাঙ্গেরির নির্বাচনে গোহারা ভিক্টর অরবান, ক্ষমতায় আসছে পিটার ম্যাগইয়ার সরকার!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্ষমতার শাসনের অবসান ঘটল হাঙ্গেরিতে। এতদিন ক্ষমতায় ছিলেন ভিক্টর অরবান। তিনি পরাস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই (Hungary Election Landslide) “নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র” হিসেবে সমালোচিত একটি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তাঁকে গোহারা হারিয়েছেন বছর পঁয়তাল্লিশের প্রাক্তন এক দলীয় সদস্য পিটার ম্যাগইয়ার  (Peter Magyars)। তিনি অধিকাংশ হাঙ্গেরীয় নাগরিককে এই শাসনের অবসান ঘটানো প্রয়োজন বলে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার জেরেই পতন ঘটল অরবান জমানার। দানিউব নদীর তীরে, বুদাপেস্টে রয়েছে হাঙ্গেরির মনোমুগ্ধকর সংসদ ভবন। এই ভবনেরই উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে পিটার ম্যাগইয়ার বলেন, “আমরা পেরেছি। এক সঙ্গে সবাই মিলে হাঙ্গেরির শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করেছি।”

    নির্বাচনী ফল (Hungary Election Landslide) 

    প্রাথমিক নির্বাচনী ফল থেকে জানা গিয়েছে, ৯৮ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনার শেষে, তাঁর টিসজা পার্টি (Tisza Party) পেতে চলেছে ১৩৮টি আসন। আর অরবানের ফিডেজ (Fidesz) পেতে পারে ৫৫টি আসন। ডানপন্থী দল আওয়ার হোমল্যান্ড মুভমেন্ট পাচ্ছে ৬টি আসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশাল জয় শুধু অরবানের জনপ্রিয় নয়, এমন অভ্যন্তরীণ নীতিগুলি উল্টে দেওয়ার সুযোগই দেবে না, বরং হাঙ্গেরির বৈশ্বিক সম্পর্কও নতুন করে গড়ে তুলবে (Hungary Election Landslide)। জানা গিয়েছে, অরবান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং (Peter Magyars) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাই তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেনের পক্ষে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

    ম্যাগইয়ারের ক্রেডিট 

    এদিকে, হাঙ্গেরিকে রাশিয়ার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেনের সঙ্গে ফের সুসম্পর্ক গড়ার পক্ষে ম্যাগইয়ার। গত দু’বছর ধরে তিনি গ্রাম, শহর এবং নগরগুলিতে ঘুরে বেড়িয়ে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বে ক্লান্ত হাঙ্গেরিয়দের সংগঠিত করেন। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক হাঙ্গেরির ইতিহাসে এত বেশি মানুষ আগে কখনও ভোট দেননি, এবং কোনও একক দল এত শক্তিশালী সমর্থন পায়নি।” উল্লেখ্য, হাঙ্গেরির ওই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন ৭৯.৫ শতাংশ ভোটার। সেই নির্বাচনেরই ফল বেরল রবিবার রাতে। তার পরেই এমন মন্তব্য করেন ম্যাগইয়ার (Hungary Election Landslide)। অরবানের শাসন চারটি ধারাবাহিক নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও কয়েক মিনিটের মধ্যেই এর পতন স্পষ্ট হয়ে যায়। দানিউব নদীর বুদা অংশে অপেক্ষা করছিলেন ম্যাগইয়ার দলের কর্মী-সমর্থকরা। এই সময় ম্যাগইয়ার ফেসবুকে লেখেন: “ভিক্টর অরবান আমায় ফোন করে আমাদের জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।” জানা গিয়েছে, তখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছিল। তখনই তিনি শুনতে পেয়েছিলেন শাসকদলের পরাজয়ের পদধ্বনি (Peter Magyars)।

    ‘ক্ষত সারানোর সময়’

    ম্যাগইয়ার বক্তব্যের খানিক পরেই অরবান নিজেই এক সম্মেলন কেন্দ্রে মঞ্চে উঠে বলেন, “নির্বাচনের ফল স্পষ্ট এবং বেদনাদায়ক।” তিনি প্রায় ২৫ লাখ সমর্থককে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, “আগামী দিনগুলি আমাদের ক্ষত সারানোর সময়।” এদিকে, ম্যাগইয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার, দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বহুল সমালোচিত পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থা বাতিল করার। সংবিধান পরিবর্তনের জন্য তাঁর দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার ছিল (১৯৯ আসনের মধ্যে ১৩৩টি)। যদিও তাঁর দল পেতে চলেছে অন্তত ১৩৮টি আসন। জয়-পরাজয়ের প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলতেই বুদাপেস্টজুড়ে গাড়ির হর্ন বাজাতে থাকেন বিজয়ী দলের সমর্থকরা। উল্লাসে ফেটে পড়ে আম-জনতা। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে এক নয়া যুগের সূচনা উদযাপন করেন তাঁরা (Hungary Election Landslide)।

