মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর ফের জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে (Imran Khan)। শুক্রবার ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল থেকে তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আপাতত তাঁকে জেল হেফাজতেই রাখা নিরাপদ। ইমরান খানকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য আদিয়ালা জেল থেকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তাঁকে পরীক্ষা করে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো জরুরি পরিস্থিতি নেই। এরপরই তাঁকে ফের আদিয়ালা জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁর নির্ধারিত সেলে রাখা হয়।
চিকিৎসা নিয়ে আইনি টানাপোড়েন
ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তাঁর পরিবার ও দলের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। তাঁর আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা বারবার অভিযোগ করেছেন, জেলে থাকাকালীন তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যথাযথভাবে হচ্ছে না। অন্যদিকে, পাক কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টে এমন কোনও গুরুতর পরিস্থিতির কথা বলা হয়নি যার জন্য অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক-সহ একটি মেডিক্যাল প্যানেলকে তাঁকে পরীক্ষা করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের করা আবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস আপত্তির কারণে ফেরত দিয়েছে বলে খবর। আপত্তিগুলি সংশোধন করে সরকার ফের আবেদন জানাতে পারে।
চোখের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ
ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে জানুয়ারির শেষ দিকে তাঁর ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন ধরা পড়ার পর। এরপর চিকিৎসার জন্য তাঁকে একাধিকবার ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (PIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী।
টানা ৩ বছর জেলে ইমরান
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান খান। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি। যদিও পাকিস্তান সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা ইমরান খান। তবে ২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। ২০২৩ সালের ৯ মে তাঁর প্রথম গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনা ঘটে। পরে ওই বছরের ৫ আগস্ট দুর্নীতির মামলা, যার মধ্যে তোষাখানা মামলাও ছিল, সেই মামলায় তাঁকে ফের গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে একাধিক মামলা ও সাজা নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান।
