Tag: Evidence Tampering Allegations

  • RG Kar Case Update: আরজি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার অন্য ভাইপো আবেশকে জেরা করার দাবি নিহত চিকিৎসকের পরিবারের

    RG Kar Case Update: আরজি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার অন্য ভাইপো আবেশকে জেরা করার দাবি নিহত চিকিৎসকের পরিবারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের নতুন মোড়। নিহত চিকিৎসকের পরিবার এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা চিকিৎসক আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার রাতে তাঁর মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে পাওয়া গিয়েছিল। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-র উচিত তাঁকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা।

    কী অভিযোগ রত্না দেবনাথের?

    নিহত চিকিৎসকের মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ বৃহস্পতিবার এই দাবি তুলে বলেন, তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সময় হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, সিবিআই ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সম্প্রতি প্রাক্তন পানিহাটি বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে তলব করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন এখনও ডাকা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    ‘মৃত্যুর সময়সীমার মধ্যে উপস্থিত সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক’

    রত্না দেবনাথ দাবি করেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টার মধ্যে। ফলে ওই সময় হাসপাতাল চত্বরে কারা ছিলেন, কারা ঘটনাস্থলের আশেপাশে ঘোরাফেরা করেছেন, তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আজ নির্মল ঘোষকে সিবিআই ডেকেছে, সঙ্গে ডাকা হয়েছে সোমনাথ দে-কে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে। তাহলে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন ডাকা হবে না? তাঁর টাওয়ার লোকেশনও সেখানে পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।”

    প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ

    নিহত চিকিৎসকের মা আরও অভিযোগ করেন, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রমাণ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক বিজ্ঞান গবেষণাগার (সিএফএসএল)-এর রিপোর্টে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে তরুণী চিকিৎসককে হাসপাতালের সেমিনার রুমে খুন করা হয়নি। রত্না দেবনাথের অভিযোগ, প্রকৃত হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল হাসপাতালের পিজিটি (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি) রুমে, যেখানে চিকিৎসক ও ছাত্রছাত্রীরা বিশ্রাম নিতেন। পরে মৃতদেহটি সেখান থেকে সরিয়ে সেমিনার রুমের সামনে ফেলে রাখা হয়, যাতে তদন্তকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায় এবং প্রকৃত অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলা সম্ভব হয়। তাঁর বক্তব্য, “এত বড় মাত্রার প্রমাণ লোপাট ও ঘটনাস্থল পরিবর্তনের ঘটনা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না।” তিনি আরও দাবি করেন, এই ‘ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের দায়িত্ব’ আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছিল।

    নিহত চিকিৎসকের বাবার বিস্ফোরক অভিযোগ

    শুক্রবার নিহত চিকিৎসকের বাবা শেখর রঞ্জন দেবনাথও একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন। তাঁর দাবি, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালের একটি বাথরুমে স্নান করেছিলেন, কারণ তাঁর শরীরে রক্তের ছিটে লেগেছিল। শেখরবাবুর দাবি, ওই বাথরুমটিই পরবর্তীকালে দ্রুত ভেঙে ফেলা হয়।

    বাথরুম ও বিশ্রামকক্ষ ভাঙার ঘটনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

    উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের পরদিনই হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ চিকিৎসকদের একটি বিশ্রামকক্ষ এবং কর্মীদের ব্যবহৃত একটি শৌচাগার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। এই দুটি ঘরই সেই সেমিনার হলের কাছাকাছি ছিল, যেখানে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার পরদিনই ওই অংশ ‘সংস্কারের’ নির্দেশ কেন দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। তদন্ত চলাকালীন এই সিদ্ধান্তকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন তদন্তকারীরা এবং বিভিন্ন মহল।

    ‘ঘটনাস্থলে হাজার হাজার মানুষের পদচারণা’

    শেখর রঞ্জন দেবনাথ আরও দাবি করেন, ঘটনার রাতভর তৎকালীন কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অপরাধ প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতালের সেমিনার রুমে অসংখ্য মানুষ প্রবেশ করেছিলেন, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ ফরেন্সিক প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি দাবি করেন, সিবিআইয়ের তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২,০০০ মানুষের পদচিহ্নের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

    এখনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অনড় পরিবার

    ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভিতরে কর্মরত ৩১ বছর বয়সি এক পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা দেশজুড়ে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। চিকিৎসক মহল, ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষের আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশ। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় গ্রেফতার হন এবং পরে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে শুরু থেকেই নিহত চিকিৎসকের পরিবার দাবি করে আসছে, শুধুমাত্র সঞ্জয় রায় নয়, এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এবং প্রকৃত দোষীদের অনেকেই আইনের আওতার বাইরে রয়ে গিয়েছেন।

    প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে, অভিযোগ নিহতের পরিবারের

    রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। ব্যক্তিগত শোককে রাজনৈতিক লড়াইয়ে রূপান্তরিত করে তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি বারবার অভিযোগ করে আসছেন যে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নিহত চিকিৎসকের পরিবারের এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সিবিআই, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তকারী সংস্থাও এই নতুন অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। বর্তমানে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিবারের উত্থাপিত নতুন অভিযোগ তদন্তের গতিপথে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, তা এখন দেখার।

LinkedIn
Share