    কী বললেন আইনজীবী 

    ম্যাগইয়ার সমর্থকদের অনেকেই আগে অরবানের সমর্থক ছিলেন। আইনজীবী অ্যাগনেস বলেন, “তাঁকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা কঠিন, কিন্তু আমরা এখন ভালো কিছুর আশা করতেই পারি।” রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমও বর্তমানে ম্যাগইয়ারের টার্গেট। যদিও এম ওয়ান টিভি এতদিন সরকারপন্থীই ছিল (Peter Magyars)। দীর্ঘদিন ধরে হাঙ্গেরি যেন দুই ভিন্ন বাস্তবতায় বিভক্ত ছিল, একদিকে অরবানের বিজয়ের বিশ্বাস, অন্যদিকে ম্যাগইয়ার বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা। রবিবার রাতে সেই দুই বাস্তবতা মুখোমুখি হয়, প্রমাণিত হয় একটিই সত্য। ম্যাগইয়ার তাঁর এই ঐতিহাসিক জয়কে ১৮৪৮ সালের হাঙ্গেরি বিপ্লব এবং ১৯৫৬ সালের সোভিয়েতবিরোধী বিদ্রোহের সঙ্গে তুলনা করেন।

    সোভিয়েত দখলের বিরোধিতা

    প্রসঙ্গত, একসময় অরবান নিজেও সোভিয়েত দখলের বিরোধিতা করেছিলেন। যদিও পরে তিনি পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। তাঁর সমর্থকরা স্লোগান দেন, “রাশিয়ানরা, দেশে ফিরে যাও (Hungary Election Landslide)।” এদিকে, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ম্যাগইয়ারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন “রাশিয়ানরা, বাড়ি ফিরে যাও।”  ম্যাগইয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হবে ওয়ারশতে, পোল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে (Peter Magyars)। তিনি ব্রাসেলসেও যাবেন, যেখানে তিনি দুর্নীতির কারণে স্থগিত থাকা প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ফের চালুর চেষ্টা করবেন। অরবানের বয়স ৬২। তিনি এখনও দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়াননি এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নয়া সরকার গঠিত হলেই সরে দাঁড়াবেন ম্যাগইয়ার ।

     

  • Finnish President: ৪ দিনের সফরে ভারতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কোন কোন বিষয়ে হবে আলোচনা?

    Finnish President: ৪ দিনের সফরে ভারতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কোন কোন বিষয়ে হবে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের (India) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বুধবার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লিতে এসে পৌঁছেছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট (Finnish President) আলেকজান্ডার স্টাব। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং। বিমানবন্দরেই গার্ড অব অনার দেওয়া হয় তাঁকে। এক্স হ্যান্ডেলে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, “ভারতে আন্তরিক স্বাগতম! ফিনল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। বিমানবন্দরে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং তাঁকে স্বাগত জানান।”

    প্রেসিডেন্ট স্টাব (Finnish President)

    প্রেসিডেন্ট স্টাব ৭ মার্চ পর্যন্ত ভারতে থাকবেন। তাঁর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রয়েছে, যাতে মন্ত্রী, শীর্ষ সরকারি আধিকারিক, এবং বিশিষ্ট শিল্পপতিরা রয়েছেন। তিনদিনের এই সফরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একাদশতম ‘রাইসিনা ডায়ালগে’ অংশ নেবেন তিনি। সেখানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। প্রধান বক্তাও তিনিই। প্রসঙ্গত, দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই প্রেসিডেন্ট স্টাবের প্রথম ভারত সফর। বিদেশমন্ত্রকের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত আলোচনা করবেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু, বিশেষ করে বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় হওয়ার (Finnish President) সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনও করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    স্টাবের সফরসূচি

    ভারত সফরে প্রেসিডেন্ট স্টাব রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বৈঠক করবেন উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। নয়াদিল্লিতে বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে প্রেসিডেন্ট স্টাব যাবেন মুম্বই সফরে। সেখানে তিনি মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত এবং মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। মুম্বইয়ে তিনি ভারতীয় শিল্পপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং ভারত-ফিনল্যান্ড ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথাও রয়েছে তাঁর। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে উষ্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে, যা অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে (India)। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং নর্ডিক অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে ফিনল্যান্ডকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয় (Finnish President)।

     

LinkedIn
Share