Tag: Fast Track Court

  • Anti Paper Leak Bill: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে লোকসভায় আরও কঠোর বিল, ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব

    Anti Paper Leak Bill: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে লোকসভায় আরও কঠোর বিল, ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি স্তরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক ও দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন (Anti Paper Leak Bill) আনার পথে হাঁটল কেন্দ্র। সোমবার, ২৭ জুলাই, লোকসভায় জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এই (Modi Government) সংশোধনী বিলের মাধ্যমে বর্তমানে চালু আইনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, জনপরীক্ষার স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী প্রয়োজন।

    লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ (Anti Paper Leak Bill)

    এদিন বিল পেশের সময়ই লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ হয়। বিরোধী দলগুলির সদস্যরা নিট ইস্যুতে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের ওপর পুলিশ যে ব্যবস্থা নিয়েছিল, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে। বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের জেরে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা দুপুর ২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে নিট-ইউজি স্তরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই কঠোর আইনের দাবি জোরালো হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রায় দু’বছর আগে প্রণীত আইনে আরও সংশোধন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

    বিলে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন জনপরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অসাধু উপায়ের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এর ফলে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আইনকে আরও শক্তিশালী করে পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনগুলির মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় যে ফাঁকফোকর ছিল, তা অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি বিশেষ আদালতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার শেষ করার ব্যবস্থাও করা হবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা। বর্তমানে অসাধু উপায়ে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে সেই শাস্তি বাড়িয়ে ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে (Anti Paper Leak Bill)। জরিমানার অঙ্কও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, কঠোর শাস্তির বিধান থাকলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িত থাকার প্রবণতা অনেকটাই কমবে।

    কোটি টাকা জরিমানা

    শুধু ব্যক্তি নয়, পরীক্ষা পরিচালনায় যুক্ত পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান আইনে এই ধরনের সংস্থার জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং চার বছরের জন্য জনপরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সেই জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা পরিচালনায় সরকারের যে ব্যয় হয়েছে, তার আনুপাতিক অংশও ওই সংস্থার কাছ থেকে আদায় করা হবে। একই সঙ্গে আট বছরের জন্য তাদের জনপরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনও দায়িত্ব পালন থেকে নিষিদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে (Modi Government)। দ্রুত তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও এই সংশোধনী বিলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণে বর্তমানে চালু আইনে নতুন দু’টি ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নতুন ধারাগুলির মাধ্যমে তদন্ত এবং বিচার সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে (Anti Paper Leak Bill)।

    তদন্ত চালানো হবে সহজ

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার কোনও মামলার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে তুলে দিলে, সেই তদন্ত রেফারেন্স পাওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ দু’মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু তদন্ত নয়, বিচার প্রক্রিয়াকেও দ্রুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়ার পর বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতকে তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর ফলে বহু বছর ধরে মামলা ঝুলে থাকার প্রবণতা কমবে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা সরকারের। এছাড়া আন্তঃরাজ্য বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজন হলে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করতে পারবে। এর মাধ্যমে একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত পরীক্ষা জালিয়াতির ঘটনায় তদন্ত চালানো সহজ হবে। চালু আইনেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের বিধান ছিল, তবে নতুন সংশোধনীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে পৃথক বিশেষ দল গঠনের ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সরকারের বক্তব্য

    সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা শুধু পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও নষ্ট করে। তাই কঠোর শাস্তি, সময়ে তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের সমন্বয়ে একটি কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য (Modi Government)। এই বিলটি এমন একটি সময়ে লোকসভায় আনা হয়েছে, যখন নিট-সংক্রান্ত বিতর্ক দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং তার জেরে ছাত্রদের দীর্ঘ আন্দোলন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছিল। এই আবহেই সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। সেই ঘটনার পরপরই সরকার আরও কঠোর সংশোধনী বিল আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

    বিরোধী দলগুলির দাবি

    বিরোধী দলগুলির দাবি, শুধু কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে (Anti Paper Leak Bill)। এখন সংশোধনী বিলটি সংসদের পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার পর অনুমোদনের জন্য বিবেচিত হবে। সংসদের দুই কক্ষের অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে কার্যকর হবে (Modi Government) নতুন বিধানগুলি।

     

  • PM Modi Video: ‘‘ধন্যবাদ বন্ধুরা’’, যুবকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা মোদির, মন্ত্রীদের দিলেন ইনস্টাগ্রাম নির্দেশ

    PM Modi Video: ‘‘ধন্যবাদ বন্ধুরা’’, যুবকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা মোদির, মন্ত্রীদের দিলেন ইনস্টাগ্রাম নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতের ভিডিও বার্তার পর দেশের যুবসমাজের কাছ থেকে যে বিপুল সাড়া পেয়েছেন, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তরুণদের ভালোবাসা ও ইতিবাচক পরামর্শ তাঁর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।

    ভিডিও বার্তায় কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। গত রাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা যেভাবে সেই ভিডিওতে সাড়া দিয়েছেন এবং ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য প্রত্যেককে ধন্যবাদ। আপনাদের এই ভালোবাসা অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। ধন্যবাদ, ধন্যবাদ বন্ধুরা।’’

    প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ভিডিওতে ব্যাপক সাড়া

    প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রকাশের মাত্র আট মিনিটের মধ্যে ভিডিওটি ২৫ লক্ষেরও বেশি ভিউ পায়। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামে ২০ মিনিটের মধ্যেই ১০ লক্ষের বেশি লাইক পড়ে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে এবং কঠোর শাস্তির বিধান আনতে একটি খসড়া আইন নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আলোচনা করবে।

    আগের রাতের ভিডিওতে কী বার্তা দিয়েছিলেন?

    প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘’’চলতি সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেই প্রস্তাবিত বিলটি দ্রুত পাস করানোর জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। সেই ভিডিও প্রকাশের পর রাতারাতি ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১০ লক্ষ নতুন অনুসারীও যুক্ত হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্টে। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটি কোনও ছোটখাটো বিষয় নয়। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের এটি গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে।’’ তিনি স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল যাতে কোনও ছাত্রছাত্রীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়।’’

    মন্ত্রীদের ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ

    শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সামাজিক মাধ্যমের গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশে জানতে চান, তাঁদের মধ্যে কতজন নিয়মিত ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ এখন ইনস্টাগ্রামে সময় কাটান। তাই সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, সিদ্ধান্ত ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির তথ্য তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে মন্ত্রীদের আরও বেশি সক্রিয়ভাবে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা উচিত।’’ সরকারের সঙ্গে যুবসমাজের যোগাযোগ আরও জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন।

  • Union Cabinet: প্রশ্নফাঁসে আর রেহাই নয়! আরও কঠোর অ্যান্টি-পেপার লিক আইনে ছাড়পত্র মোদি মন্ত্রিসভার

    Union Cabinet: প্রশ্নফাঁসে আর রেহাই নয়! আরও কঠোর অ্যান্টি-পেপার লিক আইনে ছাড়পত্র মোদি মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে (Union Cabinet) নতুন অ্যান্টি-পেপার লিক বিলের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংশোধনী বিলটি পেশ করা হতে পারে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) আইন (Anti Paper Leak Bill), ২০২৪-কে আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটছে কেন্দ্র। সরকারের লক্ষ্য, প্রশ্নফাঁস, সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতি এবং পরীক্ষায় অসাধু উপায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। একইসঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

    কী কী বদল হতে পারে?

    সরকারি সূত্রের দাবি, সংশোধনী বিলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে প্রশ্নফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন। দোষীদের জন্য বর্তমানের তুলনায় আরও দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান। অন্তত ১০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জরিমানার ব্যবস্থা। সংগঠিত বা বৃহৎ প্রশ্নফাঁস চক্রের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার প্রস্তাব।

    বর্তমান আইনে কী শাস্তি রয়েছে?

    দেশে ইতিমধ্যেই ‘পাবলিক এক্সামিনেশন আইন (Anti Paper Leak Bill), ২০২৪’ কার্যকর রয়েছে। ২০২৪ সালে এই আইন কার্যকর করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির পরিচালিত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, নকল এবং অন্যান্য অসাধু উপায় রোধ করা। এই আইনের আওতায় রয়েছে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC), স্টাফ সিলেকশন কমিশন (SSC), ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA), বিভিন্ন ব্যাঙ্ক নিয়োগকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য পরীক্ষাগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ। বর্তমান আইনে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনাকারী কোনও সংস্থা অপরাধে জড়িত বা তথ্য গোপন করলে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সূত্রের খবর, সংশোধনের পর এই বিধান আরও কঠোর হতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী কী বলেছিলেন?

    মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টা আগেই, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছিলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি প্রশ্নফাঁসকে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুতর অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ অপরাধ নয়। গত আড়াই মাসে সরকার একাধিক আইনি পদক্ষেপ করেছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে জেলে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের মামলায় দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুত এবং মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) অনুমোদনের পর তা সংসদে আনা হবে।” সেই মতোই শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠক (Union Cabinet) ডাকা হয়, সেখানেই মেলে অনুমোদন।

    কেন আনা হচ্ছে এই সংশোধনী?

    সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আইনের ফাঁকফোকর দূর করে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের মতে, সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি দ্রুত বিচারও জরুরি।

    বিরোধীদের আন্দোলন অব্যাহত

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে নিট-ইউজি-সহ একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন হয়। বিরোধী দল Cockroach Janta Party (CJP)-র পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও এই আন্দোলনে সামিল হয়েছে। আন্দোলনে সামিল হয়েছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিও। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের সমস্ত ঘটনার নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্ত,  শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার ও সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। পাশাপাশি নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ। এই পরিস্থিতিতেই প্রশ্নফাঁস ও সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে নতুন সংশোধনী বিল আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    সরব রাহুল গান্ধী

    অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত এক দশকে দেশে প্রায় ১৫০টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ কোনও ক্ষেত্রেই দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত হয়নি।

    বিল পেশের অপেক্ষা

    মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) অনুমোদন মিলেছে, আগামী সপ্তাহেই সংশোধনী বিলটি সংসদে পেশ হওয়ার সম্ভাবনা। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় কারচুপি এবং সংগঠিত জালিয়াতির বিরুদ্ধে দেশের আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের আশা, কঠোর শাস্তি ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

LinkedIn
Share